শকুন্তলার উপাখ্যানঃ এরপর মুনি বলেন -শুন পরীক্ষিত পুত্র, ভরত বংশের কথাও অদ্ভূত। জগৎবিখ্যাত রাজা ছিলেন দুষ্মন্ত। তিনি সংসারে এসে যেমন বসুন্ধরাকে ভোগ করেন তেমনি ধর্মের সাথে প্রজাপালন করেন এবং দুষ্টের সংহার করেন। তিনি রূপবান সুপুরুষ-একছত্র অধিপতি, মৃগয়াপ্রিয়। একদা তিনি বনে মৃগয়া করতে গেলেন। সসৈন্য মহারাজ এক মহাবন ঘিরে ফেললেন। অসংখ্য সিংহ, ব্যাঘ্র, ভল্লুক, বরাহ, মৃগ শিকার করলেন।... »

লেখক : নিতা
নিজের সম্পর্কে বক্তব্য : খুব সাধারণ একজন .... :)
লেখকের সব লেখা :
কথাচ্ছলে মহাভারত – ২২
দেব-দানবাদির ভূতলে জন্মগ্রহণঃ মুনি বলেন –শোন, যেমন হল এই সৃষ্টি সংঘটন। ব্রহ্মার মানস পুত্র হলেন সাতজন। এই সাত থেকেই ত্রিভুবনের জন্ম। ১)মরীচি ব্রহ্মার পুত্র। মরীচি পুত্র কশ্যপ মহামুনি। দক্ষ প্রজাপতি তার তেরোটি কন্যা খুশি হয়ে কশ্যপকে দান করেন। এই দক্ষ কন্যারা হলেন- অদিতি, কপিলা, দনু, কদ্রু, মুনি, ক্রোধা, দনায়ু, সিংহিকা, কালা, দিতি, প্রধা, বিম্বা ও বিনতা। এই তেরোজনের গর্ভে যারা... »
কথাচ্ছলে মহাভারত – ২১
মহর্ষি বৈশম্পায়ন প্রমুখাৎ মহারাজ জন্মেজয়ের “শ্রীমহাভারতকথা” – শ্রবণারম্ভঃ মহারাজ জন্মেজয় বিনয়ের সঙ্গে মুনিকে কাছে পেয়ে সেই পূণ্য কথা শুনতে চাইলেন। জগৎ বিখ্যাত বৈশম্পায়ন মুনি ভারতকাহিনী বর্ণনা শুরু করলেন। প্রথমে তিনি গুরু ব্যাসদেবকে স্মরণ করলেন, যিনি এই ভারতকাহিনী রচনা করেছেন। এই ভারতকাহিনী শ্রবণ করলে অশেষ পাপ খন্ডিত হয়। সকল যজ্ঞের ফল পাওয়া যায়। রাজা শুনলে সর্বত্র জয় লাভ হয়।... »
কথাচ্ছলে মহাভারত – ২০
জন্মেজয়ের অশ্বমেধ যজ্ঞঃ অশ্বমেধ যজ্ঞ রাজা জন্মেজয় বলেন –অকারণে এত কিছু করলাম। কোটি কোটি অহিংস সাপকে মারলাম। এ পাপের নরক গমন থেকে দেখছি আর নিস্তার নেই! মুনি তুমিই বল এ পাপ থেকে কি ভাবে মুক্তি পাব। পূর্বে আমার পূর্বপুরুষরা অশ্বমেধ যজ্ঞ করে সব পাপ মুক্ত হন। আমিও তাদের মত সেই যজ্ঞ করবো। শুনে ব্যাসমুনি তাকে বারণ করেন। রাজা... »
কথাচ্ছলে মহাভারত – ১৯
জন্মেজয়ের ধর্ম্মহিংসাঃ সৌতি বলেন – রাজা জন্মেজয় সব পাত্রমিত্রদের ডেকে বিলাপ করে বললেন –আমার হৃদয়ে যে হিংসা তা এখনও দুর হল না। আমি অনেক ভেবে দেখলাম, ব্রাহ্মণই আমার আসল শত্রু। আমার পিতা ধর্মশীল ব্যক্তি। বিনা অপরাধে তাকে শাপ দেওয়া হল। আবার পিতার হত্যাকারীকে যখন বধ করতে গেলাম তখনও এসে এই ব্রাহ্মণই বাধা দিল। প্রথমে ব্রাহ্মণ শাপ দিয়ে পিতা... »
কথাচ্ছলে মহাভারত – ১৮
যজ্ঞস্থানে আস্তীকের গমনঃ বেদমন্ত্র উচ্চারণ করে আস্তীক জন্মেজয়ের প্রশংসা করলেন। বললেন –চন্দ্রবংশ ধন্য, এমন অলঙ্কৃত পুত্র পেয়ে। ক্ষত্রিয়দের মধ্যেও এরূপ তেজ সব সময় দেখা যায় না। অনেক দেখেছি, শুনেছি–কত যজ্ঞ হয়েছে, কিন্তু কারো সাথে এই যজ্ঞের তুলনা হয় না। ইন্দ্র, যম, কুবের, বরুণ, চন্দ্র–আরো অনেকেই যত যজ্ঞ করেছেন–পান্ডবপতি যুধিষ্ঠির, মহামতি কৃষ্ণ, রাজা যযাতি, সূর্যবংশীয় পবনরাজ, দক্ষিণার সাগর... »
কথাচ্ছলে মহাভারত – ১৭
জন্মেজয়ের সর্প যজ্ঞের মন্ত্রণাঃ মন্ত্রীরা রাজা জন্মেজয়কে বললেন –তোমার পিতা পরীক্ষিত পান্ডবদের সমান ছিলেন। তিনি মৃগয়া করতে গিয়ে একটি হরিণকে বাণ মারেন, হরিণটি পালায়। তাকে খুঁজতে খুঁজতে গভীর বনে রাজা পরীক্ষিত ক্ষুদাতৃষ্ণায় কাতর হন। এক মৌণ মুনির কাছে হরিণ সম্পর্কে জানতেও চান। উত্তর না পেলে রাগে তার গলায় মৃত সাপ ঝুলিয়ে আসেন। মুনির পুত্র শৃঙ্গী... »
কথাচ্ছলে মহাভারত – ১৬
উতঙ্কের উপাখ্যানঃ উতঙ্ক তৃতীয় শিষ্য। ইনিও গুরু গৃহে থেকেই শিক্ষাগ্রহণ করতেন। একদিন গুরুকে যজ্ঞের কারণে বাইরে যেতে হলে তিনি উতঙ্ককে বললেন –গৃহে থাকবে এবং দেখবে কিছু যেন নষ্ট না হয়। এই বলে তিনি যজ্ঞ করতে চলে গেলেন। একদিন গুরু পত্নী উতঙ্ককে ডেকে বললেন –তোমার হাতে স্বামী গৃহের সব অর্পণ করে গেছেন এবং লক্ষ রাখতে বলেছেন যেন কিছু নষ্ট... »
কথাচ্ছলে মহাভারত – ১৫

উপমন্যু ও আরুণির উপাখ্যানঃ সৌতি বলেন –মুনিগণ এবার পুরাণের কাহিনী শ্রবণ করুন। অবন্তীনগরে ধৌম নামে এক ব্রাহ্মণ ছিলেন। তার গুরুকুলে শিষ্যরা শিক্ষাগ্রহণ করতে আসত। এক শিষ্যকে গুরু তার গরুগুলিকে দেখভালের দায়িত্ব দিলেন। গুরুর আজ্ঞায় শিষ্য গরুগুলির সেবা করে। একদিন গুরু বললেন –তোমায় বেশ পুষ্ট দেখছি! তুমি কি খাও, কোথায়ই বা এত খাবার পাও! শুনে শিষ্য জোর হাতে বলে –বাছুরদের... »
কথাচ্ছলে মহাভারত – ১৪
আস্তীকের জন্মঃ জরৎকারু পত্নীকে রেখে চলে গেলেন। জরৎকারী অশ্রুজলপূর্ণ চক্ষে, বুকে করাঘাত করতে করতে ভ্রাতৃগৃহে আশ্রয় নিলেন। বোনকে কাঁদতে কাঁদতে ফিরে আসতে দেখে বাসুকি চমকে উঠলেন। মুখে কথা খুঁজে পেলেন না। বাসুকি কান্নার কারণ জানতে চাইলে জরৎকারী বললেন –মুনি আমায় ছেড়ে বনে চলে গেছেন। শুনে বাসুকি বিষণ্ণ হয়ে গেলেন। একে মায়ের শাপে সব সময় ভীত, তার উপর এই... »







