﻿<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>কফি হাউসের আড্ডা &#187; রাজা সরকার</title>
	<atom:link href="http://coffeehouseradda.com/blog/author/raja1952/feed" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>http://coffeehouseradda.com</link>
	<description>বাঙালীর ব্লগ-আড্ডা</description>
	<lastBuildDate>Fri, 10 Sep 2010 04:15:43 +0000</lastBuildDate>
	<generator>http://wordpress.org/?v=2.8.4</generator>
	<language>en</language>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>1</sy:updateFrequency>
			<item>
		<title>আঁতুড় ঘর(২৩)শেষ পর্ব ।</title>
		<link>http://coffeehouseradda.com/blog/raja1952/3554</link>
		<comments>http://coffeehouseradda.com/blog/raja1952/3554#comments</comments>
		<pubDate>Sun, 05 Sep 2010 02:58:00 +0000</pubDate>
		<dc:creator>রাজা সরকার</dc:creator>
				<category><![CDATA[ব্লগাড্ডা]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://coffeehouseradda.com/?p=3554</guid>
		<description><![CDATA[হরিমামার ঘরে এসে আমাদের থাকা খাওয়ার একটু সুবিধে হলো । কিন্তু বেড়ে গেল আমার চিঠি লেখার কাজ । বাণেশ্বর জেঠার ওখানে থাকতেই আমাকে এই কাজটি মাঝে মাঝে করতে হতো । বেশী করতে হতো গোপালমামীর চিঠি লেখার কাজ । ঠিক দুপুরের খাওয়া দাওয়ার পর পরই তার আগমন ঘটতো । ঠাম্মার সংগে এটা সেটা আলাপ ছিলো তার [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>হরিমামার ঘরে এসে আমাদের থাকা খাওয়ার একটু সুবিধে হলো । কিন্তু বেড়ে গেল আমার চিঠি লেখার কাজ । বাণেশ্বর জেঠার ওখানে থাকতেই আমাকে এই কাজটি মাঝে মাঝে করতে হতো । বেশী করতে হতো গোপালমামীর চিঠি লেখার কাজ । ঠিক দুপুরের খাওয়া দাওয়ার পর পরই তার আগমন ঘটতো । ঠাম্মার সংগে এটা সেটা আলাপ ছিলো তার নিত্যদিনের কাজ । কারণ তারা পূর্ব পরিচিত এবং একই গ্রামের। কিন্তু মাঝে মাঝে তার হাতে থাকতো একখানা পোষ্টকার্ড । পোষ্টকার্ড দেখলেই আমি বুঝতে পারতাম আজ আমার বিকেলটা মাটি। ঘরে ঢুকতে ঢুকতেই বলতেন&#8212;দেওছেন বাপ আমার এইহান এট্টু ভইরা । অর্থাৎ পোষ্টকার্ডটি লিখে ভরে দিতে হবে । তার জন্য আমাকেও মাচার উপর তার সঙ্গে আমাকেও যুত করে বসতে হতো । </p>
<p>প্রথম প্রথম মেজদার কলমেই লিখতাম । কোনোদিন সেই কলম যদি না থাকতো বলতাম &#8211;কলম নাইগা মামী, আইজ অইতোনা । না লেখার অব্যর্থ যুক্তি । পরে দেখতাম মামী মাঝে মাঝে একটা পুরোনো রুল পেন্সিল সংগে নিয়ে আসতো । মানে কলম না থাকলে যাতে লেখা বন্ধ না হয়। </p>
<p>মামী বা ঐ বয়সী মহিলাদের তখনও ব্লাউজ পরতে দেখিনি । মামী বেশ স্থুলকায়া হওয়ার দরুন আমাদের মাচায় উঠে বসতে তার বেশ হাঁসফাঁস হতো । কিন্তু পরণের শাড়ি ঠিকঠাক করতে করতেই তিনি শুরু করে দিতেন&#8211;লেহ শিরিচরন &#8211;হে হে কিতা য্যান ক্য়&#8211;। তার বলতে বলতে বা শাড়ি ঠিক করতে করতে আমার লেখা হয়ে যেত &#8216;শ্রীচরণকমলেষু&#8221; । বেশীর ভাগ সময় তিনি তার বাবাকেই লিখতেন । লেখার বিষয় অনেক সময়ই ছিল বিনিময় প্রসঙ্গ । যাকে মামী বলতেন &#8216;এওয়াজ বদল&#8217; । প্রথম এই শব্দটা শুনে আমি লিখতে গিয়ে মামীর কাছে জানতে চেয়েছিলাম এর মানে । মামী যা বোঝালেন তাতে আমি বুঝলাম সম্পত্তি বিনিময় । আমি ঐ &#8216;এওয়াজ বদল&#8217;এর বদলে বিনিময় লিখে খুব বিপদে পড়লাম । অনেক কষ্ট করে তখন আমাকে আবার বিনিময়ের মানে বোঝাতে হলো। </p>
<p>চিঠি লেখার সময় মামী নিজের দেশী ভাষায় তার নানা আবেগপূর্ণ বক্তব্য পেশ করতেন । আমি সে গুলো নিজের মতো করে যথাসম্ভব ভাব বজায় রেখে লিখতাম । দুই লাইন লেখা হলেই তাকে পড়ে শোনাতে হতো । মাঝে মাঝে শুনে বলতেন&#8211;বাঃ বেডা ভালা লেকছ ।</p>
<p>মামীর দেখাদেখি আরো অনেক মামী জুটে গেল । কত যে কথা তাদের । দেশ ছেড়ে এসে এখনও তারা যে কত আশা বুকে ধরে রেখেছে তার শেষ নেই । মাথা গুজে আমাকে তা দিয়ে চিঠির ভাষায় নানা রচনা লিখতে হতো । </p>
<p>হরি মামার ঘরে গিয়ে এই উৎপাত আরো বেড়ে গেলো । কারণ গোপালমামার ঘর হরিমামার ঘরের সংগে লাগানো । এখানে আবার তিনি আমাকে ঘরে ডেকে নিতেন । ঘর ভর্তি একগাদা বাচ্চাকাচ্চার মধ্যে প্রায়শঃই তার অর্ধ আবৃত দেহ নিয়ে নিঃসংকোচে আমার সামনে বসে ছোট বাচ্চাটিকে বুকের দুধ খাওয়াতে খাওয়াতে চিঠির বক্তব্য পেশ করা শুরু করতেন । ফলে দেহের উপরাংশ অনাবৃতই থাকতো । ঐ বয়সে আমার ঐ দিকে তাকাতে যে লজ্জা করতো তা মামী বুঝতো বলে মনে হতো না । সবসময় তাই আমার মাথা নিচু করেই তার বাক্য শুনতে হতো । কিন্তু এ বিষয়ে তিনি ছিলেন নির্বিকার ।<br />
তখন এক কথায় চিঠি লিখতে লিখতে আমি হতাশ । ঠাম্মাকে বললে ঠাম্মা বকেন । সামান্য অক্ষর জ্ঞান আছে বলে আমার নাকি এই কাজ করা পরম কর্তব্য । কেউ কেউ আবার ডাকে আসা চিঠিখানিও হাতে করে নিয়ে আসতেন । প্রথমে সেই চিঠি পাঠ ,তারপর তার উত্তর লেখা ।</p>
<p>এইসব কারণে আশপাশে রটে গেল&#8211;ছেরাডা ভালা কইরা লেহে । তখন আমার পালানো ছাড়া পথ থাকতোনা । কিন্তু পালিয়ে কতদূর যাবো ? হঠাৎ কোনো চিঠিওলা দেখে ফেললে হয়তো বলে ফেলল&#8211;এই ছেরা বাড়িত্‌ যা ঠাউরাইনে ডাহে । অর্থাৎ ঠাম্মার কথা বললেই আমি বাড়িতে ফিরব । আর বাড়িতে ফিরলেই তাদের কাজটা হয়ে যায়।</p>
<p>এদিকে আমার পেটের অসুখ আবার ফিরে এলো । এবার খুব বাড়াবাড়ি হচ্ছে । রেশন রিলিফের আতপ চালের ভাত আমি আর খেতে পারছিনা । বমি হয় যখন তখন । আমার জন্য বাজার থেকে সামান্য সেদ্ধ চাল কিনে আনা হয়েছে । ন্যাকড়ায় বেঁধে ভাতের হাড়িতে আমার জন্য তা ফুটিয়ে নেয়া হতো । কিন্তু তাও আর হজম হচ্ছেনা ।ধীরে ধীরে পা&#8217; ফুলে যাচ্ছে । অবস্থা বিবেচনা করে ঠাম্মা মেজদাকে বললেন বড়দা কে জানাতে ।</p>
<p>আমার আর এখন কিছুই ভালো লাগেনা । হাঁটতে পারিনা বেশীক্ষণ । নিমু ডাকতে আসলে যাবনা বলি । এক সময় নিমুর সংগে জংগলে যেতে খুব ভালো লাগতো । মাঝে মাঝে স্বপ্ন দেখি গ্রামের বাড়িতেই আছি । রান্না ঘরে বসে বসে খাচ্ছি, মাঠে ঘাটে ঘুরে বেড়াচ্ছি, খেলছি । কখনো দেখি নেত্রকোনায় আছি । সেখানে ইস্কুলে যাচ্ছি । এদিকে দেখতে দেখতে আমি প্রায় শয্যাশায়ী হয়ে পড়েছি । এই সময় হরিমামার বউ একদিন ঠাম্মার সংগে আমাকে নিয়ে খুব দুর্ব্যবহার করল । তার কথা হলো এই রকম রুগী নিয়ে এখানে থাকা ঠিক হচ্ছেনা । রতু&#8217;র তো অনেক জানা শোনা ক্যাম্প অফিসে । সে কি চেষ্টা করলে একটা ঘর জোগাড় করতে পারেনা? </p>
<p>এই অশান্তির ফলে আমাদের একটা ঘর অবশ্য পাওয়া হলো । মেজদা ঠাম্মার মুখে এই ঝগড়ার কথা শুনে রাতারাতি ঘরটা আদায় করলো । পরে বোঝা গেল ঘরটা খালি ছিলো অনেকদিন । কিন্তু ভেজা কাদা আর স্যাঁত স্যাঁতে হওয়ার কারণে ওটা কেউই নিচ্ছিলনা । যাক্‌ কারোর অসুবিধা করেতো আর থাকা যায়না । আমরা ভালো ভাবে হরিমামা আর তার স্ত্রীর কাছে বিদায় নিয়ে নতুন ঘরে চলে এলাম । এবার শুধু আমরা তিনজন । </p>
<p>এইসময় একটাই সুখবর যে মেজদার ক্যাম্পের ইস্কুলে একটা চাকরি হয়ে গেল শিক্ষকের । কিন্ত আমার শরীর আর ভালো যাচ্ছেনা । ঘরের কাছেই ঘেরা দিয়ে আমার জন্য শৌচ কাজের জায়গা করে দেয়া হয়েছে । আমি আর দূরে যেতে পারিনা । ফোলা পা আর ফোলা পেট নিয়ে আমি ঘরেই থাকি । এখন অনেকেই আমাকে দেখতে আসে । তাদের মধ্যে যারা আমাকে দিয়ে তাদের চিঠি লেখাতো তারা আর চিঠি লেখার কথা বলেনা । শুধু যাওয়ার সময় মাথায় হাত বুলিয়ে চলে যায় ।</p>
<p>মেজদা এক মাসের বেতন পেল । আমার জন্য ভালো কিছু ওষুদ কিনে আনলো । আমি সে সব শুয়ে শুয়ে খাই । ঠাম্মা সারাদিন কাজকম্মের পর আমাকে নিয়েই আছে । এইসময় একদিন মেজদা ইস্কুল থেকে ফিরে এলো হাতে একখানা চিঠি । ঠাম্মাকে বলল-বড়দা লিখছে ভুনুরে শিলিগুড়ি নিয়া যাইতে । আমি বিছানা থেকে প্রায় লাফিয়ে উঠতে গেলাম । কিন্তু পারলামনা । তবু শুয়ে শুয়েই মেজদার হাত থেকে চিঠিটা নিয়ে বারবার পড়তে শুরু করলাম । আনন্দে চোখে আমার জল এসে গেলো ।</p>
<p>এর ঠিক দুই দিন পরই আমি আর মেজদা শিলিগুড়ি রওনা হয়ে গেলাম । ঠাম্মা একা থাকবে । দেশগাঁয়ের সবাইকে বলে রাখা হলো । আমার অবস্থা বিবেচনা করে সবাই মেজদাকে আশ্বস্থ করলো । ঘরে রেখে যাওয়া হলো নিমুকে ঠাম্মার দেখাশোনার জন্য ।<br />
&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;-</p>
<p>**&#8217;আঁতুড় ঘর&#8217; পর্বের লেখাটি এখানেই শেষ । এর পর &#8221;ফিরে দেখা আঁতুড় ঘর&#8217;<br />
নামে এর দ্বিতীয় পর্বটি রয়েছে। কিন্তু সেটি আপাতত থাক । এ পর্যন্ত যারা পড়েছেন, মন্তব্য করেছেন তাদের সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।</p>
<a href="http://www.addtoany.com/add_to/google_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3554&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%28%E0%A7%A8%E0%A7%A9%29%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%B7%20%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AC%20%E0%A5%A4" title="Google Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/google.png" width="16" height="16" alt="Google Bookmarks"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/orkut?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3554&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%28%E0%A7%A8%E0%A7%A9%29%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%B7%20%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AC%20%E0%A5%A4" title="Orkut" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/orkut.png" width="16" height="16" alt="Orkut"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/twitter?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3554&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%28%E0%A7%A8%E0%A7%A9%29%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%B7%20%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AC%20%E0%A5%A4" title="Twitter" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/twitter.png" width="16" height="16" alt="Twitter"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/facebook?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3554&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%28%E0%A7%A8%E0%A7%A9%29%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%B7%20%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AC%20%E0%A5%A4" title="Facebook" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/facebook.png" width="16" height="16" alt="Facebook"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/yahoo_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3554&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%28%E0%A7%A8%E0%A7%A9%29%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%B7%20%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AC%20%E0%A5%A4" title="Yahoo Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/yahoo.png" width="16" height="16" alt="Yahoo Bookmarks"/></a> <a class="a2a_dd addtoany_share_save" href="http://www.addtoany.com/share_save?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3554&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%28%E0%A7%A8%E0%A7%A9%29%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%B7%20%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AC%20%E0%A5%A4"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/share_save_120_16.png" width="120" height="16" alt="Share/Bookmark"/></a>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://coffeehouseradda.com/blog/raja1952/3554/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>5</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>আঁতুড় ঘর(২২)</title>
		<link>http://coffeehouseradda.com/blog/raja1952/3552</link>
		<comments>http://coffeehouseradda.com/blog/raja1952/3552#comments</comments>
		<pubDate>Sat, 04 Sep 2010 18:07:35 +0000</pubDate>
		<dc:creator>রাজা সরকার</dc:creator>
				<category><![CDATA[ব্লগাড্ডা]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://coffeehouseradda.com/?p=3552</guid>
		<description><![CDATA[একটা জায়গায় কয়েক হাজার মানুষ আশ্রিত । বিতাড়িত অথবা পলাতক । ভয় ত্রাস উত্তেজনা দুঃস্বপ্ন নিয়েই তাদের দিন কাটছে । তবে এই দেশে শারীরিক নিরাপত্তার আশ্বাস থাকলেও ভবিষ্যৎ বলতে কী- তা যেন নিজেকে নিজে প্রশ্ন করার মতোই ।
এর ফাঁকে দেশের কোনো খবর এলে বা দেশ থেকে নতুন কেউ এলে এই সব মানুষেরা  প্রায় ঝাঁপিয়ে [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>একটা জায়গায় কয়েক হাজার মানুষ আশ্রিত । বিতাড়িত অথবা পলাতক । ভয় ত্রাস উত্তেজনা দুঃস্বপ্ন নিয়েই তাদের দিন কাটছে । তবে এই দেশে শারীরিক নিরাপত্তার আশ্বাস থাকলেও ভবিষ্যৎ বলতে কী- তা যেন নিজেকে নিজে প্রশ্ন করার মতোই ।<br />
এর ফাঁকে দেশের কোনো খবর এলে বা দেশ থেকে নতুন কেউ এলে এই সব মানুষেরা  প্রায় ঝাঁপিয়ে পড়ে । এ এক অদ্ভুত রুটিন হয়েছে তাদের । সকাল বিকেল ক্যাম্প অফিসের সামনে গিয়ে খোঁজ খবর নেয়া । এই সময় দেশে থাকলে হয়তো তাদের সারাদিন চলতো আমন চাষের প্রস্তুতি । বা আরো কতো কিসিমের সংসারী কাজ&#8211;তার কি আর হিসেব আছে । অথচ এখানে সপ্তাহে একদিন রেশনে চাল ডাল নুন তেল কেরোসিনের বরাদ্দ তোলা ছাড়া কোনো কাজ নেই । ঘরেও জায়গা কম । তার উপর বাচ্চাকাচ্চার উৎপাত। তার চে বরং এই রুটিনই ভাল।</p>
<p>ধনী গরীব উচ্চ নিচ সবাইকে এই এক বিপর্যয় এক জায়গায় এনে দিয়েছে । এখানে উপরিতলে হয়তো এনিয়ে কোনো ভেদ নেই । কিন্তু ভেতরে ভেতরে পার্থক্যটা রয়েই গেছে । দেখে বোঝা যায় ধনীরা নিজেদের মত কিছুটা সুখ সুবিধার ব্যবস্থা করে নিয়েছে । যা সাধারণদের পক্ষে অসম্ভব । সেদিকে চোখ পড়ে আমারও তাবুবাসীদের প্রতি আকর্ষণ জন্মালো । ঘুরে ঘুরে এমন আরো কিছু তাবুবাসী চোখে পড়লো । মাঝে মাঝে সেখান থেকে বিশুদ্ধ মাছ ভাজার গন্ধ পাওয়া যায় । তারা যেন বাড়ী থেকে শিলপাটাটিও নিয়ে এসেছে । মাঝে মাঝে মসলা বাটার সুগন্ধও নাকে লাগে । তখন মনে পড়ে যায় আমাদের গ্রামের বাড়ীর রান্না ঘরের কথা । এই দুপুর বেলা মা&#8217; হয়তো সেখানে একই কাজে ব্যস্ত আছেন । শুধু আমরা ক&#8217;জন সেখানে নেই ।</p>
<p>এরই মধ্যে চলছে বিয়ে । বাদ্যকররাও দেখছি এসেছে উদ্বাষ্তু হয়ে। তারা বাজনা বাজাচ্ছে । হচ্ছে অন্নপ্রাশন । দল বেঁধে মানুষেরা নেমতন্নও খাচ্ছে । তার পাশ দিয়ে আমি হাঁটি নিঃশব্দে । এক কথায় স্বাভাবিক জীবন চালু রাখার প্রয়াস সর্বত্র । মাঝখানে আমি শুধু ছিন্ন হয়ে পড়া পাতার মতো বাতাসে ঘুরে ঘুরে বেড়াচ্ছি । সংগে কখনো ফুলদা, কখনো নিমু, বা কখনো বা একা একাই </p>
<p>এরই মধ্যে কথা অনুযায়ী ক্যাম্পে এসে দুটো চিঠি লেখা হয়েছিলো । তার মধ্যে বড়দা চিঠি পেয়ে একদিন এসে উপস্থিত । বড়দার মুখ ছোটবেলায় দেখেছিলাম । পরিষ্কার মনে ছিলনা । এখন দেখে অবাক লাগলো । ভীষণ সুন্দর ছোটখাটো চেহারা । প্যান্ট শার্ট পরা । এরকম প্যান্ট শার্ট পরা মানুষ আমি খুব বেশী দেখিনি । আমাদের চেনাজানা স্বজনরা সবাই দেখতে এলো বড়দাকে । ঘর ভর্তি মানুষের মাঝে বড়দাকে দারুন দেখাচ্ছিলো । আমার এসবে খুব আনন্দ হলো । সেদিন আমি আর ঘর থেকে বের হইনি । একসময় খাওয়া দাওয়ার পর মেজদা বড়দাকে নিয়ে ক্যাম্প ঘুরতে বের হলো । আমারও যাওয়ার ইচ্ছা ছিলো, কিন্তু আমাকে নেওয়া হয়নি । বদলে আমাকে দুআনা পয়সা দিলো বড়দা । আমি তা দিয়ে বিস্কুট খেতে বাজারে দিকে গেলাম ।</p>
<p>বড়দা দুটো রাত আমাদের ঘরে ছিলো । তার যাওয়ার দিন যেন খুব তাড়াতাড়ি চলে এলো । এরমধ্যে বড়রা পরামর্শ করে ঠিক করে ফেলেছে যে বড়দার সংগে ফুলদা চলে যাবে বড়দা যেখানে থাকে সেখানে, অর্থাৎ শিলিগুড়িতে । এটা জানতে পারার পর আমার ভীষণ দুঃখ হলো । প্রায় মন ভেংগে গেলো । অভিমানে সকাল থেকে আমি আর কারোর সংগেই কথা বলছিনা । কেউ সান্ত্বনা দিতে এলেই আমার কান্না পাচ্ছিলো । কিন্তু কিছু করার নেই । ফুলদা যাবেই । সংগে আমি যাবনা । একসময় তারা রওনা হয়েও গেল । আমি শুধু চেয়ে রইলাম । বড়দা যাওয়ার সময় আমার হাতে দুইটা টাকা দিলো । বলল-তুইও যাবি পরে । আমি বড়দার কথা মেনে ঘাড় কাৎ করলাম । কিন্তু  চেয়ে বসলাম বড়দার একটা হাল্‌কা নীল রংএর রোদচশমা । বিনা বাক্যে বড়দা সেটা আমাকে দিয়ে দিলো । </p>
<p>তারপর থেকে ক&#8217;দিন দিনরাত আমি ঐ রোদচশমা পরে থাকতাম । কিন্তু মেজদা একদিন সেটা নিয়ে নিলো । বলল&#8211;পোলাপানের চশমা বেশী পরতে নাই । চশমাটা চলে যাওয়ার পর আমার সবার উপর খুব রাগ হলো । যদিও হাফপ্যান্টের পকেটে সেই বড়দার দেয়া দুই টাকা তখনও আছে । আমি তার থেকে ঐ দিয়ে বাজার থেকে মাঝে মাঝে লজেন্স বিস্কুট খাই আর একা একা ঘুরি । খলি পা&#8217;য়েই ঘুরি । কখনো কখনো নিমুর সংগে জংগলে যাই জ্বালানী কাঠ আনতে । প্রথম প্রথম ভাবতাম এসব আমাদের ঘরেই লাগবে । কিন্তু একদিন লক্ষ্য করলাম নিমু ঐসব বাড়ীর জন্য আনেনা । বিক্রি করে দেয় ।</p>
<p>জলে জংগলে ঘুরে ঘুরে আমার হাত পা&#8217;য়ে বেশ খোস পাচরা হয়েছে । ঠাম্মা একদিন খেয়াল করে বললেন যে&#8211;এইডার পেটটাত দেহি ফোলা ফোলা লাগে । হ্যারে রতু এইডারেতো ডাক্তার দেহানোর কাম । ব্যাপারটা ঘরের সবাই খেয়াল করলো । আরো খেয়াল করলো যে আমি দিনে চার পাঁচ বার ঘর থেকে জল নিয়ে মাঠের দিকে যাই ।</p>
<p>এরমধ্যে শুরু হলো আমার হাসপাতালে যাতায়াত । দুধনৈ হাসপাতাল বেশি দূরে নয়। প্রথমে একদিন গেলাম মেজদার সংগে । পরে কয়েকবার নিমুর সংগে । প্রত্যেকবারই একটা শিশিতে লাল রংএর মিক্সার । কাগজ কেটে দাগ দিয়ে দেওয়া । আর একটুকরো কাগজে এক হাতা ঘন বেগুনি রংয়ের মন্ড জাতীয় ওষুদ । এটা চর্মরোগের জন্য । এই দুটো ওষুদ মনে হয় ক্যাম্পের সবার ঘরেই বার বার এসেছে । যাই হউক কিছুদিনের মধ্যেই আমার অসুখ সেরে গেল ।</p>
<p>আমি আবার আগের মতো টো টো করতে শুরু করেছি । ঠাম্মা বকে না । মেজদা তার মতো করে ক্যাম্প জীবনে জড়িয়ে পড়েছে । কারণ সে একজন ম্যাট্রিক পাশ যুবক । ম্যাট্রিক পাশ  ক্যাম্পে গুটি কয়েক মাত্র ।  তার উপর মেজদা দেখতেও ভালো । পরে বুঝেছি তার চুলের স্টাইল উত্তম কুমারের মতো । ফুলপ্যান্টের সামর্থ না থাকলেও সে পরে হাতা গোটানো শার্ট এবং পাজামা । তাতেই তাকে বেশ দেখায় । দিনের বেলা ক্যাম্প অফিসে সে কিছু লেখাপত্রের কাজ করে । সেখানে ক্যাম্পের একমাত্র বিএ পাশ মেয়ে হেনাও কাজ করে । তাদের দুজনকে অফিসে পাশাপাশি বসে গল্প করতেও নাকি অনেকে দেখেছে । এনিয়ে ঠাম্মার কাছে অনেকে অনেক কথাই বলেছে । তার মধ্যে কেউ কেউ মেজদাকে বিয়ে দেবার মতলবও করেছিলো । তাদের বক্তব্য যে  বিএ পাশ মেয়ে হেনার এতদিন বিয়ে না হওয়া খুব সংগত ব্যাপার নয় । তাই ঠাম্মা যদি তার নাতির ভালো চায় তবে নাতিকে যেন বিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করেন । কিন্তু  কার সংগে ? কেন ক্যাম্পে মাইয়ার অভাব ! এইডা কিতা কইন ঠাউরাইন , সৎ বংশজাত পাত্রী বললে আফনেরে অহনি কন তো দেহাইয়া দেই । </p>
<p>ঠাম্মার হয়ছে বিপদ । কাজকর্মহীন মানুষগুলোরে আর কিইবা বলা যায় । তারা এইরকম একটা বিষয় পেলে সারাদিনের খোরাক মনে করে । অবশ্য  দেখা গেছে যে অধিকাংশেরই ঘরে বিবাহযোগ্যা মেয়ে আছে । তারা আর কিইবা করতে পারে । </p>
<p>এদিকে মেজদাকে একদিন একথা বলাতে মেজদার সে কি নাটকীয় হাসি । এই হাসিতে ঘরে সবাই যেন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল ।</p>
<p>এর মধ্যে প্রায় মাস দুয়েক কাটতে চলেছে । আর এই সময়ই আমরা একটা দুর্ঘটনার সাক্ষী এবং সংগী হলাম । একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি ঘরে অনেক মানুষ । নিমুর মা&#8217; খুব কান্নাকাটি করছে । একটু আগেই নাকি বাণেশ্বর জেঠা মারা গেছেন । মাচার উপরে কোনের দিকে নির্দিষ্ট জায়গায় প্রতিদিনের মতই তিনি শায়িত । তবে আজ নাকি তার দেহে প্রাণ নেই । হিন্দুর মৃত্যু তাও ঘরের মধ্যে &#8212;এটার শাস্ত্রসম্মত বিহিত হওয়া দরকার । শোক দুঃখের মধ্যে অনেকেই অনেক কথার মধ্যে এটা জানাতে ভুলছেনা । হঠাৎ দেখলাম মেজদা বাইরের থেকে কয়েকজন যুবক সহ ঘরে ঢুকলো । উপস্থিত সবাইকে বলল &#8211;আফনেরা অহন একটুক জায়গা দেন । এই বলে তারা কয়েকজন ধরাধরি করে লাশ বাইরে এনে আগে এনে রাখা ছোট একটা মাচার উপর শুইয়ে দিলো । তারপর তারা চারজন কাধে তুলে শ্মশানের দিকে রওনা হয়ে গেল । অনেকেই তাতে অবাক বা কিছুটা রুষ্টও হলো বটে । </p>
<p>আসলে মেজদা ক্যাম্প অফিসে কাজের পাশাপাশি একটা স্বেচ্ছাসেবার সংঘও গড়ে তুলেছিলো । এরকম কাজ তারা প্রায়ই করে । তাদের কথা হলো ক্যাম্পে যাদের ঘর বলতে একটাই তাদের আবার ঘরে মরা বাইরে মরা কি । মারা গেলে দাহ করতে হবে । খরচ দেবে ক্যাম্প কর্তৃপক্ষ । তারপর কারোর সাধ্য থাকলে শ্রাদ্ধ টাদ্ধ করবে, না পারলে না করবে । দেশে যারা থাকতে পারলো না তাদের যেখানে যেমন সেখানে সে ভাবেই চলতে হবে । উপায় কি ।</p>
<p>জেঠার এই মৃত্যু আমাদের আবার ঘরছাড়া করলো । পারলৌকিক ক্রিয়াদির জন্য ঘরে জায়গার প্রয়োজন । ঐ দিনই বিকেলের দিকে আমরা আশ্রয় নিলাম গোপাল মামার শালার ঘরে । গোপাল মামা আমাদের গ্রাম প্রতিবেশী । তার সুবাদেই ঘরতা জুটলো । সেই ঘরটা একটু ভালো । শুকনো । মামার শালার নাম হরি । হরির কোনো সন্তান নেই । তারা স্বামী স্ত্রী দুজন । যোগ হলাম আমরা তিনজন । মোট পাঁচজন ।</p>
<a href="http://www.addtoany.com/add_to/google_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3552&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%28%E0%A7%A8%E0%A7%A8%29" title="Google Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/google.png" width="16" height="16" alt="Google Bookmarks"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/orkut?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3552&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%28%E0%A7%A8%E0%A7%A8%29" title="Orkut" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/orkut.png" width="16" height="16" alt="Orkut"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/twitter?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3552&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%28%E0%A7%A8%E0%A7%A8%29" title="Twitter" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/twitter.png" width="16" height="16" alt="Twitter"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/facebook?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3552&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%28%E0%A7%A8%E0%A7%A8%29" title="Facebook" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/facebook.png" width="16" height="16" alt="Facebook"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/yahoo_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3552&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%28%E0%A7%A8%E0%A7%A8%29" title="Yahoo Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/yahoo.png" width="16" height="16" alt="Yahoo Bookmarks"/></a> <a class="a2a_dd addtoany_share_save" href="http://www.addtoany.com/share_save?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3552&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%28%E0%A7%A8%E0%A7%A8%29"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/share_save_120_16.png" width="120" height="16" alt="Share/Bookmark"/></a>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://coffeehouseradda.com/blog/raja1952/3552/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>আঁতুড় ঘর (২১)</title>
		<link>http://coffeehouseradda.com/blog/raja1952/3548</link>
		<comments>http://coffeehouseradda.com/blog/raja1952/3548#comments</comments>
		<pubDate>Thu, 02 Sep 2010 17:12:25 +0000</pubDate>
		<dc:creator>রাজা সরকার</dc:creator>
				<category><![CDATA[ব্লগাড্ডা]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://coffeehouseradda.com/?p=3548</guid>
		<description><![CDATA[হ্যাঁ, নরকের কিছুটা পথই আমাদের অতিক্রম করতে হলো । জলকাদামলমূত্রআবর্জনার সংগে সহবাসরত সারি সারি ব্যারাকপূর্ণ মানুষজন পেরিয়ে আমরা একসময় পৌঁছে গেলাম বাণেশ্বের জেঠার ঘরে । দুই ছেলে নিয়ে তারাও চারজন । সংগে যোগ হলাম আমরা চারজন । মোট আটজন । একটাই ঘর । রান্নার আলাদা কোনো জায়গা নেই । ঘরেরই এক কোনে রান্নাঘর । ঘরের [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>হ্যাঁ, নরকের কিছুটা পথই আমাদের অতিক্রম করতে হলো । জলকাদামলমূত্রআবর্জনার সংগে সহবাসরত সারি সারি ব্যারাকপূর্ণ মানুষজন পেরিয়ে আমরা একসময় পৌঁছে গেলাম বাণেশ্বের জেঠার ঘরে । দুই ছেলে নিয়ে তারাও চারজন । সংগে যোগ হলাম আমরা চারজন । মোট আটজন । একটাই ঘর । রান্নার আলাদা কোনো জায়গা নেই । ঘরেরই এক কোনে রান্নাঘর । ঘরের এক দিকে প্রায় অর্ধেক ঘর নিয়ে বাঁশ দিয়ে তৈরি মাচা । যা বিছানা হিসেবে ব্যবহৃত । আমরাও ওদের সংগে ঐ মাচাতেই শোবো । ঘরের মেঝেতে এখন কাদা । বাইরের অন্যান্য গন্ধের সংগে এখন কাদা মাটির গন্ধও নাকে লাগছে । মাচার উপরে শুয়ে থাকা অসুস্থ বাণেশ্বর জেঠা কোনো মতে বিছানায় উঠে বসে হাত কপালে ঠেকিয়ে ঠাম্মাকে প্রণাম করলেন । বললেন&#8211;&#8217;আউহাইন কাহিমা &#8216;।</p>
<p>হঠাৎ হঠাৎ এই পরিবেশ বদলের চাপে আমি ভেতরে ভেতরে ভীষণ ভেঙ্গে পড়েছি । কিন্তু এখন আর কান্নাকাটি করছিনা । সবারই চোখে মুখে অসহায়তা । কান্না জানানোর মত কেউ নেই । মাচার এককোনে চুপচাপ বসে আছি আমরা ছোট দুইজন । কোনো কথা নেই আমাদের মুখে । খিদে তৃষ্ণার বোধ নেই । এদিকে খেয়াল নেই যে বেলা প্রায় দুপুর । একসময় বাণেশ্বর জেঠার ছোট ছেলে নিমু আমাদের দুজনকে ডেকে নিয়ে গেল স্নানের জন্য । স্নানের জন্য যেতে হয় কিছুটা দূরে একটা নদীতে । সময়টা গরম আর বর্ষার মাঝামাঝি । নদীর জল বেশ ঘোলা আর স্রোতও বেশ । এইসময় নাকি জলের চেহারা এমনই হয় । কোনো মতে স্নান করে বাড়ি ফেরা হলো ।</p>
<p>এদিকে ঘরে রান্না দেখছি এক সংগেই হচ্ছে । কারণ সবারই নিরামিষ । রেশনের চাল ডালেই ভরসা । বিছানায় বসে জেঠা বলছে &#8211;&#8217;বাবাদের তো খাওনের কষ্ট হবে&#8217; । কারণ বাজারে অল্প বিস্তর মাছ যা পাওয়া যায় তা একমাত্র পয়সাওলা মানুষেরাই কিনে খায় । সাধারণের পক্ষে অসম্ভব । </p>
<p>রান্নার সময়টাও চারপাশে সব গন্ধের সংগে মিশে এক অদ্ভুত গন্ধ আবহ তৈরি করে । কারণ অল্প জায়গায় অনেক অনেক রান্নাঘরের এক সাথে রান্না করার ফল । তার সাথে আছে উনানের ধূঁয়ো আর ফোঁড়নের ঝাঁঝ । </p>
<p>এই অল্প সময়ের মধ্যেই চোখে পড়লো আমাদের ঘরের মুখোমুখি কয়েকটা ছোট ছোট ত্রিপলের তাবু । মনে হলো তার একটাতে হচ্ছে রান্না । আর গুলোতে আছে মানুষ । ভেতরে অল্প অল্প দেখা যায় দড়ির খাট যাকে ক্যাম্পখাটও বলা যায় । আছে চেয়ারও বেশ কয়েকটা । তাতে ভালো পোশাক পরা ক&#8217;জন পুরুষ বসে আছে । পরে শোনা গেল ওরা নেত্রকোনার কোনো ধনী পরিবার । ওরা ব্যারাকে থাকতে রাজি হয়নি । নিজেরাই তাবু কিনে জায়গা পেয়ে বসে গেছে । সরকারের দেয়া একটা মাত্র ত্রিপল দিয়ে স্নান ঘর বানিয়েছে । বড় বড় ড্রামে তাতে জল ভরে রাখে তাদের চাকরেরা । নিমু বলছিলো পেচ্ছাব পায়খানার ব্যবস্থাও নাকি ভেতরে আছে । </p>
<p>অথচ এই কাজের জন্য আমাদের কষ্টের শেষ নেই । প্রায় আধ মাইল হাঁটতে হয় । সেই পথও নরকময় । তারপর দেখা যায় কয়েকশ ছোট ছোট ঘর তৈরি হয়েছে লম্বা এবং গভীর করে কাটা একটা নালা উপর । দেখতে বেশ মনে হলেও তা বিপজ্জনক । আমার ধারণা হয়ছিলো যে ওখানে কেউ পড়ে গেলে তার আর মরার দরকার নেই বরং তার আগেই নরকপ্রাপ্তি ঘটে যাবে । </p>
<a href="http://www.addtoany.com/add_to/google_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3548&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%20%28%E0%A7%A8%E0%A7%A7%29" title="Google Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/google.png" width="16" height="16" alt="Google Bookmarks"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/orkut?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3548&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%20%28%E0%A7%A8%E0%A7%A7%29" title="Orkut" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/orkut.png" width="16" height="16" alt="Orkut"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/twitter?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3548&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%20%28%E0%A7%A8%E0%A7%A7%29" title="Twitter" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/twitter.png" width="16" height="16" alt="Twitter"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/facebook?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3548&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%20%28%E0%A7%A8%E0%A7%A7%29" title="Facebook" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/facebook.png" width="16" height="16" alt="Facebook"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/yahoo_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3548&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%20%28%E0%A7%A8%E0%A7%A7%29" title="Yahoo Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/yahoo.png" width="16" height="16" alt="Yahoo Bookmarks"/></a> <a class="a2a_dd addtoany_share_save" href="http://www.addtoany.com/share_save?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3548&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%20%28%E0%A7%A8%E0%A7%A7%29"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/share_save_120_16.png" width="120" height="16" alt="Share/Bookmark"/></a>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://coffeehouseradda.com/blog/raja1952/3548/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>আঁতুড় ঘর (২০)</title>
		<link>http://coffeehouseradda.com/blog/raja1952/3536</link>
		<comments>http://coffeehouseradda.com/blog/raja1952/3536#comments</comments>
		<pubDate>Wed, 01 Sep 2010 08:40:22 +0000</pubDate>
		<dc:creator>রাজা সরকার</dc:creator>
				<category><![CDATA[ব্লগাড্ডা]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://coffeehouseradda.com/?p=3536</guid>
		<description><![CDATA[দুধনৈ ক্যাম্পে সকাল হয়েছে আমাদের । আমাদের সবার জন্য এই সকাল   মনে দুঃখ আর চোখে বিস্ময় মাখা এক সকাল। ঠাম্মা আর মেজদা একটু আগে উঠে থাকবে । আমার যখন ঘুম ভাঙলো দেখি আমাদের গুহার সামনে তারা দুজন চুপচাপ বসে আছে । পাশে ফুলদা তখনও ঘুমোচ্ছে ।
এদিকে আমাদের দেশগা&#8217;য়ের প্রতিবেশীরা অর্থাৎ গত রাতের আগন্তুকরা [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>দুধনৈ ক্যাম্পে সকাল হয়েছে আমাদের । আমাদের সবার জন্য এই সকাল   মনে দুঃখ আর চোখে বিস্ময় মাখা এক সকাল। ঠাম্মা আর মেজদা একটু আগে উঠে থাকবে । আমার যখন ঘুম ভাঙলো দেখি আমাদের গুহার সামনে তারা দুজন চুপচাপ বসে আছে । পাশে ফুলদা তখনও ঘুমোচ্ছে ।</p>
<p>এদিকে আমাদের দেশগা&#8217;য়ের প্রতিবেশীরা অর্থাৎ গত রাতের আগন্তুকরা দিনের বেলাতেও সমান তৎপর । বোঝা যাচ্ছে তারা বেশ সকালে এসেই হাজির হয়েছে । আমরা কোথায় যাব, কার ঘরে থাকবো তাই নিয়ে জোর কথাবার্তা চলছে । পরবর্তীতে মনে হয়েছে দেশ ছাড়া মানুষগুলোর রূপান্তর পর্ব তখনও শুরু হয়নি । তখনও তাদের গা&#8217;য়ে নিজস্ব মাটির গন্ধ কিংবা পুকুরের জল লেগে আছে যেন । তাই এই নতুন পরিবেশে একজন চেনা বয়স্কা মহিলা যিনি দেশ গাঁয়ে মাননীয়া ছিলেন, তাঁকে তো আর যাই হোক এভাবে রাখা যায়না । তার উপর এখন এই ক্যাম্পে মানুষের যা চাপ তাতে জেডাইমাদের ঘর পাইতে যে কতদিন লাগবে &#8216;কেডা জানে&#8217; । এই স্বজনবোধ তখনও জাগ্রত তাদের মনে । </p>
<p>কিন্তু এইদিকে ঠাম্মা আর মেজদা আত্মোপলব্ধির জন্য সময়  বেশী পায়নি । কারণ একদিকে হয়ে যাচ্ছে বেলা আর অন্যদিকে ধীরে ধীরে গতরাতের মানুষেরা দুএকজন করে আসতে আসতে এখন অনেকেই এসে গেছেন । </p>
<p>গুহার বাইরে বেরিয়ে ক্যাম্পের আয়তন আন্দাজ করে আমি অবাক । যেদিকে চোখ যায় শুধু ব্যারাক আর ব্যারাক । খড়ের ছাউনি । এতো দেখি ব্যারাকের সমুদ্র ! কত হাজার মানুষ যে এখানে আছে আন্দাজ করা আমার পক্ষে মনে হলো অসম্ভব । ডালু ক্যাম্প তো এর কাছে শিশু । অবশ্য পরে জেনেছি  দুধনৈ থেকে কিছু দূরে &#8216;মাটিয়া&#8217; নামে আর একটা ক্যাম্প ছিলো যা নাকি প্রায় দুটো দুধনৈ এর সমান । এতো মানুষ দেখে আমার বিহ্বলতা আর কাটছেনা । </p>
<p>দেখতে দেখতে আমাদের নিজেদের মানুষেরা এসে পড়েছে সবাই । পরিস্থিতি বুঝে ঠাম্মা এবার আর দ্বিমত করলেন না । কোনো ঘরে আমরা অতিথি না হলে আমাদের অনির্দিষ্ট কাল ত্রিপলের ছাউনি বানিয়ে তার নিচে থাকতে হবে । তালিকা অনুযায়ী কোনো পরিবার ঘর ছেড়ে দিলে তবেই আমরা ঘর পাবো । এই আশায় অনেকেই আমাদের আগে থেকেই রয়েছে । এখন কোনো ঘর নেই । ঘরের খুব অভাব । সরকার থেকে নাকি আর ঘর বানানোর ইচ্ছা নেই । সুতরাং আমরা অনেকটা নিরুপায় হয়েই আতিথ্য গ্রহণ করবো । </p>
<p>শেষপর্যন্ত ঠিক হলো বাণেশ্বর জেঠার ছেলের সংগে আমরা তাদের ঘরে যাবো । অন্য স্বজনরা তাতে খুশি মনেই সায় দিলো । হাতে হাতে খুলে ফেলা হলো ছাউনি । আমাদের একরাতের সংসার । মালপত্র ধরা ধরি করে সবাই আমাদের নিয়ে চলল ক্যাম্পের ভেতরের দিকে । কিছুটা ভেতরে ঢুকতে না ঢুকতেই আমার নাকে এসে লাগলো তীব্র আমাশার গন্ধ । সচকিত হয়ে চারপাশে তাকাতেই যা দেখলাম তাতো সাংঘাতিক । রান্নাঘরের বর্জ্য আর মানুষের বর্জ্যের স্তুপ মাঝে মাঝেই । জায়গাটা মনে হয় নিচু জলা জায়গা ছিল । তার উপর হয়তো বৃষ্টি হয়ে থাকবে তাই প্যাচ প্যাচে কাদা । অল্প জায়গায় বেশী মানুষ থাকার ফল যা হয় আর কি । বসবাসের কায়দা কৌশল তখন হয়তো এমনই জানা ছিল । লক্ষ্য করলাম ঠাম্মা মুখে আঁচল চাপা দিয়ে এগোচ্ছে। পাশাপাশি আমরা । আমরা কি কোনো নরকের দিকে এগোচ্ছি ? (চলবে)</p>
<a href="http://www.addtoany.com/add_to/google_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3536&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%20%28%E0%A7%A8%E0%A7%A6%29" title="Google Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/google.png" width="16" height="16" alt="Google Bookmarks"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/orkut?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3536&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%20%28%E0%A7%A8%E0%A7%A6%29" title="Orkut" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/orkut.png" width="16" height="16" alt="Orkut"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/twitter?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3536&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%20%28%E0%A7%A8%E0%A7%A6%29" title="Twitter" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/twitter.png" width="16" height="16" alt="Twitter"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/facebook?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3536&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%20%28%E0%A7%A8%E0%A7%A6%29" title="Facebook" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/facebook.png" width="16" height="16" alt="Facebook"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/yahoo_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3536&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%20%28%E0%A7%A8%E0%A7%A6%29" title="Yahoo Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/yahoo.png" width="16" height="16" alt="Yahoo Bookmarks"/></a> <a class="a2a_dd addtoany_share_save" href="http://www.addtoany.com/share_save?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3536&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%20%28%E0%A7%A8%E0%A7%A6%29"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/share_save_120_16.png" width="120" height="16" alt="Share/Bookmark"/></a>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://coffeehouseradda.com/blog/raja1952/3536/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>আঁতুড় ঘর(১৯)</title>
		<link>http://coffeehouseradda.com/blog/raja1952/3525</link>
		<comments>http://coffeehouseradda.com/blog/raja1952/3525#comments</comments>
		<pubDate>Tue, 31 Aug 2010 15:06:24 +0000</pubDate>
		<dc:creator>রাজা সরকার</dc:creator>
				<category><![CDATA[ব্লগাড্ডা]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://coffeehouseradda.com/?p=3525</guid>
		<description><![CDATA[কোনো মতে কাটলো রাতটা । ভয়ানক রাত । আমাকে নিয়ে হয়েছে মুষ্কিল ।  পরিবেশগত ভয়তো ছিলোই সংগে এখন আমার শুরু হয়েছে কান্নাকাটি । যেন নিশ্চিন্ত একটা পাড় ছেড়ে আমরা এখন ভাসছি এক গভীর সমুদ্রে । পারাপারহীন । মাঝে মাঝে খুব অসহায় মনে হচ্ছিলো । এই অবস্থায় কেউ আমাকে বকছেনা । শুধু সান্ত্বনা দিয়ে বলা [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>কোনো মতে কাটলো রাতটা । ভয়ানক রাত । আমাকে নিয়ে হয়েছে মুষ্কিল ।  পরিবেশগত ভয়তো ছিলোই সংগে এখন আমার শুরু হয়েছে কান্নাকাটি । যেন নিশ্চিন্ত একটা পাড় ছেড়ে আমরা এখন ভাসছি এক গভীর সমুদ্রে । পারাপারহীন । মাঝে মাঝে খুব অসহায় মনে হচ্ছিলো । এই অবস্থায় কেউ আমাকে বকছেনা । শুধু সান্ত্বনা দিয়ে বলা হচ্ছে যে আর একদুই দিনের মধ্যে আমরা ভালো জায়গায় গিয়ে উঠতে পারব । সেখানে গিয়েই দুটো চিঠি লেখা হবে । একটা বাড়িতে, আমাদের পৌঁছ সংবাদ ।আরেকটা আমার বড়দাকে ।<br />
বড়দার কথা এ পর্যন্ত বলা হয়নি । যে কয়েক বছর আগে থেকেই এই দেশে আছে । চাকুরীজীবী । ততদিনে তার নিজেরও  সংসার হয়েছে । মূলতঃ সেই আমাদের এই পারাপারহীন অবস্থার একমাত্র দিশা । পাকিস্তানের পরিস্থিতি সম্পর্কে সে নিয়মিত খোঁজখবর রাখতো । চিন্তা ছিলো আমাদের জন্য। কিন্তু বাবার মতিগতি ঠিক মনে না হওয়াতে বড়দা নাকি চিঠি লিখতো  মা&#8217;র কাছে যে তোমরা সবাই মিলে না আসতে পারলেও আপাততঃ রতু(মেজদা) রুনু(ফুলদা) ভুনু(আমি) কে পাঠিয়ে দাও ।</p>
<p>বড়দার এই আহ্বান যে ভবিষ্যতে তার পক্ষে কত গুরুভার হয়েছিলো তা আর বলার নয় । কিন্তু দায়িত্ব পালনে সে চিরকাল বাবার ভূমিকাই পালন করে গেছে । তার কথার প্রেক্ষিত যেহেতু অন্য, তাই তার কথা অন্যত্র প্রকাশের ইচ্ছা থাকলো । </p>
<p>এই ডালু ক্যাম্পে আমাদের কাটাতে হলো দুটো রাত । আবার একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে আমরা অপেক্ষমান ট্রাকের উপর উঠে বসলাম । এবার বড় ট্রাক । ট্রাকের সংখ্যাও বেশী । যথারীতি পুলিশ স্বেচ্ছাসেবকদের তত্বাবধান । ভাষা তাদের বেশ দুর্বোধ্য । তবে তার জন্য কোনো খারাপ ব্যবহার চোখে পড়েনি । সকালের জলখাবারের জন্য আবার এক প্রস্থ চিঁড়েগুড়ের রেশন দেয়া হলো । তার কিছুটা খেয়ে কিছুটা সংগে নিয়ে নেয়া হলো । এবং প্রচুর জল খেয়ে ওঠা হলো ট্রাকে । অতঃপর গুটিসুটি মেরে ঠাম্মার গা&#8217; ঘেঁসে আমরা তিন ভাই বসে পড়লাম । মেজদা দেখলাম এবার বেশ খুশি । কারণ কাগজ পত্রের সব কাজ ঠিক মতো হয়েছে । এগুলোই নাকি সব আমাদের পক্ষে খুব জরুরী । আরো জানা গেলো যে আজ আমরা সারাদিন ধরে চলতে থাকবো । গন্তব্যে পৌঁছুতে যেতে হবে অনেক পথ ।</p>
<p>ডালু থেকে কয়েক ঘন্টা চলার পর আমরা এক জায়গায় থামলাম । এতক্ষণ সমতলে চললেও এবার আবার শুরু হয়েছে পাহাড় । আর পাহাড় মানেই বমির কথা মনে পড়ে গেল । মনে হওয়াতে আমি ফুলদাকেও(আমার উপরের দাদা,যাকে এখন থেকে &#8216;ফুলদা&#8217;বলবো।) সেটা মনে করিয়ে দিলাম । সে বেচারী এমনিতেই মন খারাপ করে বসে ছিলো । আমার কথা শুনে গেল রেগে। ঠাম্মা মাঝে থাকাতে আমাদের রুটিন ঝগড়াটা আর হয়নি ।</p>
<p>এই জায়গাটার নাম &#8216;তুরা&#8217; । ভীষণ সুন্দর ছবির মতো শহর । পাহাড়ের উপর এমন সাজানো শহর দেখে চোখ জুড়িয়ে গেল । ছোটবেলা দূর থেকে পাহাড় দেখে দেখে যেমন স্বপ্ন তৈরী হয়েছিল তা যেন অনেকটাই পূরণ হয়ে গেল । কিন্তু আমাদের ট্রাকগুলো যেন তাতে খুব খাপছাড়া মনে হতে লাগলো । হয়তোবা আমরাও । জীর্ণ,শীর্ণ,অভুক্ত,অর্ধভুক্ত একদল মানুষের মত জীব&#8212;আমরা চলেছি, কেন চলেছি,ঠিক কোথায় চলেছি&#8212;কী আছে ভাগ্যে তার কিছুই আমারা জানিনা।</p>
<p>এখানকার মানুষজনও দেখতে বেশ । প্রকৃতির সংগে মানানসই । শুধু ভাষাটা অজানা ।<br />
আমরা অবশ্য বেশী সময় থাকিনি । এবার রওনা হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখলাম আমরা নিচে নামছি । ক্রমশঃ পাহাড় ছাড়িয়ে আবার সমতল । যথারীতি এই দীর্ঘ যাত্রার ধকল সইতে না পেরে আমি আবারও ঘুমিয়ে পড়লাম । এবং যখন জাগলাম তখন দেখি রাত । একটা খোলা মাঠে আমাদের ট্রাকগুলো থেমে আছে । যেখানে আলো অন্ধকারের মধ্যে অন্ধকারের পরিমানই বেশি মনে হলো । মনে হলো যেন এক বিশাল বাজার । চারপাশে জ্বলছে অসংখ্য লন্ঠন  । তার মধ্যে চলছে অসংখ্য মানুষের চলাচল । কিছুই বুঝতে পারছিনা । পোটলাপুটলি নিয়ে নিচে নেমে আমরা তিনজন দাঁড়িয়েই আছি । মেজদা আবার একপ্রস্থ অফিসের কাজ করতে গেলো । সেখানে লম্বা লাইন । সেখান আবার রাতের রেশন তোলার লাইন । এরমধ্যে একফাঁকে মেজদা এসে কিছু জিনিষ রেখে আবার গেল ত্রিপল আনতে । একসময় দেখা গেল শুধু ত্রিপল না সংগে দুটো বাঁশ নিয়ে মেজদা এবং আরো দুজন লোক এসে হাজির । এই আধো অন্ধকারে লোকদুটি ঠাম্মাকে প্রণাম করলো এবং বলল যে আমি গোপালের শালা আর এ অইলো বাণেশ্বরের বড় ছেরা । ব্যস্‌ বলার সংগে সংগেই খুব উচ্ছ্বসিত আলাপ শুরু হয়ে গেল । আমরা ছোট দুজন হা করে সেইসব আলাপ শুনছি । চারদিকের ভীড় দেখছি । এটাই &#8216;দুধনৈ&#8217; ক্যাম্প । আসামের গোয়ালপাড়া জেলার একটি জায়গা । উদ্বাস্তুদের আপাততঃ স্থায়ী নিবাস ।</p>
<p>এরমধ্যেই আমাদের ঘিরে একটা ছোট মতো জটলা তৈরী হয়ে গেল । কেউ ঠাম্মাকে ডাকছে &#8216;ঠাম্মা&#8217; &#8216;জেডাইমা, ঠাউরাইন ইত্যাদি । কেউ কেউ বলছে &#8211;&#8217;আরে না না ব্যাডা এইতা কিতা কও &#8211;এইহানে জেডাইমারে রাহন যায় নাহি &#8211;লওহাইন আমরার ঘরে&#8212;&#8217;। কেউ বলছে &#8211;&#8217;থও ফালাইয়া তিরপল, এইতার মইধ্যে থাহন কিবায়&#8211;লও লও &#8216;।</p>
<p>বোঝা যাচ্ছিলো আমাদের ওদিককার বাস্তুচ্যুত বা দেশবাড়িছাড়াদের স্রোত এই দিকেই আসছে । ঠাম্মা বেশ ঠান্ডা মাথাতেই সবাইকে নিরস্ত্র করলেন একে একে । কথা দিলেন যে কাল সকালে যাহোক কিছু করা যাবে ।</p>
<p>এই কথোপকথনে আমার মনে আশা জেগেছিলো যে আমাদের হয়তো রাতটা ত্রিপলের তলায় থাকতে হবেনা । কিন্তু ঠাম্মার শেষ কথার উপর কেউ আর কিছু না বলাতে মনটা দমে গেল । তবে আগন্তুকরা সবাই হাতে কাজে লেগে পড়লো আমাদের ত্রিপল টানাতে । কোনো মতে সেটা একটা গুহার মতো হয়েও গেল । </p>
<p>অতঃপর একে একে সবাই চলেও গেলো । রাতে আর রান্নার বালাই নেই । রাতও অনেক হয়েছে । আমরা জল দিয়ে চিঁড়ে গুড় খেয়ে গুহার ভেতর পাতা খড়ের উপর শুয়ে পড়লাম । মনে মনে পরের দিনের সকালটার কথা ভাবতে ভাবতে আমি ঘুমিয়েও পড়লাম ।<br />
(চলবে)</p>
<a href="http://www.addtoany.com/add_to/google_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3525&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%28%E0%A7%A7%E0%A7%AF%29" title="Google Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/google.png" width="16" height="16" alt="Google Bookmarks"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/orkut?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3525&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%28%E0%A7%A7%E0%A7%AF%29" title="Orkut" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/orkut.png" width="16" height="16" alt="Orkut"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/twitter?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3525&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%28%E0%A7%A7%E0%A7%AF%29" title="Twitter" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/twitter.png" width="16" height="16" alt="Twitter"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/facebook?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3525&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%28%E0%A7%A7%E0%A7%AF%29" title="Facebook" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/facebook.png" width="16" height="16" alt="Facebook"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/yahoo_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3525&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%28%E0%A7%A7%E0%A7%AF%29" title="Yahoo Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/yahoo.png" width="16" height="16" alt="Yahoo Bookmarks"/></a> <a class="a2a_dd addtoany_share_save" href="http://www.addtoany.com/share_save?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3525&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%28%E0%A7%A7%E0%A7%AF%29"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/share_save_120_16.png" width="120" height="16" alt="Share/Bookmark"/></a>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://coffeehouseradda.com/blog/raja1952/3525/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>1</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>আঁতুড় ঘর(১৮)</title>
		<link>http://coffeehouseradda.com/blog/raja1952/3504</link>
		<comments>http://coffeehouseradda.com/blog/raja1952/3504#comments</comments>
		<pubDate>Sat, 28 Aug 2010 01:59:53 +0000</pubDate>
		<dc:creator>রাজা সরকার</dc:creator>
				<category><![CDATA[ব্লগাড্ডা]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://coffeehouseradda.com/?p=3504</guid>
		<description><![CDATA[এবারের পথ মনে হচ্ছে সমতলের । পাহাড় নেই এখন । রোদের তাপ তেমন নেই । ঠাম্মার কোলে মাথা দিয়ে একসময় ঘুমিয়ে পড়লাম । পরে শুনেছি প্রথমে আমি বটে তবে একসময় নাকি ট্রাকের সকলেই ঘুমোচ্ছিলো । কতক্ষণ কেটেছে জানিনা । যখন ঘুম ভাঙলো তখন দেখি সন্ধ্যা । থেমে আছে ট্রাক । সবাই নামছে । আমরাও নামলাম [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>এবারের পথ মনে হচ্ছে সমতলের । পাহাড় নেই এখন । রোদের তাপ তেমন নেই । ঠাম্মার কোলে মাথা দিয়ে একসময় ঘুমিয়ে পড়লাম । পরে শুনেছি প্রথমে আমি বটে তবে একসময় নাকি ট্রাকের সকলেই ঘুমোচ্ছিলো । কতক্ষণ কেটেছে জানিনা । যখন ঘুম ভাঙলো তখন দেখি সন্ধ্যা । থেমে আছে ট্রাক । সবাই নামছে । আমরাও নামলাম । জায়গাটার নাম &#8216;ডালু&#8217; । ডালু একটা ট্র্যানজিট ক্যাম্প । আমাদের রাতের আবাস । পরপর পাঁচটি ট্রাক থামলো । সবাই ক্যাম্প অফিসে নাম লিখিয়ে সেদিন রাতের মতো রেশন নিলো । অফিস থেকে বলা হলো যে পুরো ক্যাম্প ফাঁকা । যার যেখানে খুশি থাকতে পারো । </p>
<p>ক্যাম্প বলতে এখানে বিশাল এক খোলা মাঠের মধ্যে অনেকগুলো খড়ের ছাউনি দেয়া ব্যারাক । তার মধ্যে ভাগ ভাগ করে এক এক পরিবারের জন্য এক একটি ভাগ চাটাইয়ের বেড়া দিয়ে আলাদা করা । আমরা তার একটার মধ্যে ঢুকে পড়লাম । আমাদের দু&#8217;পাশে নেই কেউ । তবে জল আর আলোর ব্যবস্থা মোটেও ভালো ছিলোনা । তবু যেন বেশ ভালো লাগলো । কারণ ভীড় নেই । এতবড় ক্যাম্পে পাঁচ ট্রাক মানুষ কিছুই না । ঘর অন্ধকার । বাইরে উনান বানিয়ে ঠাম্মা রান্না করা শুরু করে দিলেন । মেজদা এদিক ওদিক গেছে তখন । আমরা দুজন ঠাম্মার আশে পাশে ঘুর ঘুর করছি । ঘরে ঢোকার সাহস নেই । কেননা ঘর অন্ধকার । বাইরের আলোতেই ঠাম্মা অনেক কষ্টে ডাল ভাত রান্না করলেন । কিন্তু অনেক সময় নিয়েও দেখা গেল যে ডালটা একদম সেদ্ধ হয়নি । রিলিফের ডাল চাল নাকি এরকমই হয় । তবু প্রচন্ড ক্ষিদের মুখে তৃপ্তি করেই সব খেয়ে নিলাম । খাওয়া দাওয়া সব শেষ করে আমরা যখন অন্ধকার ঘরে ঢুকতে যাচ্ছি, হঠাৎ শোনা গেল অনেক মানুষের একটা চীৎকার । চারদিকে ভয়ে ভয়ে তাকাতে হঠাৎই দেখা গেল কিছুটা দূরে একটা আগুনের লেলিহান শিখা জ্বলছে । কোথাও আগুন লেগেছে । আগুন দেখে মেজদা সেদিকে দৌড় দিল । আমরা হঠাৎ খুব ভয় পেয়ে ঠাম্মাকে জড়িয়ে ধরে দাঁড়িয়ে পড়েছি । টের পাচ্ছি মাঝে মাঝে কাঁপছি । </p>
<p>হঠাৎ খুব অসহায় মনে হলো । চকিতে একবার মনে পড়লো মা&#8217;র কথা ।  আমরা যূথবদ্ধ তিনজন আর ঘরে না ঢুকে বাইরেই দাঁড়িয়ে আছি । মাঝে মাঝে আগুনের শিখার আলো আমাদের চোখ মুখ দৃশ্যমান করে তুলছিলো । অপেক্ষা চলছে মেজদা কখন ফিরে আসবে । আমরা নিশ্চিন্ত হবো আর শুনবো আসল খবরটা কী । </p>
<p>বেশী দেরী না করে মেজদা ফিরে এলো । বলল যে আগুন আয়ত্বে । দেখা গেল ব্যারাকের উপর দিয়ে তখনও প্রচুর ধূঁয়ো আকাশে উঠছে । জানা গেল শনের ঘরে রান্না করতে গিয়ে লেগে গেছে । কেউ হতাহত হয়নি । যাক্‌ বাঁচা গেল ।<br />
(চলবে)</p>
<a href="http://www.addtoany.com/add_to/google_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3504&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%28%E0%A7%A7%E0%A7%AE%29" title="Google Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/google.png" width="16" height="16" alt="Google Bookmarks"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/orkut?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3504&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%28%E0%A7%A7%E0%A7%AE%29" title="Orkut" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/orkut.png" width="16" height="16" alt="Orkut"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/twitter?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3504&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%28%E0%A7%A7%E0%A7%AE%29" title="Twitter" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/twitter.png" width="16" height="16" alt="Twitter"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/facebook?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3504&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%28%E0%A7%A7%E0%A7%AE%29" title="Facebook" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/facebook.png" width="16" height="16" alt="Facebook"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/yahoo_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3504&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%28%E0%A7%A7%E0%A7%AE%29" title="Yahoo Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/yahoo.png" width="16" height="16" alt="Yahoo Bookmarks"/></a> <a class="a2a_dd addtoany_share_save" href="http://www.addtoany.com/share_save?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3504&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%28%E0%A7%A7%E0%A7%AE%29"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/share_save_120_16.png" width="120" height="16" alt="Share/Bookmark"/></a>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://coffeehouseradda.com/blog/raja1952/3504/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>আঁতুড় ঘর(১৭)</title>
		<link>http://coffeehouseradda.com/blog/raja1952/3501</link>
		<comments>http://coffeehouseradda.com/blog/raja1952/3501#comments</comments>
		<pubDate>Fri, 27 Aug 2010 16:32:50 +0000</pubDate>
		<dc:creator>রাজা সরকার</dc:creator>
				<category><![CDATA[ব্লগাড্ডা]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://coffeehouseradda.com/?p=3501</guid>
		<description><![CDATA[বাঘমারার অস্থায়ী ক্যাম্পে আমাদের দিন কাটছে । আমি মোটামুটি আশপাশটা জেনে গিয়েছি । রোদের মধ্যে আমরা ছোট দুই ভাই এদিক ওদিক টো টো করি । ঠাম্মা মোটামুটি সঙ্গী অনেক পেয়ে গেছেন । তারা সব আমাদের আশপাশের অঞ্চল থেকে আসা । রোদের মধ্যে ঘুরে ঘুরে আমরা নানা অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হচ্ছি । প্রায় প্রতিদিনই যেহেতু মানুষ আসছে [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>বাঘমারার অস্থায়ী ক্যাম্পে আমাদের দিন কাটছে । আমি মোটামুটি আশপাশটা জেনে গিয়েছি । রোদের মধ্যে আমরা ছোট দুই ভাই এদিক ওদিক টো টো করি । ঠাম্মা মোটামুটি সঙ্গী অনেক পেয়ে গেছেন । তারা সব আমাদের আশপাশের অঞ্চল থেকে আসা । রোদের মধ্যে ঘুরে ঘুরে আমরা নানা অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হচ্ছি । প্রায় প্রতিদিনই যেহেতু মানুষ আসছে এই পাহাড়ী জায়গায় তাই স্থান সংকুলান একটা বড় ব্যাপার । যেখানে সেখানে মানুষ ত্রিপল টানিয়ে ঘর বানিয়েছে । তার মধ্যে হঠাৎ যেমন কোনো সদ্যজাতের কান্না শোনা যায় তেমনি কারোর মৃত্যুর কারণ বা পারিবারিক বিপর্যয়ের কারণেও শোনা যায় কান্না । অর্থাৎ সারাদিনই প্রায় একটা কান্নার রোল কানে বাজতে থাকে । আর আশ্চর্যের ব্যাপার যে কখনো রাত বিরেতে শোনা যেত কোনো বিয়ের বাজনা উলু । অর্থাৎ জীবন যেন কোনো অবস্থাতেই থেমে থাকেনা । কিন্তু সর্বোপরি সবচেয়ে অসুবিধে হলো পানীয় জল এবং প্রাকৃতিক কাজ কর্মের । </p>
<p>সারাদিন টো টো করে ঘোরার পর খাওয়ার সময় ঠাম্মার কাছে সারাদিনের দেখাশোনা ঘটনার বর্ণনা চলে কিছুক্ষণ । মেজদাও নানা খবর আনে । সে সবের মধ্যে একদিন একটা খবর শুনে আমরা অবাক । আগামীকাল সকালে নাকি আমরা আরেক জায়গায় রওনা হবো । যার জন্য রাতের মধ্যেই সব গোছগাছ করে নিতে হবে । আমার ধারণা ছিলো যে এটাই আমাদের ইন্ডিয়ায় আসা । এখানেই কোথাও আমরা থেকে যাবো । কিন্তু এখন এই খবর শুনে আমার সাংঘাতিক আনন্দ হলো । কারণ ইতিমধ্যে বাঘমারার অবস্থা দেখে আমি বেশ দমে গিয়েছিলাম ।</p>
<p>পরদিন সকালে দেখলাম ছোট মতো কয়েকটা ট্রাক আমাদের ছাউনির কাছে এসে দাঁড়ালো । তারমধ্যে কয়েকটাতে লোকজন ইতিমধ্যেই উঠে পড়েছে । পুলিশ এবং স্বেচ্ছাসেবকরা হাতে নাম লেখা খাতা নিয়ে সবাইকে এক এক করে ট্রাকে তুলছে । একসময় আমরাও উঠে পড়লাম । খোলা ট্রাক । মাথায় প্রচন্ড রোদ নিয়ে গাদাগাদি করে কোনো মতে বসে পড়লাম । একসময় ট্রাক চলতেও শুরু করলো । পাহাড়ী রাস্তা । প্রথম প্রথম বেশ ভয় করছিলো । পাকদন্ডী বেয়ে ট্রাক ক্রমশঃ উপরের দিকে উঠতে লাগলো ।ঠান্ডা ঠান্ডা ভাব ।<br />
এরমধ্যে শুরু হলো আরেক বিপদ । ট্রাক যাত্রীদের মধ্যে অনেকেই বমি করতে শুরু করলো । একসময় দেখলাম আমার উপরের দাদাও কিছুটা বমি করে ফেলল । সে নিয়ে এক হুলুস্থুল অবস্থা । বমির গন্ধে একসময় আমারও বমির ভাব হলো । কিন্তু কপাল ভালো আমার বমি হয়নি । এভাবেই প্রায় ঘন্টা দুই চলার পর বিশ্রামের জন্য ট্রাক এক জায়গায় থামলো । জায়গাটা বোঝা গেল মিলিটারিদের । গাঢ সবুজ উর্দি পরা মিলিটারি সব ঘোরাঘুরি করছে । আমাদের একবার নাম ধরে ধরে মিলিয়ে নিল কয়েকজন পুলিশ । এরমধ্যেই সংগে যার যা খাবার ছিলো খেতে শুরু করলো । ভালো পানীয় জল পাওয়া গেল । অনেকেই প্রাকৃতিক কাজও এই সুযোগে সেরে নিলো । এককথায় বেশ ফ্রেশ হয়ে আবার ওঠা হলো ট্রাকে ।<br />
(চলব)</p>
<a href="http://www.addtoany.com/add_to/google_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3501&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%28%E0%A7%A7%E0%A7%AD%29" title="Google Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/google.png" width="16" height="16" alt="Google Bookmarks"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/orkut?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3501&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%28%E0%A7%A7%E0%A7%AD%29" title="Orkut" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/orkut.png" width="16" height="16" alt="Orkut"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/twitter?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3501&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%28%E0%A7%A7%E0%A7%AD%29" title="Twitter" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/twitter.png" width="16" height="16" alt="Twitter"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/facebook?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3501&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%28%E0%A7%A7%E0%A7%AD%29" title="Facebook" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/facebook.png" width="16" height="16" alt="Facebook"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/yahoo_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3501&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%28%E0%A7%A7%E0%A7%AD%29" title="Yahoo Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/yahoo.png" width="16" height="16" alt="Yahoo Bookmarks"/></a> <a class="a2a_dd addtoany_share_save" href="http://www.addtoany.com/share_save?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3501&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%28%E0%A7%A7%E0%A7%AD%29"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/share_save_120_16.png" width="120" height="16" alt="Share/Bookmark"/></a>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://coffeehouseradda.com/blog/raja1952/3501/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>আঁতুড় ঘর(১৬)</title>
		<link>http://coffeehouseradda.com/blog/raja1952/3495</link>
		<comments>http://coffeehouseradda.com/blog/raja1952/3495#comments</comments>
		<pubDate>Thu, 26 Aug 2010 09:34:22 +0000</pubDate>
		<dc:creator>রাজা সরকার</dc:creator>
				<category><![CDATA[ব্লগাড্ডা]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://coffeehouseradda.com/?p=3495</guid>
		<description><![CDATA[ক্ষেতের আল থেকে পড়ে গিয়ে ঠাম্মা সেই যে চোট পেলেন আর তা যে কতখানি গভীর ছিলো তা আমরা তখন আন্দাজ করতে পারিনি । বোঝা গিয়েছিলো কিছুদিন পর । অবশ্য তখন ঐ সময় ঠাম্মা কাউকেই খুব একটা বিপদে ফেলেননি । আমাদের সংগে সমান তালেই হাঁটছিলেন । 
খুব ফিকে হয়ে আসছিলো চাঁদের আলো । তার মধ্যেই আমরা [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>ক্ষেতের আল থেকে পড়ে গিয়ে ঠাম্মা সেই যে চোট পেলেন আর তা যে কতখানি গভীর ছিলো তা আমরা তখন আন্দাজ করতে পারিনি । বোঝা গিয়েছিলো কিছুদিন পর । অবশ্য তখন ঐ সময় ঠাম্মা কাউকেই খুব একটা বিপদে ফেলেননি । আমাদের সংগে সমান তালেই হাঁটছিলেন । </p>
<p>খুব ফিকে হয়ে আসছিলো চাঁদের আলো । তার মধ্যেই আমরা আল বেয়ে একটা শস্যপ্রান্তর অতিক্রম করছি । সামনের দিকে তাকানোর ফুরসৎ হয়নি এতক্ষণ । এখন হঠাৎই মনে হলো সামনে আকাশ ঢেকে দাঁড়িয়ে আছে অন্ধকার পাহাড় । এটাই গারো পাহাড় । তার পাদ দেশে এতক্ষণ পর আমরা এসে দাঁড়িয়েছি । সবাই একটা জায়গায় এসে থেমেছি । সংগের তিন যুবক এতক্ষণ পর কথা বলল । একজন বলল&#8211;আফনেরা আইয়া পরছেন&#8212;এই যে পিলারটা দেখতাছেন এইডার ঐ পাড়ডা পাকিস্তান আর এইডা এই পাড়ডা হিন্দুস্তান । আমরা অহন হিন্দুস্তানে দাড়ায়াছি । আমরার কাম শ্যাষ ।<br />
একটু তফাৎএ মেজদা অন্য দুইজনের সংগে কথাবার্তা বলছিল । একসময় ঠিক হলো যে ওরা আমাদের আরো কিছুটা এগিয়ে দেবে । কারণ এখান থেকে পাহাড়ের পথ শুরু হবে । তারা আমাদের সেই পথটা ধরিয়ে দেবে । সেই পথ ধরে কিছুটা গেলে আমাদের বাকি রাতের আশ্রয় জুটবে । সেইমত আমাদের চলা শুরুও হলো ।</p>
<p>যে পাহাড় এতদিন বাড়ির উত্তরে দিকের মাঠে দাঁড়ালে দেখা যেতো নীল রংয়ের তা এখন আমার চোখের সামনে । শেষরাতের কালো নিঃঝুম অন্ধকারে , প্রায় আকাশ ঢাকা উচ্চতা । যেন আমাদের সবার উপর তার ভয়ংকর ছায়া । ভয়ভয় করলেও পাহাড়ি পথটার মুখে এসে কতক্ষণে সেই পথ ধরে উপরে উঠবো ভেবেই অস্থির লাগছে । ইতিমধ্যে সীমানা পার হয়ে যাওয়াতে পুলিশ আনসারের ভয়টাও আর নেই।</p>
<p>একসময় আবার আমরা থামলাম । তিন যুবক আমাদের কাছ থেকে বিদায় নিল । বলল যে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তারা আর এগোতে পারছেনা । কারণ তাদের আবার পাকিস্তান অংশে ফিরতে হবে । ভোরের আলো ফোটার আগেই তাদের নির্দিষ্ট আশ্রয়ে পৌঁছুতে হবে । না হলে তাদেরও বিপদ । </p>
<p>যাওয়ার আগে তারা বিশদভবে মেজদাকে বুঝিয়ে দিয়ে গেল । কিছুদূর এগোনোর পর কোন্‌ বাড়িতে আমরা কী নামে বাড়িওলাকে ডাকবো । ডাকলে সে উঠে আসবে । এসব আগেই ঠিক করা আছে ।<br />
কিছুক্ষণ হাঁটার পর কথামত পাহাড়ের উপর একটা বাড়ির সামনে এসে দাঁড়ালাম । গাছপালায় প্রায় ঢাকা । পাহাড়ী বাড়ি, খুঁটির উপর বসানো । অনেকক্ষণ ডাকাডাকির পর একজন বুড়োমতো মানুষ বেড়ার দরজা সরিয়ে মুখ দেখাল । জানতে চাইলো ক&#8217;জন । শুনে আবার দরজাটা বন্ধ করে দিলো । আরো খানিক ক্ষণ পর পাশের অন্য একটা ঘরের একইরকম দরজা খুলে গেল । দেখা গেলো সেই বৃদ্ধ ঘর থেকে একটা বাঁশের মই নামাচ্ছে ।  মইটা নামিয়ে হাতের ইশারায় দেখিয়ে দিলো উঠে আসতে । আমরা এক এক করে উঠে গেলাম ।  যাওয়ার সময় বৃদ্ধ ইশারায় বলে গেল যে কাজ হয়ে গেলে মইটা তুলে রাখতে । আর বলল বাতি জ্বালানো চলবেনা একদম । </p>
<p>বেশ বড় ঘর । বাঁশের চাটাইয়ের উপর খড় বিছানো । চারপাশে ফাঁক ফোকর দিয়ে বেশ হাওয়া । কিছু সময় জিরিয়ে মা&#8217;র দেওয়া চিঁড়ের পোটলা খুলে খাওয়া হলো । কিন্ত জল ? বুড়োটা থাকতে থাকতে জানা হয়নি । এখন উপায় ? শুকনো খাবার মুখে দিয়েই বেশ সমস্যা হলো । শেষে ঠাম্মাকে রেখে আমরা তিন ভাই নিচে নামলাম । এদিক ওদিক তাকিয়ে একটা ঝোরার মতো জলের জায়গা দেখতে পেলাম । হাতে করে আনা পাত্রে সেই জল ভরে নিলাম । নিজেরা আঁজলা ভরে খেয়েও নিলাম খানিকটা ।  আবার মই বেয়ে উপরে উঠলাম । উঠে মইটা কথামত টেনে উপরে তুলে নিলাম । </p>
<p>খড়ের শয্যায় শুয়ে ঘুম আসতে দেরী হলোনা । রাত বোধ হয় সামান্যই বাকি ছিলো । মনে হলো ঘুমোতে না ঘুমোতেই ঠাম্মার ডাকে ঘুম ভেঙ্গে গেল । চেয়ে দেখি চার পাশে ঘন সবুজের সমারোহ । আমরা একটা পাহাড়ের গা&#8217;য়ে  রয়েছি । এটা ইন্ডিয়া । মানে হিন্দুস্থান । এতক্ষণে বিশ্বাস হলো আমরা হিন্দুস্থানে এসে গেছি । একেকটা ঘরের সামনে সামনে একেকটা মই লাগানো । লক্ষ্য করলাম আমাদের মতো আরো অনেক মানুষ একইরকম বাড়িগুলোতে আশ্রয় নিয়েছিলো । তারাও আমাদের মতোই বেরিয়ে আসতে লাগলো  বাড়িগুলো থেকে । এটা একটা গারো গ্রাম । এরা এই পাহাড়ের মানুষ । শুনেছি এরা খুব সৎ । রাতের আশ্রয়ের জন্য এরা খুবই বিশ্বাসযোগ্য ছিলো ।<br />
ক্রমে পাহাড়ি পথে  দীর্ঘ লাইন হয়ে গেল আমাদের । এবার আমরা চলেছি ইন্ডিয়ার আরো ভেতরের দিকে ।</p>
<p>প্রায় দুপুর পর্যন্ত হেঁটে আমরা একটা নদীর কিনারায় এলাম । নদীর ওপাড়ে জায়গাটার নাম বাঘমারা । ফেরীতে করে নদীটা পার হলাম । ওপাড়ে নেমে প্রথমে যে দৃশ্যটা চোখে পড়লো তা হলো প্রায় কয়েকশ মানুষ সেখানে, যারা আমাদের মতোই দেশ ছেড়ে এসেছে । ইন্ডিয়ার পুলিশ, স্বেচ্ছাসেবক ছেলেমেয়েরা আমাদের বারবার নির্দেশ দিচ্ছিলো এদিকে যাও , ওদিকে যাও । </p>
<p>প্রায় উদ্‌ভ্রান্তের মতো একবার এদিক একবার ওদিক করতে করতে আমরা এক জায়গায় নাম নথিভুক্ত করাতে পারলাম । বিনিময়ে আমাদের চাল ডাল নুন তেল এবং সামান্য জ্বালানি দিলো । কিন্তু রান্নার পাত্র ? মেজদা গিয়ে পাশের এক বাজার থেকে তাও কিনে আনলো । ঠাম্মা একটা টিনের চাতালের তলায় আরো অনেকের মতোই রান্না বসিয়ে দিলেন । পেটে তখন ভীষণ ক্ষিদে । আমরা তিন ভাই ঠাম্মাকে ঘিরে বসে পড়লাম&#8212;কখন ভাত ফুটবে ।</p>
<a href="http://www.addtoany.com/add_to/google_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3495&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%28%E0%A7%A7%E0%A7%AC%29" title="Google Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/google.png" width="16" height="16" alt="Google Bookmarks"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/orkut?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3495&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%28%E0%A7%A7%E0%A7%AC%29" title="Orkut" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/orkut.png" width="16" height="16" alt="Orkut"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/twitter?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3495&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%28%E0%A7%A7%E0%A7%AC%29" title="Twitter" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/twitter.png" width="16" height="16" alt="Twitter"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/facebook?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3495&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%28%E0%A7%A7%E0%A7%AC%29" title="Facebook" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/facebook.png" width="16" height="16" alt="Facebook"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/yahoo_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3495&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%28%E0%A7%A7%E0%A7%AC%29" title="Yahoo Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/yahoo.png" width="16" height="16" alt="Yahoo Bookmarks"/></a> <a class="a2a_dd addtoany_share_save" href="http://www.addtoany.com/share_save?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3495&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%28%E0%A7%A7%E0%A7%AC%29"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/share_save_120_16.png" width="120" height="16" alt="Share/Bookmark"/></a>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://coffeehouseradda.com/blog/raja1952/3495/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>আঁতুড় ঘর(১৫)</title>
		<link>http://coffeehouseradda.com/blog/raja1952/3465</link>
		<comments>http://coffeehouseradda.com/blog/raja1952/3465#comments</comments>
		<pubDate>Sat, 21 Aug 2010 16:48:53 +0000</pubDate>
		<dc:creator>রাজা সরকার</dc:creator>
				<category><![CDATA[ব্লগাড্ডা]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://coffeehouseradda.com/?p=3465</guid>
		<description><![CDATA[পরদিন দুপুরে খাওয়া দাওয়ার পর আমরা চার জন বাড়ির সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে রওনা হলাম সুসংগ দুর্গাপুরের উদ্দেশ্যে । এই দু&#8217;তিন দিনে আমরা বেশ আপন হয়ে গিয়েছিলাম । ফলে বিদায়ের সময় সকলেরই ভেজা চোখ । দাদুর বাড়িটা সোমেশ্বরীর পাড় থেকে বেশী দূর নয় । আমরা হাঁটতে হাঁটতে আবার সোমেশ্বরীর পাড়ে এসে উত্তর দিকে হাঁটতে [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>পরদিন দুপুরে খাওয়া দাওয়ার পর আমরা চার জন বাড়ির সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে রওনা হলাম সুসংগ দুর্গাপুরের উদ্দেশ্যে । এই দু&#8217;তিন দিনে আমরা বেশ আপন হয়ে গিয়েছিলাম । ফলে বিদায়ের সময় সকলেরই ভেজা চোখ । দাদুর বাড়িটা সোমেশ্বরীর পাড় থেকে বেশী দূর নয় । আমরা হাঁটতে হাঁটতে আবার সোমেশ্বরীর পাড়ে এসে উত্তর দিকে হাঁটতে শুরু করলাম । এবারও দূরত্বের সংগে মেপে দেয়া হয়েছে সময় । হিসেব মত আমরা সুসংগ দুর্গাপুর শহরে যখন ঢুকবো তখন সন্ধ্যা সন্ধ্যা হওয়া চাই । । না বেশী আলো না বেশী অন্ধকার । অর্থাৎ যখন মানুষ ঘরে ফেরে । কারণ আমরা যে পথে যাবো সে পথের থেকে খানিক দূরে রয়েছে থানা । এই থানার আন্‌সাররা নাকি কুখ্যাত ।<br />
আমাদের যাওয়ার পথের সংগে সেই থানা একটা পথ দিয়ে যুক্ত । থানার বারান্দায় কেউ দাঁড়ালে আমাদের লক্ষ্য করতে পারবে । অবশ্য যদি সেটা দিনের বেলা হয় । আমাদের সুবিধে এটাই যে শহরে বিজলী বাতি তখনও আসেনি । এই সুযোগ ছাড়া আর কোনো উপায় নেই । ফলে ঝুঁকি থাকলেও ঐ পথ দিয়েই আমাদের যেতে হবে ।<br />
আমরা ছায়ান্ধকারের সুযোগে অঞ্চলটি পারও হয়ে গেলাম নির্বিঘ্নে ।<br />
আর এই পার হওয়ার পর কথা অনুযায়ী আমাদের সংগে দালালের সাক্ষাৎ হবে । নির্দেশ ছিলো দেখা না হওয়া পর্যন্ত যেন আমরা একই পথ ধরে সোজা হাঁটতে থাকি ।<br />
একসময় টের পাওয়া গেল আমরা অনেকটাই হেঁটে ফেলেছি । কিন্তু কোথায় কে ? অন্ধকার নেমে গেছে বেশ । বোঝা যাচ্ছিলো দু&#8217;জন ছায়ার মত মানুষ কিছুটা পেছনে আসছে । আমরা বেশ ভয়জর্জর হয়ে পড়েছি । মেজদা আর ঠাম্মা ঘন ঘন নিচু গলায় কথা বলছে । হাঁটা আমরা থামাইনি । দেখা যাচ্ছে আমরা প্রায় শহরের বাইরে দিকে চলে এসেছি । ফলে আমরা ছাড়া সব কেমন শুনশান । এখন পেছনের ছায়া মানুষ দুটোকেও আর দেখা যাচ্ছেনা ।<br />
অবশ্য আমাদের খুব বেশি ভয় পেতে হয়নি । তার আগেই একজন লোক এসে মেজদার কাছে নিচু গলায় কিছু বলল । তারপর পথের পাশেই একটা ঘরে আমাদের ঢুকিয়ে বাইরে থেকে শিকল তুলে লোকটা চলে গেল ।বলে গেল রাত ঠিক বারটায় আসবে সে ।<br />
ঘরটা পুরোপুরি অন্ধকার । হাতড়ে হাতড়ে একটা বিছানার মতো পাওয়া গেলো । আমরা ছোট দুই ভাই বিছানা পেয়ে প্রায় শুয়ে পড়লাম । ভয় আর ক্লান্তিতে আমরা জল আর চিঁড়ে খেলাম । সংগে একটা করে মা&#8217;র হাতের বানানো নাড়ু । মেজদা আর ঠাম্মার কথা খুব নিচু গলায় চলছে মাঝে মাঝে । নির্দেশ ছিলো বাইরে থেকে কেউ যাতে টের না পায় ঘরে মানুষ আছে ।<br />
কখন ঘুমিয়ে পড়েছি টের পাইনি । একসময় ঠাম্মার ঠেলাঠেলিতে ঘুম ভাঙলো । তারপর খুব কম সময়ের মধ্যে আমরা বেড়িয়ে পড়লাম ঘর ছেড়ে । হাল্‌কা চাঁদের আলো আছে । আছে আকাশে মেঘও । এবার আমাদের সংগে পরিস্কার দেখতে পেলাম তিনজন যুবক । মনে হলো মেজদার চেয়েও  বড় তারা । আমরা চলতে শুরু করলাম । শুনশান গ্রাম । ঝিঁ ঝিঁ পোকার একটানা ডাক । মাঝে মাঝে ঘুমন্ত মানুষের কাশি বা হঠাৎ কোনো শিশুর জেগে উঠার কান্না । মাঝে মাঝে শস্যক্ষেতের চরাচর । মাঝে মাঝে আবার কোনো গ্রাম ।<br />
এভাবেই চলছিলো হাঁটা । ভাবছিলাম কষ্ট হলেও গন্তব্যে পৌঁছুতে বোধ হয় দেরী হবেনা । গারো পাহাড় যখন দিনের বেলা এত কাছে দেখা গিয়েছিলো তা হলে পৌঁছুতে আর কতক্ষণ !<br />
বেশ নিশ্চিন্তে হাঁটার মধ্যে একটু খানি যেন ছেদ পড়লো । একটা হুইসেল বাজার আওয়াজ । একটু বিরতি দিয়ে আবার । এবার পরপর । তিনযুবক সহ আমরা থামতে থামতে এগোচ্ছিলাম । কিন্তু এবার পরপর হুইসেল শোনাতে দুইজন নিমেষে কোথায় যেন মিলিয়ে গেল । বাকি একজন আমাদের নিয়ে ঢুকে গেল একটি বাড়ির উঠোনে । ইতিমধ্যে দূরের কুকুরের আওয়াজ শোনা যাচ্ছিলো । কিন্তু এবার বাড়িটির উঠোনে আমরা যেইনা পা&#8217; রাখলাম অমনি প্রায় বাঘের আকৃতির তিন চারটে কুকুর গর্জন করে আমাদের ঘিরে ধরলো । কুকুরের আওয়াজ শুনে গৃহকর্তারও সাড়া পাওয়া যাচ্ছিলো । যুবকটি আর কিছু না করে আমাদের টানতে টানতে ঘরের পেছনে নিয়ে গিয়ে বসিয়ে দিলো । আর প্রায় সংগে সংগেই হুইশেল বাজাতে বাজাতে একটা দল বাড়িটির সামনের রাস্তায় এসে পড়লো । কুকুরগুলো প্রাণপণে সেদিকে ছুটে গেল । আমরা কিছুটা নিস্তার পেলাম । এদিকে গৃহকর্তা দরজা খুলে বাইরে বেরিয়ে বোধহয় পুলিশ বুঝতে পেরে আবার ঢুকে গেল ঘরে । বেশ কিছুক্ষণ চুপচাপ কেটে যাওয়ার পর আমাদের বের করে এনে প্রায় দৌড়ে কিছুটা যায়গা পার করাল ।  তখনও দূরে শোনা যাচ্ছে কুকুরের গর্জন ।<br />
এবার আমরা এসে পড়লাম শস্যক্ষেতের এক প্রান্তরে । কিছুটা উঁচু উঁচু আল । মনে হলো আগের দিন বৃষ্টি হয়েছে । বেশ পিচ্ছিল । ভাবতে ভাবতেই হঠাৎ দেখলাম ঠাম্মা গেল পড়ে । আল থেকে নিচে । সবাই মিলে নিঃশব্দে ধরাধরি করে তোলা হলো । বোঝা গেলো লেগেছে বেশ । কিন্তু থামার উপায় নেই । যুবকদের একজন বলল &#8211;ঠাকুরমা আর বেশী নাই । একটু কষ্ট করেন । (চলবে)</p>
<a href="http://www.addtoany.com/add_to/google_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3465&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%28%E0%A7%A7%E0%A7%AB%29" title="Google Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/google.png" width="16" height="16" alt="Google Bookmarks"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/orkut?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3465&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%28%E0%A7%A7%E0%A7%AB%29" title="Orkut" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/orkut.png" width="16" height="16" alt="Orkut"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/twitter?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3465&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%28%E0%A7%A7%E0%A7%AB%29" title="Twitter" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/twitter.png" width="16" height="16" alt="Twitter"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/facebook?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3465&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%28%E0%A7%A7%E0%A7%AB%29" title="Facebook" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/facebook.png" width="16" height="16" alt="Facebook"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/yahoo_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3465&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%28%E0%A7%A7%E0%A7%AB%29" title="Yahoo Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/yahoo.png" width="16" height="16" alt="Yahoo Bookmarks"/></a> <a class="a2a_dd addtoany_share_save" href="http://www.addtoany.com/share_save?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3465&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%28%E0%A7%A7%E0%A7%AB%29"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/share_save_120_16.png" width="120" height="16" alt="Share/Bookmark"/></a>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://coffeehouseradda.com/blog/raja1952/3465/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>2</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>আঁতুড় ঘর(১৪)</title>
		<link>http://coffeehouseradda.com/blog/raja1952/3460</link>
		<comments>http://coffeehouseradda.com/blog/raja1952/3460#comments</comments>
		<pubDate>Fri, 20 Aug 2010 15:59:07 +0000</pubDate>
		<dc:creator>রাজা সরকার</dc:creator>
				<category><![CDATA[ব্লগাড্ডা]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://coffeehouseradda.com/?p=3460</guid>
		<description><![CDATA[ভাটি অঞ্চলের সন্তান আমি, নদী নালা খাল বিল দেখার অভ্যেস আছে । ফলে কিছুক্ষণ আগেই যখন সোমেশ্বরী নদীর দেখা পাওয়া গেল তখন অবাক হইনি । অবাক হয়েছি সামনের দিকে এগিয়ে আসা ঘন সবুজ গারো পাহাড়ের আকার দেখে । এই পাহাড় আমাদের বাড়ির উত্তরের দিকে আকাশ পরিষ্কার থাকলে দেখা যেতো। দেখতে ছিলো নীল । কিন্তু সারাদিন [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>ভাটি অঞ্চলের সন্তান আমি, নদী নালা খাল বিল দেখার অভ্যেস আছে । ফলে কিছুক্ষণ আগেই যখন সোমেশ্বরী নদীর দেখা পাওয়া গেল তখন অবাক হইনি । অবাক হয়েছি সামনের দিকে এগিয়ে আসা ঘন সবুজ গারো পাহাড়ের আকার দেখে । এই পাহাড় আমাদের বাড়ির উত্তরের দিকে আকাশ পরিষ্কার থাকলে দেখা যেতো। দেখতে ছিলো নীল । কিন্তু সারাদিন হেঁটে হেঁটে আমরা কখন যেন তার খুব কাছে চলে এসেছি । যেন আর একটু এগোলেই ছোঁয়া যাবে । কিন্তু না ছোঁয়া যাচ্ছেনা । এদিকে সোমেশ্বরীর অন্য পারে সূর্য ডুবে যায় যায় । রাতের আশ্রয় আর কতদূর ?<br />
সন্ধ্যা পার হয়ে অন্ধকার নামতে শুরু করেছে । ঘরে ঘরে সাঁঝ বাতির আলো দেখা যাচ্ছে ।<br />
তার মধ্যে আমরা  অবশেষে একটা বাড়ির দোর গোড়ায় পৌঁছলাম । বাড়ির কর্তা মানে আমার দাদু আমাদের আন্তরিক ভাবেই গ্রহন করলেন । মৃদু হ্যারিকেনের আলোতে সবাই সবাইকে দেখলাম । এক প্রস্থ কুশল বিনিময় চলল । তারপর একসময় যথারীতি দেশ, দেশের পরিস্থিতি ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গেল । আমার পক্ষে তার সবটাই যে বোধগম্য হচ্ছিল তা নয় । তবে আমাদের বাড়ির শোনা সেইসব আলোচনার সুত্র ধরে বুঝতে পারছিলাম যে পরিস্থিতি মোটেই সুবিধের নয় । শুধু ভয় আর ভয়&#8211;একসময় তা আর আমার ভালোও লাগছিল না ।<br />
এরমধ্যে যা জানা গেল তা হল এই দাদু আমাদের এক জ্ঞাতি কাকার শ্বশুর । তার দুই মেয়ে । এক মেয়ে আমার কাকীমা । বাড়িতে আছে আর এক মেয়ে । বিবাহযোগ্যা । দাদু এতদ্‌ঞ্চলে নামকরা মানুষ । জমিজমা আছে বেশ । তার উপর তিনি সুসংগ দুর্গাপুর কোর্টের মোক্তার । আর আমরাও ঐ সুসংগ দুর্গাপুর দিয়েই বর্ডার পার হবো । এ ব্যাপারে দাদু যা ব্যবস্থা করার করবেন । আমাদের সেই সুত্রেই তাঁর আতিথ্য নেয়া । এতক্ষণে বোঝা গেল এসব পরিকল্পনা আমাদের বাড়িতে বসেই করা হয়েছে ।<br />
কথাবার্তার মধ্যেই একসময় কাকীমার বোন, যাকে আমরা মাসী ডাকবো, এসে আমাদের ছোট দুই ভাইকে ডেকে ভেতরের ঘরে নিয়ে গেল । হাত পা ধোয়ার জন্য জল দিল । বলল &#8211;তুমরা আর ঐসব শুইন্যা কী করবা । চাইরডা খাইয়া লও । অনেক পথ হাটছ ।<br />
এই মাসীর চেহারা দেখে মনে হলো অবিকল কাকীমার মত । হঠাৎ দেখলে ভুল হতে পারে । আমি কথাটা বলেই ফেললাম । কথাটা শুনে হাসতে হাসতে মাসী আবার দিদিমাকে বলল, দিদিমা হয়ে কথাটা দাদুর ঘরে আলোচনাতেও ঢুকে পড়লো । কথাটা কেন্দ্র করে সবাই যেন একটু স্নায়ুপীড়ন থেকে মুক্ত হওয়ার চেষ্টা করলো । বেশ হাসাহাসি হলো ।<br />
দিদিমা অসুস্থ থাকার কারণে এই মাসীই ঘরের সব কাজ করে । আমরা আসাতে তার কাজ গেল বেড়ে । ঠাম্মা আছে তাই আমিষ নিরামিষ দুরকম রান্নাই করতে হলো । এতে অনেক পরিশ্রম । ফলে পরদিন ঠাম্মা প্রায় জোর করে নিজের রান্নার কাজ নিজের হাতে নিয়ে নিলেন । নানা কাজের ব্যস্ততার মধ্যেও আমি সারাক্ষণ মাসীর সংগে সংগে আছি । আছি নানা প্রশ্ন নিয়ে । মাসীরও উত্তর দিতে কার্পণ্য নেই । এদিকে দুদিন হয়ে গেল আমাদের যাওয়ার ব্যবস্থা হলোনা । আমার খুব মন খারাপ । ফলে প্রশ্ন গেল কমে । বুঝতে পেরে মাসী বলল&#8211;বাবাঃ যাওয়ার লাইগ্যা এত মন খারাপ&#8211;পরে যহন মায়ের লাইগ্যা কান্‌বা&#8211;তহন কিন্তু চাইলেও আসতে পারতানা ।<br />
বিষয়টা আমি সত্যি এভাবে ভেবে দেখিনি । ফলে মন খারাপের মাত্রাটা বেশ বেড়ে গেল ।<br />
এদিকে তিনদিনের দিন দেখি মেজদাও দাদুর সংগে সকালের দিকে সুসংগ দূর্গাপুর রওনা হলো । কারণ শোনা গেল দালাল ঠিক হয়ে গেছে । এখন দরকার তার সংগে পরিচয় । মেজদা যেহেতু আমাদের দায়িত্বে আছে তাই তার সংগেই পরিচয় হওয়া দরকার । সদ্য মেট্রিক পাশ যুবক মেজদা সেই দায়িত্ব পালন করতে রওনা হয়ে গেল ।<br />
তার পর পরই একসময় মাসী আমাকে ডেকে বলল&#8211; কাইলই তুমরার যাওন । ঐ পাহাড়টা দেখছনা ঐডা পার হওন লাগবো । কী পারবা&#8217;ত ? আমি আস্তে আস্তে বললাম &#8216;পারব&#8217; ।(চলবে)</p>
<a href="http://www.addtoany.com/add_to/google_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3460&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%28%E0%A7%A7%E0%A7%AA%29" title="Google Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/google.png" width="16" height="16" alt="Google Bookmarks"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/orkut?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3460&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%28%E0%A7%A7%E0%A7%AA%29" title="Orkut" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/orkut.png" width="16" height="16" alt="Orkut"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/twitter?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3460&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%28%E0%A7%A7%E0%A7%AA%29" title="Twitter" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/twitter.png" width="16" height="16" alt="Twitter"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/facebook?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3460&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%28%E0%A7%A7%E0%A7%AA%29" title="Facebook" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/facebook.png" width="16" height="16" alt="Facebook"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/yahoo_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3460&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%28%E0%A7%A7%E0%A7%AA%29" title="Yahoo Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/yahoo.png" width="16" height="16" alt="Yahoo Bookmarks"/></a> <a class="a2a_dd addtoany_share_save" href="http://www.addtoany.com/share_save?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3460&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%28%E0%A7%A7%E0%A7%AA%29"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/share_save_120_16.png" width="120" height="16" alt="Share/Bookmark"/></a>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://coffeehouseradda.com/blog/raja1952/3460/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
	</channel>
</rss>
