হ্যাঁ, নরকের কিছুটা পথই আমাদের অতিক্রম করতে হলো । জলকাদামলমূত্রআবর্জনার সংগে সহবাসরত সারি সারি ব্যারাকপূর্ণ মানুষজন পেরিয়ে আমরা একসময় পৌঁছে গেলাম বাণেশ্বের জেঠার ঘরে । দুই ছেলে নিয়ে তারাও চারজন । সংগে যোগ হলাম আমরা চারজন । মোট আটজন । একটাই ঘর । রান্নার আলাদা কোনো জায়গা নেই । ঘরেরই এক কোনে রান্নাঘর ।... »

লেখক : রাজা সরকার
নিজের সম্পর্কে বক্তব্য : লেখক নিজের সম্পর্কে কোনো বক্তব্য যোগ করেন নি।
লেখকের সব লেখা :
আঁতুড় ঘর (২০)
দুধনৈ ক্যাম্পে সকাল হয়েছে আমাদের । আমাদের সবার জন্য এই সকাল মনে দুঃখ আর চোখে বিস্ময় মাখা এক সকাল। ঠাম্মা আর মেজদা একটু আগে উঠে থাকবে । আমার যখন ঘুম ভাঙলো দেখি আমাদের গুহার সামনে তারা দুজন চুপচাপ বসে আছে । পাশে ফুলদা তখনও ঘুমোচ্ছে । এদিকে আমাদের দেশগা’য়ের প্রতিবেশীরা অর্থাৎ গত রাতের... »
আঁতুড় ঘর(১৯)
কোনো মতে কাটলো রাতটা । ভয়ানক রাত । আমাকে নিয়ে হয়েছে মুষ্কিল । পরিবেশগত ভয়তো ছিলোই সংগে এখন আমার শুরু হয়েছে কান্নাকাটি । যেন নিশ্চিন্ত একটা পাড় ছেড়ে আমরা এখন ভাসছি এক গভীর সমুদ্রে । পারাপারহীন । মাঝে মাঝে খুব অসহায় মনে হচ্ছিলো । এই অবস্থায় কেউ আমাকে বকছেনা । শুধু সান্ত্বনা দিয়ে... »
আঁতুড় ঘর(১৮)
এবারের পথ মনে হচ্ছে সমতলের । পাহাড় নেই এখন । রোদের তাপ তেমন নেই । ঠাম্মার কোলে মাথা দিয়ে একসময় ঘুমিয়ে পড়লাম । পরে শুনেছি প্রথমে আমি বটে তবে একসময় নাকি ট্রাকের সকলেই ঘুমোচ্ছিলো । কতক্ষণ কেটেছে জানিনা । যখন ঘুম ভাঙলো তখন দেখি সন্ধ্যা । থেমে আছে ট্রাক । সবাই নামছে । আমরাও... »
আঁতুড় ঘর(১৭)
বাঘমারার অস্থায়ী ক্যাম্পে আমাদের দিন কাটছে । আমি মোটামুটি আশপাশটা জেনে গিয়েছি । রোদের মধ্যে আমরা ছোট দুই ভাই এদিক ওদিক টো টো করি । ঠাম্মা মোটামুটি সঙ্গী অনেক পেয়ে গেছেন । তারা সব আমাদের আশপাশের অঞ্চল থেকে আসা । রোদের মধ্যে ঘুরে ঘুরে আমরা নানা অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হচ্ছি । প্রায় প্রতিদিনই যেহেতু মানুষ... »
আঁতুড় ঘর(১৬)
ক্ষেতের আল থেকে পড়ে গিয়ে ঠাম্মা সেই যে চোট পেলেন আর তা যে কতখানি গভীর ছিলো তা আমরা তখন আন্দাজ করতে পারিনি । বোঝা গিয়েছিলো কিছুদিন পর । অবশ্য তখন ঐ সময় ঠাম্মা কাউকেই খুব একটা বিপদে ফেলেননি । আমাদের সংগে সমান তালেই হাঁটছিলেন । খুব ফিকে হয়ে আসছিলো চাঁদের আলো । তার মধ্যেই... »
আঁতুড় ঘর(১৫)
পরদিন দুপুরে খাওয়া দাওয়ার পর আমরা চার জন বাড়ির সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে রওনা হলাম সুসংগ দুর্গাপুরের উদ্দেশ্যে । এই দু’তিন দিনে আমরা বেশ আপন হয়ে গিয়েছিলাম । ফলে বিদায়ের সময় সকলেরই ভেজা চোখ । দাদুর বাড়িটা সোমেশ্বরীর পাড় থেকে বেশী দূর নয় । আমরা হাঁটতে হাঁটতে আবার সোমেশ্বরীর পাড়ে এসে উত্তর দিকে... »
আঁতুড় ঘর(১৪)
ভাটি অঞ্চলের সন্তান আমি, নদী নালা খাল বিল দেখার অভ্যেস আছে । ফলে কিছুক্ষণ আগেই যখন সোমেশ্বরী নদীর দেখা পাওয়া গেল তখন অবাক হইনি । অবাক হয়েছি সামনের দিকে এগিয়ে আসা ঘন সবুজ গারো পাহাড়ের আকার দেখে । এই পাহাড় আমাদের বাড়ির উত্তরের দিকে আকাশ পরিষ্কার থাকলে দেখা যেতো। দেখতে ছিলো নীল । কিন্তু... »
আঁতুড় ঘর(১৩)
বেশ ভয় ভয় করছিলো আমার । রেল স্টেশনে পৌঁছেও আমার ভয় কাটছিলো না । কারণ আমরা চলে গেলেও বাবা আবার ঐ পথেই বাড়ি ফিরবেন । এই প্রথমবার বাবার জন্য আমার খুব কষ্ট হতে লাগলো । পিসিমা আজ আর ফিরবেননা । নেত্রকোনা পর্যন্ত আমাদের সংগে যাবেন । সেখানে আত্মীয় বাড়িতে ক’দিন থেকে হয়তো কারোর সংগে... »
আঁতুড় ঘর(১২)
বিধবা বিবাহ পিসিমার ক্ষেত্রে সম্ভব হয়নি । বিধবার নিয়তিবদ্ধ পিসিমার ধর্মরক্ষার দায় নিয়ে বাবা নাকি বাধা দিয়েছিলেন বিধবা বিবাহে । স্বামী মারা যাবার পর এই রকম একজন নারীর পিতৃগৃহে ফিরে আসা এবং বেঁচে থাকা কী এবং কেমন তা অনেক পরে জেনেছি । চেষ্টা করলেও পিসিমা কুৎসিত হতে পারতেন কিনা জানিনা । মাথার চুল... »







