﻿<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>কফি হাউসের আড্ডা &#187; অতনু ব্যানার্জী (ফরাক্কা)</title>
	<atom:link href="http://coffeehouseradda.com/blog/author/atanujee/feed" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>http://coffeehouseradda.com</link>
	<description>বাঙালীর ব্লগ-আড্ডা</description>
	<lastBuildDate>Wed, 08 Sep 2010 06:29:35 +0000</lastBuildDate>
	<generator>http://wordpress.org/?v=2.8.4</generator>
	<language>en</language>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>1</sy:updateFrequency>
			<item>
		<title>চোরাস্রোতে লুকোচুরি</title>
		<link>http://coffeehouseradda.com/blog/atanujee/3431</link>
		<comments>http://coffeehouseradda.com/blog/atanujee/3431#comments</comments>
		<pubDate>Sat, 14 Aug 2010 07:20:43 +0000</pubDate>
		<dc:creator>অতনু ব্যানার্জী (ফরাক্কা)</dc:creator>
				<category><![CDATA[ব্লগাড্ডা]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://coffeehouseradda.com/?p=3431</guid>
		<description><![CDATA[                                                     (১)
“ আমার [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>                                                     (১)<br />
“ আমার খুব খারাপ লাগছে শ্রাবনী।তোমার কাছে একটা কথা চেপে গিয়ে ”। আমার কথায় তাকালো আমার দিকে ও।কালকেই ফুলসজ্জ্বা গেছে।খাটের ফুলগুলো লেগে আছে এখনো বাসি হয়ে।অ্যারেঞ্জ ম্যারেজে বিয়ে করে শ্রাবনীকে প্রথম রাতেই আমার বেশ ভালো লেগেছে।বেশ নরম সরম, শান্ত , গৃহিনী টাইপ।আমার এমনই পছন্দ ছিলো।দেখে শুনেই মা সম্মন্ধটা দেখেছিলো।কাল রাতে আমি ওকে আমার ছোট খাট কিছু পুরোনো ভালোলাগার কথা  বলেছিলাম আগেকার।প্রেমের ইচ্ছে থাকলেও উপায় যে ছিলো না সেটা বলেছি ওকে ।ওও বলেছিলো ওর আগের একটা প্রেমের কথা।আমরা বলেছিলাম আমরা আমাদের কাছে কিছুই গোপন করবো না।কিন্তু আমি ওর কাছে একটা কথা গোপন করে গেছি।সারাদিন সেটা আমায় কুড়ে কুড়ে খেয়েছে।ওকে মিথ্যে বলেছি বলে।কিন্তু কি করে বলবো ওকে ওই কালো দিনটার কথা।তাছাড়া ফুলসজ্জ্বার দিনে এমন একটা অভিজ্ঞতা নতুন স্বামীর কাছে শুনলে ওর কি ভালো লাগতো আদৌ? না না ঠিকই করেছি আমি।কিন্তু তাও আমার খারাপ লাগছে।আমি যে ওকে মিথ্যে বললাম। সেই দিনের কথাটা &#8230; নানানা কি করে বলবো ওকে।ওই দিনের কথাটা ভাবলেই আমার গা টা কেমন যেন শিউরে ওঠে।কি থেকে কি হয়ে যেতে পারতো।ভগবান বাঁচিয়েছিলেন সেদিন&#8230;না হলে কি যে হতো ভাবতেই পারি না।<br />
“ কি কথা?” ও জিজ্ঞেস করলো আমায়।<br />
“আমি জানিনা তুমি কি মনে করবে শ্রাবনী।আমি বলতে চাইছিলাম না তোমায়।মানে পারছিলাম না।কিন্তু তোমার মিথ্যে বলে আমি সংসার করতে পারবোনা” আমি বিড় বিড় করে উঠলাম।<br />
আমার বুকে ওর বাঁ হাতটা দিলো ও।<br />
“এখনো কাউকে ভালোবাসো”?<br />
“আরে না না … ওসব নয়”<br />
“তবে কি? মনের মধ্যে রেখে কি হবে? বলেই ফেলো;আমি ভুল বুঝবোনা”<br />
আমি ওর দিকে তাকালাম।তারপর উঠে বসে খাটের পাশের টেবিল থেকে সিগারেটের প্যাকেটটা বের করে একটা ধরালাম।<br />
“তোমার গন্ধ লাগে?”<br />
“তা লাগে”<br />
“ওঃ সরি… কিন্তু আমাকে একটা খেতেই হবে এখন।আমার কেন জানিনা খুব টেনশন হচ্ছে সেদিনটার কথা ভেবেই; আমি জানলার কাছে যাচ্ছি।ধোঁয়াটা ওদিক দিয়েই বেরিয়ে যাবে।তুমি শুয়ে থাকো”<br />
“বলো এবার”।<br />
আমি ওকে বলতে শুরু করলাম সেদিনকার গল্প।চোখের সামনে সেদিনের রাতটা ভেসে উঠলো ভুস করে।</p>
<p>সেদিন আমি অফিস থেকে দেরী করেই ফিরছিলাম।আসলে নতুন চাকরী, তাই বেশী বেশী দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতাম।আর আমার বস্ আমার পারফরমেন্সে খুশীও হচ্ছিলো।ভাবছিলাম পার্ক ষ্ট্রীটের ঘোষ অ্যান্ড মিস্ত্রি মোটর কোম্পানীর অ্যাকাউন্সের চাকরীটার সাথে সাথে ডিস্টেন্সে ইগনু থেকে এম বি এ-র জন্য পড়াশোনা শুরু করবো।সেদিন একটু দেরী করে ইন্টারনেট ঘেঁটে ঘুঁটে এই ব্যাপার স্যাপার গুলো দেখছিলাম।বেরোতে বেরোতে রাত আটটা বেজে গেলো।শুক্রবার।কাল পরশু ছূটি।মানে মেসে গিয়েও লাভ নেই।সবাই সিনেমা দেখতে না হয় চরতে গেছে।ফিরবে রাত করে।বেশীরভাগেরই মিল অফ থাকবে।বাইরে কোথাও খেয়ে নেয় এই দিনটায়।আমিও ঠিক করলাম কোনো স্পেশাল জায়গায় খেয়ে নেবো।মনে পড়লো মিত্র ক্যাফের কথা।পার্ক ষ্ট্রীট থেকে ভিড় বাস না ধরে মেট্রো ধরে শোভা বাজার যাওয়াই যায়।ওখান থেকে বাসগুলো ফাঁকা থাকে ঘোলা যেতে।ব্যস বাসের চক্কোর ছেড়ে মেট্রো চেপে পৌঁছে গেলাম শোভাবাজারে।মিত্র ক্যাফেতে এর আগে একদিন প্রবালের সাথে খেলেও একটা মাত্র কবিরাজী খেয়েছিলাম।এত সস্তায় আর কোনো দোকানে এত আইটেম দেখিনি আমি আগে, কোলকাতায়।আজ রাতের মতো করে কিছু খেতে হবে ওখানে।দারুন আইটেমগুলো।ঠিকমতো ব্র্যান্ডিং করলে কোলকাতার যে কোনো বড় রেস্তোরাকে চ্যালেঞ্জ দেবে এখনো এই মিত্র ক্যাফে।আমি হলফ করে বলতে পারি।যাই হোক মিত্র ক্যাফেতে রুটি আর চিকেন কষা খেয়ে বেরোলাম বাইরে।ঘড়িতে দেখাচ্ছে রাত নটা।সামনের পেট্রোলপাম্পটার ওধারে গিয়ে বাস ধরতে হবে।ওদিকটা বেশ আলো।ডানদিকটা তাকাতেই মনটা কেমন করে উঠলো।এদিকটাতেই তো শোভাবাজার বেশ্যাপল্লী… সোনাগাছি।কালো পিচের রাস্তা ধরে খানিকটা এগোলেই।দিনের বেলা দেখেছি রাস্তাটা।বর্ধমান থেকে কোলকাতায় আসা  দেড় বছরের ওপর হয়ে গেলো একবারও এসব জায়গায় আসিনি…দেখতেও নয় কখনো।ভয় লাগে আমার।যদি কেউ দেখে ফেলে।কিন্তু মাঝে মাঝে ভীষন ইচ্ছেও করে।আমার রুমের দেবু হাড়কাটা যায় মাইনে পেলেই।আর কলসেন্টারের প্রবীন তো হাই ফাই।ওতো পার্ক ষ্ট্রীটে গিয়ে মেয়েটেদের সাথে ইয়ে করে আসে।আমার সাহসে কোলায়নি ওসব।বিয়ে করার ইচ্ছে থাকলেও উপায় নেই এই পয়ত্রিশ বছর বয়সেও।সেরকম কিছুই করতে পারিনি।এম কম পাশ করে এতোদিন বর্ধমানেই টেম্পোরারী টিচার হয়ে একটা ইন্সটিটিউটে ট্যালী পড়াতাম।এস এস সি লাগলো না পর পর দুবারই।তারপর দেখলাম ওখানে চাকরী বাকরীর সুযোগ ভালো নেই।মা বুলির বিয়ের জন্য ভাবছে এবার।বোনটা মাত্র টুয়েলভ পাশ করছে এবছর ; আর এখনই ওর বিয়ের তোড়জোড়!মা বলে মেয়ে ঘরে পড়ে থাকলে কথা হয়।আর আমি…।এই বয়সেও পড়ে আছি কতদিন থেকে!যাই হোক, মাসের শেষে মাইনে পেয়ে মেসের টাকাটুকু রেখে বেশীর ভাগই মাকে পাঠিয়ে দিই।বাবা মারা যাওয়ার পর বাড়ীভাড়া আর সামান্য মাইনেই তো ভরসা আমাদের তিনজনের সংসারের।বিয়ে করার মুরোদই নেই এখনো।রাখবোই বা কোথায়,খাওয়াবোই বা কি? এসব করে সময় গেলেও মাঝে মাঝে বিছানায় শুয়ে একটা কেমন অনুভূতি হতো বই কি।কাউকে বলতাম না।মেসে মাঝে মাঝে সোনা ওর ল্যাপ্টপে ব্লু ফিল্ম দেখাতো আমাদের।ওই সব সিনেমা দেখে রাতে মনে হতো ঈসস আমার পাশেও কেউ যদি থাকতো নরম শরীরের ।পয়ত্রিশ বছর হয়ে গেলো নারীর নরম শরীর কি তা তো জানতেই পারলাম না।অসহায় লাগতো কল্পনায় রমনসুখ পেতে।মিত্র ক্যাফের সামনে দাঁড়িয়ে মনে হলো যাবো নাকি একবার ওখানে? দেখা তো যাবে কি হয়! ভয় লাগলে পালিয়ে আসবো , কে চেনে এখানে আমায়? বর্ধমান হলে নাহয় সবাই চিনতো।কিন্তু গলিটা কি রকম তাতো দেখা হবে।ইচ্ছা তো করেই মনে মনে।সম্মোহিত হবার মতো হাঁটতে লাগলাম ডান দিকের ফুটপাথ ধরে।বেশীর ভাগ দোকানের শাটার ডাউন হয়ে গেছে এই রাত্রে।রাস্তায় ফুটপাথ বাসী কিছু লোক শোয়ার বন্দোবস্ত করছে এদিক সেদিক।আর বড় বাড়ীগুলোর দারোয়ানেরা কোথাও কোথায় জটলা করছে।আরেকটু এগিয়ে যেতেই দেখলাম গলির মুখে অনেক টানা রিকশা দাঁড় করানো আছে।গলির মুখের পান দোকান থেকে একটা সিগারেট কিনে গলা নীচু করে সোনাগাছির কথা জিজ্ঞেস করতেই আমার দিকে তাকিয়ে গলিটা দেখিয়ে দিলো&#8230;আর বললো “দালাল ধরবেন,না হলে ঠকে যাবেন”।গলি দিয়ে আমি ঢুকে পড়লাম।<br />
সিগারেটের আগুনটা প্রায় আমার আঙুল ছুঁই ছুঁই করছিলো;ফেলে দিলাম ওটা জানলা দিয়ে।বিছানার দিকে তাকিয়ে দেখলাম শ্রাবণী অধীর আগ্রহে আমার দিকে তাকিয়ে।আমি হাসলাম।বললাম ‘আমায় খুব খারাপ ভাবছো না?’ ।ও আমার প্রশ্নের জবাব না দিয়ে চুলটা ওর গালের ওপর থেকে সরিয়ে বলল ‘তারপর কি হলো?’।আমি বিছানায় বসে বালিশটা কোলে নিয়ে দেওয়ালে হেলান দিয়ে বসলাম ,পিঠে পাশবালিশটা রেখে।</p>
<p>                                       (2)<br />
ডাইনে বাঁয়ে হলদেটে সব দোতলা কিম্বা একতলা বাড়ী।আর বাড়ীর অন্ধকার গলিগুলো নদীর মতো এসে পড়েছে সোনাগাছির মূল স্রোতে।এই মূল গলিটা স্ট্রীট লাইটের হলুদ আলোয় ধুয়ে যাচ্ছে।আর আলো আঁধারি গলিগুলোর মুখে জটলা করছে রঙচঙে শাড়ী পরা অকারন মেয়েলী হাসিদের  দঙ্গল।ভালো করে তাকালাম একবার।শাড়ী গুলো অতিরিক্ত রঙচঙে, চুমকী আর জড়ির প্রাধান্যে ভরপুর ,হয়তো চোখ টানার জন্যই।বুকের অংশটা যে মাত্রারিক্ত ভারী এবং সেটা যে অন্তর্বাসের শিল্পকলা সেটা বুঝতে বাকি থাকে না।পেটে,পিঠ,গলা বের করে নারীর আদিমতার লালসার আমন্ত্রন ওদের শরীরে।কিন্তু সারা শরীরের দরিদ্রের ছাপ।আমাকে ডাকাডাকি করছে ওরা।“এই ছেলে এদিকে এসো না&#8230;”।আমি হয়তো একটু বেমানানও।অফিস ফেরতা ঢাউস পিঠব্যাগে হাজির হয়ে গেছি প্রেমহীন যৌনতার গলিতে।বুকে সাহসকে সাথী না করেই।মনে পড়লো প্রবীনের কথাগুলো।সোনাগাছিতে নাকি নানা স্তরের বেশ্যাবৃত্তি চলে।রাস্তায় দাঁড়ানো নারী মানে তারা অর্থনৈতিক স্তরে নিম্নতম; ক্ষমতাবান মাসীদের পয়সা দেবার ক্ষমতা নেই বলেই রাস্তায় দাঁড়িয়ে পড়ে দেহকে শো কেস করে।তবে নাকি এদের কাছে শারিরীক আনন্দ সেই অর্থে সুরক্ষিত নয়।শারীরিক ভাবেও বা পুলিশি ঝামেলা এড়াতেও।কারন বেশ্যা পাড়ায় পুলিশ-দালাল-মাসীদের যে যৌথ খামার আছে সেই সিসটেমকে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দেখিয়ে এই সব বেশ্যা নারীকে পেট চালাতে হয় বলে পুলিশও নাকি এদের ছেড়ে কথা বলে না।কথায় কথায় পুলিশি রেড, লক-আপে রাত কাটানো এসব এই শ্রেনীর নারীর কাছে দৈনন্দিন বেঁচে থাকার নাকি একটা অঙ্গ।শোনা কথাকে দেখে মিলিয়ে নিলাম ভালো করে।দশ এগারো বছরের বাচ্চা মেয়ে থেকে পঞ্চাশ পঞ্চান্নের মধ্যবয়স্কা ভগ্নস্বাস্থ্য বা স্ফীত উদর নারীরাও দেখলাম ভিড়ের মধ্যে এদিক ওদিকে দাঁড়িয়ে আছে।যত গলিটা ধরে এগোতে লাগলো ভিড় বাড়তে লাগলো।গিজ গিজ করছে নারী।হলুদ আলো এসে পড়েছে ওদের চড়া মেক আপে।লীপষ্টিকের অতিরিক্ততা ঠোঁট ছাড়িয়ে এদিক ওদিকে উঁকি মারছে।সেটা ইচ্ছে করে না অসাবধানে সেটা &#8230;কে জানে?অনেক রকম লোকের ভিড়ও।কেউ কোনো নারীকে জড়িয়ে ধরে রাস্তা পার হয়ে যাচ্ছে।দেখেই বোঝা যাচ্ছে নেশায় মাতাল হয়ে আশ্রয় করেছে ওই জিন্স প্যান্ট , আর ব্রেশিয়ার পরা নারীর দেহে।আশে পাশে অনেক দোকানও ছড়িয়ে ছিটিয়ে।মুদির দোকান, সিগারেটের দোকান&#8230; দশকর্মা ভান্ডার।এখানেও নানা গলি।তবে গলিগুলো বেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন।আর গলিতে উঁকি দিতেই দেখলাম নানা পোশাকের নারীরা দাঁড়িয়ে আছে দেহকে সম্বল করে।কেই বা দরজার সামনে,কেউ ভেতরে সিঁড়ির পা দানীতে,কেউ দোতলার কার্ণিসে রেলিং ধরে ঝুলে,কেউ জানলায়।এদের সবার চোখেই ভেতরে আমন্ত্রনের ডাক।আমায় যেন ‘দেখায়’ পেয়েছিলো।আমি দু চোখ ভরে দেখছিলাম কোলকাতার এই প্রাচীন ইতিহাসের সাক্ষী সোনাগাছির এই নায়িকাদের।ভুলেই গেছিলাম এখানে ঢোকার আগে আমার মনেও ছিলো একজন যৌনকামনায় অস্থির নারীর দেহকে আশ্রয় করে তপ্ত হতে।<br />
                                                                                             ভোজপুরী ষ্টাইলে ধুতি-পাঞ্জাবী পরা, কপালে লাল লম্বা টিপ পরা মধ্যবয়স্ক এক গোঁফওয়ালা মুখ এসে বললো “চলিয়ে সাহাব,আপকো খুশ কর দেতে হ্যায়”।চমকে তাকালাম।কে রে বাবা? গলির মুখের সিগারেট-ওয়ালার কথা মনে পড়লো ,… “দালাল ধরবেন”।তার মানে এই হলো দালাল।কথা বলতে ইচ্ছে হলো এর সাথে।রাস্তাটা টপকে একটা মিষ্টির দোকানের সামনে এসে দাঁড়ালাম দুজনে।“ কি রকম পয়সা লাগবে”?আমার কথায় আমার দিকে তাকালো লোকটা।পাঞ্জাবীর পকেট থেকে প্লাষ্টিকের ডিব্বা থেকে খৈনি বের করে হাতের চেটোতে ঢলতে ঢলতে বললো “বাবু নতুন আছেন বুঝছি; কি রকম দামের চান বলুন? এখানে ‘একবার’ কে লিয়ে মানে এক ঘন্টা করীব কে লিয়ে পাঁচশো রুপিয়া সে ষ্টার্ট হোতি হ্যায়।আপনি পাঁচশো থেকে হাজার সবরকমের পেয়ে যাবেন।আর তার বেশীও আছে ঘন্টা দো হাজার সে পাঁচ হাজার;কিন্তু ওটার জন্য আপনাকে লালকমল নীলকমলে যেতে হবে।ওখানে কলেজগার্ল থেকে হাউস-ওয়াইফ পেয়ে যাবেন।বুঝতেই পারবেন না বাজারের মেয়ে না আপনার পাশের বাড়ীর মেয়ে”। ভিমড়ি খেলাম আমি।পাঁচ হাজার এক ঘন্টায়।আর আমার মাইনেই তো আট হাজার…এক মাসে।এরা তো আমার থেকে অনেক বড়লোক।আর আমরা এদের কত ছোট ভাবি! কি বিচিত্র সব ব্যাপার রে বাবা; আর ঘন্টায় পাঁচশো সবচেয়ে কম! এই টাকায় তো আমার মেসের আধমাসের খরচা চলে যাবে! কোত্থেকে ম্যানেজ করবো তবে!বললাম না এসব ওকে।বললাম “আপকা নাম কেয়া”।“নাম লেকে কেয়া করেঙ্গে? রিপোর্টার হ্যায় কেয়া?”আমার দিকে সন্দেহ ভরে তাকালো লোকটা।“আরে নানা ওসব নয়।একটা কথা জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে করছে।এই বয়সেও এই সব করে পেট চালাতে ইচ্ছে করে? আর কিছু পেলেন না?” খৈনির টুকরোগুলো নীচের ঠোঁটের পেছনে ঢুকিয়ে একটু থুতু ফেলে আমার দিকে তাকিয়ে বললো “আপনাকে খুব একটা চালাক ইনসান বলে মনে হচ্ছে না।একটা সিগারেট খাওয়াবেন?” “সিওর” &#8230; পেছনের দোকানটায় লোকটা নিজেই একটা ফিলটার উইলস নিয়ে ঝুলে থাকা দড়ির আগার আগুনে ধরালো সিগারেটটা।তারপর মৌজ করে একটা টান দিলো সিগারেটে।আমি অবাক হচ্ছিলাম খৈনী আর সিগারেটের যৌথ টেষ্ট কিরকম হবে তা ভেবে!লোকটা বললো “আমার নাম সঞ্জয় সিং।বাড়ী ছাপরায়।ওখানেই আমার বিবিন অউর বিটিয়া আছে।মাসে মাসে আমি টাকা পাঠাই।দেশে জমি জমা সব বিক্রি করতে হয়েছে অভাবে।একটা ঘর আছে আখরী উম্মিদ।ওখানেই বিটিয়া অউর বিবি থাকে।আমি কোলকাতা এসেছিলাম আজ থেকে দশ বছর আগে।তার আগে ছাপরায় মুটে মজদুরী করে দিন গুজরান করতাম।পেট চলতোনা।লোকে বললো কলকাত্তা চলা যা ,ওহাপে প্যায়সা আচ্ছা কামাই হোতি হ্যায়।এসে গেলাম এখানে।টানা রিক্সা টেনেছি অনেক বছর।কাঁধে একটা ব্যাথার জন্য আর পারি না।মাঝে কিছুদিন কুলীগিরি করে পেট চালাতাম।তারপর এই লাইনে এলাম।এখানে কম পরিশ্রমে বেশী টাকা।বাবু ধরে দিলেই টাকা।কেবল প্রেষ্টিজ নেই।এই গলি থেকে বেরোলেই আমায় সবাই খারাপ ভাবে।সোনাগাছির দালাল।গলির দুকানদার সে লেকর রিকশাওয়ালা সব্বার কাছে আমার এই একহী পহেচান।কিন্তু পয়সা তো আসে বাবু।পয়সা তো আমাকে পাঠাতেই হবে দেশের বাড়ীতে।দিনে আমি শোভাবাজারের একটা বড় বিল্ডিং এ দারোয়ানের কাজ করি।“আরে,ঘুমোন কখন?” আমি জিজ্ঞেস করলাম।“আর আমাদের ঘুম!রাত দুটো তিনটের দিকে ঘুমোতে যাই।তখন আর নতুন কোনো খদ্দের আসে না।মাসীদের কাছে পয়সা কালেকশন হয়ে যায় আমার।ঘরে ঘরে ‘কাজ’ চলে তখন।আমার কাজ শেষ। আমি ঘুমোতে যাই তখন’লোকটা বললো একটু উদাস হয়েই।‘ওসব ছাড়েন বাবু,আমার টাইম নষ্ট হচ্ছে।আপনাকে আমি রুপার ঘরে নিয়ে যাচ্ছি।আপনি দেখুন ওকে।দেখলেই পসন্দ করে লিবেন।বলা যায় না রাতের জন্য শোবার ইচ্ছেও করবেন তখন” বলে হো হো করে হাসতে হাসতে আমার হাত ধরে টান মারলো সঞ্জয় সিং।<br />
                                          (৩)</p>
<p>হঠাত আমার খুব ভয় লাগলো।এই লোকটা আমাকে জোর করে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে!একজন বেশ্যার ঘরে!আর আমি বর্ধমানের শান্তনু পোদ্দার, আমার সবকিছু ভুলে দেহসুখের জন্য সবকিছু ভুলে এর সাথে দৌড়বো! আমার যদি কোনো রোগ হয়!আমি যদি মরে যাই!কে দেখবে আমার মাকে? আমার বোনটার বিয়ে কে দেবে? আমি যদি পুলিশের হাতে ধরা পড়ি!কি হবে আমার কেরিয়ারের?আর দশ পনের মিনিটের ঘোরে প্রায় হাজার টাকার ধাক্কা! আমার ফ্যামিলিকে আমি এমাসে টাকা-পয়সা পাঠাবো কি করে?আমার বোনের বিয়ের জন্য মা যে একটু একটু করে গয়নাগাটি বানিয়ে রাখছে কি হবে এমাসের?আমি এতো স্বার্থপর হয়ে যাবো সোনাগছির এই আগুনে এসে! পুড়ে মরবো এই আগুনে নিজের বর্তমানকে ভুলে!ছাপরার এই সঞ্জয় সিং এর হাতে নিজেকে সঁপে দিয়ে এ কোথায় নেমে চলেছি আমি আমার কামনাকে চরিতার্থ করতে!একটু কন্ট্রোল করতে পারবো না ! আর কয়েকটা তো বছর; বোনটার বিয়ে আর চাকরীতে একটু থিতু! তার জন্য জীবনটাকে এতোটা রিস্কি করে দেবো!শুনেছি একবার এখানে আসা মানে নেশা হয়ে যায় মেয়েমানুষের দেহের।জীবনে কোনোদিন মদের নেশা করলাম না আর মেয়েমানুষের নেশা করবো এই বয়সে!প্রবীনের মতো বাবার অগাধ পয়সা থাকলে বা বুল্টনের মতো ভালো একটা চাকরী করলে হয়তো এসব চিন্তাই মাথায় আসতো না! কিন্তু পয়সার অভাবটা ভুলবো কি করে? আমার জীবনটাকে তো এই ফ্যাক্টরগুলোই টেনে নিয়ে যাচ্ছে দিনের পর দিন!সোনাগাছির নেশা ছুটে গেলো আমার চোখ থেকে।সঞ্জয় সিং এর হাতটা টেনে ছাড়িয়ে নিলাম আমার হাত থেকে।বললাম “সিংজি,আজ থাক&#8230; অন্য কোনো দিন”।‘কি হলো বাবুসাহেব? কোনো প্রাবলেম?আরে কিছহু চিন্তা নাই।আপনি সঞ্জয় সিং এর কেলায়েন্ট।ফাষ কেলাস মাল দিবো।আরে চলুন তো রুপা না সহি…আউর কোই।আরে পয়সা কম থাকলে বাচ্চা মেয়ের সাথে শুয়ে লিবেন; আমার হাতে বারো তেরো ভি আছে।কুছু চিন্তা নাই বাবু।একবার দিল সে পেয়ার করনেকা ইচ্ছা জাগা হ্যায় তো কুছ মাত শোচিয়ে” সিংজি আবার আমার হাতটা ধরতে গেলো।আমি টেনে ছাড়িয়ে দিলাম।‘স্যরি সিংজি… আমি আসছি ; আপনি আমাকে ছেড়ে দিন’বলে হন হন করে হাঁটা লাগালাম।পেছন থেকে সঞ্জয় সিং এর আওয়াজ ভেসে এলো।ব্যাটা গালাগাল দিচ্ছে মা বোন তুলে ;কানে এলো ‘ শালা বেকার টাইম বরবাদ কর দিয়া;শালা পয়সা নেহী হ্যায় সুট বুট প্যাহেনকে আ গ্যায়া সোনাগাছি।গাঁওয়ার কাঁহিকা” ।কানটা গরম হলেও ঘুরে দেখার সাহস ছিলো না পাছে আবার কোনো ঝামেলায় জড়িয়ে পড়ি!<br />
অবাক হয়ে আমার কথাগুলো গিলছিলো শ্রাবণী। আমিও বেশ আমেজের বলে যাচ্ছিলাম।আসলে আমি দেখতে পাচ্ছিলাম সেদিনটাকে চোখের সামনে।আর লুকোছাপার ভয় চলে গেছিলো।তাই রাখঢাক না করেই বলে যাচ্ছিলো।গলাটা একটু শুকিয়ে এসেছিলো।বিছানার পাশের ছোট তেপায়া টেবিলের ওপরে একটা কাঁচের গ্লাসে ভর্তি জল ছিলো ঢাকা দেওয়া।ওটা খেয়ে ফেললাম ঢক ঢক করে।আবার গল্প বলা শুরু হলো।<br />
                                                  জোরে পা চালিয়ে ভিড়ে মিশে গেলাম।সামনে কি একটা পূজো হচ্ছিলো।বেস বড় প্যান্ডেল খাটিয়ে।হলুদ,লাল নানা লাইটিং এর বাল্বগুলো জ্বলছিলো আর নিভছিলো।আর প্রচুর মানুষের ভিড়।ভিড়ের প্রায় সবাইকে দেখেই বোঝা যাচ্ছিলো এ পাড়ার বাসিন্দা।সোনাগাছির মেয়েরা।নিজেদের দেহের বেশী অংশটা বের করেই ঠাকুর প্রনাম করতে এসেছে।সাহস পেলাম না ভিড়ে ঢুকে ঠাকুর দেখার।বুল্টন বলেছিলো দলে বলে না গেলে নাকি অনেক মেয়ে হাত ধরে টানাটানি করে।তার ওপর সঞ্জয় সিং এর সাথে একটা বিচ্ছিরি ব্যপার হয়ে গেলো! তার ওপর যদি ভিড়ের মধ্যে কোনো মেয়ে হাত ধরে টানাটানি করে?যদি আবার কোনো ঝামেলায় জড়িয়ে পড়ি!কোনো রিস্ক নিলাম না ভিড় ঠেলে ভেতরে ঢুকে ঠাকুর দেখার।প্যান্ডের বাইরে থেকেই রাস্তা ধরে হাঁটছিলাম।ভাবছিলাম হয়তো এরই কোনো ঘরে সঞ্জয় সিং এর রুপা বসে আছে ঘন্টা প্রতি আটশো টাকা দেহকে বিক্রি করবে বলে!কি অদ্ভুত জীবন এখানে!বাচ্চা বাচ্চা মেয়েগুলোকে দেখে সত্যিই কষ্ট হয়।শাড়ী পরে বা হাত কাটা গেঞ্জি আর কর্ডের প্যান্ট পরে ছুটোছুটি করছে বা রাস্তার পাশে জটলা করছে।হয়তো এরা এপাড়ারই অবৈধ সন্তান; কিংবা হাস্পাতাল থেকে কেউ চুরি করে বা গ্রাম থেকে শহরে কাজ দেবার টোপ দেখিয়ে কোনো গরীব ঘর থেকে উঠিয়ে এনে এদের দিয়ে এই নোংরা পৃথিবীটায় নামিয়ে দিয়েছে শৈশব চুরি করে।অ্যাকাউন্টেস এর আনোয়ারদার কাছে একটা সাংঘাতিক কথা শুনেছিলাম।আনোয়ারদার স্ত্রী এন জি ও তে চাকরী করে ,ওর কাছেই জানা এসব আনোয়ারদার।এপাড়ার এই সব বাচ্চা বাচ্চা মেয়েদের যৌনাঙ্গে নাকি খুব ছোট থেকেই ভিজে খড় ভরে রাখা হয়।খড় শুকিয়ে গেলে আকারে বেড়ে যায় যা এদের অপরিনত যৌনাঙ্গকেও বয়সী পুরুষের ভোগের উপযুক্ত করে তুলবে!ভাবা যায়!কোনো জানলার পর্দা উড়লে দেখা যায় কাঁচের গ্লাসে লাল পানীয় হাতে বসা কোনো স্যান্ডো গেঞ্জি পরা পুরুষকে… যে টিভি দেখছে বসে বসে,আবার কোনো জানলায় দেখলাম বড় আয়নার সামনে সাদা ফটফটে রঙা সুন্দরী শুধু ব্রেশিয়ার আর স্কার্ট পরে চুল ঠিক করতে ব্যস্ত চিরুনী দিয়ে।আর ঘরে জোরে জোরে হিন্দী গান চলছে ।এসব দেখতে দেখতেই পৌঁছে গেলাম বড় রাস্তায় যে গলিটা সোনাগাছির আরেকটা মেইন গলি যা শোভাবাজারের বড় রাস্তায় মিশেছে।<br />
                                         (৪)</p>
<p>এ রাস্তায় দেখলাম অনেক পুরুষের ভিড়।দেহ-ব্যবসায়িনীদের সংখ্যা কম এ রাস্তায়।একটা দশকর্ম ভান্ডারের সামনে দাঁড়ালাম।দেখলাম বাতাসা,নকুলদানা এসব বস্তায় সাজানো।আরো পেছনে চাল , আটা, চিনির বস্তা।মানে এটা মাল্টিপারপাস দোকান আর কি।দোকানের মালিক লুঙ্গি পড়া টাকমাথা,বসে বসে আনন্দবাজার পড়ছে।দোকানের সামনের বয়ামগুলোতে নানা রকমের চকোলেট,হজমীগুলি,চানাচুর এসব রাখা।আর দোকানের পাশে প্লাষ্টিকের লাইটার ঝুলছে নারকেলের দড়ি দিয়ে বেঁধে।আমি গম্ভীর গলায় জিজ্ঞেস করলাম সিগারেট আছে।লোকটা গম্ভীরভাবে তাকালো যার মানে এই দাঁড়ায় কি সিগারেট চাইছি।আমি নেভি কাট চাইলাম একটা।সেলিব্রেশন মুডে ছিলাম আর কি।আয়েশ করে ধরিয়ে এদিক ওদিক দেখছিলাম।পাশে মোটরসাইকেলে একটা লোক হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে মোবাইল ফোনে কথা বলছিলো।আরো নানা লোক এদিক সেদিক ইতস্তত ছড়ানো ছেটানো।আমার মনে একটা পাকামি এলো।মনে হলো আর হয়তো এ গলিতে আসার সাহস কোনদিনই আসবেনা।তাই নীলকমল লাল কমল নামের যে ভীষন হাই-ফাই প্রস-কোয়ার্টারের নাম শুনেছি , যার কথা আজ আবার সিংজিও বললো সেটা একবার দেখলে কেমন হয়।যেমন ভাবা তেমন কাজ।পাশের মোটরসাইকেলে হেলান দিয়ে থাকা লোকটাকে দালাল লাগলোনা ।মনে হলো আমার মতোই আউটসাইডার।একে জিজ্ঞেস করলে হয়তো জানা যেতে পারে।মোটর সাইকেল নিয়ে এ গলিতে যখন এসেছে তখন নিশ্চয়ই ঘাঁত ঘোঁত জেনেই এসেছে।আমি এগিয়ে গেলাম লোকটার দিকে।‘দাদা একটা কথা জিজ্ঞেস করার ছিলো’ আস্তে আস্তে বললাম।ফোনে কথা বলা হয়ে গেছিলো লোকটার।আমার দিকে শ্যেন দৃষ্টিতে তাকালো চশমার ফাঁক দিয়ে।‘কি ব্যপার? কি কথা?’ একটু ঝাঁঝিয়েই বললো লোকটা।আমি ওভার স্মার্ট হয়ে জবাব দিলাম ‘আচ্ছা নীলকমল আর লালকমল নামের বিল্ডীং গুলো কোথায় বলতে পারেন?’ লোকটা আপাদমস্তক দেখলো আমায়।‘আমাকে কি আপনার দালাল মনে হচ্ছে?না অন্য কিছু? কাকে কি জিজ্ঞেস করতে হয় তাও জানেন না?’ লোকটা কড়া ভাবে বললাম।আমি ভীষন ঘাবড়ে গেলাম।কি রুড লোকরে বাবা! না বললে না বলতিস!তার জন্য এতো খ্যাঁকানোর কি আছে! এ পাড়ায় দাঁড়িয়ে আছো আর তুমি সাধুপুরুষ সেটা ধরি কি করে বাপধন!আর কথা না বাড়িয়ে পা বাড়ালাম গলি দিয়ে বড় রাস্তার দিকে।বড় রাস্তায় ওঠার আগে ডান দিকে একটা কমন বাথরুম।এক্কেবারে খোলা।মনে হলো একবার যাওয়া দরকার।কি বাজে গন্ধ রে বাবা ;এখানে মানুষ ঢোকে!পুরসভা কি এ পাড়া বলে সাফ সুতরোও করে না! এসব ভাবতে ভাবতে হাল্কা হচ্ছিলাম বাথরুমে।ভাঙা একটা কলে হাতে একটু জল দিয়ে বেরোতে যাবো দেখলাম সামনে একটা লোক ডাকছে ‘এই যে একটু শুনুন’।আমি মুখ তুলে তাকালাম ভ্রু কুঁচকে! কে রে বাবা! এখানে আবার কেউ চিনে ফেললো নাকি!’আমাকে ডাকছেন?’ আমি জিজ্ঞেস করলাম ঢ্যাঙা লোকটাকে যে আমাকে ডাকছিলো।‘আপনি চলুন ,আপনাকে স্যার ডাকছে’।আমি ঘাবড়ে গেলাম।‘কে স্যার?’ লোকটা হাত তুলে যে লোকটাকে দেখালো অজানা আশঙ্কায় আমার বুকে ঠান্ডা বুরবুড়ি কাটতে লাগলো; একটু আগে মোটরসাইকেলে হেলান দেওয়া যে লোকটা আমাকে রুডলি কথা বলছিলো সেই চশমা পড়া লোকটা আমায় হাত তুলে ডাকছে।‘কিন্তু কেন?আমাকে উনি চেনেন?’ আমি লোকটাকে জিজ্ঞেস করতেই ।‘এতো কথা বলছেন কেন?দেখে তো ভদ্রলোক মনে হচ্ছে স্যার যখন ডাকছেন একবার চলুন ওদিকে ঝামেলা না করে’।<br />
উত্তেজনায় শ্রাবনী এবার উঠে বসলো ‘লোকটা কে?’ বেশ টেনশনেই জিজ্ঞেস করলো ও আমায়।আমি ওর দিকে তাকালাম।বললাম ‘শোনোই না’।<br />
সাদা ষ্ট্রাইপের হাফ হাতা জামা আর কালো প্যান্টের ঢ্যাঙা লোকটা প্রায় আমার হাত ধরেই নিয়ে গেলো মোটরসাইকেলের ওই লোকটার কাছে।আমার তখন মনে কু ডাকা শুরু হয়ে গেছে।কিসে যেন ফেঁসে গেলাম মনে হচ্ছে মনে মনে।লোকটার সামনে আমি গিয়ে বললাম ‘হ্যাঁ বলুন?’ ।আমার দিকে আপাদমস্তক দেখে বললো ‘এতো রাতে এই গলিতে কি করতে?’।আমার বুকটা ঢিব ঢিব করতে আরম্ভ করেছে ।আমার একটা সিক্সথ সেন্স কাজ করতে লাগলো।একে আমার পরিচয় বলা ঠিক হবে না।এ কে? এলাকার দাদা? নাকি দালাল? নাকি অন্য কেউ?আমি আমতা আমতা করে বললাম ‘না মানে ,আমি কোলকাতায় নতুন,এদিক ওদিক দিয়ে ঘুরতে ঘুরতে এই গলিতে ঢুকে পড়েছি’।<br />
‘চুপ করুন’ ঝাঁঝিয়ে উঠলো লোকটা।আমি চমকে উঠে ওনার দিকে তাকালাম।<br />
‘দেখে তো ভদ্রলোক মনে হচ্ছে ;জিন্স এর প্যান্ট,টি শার্ট,আবার ব্যাগ…অফিস ফেরতা তো?’<br />
আমি বললাম ‘হ্যাঁ অফিস থেকেই ফিরছি’।<br />
‘অফিস কোথায়?কি করা হয়?’&#8230; লোকটার প্রশ্নে আমার আন্সমার্ট মাথায়ও অনেকগুলো লজিক ঠিকঠাক বুদ্ধি দিচ্ছিলো।মনে হচ্ছিলো অফিসের ঠিকানা বললে যদি ব্ল্যাকমেইল করে!চাকরী চলে যাবে!না না পার্ক-ষ্ট্রীটে কিছুতেই বলা চলবেনা।ভুলভাল কিছু একটা বলতে হবে;যা হবার হবে।<br />
‘আমি হাওড়ায় একটা কারখানায় চাকরী করি;টেকনিশিয়ানের’ ঢোক গিলে গিলে বললাম।<br />
ঢ্যাঙা লোকটা বললো ‘স্যার ঢপ দিচ্ছে নির্ঘাত।হাওড়া অফিস হলে শোভাবাজারে কি করছে?’<br />
‘সত্যি করে বলুন কি করেন?কোথায় কাজ করেন? বাড়ী কোথায়?’লোকটা ক্রমাগত জেরা করে চলেছে।<br />
এবার উত্তেজনা চেপে রাখতে না পেরে বললাম ‘আপনারা কারা বলুন তো? আমাকে হ্যারাস করছেন কেন?আমি তো বললাম আমি কোলকাতায় নতুন ;ভুল করে এপাড়ায় ঢুকেছি’<br />
‘শাট আপ।ভদ্রলোকের মুখোশ পরে নষ্টামি।দিনে সাধু আর রাতে বেশ্যা না ? আপনাদের না লক-আপে পুরে ক্যালাতে হয়’ চশমা পরা লোকটা বললো।<br />
ঢ্যাঙাটা বললো ‘শুনুন , আপনার ভাগ্যে আজ অনেক দুঃখ আছে।উনি আমাদের লোকাল থানার এ এস আই প্রতাপ চৌধুরী আর আমি …ওনাকে রিপোর্ট করি সাধন ঘোষ।আচ্ছা আপনার নামটা কি?’<br />
আমার তখন হয়ে গেছে আর কি!শোভাবাজারে এসে পুলিশের পাল্লায় আমাকেই পড়তে হলো!তাও কোনো কিছু না করে! হা ভগবান!আমার ভাগ্য কি চিরদিনই এরকম খারাপ রাখবে?কোনোদিন কি লাক এর ফেভার পাবোনা একটুও!কাঁদতে ইচ্ছে করছিলো চিতকার করে; বুঝে গেছি চরম কিছু অপেক্ষা করছে আমার জন্য।তবে ওরই মধ্যে নিজেকে বোঝালাম&#8230;না  ঘাবড়াবো না।ঘাবড়ালে চলবেনা।মাথা ঠান্ডা রেখে উত্তর দিতে হবে,ফেঁসে তো গেছিই।এখন এরা সত্যি পুলিশ না মিথ্যে পুলিশ তা জানার উপায় নেই।এখন যদি এদের পুলিশি পরিচয় পত্র দেখতে চাই ব্যাপারটায় হিতে বিপরীত হতে পারে।ব্যপারটা তো ঠিকই এটা আইনি অপরাধ ভারতে।যৌনপল্লীতে যাওয়া।তারপর যা তড়পাচ্ছে এরা।বেশী কথা বললে কি করবে কে জানে?এখন দেখা যাক কপালে কি লেখা আছে!তবে শান্তনু পোদ্দারের সত্যি পরিচয়ের কিছুই এই সো কলড পুলিশদের ফাঁস করবোনা।<br />
‘আজ্ঞে আমি সনাতন প্রামানিক,আমার বাড়ী মুর্শিদাবাদের আল গাঁ’ এক নিশ্বাসে বলে গেলাম।ভাগ্যিস মেসের সুপতির কাছে ওর দেশের বাড়ীর নামটা শুনেছিলাম আল গাঁ…কাজে লেগে গেলো এই অসময়ে।<br />
এবার চশমা পরা লোকটা একটু গলা খ্যাঁকারি দিলো।বললো ‘দেখুন আমি ধরে নিচ্ছি আপনি কোলকাতায় নতুন;কিন্তু আমিও জানি আপনিও জানেন আপনি মিথ্যে বলছেন।আপনি এপাড়ায় ভুল করে কিছুতেই ঢোকেন নি।তবে ঢুকে যে মহা ভুল করে ফেলেছেন সেটা তো নিশ্চিতই বলা যায়।এবারে ভুলের একটা পেনাল্টী তো দিতে হবে সনাতন বাবু’<br />
‘পে…পেনাল্টী! মানে?’ আমি ভয় পেয়ে গেছি ভীষন।আর আমাদের চারধারে বেশ একটা জটলা ।সোনাগাছির রাস্তায় পুলিশ ধরেছে খদ্দেরকে ,এর চেয়ে রোমাঞ্চকর কি হতে পারে! শালা এতো এতো লোক ঘুরে বেড়াচ্ছে,এতো এতো লোক জটলা করে আছে ;পুলিশ শালা আইনের নাম করে নজর রাখছে কে আনকোরা আর তাকে ধরে রাতদুপুরে হ্যারাস করবে বলে।শালা বিচিত্র এই শহর!মনে মনে এসব ঘুরপাক খাচ্ছিলো।<br />
মোটরসাইকেল ষ্টার্ট দেবার ভঙ্গী নিয়ে আমাকে বললো উঠে আসুন এখানে ।আর ঢ্যাঙা লোকটাকে বললো ‘সাধন তুমি পেছনে বসবে।আর ওনাকে মাঝে বসাবে’।<br />
আমাকে কিছু করতে হলো না।আমি দেখলাম মোটরসাইকেলটা চলতে আরম্ভ করেছে আর আমি স্যান্ডউইচ হয়ে বসে আছি অ্যাসিন্ট্যাট সাব ইন্সপেক্টর প্রতাপ চৌধুরী আর তার চেলা সাধন ঘোষের মাঝে।<br />
‘তারপর …’শ্রাবণী বলে উঠলো,আমি একটু থামতেই।‘এই শোনো না আমার একটু ক্ষিদে ক্ষিদে পাচ্ছে।আমি একটা বিস্কুট খাই।তুমি খাবে?’ আমি জিজ্ঞেস করলাম।<br />
‘আরে ধুত তারিনা,বিস্কুটের নিকুচি করেছে ;ওরা তোমাকে কোথায় নিয়ে গেলো সেটা তো বলবে’শ্রাবণী অধৈর্য্য হয়ে বললো।<br />
আমি ঘরের কোনে রাখা মিড-সেলফ থেকে জলের থালার ওপরে রাখা বিস্কুটের বয়ামটা খুলে দুটো টোষ্ট বিস্কুট নিয়ে প্লেটে করে বিছানায় চলে এলাম।আর বিস্কুটে কামড় বসালাম।‘বলবে তো এবার?’ শ্রাবনীর কথায় আমি ওর দিকে তাকালাম।</p>
<p>                                          (৫)</p>
<p>শোভাবাজারের পেট্রল পাম্পকে ডাইনে রেখে অন্ধকারে ঢাকা কোন একটা গলির মধ্যে ঢুকে গেলো মোটর সাইকেল।ঢ্যাঙা লোকটা আমার হাত চেপে রেখেছে।আমার খুব অপ্রস্তুত লাগছিলো ।আরে আমি চোর নাকি!গলির মোড়ে ষ্ট্রীট লাইটের নিবু নিবু আলোর মাথায় থামলো মোটরসাইকেলটা।<br />
‘নামুন…’ চশমা পরা লোকটা বাজখাঁই গলায় বললো।সুড়সুড় করে নেমে এলাম আমি।<br />
‘শুনুন ওখানে কিছু বলছিলাম না,লোকজন ছিলো।এলাকাটা বাজে।তাই ভালো জায়গায় নিয়ে এসে আপনাকে জানিয়ে দিচ্ছি কি কি করতে হবে’ চশমা পরা লোকটা একটা সিগারেট ধরালো বুক পকেটের প্যাকেটটা থেকে বের করে।<br />
আমার মনে হলো এরা বড় কোনো দাঁও মারার চেষ্টা করছে।আচ্ছা এরা পুলিশ তার প্রমান কি? আমি তো কিছুই চেক করিনি ওদের;কিন্তু এখন কিস্যু করার নেই।নির্জন জায়গায় যেখানে দাঁড়িয়ে আছি মার্ডার করে দিয়ে চলে গেলেও কেউ টের পাবে না।এরা যা বলছে আগে শুনতে হবে।তবে এদের কাছে সিমপ্যাথি আদায় করে ভাগার চেষ্টা করতে হবে।মন বলে উঠলো শান্তনু।নাটক করো ; নাটক&#8230;।ছোটবেলায় গোলাপ বাগান হাইস্কুলে বাঞ্ছারামের বাগান করে তুমি বেষ্ট প্রাইজ পেয়েছিলে।আজ দেখিয়ে দাও অভিনয় তুমি ভোলনি।<br />
‘স্যর আমায় ছেড়ে দিন স্যর &#8230; ভুল হয়ে গেছে ;আর কোনো দিন হবে না’ কাঁদো কাঁদো মুখ করে বললাম।<br />
‘ন্যাকামো করবেন না সনাতনবাবু; কোলকাতায় এসে বেশ্যা পাড়ায় এসে ফুর্তি করবেন আর ধরা পড়লে ফাঁকি দিতে চাইবেন শাস্তি থেকে তাও কি হয়? আমি কিছুই করবো না,আপনি আমার সাথে থানায় চলুন,ওখানে একটু লিখিত মুচলেকা দিন আপনি সোনাগাছিতে বেশ্যা বাড়ীতে ফুর্তি লুটতে এসে আমাদের হাতে ধরা পড়েছেন।এই বলে একটা মুচলেকা দিন।আর আইনি একটা ফাইন আছে সেটা দিন’<br />
আমার বুকের ধক্ ধক্ তখন হাতুড়ী পেটানোর আওয়াজের মতো লাগছে।<br />
‘স্যার আমায় ছেড়ে দিন স্যার;থানায় নিয়ে যাবেন না স্যার;আমার কেরিয়ার খারাপ হয়ে যাবে; বাড়ীতে মা বোন আছে।চাকরী চলে গেলে না খেতে পেয়ে মরবে ওরা’ কেঁদে উঠলাম আমি।মনে মনে অবশ্য ভাবছিলাম এর পর কি?<br />
‘দেখুন বাচ্চাদের মতো করবেন না; চুপচাপ থানায় চলুন ঝামেলা করবেন না; আর ফাইনের টাকাটা কিভাবে দেবেন?দশ হাজার টাকা’ ইন্সপেক্টর ধোঁয়ার রিং ছেড়ে বললো।<br />
‘দ…শ… হা…জা…র কোথায় পাবো স্যার মাইনে পাই তিন হাজার; দু হাজার মেসে লাগে।এক হাজার বাড়ী পাঠাই ;কোথায় পাবো স্যার এতো টাকা আমি ?’<br />
‘কেনো ? সাথে মনে হচ্ছে এটিএম কার্ড নেই? চুপচাপ থাকুন।আমরাই এটিমে নিয়ে যাবো ;টাকাটা তুলে দিয়ে দিন; কোনো ঝামেলা হবে না’ সাধন বাবু বলে উঠলো।আমার মন তখন ভীষন কনফিউসড।এরা তো রীতিমতো ঘাঁতঘোঁত জেনেই নেমেছে! এটিম কার্ড তো ব্যাগে আছেই।আর সেটাতে দশহাজারের বেশীই আছে।কিন্তু এরা তো পুরো ডাকাত! রীতিমতো ডাকাতি করছে এই রাতে।এই কি এখানকার পুলিশের নমুনা! সরকার জানে এসব! পুলিশ রাত্রে টাকা কালেক্ট করছে লোকের কাছে!ওকে কি সেজন্যই পেট্রোলিং এর ডিউটি দেওয়া হয়েছে শোভাবাজারের ঐ গলিতে!আমাদের আইন কি এতটাই ব্লাইন্ড! কিন্তু এতো কিছু তো নাও হতে পারে।এই লোকদুটো সত্যিকারের ছিনতাইবাজ নয়তো?পুলিশ কখনো মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে টাকা ডিমান্ড করতে পারে ? তাও আবার এটিম থেকে! কিছুদিন আগে সল্টলেকের একজন আই টি এঞ্জিনিয়ারকে অপহরণ করেছিলো ট্যাক্সি ড্রাইভার; এরাও সেরকম নয় তো! থানার ভয় দেখিয়ে আমাকে অন্য কোথাও নিয়ে যাচ্ছে না তো! কিন্তু এখন কি করবো?চিতকার করবো?কে আছে এখানে?এমন জায়গা … সব উঁচু উঁচু বাড়ী;কেই বা শুনবে?আর ওরা যদি আমাকে মেরে দেয় এখানেই!আমার চিতকার শুনে।আমার খুব ভয় লাগতে লাগলো।এসব নানা কনসিকোয়েন্স ভেবে।<br />
‘কি ব্যাপার? আপনি তো খুব সময় নষ্ট করছেন’ সাধন বাবু বললেন।<br />
‘স্যার আমাকে ছেড়ে দিন;আমার কাছে এটিএম কার্ড নেই।আমি চেকে মাইনে পাই।আমার অ্যাকাউন্টে অত টাকা নেই।এটা অফিসের অ্যাকাউন্ট।মাইনে পড়লে আমি চেক দিয়ে তুলে নিই।আমার এখনো কার্ড হয়নি স্যার’।<br />
‘এ্যাই… এ্যাই…চোপ… একদন ন্যাকামি করবি না।অনেক ক্ষন হেজিয়েছি।এই তুই সত্যি করে বলতো কি করিস? টেকনিশিয়ান তুই নোস।টেকনিশিয়ানের জামা কাপড় এতো পাট পাট করা এটা হতে পারে?এই শালা সত্যি বল কি করিস?’ চশমা পরা পুলিশ আমার কলার চেপে ধরলো।<br />
‘স্যার আপনি আমার ব্যাগ চেক করুন।আমি টেকনিশিয়ানই।আমার জন্মদিন আজ তাই ভালো জামা কাপড় পড়ে এসেছি।নাহলে আমাদের ইউনিফর্ম পড়েই আসি স্যার’ হাউ হাউ করে কাঁদতে লাগলাম;আমিই অবাক হয়ে গেলাম আমার ইনষ্ট্যান্ট ঢপ আর নাটুকে কান্না দেখে।<br />
‘অ্যাই শালা চোপ;তুই তো আমাদের প্রেষ্টিজ পাংচার করে ছাড়বি,চুপ কর বলছি;আমরা কি তোকে মেরেছি?’<br />
‘স্যার আমায় ছেড়ে দিন স্যার,বাড়ী যাবো স্যার…আর কোনোদিন এমন হবে না স্যার’<br />
‘হুঁ হুঁ বাবা…পথে এসো।এবার সত্যি বেরোচ্ছে।বল শালা কেন মিথ্যে বলছিস?’<br />
‘স্যার মিথ্যে বলছিনা স্যার,আমি সত্যিই জানতাম না এটা ‘ঐ-পাড়া’ এখানে এসে দেখলাম।আমি বাইরের ছেলে স্যার নতুন এসেছি কোলকাতায় স্যার।আমায় ছেড়ে দিন স্যার;বাড়ীতে মা বোন আছে স্যার’<br />
‘সাধন এ মালটাকে কি করা যায় বলো তো? মালকড়িও কিছু নেই আর ওয়ার্থলেশ তো দেখেই মনে হচ্ছে’<br />
‘স্যার ঢপও তো মারতে পারে; ব্যাগটা চেক করবো?’সাধন পুলিশ বললো।<br />
এই রে।আমার বুকটা ঢিব ঢিব করছে।ব্যাগ খুঁজলে সব পেয়ে যাবে ব্যাটাগুলো।আমার আই কার্ডে কোম্পানীর নাম , অ্যাড্রেস আর অ্যাকাউন্টেন্ট বলে ডেসিগনেশন লেখা আছে।এটিম কার্ড আছে এইচডি এফ সির।আমার অফিসিয়াল অ্যাকাউন্ট।প্রত্যেক মাসে আট হাজারটাকা মাইনে পড়ে ওতে।আমি তখন মা বড়কালীকে প্রার্থনা করছি ,মাগো এবার আমায় বাঁচিয়ে দাও না;এর পরে আর জীবনেও আসবোনা।আর তোমার নামে ৫১ টাকার পূজো দেবো।আমার কাছে দশ হাজার টাকার চুনা লাগার থেকে ৫১ টাকাটা অনেক সেফ গেম ছিলো।আর মা যেন আমার কথা টপ করে শুনেও নিলেন আর আমার অফারটা গিলেও নিলেন!<br />
‘আরে নানা ,ওসব ব্যাগ ফ্যাগ ছাড়ো;ক্যাবলা মাল।চালু নয়।দেখছো না আরেকটু হলে প্যান্টে পেচ্ছাব করে ফেলবে’ বলে আরেকটা রিং ছাড়লো প্রতাপ চৌধুরী।আর ফ্যাঁচ ফ্যাঁচ করে হাসতে লাগলো ঢ্যাঙা পুলিশটা।আর আমি মনে মনে বললাম দাঁড়া , তোদের দেখছি; অনেকটা মেরে এনেছি ;দেখি শেষটা টানতে পারি কিনা !দেখি মা বড়কালী ৫১ টাকার প্রতিদান ঠিকঠাক দেন কিনা!<br />
‘এই শালা তুই কত টাকা দিতে পারবি বলতো? প্রতাপ চৌধুরী কড়া গলায় জিজ্ঞেস করলো;<br />
‘স্য… স্যার পকেটে দেড়শো টাকা পড়ে আছে ।এতো রাতে বাস পাবো না।ট্যাক্সি ধরতে হতে পারে… একশোটা টাকা ছেড়ে দিয়ে বাকিটা…’ লজ্জ্বার মাথা খেয়ে বললাম; শিরশির করছিলো বুকটা।গুলি না চালিয়ে দেয় রেগে মেগে;<br />
‘চো…ও…ও…প’ চেঁচিয়ে উঠলো অ্যাসিট্যান্ট সাব ইস্পেকটর।‘শালা আমাদের কি তো খুচরো চোর মনে হয়? পঞ্চাশ টাকা নিয়ে বাড়ী যাবো…মানে ফাইন নেবো’ ।আমি মনে মনে বলছিলো কাকা এই তো সত্যি কথাটা বলে ফেলেছিলে।এতো কম ঘুষ নিয়ে বাড়ী গেলে তোমাদের মান ইজ্জ্বত চলে যাবে বলেই এতো তড়পাচ্ছো!ওসব ফাইন টাইন সব গপ্পো।বর্ধমানের ওঙ্কারদা তো পুলিশ।ও তো নিজেই বলে জনগনের ‘প্রেসাদ’ দিয়ে রীতিমতো ভাগবাটোয়ারা চলে!তবে আমিও কি ছাড়বো নাকি সহজে? কষ্টের রোজগার করা টাকা দুটো ভুলভাল লোকের হাতে তুলে দেবো! যতই তড়পাও এতো সহজে আমি হার মানছিনা।বেশ করেছি এ পাড়ায় এসেছি।শালা এতই যদি দরদ তুলে দে এপাড়া।তাও তুলবিনা আবার রাতে রেইড মেরে টাকা তুলবি?শালা সত সব হিপোক্রিট।শুধু কি এরা?এরা তো ছুঁচো মাস্তানের দল।আসল তো সরকার,দেশের পলিসী,রাজনীতি… শালা সব নাটক এই দেশটায়।<br />
‘এই তুই ওঠ তো তো বাইকে।তোর কাছে শালা মালকড়ি কিছু পাবো না।রাত দশটা বেজে গেলো ফালতু ফালতু শালা একটা ভিখিরীর পেছনে টাইম নষ্ট; আচ্ছা সাধন তুমিও কি বুঝলেনা এটা একটা পাতি মাল’ অধৈর্য্য হয়ে প্রতাপ চৌধুরী বলছিলো ঢ্যাঙা সাধন কে।<br />
‘স্যার ,জামা কাপড় দেখে বোঝার উপায় আছে দেড়শো টাকা নিয়ে সোনাগাছি চলে এসেছে ?’ মাথা চুলকিয়ে বললো।<br />
আমার প্যালপিটিশনের মাত্রা বেড়ে গিয়ে উঠে গেছে মনুমেন্টে।যা ঢপাচ্ছি, ধরা পড়লে নির্ঘাত জেল…আর ফাঁসী।অবশ্য এদের আইন সম্পর্কে কিস্যু জানিনা।যা দেখছি এদের ব্যপার স্যাপার।<br />
‘স্যার আমায় ছেড়ে দিন স্যার’ কাঁদো কাঁদো বলায় আমার অস্ফুট আওয়াজে ঢ্যাঙা পুলিশটা এবার বলে উঠলো ‘চো…ও…ও…প’<br />
চমকে উঠে প্রতাপ চৌধুরী একবার মেপে নিলো এই শাগরেদটিকে।তারপর আবার আমাকে এরা স্যান্ডুইচ বানিয়ে মোটরসাইকেলে ষ্ট্রার্ট দিলো।<br />
আবার দেখি শোভাবাজারের মোড় দিয়ে গাড়ীটা বাঁক নিচ্ছে ডাইনে পেট্রোল পাম্পটিকে রেখে।মোড়ে তখনো বেশ ভিড়।অটোর যাতায়াত আছে।বাসও আওয়াজ করছে।রাস্তার এপার ওপার করছে ছেলেমেয়েরা।ওদের মাঝখান থেকেই আমাকে নিয়ে মোটরসাইকেল চললো মানিকতলার দিকে।ষ্ট্রীট লাইটের ঝকঝকে হলুদ আলো মোড়টা পেরোতেই নিভু নিভু নীলচে টিউব লাইটের আলো হয়ে গেলো।পুরোণো কোলকাতার উঁচু উঁচু বাড়ীর মাঝে কালো রাস্তা।দিনে কতবার এই রাস্তা দিয়ে গেছি।কিন্তু এখন?কোথায় যাচ্ছি আমি? থানায়? কিন্তু যদি এরা পুলিশ না হয়! যদি এরা অন্য কোনো মতলবে আমাকে ধরেছে এমনটা হয়!কোথায় নিয়ে যাচ্ছে আমাকে? কোনো গোপন ডেরায় নয় তো? কোলকাতায় মাঝে সাঝে অপহরনের খবর তো পাওয়াই যায়; এদিক দিয়ে ঢুকে কোনো গলিতে ঢুকে আমাকে আটকে রাখলে কেই বা আমার হদিস পাবে?যদি এরা মুক্তিপণ দাবী করে!অফিস তো আর দেবেনা।কিন্তু মা&#8230; মা তো থাকতে পারবেনা;হয়তো বোনের জন্য তিলতিল করে গড়া গয়নাগুলো বন্ধক দিয়েই টাকাটা এদের দিয়ে দেবে।না কিছুতেই নয়।আমাকে পালাতেই হবে।হঠাত কারা যেন অনেকে মিলে আমার কানের কাছে বলে উঠলো &#8230;শান্তনু পালাও।পালাও এদের হাত ছেড়ে।&#8230;পালাও শান্তনু।মোটরসাইকেলটা একটা মোড়ের কাছে বাঁয়ে ক্রশ করার জন্য একটু আস্তে করেছিলো স্পীড;সামনে অটোও আসছিলো বলে বোধহয়।দুটো ছেলে মেয়ে গল্প করতে করতে আসছিলো ফুটপাথ বেয়ে।হঠাত সর্বশক্তি দিয়ে আমি চিতকার করে উঠলাম&#8230; ‘বাঁচাও&#8230; বাঁচাও&#8230;হেল্প&#8230;হেল্প&#8230;’।</p>
<p>                                       (৬)<br />
মোটরসাইকেলের লোকদুটো একটু ঘাবড়েও গেলো বোধহয় কারন পেছন থেকে আমাকে জাপটে ধরে থাকা হাত দুটো আলগা হয়ে গেছিলো।ওই ফাঁকে আমি লাফ দিলাম মোটল সাইকেল থেকে।চলন্ত থাকলে অ্যাক্সিডেন্ট হয়ে যেত, কিন্তু স্পীড প্রায় ছিলো না বলে পায়ে একটু লাগলো বটে কিন্তু সামলিয়ে নিলাম নিজেকে; তারপর উল্টোদিকে মানে শ্যামবাজারের দিকে দৌড়তে আরম্ভ করলাম আর চিতকার করতে লাগলাম “হেল্প হেল্প&#8230;”।রাস্তায় অটো যাওয়া আসা করছিলো।পেছন দিকে তাকানোর সময় ছিলো না আমার।ওদের মোটর সাইকেল ঘুরিয়ে আমাকে ধরে ফেলার আগেই আমি একটা অটোকে ধরে উঠে পড়লাম; ‘কোথায় যাবেন?’ ড্রাইভারের প্রশ্নে আমি বললাম ‘আমি ঘোলা যাবো&#8230; তাড়াতাড়ি’।ও বললো ‘এটা শ্যামবাজার যাবে&#8230; আপনি বাস ধরে নিন’।আমি ঘেমে নেয়ে একসা হয়ে গেছিলাম&#8230;আর হাঁফাচ্ছিলাম।প্রায় চিতকার করেই বললাম ‘ষ্টার্ট দাও তুমি&#8230; আমি শ্যামবাজারই যাবো’।অটো ষ্টার্ট দিতে না দিতে পেছন থেকে আওয়াজ  এলো ‘ওই তো শুয়োরটা&#8230;ধর ধর&#8230;’ অটোর পেছনের খোলা জানলা দিয়ে দেখলাম প্রতাপ চৌধুরীর মোটরসাইকেল আমাদের অটো ধরে ফেলেছে।ভেতরটা পুরো দেখা যাচ্ছিলো।আর ও সেটা থেকেই ট্র্যাক করছিলো।প্রতাপ চৌধুরী এসে অটোর ডান দিকে থামালো মোটরসাইকেল।অটোওয়ালাকে বললো ‘ কিরে ? একটা ক্রিমিন্যালকে নিয়ে পালাচ্ছিস? বাঁচতে পারবি?’ অটোওয়ালা আমার দিকে হাঁ করে তাকিয়ে পায়ে পড়ে গেলো প্রতাপ চৌধুরীর… ‘স্যার বুঝতে পারিনি স্যার, ক্ষমা করে দিন স্যার’ ।আর আমার দিকে তাকিয়ে বললো ‘নামুন আমার অটো থেকে’।আমি বুঝে গেছি আমার ধারনা ভুল ছিলো।এই অটোওয়ালাও যখন ‘স্যার’ বলছে একে নির্ঘাত এ পুলিশ।মানে আমি পুলিশের হাত থেকে পালিয়েছি! কি হবে আমার! শিরশির করে উঠলো আমার বুকটা।ঢ্যাঙা পুলিশটা টানতে টানতে নামালো আমায় অটো থেকে ।ভিড় জমে গেছে রাস্তায় তখন।দুটো পুলিশ একজনকে ধরেছে!সে আবার পুলিশের খপ্পর থেকে ভাগার চেষ্টা করছিলো!প্রতাপ চৌধুরী আমাকে কিছু বলার আগেই আমি রাস্তায় শুয়ে পড়ে পা চেপে ধরলাম মান সম্মান খুইয়ে ‘স্যার আমায় বাঁচান স্যার;আর কখনো হবে না স্যার’। ‘ওঠ শালা ওঠ’আমার হাত ধরে টেনে তুললো লোকটা।‘তুই আগে বল পালালি কেন? আবার হেল্প হেল্প? শালা লক আপে নিয়ে গিয়ে পেছনে বাম্বু দিলে হেল্প বেরিয়ে যাবে; বল শালা কেন পালালি? পালিয়ে বাঁচতিস? আমি যদি সারভিস রিভালভার থেকে গুলি ছুঁড়তাম!! কি হতো জানিস? জানিস আমরা কি করতে পারি?এখুনি কোনো মিডিয়া চ্যানেলের  রিপোর্টার ধরে তোর ছবি খবরে দেখিয়ে দেবো।মুখ দেখাতে পারবি আর?’ আমি হাউ হাউ করে কাঁদছি তখন।এবারে সত্যি করে।অ্যাডভেঞ্চারের নেশা ঘুচে গিয়ে আমি রিয়েল ঘটনাটার গুরুত্ব অনুভব করছি ভীষন ভাবে।‘বল শালা ভাগলি কেন?’ প্রতাপ চৌধুরী আবার বলে উঠলো।‘স্যার আমি ভেবেছিলাম আপনারা আমাকে অপহরন করছেন মুক্তিপণের জন্য।আমি ভেবেছিলাম আপনারা পুলিশ নন’ আবার কাঁদতে লাগলাম ।‘কিঃ? অপহরন? মোটরসাইকেলে সকলের সামনে দিয়ে অপহরন হয়? অ্যাটলিষ্ট কোলকাতায় হয়েছে কোনোদিন? বাজে কথা বললেই হল?’ চেঁচিয়ে উঠলো প্রতাপ চৌধুরী ।‘স্যার বিশ্বাস করুন আমি ভেবেছি আপনারা অপহরনকারী।আমার কাছে টাকা না পেয়ে অপহরণ করে মুক্তিপন আদায় করতে চলেছেন।খবরের কাগজে দেখি তো মাঝে মধ্যে।আমার চোখের সামনে ভেসে উঠেছিলো আমার বাড়ীর চেহারাটা।অপহরণের টাকা মাকে যদি দিতে হয় তবে বোনের গয়না বন্ধক দিয়ে বা বিক্রি করে দিতে হবে; সর্বস্বান্ত হয়ে যাবে আমার পরিবার।তাই প্রানের মায়া ভুলে পালাবার জন্য চেষ্টা করছিলাম’।‘এ ছেলেটা মাইরী একেবারে মাল সাধন’ পুলিশটা বলে উঠলো।ভিড়ের মধ্যে কে বলে উঠলো ‘ছেড়ে দিন স্যার একে।সরেস নয়।পাকাপোক্ত এক্কেবারেই নয়’ আর আমার দিকে তাকিয়ে বললো ‘দাদা চলে যান চুপচাপ …’।আমি মুখ তুলে তাকালাম লোকটার দিকে ;‘স্যার না বললে …’ বলে প্রতাপ চৌধুরীর দিকে তাকালাম।এমন সময় একটু দূরে একটা গাড়ী এসে দাঁড়িয়ে পড়লো।পুলিশের পেট্রোলিং জিপ।গাড়ী ভর্তি পুলিশ।আমি বুঝতে পারলাম সব শেষ।এবার জেল অপেক্ষা করছে আমার জন্য।মা আর বোনের কথা ভেবে কান্না পেয়ে গেলো আমার।এই ছিলো আমার কপালে !গাড়ী থেকে পুলিশের পোষাক পরা মোটামতো একটা লোক বলে উঠলো ‘প্রতাপ কি হয়েছে ?সিরিয়াস কিছু? এতো লোক কেন?’ প্রতাপ চৌধুরী বলে উঠলো ‘নানা স্যার তেমন কিছু নয়,আমি সামলে নিচ্ছি’।আমি অবাক হয়ে তাকালাম প্রতাপ চৌধুরীর দিকে।গাড়ীটা বেরিয়ে গেলো।নন-ইউনিফর্মে থাকা অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব ইন্সপেক্টর প্রতাপ চৌধুরী আমার দিকে তাকিয়ে বললো ‘চুপচাপ চলে যান…’।আমার চোখটা জলে ভরে গেলো ‘স্যার , কি বলে যে ?’ ‘ওসব বাজে কথা রাখুন সনাতন বাবু।আমরা মানুষ চিনি।আপনি হয়তো পরিচয় গোপন করলেন;কিন্তু আপনি এক্কেবারে আনপড় এ সব এলাকায় সেটা আমরা বুঝতে পারছি ।আর কোনদিন আসবেন না।এবার এলে একদম জেলে ভরে দেবো।আমি চিনে রাখলাম’ প্রতাপ চৌধুরী থ্রেট দেবার মতো করে গলা তুলে বললো।‘আমি আর কোনোদিনও এমুখো হবো না স্যার’ বলে ব্যাগটা কাঁধে ঝুলিয়ে এগিয়ে গেলাম।একতু এগোতেই দেখলাম শ্যামবাজারের একটা বাস আসছে ।উঠে পড়লাম।<br />
‘তারপর? পুলিশটা সত্যিই ছেড়ে দিলো?’ শ্রাবণীর প্রশ্নে আমি বললাম ‘সত্যিই ছেড়ে দিলো গো।আমি ফিরে এলাম ঘোলার মেসে অনেক রাত্রে।কেউ জানতে পারলো না আমার জীবনে কি ভয়ঙ্কর একটা ঘটনা ঘটতে চলেছিলো আর ঘটেও গেলো’।</p>
<p>আমি বিছানা থেকে উঠে বাথরুম গেছিলাম ফ্রেশ হতে।এসে দেখলাম খাটের একদিকে হাতটা অলস ভাবে ঝুলিয়ে দিয়ে মেঝের দিকে চেয়ে শ্রাবণী কি যেন ভাবছে!আমার মনে এলো ও কি আমায় ঘেন্না করছে ?আমার চরিত্র খারাপ ভাবছে? জিজ্ঞেসই করে ফেললাম ওকে।ও বললো ‘ধুর আমি এসব ভাবছিই না।আমি ভাবছি একটু এদিক ওদিক হলে আমাদের জীবনের গল্পটাও আলাদা হতে পারতো তাই না? যদি তুমি পালানোর সময় পুলিশটা গুলি মারতো? কিংবা যদি তুমি অ্যারেষ্ট হতে?তাহলে?’ শ্রাবণীর কথায় আমি কোনো উত্তর খুঁজে না পেয়ে মাথা নাড়লাম সমর্থন করে।তারপর কি মনে হলো আমিও বলে উঠলাম ‘ আরো কিছু হতে পারতো শ্রাবণী ; এম বি এ টা শেষ করে টাটা মোটরস এর চাকরীটা পাওয়াও হতো না হয়তো! বোনের বিয়ে&#8230;মাকে চেন্নাই নিয়ে গিয়ে অপারেশন&#8230; তোমাকে বিয়ে &#8230;কোনোটাই কি হওয়া সম্ভব হতো  বড় কিছু একটা হয়ে গেলে আমার?”।শ্রাবনী মিষ্টি করে হাসছিলো তারপর হঠাত আমার দিকে  তাকিয়ে চোখে চোখ রেখে বললো ‘একটা কথা দাও,এই আমার মাথায় হাত রেখে বলো আর কখনো ওসব জায়গায় যাবে না তো?’বলে ওর মাথায় আমার হাতটা রাখলো ।আমি হেসে ফেললাম।ওকে জড়িয়ে ধরে গালে একটা চুমু খেয়ে বললাম ‘আমি আর কোনোদিনও, কখনো তোমায় ছেড়ে কোত্থাও যাবো না’।ও ঝলমলিয়ে বললো ‘প্রমিস’।আমি হেসে উঠে বললাম ‘প্রমিস…’।</p>
<p>                                 **************</p>
<a href="http://www.addtoany.com/add_to/google_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fatanujee%2F3431&amp;linkname=%E0%A6%9A%E0%A7%8B%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%A4%E0%A7%87%20%E0%A6%B2%E0%A7%81%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%9A%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A6%BF" title="Google Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/google.png" width="16" height="16" alt="Google Bookmarks"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/orkut?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fatanujee%2F3431&amp;linkname=%E0%A6%9A%E0%A7%8B%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%A4%E0%A7%87%20%E0%A6%B2%E0%A7%81%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%9A%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A6%BF" title="Orkut" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/orkut.png" width="16" height="16" alt="Orkut"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/twitter?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fatanujee%2F3431&amp;linkname=%E0%A6%9A%E0%A7%8B%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%A4%E0%A7%87%20%E0%A6%B2%E0%A7%81%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%9A%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A6%BF" title="Twitter" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/twitter.png" width="16" height="16" alt="Twitter"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/facebook?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fatanujee%2F3431&amp;linkname=%E0%A6%9A%E0%A7%8B%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%A4%E0%A7%87%20%E0%A6%B2%E0%A7%81%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%9A%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A6%BF" title="Facebook" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/facebook.png" width="16" height="16" alt="Facebook"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/yahoo_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fatanujee%2F3431&amp;linkname=%E0%A6%9A%E0%A7%8B%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%A4%E0%A7%87%20%E0%A6%B2%E0%A7%81%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%9A%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A6%BF" title="Yahoo Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/yahoo.png" width="16" height="16" alt="Yahoo Bookmarks"/></a> <a class="a2a_dd addtoany_share_save" href="http://www.addtoany.com/share_save?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fatanujee%2F3431&amp;linkname=%E0%A6%9A%E0%A7%8B%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%A4%E0%A7%87%20%E0%A6%B2%E0%A7%81%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%9A%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A6%BF"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/share_save_120_16.png" width="120" height="16" alt="Share/Bookmark"/></a>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://coffeehouseradda.com/blog/atanujee/3431/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>3</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>‘একটি তারার খোঁজে &#8216;</title>
		<link>http://coffeehouseradda.com/blog/atanujee/3115</link>
		<comments>http://coffeehouseradda.com/blog/atanujee/3115#comments</comments>
		<pubDate>Sun, 04 Jul 2010 09:21:41 +0000</pubDate>
		<dc:creator>অতনু ব্যানার্জী (ফরাক্কা)</dc:creator>
				<category><![CDATA[চলচ্চিত্র]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://coffeehouseradda.com/?p=3115</guid>
		<description><![CDATA[ছবিটা দেখেই ফেললাম উইক এন্ডে…নন্দনে…ম্যাটিনি শো ; ‘একটি তারার খোঁজে’।ছবিটার প্রত্যাশা অনেক ছিলো।দেখার ইচ্ছে ছিলো অনিরুদ্ধ রায়চৌধুরীর ব্র্যান্ডের জন্য। এক এক করে বলি আমার অভিজ্ঞতা।তার আগেই বলে রাখি সমালোচকের চোখের ব্যপ্তি আমার নেই।আমি দর্শকের চোখেই দেখেছি আর সে কথাই বলবো যদিও এই শনিবার ইতিমধ্যে শঙ্করলালদা একটি তারার খোঁজে –র ছবি-সমালোচনা করে ফেলেছেন আনন্দবাজারে।এখন একটি তারার [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>ছবিটা দেখেই ফেললাম উইক এন্ডে…নন্দনে…ম্যাটিনি শো ; ‘একটি তারার খোঁজে’।ছবিটার প্রত্যাশা অনেক ছিলো।দেখার ইচ্ছে ছিলো অনিরুদ্ধ রায়চৌধুরীর ব্র্যান্ডের জন্য। এক এক করে বলি আমার অভিজ্ঞতা।তার আগেই বলে রাখি সমালোচকের চোখের ব্যপ্তি আমার নেই।আমি দর্শকের চোখেই দেখেছি আর সে কথাই বলবো যদিও এই শনিবার ইতিমধ্যে শঙ্করলালদা একটি তারার খোঁজে –র ছবি-সমালোচনা করে ফেলেছেন আনন্দবাজারে।এখন একটি তারার খোঁজে-র গল্প বলি।</p>
<p>বাংলায় ঝকঝকে ছবি,চোখা চোখা ডায়লগ, শিক্ষিত আর রুচিশীল আর সাহিত্যপ্রেমী চরিত্ররা সবসময় ভিড় করে থাকে অনিরুদ্ধদার ছবিতে।এ ছবিতে উনি প্রযোজক।পরিচালনা আরেক স্মার্ট টেকনিশিয়ানের…যার ক্যামের জাদুতে আদ্যোপান্ত বাঙালী মুগ্ধ…সেই অভীক মুখোপাধ্যায়।ছবিটি দেখার আকর্ষন আমার সে কারনেই।আর সেই আকর্ষন বাড়িয়ে দিয়েছিলো দুর্দান্ত সব প্রোমো যেখানে সায়ন মুন্সী সাইকেল চড়ে গান গাইতে গাইতে সকালের কোলকাতা দেখে বেড়াচ্ছে … ডাকদিলো কোন সকাল।প্রবুদ্ধ বন্দোপাধ্যায়ের সুরে আমি মুগ্ধ।বেশ মন কাড়ানো কমার্শিয়াল গান যেগুলোর সুরেলা অথচ বিট-প্রধান মায়া সত্যিই আমাকে মুগ্ধ করেছে।শান চুটিয়ে গান গেয়েছে এই ছবিতে।আর ক্যামেরা ফাটাফাটি।খুব বেশী টেকনিক্যালি না বুঝলেও চোখের আরাম যদি ক্যামেরার ফসল হয়,তবে সত্যি আমার চোখ ভরে গেছে আনন্দে,ক্যামেরার চোখ দিয়ে কোলকাতাকে আর চরিত্রগুলোকে দেখতে দেখতে।<br />
কিন্তু গল্প? গল্প কোথায়।এতো সুন্দর একটা সিনেমার শুরু হলো যেভাবে আর শেষ হলো যেভাবে আমি কিছুতেই মেনে নিতে পারছিনা সেটা।এতো দুর্বল গল্প অভীক কি করে আপনি প্রথম ছবির জন্যে বাছলেন?আর অনিরুদ্ধ,আপনি একবার পড়ে দেখেছেন কি গল্পটা? আরে স্ক্রীপ্টই কি সব? স্ক্রীপ্ট তো একটা টুল মাত্র,একটা ঠাস বুনোটের গল্পকে সাজিয়ে গুছিয়ে দর্শকের পাতে পরিবেশনের জন্য।<br />
স্ক্রীপ্টে তো সবকিছুই ছিলো।ধৃতিমান ছিলেন…তার মেজাজে।উত্তর কোলকাতার পুরোনো বাড়ীর ছাদে তার গুরুগম্ভীর গলায় অনবদ্য সব ডায়লগ…সাহিত্যের পাতা থেকে এক্কেবারে চোখেসামনে টাটকা।সায়ন মুন্সীর সারল্য আর পুরুষালী চেহারার ককটেল মোটামুটি খাপ খেয়ে গেছে বাংলা উচ্চারনে একটু কিন্তু থাকা সত্ত্বেও।অর্পিতার দুর্ভাগ্য ফিরে আসার ছবিতে সেরকম স্ট্রং কোনো প্রোটাগনিষ্টের চরিত্র পেলেন না।প্রোসেনজিত চট্টোপাধ্যায় আরেকটু ভেবে সিদ্ধান্ত নিলেও পারতেন।ব্যতিক্রম কিছু পার্শ্বচরিত্র।সায়নের ছোটবেলাকার বন্ধু …চন্দননগরে(শিল্পীর নাম জানিনা)।ছোট রোলেও রুদ্রনীল খুবই বিশ্বাসযোগ্য।আর আন্ডারওয়ার্ল্ডের মাস্তান ‘গঙ্গা’ (ভূমিকায় দিব্যেন্দু) যে খুব শক্তিশালী আর ন্যাচেরাল অভিনেতা সেটা বুঝিয়ে দিয়েছেন।বাংলা ছবির ভিলেন দশা কাটলে হয় ওকে দিয়ে।</p>
<p>একটা ছেলে যে নায়ক হতে চায় (ছবির শুরুটা নায়ক ছবিকে মনে করাবেই) সে হঠাত আবিষ্কার করে সে আগে থেকে দেখে ফেলেছে তার নাটক দলের প্রধান (সুমন্র) এর খুনের ঘটনা।সেই রাত্রেই মারা যায় সেই প্রধান। নায়ক হতে ছেলেটি আসে চন্দন নগর থেকে কোলকাতায় আসে।উত্তরকোলকাতার একটি বাড়ীতে জায়গা নেই সে বন্ধু রুদ্রনীলের সাহায্যে।এই বাড়ীর মালিক হলো সাহিত্যে প্রগাঢ রুচিশীল,সংগীতজ্ঞ,শেয়ার ব্যাবসায়ে আগ্রহী ধৃতিমান,যে অনেক কিছু হতে পারতো জীবনে কিন্তু ওনার ভাষায় ‘ছেড়ে দিয়েছি’।য়ালাপ হয় ওনার ভাইঝি ঝকঝকে স্মার্ট অর্পিতার সাথে।কোলকাতায় ফিল্মে চান্স পাওয়ার জন্য ষ্ট্রাগল করতে করতে একদিন রাতে হঠাত দেখতে পায় একটা গাড়ী একজনকে পিষে ফেলতে আসছে।একটু পড়েই ঘটনাটা যখন সত্যি হতে যাবে ও আগে থেকে দেখে নেওয়া ঘটনাটা মনে করে বাঁচিয়ে দেয় এক জন রহস্যময়ী মানুষকে।মানুষটি বোঝে ছেলেটা প্রডিজি।সেই রহস্যময়ী মানুষটি কে তার রহস্য উদঘাটন শেষে গিয়ে হয়।সে আন্ডারোয়ার্ল্ড ডন যার কাজ সামনে ইম্পোর্ট-এক্সপোর্ট আর পেছনে বাড়ী দখল, খুন &#8230;আরো নানা অপরাধমূলক কাজ।ডনের সাকরেদ গঙ্গার অভিনয় মনে সত্যিই দাগ কাটে।গঙ্গা ছেলেটিকে ,ওর অজ্ঞাতেই অপরাধ জগতে ঢুকিয়ে দেয়।ও দেখে এই দল মানুষ খুন করতে পারে অবলীলায়&#8230;গামছার মধ্যে এক টাকার কয়েন বেঁধে।এর মধ্যে আবার, ছেলেটি একটি ছবিতে প্যারালাল একটি নেগেটিভ চরিত্রে ডাক পায়।সেই ছবির চরিত্র আর ছেলেটির অপরাধ জগতের কাজ কম্মো কোথায় মিলেমিশে যায়।ছেলেটা বেরিয়ে আসতে চায়।ওর পাশে থাকে ঝকঝকে অর্পিতা।অর্পিতা আবিষ্কার করে আসলে ধৃতিমান অপরাধ জগতের মানুষ আর গলায় গামছা দেওয়ার যে রীতি সেটা ওনার পূর্বপুরুষদের পরম্পরা কারন ওরা আসলে ‘ঠগী’।এদিকে ধৃতিমানে দল ওদের অফিস বোমায় উড়িয়ে দেবার প্ল্যান করে পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে,কিন্তু সায়ন মুন্সী ওদের প্ল্যানে ওদেরকেই আটকে ওই বাড়ীতে ওদের শুদ্ধ বোমব্লাষ্ট ঘটায়।</p>
<p>এই হলো মোটের ওপর গল্প।কিন্তু যেগুলো খাপছাড়া তা হলো<br />
&gt;	প্রডিজি কেন দেখালো আর তার ব্যাকগ্রাউন্ড কি তার কোনো যুক্তি নেই।অথচ ঠিক এই  ব্যাপারটা নিয়েই একটা জম্পেশ প্যারাসাইকোলজিক্যাল থ্রিলার লেখা যেতো।<br />
&gt;	ছেলেটার নিজেকে বাঁচানোর জন্য বোম্বলাষ্ট করে মাস্তান্দের মেরে ফেলা একটা নিছক সরলীকরন।ভালো ছবির মোটেই পরিচায়ক নয়।<br />
&gt;	ধৃতিমানের চরিত্রটা এতো ধোঁয়াশা যে চরিত্রটার যতটা সাহিত্য আছে ততটা রহস্য নেই।আর ‘ঠগী’ আর ওনার সম্পর্ক নিয়ে আরো ন্যারেশন দেখানোর দরকার ছিলো।বড্ড হুড়োহুড়ি করে শেষ হয়ে গেলো।<br />
&gt;	ছবিটা শুরু হলো মহাবিশ্ব ও সত্যতার সম্মন্ধ নিয়ে।কিন্তু শেষ হলো একটা রদ্দি ক্রাইম ষ্টোরী নিয়ে যার মধ্যে মনস্তত্ব এক্কেবারেই নেই।</p>
<p>ব্যাস এটুকুই।কিন্তু আপনারা দেখুন হলে গিয়ে।রোমাঞ্চ আছে,দুর্দান্ত গান,ক্যামেরা ফাটাফাটি&#8230;বাংলা ছবি আস্তে আস্তে এগোক না।</p>
<a href="http://www.addtoany.com/add_to/google_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fatanujee%2F3115&amp;linkname=%E2%80%98%E0%A6%8F%E0%A6%95%E0%A6%9F%E0%A6%BF%20%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%E0%A6%96%E0%A7%8B%E0%A6%81%E0%A6%9C%E0%A7%87%20%26%238216%3B" title="Google Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/google.png" width="16" height="16" alt="Google Bookmarks"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/orkut?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fatanujee%2F3115&amp;linkname=%E2%80%98%E0%A6%8F%E0%A6%95%E0%A6%9F%E0%A6%BF%20%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%E0%A6%96%E0%A7%8B%E0%A6%81%E0%A6%9C%E0%A7%87%20%26%238216%3B" title="Orkut" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/orkut.png" width="16" height="16" alt="Orkut"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/twitter?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fatanujee%2F3115&amp;linkname=%E2%80%98%E0%A6%8F%E0%A6%95%E0%A6%9F%E0%A6%BF%20%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%E0%A6%96%E0%A7%8B%E0%A6%81%E0%A6%9C%E0%A7%87%20%26%238216%3B" title="Twitter" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/twitter.png" width="16" height="16" alt="Twitter"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/facebook?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fatanujee%2F3115&amp;linkname=%E2%80%98%E0%A6%8F%E0%A6%95%E0%A6%9F%E0%A6%BF%20%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%E0%A6%96%E0%A7%8B%E0%A6%81%E0%A6%9C%E0%A7%87%20%26%238216%3B" title="Facebook" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/facebook.png" width="16" height="16" alt="Facebook"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/yahoo_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fatanujee%2F3115&amp;linkname=%E2%80%98%E0%A6%8F%E0%A6%95%E0%A6%9F%E0%A6%BF%20%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%E0%A6%96%E0%A7%8B%E0%A6%81%E0%A6%9C%E0%A7%87%20%26%238216%3B" title="Yahoo Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/yahoo.png" width="16" height="16" alt="Yahoo Bookmarks"/></a> <a class="a2a_dd addtoany_share_save" href="http://www.addtoany.com/share_save?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fatanujee%2F3115&amp;linkname=%E2%80%98%E0%A6%8F%E0%A6%95%E0%A6%9F%E0%A6%BF%20%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%E0%A6%96%E0%A7%8B%E0%A6%81%E0%A6%9C%E0%A7%87%20%26%238216%3B"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/share_save_120_16.png" width="120" height="16" alt="Share/Bookmark"/></a>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://coffeehouseradda.com/blog/atanujee/3115/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>1</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>পেইনকিলার(৪)</title>
		<link>http://coffeehouseradda.com/blog/atanujee/1899</link>
		<comments>http://coffeehouseradda.com/blog/atanujee/1899#comments</comments>
		<pubDate>Sat, 27 Feb 2010 14:23:29 +0000</pubDate>
		<dc:creator>অতনু ব্যানার্জী (ফরাক্কা)</dc:creator>
				<category><![CDATA[গল্প]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://coffeehouseradda.com/?p=1899</guid>
		<description><![CDATA[                                                       [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>                                                                                                  (৫)</p>
<p>               প্ল্যান্টের কন্ট্রোলরুমের কোনের দিকের চেয়ারটায় বসেছিলো সুকান্ত।সামনে সিমুলেটরে প্রোডাকশন প্রসেসে ওর ঠায় লক্ষ্য ছিলো।আজকে সেকেন্ড হাফে এসে ও আর প্ল্যান্টের ওয়ার্কশপে ঢোকে নি।পায়ে ঝিন ঝিন লাগছিলো।ডঃ সেনগুপ্ত বলেছে আজকের দিনটা একটু কম হাঁটাহাঁটি করতে।সেজন্য আজ আর কন্ট্রোল প্যানেল ছেড়ে নড়লো না সুকান্ত।কিন্তু যত সময় যাচ্ছে টিস্-টিস্‌ করছে পায়ের গোড়ালির কাছটা।সেদিকে মন দেওয়ার জো আছে?আজকে আবার ২ নম্বর ট্যাঙ্কের র’মিল্কটার টেম্পারেচার ফ্লাকচুয়েট করছে।সিমুলেটরে বসেই টেম্পারেচারটা কন্ট্রোলে রাখতে হচ্ছে।সাইটে দত্ত আছে।ও দেখছে ট্যাঙ্কের কম্প্রেশরটা।আর অয়্যারলেশ ফোনে সুকান্তের সাথে কথা বলছে ।আগে থেকে কথাই ছিলো সুকান্তই সেকেন্ড সিফট-টা পুরো করে দেবে।রাত দশটায় সিফট শেষ হতেই অফিস থেকে আস্তে আস্তে হেঁটে বেরিয়ে এলো ও।একটু খোঁড়াচ্ছিলো ।পায়ে লাগছিল,গোড়ালিটা মাটিতে ফেলতে গেলেই।বেরিয়ে নাইটসিফটের গাড়ী চড়ে শিয়ালদায় আসতে আসতে রাত ১১ টা বেজে গেলো।গাড়ী থেকে নেমে কোনো মতে শিয়ালদা ষ্টেশনে ঢুকে দেখলো ব্যারাকপুর লোকাল অ্যানাউন্স হয়ে গেছে।প্রায় খোঁড়াতে খোঁড়াতেই একটু দৌড়েই এসে ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে দাঁড়ানো ট্রেনটার লাষ্ট কামরায় উঠে পড়লো।পেছনের দিকে একটা জায়গাও পেয়ে গেলো ও।পায়ের ব্যাথাটা যেন একটু হলেও বাড়ছিলো।অস্বস্তি হচ্ছিলো ভীষন ট্রেনের মধ্যে।পা-টাকে সাবধানে রেখেছিলো।কেউ যদি অসাবধানে মাড়িয়ে দেয় কি করতে কি হয়ে যাবে বাবা! যতই হোক পায়ের ব্যাপার।ট্রেনে হাজারটা গন্ডগোলের মধ্যে বসে ভাবছিলো সুকান্ত।গিয়েই খেয়ে নিয়ে শুয়ে পড়তে হবে।তাহলে অস্বস্তিটা আর বোঝা যাবে না।সামনের সিটে কালো কোট পরা একটা মাঝবয়েসী লোককে নিয়ে ফাজলামো করছে চ্যাঙড়া ছেলেগুলো।সারাদিন কাজকম্মের পর লোকাল ট্রেনে এসে ডেলী-প্যাসেঞ্জারদের রিলিফ এসব করেই।সুকান্ত ওদের চেনে না।ওর এই সিফট টা থাকে না।ফলে এসময়ের কোনো ডেলীপ্যাসেঞ্জারের সাথে ওর চেনাপরিচিতি থাকার কথাও নয়।ওদের কথা শুনে হাসি পেলেও গোড়ালীর টিস্‌ টিস্‌ ব্যাথার জন্য আনন্দটা উপভোগ করতে পারছিলো না সুকান্ত।ট্রেন থেকে নেমে বাড়ী পৌঁছতে পৌঁছতে পৌনে বারোটা মতো হয়ে গেলো।বারান্দার লাইট জ্বালাই ছিলো।একবার ডাকতেই রুপালী এসে গ্রীলের তালা খুলে দিলো তাড়াতাড়ি।ঘরে ঢুকে জুতোটা কোনো মতে ছেড়েই “বাবা গো” বলে বাইরের ঘরের বিছানায় শুয়ে পড়লো সুকান্ত,সটান হয়ে।রুপালীর দিকে একবার চোখ যেতেই বুঝলো খুব টেনশনে আছে।খুব ক্লান্তিতে চোখটা বুঝে এসেছিলো সুকান্তের।কিন্তু বুঝতে পারলো রুপালী ওর পা থেকে জুতো খুলে নিচ্ছে।চোখ মেলে তাকাতেই সুকান্তের একটু খারাপই লাগলো।<br />
“একি! জুতোতে হাত দিচ্ছো কেনো?”<br />
“তাতে কি? এ্যাই শোনো তুমি একটু কষ্ট করে উঠতে পারবে তাহলে আমি জামাটা ছাড়িয়ে দিয়ে গা টা গরম জলে স্পঞ্জ করে দেবো।আর পা টাতে তো ব্যাথা কতটা? ঠান্ডা জল – গরম জল  করে পাটা অদলবদল করলে আরাম পাবে”<br />
“ খুব লাগছে গো।যত রাত যাচ্ছে ব্যাথা বাড়ছে। আমি জামা প্যান্ট ছেড়ে নিচ্ছি।স্পঞ্জ করতে হবে না।আমাকে ওই ঠান্ড-গরম জলের দুটো আলাদা জায়গা দাও না।পা টাকে এদিক ওদিক করি”<br />
“আচ্ছা কোনো ওষুধপত্র দেয়নি?”<br />
“দিয়েছিলো তো।আমি ওখানথেকে কিনেওছি।হ্যাঁ রাত্তিরে বোধ হয় একটা ট্যাবলেট ছিলো ।অবশ্য ডঃ সেনগুপ্ত বলেছে দিন দুয়েক এরকম ব্যাথা সকলেরই থাকে।তারপর কমে যায়।তুমি আমাকে অফিসের ব্যাগটা একটু দাও না।দেখি কি ওষুধপত্তর দিয়েছে”<br />
রুপালী সোফার ওপরে রাখা ব্যাগটা নিয়ে এলো সুকান্তর কাছে।সুকান্ত ব্যাগের সামনের চেনটা খুলে হাত ঢোকালো ভেতরে।তারপর ভ্রুটা যেন কুঁচকে গেলো ওর।রুপালী সেটা লক্ষ্যও করলো।অন্য চেন খুলে হাতড়াতে লাগলো ভেতরে।ব্যাগের এ পকেট ও পকেট দেখতে লাগলো।বিরক্তিতে মুখটা ভরে গেছে ওর।<br />
“কি হলো? ওষুধ পেলে?”<br />
“নাঃ পাচ্ছিনা।মনে হচ্ছে হারিয়ে গেছে “<br />
“ওমা সেকি কথা ! ওষুধ আবার হারিয়ে যায় নাকি?”<br />
“ পাচ্ছিনা তো।হয়তো পড়েই গেছে কোনোভাবে”<br />
“ এ মা&#8230;এবার কি হবে? তুমি রাত্তিরে কি ওষুধ খাবে?”<br />
“রুপালী একটু চুপ করো প্লিজ।রাতে ওষুধ না খেলে তো আরো পেইন বেড়ে যাবে।আর আরো বাজে ব্যপার হলো প্রেস্ক্রিপশনটাও ওষুধের প্যাকেটটাতেই ছিলো।কালকে না হয় আনন্দলোকে একবার ফোন করবো।ডাক্তারকে বলে ওষুধগুলোর না যদি লেখাতে পারি ভালো।না হলে আবার একদিন হয়রানি।আবার একদিন সেই বিধাননগর আনন্দলোক হসপিটাল।কিন্তু আজকে রাতটা ! কি হবে? এরকম ভাবে কষ্ট পাবো।হায় ভগবান।আমার সঙ্গেই এরকম হয়!!”<br />
“ঈসস কি হয়রানি বলোতো” রুপালীও খুব আপসেট হয়ে পড়ছিলো।<br />
                        একটু পরে রুপালী রুটি আর ঝাল ঝাল করে রাঁধা বাঁধাকপির তরকারি নিজের হাতে করে খাইয়ে দিলো সুকান্তকে।সুকান্ত যে খুব ব্যাথা পাচ্ছে ওর চেহারা দেখেই বুঝতে পারছিলো রুপালী।নিজের খাওয়াটা শেষ করে গ্যাস জ্বালিয়ে গরম জল করলো একটা বড় ডেচকিতে।তারপর আরেকটা ডেচকিতে ঠান্ডা জল নিয়ে ডেচকি দুটো রাখলো চৌকির নিচে।সুকান্ত কোনো মতে শরীরটাকে টেনে তুলে পাটা ডোবাতে লাগলো ;একবার গরম জল;আবার একবার ঠান্ডজল; মনে হচ্ছে একটু আরাম হচ্ছে।<br />
                                          ্মশারীর চারকোনা টানটান করে টাঙিয়ে ঝেড়েঝুড়ে ঢুকে পড়লো মশারীতে।এই রে একটা মশা ঢুকে গেছে দেখছি।রুপালী লাফিয়ে মশাটা মারতে গিয়ে পাটা গিয়ে লাগলো সুকান্তর পায়ে ।<br />
“কি হচ্ছে কি?” ঝেঁঝিয়ে উঠলো ও। “একটা মানুষ পায়ে ব্যাথা নিয়ে পড়ে আছে আর তুমি মজা মারছো বসে বসে”।<br />
“মশা ঢুকেছিলো দেখো&#8230;”<br />
“ থামো তোমার মশা”। চোখ মুখ কুঁচকে গেছে সুকান্তর।রুপালীর ভীষন খারাপ লাগছে! ও কি ইচ্ছে করে করেছে?টাল সামলাতে না পেরে পা টা পড়ে গেলো ওর পায়ে।ঈসস্‌ খুব লেগেছে বোধহয়।মুখে কিছু না বলে হটব্যাগটার সুইচটা টিপে ব্যাগটা গরম করতে লাগলো।গরম গরম সেঁত লাগালে ও আরাম পাবে।ভাবছিলো মনে মনে রুপালী।সুকান্ত চোখ বুঁজে শুয়ে আছে ।<br />
“লাগছে তোমার&#8230;”<br />
“খুব&#8230;”<br />
“রাগ কোরোনা আমার ওপর শুধু শুধু।আমি কি তোমার শত্রু&#8230;বলো?ইচ্ছে করে করিনি আমি।প্লিজ রাগ করো না আমার ওপর”<br />
রুপালী দেখলো সুকান্তর কোঁচকানো ভ্রু সাট হলো।বাবুর রাগ পড়লো তাহলে।মুখ টিপে একটু হেসে নিলো ও।<br />
“খুব ব্যাথা করছে রুপালী&#8230; ব্যাথাটা বাড়ছে জানো&#8230;”<br />
“আমি তোমাকে সেঁত দিচ্ছি।এই দ্যাখো আমি হটব্যাগটা এনেছি মশারীর ভেতরে ।আমি এটা পায়ে চেপে ধরলেই , দেখো তুমি আরাম পাবে”।<br />
“দাও &#8230; রুপালী আমি পারছি না&#8230; ভীষন যন্ত্রনা করছে”।<br />
“আমি আছি তো &#8230;”<br />
সুকান্ত চেপে ধরলো রুপালীকে।রুপালীর চোখে একটু জল এলো ।</p>
<p> [চলবে]</p>
<a href="http://www.addtoany.com/add_to/google_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fatanujee%2F1899&amp;linkname=%E0%A6%AA%E0%A7%87%E0%A6%87%E0%A6%A8%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B0%28%E0%A7%AA%29" title="Google Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/google.png" width="16" height="16" alt="Google Bookmarks"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/orkut?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fatanujee%2F1899&amp;linkname=%E0%A6%AA%E0%A7%87%E0%A6%87%E0%A6%A8%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B0%28%E0%A7%AA%29" title="Orkut" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/orkut.png" width="16" height="16" alt="Orkut"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/twitter?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fatanujee%2F1899&amp;linkname=%E0%A6%AA%E0%A7%87%E0%A6%87%E0%A6%A8%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B0%28%E0%A7%AA%29" title="Twitter" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/twitter.png" width="16" height="16" alt="Twitter"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/facebook?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fatanujee%2F1899&amp;linkname=%E0%A6%AA%E0%A7%87%E0%A6%87%E0%A6%A8%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B0%28%E0%A7%AA%29" title="Facebook" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/facebook.png" width="16" height="16" alt="Facebook"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/yahoo_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fatanujee%2F1899&amp;linkname=%E0%A6%AA%E0%A7%87%E0%A6%87%E0%A6%A8%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B0%28%E0%A7%AA%29" title="Yahoo Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/yahoo.png" width="16" height="16" alt="Yahoo Bookmarks"/></a> <a class="a2a_dd addtoany_share_save" href="http://www.addtoany.com/share_save?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fatanujee%2F1899&amp;linkname=%E0%A6%AA%E0%A7%87%E0%A6%87%E0%A6%A8%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B0%28%E0%A7%AA%29"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/share_save_120_16.png" width="120" height="16" alt="Share/Bookmark"/></a>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://coffeehouseradda.com/blog/atanujee/1899/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>2</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>তুমি আমার ভ্যালেন্টাইন হবে তো?</title>
		<link>http://coffeehouseradda.com/blog/atanujee/1800</link>
		<comments>http://coffeehouseradda.com/blog/atanujee/1800#comments</comments>
		<pubDate>Sun, 14 Feb 2010 06:07:33 +0000</pubDate>
		<dc:creator>অতনু ব্যানার্জী (ফরাক্কা)</dc:creator>
				<category><![CDATA[ব্লগাড্ডা]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://coffeehouseradda.com/?p=1800</guid>
		<description><![CDATA[আজ ভ্যালেন্টাইন ডে।সত্যি বলতে কি আলাদা ভাবে কোনোদিনও এই দিনটার জন্য কিছু অনুভব করিনি।মাঝে মাঝে ইন্টালেকচুয়ালদের সাথে গলা মিলিয়ে নিজেকে (ও পার্শ্ববর্তী দের) প্রবোধ বাক্য দিয়েছি এ আমাদের কালচার নয়&#8230; এই দিনটা শুধু গ্রীটিংস কার্ডের ব্যাবসা বাড়ানোর জন্য&#8230; আমেরিকার হাত আছে &#8230; ইত্যাদি ইত্যাদি।কিন্তু এই কথাগুলো শুধুই মুখের।মনের ভেতরে খুব বেশী খোঁচা দিয়েছে তা নয়।মনে [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>আজ ভ্যালেন্টাইন ডে।সত্যি বলতে কি আলাদা ভাবে কোনোদিনও এই দিনটার জন্য কিছু অনুভব করিনি।মাঝে মাঝে ইন্টালেকচুয়ালদের সাথে গলা মিলিয়ে নিজেকে (ও পার্শ্ববর্তী দের) প্রবোধ বাক্য দিয়েছি এ আমাদের কালচার নয়&#8230; এই দিনটা শুধু গ্রীটিংস কার্ডের ব্যাবসা বাড়ানোর জন্য&#8230; আমেরিকার হাত আছে &#8230; ইত্যাদি ইত্যাদি।কিন্তু এই কথাগুলো শুধুই মুখের।মনের ভেতরে খুব বেশী খোঁচা দিয়েছে তা নয়।মনে মনে ভেবেছি, খারাপ কি আজকের দিনটায় সদ্য কৈশোরের একটা খোঁচা খোঁচা যৌবন যদি লাল রঙা চাপা টি শার্টের পরীটির কান্না লাল বেলুন আর গিফটে ভোলাতে চায়।ক্ষতি কি? যদি সত্যিকারের ভালবাসা থাকে।ইকোনমিক্স আর পলিটিক্যাল সায়েন্সের কচকচি তো হৃদয় বোঝে না । এই দিনটাতে কখনো কিছু লিখিও নি।কিন্তু এই বুড়ো বয়সে এসে ইচ্ছে করছে এই দিনটায় তোমাকে কিছু লিখি।একটা খোলা চিঠি।তাই লিখতে বসেছি।রাত পোহালেই ভ্যালেন্টাইন ডে।তাই তো তোমায় চেপে ধরতে ইচ্ছে করছে এখন। মনের কানাগলির ভেতরে এক অন্ধগলির কোনে দাঁড়িয়ে থাকা বৃষ্টিভেজা হৃদয়কে সাথে নিয়ে , ভ্যালেন্টাইন ডে তে মেতে উঠতে ইচ্ছে করছে তোমাকে নিয়ে,উচ্ছাসের পেয়ালায় চুমুক দিয়ে।কে জানে কেন?<br />
তোমার সাথে কাটাতে কাটাতে আমার ক্লান্তি ঝরে পড়ে গেছে প্রবল মৈথুন শেষের উষ্ণ বাষ্পের মতো।তোমাকে যে কখন আমার মতো করে পাবো এই লুকোচুরি আর রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষার লাবডুবেই আমার দিন কাটে।রাতের শ্রান্তির পরে।<br />
                                আমার মনে পড়ে সেই দিনটা।ঠিক সন্ধ্যেবেলা ফিজিক্স পড়তে গেছি গোপ স্যারের কাছে ।সামনে মিল্কু বসে আছে।মাঝে স্যার।পেন্ডুলামের মতো স্যারের মাথা এদিক আর ওদিকের ব্যালেন্সশিট মেইনটেইন করছে।আমি আমার ব্যাগে করে বুদ্ধদেব গুহর একটা বই এনেছি(কি বই এই মুহুর্তে মনে পড়ছে না), মিল্কুকে ইম্প্রেস করার জন্য।টিউশনের পর ওকে দেবো।আমি জেনে ফেলেছি ক্লাস নাইনের এই টাটকা বাতাস ভালোবাসে বুদ্ধদেবের রোমান্টিকতা।গোপস্যারের নির্দেশে টিউশনের পরে সাইকেলে করে ওকে পৌঁছে দিচ্ছি ওদের বাড়ীতে।শিভালরাস ছেলের ভূমিকায়।দুটো সাইকেল পাশাপাশি যাচ্ছে।গল্প করতে করতে।আকাশে হ্যালোজেন চাঁদ।ওর কথাগুলো গান হয়ে চুমু দিচ্ছে আমার মনে।এমন সময়, হাতে হাত স্পর্শ হলো।অসাবধানে।আমার শরীরে শিহরন বয়ে গেলো।আমার রাতের স্বপ্নগুলো ময়ূরের পালক বুলিয়ে দিলো আমার পাতলা চুলো বুকে।আমার অরগাসম হলো।ভালোবাসার অরগাসম।মনের অনুভূতির অরগাসম।সেদিনের সেই সন্ধ্যেটায় তুমি এসেছিলে আমার কাছে।আমার ভযালেন্টাইন হয়ে।আমি আজও ভুলিনি সে কথা।<br />
                                             সাইট এঞ্জিনিয়ার হিসেবে উড়িষ্যা গেছি।মাস খানেকের জন্য।বালেশ্বর এর হোটেলের এক ভোরে তোমার সাথে আলাপ হলো।তোমার গলা শুনে চমকে গেলাম।হিন্দী আর উর্দুর কবিতার মোচড়ের ছন্দে তোমার উচ্চারন।পরে শুনলাম তুমি কোলকাতায় জয়েন করেছো।নতুন কো-অর্ডিনেটর।সেদিন সকালের ফোনটাই আমার ওই একমাসের জিয়ন কাঠি।ফাঁকা মাঠের ধূ ধূ রোদ্দুরে তোমার গলা শুনে বৃষ্টি ঝরে পড়তো আমার বুকে।কত গল্প তোমার।তুমি উত্তরপ্রদেশের মেয়ে।তোমার স্বামী এক অ্যাক্সিডেন্টে মারা গেছে।তোমার দুই ছেলে।বাড়ীতে ক্যানসারের ছোঁয়া তোমার বাবার গলায়।মা আর পাঁচটা মায়ের মতো।তোমার গলায় আদুরে রাই-কিশোরী।তোমার বয়স কত? হেসে ফেলে এড়িয়ে যাও তুমি।রাতের নৈশব্দ শোনাও তুমি তোমার লেকটাউনের ফ্ল্যাটের ছাদে বসে।আর আমি, মাঝরাতে হোটেলের বারান্দায় বসে কল্পনা করি তোমায়।আমাদের নৈশনেশা দিনবদলের সাথে সাথে যৌনতার ফনা তুলতেও দেরী করেনি।মানসিক অরগাসম হয়।কিন্তু তুমি যে অনেক দূরে।তোমার শরীর সেতো এখন তোমার ফ্ল্যাটের বিছানায় তোমার সন্তানদের ঘুম পাড়াতে ব্যস্ত।আমার আগুন ছড়িয়ে পড়ে গুহা থেকে গুহান্তরে।তারপর একদিন কোলকাতা ফিরলাম।ফেরার অসীম আনন্দ নিয়ে।তোমাকে দেখার আনন্দ নিয়ে।হয়তো তোমাকে ছোঁবার আনন্দ নিয়ে।সকাল সকাল ঢুকে পড়েছি অফিসে।হাওড়া ষ্টেশন থেকে অফিসে সরাসরি।তোমার জন্য অধীর আমি।আমাদের প্রথম মিলন,চাক্ষুস।একটু পরে তুমি ঢুকলে।আমি তোমার গলা শুনছি।আমি চেয়ার থেকে উঠে গেলাম।তোমার কিউবিকলে।তুমি বসে আছো।পেছন দিক করে।ফর্সা রঙের পৃথুলা।আমার সাড়া পেয়েই তুমি ঘুরলে।একগাল হেসে।আমার মনের বৃষ্টিভেজা ওই বাড়ীটার দোতলার কোনের ঘরে কে জানে দুঃখের রাগ বাজিয়ে উঠলো স্বার্থপরের মতো।একি কেন এমন হচ্ছে? আমার মনটা কেন এমন খারাপ হয়ে যাচ্ছে? তুমি কি আমার মনের ভাব বুঝেছিলে? হেসে বলেছিলো কি হতাশ হলে।আজ বুঝি, হতাশই হয়েছিলাম।মধ্যচল্লিশের এক পৃথুলা নারীর চোখের সংসারের ক্লান্তি দেখে মেলাতে পারিনি তার কন্ঠের রাইকিশোরীকে।আস্তে আস্তে ধূসর হয়ে গেছিলো মাঝের ওই সুতোটুকু।কেবল আজো সবুজ আছে ওই একমাস ফোনের ওই রাইকিশোরী।ওই দিনের উজ্বলতা ।ওই রাতের কামনা।তুমি এসেছিলে ওই একমাসে আমার ভ্যালেন্টাইন হয়ে।আমি কিন্তু ভুলে যাই নি সেকথা।</p>
<p>                             ধোঁয়াওঠা শীতের রাতে গ্যাংটকের এক হোটেলে তখন বসেছি ‘ন হন্যতে’ নিয়ে।সারাদিনের ঘোরাঘুরির মাশুল পুষিয়ে নিতে।পাশের ঘরে অঘোরে ঘুমোচ্ছে শঙ্করদা।আমার টেকনিশিয়ান।একটু আগে এখানকার এক বোতল রেড ওয়াইনের গরম স্রোত ঢুকেছে ওর দেহে।রাত বারোটা খানেক হবে।এই সময়টা আমার নিজের ।এখান্ত নিজের।বসের ফোন কল নেই।কাষ্টমারের ফোন নেই।আমার একার পৃথিবী।খুট করে শব্দ হলো।আমার দরজাটা খোলাই ছিলো।বাইরে গিয়ে সিগারেট খাওয়ার অভ্যেস ছিলো তখন।দরজা নিয়ে উঁকি মারতেই দেখলাম মেয়েটাকে।ওর ঘরের দরজা খুলছে।এই হোটেলের স্থায়ী বাসিন্দা।নেপালী।মাঝে মাঝেই থাকেনা।আবার আসে।রুম সার্ভিসের ছেলেটা বলছিলো সেলস এ আছে।ওই রুমটা নাকি ওদের কোম্পানীর জন্য পারমানেন্ট বুকিং করা।তাই মাঝে মাঝেই ও এসে থাকে।আজকে ও এসেছে।এতো রাতে।আমি আবার মন দিলাম ‘ন হন্যতের’ পাতায়।বেশ কিছুক্ষন পরে আমার ধোঁয়া পেলো।আমার ধোঁয়া পেলেই আমাকে গিলতে হয় । নাহলে মনটা হ্যাঁচড়প্যাঁচড় করে।ঘরে খাওয়া যায়না।সাফোকেশনের জন্য।দরজাটা ভেজিয়ে বাইরে বেরিয়ে এলাম।করিডোরে এসে জানলার কাছটায় গিয়ে সিগারেট ধরালাম।জানলা দিয়ে উঁকি মারলাম রাতের গ্যাংটকের বুকে।ধোঁয়ামাখা শহরটা হলুদ আলোয় স্নান করেছে যেন।ওই দূরের পাহাড়ে জোনাকি্র মতো আলো জ্বলছে।হয়তো কোনো বাড়ীতে আমারই মতো কেউ রাতের গ্যাংটক দেখছে।হঠাত খুট করে শব্দ হলো ওই মেয়েটার ঘর থেকে।আমি একটু আড়ালে চলে গেলাম।অন্ধকারে।ও বেরিয়ে এলো।জানলার হালকা হলুদ আলোয় ওকে দেখে আমার সারা শরীরে রাশি রাশি জোনাকিপোকা শিরশিরানি উত্তেজনায় আমার সত্তাকে অবশ করে দিলো সেই মুহুর্তের জন্য।একটা টাইট হাফ প্যান্ট যার তলায় চকচকে সুন্দর পা যেন শিল্পীর কল্পনা আর ওপরে টাইট গেঞ্জী যে ব্যার্থ হচ্ছে শরীরের সুন্দরতম মালভুমিকে বেঁধে রাখতে।এতো কাছে এতো শরীরী দেহ দেখিনি তখনো।একটা ভিজে জবজবে নেকড়ার মতো কাপড় নিয়ে গিয়ে ফেলে দিলো ডাষ্টবিনে।তারপর আবার ঢুকে গেলো ঘরের মধ্যে।আমি তখন আমাকে হারিয়ে ফেলেছি।ইতিমধ্যেই সিগারেটের আগুন কখন নিভিয়ে ফেলেছি জানিনা নিজেই।ওর ঘরের আলো জ্বলছে তখনো।পা টিপে টিপে গেলাম ওর ঘরের পাশে।একটা বড় জানলা।ঘষা কাঁচের।উঁকি মারার চেষ্টা যে মুহুর্তে ব্যর্থ বলে প্রমান করতে যাবো নিজের কাছে এমন সময় খুঁজে পেলাম একটা ছোট্ট অংশ যেখানে কাঁচের ঘষা অংশ উঠে গেছে আমাকে সৌভাগ্যবান করার জন্য।সেই অংশে চোখ রাখতেই আমার সামনে আমার চেনা পৃথিবীটা মুহুর্তের মধ্যে বদলাতে থাকলো।মেয়েটি গেঞ্জি খুলে ফেলেছে।পরনে ব্রা আর প্যান্টি।মানে একটু আগে যেটি পরে বাইরে এসেছিলো সেটি আদতে হাফপ্যান্টের মতো লাগছিলো বটে কিন্তু আসলে সেটা প্যান্টি!ছোটবেলা থেকে দেখা নীলপরীরা ওই ছোট্ট অংশদিয়ে কি করে যেন জাদুকাঠির ছোঁয়ায় জেগে উঠলো।একটু পরে খসে পড়লো ব্রেসিয়ার।আমি তখন হারিয়ে গেছি ভোরের ইয়াংসাংথুমের বরফ ঢাকা এক পাহাড়চূড়োয়।নারী শরীর এতো সুন্দর হয়! ছবিতে বা সিনেমায় যা দেখেছি তার চেয়েও এতো সুন্দর!স্বয়ং ঈশ্বর যেন ধরা দিয়েছেন ধবধবে সাদা এই সুদেহী নেপালী নারীর শরীরে।শরীরের নিম্নাঙ্গকে ঢেকে রেখে সে পরিচর্যা করে চলেছে নিজেকে কি একটা তৈলাক্ত তেল দিয়ে এই রাতে।আর টিউবলাইটের আলোর ওর শরীরের আলো যেন সারা ঘরকে আলোয় আলোয় ভরিয়ে দিয়েছে।কতক্ষন যে দেখেছি খেয়াল নেই।একটু পরে স্বপ্নটা অন্ধকার হয়ে যেতেই খেয়াল হলো ঘর অন্ধকার হয়ে গেছে।নিজিয়ে ফিরিয়ে আনলাম জোর করে।সেই রাতে অনেকক্ষন ঘুমোতে পারিনি।সেই অসামান্য নারী শরীর আমার চোখের সামনে ভেসে ভেসে আসছিলো বার বার।কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম আর খেয়ালই নেই।সকালে উঠে দেখি সেই ঘরে তালা।পরে শুনলাম সে এবারের মতো চলে গিয়েছে।কিন্তু সেই রাত আমার কাছে তুমি এসেছিলে ক্ষনিকের জন্য, আমার ভ্যালেন্টাইন হয়ে, ওই নেপালী নারীর সৌন্দর্য্যকে বুকে নিয়ে।আমি কিন্তু সে-রাতও জীবনে কখনো ভুলবোনা।<br />
জীবন তুমি আমায় অনেক দিয়েছো।আমি জানি দেবেও।আবার অনেককিছু কেড়েও নিয়েছো।তোমার এই খেলার সাথে খেলতে আমি শিখে গেছি।আমি যখন মাঝে মাঝে ভীষন ক্লান্ত হয়ে পড়ি পথ চলতে চলতে , তুমি তখন ধরা দাও আমার ভ্যালেন্টাইন রুপে।আমি জানি সেটা।জীবন তুমি আমাকে ছেড়ে চলে যাবে না তো? সত্যি করে বলো? আমি যে বড় বাঁচতে ভালোবাসি।জীবন তুমি এরকম করেই আমার ভ্যালেন্টাইন হবে তো, যখন আমার দুঃখ হবে? নানা যখন তোমার ইচ্ছে হবে? হবে তো? হবে তো জীবন আমার ভ্যালেন্টাইন?একইভাবে?  </p>
<a href="http://www.addtoany.com/add_to/google_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fatanujee%2F1800&amp;linkname=%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%AE%E0%A6%BF%20%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%E0%A6%AD%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%A8%20%E0%A6%B9%E0%A6%AC%E0%A7%87%20%E0%A6%A4%E0%A7%8B%3F" title="Google Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/google.png" width="16" height="16" alt="Google Bookmarks"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/orkut?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fatanujee%2F1800&amp;linkname=%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%AE%E0%A6%BF%20%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%E0%A6%AD%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%A8%20%E0%A6%B9%E0%A6%AC%E0%A7%87%20%E0%A6%A4%E0%A7%8B%3F" title="Orkut" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/orkut.png" width="16" height="16" alt="Orkut"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/twitter?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fatanujee%2F1800&amp;linkname=%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%AE%E0%A6%BF%20%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%E0%A6%AD%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%A8%20%E0%A6%B9%E0%A6%AC%E0%A7%87%20%E0%A6%A4%E0%A7%8B%3F" title="Twitter" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/twitter.png" width="16" height="16" alt="Twitter"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/facebook?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fatanujee%2F1800&amp;linkname=%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%AE%E0%A6%BF%20%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%E0%A6%AD%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%A8%20%E0%A6%B9%E0%A6%AC%E0%A7%87%20%E0%A6%A4%E0%A7%8B%3F" title="Facebook" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/facebook.png" width="16" height="16" alt="Facebook"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/yahoo_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fatanujee%2F1800&amp;linkname=%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%AE%E0%A6%BF%20%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%E0%A6%AD%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%A8%20%E0%A6%B9%E0%A6%AC%E0%A7%87%20%E0%A6%A4%E0%A7%8B%3F" title="Yahoo Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/yahoo.png" width="16" height="16" alt="Yahoo Bookmarks"/></a> <a class="a2a_dd addtoany_share_save" href="http://www.addtoany.com/share_save?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fatanujee%2F1800&amp;linkname=%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%AE%E0%A6%BF%20%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%E0%A6%AD%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%A8%20%E0%A6%B9%E0%A6%AC%E0%A7%87%20%E0%A6%A4%E0%A7%8B%3F"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/share_save_120_16.png" width="120" height="16" alt="Share/Bookmark"/></a>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://coffeehouseradda.com/blog/atanujee/1800/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>5</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>পেইনকিলার (৩)</title>
		<link>http://coffeehouseradda.com/blog/atanujee/1796</link>
		<comments>http://coffeehouseradda.com/blog/atanujee/1796#comments</comments>
		<pubDate>Fri, 12 Feb 2010 08:06:47 +0000</pubDate>
		<dc:creator>অতনু ব্যানার্জী (ফরাক্কা)</dc:creator>
				<category><![CDATA[গল্প]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://coffeehouseradda.com/?p=1796</guid>
		<description><![CDATA[                                  (৩)
অনেকক্ষন বসে থাকতে থাকতে বিরক্ত হয়ে যাচ্ছিলো সুকান্ত।ডাক্তার আসতে এতো দেরী করছে না!! অ্যাসিটেন্ট গুলো বলছে ডাক্তারের এমারজেন্সী একটা অপারেশন আছে।বার [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>                                  (৩)</p>
<p>অনেকক্ষন বসে থাকতে থাকতে বিরক্ত হয়ে যাচ্ছিলো সুকান্ত।ডাক্তার আসতে এতো দেরী করছে না!! অ্যাসিটেন্ট গুলো বলছে ডাক্তারের এমারজেন্সী একটা অপারেশন আছে।বার বার ঘড়ি দেখছে ও।১১ টা বেজে গেলো।আবার ১ টার পরে অফিস পৌঁছতে হবে।কি করে যে সব কিছু ঠিকঠাক হবে কে জানে!!তবে শুনেছে ডাক্তার খুব ভালো।ওকে ক্যাশ সেকশনের রনজয় বলেছে এই ডাক্তারের কথা।রনজয়ের জামাইবাবুরও নাকি এই ক্যালকেনিয়ান-স্পার ছিলো।সুকান্তরই মতো হাঁটার সময় পায়ে লাগতো ওনার, টেনে টেনে হাঁটতেন উনি।এই ডাক্তারের ট্রিটমেন্টে উনি নাকি এখন ভালো আছে।ব্যাথা প্রায় নেই।সুকান্তর এই ব্যাথা কম দিনের!! সেই কলেজ লাইফ থেকে।তখন পাত্তা দেয় নি।বন্ধুরা বাত বাত বলতো।অনেক পরে বাবুপাড়ার ইমদাদুল ডাক্তারের কাছে গেছিলো একবার।তখন ডাক্তারবাবু এক্স-রে করে বলেছিলেন ক্যালকেনিয়ান-স্পার হয়েছে।মানে হাড় টা সামান্য বেড়ে গেছে।আর ইউরিক অ্যাসিডও টেষ্ট করেছিলেন উনি।সেটা নর্ম্যালই ছিলো।ডাক্তার বলেছিলেন এতে শরীরের কিছু ক্ষতি হবে না।কিন্তু খালি পায়ে হাঁটা যাবে না,মানে হাঁটলে লাগবে।আর ওজন কমাতে হবে।আর খাওয়া দাওয়ার দিকে নজর দিতে হবে।প্রোটিন বেশী খাওয়া যাবে না।ইউরিক অ্যাসিড বাড়লে ব্যাথা আরও বাড়বে। আর প্যাড লাগানো জুতো পরতে হবে।তারপর থেকে ও বাটার হ্যাসপাপি জুতো পরে।এতো দাম না।দেড় হাজারের নিচে কোনো জুতোই নেই।এসব কি ওর সাজে?তাও পড়তে হয় অসুখের জন্য।তবে গতমাসখানেক ব্যাথাটা ভীষন বেড়েছে।আর এদিকে রুপালী খুঁচিয়েই যাচ্ছিলো ডাক্তার দেখানোর জন্য।তাই তো এই আনন্দলোক।কোলকাতার মধ্যে সত্যিই ড্যাম চিপ।কিন্তু ডাক্তার দেখানো যে কত ধৈর্য্যের এখানে সেটা ও হাড়েহাড়ে বুঝছে।সেই সাড়ে নটা থেকে বসে আছে।ঘন্টা দেড়েক।ডাক্তারের পাত্তা নেই।পাশের মারোয়ারী ফ্যামিলি তো রীতিমতো গল্প জুড়ে দিয়েছে নিজেদের মধ্যে।এরা বোধহয় এই ব্যাপারটার সাথে পরিচিত।বিরক্তি লাগছিলো ওর।বার বার ঘড়ি দেখছিলো।বেশ খানিক্ষন পর হুড়মুড় করে কে একজন ঢুকলেন ডাক্তারের চেম্বারে।আর সঙ্গে সঙ্গে অ্যাসিটেন্ট দুজন দৌড়ে এলেন পেছন পেছন।কানাকানিতে সুকান্ত বুঝলেন ইনিই ডাক্তার।সুকান্তের নাম চারে।এবার হয়তো বেশীক্ষন বসতে হবে না।সুকান্ত একটু রিলিফ পেয়ে চেয়ারে পিঠটা হেলান দিয়ে বসলো&#8230; একটু আরাম করে।<br />
                                                                  অ্যাসিস্টেন্ট ডাকতেই উঠে গেল সুকান্ত ,দরজার দিকে।দরজাটা খুলতেই বেশ লম্বা আর ফর্সা ভদ্রলোক ভেতরে আসতে বললেন।উনিই তাহলে ডঃ সেনগুপ্ত , একটু আগে যিনি হুড়মুড় করে ঢুকলেন।একবার দেখে নিলো সুকান্ত ওনাকে।ডঃ সেনগুপ্ত ,সুকান্তের আগের সব প্রেস্ক্রিপশন আর রিপোর্ট গুলো চেক করে বাঁ পা টা তুলে দেখতে লাগলেন।ওনার টেপাটেপিতে সুকান্তর আ&#8230; উ&#8230; আওয়াজ জানিয়ে দিচ্ছিলো কোনখানে ব্যাথা।যদিও উনি সুকান্তকে জিজ্ঞেস করে জেনে নিলেন কোথায় কখন ব্যাথা হয়।সব দেখে শুনে ডঃ সেনগুপ্ত বললেন ‘আগের রিপোর্ট দেখে আপনাকে আবার এক্স রে করতে বলছি না।আর একমাস আগেই যখন ইউরিক অ্যাসিড টেষ্ট করিয়েছেন তখন হুড়মুড় করে এতো তাড়াতাড়ি বেড়ে যাবে না।আপনার ব্যাথাটা ক্যালকেনিয়ান-স্পারের জন্যই।আপনাকে একটা ইঞ্জেকশন দিচ্ছি।আশা করি আপনার ব্যাথাটা আর করবে না।আপনি চট করে একটা বিল করে নিয়ে আসুন এটার জন্য’।‘সেরে যাবে তাহলে স্যার?’ সুকান্তের প্রশ্নে ডঃ সেনগুপ্ত বললেন, ‘সাথে কিছু কিছু প্রিকোশনস আপনাকে নিতেই হবে।খাওয়াদাওয়ার রেষ্ট্রিকশন নিতে হবে যাতে ইউরিক অ্যাসিড না বাড়ে।ওটা বেড়ে গেলে ব্যাথা আরো বাড়বে।আর জুতোটা হ্যাসপাপি পরছেন ভালো কথা তার তলায় একটা নরম রবারের প্যাড পরে নেবেন।আর সেরকম একটা চটিও পরে নেবেন।এখানেই পাওয়া যায়।একটা ছেলে আছে সুবীর মহন্ত।ও করে এসব।আমি বলে দিচ্ছি ওকে।ও আপনাকে সব ব্যবস্থা করে দেবে’।<br />
                                     ক্যাশ কাউন্টারে টাকা দেওয়ার সময় সুকান্ত চিন্তা করছিলো , রবারের প্যাড আর চটির জন্য কত পড়বে কে জানে!অবশ্য শর্ট পড়লে কাছাকাছি কোনো ব্যাঙ্কের এটিম থেকে তুলে নেওয়া যাবে।আর ইঞ্জেকশনের কথা ভাবতেই বুকে একটা ঠান্ডা হাওয়া বয়ে গেলো ওর।পায়ে কোথায় দেবে ইঞ্জেকশন! আজকে অফিস যেতে পারবে তো!কিন্তু ডঃ সেনগুপ্ত তো বললেন ইঞ্জেকশনে ব্যাথাটা কমে যাবে।আবার কবে সময় হয় আসার কে জানে?ইঞ্জেকশন নিয়ে নেওয়াটাই ভালো।দেখাই যাক না কি হয়।ভাবলো সুকান্ত।<br />
              ডঃ সেনগুপ্ত গোড়ালিতে ইঞ্জেকশনটা দিলেন।খুব বেশী যে লাগলো তা নয়।প্রেস্ক্রিপশনে অনেকগুলো ওষুধ লিখে দিলেন।পেইনকিলার এর ডোজ্‌।আর সেগুলো কখন কিভাবে খেতে হবে তার ডেসক্রিপশন ওনার অ্যাসিস্ট্যান্ট পরিষ্কার ভাবে বুঝিয়ে দিলো সুকান্তকে।ডঃ সেনগুপ্ত বললেন ‘আজকের দিনটা অফিসে যান।২-৩ দিন একটু ব্যাথা থাকবে।তবে আস্তে আস্তে সব ঠিক হয়ে যাবে’।বেরিয়ে এসে লাগোয়া ওষুধের দোকান থেকে ওষুধ কিনে রুপালীকে একটা ফোন করলো।যতই ঝগড়া করুক , সব কথা ওকে বলা চাইই সুকান্তের।ও তো জানে রুপালী ওর জন্য কতটা চিন্তা করে।রুপালীকে ও বলে দিলো ফিরতে একটু দেরীও হতে পারে।হাজার হোক সেকেন্ড হাফে যাচ্ছে।কোনো কাজ ঘাড়ে চলে গেলে সেটা করেই আসবে ।যতই হোক প্রাইভেট কোম্পানী।বলা যায় না ওপর-ওয়ালাদের কে কিভাবে লক্ষ্য রাখে সবকিছু!<br />
                             (৪)</p>
<p>               দুপুরবেলা ভাত খেয়ে ভাতঘুমের অভ্যেসটা রুপালীর হয়ে গেছে এই কোলকাতা এসে।সুকান্ত অফিসে গেলে সারাদিন একা।কাজকম্মো আর কতক্ষন? দুজন তো মানুষ।তারপর সিরিয়াল দেখা, বড়ি দেওয়া , মাঝে মাঝে ফেসিয়াল করা ঘরে বসেই।তাও সময় কাটে না ওর।মনে হয় ও কখন আসবে।এসেই তো ঝগড়া করবে পান থেকে চুন খসলেই।তাও মনে হয় ও তো আছে কাছে।আরেকটা অভ্যেস ওর আছে।তবে নিয়মিত নয়।মাঝে মাঝে ।ও  ডায়েরী লেখে।না সাহিত্য পড়া বা বোঝার অভ্যেস ওর নেই কোনোদিনই।কিন্তু তাও ডায়েরী ও লেখে।সোজা সরল ভাষায়।যে ভাষায় ও কথা বলে।যে ভাষায় ও ভাবে।ও যে কথাগুলো সুকান্তকে বলতে পারে না।সেগুলো ডায়েরীকে বলে।ও যখন সুকান্তর কথায় খুব দুঃখ পায় ও ওর কান্নার ফোঁটায় ভিজিয়ে দেয় ডায়েরীর পাতাগুলো।দুপুর বেলা গড়িয়ে নেবার আগে এরকম করেই মাঝে মধ্যে ও ডায়েরী নিয়ে বসে যায়।কিন্তু আজ আর ডায়েরী লিখতে ইচ্ছে করছিলো না ওর।খাটে শুয়ে শুয়ে ওর কথা ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়েই পড়লো।<br />
          ঘুম থেকে উঠে টিভিটা চালালো ও।রিমোটটা নিয়ে বিভিন্ন চ্যানেলগুলোকে টেপাটেপি করতে করতে একটা চ্যানেলে চোখ আটকে গেলো ওর।কি একটা হিন্দী সিনেমা।ফুলসজ্জার সিন।ও আর চ্যানেলটা চেঞ্জ করলো না।শ্রীদেবীকে বউ এর সাজে কি সুন্দরই না লাগছে।আর জিতেন্দ্রকেই বেশী মানাতো ওর সাথে।শ্রীদেবীর হাতটা মুখের কাছে নিয়ে চুমু খেতে খেতে মুখের কাছে সরে আসছে জিতেন্দ্র।আর শ্রীদেবী না না করছে।রুপালীর এই সময় মনে পড়ে গেলো সেই দিনটার কথা।কিন্তু সেদিন তো ফুলসজ্জা ছিলো না!সেদিন তো বাসরঘর ছিলো।রাত একটা দেড়টা অব্দি গান-বাজনা হয়ে ওরা সবাই শুয়ে পড়েছিলো।ও আর সুকান্ত খাটে আর সুকান্তের ভাইয়েরা নীচে।পাথাল করে বিছানা করা হয়েছিলো ওদের জন্য।পলাশ আর বরুনটা খুব দুষ্টু ছিলো।খালি পাকা পাকা কথা বলছিলো।সুকান্তের কাছে শুনেছিলো ওরা দুজনেই ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে।আর বাপি তো হাসাতে ওস্তাদ।খালি ইয়ার্কি।রাত ১২ টায় গিয়ে মা-বাপিকে হাঁকাহাঁকি করে ডেকে বলে “কাকীমা চান করবো সাবান দিন”।আবার খাওয়ার সময় মাছভাজা একটার পর একটা নিয়েই যাচ্ছে।বাড়ীর লোক ওকে দেখলেই মজা পেতো।<br />
                                                    তখন বোধহয় দুটো খানেক হবে।ওর ঘুম আসছিলো না।সুকান্তও পাশে উশখুশ উশখুশ করছিলো।আসলে এতো কাছে অন্য ছেলের সাথে শোয়া রুপালীর এই প্রথম।হঠাত দেখে সুকান্তর মুখটা এগিয়ে আসছে ওর দিকে আস্তে আস্তে।ও তো লজ্জায় শেষ।একঘর লোক শুয়ে আছে।তার মাঝে লোকটা কি করবে রে বাবা! এতোটুকু ধৈর্য্য নেই!রুপালীর কানের কাছে মুখ নিয়ে এসে সুকান্ত ফিসফিসিয়ে জিজ্ঞেস করলো ‘জেগে আছো?’ রুপালীর গলা দিয়ে আওয়াজ বেরোলোনা।কি করবে বুঝতে না পেরে আঙুল দিয়ে টোকা দিলো সুকান্তের হাতে।এমন সময় হলো ভয়ঙ্কর কান্ড।সুকান্ত রুপালীর হাতটা জড়িয়ে ধরতেই নীচ থেকে আওয়াজ।‘এটা কি হচ্ছে ? সভ্যভদ্রলোকেদের কান্ডজ্ঞান কি হাওয়া হয়ে গেলো।আমরা কি নেই নাকি?’ পলাশ চেঁচিয়ে উঠলো।পাশ থেকে বরুন আওয়াজ দিলো ‘সুকান্তদা আমরা কিন্তু সব দেখছি অনেকক্ষন থেকে।বাইরের আলোটা কিন্তু জ্বলছে ।সব দেখা যাচ্ছে কিন্তু’।তড়াক করে সরে গেলো সুকান্ত , রুপালীর হাত ছেড়ে।আর রুপালীর ভীষন হাসি পেয়ে গেছিলো সেদিন।মুখ টিপে হাসতে হাসতে ও মুখ ঘুরিয়ে শুয়ে পড়লো।পরদিন কি খ্যাপানো ওদের সুকান্তকে।আর সুকান্ত বেচারা কিছু বলতেই পারছে না।ছিঃ ছিঃ কি লজ্জার কান্ড।<br />
                                     ঘড়ির দিকে তাকালো রুপালী।সাড়ে চারটে।কি করছে ও কে জানে?পায়েরই বা কি অবস্থা!ইঞ্জেকশনটা আবার গোড়ালিতে পড়েছে।আহা রে।হয়তো খুবই লাগছে।এমনিতেই মানুষটার শরীরটা একটু নরম সরম।মুখেই শুধু ঝ্যাঁক ঝ্যাঁক করে।তখনই মনটা খারাপ হয়ে যায়।তা হোকগে;একসাথে চলতে চলতে সব ঠিক হয়ে যাবে।আর যাই হোক মানুষটার চরিত্র-চিত্তির তো খারাপ নয়।আর আজে বাজে ছাই পাঁশও গেলে না।বৈশালীর বর তো শুনেছি রোজ ভোর-রাতে ঐ সব ছাই পাঁশ গিলে এসে ওকে জঘন্য নোংরা ভাবে আদর করতো।আর ও এসবে ঘেন্না পেতো।আহারে কি সুন্দর আর শান্তই ছিলো মেয়েটা।ওদের চেয়ে বোধহয় তিন ক্লাস নীচে ছিলো।কলেজে পড়তে পড়তেই বিয়ে হয়ে গেছিলো ওর।সুন্দরী মেয়ে হলে যা হয়।ভালো পাত্র দেখে বিয়ে হয়ে গেছিলো ।কি একটা বিদেশী কোম্পানীতে চাকরী করতো।অনেক টাকা পেতো ওর বর।সারারাত কাজ।সেই ভোর রাতে বাড়ী ফিরে তান্ডব শুরু করতো বৈশালীর ওপর।প্রথম প্রথম বৈশালীর খারাপ লাগতো না।ও ভাবতো এসব তো ভালোবাসা।আসতে আসতে পার্থক্যটা বুঝতে পারছিলো।মানুষটা কেমন যেন পশুর মতো হয়ে যায় ওই সময়।আর ওকে কষ্ট দিয়েই আনন্দ পায়।অনেকদিন কেঁদেছে ও।তারপর একদিন ওর মাকে সবকিছু খুলে বলে।ওদের বাড়ী থেকে সঙ্গে সঙ্গে ওকে স্বামীর ঘর থেকে নিয়ে চলে আসে।এখন তো শুনি ওদের মধ্যে মামলা মোকদ্দমা চলছে ডিভোর্সের জন্য।মেয়েটা আর বাড়ী থেকে বেরোয় না।ওকে মাঝে মাঝে দেখতে পেতো রুপালী যখন ওখানে ছিলো।খুব কষ্ট হতো।সুকান্ত তো এতো বাজে ছেলে নয়।কোনোদিনও ওসব গিলে বাড়ীতে আসে না।পিকনিকে খায় বটে মাঝে মধ্যে।তবে বাড়ীতে কোনোদিনও খেয়ে মাতলামো করে না।ওরকম জন্তুর মতো আদরও করে না।আসলে মানুষটা একটু নড়বড়ে।কি যে চায় নিজেই ঠিক জানে না।তাই হড়বড় করে রাগ করে ফেলে।আর রুপালীর ওপরই বেশী।তা হলেও মানুষটা খারাপ নয়।সব মানুষতো একরকমের হয় না।অ্যাডজাষ্ট তো একটু করতেই হয় মেয়েদের।ও তো আর চাকরী করে না যে ওকে ছেড়ে হুড়ুম করে চলে যাবে,চাকরী বাকরী করবে।এ জম্মে আর হলো না তা।আর বাপের বাড়ীতে ঝগড়া করে ফিরে গেলেও লজ্জার সীমা থাকবেনা।তাই যা আছি বেশ আছি।এখানেই আস্তে আস্তে অ্যাডজাষ্ট হয়ে যাবে সময় গেলেই।বিছানায় শুয়ে শুয়ে ভাবছিলো রুপালী ; আথালপাথাল নানা ভাবনা।নাঃ অবেলায় বেশীক্ষন শুলে শরীর খারাপ করবে।তারচেয়ে বরং রুটি-তরকারী করে নি।রুটিটা ক্যাসারোলে রেখে দিলে গরমই থাকবে।আর তরকারীটা রাতে গরম করে নিয়ে খাওয়া যাবে।ও আসলে ওর পাশে থাকতে হবে হয়তো।মানুষটার শরীর খারাপ হলে বড্ড কাহিল হয়ে পড়ে।কাউকে পাশে চায়।আর রুপালী তো তাই চায়।সবসময় সুকান্তের পাশে থাকতে।আর দেরী না করে বিছানা থেকে উঠে মুখেচোখে জল দিয়ে চুলটা বেঁধে নেয় ও । তারপর হালকা পাউডার মুখে দিয়ে সিঁদুরটা পরে নেয়।আর তারপর ঢুকে যায় রান্না ঘরে।</p>
<a href="http://www.addtoany.com/add_to/google_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fatanujee%2F1796&amp;linkname=%E0%A6%AA%E0%A7%87%E0%A6%87%E0%A6%A8%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%28%E0%A7%A9%29" title="Google Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/google.png" width="16" height="16" alt="Google Bookmarks"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/orkut?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fatanujee%2F1796&amp;linkname=%E0%A6%AA%E0%A7%87%E0%A6%87%E0%A6%A8%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%28%E0%A7%A9%29" title="Orkut" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/orkut.png" width="16" height="16" alt="Orkut"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/twitter?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fatanujee%2F1796&amp;linkname=%E0%A6%AA%E0%A7%87%E0%A6%87%E0%A6%A8%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%28%E0%A7%A9%29" title="Twitter" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/twitter.png" width="16" height="16" alt="Twitter"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/facebook?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fatanujee%2F1796&amp;linkname=%E0%A6%AA%E0%A7%87%E0%A6%87%E0%A6%A8%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%28%E0%A7%A9%29" title="Facebook" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/facebook.png" width="16" height="16" alt="Facebook"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/yahoo_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fatanujee%2F1796&amp;linkname=%E0%A6%AA%E0%A7%87%E0%A6%87%E0%A6%A8%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%28%E0%A7%A9%29" title="Yahoo Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/yahoo.png" width="16" height="16" alt="Yahoo Bookmarks"/></a> <a class="a2a_dd addtoany_share_save" href="http://www.addtoany.com/share_save?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fatanujee%2F1796&amp;linkname=%E0%A6%AA%E0%A7%87%E0%A6%87%E0%A6%A8%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%28%E0%A7%A9%29"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/share_save_120_16.png" width="120" height="16" alt="Share/Bookmark"/></a>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://coffeehouseradda.com/blog/atanujee/1796/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>6</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>পেইনকিলার (২)</title>
		<link>http://coffeehouseradda.com/blog/atanujee/1779</link>
		<comments>http://coffeehouseradda.com/blog/atanujee/1779#comments</comments>
		<pubDate>Mon, 08 Feb 2010 16:57:31 +0000</pubDate>
		<dc:creator>অতনু ব্যানার্জী (ফরাক্কা)</dc:creator>
				<category><![CDATA[গল্প]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://coffeehouseradda.com/?p=1779</guid>
		<description><![CDATA[                                                       [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>                                                                                                             (২)</p>
<p>রুপালীর মন খারাপ করছিলো একটু।মানুষটা সকাল সকাল রেগে গেলো এতো! আচ্ছা ওর কি দোষ , ও যা দেখেছে তাই রেঁধেছে।ও যা জানে তাই তো করেছে।আলুভাজাটা এতোদিন তো সুকান্তর মনের মতোনই করতো।জিরি জিরি করে কেটে ছাঁকা তেলে ভেজে কড়কড়ে আলুভাজা।ওরও তো ইচ্ছে হয় মাঝে মধ্যে নিজের মতো খেতে।তাইই না আজ করেছিলো ও এমনি।কালকে গোপালকাকার দোকান থেকে নতুন আলু কিনে ও প্ল্যান করেছিলো  ডুমো ডুমো করে ছোট ছোট আলুগুলো কেটে খোসা না ছাড়িয়েই ভাজবে।একটু কম তেলে। ওর বাপের বাড়ীতে দেখে এসেছে সেই ছোট থেকে।ঈসস্‌ বাবা কি ভালোই না বাসতো।সকালের টিফিনে খোসা-সুদ্ধ ডুমো ডুমো করে কাটা আলুভাজা,মটরশুঁটি আর মুড়ি &#8230; ব্যস এই দিলে বাবাকে আর পায় কে।অথচ সুকান্ত দেখেই চটে গেলো।বললো<br />
‘এটা কি মানুষের খাবার&#8230;এটা তো ঘোড়ার খাবার।খোসা গুলো কি আমার পেটে গিয়ে ডিস্কো ড্যান্স করবে?’<br />
‘কেন আমার বাবা তো খুব ভাল বাসতো।আমিও ভালো বাসি’<br />
‘তোমার বাবা! হুঃ মুখ খুলিও না।তোমার বংশশুদ্ধ তো গেঁইয়ামোতে ভরা।না হলে তোমার বাবা এখনো ধুতি পরেন!’<br />
 রুপালীর চোখ দিলে টস্‌  টস্‌  করে জল পড়ে যখন সুকান্ত ওর বাপের বাড়ী তুলে কথা বলে।অথচ ওরা সুকান্তের জন্য কিই না করে।রুপালীর বাবা এখনো জমিতে যায় বলে সুকান্ত ওদের গেঁইয়া বলে।আথচ রুপালী তো জানে ,ঐ জমিই বাবার সব।মাহিন্দারের হাতে তুলে দিয়ে নিশ্চিন্ত হতে পারে না ওর বাবা।তাই নিজেও রোজ জমিতে যায়।তদারকি করে।আর গাঁয়ের দিকে এখনো আগেকার দিনের অনেকেই তো ধুতি পরে।তার জন্য বাবাকে তো দেখতে খারাপ লাগে না।তাও সুকান্ত কথায় কথায় ওর বাপের বাড়ীর নিন্দ্যাবান্দ্য করবে!খুব খারাপ লাগে রুপালীর।ওকে তো সারাক্ষনই শুনতে হয়।‘তুমি দেখতে গেঁইয়ার মতো।মুখের কোনো ছাঁচ নেই।তোমার কোনো কালচার নেই।তোমাকে বাইরে নিয়ে বেরোতে লজ্জা লাগে’।তাও মুখ বুজে থাকতে হয়।হরেদরে কোনো মতে বিএ-টা পাশ করেই রুপালীর বিয়ে দিয়ে দিলো ওদের বাড়ী থেকে।এখন ফিরে গেলে বাবার মান থাকবে গাঁয়ে।মা তো গলায় দড়ি দেবে।</p>
<p>                                                কিন্তু এটাও রুপালী দেখেছে মানুষটা কিন্তু খুব খারাপ নয়।রুপালীকে কোন দিন বেশী ঝ্যাঁক ঝ্যাঁক করলে রাতে এসে ওকে খুব আদর করে।ওকে ক্ষমাও চায়।বলে ‘আমি জানি না কেন আমার এতো রাগ হয় আর রাগ হলেই আমি উল্টোপালটা কথা বলে ফেলি।নিজের ওপর কন্ট্রোল রাখতে পারিনা’।প্রোসেঞ্জিতের বই নিয়ে কম খোঁটা দেয় নে ও। কিন্তু কোনো চ্যানেলে প্রোসেঞ্জিতের বই দিলে ও আবার গলা পেড়ে ডাকে&#8230; ‘এই যে তোমার পোসেঞ্জিত চলে এসেছে’।সবচেয়ে অবাক হয়েছিলো পূজোতে।শ্বশুরবাড়ীতে অনেকদিন পরে গিয়ে ও আদবকায়দা অনেক ভুলে গেছিলো।কথায় কথায় শাশুড়ী রুপালীকে খোঁটা দিতো ‘তোমরাই তো সুখী মা,পেটে ধরে বুকের রক্ত দিয়ে ছেলে মানুষ করলাম; আর আজ তুমি তাকে নিয়ে একা একা নিয়ে দিব্যি সংসার করছো’।সুকান্ত কিন্তু চুপ করে থাকেনি ও বলে দিয়েছিলো মুখের ওপর,<br />
‘এসব রুপালীকে শোনানোর মানে কি মা?আর একা একা থাকা কি আর সাধে? তুমি গিয়ে তো দু-দন্ড টিকতে পারোনা।বাড়ী আসার জন্য ছটপট করো’<br />
‘বাবা বাবু তোর দেখি বউমার ঝোল টেনে কথা বলার অভ্যেস এখন থেকেই তৈরী হয়ে গেছে ; ভালো এরকমটা হলেই ভালো।আর সত্যি বলছি বাপু, তোর বাড়ী গেলে আমার আংশুটে আংশুটে লাগে। বাড়ীটায় অজাত কুজাতের কত লোক।দোতলায় আবার মেস বাড়ী ।দুদন্ড শান্তিতে থাকার জো নেই’।<br />
‘ওকথা বলো না মা । তোমার ছুঁচি-বাই আমি তো জানি&#8230; ।আর শোনো তুমি যদি এরকম করে রুপালীকে কথা শোনাও আমি কিন্তু এক্ষুনি চলে যাবো।সে ভুল করলে বলো।শুধু শুধু খোঁটা দিচ্ছো কেন?’<br />
সব ভুলে গেছিলো রুপালী।সুকান্তর কথায় কথায় চেহারা নিয়ে রুপালীকে ছোট করা,ওর বাপের বাড়ীকে যা নয় তাই বলা সব ভুলে গেছিলো।সুকান্তের প্রতি ভীষন শ্রদ্ধা এসেছিলো।কটা ছেলে মায়ের মুখের ওপর বউ এর জন্য তর্ক করে।না না , সুকান্ত মুখে যতই বলুক  মনে মনে যে ওকে ভালোবাসে টের পেয়েছিলো রুপালী।</p>
<p>                         রুপালী জানে বিয়ের প্রথম থেকেই রুপালীকে পছন্দ হয় নি ওর।ওর চেহারা হাবভাব কোনোদিনই ভাললাগেনি সুকান্তের।রুপালী তো জানেই যে ওর চেহারায় চটক নেই।ভীষন রোগাও ও।কুশ্রী না হলেও সুন্দর তো বলা যায়ই না ওকে।কিন্তু পছন্দ তো সুকান্তই  করেছিলো ওকে।ও ‘না’  বললে তো ওদের বাড়ী থেকে সম্মন্ধটা আর এগোতো না।সুকান্ত একবার বলে ফেলেছিলো রাগের মাথায় ‘বিয়ে কি আর সাধে করেছি।তেত্রিশ বছর অবদি বিয়ে হয়নি আমার।মেয়ের বাড়ী থেকেই কেটে যেতো।কে যেন কেনো? তোমার বাড়ী যখন রাজী হলো আমি হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম।একসময় মনে হতো বিয়েই বুঝি হলো না এ জন্মে।সেজন্য তোমার চেহারাটা পাত্তা দিইই নি।কিন্তু বিয়ের পর এই সেন্স টা চলে এসেছে।বউ যদি সুন্দর বা প্রেসেন্টেবল না হয় লোকসমাজে মুখ দেখানো যায়?’ কখনো বলে ‘তুমি আমার সমস্ত জীবনটা ছারখার করে দিয়েছো’।<br />
                             আসলে মানুষটা খুব চঞ্চল।কি যে চায়, নিজেই জানে না।শুধু শুধু ওকে কষ্ট দেয়।রুপালী কিন্তু  মানুষটাকে সত্যিই ভালোবেসে ফেলেছে।আসলে রুপালী ছোটবেলা থেকে শুনে এসেছে মেয়েদের কাছে স্বামীই সব।স্বামীর ঘর যারা পায় না তাদের কষ্টের শেষ নেই।আর বিয়ের সেই কোন আগে থেকেই ওর মা ওকে শিক্ষে দিয়েছে শ্বশুর শাশুড়ীকে খুব যত্ন-আত্তি করতে হয়।ওরা চান করলে জলে ঘি মিশিয়ে দিতে হয়।শাশুড়ীর চুল আঁচড়ে দিতে হয়।শ্বশুরের পছন্দমতো জলখাবার করে দিতে হয়।আর স্বামী তো আছেই সবার আগে।ওর মনটাই তৈরী হয়ে গেছিলো এসব শুনতে শুনতে।কিন্তু সুকান্তের মা একটু ছুঁচি বায়।পায়খানা করার পর এতোবার জল দেয় প্যানে যে চৌবাচ্চার জল শেষ হয়ে যায়।আবার মোটর চালিয়ে জল তুলতে হয়।শ্বশুরমশায় বকাবকি করে।আবার বড় ভাসুরকে মাঝে মাঝে এমন ঝাঁঝিয়ে ওঠে শাশুড়ীমা ,যে রুপালীরও খারাপ লাগে।আচ্ছা বড়দার কি দোষ।সবাই কি লেখাপড়ায় ভালো হয়!তিনবারে মাধ্যমিক পাশকরেছে যে ছেলে কি করে সে রাতারাতি চাকরী পেয়ে যাবে! চাকরী কি হাতের মোয়া।সুকান্ত চালাকচতুর ছেলে চাকরী পেয়ে গেছে।কিন্তু বড় ভাসুর মানুষটা তো ভালো ।একটু বোকাসোকা হলেও।কয়েকটা টিউশন আর ইন্সিউরেন্সের এজেন্ট&#8230; এভাবেই দিন কাটছে।বিয়ে করতেই চাইছে না।বলে ওর বউ পোষার ক্ষমতা নেই।শাশুড়ীমা এজন্য আরো রেগে যায়।বলে ‘আরে বঊমা কি শুধু তোর বউ? বৌমা তো এ বাড়ীর।আমরা তো বেঁচে আছি &#8230;।নাকি?’তাও বড় ভাসুর রাজী হয় না।</p>
<p>                                                 রুপালী বাড়ীর  বারান্দায় এসে কাপড় মেলছিলো তারে।ভেতর ঘর থেকে মোবাইলের রিংটা বেজে উঠলো।ভেজা হাতেই দৌড়ে গেলো ও ভেতর ঘরে।ডেসিংটেবিলের ওপরে মোবাইলটা রাখা ।বাজছে।হাতটা শাড়ীতে মুছে মোবাইলটা তুলে দেখলো সুকান্ত ফোন করছে&#8230;<br />
‘হ্যালো&#8230;<br />
এতো দেরী হলো?’<br />
‘ওই যে, বারান্দায় কাপড় মেলছিলাম’<br />
‘হাতের কাছে রাখতে পারো না ফোনটা ! দরকারের সময় এতো দেরী করো’<br />
চুপ করে রইলো রুপালী।<br />
‘শোনো আমি আনন্দলোকে পৌঁছে গেছি।ডাক্তার আসতে দেরী আছে।আমার ফোনটা আনন্দলোকে ঢুকলে সিগনাল পাচ্ছে না।তাই বাইরে এসে তোমায় ফোন করছি।আমায় না পেয়ে বাড়ী থেকে কেউ ফোন করলে বলে দিও আমি কোথায় আছি’<br />
‘বলে দেবো&#8230;’<br />
‘রাখছি&#8230;’<br />
‘ভালো করে দেখিয়ে নিও পা’টা।আগের সব রিপোর্টগুলো দেখিও।‘<br />
‘ঠিক আছে রাখছি’।<br />
ফোনটা রেখে  আয়নায় নিজের মুখটা দেখে নিলো ও।অ্যাহ্যাহ্যা সিঁদূরটা একদম ধেবড়ে গেছে।সিঁদূর কৌটো খুলে একটু খানি সিঁদূর নিয়ে আবার একটু গোল করে নিলো।হ্যাঁ এবারে ঠিকঠাক।একটু হাসলোও ও।নিজে ভালো লাগছে বলে।নাকের ওপরে সিঁদূর গুড়ো গুলো হাত পোঁছার কাপড়টা দিলো মুছে নিলো।তারপর গুনগুন করতে করতে বারান্দায় চলে গেলো।ও জানে সুকান্ত ফোনটা করেছে ওর জন্যই।বাড়ীর কারো জন্য &#8230; এসব কিচ্ছু নয়।সুকান্ত জানে রুপালী কতটা ভাবে ওকে নিয়ে ।তাই ফোন করে ওকে না পেলে রুপালী ভেবে অস্থির হবে।তাই আগে থাকতেই ও সব বলে রাখলো।হেসে ফেললো।মানুষটাকে চেনা বড়ই মুশকিল।আবার মুখটা গম্ভীর হয়ে গেলো সঙ্গে সঙ্গে।ওর পা’টা নিয়ে ডাক্তার কি করবে কে জানে।সেই কবে থেকে কষ্ট পাচ্ছে মানুষটা।হাঁটতে গেলেই বাঁ পায়ে লাগছে।আগে তো শ্বশুরবাড়ীর কাছের এক ডাক্তারের পরামর্শে ও নরম লাগানো জুতো আর চটি কিনেছিলো।ওটাই ব্যাবহার করে ও। ব্যাথাটা একটু কমেছিলো তো বটেই।এখন মাসখানেক আবার বেড়েছে।খালি পায়ে তো হাঁটতেই পারেনা স্বাভাবিকভাবে।খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটে।এতো কষ্ট যে হয় রুপালীর তখন।বাড়ীর সব্বাই বলছিলো কোলকাতার বড় ডাক্তার দেখিয়ে নিতে।তাই অনেকদিন ধরে বলতে বলতে সুকান্তকে ও রাজী করিয়েছে ডাক্তার দেখানোর ব্যাপারে।ও বলে<br />
‘অনেকেরই এরকম হয়।হাড় বেড়েছে’<br />
রুপালী বলে ‘সে তো ঠিক আছে।কিন্তু এর একটা চিকিতসা তো থাকবে।এতো কষ্ট পাচ্ছো তুমি’<br />
রুপালীর ঘ্যান ঘ্যানরের জন্যই হোক আর নিজের ব্যাথার জনই হোক এতোদিকে মানুষটার মতি হলো ডাক্তার দেখানোর।ওই খোঁজখবর নিয়ে জেনেছে বিধাননগরের আনন্দলোক হাসপাতাল বেশ সস্তায় ভালো ভালো ডাক্তার দিয়ে চিকিতসা করে।যদিও হাতে সময় নিয়ে যেতে হয়।খুব ভিড় ওখানে।তাইতো আজ ও ওবেলায় অফিস যাবে।এবেলাটা ডাক্তার দেখাবে।ভালোয় ভালোয় চিকিতসা টা ঠিকমতো হলে হয়।বহুদিন ধরে ভুগছে মানুষটা।এবার চান করে নেবে রুপালী।</p>
<p>                              বেলা হয়ে গেলো।চান টান করে ঠাকুরকে ফুল জল দিয়ে তবে নিজে খাবে।তারপর টিভিটা খুলে দেখবে কি বই দিয়েছে আজ।পরনের কাপড়টা ছেড়ে গামছাটা দড়ি থেকে নিয়ে বাথরুমে ঢুকলো রুপালী।ওর আবার অনেক্ষন সময় লাগে বাথরুমে।এই সময় ফোন এলে!!গায়ে জল দেবার আগে দরজা খুলে বাইরে এলো ও।তারপর টেবিলথেকে মোবাইলটা নিয়ে বাথরুমে ঢুকলো।আর ওপরের তাকটায় রেখে দিলো।ওখানে জল যাবে না।বাথরুমের দরজায় এবার ছিটকিনি দিলো ও।বাড়ীতে যদিও কেউ নেই এখন।কিন্তু এ ওর অভ্যেস।এটা ও ছাড়তে পারবে না।নিজের মনেই মুচকি হাসলো ও।</p>
<a href="http://www.addtoany.com/add_to/google_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fatanujee%2F1779&amp;linkname=%E0%A6%AA%E0%A7%87%E0%A6%87%E0%A6%A8%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%28%E0%A7%A8%29" title="Google Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/google.png" width="16" height="16" alt="Google Bookmarks"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/orkut?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fatanujee%2F1779&amp;linkname=%E0%A6%AA%E0%A7%87%E0%A6%87%E0%A6%A8%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%28%E0%A7%A8%29" title="Orkut" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/orkut.png" width="16" height="16" alt="Orkut"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/twitter?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fatanujee%2F1779&amp;linkname=%E0%A6%AA%E0%A7%87%E0%A6%87%E0%A6%A8%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%28%E0%A7%A8%29" title="Twitter" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/twitter.png" width="16" height="16" alt="Twitter"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/facebook?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fatanujee%2F1779&amp;linkname=%E0%A6%AA%E0%A7%87%E0%A6%87%E0%A6%A8%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%28%E0%A7%A8%29" title="Facebook" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/facebook.png" width="16" height="16" alt="Facebook"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/yahoo_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fatanujee%2F1779&amp;linkname=%E0%A6%AA%E0%A7%87%E0%A6%87%E0%A6%A8%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%28%E0%A7%A8%29" title="Yahoo Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/yahoo.png" width="16" height="16" alt="Yahoo Bookmarks"/></a> <a class="a2a_dd addtoany_share_save" href="http://www.addtoany.com/share_save?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fatanujee%2F1779&amp;linkname=%E0%A6%AA%E0%A7%87%E0%A6%87%E0%A6%A8%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%28%E0%A7%A8%29"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/share_save_120_16.png" width="120" height="16" alt="Share/Bookmark"/></a>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://coffeehouseradda.com/blog/atanujee/1779/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>5</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>পেইনকিলার (১)</title>
		<link>http://coffeehouseradda.com/blog/atanujee/1674</link>
		<comments>http://coffeehouseradda.com/blog/atanujee/1674#comments</comments>
		<pubDate>Sat, 30 Jan 2010 17:49:44 +0000</pubDate>
		<dc:creator>অতনু ব্যানার্জী (ফরাক্কা)</dc:creator>
				<category><![CDATA[গল্প]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://coffeehouseradda.com/?p=1674</guid>
		<description><![CDATA[[প্রিয় পাঠক।একটি গল্প ... বরং বলা যায় বড় গল্প শুরু করছি।যেমন যেমন লিখবো ব্লগে পোষ্ট করবো।আগের কন্টিনিউয়েশন পড়তে চাইলে আমার ব্লগে এসে পড়ুন।আপনাদের সঠিক সমালোচনা আর সব লেখকের মতো আমিও ভীষন এক্সপেক্ট করি]
মন ভালো নেই সুকান্তর।আবার রুপালীর সাথে ঝগড়া হয়েছে ওর।আজ সকালেই।হয় এটা ওদের প্রায়ই।বাড়ী থেকে বেরিয়ে ষ্টেশনের লাগোয়া রাস্তাটা ধরে হনহনিয়ে হাঁটছিলো ও।সাড়ে আটটার [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>[প্রিয় পাঠক।একটি গল্প ... বরং বলা যায় বড় গল্প শুরু করছি।যেমন যেমন লিখবো ব্লগে পোষ্ট করবো।আগের কন্টিনিউয়েশন পড়তে চাইলে আমার ব্লগে এসে পড়ুন।আপনাদের সঠিক সমালোচনা আর সব লেখকের মতো আমিও ভীষন এক্সপেক্ট করি]</p>
<p>মন ভালো নেই সুকান্তর।আবার রুপালীর সাথে ঝগড়া হয়েছে ওর।আজ সকালেই।হয় এটা ওদের প্রায়ই।বাড়ী থেকে বেরিয়ে ষ্টেশনের লাগোয়া রাস্তাটা ধরে হনহনিয়ে হাঁটছিলো ও।সাড়ে আটটার লোকালটা মিস করলে চলবে না।না হলে সাড়ে ন টার মধ্যে আনন্দলোক হাসপাতালে পৌঁছনো যাবেনা।ডাক্তারের টাইম ওই সময়।আগে গেলে আগে হবে ।খুব ভিড় ওখানে।ওবেলায় অফিস যাবে।ও আর ছুটি নেয়নি।ফোন করে সাহাদাকে বলেছে এ বেলাটা ম্যানেজ করতে।নাহলে হাফবেলা ছুটি কেটে নেবে।এরকম ম্যানেজ ও মাঝে মধ্যেই করে।অফিসে পৌঁছতে দেরী হয়ে গেলে।ট্রেনে যা ভিড়।মাঝে মাঝে উঠতে পারেনা কামরায়।তখন হয়তো ঘন্টাখানেক দেরি হয়ে গেলো অফিসে পৌঁছতে।এরকম করে মাঝে মাঝে লেট করে বলে গুহ বাবু মাঝে মাঝে কথা শোনায়  ওকে চিবিয়ে চিবিয়ে।“বিয়ের এফেক্ট কি বছর খানেক ধরে চালাবে ভায়া”।চিড়বিড়িয়ে ওঠে ।হুঃ বিয়ের এফেক্ট।কি আর বলবে এদের। </p>
<p>                                                                  এই বছর খানেক বিয়ে হয়েছে কে বলবে! নিত্যি লেগেই আছে কথাকাটাকাটি।ঝগড়া যা করার সুকান্তই করে।রুপালী শান্ত মেয়ে।রা টি  কাড়ে না মুখের।চোখের জল ফেলে বসে বসে।আর কখনো কখনো থাকতে না পেরে দু কথা শুনিয়েও দেয় সুকান্তকে।কিন্তু বড্ড বদ্‌মেজাজী সুকান্ত।ওর কথার পিঠে কথা বললে আর রক্ষে নেই।চেঁচিয়ে বাড়ী মাথায় ওঠে।ভর সন্ধ্যেবেলা সোদপুরের ষ্টেশন মোড়ের এই বাড়ীটা যেন চমকে ওঠে সুকান্তের চিতকারে।দোতলার মেসের ছেলেগুলোর চিতকার চেঁচামেচিও থেমে যায় মাঝে মধ্যে  সুকান্তের চেঁচামেচিতে।রুপালী লজ্জায় মরে যায়।ঘরের ভেতরের ঝগড়া ঝাঁটি বাইরের লোককে এরকম ভাবে জানায়! কে কাকে বোঝাবে।আর সুকান্তর মনটাও মাঝে মাঝে খিঁচিয়ে ওঠে।কি করে বোঝাবে সুকান্ত ,রুপালীকে দেখলেই ওর মনটা রেগে ওঠে।ওই উঁচু ঠোঁট&#8230; দ্যাবা দ্যাবা চোখ কেমনই জানো!আর হাসলে কি বাজে লাগে!কেমন যেন গেঁইয়া গেঁইয়া ভাব।কেমন যেন পেতে চুল আঁচড়ায়।আবার কেমন বেড়া-বিনুনীর মতো পাকিয়ে পাকিয়ে বিনুনী করে ।কতবার বললাম বিউটি পার্লারে গিয়ে চুলটা কেটে কার্লিঙ করিয়ে নিতে।কিন্তু কে কার কথা শোনে! এক মাথা কালো চুল নাকি সংসারে লক্ষী আনে।হুঃ লক্ষী কি এভাবে আসে।বছর ছয়েক ধরে টেকনিশিয়ান থেকে সুপারভাইসার হতে পারলোনা ও।গ্রেড ওয়ান,গ্রেড টু&#8230;কতরকমের ভনিতা।বিএসসি কেমিষ্ট্রে অনার্স পাশ করে এসে টেকনিশিয়ান ! ‘কি করো?’ না &#8230; “টেকনিশিয়ান”।প্ল্যান্টে গিয়ে মেশিন চালাই।একটা কাজ হলো? কোথায় এতোদিনে মাষ্টারী করলে কতনা জানি টাকা জমাতে পারা যেতো।বজলু কি সুন্দর টক করে হিজল এ স্কুলের চাকরীটা লাগিয়ে দিলো।বাসবও তাই।এতো দিন বসে বসে এসএসসিটা লাগিয়ে দিলো কেমন মজাসে।আবার এম.এস.সি টাও করে ফেললো।আর ও সেই বিএসসি পাশ করেই ঢুকে পড়লো কাজে।বাপিই তো ঢুকিয়ে দিলো।ওর তো মাষ্টারীর ইচ্ছেই ছিলো।কে দেবে টাকা তখন।এক লাখ-দেড় লাখ করে টাকা লাগতো তখন স্কুলে ঢুকতে।ওয়েট করার জো ছিলো ওর!বড়দা তেমন কিছু করেনা।টিউশনি পড়েই যেটুকু রোজগার।বোনের বিয়ে দিতে হতো।চাকরীতো ওকে একটা করতেই হতো।বাপী যে সাহেবের গাড়ী চালাতো সেই মুখার্জী সাহেবই তো সিটিমেট্রো-ডেয়ারীতে ঢুকিয়ে দিলো জুনিয়র টেকনিশিয়ানের পোষ্টে।সেই যে বছর ছয়েক আগে ঢোকালো তারপর থেকে সেরকম কিছু উন্নতি হলো না।মাঝে মাঝে ইনক্রিমেন্ট দেয় বছর দুই অন্তর অন্তর।কিন্তু পোষ্ট এ মাত্র একটা পোষ্ট উঠতে পেরেছে।অথচ ওর নাকের ডগা দিয়ে পল্লব সেন,সৌগত কর্মকার , হাবিবুর রহমান &#8230;এরা সব চটপট করে সুপারভাইসার হয়ে গেলো ডিপ্লোমা এঞ্জিনিয়ার বলে।আরে! ও তো গ্র্যাজুয়েট।তবে ওর ডিগ্রীটা কি ফেলনা?কেমিষ্ট্রী অনার্সে ৫১% মার্ক্স সন্মিলনী কলেজে কজন পেয়েছিলো সেবার?অথচ ওর আর উন্নতি হচ্ছে না।সবাই বলে একটা টেকনিক্যাল ডিগ্রী করো।আরে! এই বয়সে আবার বই নিয়ে বসা হয় নাকি? </p>
<p>                                                                                                তারপর এই একটা মেয়ে জুটেছে ভাগ্যে।ওর ভাগ্যেই জুটলো এমনটা!বসে বসে বাংলা সিনেমা দেখে।কি না প্রসেঞ্জিতের সিনেমা।একটা ষ্ট্যান্ডার্ড হলো এটা।তাও বুঝতাম প্রসেঞ্জিতের ভালো ভালো সিনেমাগুলো দেখছে।তা দেখবে না।যতসব গেঁইয়া ছবি কথাতেও কেমন একটা গেঁইয়া ছাপ।অসহ্য।কোনোদিন ভেবেছে ও এমন একটা গেঁইয়া মেয়ে ওর ভাগ্যে পড়বে?ভাগ্য &#8230; সব ভাগ্য।ভাবে ও।নইলে অন্তরা ওকে এমন ভাবে ছেড়ে যায়? অন্তরাটা সত্যি খুব সেক্সি ছিলো।ওকে আদর করে যা আরাম পেতো ও যে টেকনিশিয়ান হবার দুঃখই ভুলে যেতো।কোলকাতা থেকে ঘাটাল গেলেই ওদের বাড়ী ও যেতোই।ওর মাও বেশ আয়েস করে চপ-মুড়ি খাওয়াতো।ওদের সম্পর্ক্টা তো সবাই জানতো।ওর বাবার একটু আপত্তি ছিলো।স্কুল-মাষ্টারের মেয়ের বিয়ে কিনা ড্রাইভারের ছেলের সাথে।তাও অন্তরার সেক্সটা একটু বেশীই ছিলো।পাগলের মতো আদর করতো দূর্গাবাড়ীর জঙ্গলে ভর সন্ধ্যেবেলায়।আর ও ডুবে যেতো অন্তরার ভরা কিশোরীবেলার গন্ধে।অন্তরাটা বদলে গেলো দেবুদাকে দেখে।ওর লম্বা চওড়া চেহারা,ফর্সা গায়ের রঙ,গম্ভীর গলা আর ফৌজদারী কোর্টের ক্লার্কের চাকরীতে মজে গেলো ও।ও পড়ে থাকলো কোলকাতায় আর তলায় তলায় বিয়ের সম্মন্ধ করে ফেললো ওরা দেবুদার সাথে।আর অন্তরাও দিব্যি ড্যাং ড্যাং করে শুতে চলে গেলো দেবুদার সাথে।পরে অবশ্য সুকান্ত একবার ওকে ডেকেছিলো দূর্গাবাড়ীর জঙ্গলে।ও আসেনি।বলে নাকি ওর মান-সম্মান আছে।রাস্তার মেয়েছেলে কোথাকার।থক করে একবার থুতু ফেললো সুকান্ত সোদপুর ষ্টেশনের ২ নাম্বার প্ল্যাটফর্মের পিকদানিটায়।এখনো ১ মিনিট বাকি।ট্রেনটা আসতে।সবাই প্ল্যাটফর্মের কাছে চলে আসছে।মাইকে অ্যানাউন্স করছে ট্রেনটার কথা।টিটাগড় ছেড়ে দিয়ে সোদপুরের দিকে আসছে ট্রেনটা।সুকান্ত বুকপকেটে টাকাটা দেখে নিলো।এই ভিড় ট্রেনে ও মানিব্যাগ পকেটে নেয় না।ব্যাগে ফাঁকা মানিব্যাগ রেখে দেয়।আর বুকের ইন্সাইড পকেটে টাকাগুলো ঢুকিয়ে রাখে।ট্রেনটা প্ল্যাটফর্মে থামতে না থামতেই মরিয়া চেষ্টায় উঠে পড়লো ট্রেনটায় সুকান্ত।<br />
[চলবে]</p>
<a href="http://www.addtoany.com/add_to/google_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fatanujee%2F1674&amp;linkname=%E0%A6%AA%E0%A7%87%E0%A6%87%E0%A6%A8%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%28%E0%A7%A7%29" title="Google Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/google.png" width="16" height="16" alt="Google Bookmarks"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/orkut?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fatanujee%2F1674&amp;linkname=%E0%A6%AA%E0%A7%87%E0%A6%87%E0%A6%A8%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%28%E0%A7%A7%29" title="Orkut" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/orkut.png" width="16" height="16" alt="Orkut"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/twitter?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fatanujee%2F1674&amp;linkname=%E0%A6%AA%E0%A7%87%E0%A6%87%E0%A6%A8%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%28%E0%A7%A7%29" title="Twitter" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/twitter.png" width="16" height="16" alt="Twitter"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/facebook?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fatanujee%2F1674&amp;linkname=%E0%A6%AA%E0%A7%87%E0%A6%87%E0%A6%A8%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%28%E0%A7%A7%29" title="Facebook" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/facebook.png" width="16" height="16" alt="Facebook"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/yahoo_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fatanujee%2F1674&amp;linkname=%E0%A6%AA%E0%A7%87%E0%A6%87%E0%A6%A8%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%28%E0%A7%A7%29" title="Yahoo Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/yahoo.png" width="16" height="16" alt="Yahoo Bookmarks"/></a> <a class="a2a_dd addtoany_share_save" href="http://www.addtoany.com/share_save?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fatanujee%2F1674&amp;linkname=%E0%A6%AA%E0%A7%87%E0%A6%87%E0%A6%A8%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%28%E0%A7%A7%29"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/share_save_120_16.png" width="120" height="16" alt="Share/Bookmark"/></a>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://coffeehouseradda.com/blog/atanujee/1674/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>12</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>আজকে সরস্বতী পূজো&#8230;&#8230;&#8230;।</title>
		<link>http://coffeehouseradda.com/blog/atanujee/1540</link>
		<comments>http://coffeehouseradda.com/blog/atanujee/1540#comments</comments>
		<pubDate>Wed, 20 Jan 2010 19:31:38 +0000</pubDate>
		<dc:creator>অতনু ব্যানার্জী (ফরাক্কা)</dc:creator>
				<category><![CDATA[ব্লগাড্ডা]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://coffeehouseradda.com/?p=1540</guid>
		<description><![CDATA[আজকে সরস্বতী পূজো &#8230;&#8230;।ছিলো।কর্মসূত্রে এখন দক্ষিন ভারতে থাকি।এখানে বাঙালী সমিতির কার্ড এসেছিলো বাড়ীতে আগেই।ক্লাবে সরস্বতী পূজো আছে বলে।এই ক্লাবটা বেশ &#8230; মানে বেশ বড়সড়।নিজস্ব চারতলা বিল্ডিং, অডিটোরিয়াম,থাকার জায়গা,ক্যান্টিন,লাইব্রেরী আর সব রকম পূজো এসব নিয়ে বেশ আছে।আমার অফিসে ছুটি আজ নেই।নানা কাজে গতবার ছুটি নিয়ে প্রায় সব ছুটি খুইয়ে বসে আছি।যদিও অফিসে অনেকটা সরকারী চাকরির কালচার।যারা [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>আজকে সরস্বতী পূজো &#8230;&#8230;।ছিলো।কর্মসূত্রে এখন দক্ষিন ভারতে থাকি।এখানে বাঙালী সমিতির কার্ড এসেছিলো বাড়ীতে আগেই।ক্লাবে সরস্বতী পূজো আছে বলে।এই ক্লাবটা বেশ &#8230; মানে বেশ বড়সড়।নিজস্ব চারতলা বিল্ডিং, অডিটোরিয়াম,থাকার জায়গা,ক্যান্টিন,লাইব্রেরী আর সব রকম পূজো এসব নিয়ে বেশ আছে।আমার অফিসে ছুটি আজ নেই।নানা কাজে গতবার ছুটি নিয়ে প্রায় সব ছুটি খুইয়ে বসে আছি।যদিও অফিসে অনেকটা সরকারী চাকরির কালচার।যারা করে তারা করে ।যারা করে না ভুলভাল গল্পো দিয়ে গায়ে হাওয়া লাগিয়ে ঘুরে বেড়ায়।কই ওদের চাকরী তো দিব্যি আছে দেখি!আমার আবার হয় না।নিজের কাছে নিজের খারাপ লাগে।আর আমার থেকে বাড়া আমার বউ।ওর আইডিওলজি আমার থেকেও কড়া।পাতি কথা,পয়সা যখন নিচ্ছো পুরো্টা দেবে।যাই হোক এসব নানা কারনে কামাই করিনি কখনো আজেবাজে (জ্বরজ্বালা) দেখিয়ে।আজ আবার একটা চাপ ছিলো ।কিছু ক্লায়েন্ট আসবে কথা ছিলো।ওদের মিটিং এ আমারও থাকার কথা।তাই আজ অফিস যেতেই হলো।সারাদিনের চাপে ভুলেই গেছিলাম আজ সরস্বতী পূজো।দুপুরে বউ ফোন করে বললো আমার ১ মাস ১০ দিন বয়সের মেয়ে আনন্দী সরস্বতী ঠাকুর দেখে এসেছে পাশের বাড়ী থেকে&#8230; মামা-মামীর কোলে প্যাকড হয়ে।বাবাকে ফোন করলাম।<br />
‘বাবা ক্লাবে যাবে? ফাংশন আছে’।<br />
‘কি আছে?’<br />
‘বাচ্ছাদের নাটক’।<br />
‘আর রাত্রে বেরোতে ভালো লাগছে না’<br />
।ক্যানসেল হয়ে গেলো একটুখানি মাথা ওঠানো প্ল্যানিংটা।অফিস থেকে ফিরেই তড়িঘড়ি করে জিম ছুটলাম &#8230; রোজকার মতো।ঘেমে নেয়ে একশা হয়ে একটু রাত হলো বাড়ি ফিরতে।রাত মানে ন’টা হবে আর কি।বাড়িতে হাত-পা ধুয়ে একটু রেষ্ট নিচ্ছিলাম।টিভিতে ষ্টার-জলসায় ওগো-বধূ-সুন্দরী হচ্ছিলো।মা খুব মন দিয়ে দেখে।মাঝে মাঝে আমারও চোখ যায় বই কি।সব পেয়েছির দেশ এক্কেবারে।<br />
‘বুঝলে বাবা, এখানে বুঝতেই পারলাম না সরস্বতী পূজো।এর থেকে গেলো বার ইউরোপে ভালো পূজো কাটিয়েছি’<br />
বাবা বললো ‘ ঘাবড়াস না পূজোর জন্য স্পেশাল মেনু আছে তোর জন্য’<br />
‘কি গো?’<br />
 ‘হাত পা ধুয়ে নে।তারপর চল ডিনারটা সেরে নিই’</p>
<p>।ডাইনিং টেবিলে বসে চক্ষুচড়ক।আমার ছোটবেলা ফিরে এসেছে  আবার।মুগের ডালের খিচুড়ি, মুশুর ডালের কড়া কড়া বড়া,ডুমো ডুমো করে কাটা খোসাসুদ্ধ নতুন আলুভাজা,টমেটোর চাটনি আর পাঁচমেশালী চচ্চড়ি।ছোটবেলায় আমাদের বাড়ীর সরস্বতী পূজোর মেনু।খেতে খেতে ফিরে আসছিলো পুরোনো সব গন্ধগুলো।কোনোদিনই না খেয়ে পূজো দিইনি।চিরদিন নারকোলি কূল খেয়ে পূজোতে যেতাম।নীলাঞ্জনার সাথে ঝাড়ি মারতাম এই দিনেই।আমাদের ক্লাবের পূজোর সামনে যেদিন জয়শ্রী এলো সেদিন সবাই ওর ষ্টাইল দেখে হাঁ হয়ে গেছিলো।আর তারপর যখন জানলো ও আমার বন্ধু সবাই আরো হাঁ।ও হ্যাঁ, আর পূজোর আগের রাতে প্যান্ডেলের সামনে সারারাত টেন্টের মধ্যে কাটানো , ফুলচুরি আমি করিনি কখনো ( অনেকেই করতো),সিদ্ধি খাওয়া আর সারা রাত নাচা&#8230; হাওয়া হাওয়া এ হাওয়া খুশবু পাতা দে&#8230; ।</p>
<p>‘বাবা, মা কিন্তু ঠিক আগের মতোই রেঁধেছে’<br />
মা হাসছে।‘আজকে কিন্তু তোর বাবাই সব রেঁধেছে।আমি শুধু বড়া’<br />
বাবার মুখে গর্বের হাসি।আর মায়ের তৃপ্তির।আর আমার &#8230;অদ্ভুত একটা খুশীর &#8230; নষ্টালজিয়ার।সরস্বতী পূজোর সেলিব্রেশন যে এতো ইউনিক ভাবে হয়ে যাবে আমি আজকে সকালেও ভাবতে পারিনি।</p>
<a href="http://www.addtoany.com/add_to/google_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fatanujee%2F1540&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%9C%E0%A6%95%E0%A7%87%20%E0%A6%B8%E0%A6%B0%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%A4%E0%A7%80%20%E0%A6%AA%E0%A7%82%E0%A6%9C%E0%A7%8B%26%238230%3B%26%238230%3B%26%238230%3B%E0%A5%A4" title="Google Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/google.png" width="16" height="16" alt="Google Bookmarks"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/orkut?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fatanujee%2F1540&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%9C%E0%A6%95%E0%A7%87%20%E0%A6%B8%E0%A6%B0%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%A4%E0%A7%80%20%E0%A6%AA%E0%A7%82%E0%A6%9C%E0%A7%8B%26%238230%3B%26%238230%3B%26%238230%3B%E0%A5%A4" title="Orkut" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/orkut.png" width="16" height="16" alt="Orkut"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/twitter?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fatanujee%2F1540&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%9C%E0%A6%95%E0%A7%87%20%E0%A6%B8%E0%A6%B0%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%A4%E0%A7%80%20%E0%A6%AA%E0%A7%82%E0%A6%9C%E0%A7%8B%26%238230%3B%26%238230%3B%26%238230%3B%E0%A5%A4" title="Twitter" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/twitter.png" width="16" height="16" alt="Twitter"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/facebook?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fatanujee%2F1540&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%9C%E0%A6%95%E0%A7%87%20%E0%A6%B8%E0%A6%B0%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%A4%E0%A7%80%20%E0%A6%AA%E0%A7%82%E0%A6%9C%E0%A7%8B%26%238230%3B%26%238230%3B%26%238230%3B%E0%A5%A4" title="Facebook" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/facebook.png" width="16" height="16" alt="Facebook"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/yahoo_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fatanujee%2F1540&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%9C%E0%A6%95%E0%A7%87%20%E0%A6%B8%E0%A6%B0%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%A4%E0%A7%80%20%E0%A6%AA%E0%A7%82%E0%A6%9C%E0%A7%8B%26%238230%3B%26%238230%3B%26%238230%3B%E0%A5%A4" title="Yahoo Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/yahoo.png" width="16" height="16" alt="Yahoo Bookmarks"/></a> <a class="a2a_dd addtoany_share_save" href="http://www.addtoany.com/share_save?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fatanujee%2F1540&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%9C%E0%A6%95%E0%A7%87%20%E0%A6%B8%E0%A6%B0%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%A4%E0%A7%80%20%E0%A6%AA%E0%A7%82%E0%A6%9C%E0%A7%8B%26%238230%3B%26%238230%3B%26%238230%3B%E0%A5%A4"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/share_save_120_16.png" width="120" height="16" alt="Share/Bookmark"/></a>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://coffeehouseradda.com/blog/atanujee/1540/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>4</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>উনি চলে গেলেন&#8230;&#8230;&#8230;</title>
		<link>http://coffeehouseradda.com/blog/atanujee/1466</link>
		<comments>http://coffeehouseradda.com/blog/atanujee/1466#comments</comments>
		<pubDate>Sun, 17 Jan 2010 16:46:50 +0000</pubDate>
		<dc:creator>অতনু ব্যানার্জী (ফরাক্কা)</dc:creator>
				<category><![CDATA[ব্লগাড্ডা]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://coffeehouseradda.com/?p=1466</guid>
		<description><![CDATA[তখন দুপুর সাড়ে বারোটা খানেক হবে।আমার বাবা তখন ফোনে ব্যস্ত।ওপারে ছোটমামা।আর আমি আমার ল্যাপটপে লেখালেখিতে।রান্না ঘরের ছোঁক ছোঁক শব্দ জানান দিচ্ছিলো মায়ের রান্নাবান্নার।বাবা হঠাত দৌড়ে এলো।“২৪ ঘন্টা টা দে&#8230;।মারা গেছেন,তোর ছোটমামা বললো এখুনি ”।তারপর থেকে সারাদিন ধরে ঐ একজনের ‘খবর’ বাড়ীতে।ওনার জীবনীর ফাঁকে ফাঁকে ব্যাকগ্রাউন্ডে চলছে সেই সমস্ত গান যেগুলো ছাড়া আমার বেড়ে-ওঠার-বেলা অসম্ভব ছিলো।“জাগো [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>তখন দুপুর সাড়ে বারোটা খানেক হবে।আমার বাবা তখন ফোনে ব্যস্ত।ওপারে ছোটমামা।আর আমি আমার ল্যাপটপে লেখালেখিতে।রান্না ঘরের ছোঁক ছোঁক শব্দ জানান দিচ্ছিলো মায়ের রান্নাবান্নার।বাবা হঠাত দৌড়ে এলো।“২৪ ঘন্টা টা দে&#8230;।মারা গেছেন,তোর ছোটমামা বললো এখুনি ”।তারপর থেকে সারাদিন ধরে ঐ একজনের ‘খবর’ বাড়ীতে।ওনার জীবনীর ফাঁকে ফাঁকে ব্যাকগ্রাউন্ডে চলছে সেই সমস্ত গান যেগুলো ছাড়া আমার বেড়ে-ওঠার-বেলা অসম্ভব ছিলো।“জাগো অনশন বন্দী” , “আমরা করবো জয়” , “আজ যত যুদ্ধবাজ” &#8220;পথে এবার নামো সাথী&#8221;&#8230;একের পর এক গান শুনছি আজ টিভিতে।আর শৈশব , কৈশোরের ছেঁড়া পাতার মতো অতীত আমার চোখের সামনে ভেসে বেড়াচ্ছে।<br />
                                         চওড়া রাস্তার সামনে বড় ষ্টেজ।ষ্টেজের ওপরে শতরঞ্জী।তার ওপরে আমরা জনা কয়েক।আমার মা গান ধরেছেন “নাম তার ছিলো জন হেনরী” , ছন্দে ছন্দে বেজে উঠেছে মানিক কাকুর নাল,বিপ্লবদার তবলা,পঙ্কজকাকুর ম্যারাকাস&#8230; আর ছোট্ট আমি মেয়েলী গলায় চন্দ্র কাকীমার সাথে মায়ের সাথে কোরাসে সুর মেলাচ্ছি।গান শুনতে শুনতে মানুষটাকে দেখছি।বাবা দাঁড়িয়ে আছেন খুব কাছেই।খুব ব্যস্ত তদারকিতে।মানুষটার আঙুলটা নড়ছে গান শুনতে শুনতে &#8230; তালে তালে।সামনে বিকেলের আলোয় কালো কালো মুখের মিছিল&#8230;অগুন্তি।গান শেষে মায়ের দেখাদেখি আমিও ঢিব করে প্রনাম করতে গেলাম।কারো প্রনামই নিলেন না ভদ্রলোক।মা হড়বড় করে অনেক কথা বলে যাচ্ছে।আমি চুপটি করে মায়ের পাশে দেখে যাচ্ছি ধুতি পাঞ্জাবীর ওই গম্ভীর মানুষটাকে।আমি ফলো করছিলাম ওনাকে।দূরদর্শনের খবরে এতোদিন দেখেছি।হাসেন খুব কম।আজও তাই খুব কম হাসছেন।কেবল শেষে মা কে বললেন ‘ভালোই তো গাইলে’।ষ্টেজ থেকে আমরা নেমে যাচ্ছি।হারমোনিয়াম,ম্যারাকাস,নাল,তবলা নেমে যাচ্ছে আমাদের পেছন পেছন।শতরঞ্জী উঠে পড়লো।মাইক্রোফোন টেষ্টিং হচ্ছে।উঠে দাঁড়ালেন আমাদের মুখ্যমন্ত্রী।দৃঢ আর ঋজু পায়ে গেলেন ডায়াসে&#8230; আমরা ততক্ষনে গাড়ীতে উঠে পড়েছি।গেষ্ট হাউসে যেতে হবে তো।কত কাজ বাকি।এখানেই তো আসবেন উনি মিটিং শেষ করে।<br />
                                                        বিমান বোস এসে ওনার মৃত্যুসংবাদ দিলেন।চিদাম্বরম ওনাকে বললেন মহীরুহ ।তারপর একের পর হেভিওয়েট দের ভিড়ে ঐ বৃদ্ধার চোখেও জল।২৪ ঘন্টায়  দেখলাম।বাবা আজ ভীষন অস্থির।সবাইকে একটু বকাবকি করছে।দুপুরে ভালো করে খেলো না।বাবা আপ্সেট থাকলে এমন করেন আমি জানি।একবার মা রিহার্সাল থেকে আসতে দেরী করেছিলো।বাবা তখনো এরকম করতো।ছোটবেলায় সারেগামা শেখার আগেই ‘উই শ্যাল ওভারকাম’ দিয়ে হাতে খড়ি হয়ে গেছে তখন।মায়ের কাছে।শীতকালের দুপুরে আমাদের কোয়ার্টারের বড় বাগানটাতে শতরঞ্জী বিছিয়ে মা আমায় মায়ের ছোটবেলার গল্প শোনাতেন।সেই মেয়েলী বেলার গল্প।ক্লাস টুয়েল্ভ এর দুই কিশোরী।সামনে কড়া মামা।অঙ্ক শেখাচ্ছেন।আর কিশোরী আমার মায়ের চোখ চলে যাচ্ছে বাইরের দিকে।পাড়ায় ফাংশন রাত্তিরে।খুব মাইক বাজছে।আরতির গান ।মায়ের ফেভারিট।অঙ্কে মোটেই মন নেই।মামা বুঝতে পেরে বিনুনী দুটো দিলেন নেড়ে&#8230;।জোরে।<br />
‘আঃ লাগছে ছোটমামা’।<br />
‘পড়াশোনায় মন নেই কেন?’<br />
‘গান টা&#8230;&#8230;’<br />
‘এতো গান গান !পড়াশোনা না করলে হবে?’<br />
সেই মামাই হাজির একদিন নাচতে নাচতে।আমার দিদিমার কাছে।<br />
‘ছোড়দি খুকুকে কিছু গান গাইতে হবে’<br />
‘কোথায় রে?’<br />
‘ষ্টেজে&#8230;’<br />
‘কিঃ ষ্টেজে? কি বলিস তোর জামাইবাবু জানলে রাগ করবে! জানিস তো  ও চায়না পাবলিকে মেয়ে গান গাক&#8230;’<br />
‘ছোড়দি এ কোনো ফচকে গান নয় রে।আমাদের পার্টীর গান।গনসঙ্গীত’<br />
বাড়ীতে প্রবল আপত্তি থাকা সত্তেও সেই মামার কল্যানে মা উঠলেন ষ্টেজে।‘তোমায় লাখো প্রনাম হে ভারত আমার দেশের গান&#8230; তোমায় লাখো প্রনাম’।কখন যে আমরা একসাথে কোরাস ধরেছি খেয়াল নেই।কমলালেবু খেতে খেতে।আর গানগুলো উড়ে উড়ে চলেছে মিছিলের মাঝে।ক্লাস নাইনের আমি মিছিলের মাঝে শ্লোগানে হারিয়ে গেছি।।ভোটের ঠিক আগে।ওই মানুষটাকে আবার মুখ্যমন্ত্রী দেখবো বলে।যদিও ভোট দেওয়ার ক্ষমতা তখনও পাইনি।ঐ ব্যক্তিত্ববান মানুষটা, যে মানুষটাকে কেন্দ্র করে আমার বেড়ে-ওঠা-বেলার দিনগুলোর গানগুলো সবসময় গম্‌গম্‌ করতো সেই মানুষটা এখন পিস্‌ হ্যাভেন এ&#8230; ঠান্ডা মৃত্যুর মাঝে এতোদিনে একটু বিশ্রাম নিচ্ছেন।</p>
<a href="http://www.addtoany.com/add_to/google_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fatanujee%2F1466&amp;linkname=%E0%A6%89%E0%A6%A8%E0%A6%BF%20%E0%A6%9A%E0%A6%B2%E0%A7%87%20%E0%A6%97%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%A8%26%238230%3B%26%238230%3B%26%238230%3B" title="Google Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/google.png" width="16" height="16" alt="Google Bookmarks"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/orkut?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fatanujee%2F1466&amp;linkname=%E0%A6%89%E0%A6%A8%E0%A6%BF%20%E0%A6%9A%E0%A6%B2%E0%A7%87%20%E0%A6%97%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%A8%26%238230%3B%26%238230%3B%26%238230%3B" title="Orkut" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/orkut.png" width="16" height="16" alt="Orkut"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/twitter?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fatanujee%2F1466&amp;linkname=%E0%A6%89%E0%A6%A8%E0%A6%BF%20%E0%A6%9A%E0%A6%B2%E0%A7%87%20%E0%A6%97%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%A8%26%238230%3B%26%238230%3B%26%238230%3B" title="Twitter" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/twitter.png" width="16" height="16" alt="Twitter"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/facebook?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fatanujee%2F1466&amp;linkname=%E0%A6%89%E0%A6%A8%E0%A6%BF%20%E0%A6%9A%E0%A6%B2%E0%A7%87%20%E0%A6%97%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%A8%26%238230%3B%26%238230%3B%26%238230%3B" title="Facebook" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/facebook.png" width="16" height="16" alt="Facebook"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/yahoo_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fatanujee%2F1466&amp;linkname=%E0%A6%89%E0%A6%A8%E0%A6%BF%20%E0%A6%9A%E0%A6%B2%E0%A7%87%20%E0%A6%97%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%A8%26%238230%3B%26%238230%3B%26%238230%3B" title="Yahoo Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/yahoo.png" width="16" height="16" alt="Yahoo Bookmarks"/></a> <a class="a2a_dd addtoany_share_save" href="http://www.addtoany.com/share_save?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fatanujee%2F1466&amp;linkname=%E0%A6%89%E0%A6%A8%E0%A6%BF%20%E0%A6%9A%E0%A6%B2%E0%A7%87%20%E0%A6%97%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%A8%26%238230%3B%26%238230%3B%26%238230%3B"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/share_save_120_16.png" width="120" height="16" alt="Share/Bookmark"/></a>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://coffeehouseradda.com/blog/atanujee/1466/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>8</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>আমি এক্কেবারে কবিতা লিখতে পারি না</title>
		<link>http://coffeehouseradda.com/blog/atanujee/1016</link>
		<comments>http://coffeehouseradda.com/blog/atanujee/1016#comments</comments>
		<pubDate>Wed, 30 Dec 2009 02:07:57 +0000</pubDate>
		<dc:creator>অতনু ব্যানার্জী (ফরাক্কা)</dc:creator>
				<category><![CDATA[রম্যরচনা]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://coffeehouseradda.com/?p=1016</guid>
		<description><![CDATA[                                                  (১)
ঃঃ কবিতা@কচিবেলা ঃ
নদীর কোমরের একটু [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>                                                  (১)</p>
<p>ঃঃ কবিতা@কচিবেলা ঃ</p>
<p>নদীর কোমরের একটু ওপরের বাঁ দিক থেকে খ্যাঁচ করে কাটা ক্যানালের শেষ গায়ে নির্জন লক-গেট।মানে নদীটাকে বন্দী করার দরজা আর কি।সামনের সাটার টানা সার সার দেওয়া গুদামগুলোর সামনে কবেকার ভাঙ্গাচোরা একটা ষ্টীমার&#8230;ভেসে আছে ক্যানালের জলে; সেই কবেই ভোঁ ভোঁ করা ছেড়ে&#8230; ছেলে ছোকরাদের &#8230; বিড়ি খাওয়া&#8230; আর বিজ্ঞদের মাছ ধরার জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে।অবিশ্যি রাতের বেলায় বাপনদা&#8230;, টুপাইদা&#8230; হাবিবদারা&#8230; সাইকেলে চেপে&#8230; ও চাপিয়ে&#8230; চোঁ করে এসে&#8230; ষ্টীমারের ডেকের ইতি উতি&#8230; হামাহামি দেয়।&#8230; কিম্বা মাঝে মধ্যে ওই কোনের ড্রাইভারের কেবিনে টুকটুকিদি&#8230;পিউ বা শিরীনদির আধশোয়া শরীরে ঢুকে পড়ে&#8230;ফাঁক-ফোঁকর খুঁজে&#8230; ।এসবই আমাদের সোপ অপেরা তখন।আমি আর আমার কচিবেলার সেই দিনগুলো।এমনই এক গোধুলীতে আমি আর বিশ্বদা ডকে গেছি &#8230; অসমবয়স্ক আড্ডা মারতে&#8230;।বিশ্বদা এন্‌.আর.এস. এ সেকেন্ড ইয়ার মেডিকেল ষ্টুডেন্ট&#8230; ।ছুটিতে বাড়ীতে এসেছে।দারুন কেতা তখন ওর।পড়াশোনায় দারুন&#8230; ভালো গীটার বাজায়&#8230; মেয়েরা চুটকিতে ইম্প্রেসড হয়ে যায়।এহেন বিশ্বদা আমার প্রভুপাদ হয়ে উঠবে এটা বোধহয় আমার মতো আন্‌স্মার্ট কেলোমার্কা ভোদাই এর কাছে গ্যারান্টেড ছিলো।বিশ্বদা ডকের একটা ডুগডুগি মার্কা লোহার মরচে-ধরা আঁকশির ওপরে বসে ছিপটা ফেলে ফাতনাটার দিকে ঠায় তাকিয়ে আছে&#8230; ।ওর চোখের পলক আমি গুনতে পাচ্ছি&#8230;।আমার বড় বোর লাগছে&#8230; ধুত্তেরী &#8230; কি ভাটের একটা নেশা&#8230;। কেঁচোগুলো দিয়ে বেচারা মাছগুলোকে লোভ দেখানো&#8230; ।আর মাছগুলো কতকত করে গিললেই কেল্লা ফতে, ছিপ গুটিয়ে তুলে ফেলো পাশের ঝুড়িতে।আরে এতো ক্লাস নাইনের বায়োলজি অ্যাডিশনালের অভিজিত সেনের ‘আপ্যায়ন’ রেষ্টুরেন্টে মোগলাই খাইয়ে মেয়ে তোলার মতো&#8230;; ক্লাস সেভেন থেকে ক্লাস নাইন&#8230;যেকোনো মাছে ছিপ ফেলতে ও পাক্কা শিকারী এক্কেবারে।<br />
‘হ্যাঁরে বাপন&#8230;আমি শুনলাম&#8230; তুই নাকি কবিতা লিখিস?’  চোখটাকে ফাতনার ওপর কাতলা মাছের মতো স্থির রেখে বিশ্বদা প্রশ্ন করলো ;তাকালাম ওর দিকে&#8230;<br />
‘ওই একটু আধটু ; &#8230;কেন স্কুল ম্যগাজিনে দেখোনি&#8230; এবারেরটায়?’<br />
‘আরে আমি তো আউট অফ টাচ স্কুলের’&#8230;<br />
‘কিন্তু তোমাদের সব পুরোনো ফার্ষ্টবয়দের তো পাঠানো হয়েছে এক কপি করে’<br />
‘হবে হয়তো&#8230; বাড়ীতে আছে তাহলে&#8230;কালকে দেখবো’ তা একটু বল না&#8230; নতুন কি লিখলি&#8230;একটু আমতা আমতা করে বললাম&#8230; ‘তোমাকে নিয়ে আজ সকালেই একটা লিখেছি’<br />
‘কিঃ আমাকে নিয়ে !!!!!!!!!!!!!&#8230;শালা কোথায় তোদের দীপান্বিতাকে নিয়ে দু কলম লিখে ওর সামনে সাইকেল নিয়ে পথ আগলে ওকে শুনিয়ে ইম্প্রেসড করে দিবি তা নয় আমার মতো দামড়া একটা ছেলের জন্য লিখে সকালটা নষ্ট করলি!!!!!!!!!!!’<br />
‘না না তা নয়&#8230; এসব কি জোর করে লেখা যায়&#8230; এসব আসে’<br />
‘হমমম্‌&#8230;বেশ আঁতেল আঁতেল ভাব এনেছিস তো  &#8230; তা শোনা দেখি কি লিখেছিস&#8230;’<br />
‘আমার সবটা মনে নেই&#8230;’<br />
‘আরে শুরু করনা&#8230;’</p>
<p>অরুনকান্তি গোধূলী বেলায়&#8230;ঘরে ফেরে গোরুর দল<br />
পাখীরা ফেরে নিড়ে&#8230; আকাশে তারারা ফুটে ওঠে একটি দুটি করে&#8230;<br />
ধ্রুবতারার মতো জ্বাজল্যমান থাকে একটি মাত্র নাম&#8230; বিশ্বপ্রকাশ&#8230;<br />
বিশ্বের প্রকাশ তুমি &#8230; তুমি গদ্যময়&#8230;<br />
করুনার সাগর তুমি&#8230;</p>
<p>‘আরে থাম্‌ থাম্‌ &#8230;’<br />
ঝ্যাঁট করে ভাবটা গেলো ঘেঁটে&#8230; আমি একটু বিরক্ত হয়েই তাকালাম বিশ্বদার দিকে &#8230;<br />
‘আরে এসব কি লিখেছিস কি???এটা কোন কবিতা হলো???এতো শুনে মনে হচ্ছে চর্যাপদের আমলের পদ্য&#8230; ; আমাকে তো প্রায় ছবি করে ফেলেছিস&#8230; !!!!! এবার তো মালা-চন্দন পড়ে আমার নিজের স্মরণসভায় পাবলিকের  ভুলভাল বার খাওয়ানো শুনছি মনে হচ্ছে’।</p>
<p>আমি তখন মন খারাপে সেঁধিয়ে গেছি নিজের মধ্যে&#8230; ।কোন কথাই বলতে ইচ্ছে করছে না&#8230; । ঈসস্‌ আজ যদি দীপান্বিতা আমার প্রপোজ মার্কা কবিতাটা ক্লাসের সবাইকে দেখিয়ে দিয়ে এবড়ো খেবড়ো রাস্তায় চলতে চলতে সাইকেলে ফুসস্‌ করে পাংচার করার মতো প্রেষ্টিজের বারোটা না বাজাতো&#8230; তাহলে বিশ্বদার এই খিস্তিতে ওর গোলাপী ওড়নায় চোখের জলে নাকের জলের এক্সট্রা জলপ্লাবন মুছে ফেলতে পারতাম&#8230; ।<br />
‘কেন বিশ্বদা&#8230; এ’তো আধুনিক কবিতার আকার&#8230;’<br />
‘ধুস্‌স্‌স্‌&#8230; এটা পৌরানিক বললেও ঠিকঠাক বলা যায় না&#8230; যাতা লিখিস মাইরি কবিতাটা তুই&#8230; শালা ইমোশনে ভেজানো রসমালাই এর মতো মাইরি&#8230;’<br />
&#8230;&#8230;&#8230;মানতে পারলাম না&#8230; বাড়ীতে ফিরে কবিতাটা ডায়েরীর পাতা খুলে পড়লাম&#8230;। কবিতাটা আমার বেশ ভালোই লাগছে&#8230; ওর কেন ভালো লাগলো না&#8230; কেন? এতো ফালতু ফান্ডা আমার&#8230; আমি কি তবে কবিতাটা লিখতেই পারিনা&#8230;!!!! এটা তবে কি লিখেছি&#8230; ঢপের চপ নাকি?&#8230; কিন্তু আমার কেন কবিতাটা খারাপ লাগছেনা&#8230; আমার বলেই কি? যে যা লেখে সে কিছুতেই নিজের লেখাটা এতো সহজে খারাপ ভাবতে পারে না?&#8230;লালরঙা বি.এস.এ এস.এল.আর সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে গেলাম&#8230;এদিক ওদিক&#8230;এপাড়া ও পাড়া খুব ঘুরছি&#8230; । মনটা তো বিশ্বদার খিস্তিতে খিতরিয়ে আছেই ; ও ব্যাপারটা ভাবতেই ঢিবঢিবে বুক নিয়ে হাজির হলাম রিং রোডের ধারে&#8230; । সাইকেলটা ষ্ট্যান্ড করে লক মেরে একটু এগোতেই দেখলাম ঝোপের মধ্যে ওরা দুজন ঘাপটি মেরে বসে আছে&#8230;অন্ধকারে।একটু এগিয়ে ওদের কাছে যেতেই&#8230;<br />
‘আসেন বাবু&#8230;’&#8230; লোকটা বললো।<br />
‘দাও এক গ্লাস’&#8230; গলাটাকে যতটা সম্ভব পারা যায় গম্ভীর করার চেষ্টা করলাম।লোকটার পাশে বসা মেয়েটি ঝোপের ভেতরে হাত দিয়ে মাটির হাঁড়িটা বের করে আনলো।একটু দূরের ষ্ট্রীট লাইটের আলোর ছোঁয়া অল্প অল্প এই জায়গাটাতেও লাগছিলো&#8230; তাই দেখতে পাচ্ছিলাম সবকিছু&#8230;  অন্ধকার থাকা সত্বেও।হাঁড়িতে কাঁচের ছোট গ্লাসটা ডুবিয়ে বের করে আনলো ওটা।<br />
‘নিন বাবু’ &#8230; গোলাপী ব্লাউজে ঢাকা কালো হাতটা বাড়িয়ে গ্লাসটা আমার দিকে বাড়িয়ে দিলো মেয়েটি।গ্লাসটা হাতে নিয়ে আমার বুকটা আরো ঢিবঢিব করতে আরম্ভ করলো।চোর চোর মুখ করে চারিদিক  একবার তাকিয়ে নিলাম&#8230;কেউ আবার দেখছেনা তো? ক্লাসের সেকেন্ড বয় ঝোপের ধারে দাঁড়িয়ে ধেনো দেশী মাল খাচ্ছে জানলে আর দেখতে হচ্ছে না।রকেটের চেয়েও দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়বে খবরটা স্কুলে।বাবা জানতে পারলে তো কথাই নেই&#8230; পুরী থেকে কেনা লাঠিটা বদাবদ পড়বে পিঠে&#8230;।হাড় হিম হয়ে যাচ্ছিলো ভেবে।নাঃ এসব ভাবলে চলবেনা এখন।বিশ্বদা আমার কবিতাটা নিয়ে যা ইনসাল্ট করলো&#8230; সেটা কিছুতেই ভোলা যাচ্ছেনা যে।কিছু তো একটা করতেই হবে।আর হাইওয়ে-এর ধারে গিয়ে বারে বসে বিলিতি খাওয়ার সাহসও নেই&#8230;আর পয়সাতো নেইই।তাই গ্লাস প্রতি পাঁচ টাকার দেশী ধেনোই ভালো আমার।এটা ভেবে সত্যিই মনে বেশ সাহস পেলাম।গ্লাসটা ঠোঁটে ছোঁয়াতেই&#8230; কি কড়া হোমিওপ্যাথি ওষুধের গন্ধ রে বাবা।নাকটা বুজে চোঁ করে গিলে ফেললাম তরলটা।ওয়াক্‌&#8230; কি বাজে স্বাদ।এ আবার …মানুষে খায়!!<br />
‘বাবু আরেকটা ?’ লুঙ্গী পড়ে হাঁটু মুড়ে বসে থাকা লোকটা জিজ্ঞেস করলো&#8230;<br />
‘নাঃ&#8230; ব্যস হয়ে গেছে আমার’ পকেট থেকে পাঁচ টাকা বের করে ওর হাতে ধরিয়ে দিয়ে তাড়াতাড়ি হেঁটে সাইকেলের কাছে চলে এলাম।তারপর তালা খুলে পাঁই পাঁই করে সাইকেল চালিয়ে বাড়ি চলে এলাম।ভয় লাগছিলো&#8230;রাস্তায় যদি নেশা হয়ে যায়?&#8230; যদি ধপ করে পড়ে যাই সাইকেল থেকে?&#8230;কি কেলেঙ্কারীই না হবে।অবশ্য অরুন বলেছিলো এতো তাড়াতাড়ি নেশা হয়না&#8230; পাক্কা নেশাড়ু তো ও।এই ক্লাস এইটেই ও বিদেশী,দেশী সব খেয়ে ফেলেছে&#8230;আর বিড়ি তো খেলার মাঠে বসে খায়ই।রাস্তায় এক ফাঁকে নেমে পান্নাদাদের বাড়ির পেয়ারাগাছ থেকে পেয়ারাপাতা ছিঁড়ে কচমচ করে চিবিয়ে ফেললাম।অরুনই একবার বলছিলো পেয়ারাপাতা চিবোলে মদের গন্ধ নাকি হাওয়া হয়ে যায়।  আমার সামান্য একটু ঝিম ঝিম লাগছিলো মাথাটা।বারান্দায় বসে ছিলাম।মাকে বললাম&#8230; ‘মাথা ধরেছে&#8230; আজ আর খাবো না&#8230;’। মা জোরাজুরি করছিলো।আমি বললাম&#8230; ‘ঢেকে রেখে দাও&#8230;ডাইনিং-টেবিলে’।এখন খেলে বমি হয়ে যাতে পারে।খাওয়া দাওয়ার পর বাবা আর মা গল্প করতো&#8230; বারান্দার ধাপিতে। &#8230; কোয়ার্টারের সামনের বেশ বড়সড় বাগানের ফুড়ফুড়ে হাওয়া খেতে খেতে&#8230;। আর আমি&#8230; টিভিতে ডি.ডি.ওয়ান দেখতে বসে যেতাম।বিশ্ব প্রকাশদার ওরকম খিস্তি শুনে আমার কবিতা নিয়ে মনের কোনে গড়ে ওঠা বুক ভরা আশা&#8230;ধুক করে নিভে গেছে&#8230; সেই গোধূলিতেই ।&#8230;&#8230; মা তো আমার সব কবিতাই বলে খুব ভালো খুব ভালো&#8230; আর স্কুল ম্যাগাজিনও তো ছেপেছে এবারেরটায়&#8230;কিন্তু বিশ্বদা তবে এমন করে বললো কেন? একটা বিড়ি খেতে ইচ্ছে করছিলো। আমি বিড়ি খাই না তাও ইচ্ছে করছিলো। ভেতরঘরের তাক থেকে বাবার একটা বিড়ির বান্ডিল ছিলো।বাবার বক্তব্য ছিলো সাতসকালে বিড়ি না টানলে বেগ আসে না।একটা বিড়ি ঝেড়ে&#8230;আর ঠাকুরের সিংহাসন থেকে দেশলাইটা তুলে নিয়ে বাইরের ল্যাট্রিনে চলে গেলাম। মনের মধ্যে ঝড় চলছিলো।বিশ্বদার খিস্তি&#8230;ধেনো মালের নেশা&#8230; সবমিলিয়ে একটা ধাঁধার মতো লাগছিলো&#8230;।&#8230; চল্লিশ ওয়াটের বাল্বের আলোয়&#8230; &#8230; কোমোডে বসে সবে একটা বিড়ি ধরিয়েছি&#8230;কেমন একটা ধোঁয়া ধোঁয়া লাগছে&#8230;বাল্বের ফিলামেন্টটা পেঁচিয়ে সাপের মতো হয়ে যাচ্ছে&#8230; সাপটা ফঁস করতে করতে আমার মুখের সামনে এগিয়ে এলো&#8230;আরে এ যে বিশ্বদা&#8230;দাঁত বের করে হাসছে&#8230; শালা মারবো না এমন&#8230;আমাকে খিস্তি&#8230;আমার কবিতাকে প্যাঁক দেওয়া?&#8230; কিন্তু একি?&#8230;আরে আমারও যে হাসি পাচ্ছে&#8230;ওর হাসি দেখে&#8230;রাগটা গেলো কোথায় রে বাবা&#8230; পেট ফেটে যাচ্ছে হাসতে হাসতে&#8230;কিন্তু এমন কেনো হচ্ছে? পেট টা ব্যথা ব্যথা করছে না?&#8230;হ্যাঁ&#8230; কেমন যেন একটা গুড়গুড়ানি ভাব&#8230;খোঁচা নারছে কিছু একটা বুকের কাছে&#8230;গা হাত পা শিরশির করছে কেন?&#8230;এটাও কি ধেনোর নেশা?  এমন সময় হঠাত করে দুড়দাড় করে গলা বেয়ে উঠে এলো &#8230; পটির চেয়ে দ্রুত গতিতে&#8230; ওরা &#8230;। তড়িঘড়ি করে টাওয়াল পড়ে ষ্টাডি টেবিলে দৌড়ে গেলাম&#8230;। টেবিলল্যাম্প জ্বালিয়ে ডায়েরী খুলে পেন ধরতেই গড়গড় করে বেরিয়ে এলো শব্দগুলো&#8230;<br />
তারপর ষ্টাডিরুমের দরজা বন্ধ করে &#8230; যা হবার হবে &#8230; এরকম অমিতাভ বচ্চনচিতো কেতায় আধজ্বালা বিড়িটাতে একটা চরম সুখটান দিয়ে বুদ্ধির গোড়ায় ধোঁয়া দিতেই&#8230; বমির মতো বেরিয়ে এলো পুরো একটা আস্ত গরম গরম &#8230; কবিতা&#8230; না না কবিতা না&#8230;ওই কিছু একটা &#8230; আমার অনুভুতিগুলোকে বগলদাবা করে &#8230;</p>
<p>জীবনটা মোর সখের প্রদীপ&#8230;<br />
শুধুই নিভে যায়<br />
তবুও যেন আশার আলো&#8230;<br />
ছাড়তে নাগো পাই।<br />
সুখ? তুমি কি মরিচীকা?<br />
&#8230;&#8230; শ্রান্ত মরুর বুকে?<br />
শান্তি&#8230;তুমি আসোনা কেন?<br />
&#8230; মরুদ্যানরুপে?<br />
ভালোবাসা তোমারে আমি&#8230;<br />
শুধুই খুঁজে যাই&#8230;<br />
বেঁচে আছি&#8230;বেঁচে রবো&#8230;<br />
বাঁচার আশায়।<br />
জীবনপথের এই নদীতে&#8230;..<br />
&#8230;.ওহে জীবন মাঝি&#8230;<br />
জীবনবেলার শেষকালেতে&#8230;&#8230;<br />
&#8230;সুখি তো তুমি আজি?<br />
উল্লসিত ধরনীতলে &#8230;<br />
&#8230; উল্লসিত জীবন&#8230;<br />
উল্লাস নেই সুখের মাঝে..<br />
&#8230;.উল্লাসেনা মরন&#8230;<br />
এই ধরনীর এই মাটিতে<br />
শুধুই আমি একা&#8230;<br />
তবুও কভু শিখিনা যেন&#8230;<br />
&#8230;হতাশ হয়ে থাকা&#8230;।</p>
<p>একটা নামও দিয়ে দিলাম&#8230; “জীবন”&#8230; নাঃ এটা আর কাউকে দেখাবো না&#8230; হয়তো এটা কবিতা নয়&#8230; হয়তো এটাও খিস্তি খাবার যোগ্য&#8230; কিন্তু এটা তো সত্যি&#8230; কবিতাটা লিখে আমার দারুন আনন্দ হচ্ছে&#8230; এতোক্ষন চেপে থাকা গুমড়ানো অন্ধকারটা ঝট করে হাজার ওয়াটের হ্যাজাকের আলোতে ঝলমল করে জ্বলে উঠেছে।আরে কবিতা না তো কি হয়েছে&#8230; কিছু একটা তো হয়েছে&#8230; কিছু একটা যেটা ক্লাস এইটের হাল্কা গোঁফ আর নরম নরম খোঁচা দাড়িভর্তি আমার মুখে হাসি হাসি ভাব আর মনের কোনে খুশীর বাতাস এনে দিয়েছে&#8230;</p>
<p>(২)</p>
<p>* কবিতার ক্যাওড়ামি *</p>
<p>দোতলা বাড়ীটা থেকে সুর ভেসে আসে&#8230;।কি সুন্দর নজরুল গীতি গায় মেয়েটা&#8230; সন্ধ্যে হলেই&#8230;।আর সকাল হলেই&#8230; শাড়ী পড়ে কলেজে যায়&#8230;দুলকি চালে।ফিলোসফি অনার্স&#8230; সেকেন্ড ইয়ার।আমার বোন এসব বলেছে আমায়। কাকাতো বোনটাও যে ও পেছনের বেঞ্চেই বসে ফিলসফির নোট নেয়&#8230;।ওর কাছেই সব শুনি আমি&#8230; ।জয়শ্রী ভীষন হাসিখুশী&#8230;ছেলেদের কাছে  ঢং করে না&#8230; মাঠে বসে কিনকিনে গলায় নজরুলগীতি গায়&#8230; আর ঝালমুড়ি খেতে খেতে লাল লাল ঠোঁট দিয়ে ফু ফু করে&#8230; ।সব শুনি আমি&#8230; বোনের কাছে কিন্তু দেখার সুযোগ কম।বোন যদি শোনে আমি ঝাড়ি মারছি&#8230; পুরো কেস গুবলেট।কতবার আমি ষ্টেশনের সামনে আমার খয়েরী কাঁচের গগলস্‌ পরে পকেটে হাত দিয়ে বেশ শাহরুখীয় কেতায় দাঁড়িয়ে থেকেছি&#8230; কলেজ যাবার সময় একবার যদি তাকায়&#8230; ।ও বাবা এমন ভাব করে চেনেই না আমায়&#8230; আর আমায় আবার এদিক ওদিক চাউনি ছুঁড়তে হয়&#8230;যদি আমার বোন ফাঁকফোঁকর থেকে এসে খপ করে আমায় ধরে কাকুর কাছে নিয়ে যায়&#8230;ব্যস হয়ে গেলো আর কি?<br />
এমনিতেই তো কাকুর কাছে আমার কেস্‌ পুরো কেঁচে আছে&#8230; ফুলটুসীর জন্য।প্রেসীডেন্সীর ফুলটুসীর সাথে&#8230; বাপ্পার দিদি রিঙ্কুদির বিয়েতে আলাপ।কি ভীষন ছটফটে আর স্মার্ট।মুখে যেন সবসময় কথার খই ফুটছে।আমি তো রীতিমতো ক্যাবলা বনে গেছি ওর কথার ফুলকি তে।আর চেহারাও বেশ চাবুক&#8230; চোখে পড়ার মতো ।&#8230; আর রঙটা একটু ডিপ বাদামী&#8230;চুলগুলো কোঁকড়ানো&#8230; আর বেনী করা।সকলের সামনে বলে বলে মুরগী করতে ওস্তাদ যাকে বলে।বাপ্পা আমার ইন্ট্রোডাকশন দেবার সময় বললো&#8230; ‘জানিস ফুল&#8230; বাপন কবিতা লেখে’ ‘ও বাবা&#8230;&#8230; ইঞ্জিনিরিয়ারিং আবার কবিতা&#8230; এতো আঁতেলচূড়ামনি মামু&#8230;’ ‘ আমার তখন পেটটা গুড়গুড় করছে&#8230;কি কুক্ষনে বাপ্পাকে আমার কবিতার ডায়েরীটা দেখিয়েছিলাম&#8230; এই ভরা হাটে হাঁড়ি পুরো চৌচির করে ভেঙ্গে দিলো&#8230;তাও আবার ফুলটুসীর মতো &#8230; তিলেখচ্চর মেয়ের সামনে&#8230;এবার তো আমাকে ভরপুর চাঁটবে&#8230; ।আর যদি কবিতা শুনতে চায়&#8230; আমি তো শোনাতেই পারি।।বেশীরভাগ কবিতাই আমার মুখস্থ।।কিন্তু ও যদি প্যাঁক মারে আমার লেখা শুনে !!&#8230;ছি ছি&#8230; একেবারে কেলো কেস হয়ে গেলো বাপ্পাটার জন্য’।<br />
কিন্তু কেসটা ১৮০ ডিগ্রী ঘুরে গেলো।ফুলকী আমার সাথে ইয়ার্কি মারা বন্ধ করলো&#8230; আর রিঙ্কুদির বিয়ের পরে আমাদের আলাপের রেশ&#8230;বন্ধুত্বের নরম আঁচে বদলে গেলো।আমাদের কথা হতো ফোনে।কাকু কাকিমা অফিসে চলে গেলেই&#8230;শনিবার দুপুরে আমি ফোন করতাম ফুলটুসী কে। দুপুরের পর ক্লাস থাকতোনা যে।ফোনে কথা বলা মানেই &#8230; চ্যাঙরামো থেকে শুরু হয়ে তর্ক&#8230;ঝগড়া&#8230; আবার চ্যাঙরামো&#8230;।এক শনিবারে শীতকালের দুপুরে&#8230; ছাদে শতরঞ্জী পেতে মাথায় বালিশ নিয়ে শুয়েছিলাম&#8230;ছাদের  কার্নিসের আড়ালে&#8230;যেখানে রোদ্দুর ছোঁ মারতে পারবেনা&#8230; হাতে ছিলো ছিলো সিগারেট&#8230; । বিড়ি ছেড়ে একটু প্রোমোশন হয়েছে তখন।শুয়ে শুয়ে ধোঁয়ার রিং বানানোর আপ্রান ব্যর্থ চেষ্টা করে যাচ্ছি&#8230; এমন সময় মনটা চনমনিয়ে উঠলো&#8230; ডানহাতের আঙুলগুলো নিশপিশিয়ে উঠলো&#8230; গলার নিঃশ্বাসের নলিটাকে বাইপাশ করে বেরিয়ে আসতে লাগলো ওরা গুড়গুড় করে&#8230;।পরিমরি করে তিনতলার ঠাকুরঘরে ঢুকে এদিক ওদিক খুঁজে পেয়ে গেলাম লক্ষীর পাঁচালী&#8230; আর তাকে রাখা আধখানা পেন্সিল।টেবিলফ্যানটা চালিয়ে দিয়ে পাঁচালীর পেছন পাতায় পেন্সিলটা প্ল্যানচেটের মিডিয়ামের মতো &#8230; উগরে ফেললো &#8230; শব্দগুলো&#8230;</p>
<p>একটী মেয়ের কথা লিখতে বসেছি আজ<br />
ছন্দের তালে তালে কবিতায়<br />
ফুলটুসী নাম তার বন্ধুনী সে আমার<br />
মেঘেদের ভিড়ে তাকে ছোঁয়া যায়<br />
উৎসবে শাড়ী তার এমনিতে চুড়িদার<br />
একটুও মেকআপের ছোঁয়া নেই<br />
আমার এই বন্ধুনী দুপাশে দুলিয়ে বেনী<br />
ঠোঁটের পাপড়ি মেলে হাসবেই<br />
&#8230;&#8230;&#8230;<br />
&#8230;</p>
<p>&#8230;,</p>
<p>কথাগুলো বেরিয়ে … যেন ক্যাটক্যাটে লাল  আর ফ্যাটফ্যাটে নীল রঙা আনন্দের পোষাক পরে… আমার হাত ধরে ….“আয় তবে সহচরী” বলে ঘুরে ঘুরে নাচতে লাগলো&#8230;; … আর আমিও ওদের আবেগে কেঁপে কেঁপে কাঠফাটা রোদ্দুরের শামিয়ানায় সুইটজারল্যান্ডের ইন্টারলেকানের পেটে কবিতার মতো হ্রদের বুক থেকে আসা ফুরফুরে হাওয়া অনুভব করতে লাগলাম।তারপর ছাদের দরজাটা বন্ধ করে ধুপধাপ ধুপধাপ করে দোতলায় এসে লাল রঙা গাম্বাট টেলিফোনটা ধরে রিং করলাম ফুলটুসী কে&#8230; ও ধরলো।‘কিরে এতো তাড়াতাড়ি’&#8230; ‘তোর জন্য একটা কবিতা লিখেছি’&#8230; ‘বলে ফেল্‌’&#8230;গড় গড় করে বলে গেলাম লাইনগুলো &#8230; লক্ষীর পাঁচালীর পেছন উলটে।<br />
শেষ হবার পরে অজান্তেই যেন রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষায় ছিলাম&#8230; ফুলটুসী কি বলে&#8230;। ‘ইসস্‌ তুই কি ভালো রে&#8230; আমাকে নিয়ে কি সুন্দর করে ভেবেছিস&#8230; তোকে সামনে থাকলে আমি একটা চুমু দিতাম&#8230;’ তারপর হা হা করে হাসতে লাগলো&#8230; আমি তখন সপ্তম স্বর্গে&#8230; ধেই ধেই করে আমার মনটা ছৌ নাচছে।আমার এই কবিতার প্রশংসা&#8230; তাও আবার ফুলটুসীর মতো যা তা লেবেলের একটা মেয়ের কাছে।&#8230; সিম্পলি ভাবতে পারছিলাম না।তারপর আমাদের কথার গভীরতা বা যা তা কথা বলার গভীরতা আরো বেড়ে গেলো। মাঝরাতের ঘুমভাঙ্গা দুঃস্বপ্ন গুলো ফুলটুসী বিন্‌দাস ক্যাওড়ামো করে বলে যেতো&#8230; আমার আমার ক্যাবলামো আনস্মার্ট কথাবার্তায় ও বেশ মজা পেতো&#8230;। আর ও আরো রগরগে চ্যাঙরামিতে আমাকে কুলকুল করে ঘামিয়ে তুলতো&#8230; কাকীমার বেডরুমে এসি চালিয়ে বসেও!!হঠাত এক রোববারে আমি বসে কাকুর ভাট  বকা শুনছি &#8230; আমি ছাড়া আমার বোন বা কাকীমা কেউ শুনতো না সে সব রিপিটেটিভ ভাট।কাকিমা মাটিতে বসে ফ্রিজে হেলান দিয়ে রবিবাসরীয় পড়ছে&#8230; বোন টিভিতে কি একটা দেখছে দোতলায়&#8230;।এমন সময় একটা ফোন এলো&#8230;।লুঙ্গী সামলে কাকু তড়িঘড়ি করে খাট থেকে নেমে  ল্যান্ডফোনটা ধরলো&#8230; আমি কাকুর দিকে তাকিয়েছিলাম তখন&#8230;<br />
‘হ্যালো&#8230;’<br />
&#8230;<br />
‘আপনি কে বলছেন?’<br />
&#8230;&#8230;&#8230;<br />
‘বুঝতে পারলাম না&#8230; আপনি কে বলছেন?’<br />
&#8230;&#8230;&#8230;<br />
‘আচ্ছা আপনি কাকে চাইছেন বলুন তো? রঙ নাম্বার হচ্ছে কিন্তু’<br />
&#8230;&#8230;<br />
‘আপনার কোন ভদ্রতাবোধ নেই&#8230;এধরনের কথা আপনি একজন অপরিচিতকে বলেন কি করে?’<br />
&#8230;&#8230;<br />
‘অসভ্য মেয়ে&#8230; নোংরা কোথাকার&#8230; কাকে কি বলতে হয় শেখেন নি&#8230; একটা ভদ্রলোকের বাড়ীতে ফোন করে নোংরা নোংরা কথা বলে চলেছেন&#8230; আবার আমার কথার জবাব দিচ্ছেন না আপনি কে?&#8230; অসভ্যের মতো হাসছেন&#8230; আমি পুলিশে দেবো এই নাম্বার&#8230; দেখি আপনি তখনও হাসেন কিনা?’<br />
&#8230; খট্‌&#8230; ফোনটা রেখে কাকু বিছানায় এসে বসলো&#8230; ফর্সা মুখটা লাল হয়ে গেছে।<br />
ব্যস আমি যা বোঝার বুঝে গেছি&#8230; নির্ঘাত ফুলটুসী&#8230; কেন যে রোববারে ওর এতো প্রেম পেলো !&#8230;  এদিকে কাকু বিছানায় বসে কাকু গজগজ করছে লুঙ্গীটা দিয়ে মুখ মুছতে মুছতে&#8230; ‘অসভ্য মেয়ে আজকালকার&#8230; প্রথমে বলে পেটে এক ঘুসি মারবো&#8230; তারপরে বলে কামড়ে&#8230; ছিঃ ছিঃ&#8230;’<br />
ছি ছি ফুলটুসী আমি বলে ভুল করে কাকুকে বলে ফেলেছে।আর কাকু যা খিস্তি মারলো ওকে&#8230; তারপর আর জীবনে আর ফোন করবে আমায়? আর কাকু যদি সত্যি পুলিশকে নম্বরটা দেয়&#8230; তাহলে তো পুলিশ সহজেই বুঝতে পারবে&#8230; কি হবে ?&#8230; আমি ধরা পড়ে যাবো? &#8230; ওরে বাবারে এই বেশী ভাবতেই পারছিনা আমি&#8230; বাবা জানলে তো আরো কেলেঙ্কারী&#8230;।<br />
কিছুই হলো না &#8230;।মধ্যিখান থেকে আমার রগরগে ফোনপ্রেমটা ঘচাং ফু করে ছেত্‌রিয়ে গেলো।ফুলটুসী বলে দিলো আমায় ও আর ফোন করবে না&#8230;। আর আমিও আর সাহস পেলাম না ফোন করতে&#8230; ।বাইচান্স যদি পুলিশ ধরে নিয়ে যায়&#8230; । ব্যস হয়ে গেলো আমার থকথকে কবিতা মার্কা প্রেমের ভয়ানক ইতি।<br />
তাই জয়শ্রীর ব্যপারে আমার সাহস ছিলো না বুকবাজিয়ে সামনে গিয়ে কথা বলার।এদিকে আমার আবার আঁতেল হবার শখ জেগেছে&#8230; ।কোলকাতার আঁতেল পট্টিতে খুব ঘুরছি তখন।কফি হাউসে কফি খেতে খেতে আড্ডা মারার অছিলায় সামনের পয়তাল্লিশবছর বয়স্কা মহিলার ছলকে পরা আঁচলের ফাঁকে বুকের ভাঁজ দেখছি&#8230; নন্দনে গিয়ে সন্ধ্যে হলেই বন্ধুদের সাথে পেছনের দিকে বসে গল্প করার ভান করে অন্যদিকে একে-অপরের সাথে পিজ্জা হয়ে বসে থাকা দুটো দেহের রসালো অংশটা চোখের এক্সট্রিম পাওয়ার লেভেল বাড়িয়েও দেখার চেষ্টা করছি&#8230; ।এভাবেই চলছে।একটা আবৃত্তিদলে নিয়মিত রিহার্সাল করছি&#8230; আর ভাগ্য ভালো থাকলে রবীন্দ্রসদনে ষ্টেজে মুখ দেখাচ্ছি।বেশ চলছিলো।এমন সময় একটা কান্ড হলো&#8230;; এক সন্ধ্যায়&#8230; স্যারের ঘরে গলা ছেড়ে বুদ্ধদেব বসুর “তপস্বী ও তরঙ্গিনী”র রিহার্সাল করছি&#8230; এমন সময় &#8230; বারান্দার নিভু নিভু বাল্বের আলোয় দেখলাম &#8230; জয়শ্রী&#8230; দেওয়ালে নরম হাতের ভর দিয়ে এক পা তুলে হিল তোলা চটি খুলছে।পরনে কাঠচাঁপা রঙা সালোয়ার কামিজ&#8230;। আমার বুক থেকে হৃদয়টা ছলাত করে লাফিয়ে উঠলো&#8230;কোনমতে ক্যাচ ধরে কন্ট্রোলে রাখলাম।কিন্তু নিজের ঢিব্‌ ঢিব্‌ আওয়াজ নিজেই শুনছি তখন।আমাদের স্যার ওকে বসতে বললেন&#8230; ।শুনলাম ও ভর্তি হয়েছে।আরিব্বাস&#8230; এতো দারুন ব্যপার।আবার ওর ডেট পড়েছে আমার শেখার দিনই।আনন্দে আমার &#8230; ওকে গিয়ে চুমু খেতে ইচ্ছে করছিলো।কিন্তু সেটা আপাততো কল্পনাতেই লিমিটেড রাখতে হলো।<br />
স্যার আমায় বাড়াবাড়ি রকমের প্রশ্রয় দিতেন । স্যারের প্রশয়েই আমি জয়দা,অগ্নিদা,প্রমোদদা&#8230; এদের সাথে মাঝে মধ্যেই প্রফুল্ল সরকার ষ্ট্রীটে আনন্দবাজারের অফিসে দেখা করতে যাচ্ছি তখন&#8230; একটা ক্যাসেট রিলিসের ব্যপারে।একদিন জয়শ্রী বললো&#8230; ‘আমাকে তোমার সাথে একদিন আনন্দবাজার অফিসে নিয়ে যাবে? জয়দার সাথে আলাপ করবো’ ‘আরে সেটা স্যারকে বলো&#8230; আমি কি হনু নাকি? ‘ওরে বাবা নানা আমি ওনাকে বলতে পারবো না&#8230; আমার ভয় লাগে&#8230; তুমিই যা করার করো’ নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে সেরা পুরুষ মনে হলো তখন।শিভালরী ব্যপারটা তেড়েফুঁড়ে বেরিয়ে এলো &#8230; এখন ভাবি হয়তো “বার” খেয়ে লাট হয়ে গেছিলাম।যাই হোক স্যারের কাছ থেকে পারমিশন নিয়ে ওকে নিয়ে প্রফুল্ল সরকার ষ্ট্রীটে গেলাম পরের একদিন; জয়ের সাথে ওর দেখা হলো।কি উচ্ছাস ওর।কি বলবে ভেবে পাচ্ছেনা।জয় ওনার সিটে বসে টিনের টিফিনকারী থেকে প্যাটিস খেয়ে বন্ধ করছিলেন সবে।তাই জয়শ্রীর উচ্ছাসে জয়ের নরম নরম দাড়ি গোঁফের আড়ালে লোকানো মিটিমিটি হাসির সাথে সাথে দাড়িতে ঝুলে থাকা প্যাটিসের একটা থুসথুসে টুকরোও নড়ছিলো।তারপরে বললেন&#8230; “আপনারা লেখালেখি করেন?” আমি বাধ্য খোকা মতো  হ্যাঁ বলতেই জয়শ্রী আমার দিকে অবাক হয়েই তাকালো কি?&#8230; জয় বললেন “বেশ তো তাহলে আপনি পাঠান না &#8230; আপনার কবিতা”&#8230; আমি আবার মাথা নাড়লাম।আনন্দবাজার অফিসের বাইরে বেরিয়ে এসে সামনে চায়ের দোকানটায় বসে চায়ের ভাঁড়ে ঠোঁটটা সবে ছুঁইয়েছি&#8230; জয়শ্রী বললো “এ্যাই তুমি কবিতা লেখো”।আমার তখন নিজেকে বিশাল বিজ্ঞ আর বোদ্ধা কোনটা লাগছে সেই কনফিউসনে না গিয়ে যথাসম্ভব গাম্ভীর্য্য রেখে বললাম ‘ওই একটু আধটু’। ‘ইসস্‌ কি ভালো তাহলে জয়কে পাঠিয়ে দাওনা&#8230; দেশে বেরোবে তোমার  কবিতা&#8230; আমি বলতে পারবো তুমি আমার বন্ধু’।আমার তখন পেটটা গুলিয়ে উঠছে। আর সেই ভুরভুরে ভাবটা পেট থেকে গোঁত্তা মেরে ওপর দিকে উঠে বুকের ডানদিকে কেমন একটা ভয়মার্কা স্রোত পিচকিরি দিয়ে ছিটিয়ে দিচ্ছে।কি করে বলি ওকে আমি কবিতা লিখতে পারিনা। জয়ের সামনে&#8230; সত্যি কথা বললে জয়শ্রী ছিলো বলেই শিভালরী দেখানোর জন্য ভরপুর বার খেয়ে ওসব গাঁজাখুড়ী দিয়ে ফেলেছি।মুখে কিছু না বলে একটা আঁতেলমার্কা দুর্বোধ্য হাসি দিয়ে চা-টা শেষ করে ভাঁড়টা বেতের ঝুড়িতে ফেলে দিয়ে লম্বা লম্বা পা ফেলে জয়শ্রীকে পাশে নিয়ে বাস ধরতে এগিয়ে গেলাম।<br />
সেদিন সন্ধ্যায় আবৃত্তির ক্লাস শেষে সবাই যখন হুড়োহুড়ি করে চটি খোঁজায় ব্যস্ত আমি ওর পাশে গিয়ে বললাম ‘একবার বাইরে আসবে &#8230; একটা কথা আছে’।একটা অদ্ভুত উত্তেজনায় বাইরে এলাম একসাথে।পিচের রাস্তা ধরে এগিয়ে ডানদিক ঘুরতেই একটা সরু গলি।শীতের রাস্তা শুনশান&#8230; ষ্ট্রীটলাইট জ্বলছে কেবল &#8230;। ও কি ঘাবড়ে গেছিলো আমার রকমসকম দেখে ?&#8230;কে জানে&#8230; ? আলো আঁধারিতে ওর মুখের এক্সপ্রেশনগুলো খুব একটা দেখতে পাচ্ছিলাম না।শার্টের বুকপকেট থেকে&#8230; কাঁপা কাঁপা হাতে ওটা বের করলাম&#8230; ।ওকে দিতেই ও একটু থতমত খেলো বোধহয়&#8230; ‘এটা কি?’ ‘কবিতা&#8230; তোমার জন্য লিখেছি’ ‘ওমা? &#8230; তাই ?&#8230; সো সুইট&#8230; থ্যাঙ্ক ইউ &#8230; আমি ঘরে গিয়ে পড়বো&#8230; কবে লিখলে?’ কি করে বোঝাই ওকে&#8230;কাল-সারারাত প্রসব-বেদনায় ছটপট করেছি&#8230;ভোররাতের দিকে ওরা এলো &#8230; আমার মনের অনুভুতিগুলো&#8230; টুপটুপ করে ঝড়ে পড়লো আমার ডায়েরীতে&#8230; কালভোররাতে।</p>
<p>হাত মিলে যায় শিরায় শিরায়<br />
চোখ মেলে চায় চোখের পাতায়,<br />
মনের গলিতে খুশীর জোয়ার<br />
নতুন পথের আবেশ মায়ায় ;<br />
নাম না জানা অচিন বেশে<br />
যাত্রা শুরু পথিক বেশে,<br />
সূর্যোদয়ের এই লালিমায়<br />
শিল্পীর রঙ হৃদয়ে মেশে।<br />
মেঘবালকের শহুরে হৃদয়<br />
রুক্ষ পথে বাউল শোনে ,<br />
মন হারানো কোন গলিতে<br />
ভালবাসার স্বপ্ন বোনে।<br />
রবিশঙ্কর সুর তুলেছেন<br />
মেনুহীনের বেহালা শুনে;<br />
রবীন্দ্রনাথ ভাবিয়ে তোলেন<br />
মেঘবালকের স্বপ্ন মনে।<br />
মেঘবালিকার পরশ এলো<br />
মেঘবালকের হৃদয় জুড়ে,<br />
মন কুঠুরীর ভাবনারা সব<br />
গান ধরেছে খুশীর সুরে;<br />
এখন শুধু হৃদয় ঘরে<br />
মেঘবালক আর মেঘবালিকা,<br />
চারদেওয়ালের মন আঙিনায়<br />
নতুন করে বাঁচতে শেখা।</p>
<p>কি নাম ভাবতে ভাবতে ওই সৌম্য নরম নরম দাড়ির ধুতিপড়া ভদ্রলোকের কথা মনে পড়ে গেলো&#8230; তবে এ ব্যাপারটির নাম হোক “মেঘবালকের স্বপ্নপূরণ”।<br />
আবার শুক্রবারের অপেক্ষা&#8230;কখন জয়শ্রী ক্লাসে আসে; ওকে জিজ্ঞেস করবো &#8230;কেমন লাগলো কবিতাটা?&#8230; তুমি কি জানো&#8230; আমার হৃদয়ের ডেস্কটপে একমাত্র তোমারই ওয়ালপেপার ঝোলে আজকাল&#8230; যাঃ এসব আবার বলা যায় নাকি&#8230; । এসব নানা ধুকপুকানি স্বপ্নের ছদ্মবেশে ঘুরছিলো মাঝের সেই প্রহরে; দিনটা এলো&#8230; ; ক্লাস হলো&#8230; রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষার গলা টিপে জয়শ্রী ঢুকলো&#8230; আমার দিকে একটা মিষ্টি হাসি ছুঁড়ে কিনকিনে গলায়&#8230; আমি সাধারন মেয়ে&#8230; আবৃত্তি করে চললো&#8230;স্যারের সামনে। আর আমি&#8230; আমার ভাবনা&#8230; জয়শ্রীর হাসি&#8230;ওর গলার আবেগে বুঁদ হয়ে রইলাম ।ক্লাস শেষ হলো। যথারীতি ও আমার কাছে এলো&#8230; আমরা একসাথে পাশাপাশি নীচু হয়ে জুতো পরতে পরতে মাথায় ঠোক্করও খেলাম&#8230; ও ওর মাথায় আর আবার মাথায় ওর নরম হাতের চাঁটি মিষ্টি হাসি দিয়ে মাখিয়ে শিং বেরোনোর সব সম্ভাবনা ওর মতো করে সমূলে ছেঁচড়ে দিলো।গেট খুলে বাইরে বেরিয়ে এসে&#8230; হাসি হাসি মুখ করে সবে আমি বলতে যাবো আগের দিন ওকে দেওয়া কবিতাটার ব্যপারে&#8230; পেছন থেকে কে যেন ডাকলো ‘জয়শ্রী’&#8230; ও পেছন ঘুরলো&#8230;সাথে সাথে আমিও।ল্যাম্পপোষ্টের আলোর বৃত্তে গাবদা বাইক নিয়ে বাইসেপসওয়ালা কে যেন দাঁড়িয়ে আছে&#8230; পরনে কালো টাইট বুকচাপা গেঞ্জী আর কার্গো প্যান্ট।‘ওমা তুমি এসে গেছো’ ঝলমলিয়ে উঠলো জয়শ্রী&#8230; আমি প্রমাদ গুনলাম&#8230; মায়ের কাছে শুনি কু ডাকা&#8230; আমারও কু ডাকা শুরু হচ্ছিলো।‘পরিচয় করিয়ে দিই&#8230;ও হলো সম্পদ &#8230;ব্যাঙ্গালোরে এঞ্জিনিয়ারিং পড়ে  &#8230; আমার বন্ধু’&#8230; ।মাসলফুলো ছেলেটি কেত নিয়ে একটু এগিয়ে এলো&#8230; এসে হ্যান্ডসেক এর ভঙ্গিতে হাতটা বাড়িয়ে বললো&#8230; বললো ‘হাই &#8230; দিস ইস স্যাপ্‌স &#8230; নাইস টু মিট ইউ’&#8230; বাপরে বাপ &#8230; হাতের কি থাবা&#8230; আমার নরম হাতটা ওই যান্ত্রিক হাতের মধ্যে পড়ে কচি পাঁঠার হাড়িকাঠ দশায় পড়ে হাঁসফাঁস করছিলো।আমি কোনমতে আমার ক্যাবলামো আড়াল করে যথাসম্ভব গাম্ভীর্য এনে বলতে গেলাম ‘আমি&#8230;’ ‘ইয়া আই নো&#8230; তুমি তো বেঙ্গলী পোয়েট তাই তো&#8230; বেশ ভালো ভালো কবিতা লেখো ও বলছিলো&#8230;পড়লাম তোমার কবিতাটা&#8230; তবে বস্‌ বড্ড ন্যাকা ন্যাকা&#8230;বস্‌ একটু স্মার্ট কিছু লিখতে পারো না&#8230; যেটা পড়ে নেকুপুষুমুনু লাগবে না&#8230; বেশ একটা স্যাটি ব্যাপার থাকবে’&#8230;বলে জয়শ্রীর দিকে তাকিয়ে একটা অর্থবহ হাসি দিলো আমরা কালো মুখটা রক্তিম হবার সরলীকৃত ফর্মুলা না মেনে বেগুনী হয়ে গেলো ভয়ে বা শঙ্কায়&#8230; আমিও তাকালাম জয়শ্রীর দিকে।ও মুচকি মুচকি হাসছিলো&#8230;। হাসতে হাসতেই বললো&#8230;তোমার কবিতটা আমার দারুন লেগেছে&#8230; আমাকে নিয়ে কেউ কখনো কবিতা লেখেনি জানো।আর আমি সম্পদকে &#8230; মানে এই দুষ্টু ভদ্রলোককে বলেছিলাম তোমার কবিতার কথা&#8230;; এই ভদ্রলোকের সময় কোথায়&#8230;&#8230; কোলকাতায় এলে বাইকে বন বন করে ঘুরে আর সিটি সেন্টারে মেয়ে দেখেই তো এনার দিন কেটে যায় .. আমারই জন্য সময় বের করতে এনাকে অনেক সাধ্য সাধনা করতে হয়&#8230; তা ইনি তোমার কবিতাটি পড়েছেন শেষপর্যন্ত&#8230;। বলে আবার ফিচেল হাসি হাসতে লাগলো আমার কবিতার মেঘবালিকা আর তার সাথে ওই গাম্বাট সম্পদ&#8230; থুড়ী স্যাপস্‌।<br />
আর মন চলে গেছে ছোটবেলায় বহরমপুরের বাড়ীর ছাদে&#8230;। পাড়ার সব ঘুড়িতে অনার্স ছেলেদের সাথে সারারাত আঠা আর কাঁচের গুঁড়োর মাঞ্জা দেওয়া আমার সুতোকে পেছনে নিয়ে সোঁ করে উড়ে যাচ্ছে আমার লালরঙাঘুড়ি..আমার লালপাখী&#8230;.উড়ছে&#8230; ওই উড়ছে&#8230; আর লাটাই ধরে আছে আমার বড়জ্যেঠুর ছেলে রানাদাদা&#8230; ।লাটাই আর ঘুড়ির সেকি খেল&#8230; ।ঝকঝকে রোদ্দুরের আকাশ নানারঙা ঘুড়িতে ছেয়ে গেছে&#8230; ।কালবৈশাখীর মতোই পেছন থেকে কালো ঘুড়িটা এলো&#8230; দামাল কালোঘুড়িটার সাথে আমার লালপাখীর চলছে জোর লড়াই&#8230; এমন সময় আওয়াজ এলো&#8230; ভোওওওও কাট্টা&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;।আমার লালঘুড়ীটা আমার মাঞ্জাদেওয়া সুতোকে ছেড়ে ভাসতে ভাসতে চলে যাচ্ছে&#8230; আমাকে দুঃখ দিয়ে&#8230; ।রানাদাদা&#8230; ঘেমেনেয়ে অস্থির হয়ে &#8230;প্রায় কান্নায় ছাদের সিঁড়ি ধরে বসেপড়লো&#8230;আর আমি ছাদ থেকে নেমে এসে &#8230; ভেতরঘরে ঢুকে বালিশে মুখ গুঁজলাম।আমার চোখে জল&#8230;।সেই জলটা আমি এখনো টের পাচ্ছি&#8230; শুকনো শুকনো জল&#8230; এই অন্ধকারে দাঁড়িয়ে&#8230; স্যাপস্‌ এর কাছে শোনা কথাটা &#8230; জয়শ্রীর ওই হাসিটা আমার বুকে ওই কালো ঘুড়িটার  মতো আঘাত করেছে &#8230;আমার কচি প্রেম টা তো কেঁচে গেলই&#8230; আমার সাধের কবিতাটা কি ইনসাল্টই না করলো ওই গাম্বাট স্যাপস্‌; আমি তো সেই ছোটবেলা থেকে জানি আমি কবিতা লিখতে পারি না&#8230; তাও কেন দিইই অন্যকে পড়তে&#8230; এভাবে সকলের কাছে বারে বারে বার্ড-ফ্লু মুক্ত মুরগী হওয়ার জন্য?নিজের পেছনে কষে একটা লাথ ঝাড়তে ইচ্ছে করলো&#8230; হায়&#8230; ভগবান সে প্রিভিলেজ মানুষকে দেননি ভেবে সেই প্রথম মনটা ভীষন খারাপ হয়ে গেলো&#8230; ওরা দুজনে ভ্রুম্‌ ভ্রুম্‌ শব্দ করে ভঁশ করে একগোছা ধোঁয়া ছেড়ে উড়ে গেলো আমায় ছেড়ে&#8230;</p>
<p>(৩)</p>
<p>~ কবিতা এখন ~</p>
<p>টেকো মালটা বহুত জ্ঞান দিচ্ছে &#8230;কাল থেকে&#8230; একটা আঁতেল মার্কা নামও আছে পাবলিকটার &#8230; ম্যানেজমেন্ট্‌ কনসালটেন্ট। বেশ মজার চাকরী&#8230; কিস্যু না করে খালি ভাট বকে গুচ্ছ গুচ্ছ।শালা কাজ করবো আমরা আর মালগুলো ভাটিয়ে পয়সা নেবে? চ্যাংরামো নাকি? যাই হোক সেই টেকো মালটির নাম  আসিফ খান।এককালে বাড়ী ছিলো পাকিস্তান আর পাঞ্জাবের বর্ডারে &#8230;এখন মানে গত বারো বছর ধরে ইউ.এস.এ তে থাকে।চকচকে টাক&#8230; মোটিভেশনাল গুরু রবিন শর্মার মতো দেখতে&#8230;ওরকম ভাবও নেয়&#8230; আর কথায় কথায় জ্ঞান দেয়।তবে একটা ‘ম্যারিকা’ ‘ম্যারিকা’ ভাব সর্বদা।এশিয়ান এশিয়ান কম।বেসবল খেলে।নিজেকে পাকিস্তানি না বলে ইউ.এস.এ র “গাই” বলতে ভালোবাসে&#8230; হুঃ গাই-ই বটে।যাই হোক খুব ঘুম পাচ্ছিলো ওর ভাট শুনতে শুনতে।স্ট্রীম অফ কনশাসনেসের দড়িতে ঝুলতে ঝুলতে মনে পড়লো ইউরোপীয়ান ওই মেয়েটির কথা ।মুখের মধ্যে অদ্ভুত একটা বাঙালীয়ান সারল্য&#8230; ।পক্ষপাতিত্ব করছি কি বাঙালীর?&#8230; কে জানে?কার্লপ্লাটজ্‌  এর বুক দিয়ে বেশ খানিকটা হেঁটে গিয়ে কার্লকিরশ্চ’এ ঢুকে পড়েছিলাম কোন এক রোববারে&#8230; রিসেপশনে দেখেছিলাম মেয়েটিকে&#8230; আমাকে সঙ্গে নিয়ে লিফটে চড়ে ওপর দেওয়াল পর্যন্ত পৌঁছেও দিয়েছিলো&#8230; রোববারে&#8230; খুব বেশী লোক ছিলো না বলে&#8230;।কি সুন্দর মুখশ্রী মেয়েটির&#8230;ঠিক যেন বাঙালী&#8230; । একটা ফটোও তুলেছিলাম ওর&#8230;ও মানা করেনি।অষ্ট্রীয়ানরা ইংরেজীতে ঠিক সড়গড় নয় সবাই&#8230; বা সত্যি বললে ওরা ইংরেজী বলতে চায় না&#8230; ওদের নিজেদের জাত্যাভিমান তুখোড়&#8230;।তাই ফ্যাস্‌ফ্যাসে ইংরেজীতে&#8230; আমার সাথে কথা বলছিলো অনেক&#8230;ওর নিজের শহর স্যালজবার্গের কথা&#8230; কত ভালোবাসা শহরটাকে ঘিরে ওর&#8230; কিন্তু অভিমানও অনেক&#8230; ।ওর মতো অনেক শিক্ষিত মেয়েকে চাকরী দিতে পারে না ‘সাউন্ড অফ মিউজিক’ সিনেমার ওই ছবির মতো শহরটি&#8230; যে শহরটি মোজার্টের সিম্ফনীতেই ডুবে থাকে দিন রাত।চাকরীর জন্য&#8230;অষ্ট্রীয়ার অন্য ছোট ছোট শহরের ছেলে মেয়েদের ক্যাপিটাল ভিয়েনায় আসতে হয়।ও আমাকে আমার শহরের &#8230;আমার দেশের কথা জিজ্ঞেস করেছিলো&#8230;।ছোটখাটো একটা ঐতিহাসিক আর ভৌগোলোচিত লেকচারও দিয়েছিলাম&#8230;কার্লকিরশ্চের দেওয়ালের অবিশ্বাস্য সব পেন্টিং দেখতে দেখেতে&#8230;আমার দেশ&#8230;আর আমার কোলকাতা সম্মন্ধে।আমার কেমন যেন একই লেগেছিল সোসালিস্টিক অষ্ট্রীয়ার এই সুন্দরী শিক্ষিতা মেয়েটির আর আমার মফস্বল শহরের পারিজাতদি&#8230; কিম্বা শিরীণদিদের।ষ্ট্রীম অফ কনসাশনেসের দড়িটা আবার আমাকে আইসেনবার্গ বলে ইউরোপীয় এই ছোট্ট শহরটার সিমেন্স অফিসে নিয়ে গিয়ে ফেললো।সেই মিটিংরুমে&#8230; যেখানে টাকলু আসিফ খান ক্যাও ক্যাও করে ইউ.এস.এ.চিতো উচ্চারণে প্রসেস নিয়ে ভাটিয়ে চলেছে।আমার চোখাচোখি হলো মুসসির সাথে&#8230; মানে হায়দ্রাবাদের মুস্তাক &#8230; আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু।ঘড়িটা দেখে নিলাম&#8230;লাঞ্চ টাইম এগিয়ে আসছে&#8230; বাব্বাঃ কিছুক্ষনের জন্য&#8230; মুক্তি&#8230; হাঙ্গেরীয়ান লাঞ্চ ডিস্‌ চাটতে চাটতে।আমার খুব ভালো লাগে হাঙ্গেরীয়ান অনেক খাবার দাবার&#8230; কারন একটাই আমি ভোদাই মার্কা বাঙালী বলে।ওদের বেশ কিছু ডিস্‌ পাতি ন্যাশলাল হাইওয়ের ধারের বাঙালীছাপ ধাবাগুলোর  মাংসের ঝোল ভাতের মতো &#8230; তবে উদ্ভট সব নামের।তবে লাঞ্চ টাইমে বেশ তাড়িয়ে তাড়িয়ে খাওয়া যায়।গতকালের একটা কথা মনে পড়ে খুব হাসি পেয়ে গেলো আমার।লাঞ্চটাইমের আগে আসিফ একবার বলে ফেললো&#8230; ‘হেই গাইজ্‌&#8230; আজকে আমারা বাইরে কোথাও একসাথে একটা পার্টি অ্যারেঞ্জ করতে পারিনা?&#8230;আমরা এনজয় করবো&#8230;ভরপুর বীয়ার টানবো&#8230; সাউন্ডস্‌ লজিকাল?’&#8230; বলে বিশাল কেতমার্কা দৃষ্টিতে আমাদের দিকে তাকালো&#8230;।আমাদের কেউ কিছু আওয়াজ দিলো না&#8230; কারন রাত্রে আমাদের টিমের একটা পার্টি ছিলো&#8230;।মানে কিছুই নয়&#8230; সেই  চিকেনের ঝাল ঝাল তেলেগু ঝোল&#8230; তামিলমার্কা একটা ভাজ্জি&#8230; আর ভাত&#8230;আর ভরপুর মাল টেনে লাট খেয়ে পড়ে থাকা।আমার কনট্রিবিউশন ওই বঙ্গীয় সাদা ভাতই।টাকলুকে মুস্তাক বলে দিলো অন্য কোনদিন এই প্ল্যানটা করা যাবে।<br />
তখন ছিলো একটা ছোটখাটো ব্রেক&#8230;ওই একঘেয়ে ট্রেনিং এর মাঝে।মানে যারা এতোক্ষন বোদ্ধার মতো মুখ করে কোনমতে হিসি চেপেচুপে আসিফের কথা শুনছিলো&#8230; তারা প্রায় দৌড়ে গিয়ে বাথরুমে ঢুকবে&#8230;আর কেউ কেউ&#8230;বুদ্ধির গোড়ায় ধোঁয়া লাগাতে স্মোকিং জোনে যাবে&#8230;কেউ বা কয়েন ফেলে মেশিন থেকে কফি বের করে চুমুক লাগাবে আয়েশ করে। তা সবাই উঠে গেছিল ব্রেক এ।টাকলু আসিফ ল্যাপটপ-এ মুখ গুঁজে কি একটা দেখছিলো।আমি আর মুস্তাক গ্যাঁজাচ্ছিলাম&#8230; হিন্দীতে।একথা ওকথা বলার ফাঁকে আমি বললাম&#8230; ‘টাকলুটা যে বলছে পার্টির কথা&#8230;শালা পেমেন্ট কে করবে? ওর বাপ?&#8230; একে তো কোম্পানীকে ফোকটায় চুষছে &#8230;এখন কি পার্টি দেবে নিজের পকেট থেকে না &#8230; উঃ’মুস্তাকের একটা রামচিমটী খেয়ে ওর দিকে তাকালাম&#8230; ও আমার দিকে ঠায় কঠোরভাবে তাকিয়ে আছে&#8230; মুখে কিছু বলছে না&#8230; আমি আবার বললাম&#8230; ‘কেয়া হুয়া’&#8230; ও আর থাকতে না পেরে আমায় টানতে টানতে রুমের বাইরে নিয়ে গেলো&#8230; সিঁড়ির মুখে গিয়ে বললো&#8230; ‘আবে দাদা&#8230; ওই মালটা হিন্দী জানে’&#8230; ‘কিঃ?’&#8230; ‘ইয়েস স্যার&#8230; ও ভালোমতো হিন্দী জানে&#8230;আমাকে দিল্লীর গুরমিত বলেছে&#8230;।আসিফ দিল্লীতে গেছিলো এর আগে&#8230;নয়ডা অফিসে’।‘তাই&#8230;আমি তো ভাবলাম মালটা পুরো আঙরেজ্‌’ ‘ না বস্‌&#8230; কেসটা তুমি পুরো কেঁচিয়েছো&#8230;এবারে বেশী না ভাটিয়ে চুপচাপ জ্ঞান শোনো মিটংরুমে গিয়ে &#8230; সমঝা?’<br />
আবার ট্রেনিং শুরু হলো&#8230; জোরকদমে।এবার গ্লোবাল এমপ্লয়ি রিলেশন নিয়ে ভাটাচ্ছে&#8230; সব দিকেই ভরপুর ফান্ডা আসিফের&#8230; কেবল প্র্যাক্টিকাল কাজই কেবল করে নি&#8230; নিতম্বে সজোরে লাথ কষতে ইচ্ছে করে এই বাস্তবজ্ঞানবিহীন বিদ্যেবোঝাই বাবুমশাইদের।ডিসকাশনের মধ্যে ‘সেলফ আইডেনটিটি ম্যানেজমেন্ট’ বলে একটা চ্যাপ্টা এলো যা নিয়ে আলোচনা চললো বেশ কিছুক্ষন।আসিফ আলোচনা করছিলো&#8230; কিভাবে একজন গ্লোবাল এমপ্লয়ীর নিজস্বতা,তার নিজের কালচার,তার দেশ,তার ভাষা তার কাজে কর্মেও ছাপ ফেলে।আসিফ জিজ্ঞেস করছিলো নিজের অহঙ্কার কি নিয়ে?&#8230; কি সেই কিক্‌ পয়েন্ট&#8230; ভাষা&#8230;কালচার&#8230;দেশ&#8230; না&#8230; কাজের প্রতি ভালোবাসা&#8230; কি?&#8230; কি কি সেই কিক্‌ পয়েন্ট?<br />
একে একে সবাই উত্তর দিচ্ছিলো&#8230; আমার কপালটা ঘেমে আসছিলো&#8230; আমার গলাটা ভিজিয়ে নিয়ে নিজের কাছে নিজের অস্তিত্ব প্রমানের জন্য বারবার ঢোক গিলছিলাম&#8230; মুস্তাক হায়দ্রাবাদ নিয়ে বলতে শুরু করলো&#8230; ও কিভাবে হায়দ্রাবাদী হিন্দী&#8230; ঝাল ঝাল চিকেন ডিস&#8230; টক টক ভাজা&#8230; শের-শায়েরী&#8230;মেহেদীপটনমের ধুলো মাখা গলি&#8230; হায়দ্রাবাদ-সেকেন্দ্রাবাদ টুইন সিটির ঝকঝকে উড়ালপুল&#8230; চকচকে এয়ারপোর্ট&#8230; পরিষ্কার রাস্তাঘাট&#8230; নিয়ে রীতিমতো অহঙ্কারী ও&#8230; গর্ব ওর চোখেমুখে ফুটে উঠছে&#8230; ওর দিকে চেয়ে আছে চেন্নাই এর জয়চন্দ্রন&#8230; দিল্লীর আলি&#8230;সোনিপটের নিখিল&#8230; ব্যাঙ্ককের ওয়্যারট &#8230; ভিয়েনার আরনল্ড&#8230;জাকার্তার ফাজেরী&#8230; আরো সব ওরা যেন পরপর অপেক্ষা করে আছে ওদের নিজস্ব অহঙ্কার শেয়ার করার জন্য&#8230;আর আমি &#8230;হারিয়ে যাচ্ছি এই বেশ কিছুদিন আগে দেখা আমার শহরে আমার কোলকাতায়&#8230; ।এই সেদিন&#8230; আমি ঘুরে বেড়াচ্ছি&#8230; কোলকাতার উত্তর থেকে দক্ষিনে&#8230; আবার একবার আমার কোলকাতাকে ফিরে দেখার জন্য&#8230; এভাবেও ফিরে যায় বলার চেষ্টা করছিলাম বোধহয়&#8230;; শোভাবাজারের ঝলমলে যৌনগলি দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে মিত্র ক্যাফের স্পেশাল কাটলেট-কবিরাজী খেয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তুলতে তুলতে বাগবাজারের অলিগলির গন্ধ মেখে টানা রিক্সার দোলদোলানি আর সাবেকী বড় বড় থামওয়ালা বাড়ীকে ছুঁয়ে পৌঁছে যাওয়া বাগবাজারের সারদা মায়ের আশ্রমে&#8230;। নীচের তলায় চটি খুলে টোকেন নিয়ে বেসিনে হাত ধুয়ে ধুপধাপ করে প্যাঁচানো সিঁড়ি বেয়ে দোতলায় পৌঁছতেই &#8230; “ খন্ডন ভব”র সমবেত সিম্ফনীর শিহরণ&#8230; তারপর প্রসাদ নিয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে আবার সেই একটাই ভাবনা বুকে চলা&#8230;আরেকবার দেখা&#8230;আমার শহরটাকে।বিধানগর থেকে সেক্টর ফাইভে ঢুকতেই মনটা বেশ ভালো হয়ে যায়&#8230;আরে এ যে বেশ চকমকে আমার শহর&#8230; চওড়া রাস্তায় চলা লাল-নীল-বেগুনী চারচাকা আর দুচাকার পেশীর প্রতিযোগীতা&#8230; উঁচু উঁচু ফেং সুই মেনে তৈরী হওয়া অ্যাপার্টমেন্টের বারান্দায় ঝুলছে&#8230; একে অপরের প্রতি উদাসীন সিঙ্গুলার ফ্যামিলির বেড কভার থেকে ন্যাপি&#8230; পায়জামা থেকে ফিনফিনে ব্রেসিয়ার&#8230;; আজকে দেখি ৩২ বছর ধরে উন্নয়নশীল আমার শহর&#8230; সো কলড্‌ উন্নত দক্ষিন ভারতীয় শহরগুলোর মতো বাইরের মোড়কে ঝকঝকে হয়ে উঠছে পরিবর্তনমুখী প্যাকেজিং এর ফেসিয়ালে।আমার বেশ ফুরফুরে হয়ে ওঠে মনটা। আমার কোলকাতা আজকে পাঞ্জাবী,প্যান্ট আর কাঁধ-ঝোলা ব্যাগ আর সাদামাটা শাড়ী ভুলে রীতিমতো জিন্স টি শার্টে ঢাকা জিম্‌ করা বাইসেপ আর সাইজ জিরো কোমর সী-থ্রু গেঞ্জীতে সিটি সেন্টার থেকে সাউথ-সিটি মল&#8230; আইনক্স থেকে  সিসিডিতে ছুটে বেড়াচ্ছে।মনটা বড় ভালো লাগে।তৃপ্তির ঢেকুর ওঠে&#8230; টিভিতে দেখা ছায়া প্রকাশনীর বিজ্ঞাপনী ঢঙে বলতে ইচ্ছে করে&#8230; আমাদের সময় যদি এমনটা থাকতো&#8230;।<br />
আমিও গেছিলাম সেদিন&#8230;আমার কলকাতার সাথে&#8230;ভিড়ের মধ্যে &#8230; চুপি চুপি।কি ঝলমলে সব জায়গা।আমার নিজেকেই কেমন বেমানান মফস্বলী লাগছিলো।আমার কিন্তু খুব ভালো লাগছিলো এসব কান্ডকারখানা দেখে কিন্তু সত্যি বলছি&#8230;আমার মনে একটা ভয়ও এসেছিলো&#8230; এগুলো সত্যি তো? এগুলো মুখোশ না তো? সত্যি হলে সত্যিই আহ্লাদে আটখানা হতে মন চায়&#8230; কিন্তু মুখ আর মুখোশের যদি দ্বন্দ থাকে&#8230; যদি জোর করে চাপানো মর্ডানিসম হয়&#8230; তাহলে কি আমার আগের কোলকাতা&#8230; আমার ভেতরের কোলকাতা হারিয়ে যাবে? যেমন করে কোন কোন রাজ্য&#8230; অত্যধিক অনুকরন করতে করতে&#8230; সময়ের চাপে ও দাবীতে&#8230;অনুকরনটাকেই ‘সত্যি’ বলে মেনে নিয়েছে&#8230; ঢিব ঢিব করছিলো বুকটা&#8230; আমার বার বার মনে পড়ছিলো আমার দেখা কোলকাতা।বেলঘড়িয়া ষ্টেশনে টিনের সেডের নীচে দাঁড়িয়ে চোখটাকে যতটা সম্ভব ট্যাঁরা করে &#8230; ওকে দেখা&#8230;।নাম জানতে পারিনি &#8230; জানতে ইচ্ছেও করেনি।কেবল হাতে রাইস্‌ এর ছাপ মারা বই দেখে বুঝতাম&#8230; সরকারী চাকুরে হবার নেশায় মাতাল ওই মোটাসোটা মেয়েটি; রাত বারোটার সময় রামকৃষ্ণ মিশনের বিশ্বরুপ মহারাজের সাথে মিশনে বসে একদল সদ্য  তরুন দাড়ি-গোঁফের তুমুল তর্ক&#8230; কমিউনিসম্‌ আর আধ্যাত্মবাদ নিয়ে; আমার বন্ধু অর্নবের সাথে ওর মেডিক্যাল কলেজ হোষ্টেলে যাবার জন্য বড়রাস্তা ছেড়ে&#8230; হাড়কাটা গলি দিয়ে শর্টকাট মারা&#8230;আর ঝোলাবারান্দার রেলিং এর ওপর &#8230; টকটকে লিপষ্টিক-ঠোঁটের কৃত্রিম হাসির হাতছানি&#8230;রাস্তায় রাস্তায় ফেরী হওয়া বে-আব্রু যৌনতা&#8230; দালালদের পেছন পেছন এসে ওপেন-টেন্ডার&#8230;&#8230;&#8230;&#8230; আর তার মাঝেই হুশ করে কখন গলিটা পের হয়ে মেডিক্যাল কলেজের হোষ্টেলে পৌছে গেছি&#8230; ; আমার বন্ধু পিনাকী আর আমার সারারাত ধরে রাতের কোলকাতার অলিতে গলিতে ঘুরে বেড়ানো&#8230;আর হাজারো দুষ্টুমী&#8230;ভীষন ব্যতিব্যস্ত ছিলো আমাকে নিয়ে ও&#8230; কখন কি করে ফেলবো নিজেই জানতাম না যে&#8230;উঠলো বাই তো মক্কা যাই &#8230;&#8230;  এই থিওরী ছিলো আমার জীবনে&#8230;  মধ্যরাতে  একতলা বাড়ীর সামনে দাঁড়িয়ে কলিংবেল টিপে&#8230; দৌড়ে পগার পার&#8230;; বন্ধ দোকানের ঝোলানো লিফলেট ছিঁড়ে ফেলা&#8230; মাঝরাতে হাফপ্যান্ট পরা আমাদের পুলিশ ধরলে ভাট বকে বাচ্চা ( নাকি চৌবাচ্চা ?) সেজে মানে মানে কেটে পড়া&#8230; ।আমি তো ছিলাম&#8230; নিশাচর&#8230; সারারাত চলতো আক্রমন&#8230;। পাশের বাড়ীর দাদা-বৌদি মৃদু মাঝরাতে খাট কাঁপাতে ব্যস্ত&#8230; আর আমরা কজন তক্কে তক্কে জানলার পাশে&#8230;আওয়াজ দেবার জন্য&#8230;।খাট কাঁপানো শেষ&#8230; আর আমাদের হুক্কা হুয়া শিয়ালডাকের শুরু&#8230; ।দাদা তেড়ে এলো&#8230; ‘কে রে&#8230;সব নচ্ছারের দল’&#8230;।আমরা হাওয়া ততক্ষনে।বিরক্তিতে &#8230; কিম্বা ভয়ে&#8230; দাদা ওই দিকের জানলাটাই সিল করে দিলো।ময়দানের বইমেলায় ঝোলা হাতে ধুলো মেখে  দাঁড়িয়ে আমাদের স্বপ্নের লিট্‌ল ম্যাগাজিন ‘প্রেম-অপ্রেম’ ফেরী&#8230;দাম মাত্র ২ টাকা। প্রতুলদাকে দেখে দৌড়ে গিয়ে ছেঁকে ধরা&#8230; আর সাথে সাথে সমবেত আব্দার&#8230; গাইতে হবে&#8230;। আর প্রতুলদা তো মাটির মানুষ&#8230; রেলের ভেন্ডর কম্পার্টমেন্টে বসেও গান শোনাতেন&#8230; গলা কাঁপিয়ে শুরু করলেন&#8230; ‘আমি বাংলায় গান গাই’&#8230; সাথে  নতুন গজিয়ে ওঠা ব্যান্ড ‘অভিলাষা’ শুরু করলো বাজাতে&#8230; ; সেই গান শুনতে শুনতে কখন যে ‘অলিপাব্‌’-এ পৌঁছে গেছি নিজেরই খেয়াল নেই&#8230;। পেছনদিকের একটা টেবিলে আমি আর রেডিও মির্চীর শৌভিকদা সবে লাল গ্লাসে চুমুক মেরেছি&#8230; এমন সময় চেনা গলা শুনে পেছনে তাকালাম ।&#8230; সুব্রতদা&#8230; সুব্রত সেন&#8230; পেছনের টেবিলে&#8230; চুকচুক&#8230; একই ছন্দে।‘অলিপাব্‌’-এর হ্যাঙ্গ-ওভার কাটার আগেই পৌঁছে যাই রবীন্দ্রসদনে&#8230; গৌতমদারা গান করবে&#8230; আবার বছরকুড়ি পরে&#8230; মহীনের ঘোড়াগুলির গান&#8230; ভাবা যায়?&#8230; ভেতরে বসার টিকিট পাইনি&#8230; বাইরে হাজার হাজার জনতা&#8230; শেষ পর্যন্ত আমাদের দাবী মানতে হবেতেই কাজ&#8230; মেঝেতে বসেই দেখলাম&#8230; সেই ঘোড়াগুলিকে&#8230;আর গৌতমদাকে&#8230; যেন সবসময় খুড় দিয়ে মাটি ঠুকছে&#8230;এমনই তার এনার্জী লেভেল&#8230; ।তারপর&#8230; কলেজস্কোয়ারের বেগুনী খেতে খেতে বইপাড়ায় ২০% না ৩০% এর ক্যাঁচকেচিকে সাথে নিয়ে নন্দন২ এ কাফকা-র ফিল্ম রেট্রোস্পেক্টিভে&#8230; ।এই&#8230;এই হলো আমার কোলকাতা।আমার বুকের মধ্যেখানে যে চনমনানি আছে&#8230;সেই  কোলকাতা&#8230;। দৃশ্যগুলো আমার সামনে ছবির মতো ভেসে উঠলো&#8230; পাতার পর পাতা&#8230; ।ওই ঘোরের মধ্যেই দেখলাম আইডেন্টিটি ম্যানেজমেন্টের স্রোত আমার দিকে এগিয়ে আসছে&#8230; হায়দ্রাবাদের মুস্তাক,চেন্নাই এর জয়চন্দ্রন,ব্যাঙ্ককের ওয়্যারট&#8230; দিল্লীর আলি হয়ে আস্তে আস্তে আমার দিকে ঢেউটা এগিয়ে আসছে&#8230;; আমার মনটা আবার কেমন কেমন করছে&#8230;পেটটা গুড়্গুড় করছে&#8230; ওরা বেরোতে ছাইছে ঝাঁকে ঝাঁকে&#8230; ওদের বেরোতে দিতেই হবে&#8230; ওদের মুক্তি না দিলে আমার নিস্তার নেই&#8230; হুড়মুড় করে ওরা ঝরে পড়ছে আমার ল্যাপটপের নোটপ্যাডে &#8230; আমার ভাবনাগুলো&#8230; আমার আবেগ&#8230; শব্দের আকার নিয়ে&#8230;</p>
<p>একলা আকাশ ব্যস্ত শহর&#8230;<br />
বিন্‌দাস এর মুখোশ পরে<br />
সন্ধ্যে নামার সময় হলেই&#8230;<br />
ইলিউশনের নেশায় ওড়ে।<br />
সম্পর্কের সুতো ছিঁড়ে যায়<br />
দোস্তি এখন বড্ড আপন<br />
চোখের জলের বাষ্প ওড়ে<br />
মস্তির রঙ পেয়েছে যে মন<br />
আমার শহর ঢেউ এর দোলায়<br />
উঠছে এবার টালমাটালে<br />
মনখুশ এর রঙ ওড়নায়<br />
ছলকে ওঠে ঝলমলিয়ে<br />
রাতের নিয়ন পড়ছে মুখে<br />
মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে<br />
আমার শহর হঠাত তখন<br />
ঝুপড়ি শিশুর কান্না শোনে<br />
ভাত জোটেনি পথের ধারে<br />
ভাত জোটেনি শহর শেষে<br />
আমার শহর হঠাত যেন<br />
মুখোশ পরে মুচকি হাসে<br />
আমার শহর বড্ড উঁচু<br />
লিফটে চড়ে বেডরুমে যায়<br />
আকাশ ছোঁয়া ফ্ল্যাটের ছাতে<br />
রাত কেটে যায় মাতাল নেশায়।<br />
ব্যস্ত শহর শপিং মলে<br />
ব্যস্ত শহর ডিস্কো থেকে<br />
ভাবনারা সব লেপমুড়ি দেয়<br />
কল্পনা’কে ব্রাত্য রেখে<br />
আমার শহর ভালোই আছে<br />
রবীন্দ্র আর ব্যান্ডো গানে<br />
নিত্যনতুন আঁতলামি আর<br />
শিল্পনীতির ভাঁটার টানে<br />
এমনি ভাবেই চলছে এখন<br />
দিনপ্রতিদিন ঢেউ এর দোলে<br />
আমি কিন্তু আশায় আছি&#8230;<br />
নতুন কিছু দেখবো বলে<br />
স্বপ্ন দেখি ভাবনারা সব<br />
শহরে আমার পাখনা মেলে<br />
কল্পনার ঐ নৌকারা যে<br />
ভাসছে তখন দুলকি চালে<br />
আমার শহর সবুজ তখন<br />
ফেলছে ছিঁড়ে মুখোশ আবার<br />
নতুন চোখে দেখছে সবাই<br />
আমার শহর আবার আমার</p>
<p>আঃ কি আরাম&#8230;কেয়ার করিনা &#8230; শালা আইডেন্টিটি ম্যানেজমেন্টের&#8230; কেয়ার করিনা শালা টেকো আসিফের ফেকু স্মার্টনেসকেও&#8230; আমার আর কিস্যু মন থেকে বলার নেই&#8230; আমার ভাবনাগুলো আমি লিখে ফেলেছি&#8230; এক্ষুনি।এটা কি কবিতা&#8230; না বোধহয়&#8230; ।আমার পড়া ভালো কবিতাগুলোর সাথে এর মিল নেই&#8230; আমি এক্কেবারেই ঠিকঠাক কবিতা লিখতে পারি না&#8230;কিন্তু বুকে হাত দিয়ে বলছি&#8230; এই কবিতাটা প্রসব করে পোয়াতি মায়ের টোকো তেতুল চোষার আনন্দ ফিল করছি ভেবে নিলে বেশ একটা বেড়ে উপমা হয়ে যাবে&#8230; আমার মনের কাছাকাছি।আমার কিন্তু বেশ ভালো লাগছে&#8230; আঃ&#8230; বেশ ভালো।</p>
<p>                                                &#8212;&#8212;&#8212;&#8212;</p>
<p>[আমার এই গল্পটি একটি ওয়েব-পত্রিকায় প্রকাশিত]</p>
<a href="http://www.addtoany.com/add_to/google_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fatanujee%2F1016&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%BF%20%E0%A6%8F%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%87%20%E0%A6%95%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A6%BE%20%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%96%E0%A6%A4%E0%A7%87%20%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BF%20%E0%A6%A8%E0%A6%BE" title="Google Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/google.png" width="16" height="16" alt="Google Bookmarks"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/orkut?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fatanujee%2F1016&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%BF%20%E0%A6%8F%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%87%20%E0%A6%95%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A6%BE%20%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%96%E0%A6%A4%E0%A7%87%20%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BF%20%E0%A6%A8%E0%A6%BE" title="Orkut" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/orkut.png" width="16" height="16" alt="Orkut"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/twitter?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fatanujee%2F1016&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%BF%20%E0%A6%8F%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%87%20%E0%A6%95%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A6%BE%20%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%96%E0%A6%A4%E0%A7%87%20%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BF%20%E0%A6%A8%E0%A6%BE" title="Twitter" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/twitter.png" width="16" height="16" alt="Twitter"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/facebook?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fatanujee%2F1016&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%BF%20%E0%A6%8F%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%87%20%E0%A6%95%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A6%BE%20%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%96%E0%A6%A4%E0%A7%87%20%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BF%20%E0%A6%A8%E0%A6%BE" title="Facebook" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/facebook.png" width="16" height="16" alt="Facebook"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/yahoo_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fatanujee%2F1016&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%BF%20%E0%A6%8F%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%87%20%E0%A6%95%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A6%BE%20%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%96%E0%A6%A4%E0%A7%87%20%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BF%20%E0%A6%A8%E0%A6%BE" title="Yahoo Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/yahoo.png" width="16" height="16" alt="Yahoo Bookmarks"/></a> <a class="a2a_dd addtoany_share_save" href="http://www.addtoany.com/share_save?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fatanujee%2F1016&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%BF%20%E0%A6%8F%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%87%20%E0%A6%95%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A6%BE%20%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%96%E0%A6%A4%E0%A7%87%20%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BF%20%E0%A6%A8%E0%A6%BE"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/share_save_120_16.png" width="120" height="16" alt="Share/Bookmark"/></a>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://coffeehouseradda.com/blog/atanujee/1016/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>8</slash:comments>
		</item>
	</channel>
</rss>
