﻿<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>কফি হাউসের আড্ডা &#187; সুশান্ত</title>
	<atom:link href="http://coffeehouseradda.com/blog/author/sushanta40/feed" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>http://coffeehouseradda.com</link>
	<description>বাঙালীর ব্লগ-আড্ডা</description>
	<lastBuildDate>Wed, 08 Sep 2010 06:29:35 +0000</lastBuildDate>
	<generator>http://wordpress.org/?v=2.8.4</generator>
	<language>en</language>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>1</sy:updateFrequency>
			<item>
		<title>অসমে রাষ্ট্রীয় নাগরিক পঞ্জি: সন্দেহ আর শংকা</title>
		<link>http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/3507</link>
		<comments>http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/3507#comments</comments>
		<pubDate>Sun, 29 Aug 2010 18:40:24 +0000</pubDate>
		<dc:creator>সুশান্ত</dc:creator>
				<category><![CDATA[অনুবাদ]]></category>
		<category><![CDATA[প্রবন্ধ]]></category>
		<category><![CDATA[রাজনীতি]]></category>
		<category><![CDATA[সমসাময়িক]]></category>
		<category><![CDATA[সমাজ]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://coffeehouseradda.com/?p=3507</guid>
		<description><![CDATA[<a href=http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/3507><img src=http://coffeehouseradda.com/files/2010/08/324367_f520.jpg class=imgtfe hspace=5 align=left width=100  border=0></a>                                        মূল অসমিয়া আব্দুল সালাম * 
          [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>      <a href="http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/3507/324367_f520" rel="attachment wp-att-3508"><img src="http://coffeehouseradda.com/files/2010/08/324367_f520.jpg" alt="324367_f520" width="520" height="759" class="alignleft size-full wp-image-3508" /></a>                                  মূল অসমিয়া আব্দুল সালাম * </p>
<p>                   ছ’বছরের ভূমিকম্পের শেষ ধাক্কাটিও ১৯৮৫ র ১৫ আগষ্টে সম্পাদিত অসম চুক্তির সঙ্গে সঙ্গে থেমে গেছিল। অসমের মানুষ ধীরে ধীরে অনুভব করলেন বিদেশি সমস্যা আর বিদেশি খেদা আন্দোলনের  প্রকৃত চরিত্র। সাম্প্রদায়িকতা আর উগ্র জাতীয়তাবাদের থেকে জন্ম নেয়া ফ্যাসিজমের ধার কমতে শুরু করল, কিন্তু তাতে খুশি  নয় সংঘ পরিবার, রাজনৈতিক দল বিজেপি আর তাদের সমভাবাপন্ন দলগুলো ।</p>
<p>                 অসমে পূর্ববঙ্গীয় মূলের যেসব মুসলমানদের বৃটিশ তার ঔপনিবেশিক  স্বার্থেই আমদানি করে এনে বন-জংগল, নদী পাড়ের চরাঞ্চল আর অনুর্বর জমিতে বসিয়েছিল, সেই সব মানুষকেই আবারো শত্রু এবং বৃহৎ বাংলাদেশ বা ইসলামিস্তান সৃষ্টির ষড়যন্ত্রকারী বলে চিহ্নিত করে অহরহ তাদের বিরুদ্ধে চক্রান্ত আরম্ভ হয়েছিল, সেই ষাটের দশকের থেকে। আগেকার অসম আন্দোলনের নেতৃত্ব প্রকৃত সত্য অনুধাবন করে এখন মৌনতা অবলম্বন করে বসে আছে, কিন্তু সাম্প্রদায়িক সাম্প্রদায়িক মনের অনেকে আইনের সাহায্যে হবে না জেনে মুসলমানদের ‘হাতে বা ভাতে’ মারবার জন্যে সভা-সমিতিতে প্রকাশ্যে আহ্বান জানাতে  শুরু করল।<br />
দরিদ্র নিরালম্ব মুসলমানেরা ঠেলা রিক্সা চালিয়ে, হোটেলের থালা বাসন ধুয়ে, নালা নর্দমা পরিষ্কার করে, বছরের হিসেবে চুক্তিতে হাল বেয়ে বা দিন মজুরি করে কোনোক্রমে পেটেভাতে টিকে ছিল। এদেরই কাউকে কাউকে উজান অসম বা অরুণাচলের মতো জায়গা থেকে তাড়িয়ে দিয়ে ভাতে মারবার ব্যাবস্থা হয়েছিল।  এই মুসলমানদের কেউ না ছিল  বিদেশি  না বাংলাদেশি। তারা ছিল ব্রহ্মপুত্রের ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্থ এবং নৃগোষ্ঠিগত সাফাই অভিযানের (এথনিক ক্লিনজিঙে)  বলি ভারতীয় নাগরিক। এমন অমানবিক আর বেআইনি কাজকর্ম দেখেও এমনিতে যারা মানবাধিকার, আইনের শাসন, সংবিধানের কথা বলে কথার খৈ ফোটান তাদের মুখ রইল বন্ধ হয়ে।বৃহৎ অসমিয়া জাতির স্বার্থে কলম ধরে যারা বৌদ্ধিক নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন তাদেরকে কলম রইল বন্ধ হয়ে। যাদেরকে হৃদয়বান এবং অসমের চিন্তানায়ক বলে শ্রদ্ধা করা হয় তারাও রইলেন মৌন। ‘মৌনেনঃ সম্মতি লক্ষনম’। বেঁচে থাকবার দুর্বার  প্রবৃত্তিতে সেই সব শ্রমজীবী মানুষগুলো বৌ বাচ্চাকে লালন পালন করতে ভারতের নানা প্রদেশে দৌড়ে গেল। বিজেপি, শিবসেনা আর অন্যান্য উগ্রহিন্দুত্ববাদি সংগঠনগুলো সেখান থেকেও এই ভারতীয় মুসলমানদের তাড়িয়ে দিল। মহাপুরুষ শংকর দেবের অসাম্প্রদায়িক দর্শনের প্রচার করতে ব্যস্ত অসমের এক সংবাদপত্র এই দুর্ভাগা মুসলমানদের ‘বিষ্ঠা’ বলে ঘৃণাভরা লেখা ছাপালো। এমন কুকর্ম চলছেই , বন্ধ হয় নি।</p>
<p>        <a href="http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/3507/2938640884_66f189ffe5_o" rel="attachment wp-att-3509"><img src="http://coffeehouseradda.com/files/2010/08/2938640884_66f189ffe5_o.jpg" alt="2938640884_66f189ffe5_o" width="640" height="480" class="alignleft size-full wp-image-3509" /></a>         পূর্ববঙ্গীয় মূলের মুসলমানের ধর্মনিরপেক্ষতার মুখোস পরা কিছু সংগঠন আর হিন্দুত্ববাদি নেতা সংগঠনের আগ্রাসী কাজ কর্মে শংকিত হয়ে পড়ল। ধর্মনিরপেক্ষতা আর অসম –অসমিয়াদের স্বার্থে নিত্য মুখর সারা অসম ছাত্র সংস্থাকেও এমন অমানবিক কাজের বিরোধীতা করতে কখনো দেখাতো যায়ই নি, উল্টে দেখা গেল সমর্থন দিতে ।  এই ‘মিঞারা’ হয়ে গেলেন ‘বাংলাদেশি-ইসলামিস্তানের সৈনিক’ , ট্রেডমার্কধারী সফট টার্গেট। দুর্ভাগা এই মানুষগুলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার হিটলারের অধীনের দেশগুলোর ইহুদি এবং বিশ শতকের ষাটের দশক অব্দি আমেরিকার নিগ্রোদের মতো সমস্ত ক্ষেত্রে বৈষম্য, বঞ্চনা আর লাঞ্ছিত মানুষের মতো জীবন কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন। এদের মধ্যের কিছু মানুষ&#8211; যারা মন্ত্রী, এম এল এ, আধিকারিক ইত্যাদি হতে পেরেছেন তাদের অবস্থা জার্মান নাজি কনসেন্ট্রেশন কেম্পের ‘কাপো’ দের থেকে ভালো কিছু নয়। </p>
<p>                         এতো কিছুর পরেও এই মানুষগুলো ঘোর অন্ধকারের পরে আলোর জন্যে  বড় আগ্রহে পথ চেয়ে রইল। অসমে যে সমস্ত পূর্ববঙ্গ মূলের মুসলমান রয়েছেন তারা  সেই বৃটিশ যাদের পাঁচ টাকার ‘রেলওয়ে ফেমিলি টিকিটে’ পূববাংলা থেকে অসমে এনে বি-ফর্মে ( B-form) জমি আবন্টন দিয়ে বসিয়েছিল তাদের তৃতীয় পুরুষ বা বংশধর। এই মানুষগুলোকেই ভোতার লিস্টে নামভর্তীর জন্যে বারে বারে সরকারী আধিকারিকদের সামনে  লাইন দিতে হলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, ন্যায়ালয়ের বিচারকের পরিবারের লোক, উকিল কিম্বা সরকারী কর্মচারীরাও রেহাই পেলেন না। ঠিক ইহুদি আর নিগ্রোদের মতৈ ডানদিকে পুরুষেরা আর মহিলারা বাঁদিকে।</p>
<p>                     উপযুক্ত নথিপত্র পরীক্ষার শেষে ভোটার লিস্ট তৈরি হলো, ছাত্র সংস্থা নারাজ। অভিযোগ উঠল লাখো লাখো বাংলাদেশির নাম ঢুকেছে। কোনো প্রাথমিক অনুসন্ধান না করেই প্রায় তিন লক্ষ পঞ্চাশ হাজার নাগরিকের নামের পাশে সন্দেহজনক ভোটারের ( D-voter) ছাপ মেরে দেয়া হলো। মা-বাবা নয়, সন্তান হলো ডি-ভোটার। দাদা ভারতীয় নাগরিক , ছোট ভাই বোন হলো ডি-ভোটার।  সমকালীন রাজনৈতিক পরিবেশে বৈষম্যের নজির বিহীন ব্যবস্থাতে কিছু সংখ্যালঘু মানুষকে মানসিকভাবে পঙ্গু করে ফেলা হলো। পৃথিবীর আর কোনো দেশে কি কেউ শুনেছে এমন অদ্ভূৎ ব্যবস্থার কথা? </p>
<p>                        অসমে যে সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় নাগরিক পঞ্জি প্রস্তুতির ( উন্নীতকরণ) প্রকল্পকে এই পরিপ্রেক্ষিতে বিচার করতে হবে। অসমে এন আর সি প্রস্তুত করা হচ্ছে না , হচ্ছে নবীকরণ । ভিত্তি হবে ১৯৫১ সনের  নাগরিক পঞ্জি । অসম চুক্তির কোন দফাতেই বা ১৯৫১ সনের নাগরিক পঞ্জিকে ভিত্তি ধরার দলিল করা হয়েছে? এখন সেই অসম্পূর্ণ নাগরিক পঞ্জিকে ভিত্তির দলিল করা হলো কেন, সেইটেই লাখ টাকার প্রশ্ন।  কে দেবে তার উত্তর? কারই বা গরজ পড়েছে ! সমস্ত ষড়যন্ত্রের আঁচ পেয়েও ১৯৫১কে ভিত্তি বর্ষ ধরাতে কাউকে দেখা গেল না প্রতিবাদ করতে । সবাই যেন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন। অসম চুক্তিতে যদিও ১৯৭১এর ২৮ মার্চের মাঝরাত অব্দি সময়কে নাগরিকত্বের ভিত্তি বছর ধরা হয়েছে, কার্যতঃ এখন ১৯৫১ সনকেই ভিত্তি বছর ধরা হলো। কারণ সরকার নিবন্ধনের জন্যে যে সব দরখাস্তের ফর্ম বিতরণ করেছে তার ১২ নং ঘরটিতে ১৯৫১ সনের নাগরিক পঞ্জির ক্রমিক নম্বর আর গৃহ সংখ্যা লেখাটা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর পরেই শুধু ১৯৭১, ১৯৬১ এবং তার আগের ভোটার তালিকার তথ্য দিয়ে ফর্মখানা ভরাতে হবে। এভাবেই বরপেটা আর ছয়গাঁও রাজস্ব চক্রে পরীক্ষামূলক প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। যঢ়যন্ত্র দিয়ে কত মানুষকে রাষ্ট্রহীন করা যায় তার পরীক্ষামূলক প্রকল্প।</p>
<p>                  উপরে উল্লেখিত দুটো রাজস্ব চক্রের মুসলমানেরা ১৯৫১ সনের নাগরিক পঞ্জিকে মূল প্রামাণ্য দলিল হিসেবে ঘোষণা করাতে কোনো আপত্তি করেন নি। এ নিয়ে তারা চিন্তিত নন। স্বাধীনতার আগে থেকে তাদের পূর্বপুরুষেরা এই এলাকাতে বাস করে আসছেন । তার নথিপত্র তাদের রয়েওছে।  তারা আশা করছেন রাষ্ট্রীয় নাগরিকপঞ্জিতে নাম নিবন্ধন করে ফটো পরিচয় পত্র পেয়ে গেলে এতো দিন ধরে তারা যে দুর্ভোগ ভোগে আসছেন তার অন্ত হবে। ফুরোবে যত সন্দেহ সংশয় ইত্যাদি। স্বাধীন নাগরিকের মতো থাকতে পারবেন ভারতের সর্বত্র।</p>
<p>                      কিন্তু,নাগরিকপঞ্জির ফর্ম , ১৯৫১সনের রাষ্ট্রীয় নাগরিকপঞ্জি আর ১৯৭১, ১৯৬১ সনের ভোটার তালিকা দেখে তাদের চোখ কপালে উঠবার জোগাড়। এদের মনে এক সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে, ভাবতে বাধ্য হয়েছে কোথাও একটা ষঢ়যন্ত্র হচ্ছে এই মানুষগুলোকে রাষ্ট্রহীন করবার। সাধারণ মুসলমানেরা এটা ভাবতে বাধ্য হলেন যে যে কাজটি ট্রাইবুনেল আর ন্যায়ালয় দিয়ে করা যায় নি, সেই কাজটিই এবারে সহজেই নাগরিকপঞ্জি দিয়ে করতে চাইছে স্বার্থান্বেষী মহল। </p>
<p>                 অসমের মুখ্য সচিব ২০০৫ সনের মে মাসে অনুষ্ঠিত ত্রিপাক্ষিক সভার পর নাগরিকপঞ্জি উন্নয়নের জন্যে যে কার্যপ্রণালী হাতে নিয়েছিলেন তাতে স্পষ্টভাবেই স্বীকার করেছিলেন যে অসমে বহু জেলাতেই ১৯৫১ সনের নাগরিক পঞ্জি এবং ১৯৬৬-৭১ ভোটার তালিকা আংশিকভাবেই আছে। জনগণ তাদের অসুবিধের কথা বিবেচনা করে নাগরিকত্বের দাবি সাব্যস্ত করতে যাতে অসুবিধে নাহয় তার জন্যে কেন্দ্রীয় সরকারকে বিকল্প গ্রহণযোগ্য নথির এক তালিকা তৈরি করবার দায়িত্ব দিয়েছিল। বিকল্প নথির তালিকা তৈরি করবার জন্যে কেন্দ্রীয় সরকারের পিল্লাই মশাই সময় করে উঠতে পারেন নি, এরই মধ্যে দরখাস্ত পেশ করবার শেষ তারিখ  ১০ আগষ্ট দোরগড়াতে এসে পৌঁছে যায়।</p>
<p>               পুনর্মূদ্রিত এন আর সি আর ভোটার তালিকাগুলোতে এমন কিছু ভুল থেকে গেছে যে গুলোকে সবাই  উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আর ষঢ়যন্ত্রমূলক বলে  ভাবতে বাধ্য হচ্ছেন। সাধারণ মানুষ নানা সময়ে নানা প্রয়োজনে বরপেটা পুলিশ অধীক্ষক এবং জেলা নির্বাচন আধিকারিকের থেকে ১৯৫১ সনের নাগরিকপঞ্জি আর ১৯৬৬-৭১ সনের ভোটার তালিকার কপি সংগ্রহ করেছিল। বর্তমানের জেলা নিবন্ধক ( জেলা শাসক) সেগুলোকে যখন আবার ছেপে প্রকাশ করেছেন তখন দেখা গেল তাতে সেই সব মানুষের নাম নেই। তার উপর আগেই সংগ্রহ করা এন আর সি-র  প্রতিলিপিতে  যার ক্রমিক নম্বর ছিল ৩৭৮, এখন প্রকাশ করা প্রতিলিপিতে তার ক্রমিক নম্বর হচ্ছে ১৭৮। মাঝের দুশো নম্বর গেল কৈ ? কতকগুলোর শুধু ক্রমিক নম্বর আছে , নাম নেই। নাম লেখার জায়গাতে লেখা আছে ‘ উইতে খেয়েছে’ ( ঊঁয়ে খালে)। বাবার নামের জায়গাতে ‘অজ্ঞাত’, ‘অমুক’, ‘অমুকের বাবা’ ইত্যাদি। কোনো ক্রমিক নম্বরের জায়গাতে আছে ‘বাচ্চা’ ( কেঁচুয়া)। পাইলট প্রকল্পের জায়গাতে যেসব মানুষের ১৯৫১র আগেই জন্ম হয়েছে  তাদের জন্মস্থানের জায়গাতে লেখা আছে ময়মন সিংহ, ঢাকা, পূর্ব বা পশ্চিম পাকিস্তান ইত্যাদি। অথচ তাদের জন্ম ভারতে প্রমাণ করবার জন্যে সমস্ত উপযুক্ত নথিপত্র তাদের হাতে  রয়েছে। পুরুষের স্বামীর নাম বলে পুরুষের নাম আর মহিলার স্বামীর নাম বলে মহিলার নাম লেখা হয়েছে। বাবার বয়স ১০, ছেলের বয়স ৫০, মায়ের বয়স নিজের পেটের ছেলের চে’ কম লেখা হয়েছে। একই ক্রমিক নম্বর চার পাঁচজন কিম্বা চার পাঁচ পরিবারের নামের আগে লেখা রয়েছে। বেশ কিছু মুসলমান গ্রামকে হিন্দু গ্রাম বলে দেখানো হয়েছে। মুসলমান পরিবার হয়েছেন হিন্দু পরিবার। বরপেটা রাজস্ব চক্রের ২৪টি গ্রামের এন আর সি, ১১ টি গ্রামের ১৯৬৬র এবং ১২টি গ্রামের ১৯৭১ সনের ভোটার তালিকা পাওয়াই যাচ্ছে না। এমন অবস্থাতে ফর্মের ১২ নং ঘরটি তারা পূরণ করবেন কী করে? শুধুমাত্র ঘিলাজারি আর হাউলি মৌজার ১,৭০০টি পরিবার মূদ্রিত এন আর সি এবং ভোটার তালিকার থেকে বাদ পড়েছে । তিনশ বছরের প্রাচীন অসমিয়া মুসলমান মানুষের গ্রাম ( খিলঞ্জিয়া মুসলমান)  ভেল্লা । সেই ভেল্লারও এন আর সি পাওয়া যায় না বলে সংবাদ পত্রে বেরিয়েছে। ডিসি বাহাদুর মৌন, গৃহ সচিব, মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্যপাল সব্বাই মৌন, সদুত্তর নেই। </p>
<p>                    ডাঃ ভূমিধর বর্মন ( অসম চুক্তি রূপায়ণ মন্ত্রী) বিধান সভাতে ঘোষণা করলেন –১৯৫১ সনের এন আর সি, ১৯৬৬-৭১ সনের ভোটার তালিকাতে নাম না থাকলেও ‘পুরোনো মাটির দলিল’ দেখিয়েও এন আর সি-তে নাম নথিভূক্ত করতে পারা যাবে। বিজ্ঞপ্তি জারি করাবার দাবি জানাবার বেলা নির্বিকার হয়ে রইলেন। অসম মন্ত্রীসভার মন্ত্রী, জেলা শাসক, সারা অসম ছাত্র সংস্থা ইত্যাদির মৌখিক প্রতিশ্রুতিকে কেন্দ্রীয় সরকারের জারি করা Citizenship (Registration of Citizens and Issue of National Identity Card ) Amendments Rules,2009 বিধি কিম্বা আইন আদালত কতটা গুরুত্ব দেবে তা জানবার জন্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রির দরকার পড়ে না। </p>
<p>                  ঘর পোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলেই ভয় পায়। মুসলমান মানুষ, কিছু সংগঠন, রাজনৈতিক দল এই সব অসুবিধেগুলো দূর করবার দাবি জানিয়ে নানা স্তরে আবেদন নিবেদন করতে শুরু করতেই এদেরকে শত্রু বলে ঠাউরে নিয়ে বিকারগ্রস্ত কিছু মানুষ আপত্তিকারীদের অসমের শত্রু, বাংলাদেশি ( মিঞা)র দালাল বলে চেঁচামেচি শুরু করে দিল। আপত্তির যে কিছু নায্যতা থাকতে পারে তার আভাস নেবার জন্যেও কোনো দরকার বোধ করে নি তারা যারা নিজেদের অসমের সয়ম্ভূ অভিভাবক বলে দাবি করে।</p>
<p>                     ১৯৫১ সনে অসমে লোকগণনা আয়োগের মুখ্য কর্তাব্যক্তি  ছিলেন আর এস ভাগাইওয়ালা, আই এ এস। তাঁর প্রতিবেদনে জানা গেল নেহরু-লিয়াকৎ চুক্তির ফলে যে ৬৮,৪৫১ জন মানুষ অসমে প্রত্যাবর্তন করেছেন তাঁদের নাম ইতিমধ্যে সমাপ্ত আর সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় নাগরিক পঞ্জিতে ওঠে নি। তারপর পাহাড়ি জেলাগুলো, ব্রহ্মপুত্রের চরগুলো, গোয়ালপাড়া আর কামরূপের একাংশ মুসলমানদের নাম এন আর সি-তে ওঠে নি। সেই মানুষগুলোর বেলা কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে  তার কোনো উত্তর নেই। এই সব মানুষেরা নিবন্ধনের জন্যে  ১২ নং ঘরে কী লিখবে? সবাই নিরুত্তর!<br />
মাঝখানে একবার দেওরিকুছিম দত্তাকুছিম ধাকালিয়াপাড়াম যুগীরপাম, দাবালিয়াপাড়া ইত্যাদি কিছু গ্রামের এন আর সি আর ভোটার তালিকা পাওয়া না গেলে  এলাকার বিভিন্ন সংগঠন, রাজনৈতিক দলগুলো যখন প্রতিবাদী কর্মসূচী হাতে নিয়েছিল , তখন সঙ্গে সঙ্গেই বরপেটার জেলা নিবন্ধন আধিকারিক এই পাঁচাখানা গাঁয়ের আগের বিশুদ্ধ আর সম্পূর্ণ এন আর সি বের করে দিলেন। চিঠি নং BA-NRC/2/2010/50Dt.12.07.2010  । অথচ এটিই  আগে পাওয়া যায় নি বলে জানানো হয়েছিল। সেই সঙ্গে তিনি আগের কিছু নথিপত্র নষ্ট করে দেবারও নির্দেশ দিলেন। আগে কেন এগুলো পাওয়া যায় নি তার কোনো কারণ জানানো হলো না। সাধারণ মানুষ বাক হয়ে ঘটনাক্রম লক্ষ্য করলেন, তাদের  ষঢ়যন্তের সন্দেহ আরো দৃঢ় হলো।<br />
নাগরিকত্ব দাবির জন্যে প্রতিশ্রুতি মতো বিকল্প নথির তালিকা নেই, এন আর সি নেই, ভোটার তালিকা নেই। তা হলে ১০ আগষ্টের ভেতরে আবেদনপত্র জমা দেন কী করে এই লোকগুলো?  জেলা নিবন্ধক সভা সমিতেতে বলে বেড়ান, “বিকল্প নথির তালিকার জন্যে যোগাযোগ করা হয়েছে। ভাবনার কিছু নেই। আপনারা দর্খাস্ত জমা দিন।”  লিখিত প্রতিশ্রুতি চাইলে তিনি চুপ মেরে যান। মানুষ মুখের কথাতে বিশ্বাস করেন না। মৌখিক কথাতে দর্খাস্ত দেয়ার মানেই হলো মরণ ফাঁদে পা দেয়া—মানুষের এই বিশ্বাসই আরো দৃঢ় হলো।</p>
<p>                       রাষ্ট্রীয় নাগরিকপঞ্জি উন্নীত করবার কাজে যে সব ভুল ত্রুটি দেখা দিয়েছে সেগুলো সংশোধন করবার জন্যে সে সংগঠন, দল বা ব্যক্তি দাবি জানালেন তাদের দমন করতে আখ্যা দেয়া হলো , ‘ বাংলাদেশির দালাল’, ‘অসম বিরোধী চক্র’ কিম্বা ‘অসমের শত্রু’। প্রতিবাদ করা চলবে না, যেভাবে বলা হয়েছে সেভাবেই দর্খাস্ত জমা দিতে হবে । আধিকারিক, মন্ত্রী আর তাদের চেলাচামুণ্ডারা বলে বেড়াচ্ছে যে , ভাবনা কিসের? পুরোনো মাটির দলিল থাকলেই হলো ! কেল্লা ফতে! লিখিত নোটিস দিতে বলতেই সব্বাই চুপ। সেরকম আধিকারিদের সংখ্যালঘু মানুষের বিশ্বাস করা মানেই হলো মৃত্যুর সমনে সহি করা। এমনটি ভাবা যে ভুল ছিল না সেটি পরে প্রমাণিত হলো।</p>
<p>              ২১ জুলাই তারিখে বরপেটাতে বেরুনো আমসুর প্রতিবাদি মিছিল এন আর সি উন্নীতকরণ বন্ধের  দাবিতে না সেইসব ভুলত্রুটিগুলো সংশোধনের দাবিতে ছিল সে কথা জানবার কারো কোনো গরজ দেখা গেল না।  চারজন প্রতিবাদীকে হত্যা এবং শতাধিক আহতের প্রতি নূন্যতম সমবেদনার গরজ নেই, তার বিপরীতে  প্রকৃত ঘটনাকে বিকৃত করে বিবৃতি দেয়া হলো আর তাতে  আক্রমণাত্মক ভাষার প্রোয়োগ করা হলো। ‘ ওরা বাংলাদেশি, কেন প্রতিবাদ করবে? এতো সাহস কোথায় পেল? কে উৎসাহিত করলে এদের?’ ইংগিতের আঙুল একবার দিসপুর আরেকবার হাতিগাঁওয়ের দিকে । হাতিগাঁওয়ের দিকে আঙুল দেখাবার অর্থ দুটো—এক হাতিগাঁও মানে জমিয়ত আর এ ইউ ডি এফ আরেকটি হাতিগাঁওয়ের ওপারে বাংলাদেশ। অতীতেত অসম আন্দোলনের সময়কার মানসিকতার পুনরাবৃত্তি ঘটল।</p>
<p>                   চারটা নিরীহ জীবন কেড়ে নেবার পর সরকার আপত্তির নায্যতা বুঝতে পেরে ভুল ত্রুটিগুলো সংশোধনের আশ্বাস দিয়েছে, নাগরিকপঞ্জি উন্নয়নের কাজ সাময়িক ভাবে স্তগিত রেখেছে। কিছু লোকের তাতে বিলম্ব সহ্য হচ্ছে না। স্তগিতকরণ চলবে না! ভুল নেই! ভুলত্রুটির কথা যারা বলছে তারা বাংলাদেশের দালাল! বাংলাদেশির কাছে আত্মসমর্পণ চলবে না! এরকম দাবিতে আবারো ৮৩র সেই আহ্বান জানাতে চাইছে।<br />
অসমের মানুষ এখন আবেগ সর্বস্ব না হয়ে যুক্তি তথ্য, তথ্য এবং অন্য পক্ষের আপত্তির কারণ জানবার জন্যেও আগ্রহী। এ একটি প্রশংসনীয় দিক বলে বিবেচিত হচ্ছে। ন্যায়-নিষ্ঠার ভিত্তিতে কোনো রাখঢাক না করে নাগরিকত্বের প্রমাণ দেবার সুবিধে দেয়া হোক। ন্যায়-নিষ্ঠার নীতিও এমনটি দাবি করে। সমাধান হোক –যাতে কোনো বিদেশির নাম অন্তর্ভূক্ত না হয় বা কোনো ভারতীয়ের নাম যেকোনো অজুহাতে কাটা না পড়ে সেটি দেখা উচিত। অসম এবং বৃহত্তর অসমিয়া জাতির স্বার্থে কথাগুলো সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করুক সবাই। আবেগের বদলে যুক্তিতে এগিয়ে যাক। যেভাবে তিরাশির আগুন মাড়িয়ে পার করে চলে এলাম , সেভাবেই সন্দেহ-শংকার এই দুর্ভাবনার থেকেও আমরা বেরিয়ে আসতে পারব। আঁধারের পর আলো আসবেই আসবে।</p>
<p>* লেখক অসমের নগাঁও জেলার  ধিং কলেজের অবসর প্রাপ্ত অধ্যাপক।  ফোনঃ ৯৮৩৫৩-৬০৬৯৬</p>
<a href="http://www.addtoany.com/add_to/google_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F3507&amp;linkname=%E0%A6%85%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%87%20%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A7%9F%20%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%97%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%95%20%E0%A6%AA%E0%A6%9E%E0%A7%8D%E0%A6%9C%E0%A6%BF%3A%20%E0%A6%B8%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B9%20%E0%A6%86%E0%A6%B0%20%E0%A6%B6%E0%A6%82%E0%A6%95%E0%A6%BE" title="Google Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/google.png" width="16" height="16" alt="Google Bookmarks"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/orkut?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F3507&amp;linkname=%E0%A6%85%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%87%20%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A7%9F%20%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%97%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%95%20%E0%A6%AA%E0%A6%9E%E0%A7%8D%E0%A6%9C%E0%A6%BF%3A%20%E0%A6%B8%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B9%20%E0%A6%86%E0%A6%B0%20%E0%A6%B6%E0%A6%82%E0%A6%95%E0%A6%BE" title="Orkut" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/orkut.png" width="16" height="16" alt="Orkut"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/twitter?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F3507&amp;linkname=%E0%A6%85%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%87%20%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A7%9F%20%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%97%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%95%20%E0%A6%AA%E0%A6%9E%E0%A7%8D%E0%A6%9C%E0%A6%BF%3A%20%E0%A6%B8%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B9%20%E0%A6%86%E0%A6%B0%20%E0%A6%B6%E0%A6%82%E0%A6%95%E0%A6%BE" title="Twitter" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/twitter.png" width="16" height="16" alt="Twitter"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/facebook?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F3507&amp;linkname=%E0%A6%85%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%87%20%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A7%9F%20%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%97%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%95%20%E0%A6%AA%E0%A6%9E%E0%A7%8D%E0%A6%9C%E0%A6%BF%3A%20%E0%A6%B8%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B9%20%E0%A6%86%E0%A6%B0%20%E0%A6%B6%E0%A6%82%E0%A6%95%E0%A6%BE" title="Facebook" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/facebook.png" width="16" height="16" alt="Facebook"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/yahoo_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F3507&amp;linkname=%E0%A6%85%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%87%20%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A7%9F%20%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%97%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%95%20%E0%A6%AA%E0%A6%9E%E0%A7%8D%E0%A6%9C%E0%A6%BF%3A%20%E0%A6%B8%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B9%20%E0%A6%86%E0%A6%B0%20%E0%A6%B6%E0%A6%82%E0%A6%95%E0%A6%BE" title="Yahoo Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/yahoo.png" width="16" height="16" alt="Yahoo Bookmarks"/></a> <a class="a2a_dd addtoany_share_save" href="http://www.addtoany.com/share_save?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F3507&amp;linkname=%E0%A6%85%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%87%20%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A7%9F%20%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%97%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%95%20%E0%A6%AA%E0%A6%9E%E0%A7%8D%E0%A6%9C%E0%A6%BF%3A%20%E0%A6%B8%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B9%20%E0%A6%86%E0%A6%B0%20%E0%A6%B6%E0%A6%82%E0%A6%95%E0%A6%BE"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/share_save_120_16.png" width="120" height="16" alt="Share/Bookmark"/></a>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/3507/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>3</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>বারাক ওবামার ধর্ম আর রক্ত-তেলচোরা সাদা সাহেবদের কেয়ামতের দিন</title>
		<link>http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/3471</link>
		<comments>http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/3471#comments</comments>
		<pubDate>Sun, 22 Aug 2010 15:50:01 +0000</pubDate>
		<dc:creator>সুশান্ত</dc:creator>
				<category><![CDATA[প্রবন্ধ]]></category>
		<category><![CDATA[রাজনীতি]]></category>
		<category><![CDATA[সমসাময়িক]]></category>
		<category><![CDATA[সমাজ]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://coffeehouseradda.com/?p=3471</guid>
		<description><![CDATA[<a href=http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/3471><img src=http://coffeehouseradda.com/files/2010/08/hero_immigrationspeech_PS-0109_20100701151916_640_480.JPG class=imgtfe hspace=5 align=left width=100  border=0></a>
               আমেরিকার আকাশ বাতাস এখন একটি মসজিদ নির্মাণের প্রশ্নে সরগরম। ঠিক মসজিদ নয়, ১১সেপ্টেম্বর, ২০০১এ ধ্বংশ প্রাপ্ত বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের নিচের তলার সামান্য কাছেই একটি ইসলামি কেন্দ্রের  নির্মাণের প্রস্তাবে রাষ্ট্রপতি ওবামা সমর্থণ জানিয়েছিলেন। যে কেন্দ্রে একটি মসজিদও থাকবে।  তাঁর [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><a href="http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/3471/hero_immigrationspeech_ps-0109_20100701151916_640_480" rel="attachment wp-att-3472"><img src="http://coffeehouseradda.com/files/2010/08/hero_immigrationspeech_PS-0109_20100701151916_640_480.JPG" alt="hero_immigrationspeech_PS-0109_20100701151916_640_480" width="615" height="346" class="alignleft size-full wp-image-3472" /></a><br />
               আমেরিকার আকাশ বাতাস এখন একটি মসজিদ নির্মাণের প্রশ্নে সরগরম। ঠিক মসজিদ নয়, ১১সেপ্টেম্বর, ২০০১এ ধ্বংশ প্রাপ্ত বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের নিচের তলার সামান্য কাছেই একটি ইসলামি কেন্দ্রের  নির্মাণের প্রস্তাবে রাষ্ট্রপতি ওবামা সমর্থণ জানিয়েছিলেন। যে কেন্দ্রে একটি মসজিদও থাকবে।  তাঁর বক্তব্য ছিল, এই দেশে মুসলমানদের অন্য সবার মতোই ধর্ম চর্চার সমান অধিকার রয়েছে। ব্যস! তাতেই চটে লাল আমেরিকা! এতো ভালো কথা সহ্য করতে তারা আর প্রস্তুত নয়। পরে তাঁকে একটু পিছিয়ে এসে বলতে হয়েছে, যারা সেই কেন্দ্র গড়তে চাইছেন তাদের উৎসাহিত করতে তিনি কিছু বলেন নি। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ন্যান্সি পেলসি বলেছেন, সংবিধান সব ধর্মের সমান অধিকার দিয়েছে বটে, কিন্তু একটি ধর্ম কেন্দ্র হবেটা কোথায় সেটি হবে একেবারেই স্থানীয় সিদ্ধান্ত।    প্রতিপক্ষ রিপাব্লিকানেরাও দ্বিচারিতার নিদর্শন রেখে মুসলমানেদের অধিকারকে নিয়ে প্রশ্ন তুলছে না। বরং উলটে ওবামাকেই ঝেড়ে কাশতে অনুরোধ করছে যাতে তাঁকে চেপে ধরতে সুবিধে হয়। রিপাব্লিকানদের হয়ে সবচে বেশি গলা উঁচু সেই মহিলা সারা পলিন্সের যিনি গেল নির্বাচনে উপরাষ্ট্রপতি পদে দাঁড়িয়ে উল্টপাল্টা মন্তব্য করে প্রচুর লোক হাসিয়েছেন, এবং এখন দুর্নীতির অভিযোগে হালে পানি পাচ্ছেন না। ইদানিং তিনি খুব ধর্মবাতিকগ্রস্থ হয়েছেন।</p>
<p>         <a href="http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/3471/kodorba" rel="attachment wp-att-3473"><img src="http://coffeehouseradda.com/files/2010/08/Kodorba.jpg" alt="Kodorba" width="625" height="375" class="alignright size-full wp-image-3473" /></a>          যারা এই ইসলামি কেন্দ্রটি গড়তে চাইছে তারা যে খুব ইসলামের বিজয় রথ ছোটাবার বাসনাতে কাজটি করছে তা কিন্তু নয়। তারা হচ্ছেন আমেরিকার সেই মুসলমান যারা  লাদেনের পাপকে ধুয়ে দেবার জন্যে মাঠে নেমেছেন। ইসলামে দানবীয়করণের বিরুদ্ধে গোটা বিশ্বকে একটা বার্তা দেয়াই তাদের উদ্দেশ্য ছিল। আর তাদের সঙ্গে যে শুধু মুসলমানেরাই রয়েছেন তাই নয়, রয়েছেন প্রচুর খৃষ্টান, এমনকি অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি যে তাদের সঙ্গে প্রচুর ইহুদীও রয়েছেন। যে সংগঠনটি এই ইসলামি কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিল তাদের নাম ‘কোরডোবা ইনিসিয়েটিভ’ (Cordoba initiative)। কোরডবা হচ্ছে স্পেনের এক বিখ্যাত প্রাচীন প্রাক-ধর্মযুদ্ধ  ইসলামি তীর্থক্ষেত্রে নাম। যায়গাটি তখন ইহুদি, খৃষ্টান , ইসলাম সহ নানা ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহবস্থানের জন্যে বিখ্যাত ছিল। সেখানে যে বিখ্যাত মসজিদটি ছিল ধর্মযুদ্ধের পরে সেটি এক খৃষ্টান চার্চে পরিণত হয়। আমরা সবাই জানি ধর্মযুদ্ধ খৃষ্টান চার্চগুলোর ধর্মীয় সহিষ্ণুতার সবচে’ কুখ্যাত নজির। সেই যুদ্ধ কেবল আরব উত্থানের পতন ঘটায় নি, গোটা ইউরোপকেও ঘনঅন্ধকারে ছেয়ে ফেলে। যাকে আমরা জেনে না জেনে ‘মধ্যযুগীয় বর্বরতা’ বলে চিহ্নিত করে থাকি। প্রায়শঃ এই পদগুচ্ছ অকারণে  ভারতের ইতিহাসেও প্রয়োগ করি। এহেন এক উদ্যোগকে যারা বাধা দিচ্ছেন আর ভাবছেন তাদেরকে  ধর্মকেন্দ্র গড়তে দিলে বিশ্ববাণিজ্য কেন্দ্রে নিহতদের অপমান করা হবে, তারা যে লাদেনবাহিনীর চে’ ভালো মানুষের দল নন, সেটি বুঝতে বুদ্ধি খাটাবার প্রয়োজন পড়ে না। বুদ্ধিমান অনেকেতো এও বলছেন ‘কোরডবাকে’ ধর্মকেন্দ্র গড়তে দিলে লাদেন সেটিকেও উড়িয়ে দেবেন। কিন্তু আপাতত লাদেনের খৃষ্টান প্রতিপক্ষরাই এর পথ আটকে তার কাজ কমিয়ে দিচ্ছেন । অথচ যে নিউইয়র্কে কেন্দ্রটি হবে, সেখানে প্রায় পাঁচ লক্ষ মুসলমান রয়েছেন আর রয়েছে অজস্র মসজিদ। তাতে এই আরেকটা যোগ হবে মাত্র। কিন্তু এক নতুন বার্তা নিয়ে। সেটি যারা হতে দিচ্ছেন না তারা স্পষ্টতই চাইছেন না ইসলাম তার পুরোনো গৌরবময় পরিচয় ফিরে পাক। পেলে যে মধ্য এশিয়াতে মার্কিনি তেলচোরাদের আসন্ন বিপদ!  </p>
<p>               ইতিমধ্যে নানা কারণে ওবামার  জনপ্রিয়তাতে ভাটা পড়েছে । সামনেই , নভেম্বরে সিনেটের কিছু আসনে মধ্যবর্তী নির্বাচন রয়েছে। তার আগে সে জনপ্রিয়তাতে আর ভাটা পড়ুক সেটি তিনি বা দল চাইছেন না। কিন্তু সম্ভবত আঁচড় যা পড়বার তা পড়ে গেছে। আমেরিকা জুড়ে ইসলাম বিরোধী প্রচার কিছু তো বেড়েইছে, সেই সঙ্গে এই বিশ্বাসও বেড়েছে যে ওবামা আসলে অন্তর থেকে একজন মুসলমানই। </p>
<p>                   জাতি রাষ্ট্র, ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে পশ্চিমী দেশগুলোর সাধারণত অহংকারে মাটিতে পা পড়েনা। ওদের থেকে পাঠ নিয়ে আমাদের দেশেও অনেকে আমাদের ধর্মনিরপেক্ষতার পাঠ নিতে বলেন। তার মধ্য , কিছু আগ মার্কা বামপন্থীও রয়েছেন। কিন্তু , আমেরিকার ঘটনাক্রম দেখে মনে হচ্ছে না কি যে ওরা আমাদের থেকে আর যাই হোক এ ব্যাপারে মোটেও বেশি সভ্য নয়! কল্পনা করুন যে মুম্বাইর হোটেল তাজের কাছে এক মসজিদ তৈরির  কথা বললেন, প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি আব্দুল কালাম , কিম্বা কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধি। কী প্রতিক্রিয়া হতে পারে, শিবসেনা, ভাজপারা কী বলতে পারে আমরা সহজেই  আঁচ করতে পারি।  আব্দুল কালামকে পাকিস্তান আর সোনিয়া গান্ধিকে ইতালি পাঠাবার ব্যবস্থা করে দিলেও অবাক হবার কিছু থাকবে না! দু’জনকেই তার পরে  সিদ্ধি বিনায়কের মন্দিরে গিয়ে মাথা ঠেকিয়ে প্রায়শ্চিত্ত করে আসতে হতো। আমেরিকার রাষ্ট্রপতিকেও ঠিক তেমনটাই করতে হয়েছে!</p>
<p>                         ইতিমধ্যে সরকারীভাবে ঘোষণা দিয়ে জানাতে হয়েছে যে রাষ্ট্রপতি ওবামা একজন নিষ্ঠাবান খৃষ্টান এবং রোজ প্রার্থণা করেন। ধর্মীয় উপদেষ্টার পরামর্শ না নিয়ে তিনি দিনের কোনো কাজই করেন না। তার জন্যে কেউ তাঁকে ধর্মান্ধ বা মৌলবাদি বলছে না!  তাঁর বাবা মুসলমান ছিলেন, তিনিও মুসলমান হতেই পারেন। এই সরল  কিম্বা জটিল বিশ্বাস থেকেও এই ক’দিন আগও কিছু মানুষ তাঁকে মুসলমান বলে ভাবতেন। সম্প্রতি নানা কারণে এমন বিশ্বাস করবার লোক বেড়ে গেছিল।  ওই মন্তব্যের দিন কতক আগেই পিউ গবেষণা কেন্দ্র বলে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমীক্ষা দেখিয়েছিল ওবামাকে মুসলমান বলে মনে করবার মত লোক ১১ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ২০ শতাংশ । প্রতি পাঁচজন মার্কিনিদের মধ্যে একজন ভাবছেন ওবামা একজন মুসলমান । ঐ মন্তব্যের পর আগষ্টের মাঝামাঝি টাইমস মেগাজিন আরেকটি সমীক্ষা চালায়। তাতে সেই পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ২৪ শতাংশ। তারা ভাবছেন ওবামা একজন মুসলমান তাই ওমন কথা বলেছেন। তিনি যে  একজন সৎ মানবতাবাদির অবস্থান থেকে কথাটা বলতে পারেন এই সহজ সত্য ওদের সাদা চামড়াতে ঢাকা উন্নত মস্তকে কিছুতেই ঢুকতে চাইছে না । ৪৭ শতাংশ লোক অবশ্যি সেরকম ভাবছেন না, কিন্তু তাতে ওবামা আশ্বস্ত  হলেও আমাদের হবার কোনো কারণ নেই। কারণ তাঁরা এই ভেবে তুষ্ট যে তিনি একজন নিষ্ঠাবান খৃষ্টান। মাত্র ২৪ শতাংশ এ নিয়ে কোনো মত জানান নি।</p>
<p>                           ওই যারা মত দেননি তাদের সংখ্যার থেকে অল্প কিছু বেশি লোক বিশ্ব বানিজ্য কেন্দ্রের সামনে ইস্লামিক কেন্দ্রটি গড়বার পক্ষে মত দিয়েছেন। তাদের সংখ্যা ২৬ শতাংশ।  তাদের কেউ কেউ সেই অধিকারের পক্ষে লড়াই চালাবার সাহসও গুটিয়ে নিয়েছেন। এবং বাণিজ্য কেন্দ্রের সামনে গিয়ে ধর্ণাও দিচ্ছেন। এর মধ্য অভিশপ্ত সেপ্তেম্বরে নিহত আহতদের পরিবারের অনেকেও রয়েছেন, যারা মনে করেন ঘৃণা কখনো ঘৃণার নিদান হতে পারে না। তাদের সংগঠনটির নাম “September 11th Families for Peaceful Tomorrows” । তারা এও এই বলে সভ্যতার চরম নিদর্শন উপস্থিত করছেন, “What better place for healing, reconciliation and understanding than Ground Zero? We honor our family members by practicing American principles and moving forward from Ground Zero to a future of peaceful coexist”</p>
<p>                           পিউ গবেষণা কেন্দ্রটি যে সমীক্ষা চালিয়েছিল তাতে মার্কিনি রাজনীতিতে ধর্মের ভূমিকা নিয়ে কিছু মজার তথ্য বেরিয়ে এসছে। বিতর্কিত মন্তব্যটি করাবার আগেই যে কিছু লোক ওবামাকে মুসলমান বলে ঠাউরেছিল তার কারণটি কিন্তু আর কিছু নয়, তিনি তার আগেকার রাষ্ট্রপতিদের থেকে ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলোতে কম হাজিরা দিচ্ছেন। এর মানে, এখনো সে দেশে এক রাষ্ট্রপতির কাছে ধর্মের, তাও সংখ্যাগরিষ্ঠের ধর্মের, থেকে দূরে সরে থাকাটা ভারতীয় উপমহাদেশগুলোর যেকোনো  দেশের মতোই খুব একটা নিরাপদ নয়। এখনো ৪৮ শতাংশ মার্কিনি  লোক মনে করেন রাষ্ট্রকে ধর্মের থেকে দূরে সরে থাকা উচিত নয়। এই সংখ্যাটা  ১৯৯৬ থেকে ২০০৬ এর আগের দশক থেকে সামান্য কমেছে মাত্র! </p>
<p>                   অনেক ভারতীয় কালো সাহেবেরাও মসজিদ নির্মাণ নিয়ে করা ওবামার মন্তব্যকে ভালো চোখে দেখেন নি। তাঁরাও ইসলামী আতঙ্ককে বিশ্বের সবচে বড় বিপদ হিসেবে দেখেন, এবং কোনো মুসলমান ধর্ম কেন্দ্রকে বিশ্বাস করতে পারেন না। আজকাল যে আমেরিকা আর ইউরোপের দেশে দেশে ইসলামের বিরুদ্ধে প্রচার ও ব্যবস্থা নেবার প্রবণতা বেড়েছে তাতে তাঁরা খুব হ্লাদিত। তাঁদের ধারণা, এর ফলে পৃথিবী ইসলামী সন্ত্রাসবাদ নামের ‘দানবীয়’ বিপদ থেকে মুক্ত হবে। তাঁদের সাহেব প্রীতিতে অন্ধচোখ দেখেও না যে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থাতে কিছু মৌলবাদি যদি তিন হাজার লোককে মেরেছিল, যারা মৌলবাদি নয় বলে বড়াই করে সেই সাহেবদের, পশ্চিমী দেশগুলো সেই বাহানা নিয়ে আফগানিস্তান নামের দেশটির  ভেতরে ঢুকে আজ প্রায় একটি দশক জুড়ে ঘাটি গেড়ে বসে মেরেছে তার থেকে বহুগুণ বেশি সাধারণ নিরীহ মানুষ । বছরে সেই সংখ্যা হাজার ছাড়ায়। তারা জোর করে বা ভয় দেখিয়ে সামরিক ঘাটি করে বসে আছে  মধ্য এশিয়ার প্রায় সমস্ত দেশে। কোনো এক সুদূর আশির দশকের শুরুতে পৌনে দু’শো কুর্দ নাগরিককে মারবার অপরাধে যারা সাদ্দামকে বিচারের প্রহশনে বসিয়ে মেরে ফেললে, তারা এই সাত বছরে মেরেছে ১ লক্ষ ৬১ হাজারেরো বেশি ইরাকি মানুষ। সাদা কিম্বা কালো কোন সাহেবদের চোখেই এই মৃত্যু কোনো আতঙ্কের ব্যাপারই নয়! মধ্য এশিয়ার  দেশগুলোর দখলদারি নিয়ে মাঝে মাঝে নিজেদের মধ্যেও মারামারি করে ওই সাহেবেরা। কারণতো একটাই মাটির তলার তেল সাবাড় করো আর যুদ্ধের বাজার ছড়িয়ে চলো।  </p>
<p>         <a href="http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/3471/ground0rally" rel="attachment wp-att-3474"><img src="http://coffeehouseradda.com/files/2010/08/ground0rally.jpg" alt="ground0rally" width="750" height="438" class="alignleft size-full wp-image-3474" /></a>             ফ্লরিডার  ডোভ ওয়ার্ল্ড আউটরিচ সেন্টার বলে এক খৃষ্টীয় চার্চ আগামী ১১ সেপ্টেম্বর তারিখে ওই বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের সামনে কোরান পোড়াবে বলে হুমকি দিয়ে রেখেছে। তারা সেই দিনটির নাম দিয়েছে ‘কোরান পোড়ানোর দিন’।  কার্ল মার্ক্সের মতো নিন্দিত নাস্তিক জানতেন যে যিশু খৃষ্টের মতো কোনো ঐতিহাসিক চরিত্র ছিলেন না। তারপরেও ওই কাল্পনিক ভদ্রলোকটির প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার অন্ত ছিলনা। এই তথ্য বহু মার্ক্স বিরোধীতায় অন্ধদের কিম্বা অন্ধ মার্ক্সবাদি নাস্তিকদের জানা নেই। তাঁর মতে খৃষ্টীয় ষষ্ঠ শতক অব্দি খৃষ্ট ধর্মই ছিল রোমান সভ্যতার সমাজবাদ! সেই খৃষ্ট ধর্মের দৃষ্টান্ত স্থাপন করবার মতো লোক সংখ্যাতে নগন্য হলেও অভাব নেই। The Christian Science Monitor বলে একটি বৈদ্যুতিন কাগজে ডান মারফি  লিখেছেনঃ   The increasingly acrimonious debate over the construction of the so-called Ground Zero mosque in Manhattan, about two blocks away from the World Trade Center towers that were destroyed by Al Qaeda on Sept. 11, 2001, echoes similar debates in Europe and could, if the rhetoric becomes commonplace, have broad and negative ramifications for the integration of America&#8217;s growing Muslim population । </p>
<p>                      এই সহজ বুদ্ধির লোকের সংখ্যা কমে গেছে আজকের মার্কিনি সাম্রাজ্যবাদিদের শাসিত এবং অনুগত বিশ্বে। বিপদ এইখানেই মারাত্মক। ওবামা এই সহজ বুদ্ধির থেকেই কথাগুলো বলেছিলেন। কিন্তু, তিনিও এই ব্যবস্থার দাস, তাই তাঁকে আপাতত পেছনে হাঁটতেই হলো। কিন্তু তর্কের যে ঢেঊ উঠল তা, ধর্ম এবং রাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে গোটা পৃথিবীকে আরো একবার কাঁপাবে। আমাদের দেশের ধর্ম নিরপেক্ষতা নিয়ে যারা বেশ গৌরবান্বিত, তাদের কথা নাহয় বাদই দিলাম, ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে গিয়ে যারা ইঊরোপের জাতিরাষ্ট্রগুলোর নজির দিয়ে ভাষা নির্ভর জাতীয়তাবাদের পক্ষে ওকালতি করেন, তাঁরাও তাঁদের তত্বর বিশুদ্ধতা আর  ফাঁকির যায়গাগুলো নিয়ে আরেকবার ভাবতে শুরু করলে আমরা ভবিষ্যত নিয়ে আশান্বিত হতে পারি। বস্তুত ওবামার এই ঘোষণা জাতি রাষ্ট্রের বিশুদ্ধতার সমস্ত ধারণাকে নস্যাৎ করে দিয়ে দিয়েছে।  </p>
<p>                  আপাতত নইলে ‘কোরান পোড়াবার দিন’ পালিত হোক।ওদের ক্ষমতা আছে পালন করবে, কে ঠেকাবে!  কিন্তু সেদিন আসবে খুব শীঘ্রই, যেদিন ঐ  তেল আর রক্তচোরা সাদা সাহেবদের কেয়ামতের দিন  পালিত হবে গোটা বিশ্ব, মায় আমেরিকাতেও। সেই অপেক্ষাতে আমাদের কাটবে আরো কিছু দিন, হয়তো কয়েকটি বছর কিম্বা দশক। কিন্তু আসবে , সে নিশ্চিত ! </p>
<a href="http://www.addtoany.com/add_to/google_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F3471&amp;linkname=%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%95%20%E0%A6%93%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%E0%A6%A7%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE%20%E0%A6%86%E0%A6%B0%20%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4-%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A6%9A%E0%A7%8B%E0%A6%B0%E0%A6%BE%20%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A6%BE%20%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A7%87%E0%A6%AC%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%A8" title="Google Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/google.png" width="16" height="16" alt="Google Bookmarks"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/orkut?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F3471&amp;linkname=%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%95%20%E0%A6%93%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%E0%A6%A7%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE%20%E0%A6%86%E0%A6%B0%20%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4-%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A6%9A%E0%A7%8B%E0%A6%B0%E0%A6%BE%20%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A6%BE%20%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A7%87%E0%A6%AC%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%A8" title="Orkut" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/orkut.png" width="16" height="16" alt="Orkut"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/twitter?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F3471&amp;linkname=%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%95%20%E0%A6%93%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%E0%A6%A7%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE%20%E0%A6%86%E0%A6%B0%20%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4-%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A6%9A%E0%A7%8B%E0%A6%B0%E0%A6%BE%20%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A6%BE%20%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A7%87%E0%A6%AC%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%A8" title="Twitter" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/twitter.png" width="16" height="16" alt="Twitter"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/facebook?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F3471&amp;linkname=%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%95%20%E0%A6%93%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%E0%A6%A7%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE%20%E0%A6%86%E0%A6%B0%20%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4-%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A6%9A%E0%A7%8B%E0%A6%B0%E0%A6%BE%20%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A6%BE%20%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A7%87%E0%A6%AC%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%A8" title="Facebook" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/facebook.png" width="16" height="16" alt="Facebook"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/yahoo_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F3471&amp;linkname=%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%95%20%E0%A6%93%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%E0%A6%A7%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE%20%E0%A6%86%E0%A6%B0%20%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4-%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A6%9A%E0%A7%8B%E0%A6%B0%E0%A6%BE%20%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A6%BE%20%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A7%87%E0%A6%AC%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%A8" title="Yahoo Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/yahoo.png" width="16" height="16" alt="Yahoo Bookmarks"/></a> <a class="a2a_dd addtoany_share_save" href="http://www.addtoany.com/share_save?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F3471&amp;linkname=%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%95%20%E0%A6%93%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%E0%A6%A7%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE%20%E0%A6%86%E0%A6%B0%20%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4-%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A6%9A%E0%A7%8B%E0%A6%B0%E0%A6%BE%20%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A6%BE%20%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A7%87%E0%A6%AC%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%A8"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/share_save_120_16.png" width="120" height="16" alt="Share/Bookmark"/></a>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/3471/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>4</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>আজ দেশ ভাগের দিনও বটে!</title>
		<link>http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/3435</link>
		<comments>http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/3435#comments</comments>
		<pubDate>Sun, 15 Aug 2010 06:58:12 +0000</pubDate>
		<dc:creator>সুশান্ত</dc:creator>
				<category><![CDATA[ব্লগাড্ডা]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://coffeehouseradda.com/?p=3435</guid>
		<description><![CDATA[আজ গোটা ভারতের, বিশেষ করে বাঙালি আর পাঞ্জাবিদের কাছে খুব দুঃখের দিনও সে কথা ভুলে গেলে চলবে কী? দেশটা যে টুকরো হয়েছিল এই দিনে, তাকে জুড়তে হবে না?
     ]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>আজ গোটা ভারতের, বিশেষ করে বাঙালি আর পাঞ্জাবিদের কাছে খুব দুঃখের দিনও সে কথা ভুলে গেলে চলবে কী? দেশটা যে টুকরো হয়েছিল এই দিনে, তাকে জুড়তে হবে না?</p>
<a href="http://www.addtoany.com/add_to/google_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F3435&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%9C%20%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%20%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%97%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A6%93%20%E0%A6%AC%E0%A6%9F%E0%A7%87%21" title="Google Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/google.png" width="16" height="16" alt="Google Bookmarks"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/orkut?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F3435&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%9C%20%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%20%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%97%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A6%93%20%E0%A6%AC%E0%A6%9F%E0%A7%87%21" title="Orkut" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/orkut.png" width="16" height="16" alt="Orkut"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/twitter?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F3435&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%9C%20%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%20%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%97%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A6%93%20%E0%A6%AC%E0%A6%9F%E0%A7%87%21" title="Twitter" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/twitter.png" width="16" height="16" alt="Twitter"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/facebook?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F3435&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%9C%20%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%20%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%97%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A6%93%20%E0%A6%AC%E0%A6%9F%E0%A7%87%21" title="Facebook" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/facebook.png" width="16" height="16" alt="Facebook"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/yahoo_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F3435&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%9C%20%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%20%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%97%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A6%93%20%E0%A6%AC%E0%A6%9F%E0%A7%87%21" title="Yahoo Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/yahoo.png" width="16" height="16" alt="Yahoo Bookmarks"/></a> <a class="a2a_dd addtoany_share_save" href="http://www.addtoany.com/share_save?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F3435&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%9C%20%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%20%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%97%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A6%93%20%E0%A6%AC%E0%A6%9F%E0%A7%87%21"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/share_save_120_16.png" width="120" height="16" alt="Share/Bookmark"/></a>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/3435/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>4</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>নবজাতকের কাছে এখনো অম্লান থাকুক, থাকবে আমাদের দৃঢ় অঙ্গীকার।</title>
		<link>http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/3396</link>
		<comments>http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/3396#comments</comments>
		<pubDate>Tue, 10 Aug 2010 04:24:40 +0000</pubDate>
		<dc:creator>সুশান্ত</dc:creator>
				<category><![CDATA[কবিতা]]></category>
		<category><![CDATA[প্রবন্ধ]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://coffeehouseradda.com/?p=3396</guid>
		<description><![CDATA[<a href=http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/3396><img src=http://lh3.ggpht.com/_Y7NPfnwUYj8/TGBR_lHwwRI/AAAAAAAACzU/OkcERQbB2vA/s288/Sukanta.jpg class=imgtfe hspace=5 align=left width=100  border=0></a>





From সুকান্ত ভট্টাচার্য


এসেছে নতুন শিশু, তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান
                                এই গেল সপ্তাহে অসমের প্রায় সমস্ত কাগজে গুয়াহাটি শহরের একটি সংবাদ ছিল এরকম। মরিয়ম [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><code><br />
<table style="width:auto">
<tr>
<td><a href="http://picasaweb.google.com/lh/photo/BVbZyOrNomESX4HXTue-qkXQPLg2RF_tEIgRISNclW0?feat=embedwebsite"><img src="http://lh3.ggpht.com/_Y7NPfnwUYj8/TGBR_lHwwRI/AAAAAAAACzU/OkcERQbB2vA/s288/Sukanta.jpg" /></a></td>
</tr>
<tr>
<td style="font-family:arial,sans-serif;font-size:11px;text-align:right">From <a href="http://picasaweb.google.com/karsushanta40/dfhcQF?authkey=Gv1sRgCILRu-e055-vtAE&amp;feat=embedwebsite">সুকান্ত ভট্টাচার্য</a></td>
</tr>
</table>
<p><strong>এসেছে নতুন শিশু, তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান</strong><em><br />
                                এই গেল সপ্তাহে অসমের প্রায় সমস্ত কাগজে গুয়াহাটি শহরের একটি সংবাদ ছিল এরকম। মরিয়ম বেগম বলে এক শ্রমিক পত্নী সন্তান প্রসব সম্ভাবনা নিয়েই বাসে চেপে মফসসলের এর বাড়ি থেকে গুয়াহাটিতে স্বামীর কাছে আসছিলেন। বাসের ভেতরেই প্রসব বেদনা শুরু হওয়াতে বাসটি তাকে গুয়াহাটি কমার্স কলেজের সামনে নামিয়ে রেখে চলে যায়। সভ্রান্ত-শিক্ষিত মানুষের ভীড়ে সেই মহিলার একটুকুও স্বচ্ছন্দ আশ্রয় মেলেনি। সেই পথের ‘পরেই পথচলতি কিছু মানুষ একটু আড়াল তৈরি করে দেন। সেখানেই ভদ্রমহিলা দুটি যমজ সন্তানের জন্ম দেন। পরে অবশ্যি খবর দিলে ‘মৃত্যুঞ্জয়’ এসে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু সেই প্রতিকূল পরিবেশে জন্ম নিতে গিয়ে একটি সন্তান জন্মেই আহত হয়। এবং পরে মারা যায়। স্বাধীনতার ছ’টি দশক অতিক্রান্ত করেও যখন এমন ঘটনা আমাদের সমাজে আকছার ঘটে  তখন কি মনে হয় না সুকান্তের সেই অঙ্গীকার এখনো কেমন জ্বলজ্যান্ত ভাবে প্রাসঙ্গিক। মনে পড়ে?<br />
                      যে শিশু ভূমিষ্ঠ হল আজ রাত্রে<br />
                     তার মুখে খবর পেলুমঃ<br />
                      সে পেয়েছে ছাড়পত্র এক,<br />
                       নতুন বিশ্বের দ্বারে তাই ব্যক্ত করে অধিকার<br />
                      জন্মমাত্র সুতীব্র চিৎকারে।<br />
                     খর্বদেহ নিঃসহায়, তবু তার মুষ্টিবদ্ধ হাত<br />
                      উত্তোলিত, উদ্ভাসিত<br />
                       কী এক দুর্বোধ্য প্রতিজ্ঞায়।<br />
তাঁর সেই বিখ্যাত কবিতা ‘ছাড়পত্রে’ সুকান্ত লিখছেনঃ<br />
                    এসেছে নতুন শিশু, তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান;<br />
                     জীর্ণ পৃথিবীতে ব্যর্থ, মৃত আর ধ্বংসস্তূপ-পিঠে<br />
                     চলে যেতে হবে আমাদের।<br />
                    চলে যাব- তবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ<br />
                      প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল,<br />
                    এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য ক’রে যাব আমি<br />
                       নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।<br />
<strong>হে সাথী, আজকে স্বপ্নের দিন গোনাঃ</strong></em><br />
সুকান্ত লিখেছিলেন ওই একই কবিতার শেষেঃ<br />
                           অবশেষে সব কাজ সেরে<br />
                           আমার দেহের রক্তে নতুন শিশুকে<br />
                            করে যাব আশীর্বাদ,<br />
                            তারপর হব ইতিহাস।।<br />
                সশরীরে এই কবি আজ আর নেই আমাদের কাছে। এমন কি ৪৭এর ১৫ আগষ্ট যেটুকু স্বাধীনতা আমাদের জুটেছে তার ক’মাস আগেই তাঁকে চলে যেতে হয়েছে। কিন্তু তিনি, তাঁর কবিতা এখনো বর্তমান। ইতিহাসের সামগ্রী হতে তাঁর এখনো অনেক বাকি মনে হয় না কি?<br />
	আমাদের স্বাধীনতার বছরটির সঙ্গে এই কবির জন্ম মৃত্যু দিনটির এক আশ্চর্য সংযোগ রয়েছে। ১৫ আগষ্ট তাঁর জন্ম দিন। বছর ১৯২৬। ১৯৪৭ তাঁর মৃত্যুর বছর। রবীন্দ্র জন্ম জয়ন্তীর মাত্র ক’দিন পর ১৩মে। এই বিশ বছর ন’মাস দিনেই তিনি ছাড়পত্র ( ১৩৫৭), ঘুমনেই ( ১৩৫৭), পূর্বাভাস (১৩৫৭), মিঠেকড়া ( ১৩৫৮), অভিযান (১৩৬০), হরতাল    ( ১৩৬৯), গীতিগুচ্ছ ( ১৩৭২), কবিতালিপি ( ১৯৮৩) ইত্যাদি আটটিরও বেশি গ্রন্থে ছড়ানো ছিটানো গান,কবিতা, গল্প,নাটক, প্রবন্ধের রচয়িতা। পথে পথে মিছিলে মিছিলে শোনা যাচ্ছে তাঁর অঙ্গীকার ,<br />
                    এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য ক’রে যাব আমি<br />
                     নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।<br />
কিম্বা ,<br />
      		         বন্ধু, তোমার ছাড়ো উদ্বেগ, সুতীক্ষ্ণ করো চিত্ত,<br />
    	                  বাংলার মাটি দুর্জয় ঘাঁটি বুঝে নিক দুর্বৃত্ত।<br />
            তের চৌদ্দ বছরের কবির কবিতা পড়ে মুগ্ধ তাঁর চেয়ে বয়সে বড় ‘পদাতিকে’র কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় তাঁর বন্ধু হয়ে যাচ্ছেন। পরে তিনিই তাঁর বেশির ভাগ গ্রন্থের সম্পাদনা করছেন ও ভূমিকা লিখছেন। ‘পরিচয়’, ‘কবিতা’র মতো সেকালের সেরা কবিতা পত্রিকাতে তাঁর কবিতা বেরুচ্ছে।<br />
            সারা বাংলা কিশোর বাহিনীর তিনি উদ্যোক্তা ও নেতা। চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের বীরেরা জেলথেকে ছাড়া পেয়েই  কলকাতার যক্ষা হাসপাতালে আসছেন কবির সঙ্গে দেখা করতে আর তাঁকে অভিনন্দন জানাতে। তাদেরই কেউ তাঁকে জানাচ্ছেন তখনই এই বিশবছরের কবির জীবনী বেরুতে যাচ্ছে আমেরিকা আর ফ্রান্সে! এই সম্মান তাঁর জুটছে কেবল কবি হবার জন্যে নয়। কেবলি কাগজে লিখে  ‘অঙ্গীকার’ জানাবার লোকতো তিনি ছিলেন না। ছিলেন একাধারে বিপ্লবী ও স্বাধীনতার আপোসহীন সংগ্রামী। কমুনিষ্ট পার্টির সারাক্ষণের কর্মী। সেই কাজে নিজের শরীরের উপর  যে অত্যাচারটুকু তিনি করলেন তাতেই না তাঁর শরীরে প্রথম ম্যালেরিয়া ও পরে যক্ষা বাসা বাঁধে এবং অকালেই তাঁর প্রাণটি কেড়ে নেয়।<br />
	 তাঁর রচনার সংখ্যা এমনিতে খুব একটা বেশি নয়। কিন্তু যদি তাঁর বয়সটির কথা মনে রাখি, তবে সেই সংখ্যা অবিশ্বাস্য। তাঁকে আমরা কবি হিসেবেই জানি। কিশোর কবি। কিন্তু যেমন রবীন্দ্রনাথ কেবল কবি ছিলেন না । সুকান্তও ঐ বয়সেই লিখেছিলেন কবিতা ছাড়াও, গান, গল্প, নাটক এবং প্রবন্ধ। তাঁর ‘ছন্দ ও আবৃত্তি’ প্রবন্ধটি পাঠেই বেশ বোঝা যায় ঐ বয়সেই তিনি  বাংলা ছন্দের প্রায়োগিক দিকটিই শুধু আয়ত্বে আনেন নি, সে নিয়ে ভালো তাত্বিক দক্ষতাও অর্জন করেছিলেন। অথচ ১৯৪৫এ প্রবেশিকা পরীক্ষাতে তিনি অকৃতকার্য হয়েছেন। স্কুলের ছাত্র হিসেবে ভালো মার্ক্স পাওয়া মেধাবী ছাত্র হবার নজির তাঁর নেই তেমন। ভারত ছাড়ো আন্দোলন ঝিমিয়ে গেলে আবার স্কুলে যেতে হচ্ছে বলে তিনি বেশ হতাশই হয়েছিলেন।<br />
               নিবারণ ভট্টাচার্য ও সুনীতি দেবী্র এই ক্ষণজন্মা সন্তান সুকান্ত জন্মেছিলেন এক মধ্যবিত্ত পরিবারে।  তাঁর বাবা জ্যাঠাদের পূব বাংলার ফরিদপুরের গ্রামের বাড়ি থেকে কলকাতা এসে বহু সংঘাত সংঘর্ষের মধ্যি দিয়ে থিতু হতে হয়েছিল। একান্নবর্তী পরিবারটিকে ধরে রেখেছিলেন তাঁরা।<br />
               তাঁদের বাড়িতে সাহিত্যের এক ভাল পরিবেশ ছিল। মনীন্দ্রলাল বসুর ‘রমলা’উপন্যাসের নায়ক সুকান্তের নামেই আদরের ভাইটির নাম রেখেছিলেন জ্যাঠতুতু দিদি রানি। রানিদিদির উৎসাহেই লেখালেখিতে সুকান্তের হাতে খড়ি। মনীন্দ্র বসুর উপন্যাসের সুকান্তকেও অকালেই যক্ষা রোগে চলে যেতে হয়েছিল। কবি সুকান্তেরও সেই একই গতি হবে রানিদি নিশ্চয়ই স্বপ্নেও ভাবেন নি। এই সংযোগ দেখতে পাবার বহু আগেই সেই রানিদির হঠাৎ মৃত্যু হয়েছিল। সুকান্তের বয়স তখন মাত্র সাত বা আট। তার পরেই বাবা জ্যাঠাদের পরিবার আলাদা হয়ে যায়।<br />
	সেই আট ন’ বছর বয়স থেকেই সুকান্ত লিখতে শুরু করেন।  স্কুলের হাতে লেখা পত্রিকা ‘সঞ্চয়ে’ একটি ছোট্ট হাসির গল্প লিখে আত্মপ্রকাশ করেন। তার দিনকতক পরে বিজন গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘শিখা’ কাগজে প্রথম ছাপার মুখ দেখে তাঁর লেখা বিবেকান্দের জীবনী।  মাত্র এগার বছর বয়সে ‘রাখাল ছেলে’ নামে একটি গীতি নাট্য রচনা করেন। এটি পরে তাঁর ‘হরতাল’ বইতে সংকলিত হয়। বলে রাখা ভাল্‌ পাঠশালাতে পড়বার কালেই ‘ধ্রুব’ নাটিকার নাম ভূমিকাতে অভিনয় করেছিলেন সুকান্ত। সপ্তম শ্রেণিতে পড়েন যখন তখন বাল্য বন্ধু লেখক অরুণাচল বসুর সঙ্গে মিলে আরেকটি হাতে লেখা কাগজ ‘সপ্তমিকা’ সম্পাদনা করেন। অরুণাচল তাঁর আমৃত্যু বন্ধু ছিলেন।<br />
                    ১৯৪১ পর্যন্ত এসে কলকাতা রেডিওর গল্পদাদুর আসরের নিয়মিত যোগদাতা ছিলেন সুকান্ত। সেখানে প্রথমে তিনি রবীন্দ্রনাথের কবিতা আবৃত্তি করেন। রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুর পর সেই আসরেই নিজের লেখা কবিতা পাঠ করে তাঁকে শ্রদ্ধা জানান। গল্পদাদুর আসরের জন্য সেই বয়সেই তাঁর লেখা গান মনোনীত হয়েছিল আর সুর দিয়ে গেয়েছিলেন আর কেউ নন সেকালের অন্যতম সেরা গায়ক পঙ্কজ মল্লিক। স্কুলের লেখাপড়াতে খুব ভালো ছিলেন সে খবর তেমন মেলেনা। কিন্তু তাঁর প্রতিভা যে ছিল প্রশ্নাতীত তা এই সব সম্মান আর স্বীকৃতিতেই প্রমাণ মেলে।<br />
<strong>আমার ঠিকানা খোঁজ ক’রো শুধু   সূর্যোদয়ের পথেঃ</strong><em><br />
                       দাদা সুশীল ভট্টাচার্যের বন্ধু বারীন্দ্রনাথ ঘোষের সংস্পর্শে এসে সুকান্ত সাম্যবাদী চেতনাতে উব্দুদ্ধ হন এবং কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেন। তিনিতো আর শুধু স্বাধীনতার স্বপ্নই দেখতেন না। তিনি  যে ‘নতুন চিঠি আসন্ন যুগের’ পেয়েছিলেন সে ছিল সাম্যবাদের। তিনি যখন পার্টিতে যোগ দেন তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলছে। বিয়াল্লিশের 'ভারত ছাড়ো' আন্দোলনের দামামা বাজছে। আর ওদিকে বাংলার ভয়ঙ্কর পঞ্চাশের মন্বন্তর। নিজের শেষ জীবনের সেরা রচনাটি  ‘সভ্যতার সংকট’ লিখে রবীন্দ্রনাথ প্রয়াত হয়েছেন। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদীদের উপর সমস্ত বিশ্বাস হারিয়েও লিখে গেছেন , 'মানুষের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ।’ লিখে গেছেন ‘জন্মদিনে’ কবিতায় তাঁর উইল পত্র ‘আমার কবিতা , জানি আমি ,<br />
গেলেও বিচিত্র পথে হয় নাই সে সর্বত্রগামী ।<br />
কৃষাণের জীবনের শরিক যে জন ,<br />
কর্মে ও কথায় সত্য আত্মীয়তা করেছে অর্জন ,<br />
যে আছে মাটির কাছাকাছি ,<br />
সে কবির বাণী-লাগি কান পেতে আছি ।‘<br />
 বলা হয়ে থাকে সুকান্ত সেই কবি। এ একটু বাড়াবাড়ি। কেননা এ কবিতা রবীন্দ্রনাথের বিনয় মাত্র। তিনি নিজেই চিরদিন সেই জনটি ছিলেন , কৃষাণের জীবনের শরিক যে জন ,/কর্মে ও কথায় সত্য আত্মীয়তা করেছে অর্জন’ ।  মনে পড়ে জীবনের প্রথম ভাগেই সেই চিত্রা কাব্যগ্রন্থের ‘এবার ফিরাও মোরে’ কবিতাতে  রবীন্দ্রনাথ আর একবার কোনো এক কবিকে সম্বোধন করে লিখছেনঃ<br />
                 “কবি , তবে উঠে এসো — যদি থাকে প্রাণ<br />
                  তবে তাই লহো সাথে , তবে তাই করো আজি দান ।<br />
                  বড়ো দুঃখ , বড়ো ব্যথা — সম্মুখেতে কষ্টের সংসার<br />
                  বড়োই দরিদ্র , শূন্য , বড়ো ক্ষুদ্র , বদ্ধ , অন্ধকার ।<br />
                  অন্ন চাই , প্রাণ চাই , আলো চাই , চাই মুক্ত বায়ু ,<br />
                   চাই বল , চাই স্বাস্থ্য , আনন্দ-উজ্জ্বল পরমায়ু ,<br />
                   সাহসবিস্তৃত বক্ষপট । এ দৈন্যমাঝারে , কবি ,<br />
                    একবার নিয়ে এসো স্বর্গ হতে বিশ্বাসের ছবি ।”<br />
       সে ছিল রবীন্দ্রনাথের বাকি জীবনের কাজের ইস্তাহার। তার তাঁর হাতে প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল ‘শ্রীনিকেতন’। হ্যাঁ, সুকান্তদের মতো তিনি সরাসরি বিদ্রোহের পথে হাঁটেননি বটে। সম্ভবত তাই জীবনের শেষে ওমন আরেক কবির ‘বাণী-লাগি কান পেতে’ ছিলেন। কিন্তু সেরকম কবি তখন আরো অনেক ছিলেন।   একা সুকান্তকে সে দায় দিলে তাঁর গৌরব বাড়ে হয়তো, কিন্তু তাঁর সমকালের পরিবেশটিকে বোঝা যায় না। সুকান্তের বন্ধু , তাঁর বেশিরভাগ গ্রন্থের সম্পাদক ‘পদাতিকে’র লেখক সুভাষ মুখপাধ্যায়ের কথা ভুলা যাবে কী করে? যাঁর ‘পদাতিকে’র প্রথম কবিতার পংক্তিগুলোই ছিল এরকমঃ<br />
                  “প্রিয় ফুল খেলবার দিন নয় অদ্য<br />
                  এসে গেছে ধ্বংসের বার্তা,<br />
                  দুর্যোগে পথ হয় হোক দুর্বোধ্য<br />
                  চিনে নেবে যৌবন আত্মা।“<br />
কাস্তের কবি দিনেশ দাশকে ভুলি কী করে, যার সেই কবিতার পংক্তি এক সময় মুখে মুখে ফিরতঃ<br />
                         নতুন চাঁদের বাঁকা ফালিটি<br />
                         তুমি বুঝি খুব ভালবাসতে?<br />
                        চাঁদের শতক আজ নহে তো<br />
                          এ-যুগের চাঁদ হ'লো কাস্তে!<br />
         এমন তখন আরো অনেক ছিলেন।  অরুণ মিত্র, সরোজ দত্ত, বীরেন্দ্র চট্টপাধ্যায়, সমর সেন এমন আরো কত! ঔপন্যাসিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা না হয় ভুলে থাকাই গেল, তখন সময়টাই এমন ছিল যে ‘পথের পাঁচালী’র আনন্দ যাত্রার পাঁচালীকার  আপাত উদাসীন লেখক  বিভূতি বন্ধোপাধ্যায়ের কন্ঠেও সেদিন শোনা গেছিল ‘অশনি সংকেত’। পঞ্চাশের আকালের উপর  লেখা উপন্যাস।  তখনকার বহু কবি লেখক  গোটা ভারতেই হয় সরাসরি কমিউনিষ্ট পার্টিতে নাম লিখিয়েছেন, না লেখালেও ‘ফ্যাসিবাদ বিরোধী লেখক শিল্পী সঙ্ঘে’ ছিলেন না এমন কবি লেখক শিল্পীদের নাম করা মুস্কিল! বুদ্ধদেব বসুর মতো ‘কবিতা’ নিবেদিত প্রাণও দূরে সরে থাকতে পারেন নি।<br />
তবে কিনা অন্যদের অনেকেই যখন রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে তখন কিছুটা সংশয়ী –সন্দিগ্ধ ছিলেন,অনেকেই তাঁকে বর্জন করছিলেন, সুকান্ত কিন্তু ‘রবীন্দ্রনাথের প্রতি’ কবিতাতে নির্বিরোধ উচ্চারণ করছেঃ<br />
                          যদিও রক্তাক্ত দিন, তবু দৃপ্ত তোমার সৃষ্টিকে<br />
                        এখনো প্রতিষ্ঠা করি আমার মনের দিকে দিকে।<br />
                রবীন্দ্রনাথের প্রতি তাঁর আকর্ষণ এতোটাই ছিল যে তিনি রীতিমত সাধনা করে নিজের হাতের লেখাকেও রবীন্দ্রনাথের মতো করে তুলেছিলেন। দু’জনের হাতের লেখা পান্ডুলিপি দেখলে চট করে অনেকে ধরতে পারবেননা কোনটা কার লেখা।<br />
</code><br />
<table style="width:auto">
<tr>
<td><a href="http://picasaweb.google.com/lh/photo/B2zH0ZsaWCJapCQQqDZCtUXQPLg2RF_tEIgRISNclW0?feat=embedwebsite"><img src="http://lh3.ggpht.com/_Y7NPfnwUYj8/TGBSGHF2RjI/AAAAAAAAC0M/uJe9YvNt9DA/s288/DSC03087.JPG" /></a></td>
</tr>
<tr>
<td style="font-family:arial,sans-serif;font-size:11px;text-align:right">From <a href="http://picasaweb.google.com/karsushanta40/dfhcQF?authkey=Gv1sRgCILRu-e055-vtAE&amp;feat=embedwebsite">সুকান্ত ভট্টাচার্য</a></td>
</tr>
</table>
<p><code><br />
<table style="width:auto">
<tr>
<td><a href="http://picasaweb.google.com/lh/photo/Er-q8qqN9rHa92WUb3DEx0XQPLg2RF_tEIgRISNclW0?feat=embedwebsite"><img src="http://lh4.ggpht.com/_Y7NPfnwUYj8/TGBSXc2CzdI/AAAAAAAACzk/9a2HugkygXI/s288/DSC03088.JPG" /></a></td>
</tr>
<tr>
<td style="font-family:arial,sans-serif;font-size:11px;text-align:right">From <a href="http://picasaweb.google.com/karsushanta40/dfhcQF?authkey=Gv1sRgCILRu-e055-vtAE&amp;feat=embedwebsite">সুকান্ত ভট্টাচার্য</a></td>
</tr>
</table>
<p>  সুভাষ মুখপাধ্যায় লিখেছিলেন, তাঁরা কবিতা ছেড়ে পার্টিতে এসছিলেন , আর সুকান্ত এলেন কবিতা নিয়ে। এর অর্থ সুকান্ত যখন পার্টিতে যোগ দিলেন তখন পার্টি তার রাজনীতির প্রচারে শিল্প সাহিত্যেকে গুরুত্ব দিতে শুরু করেছে। এক দশক পরেই দেখা গেছে শিল্প সাহিত্যের জন্যে কাজটা খুব সুখকর হয় নি। কিন্তু , সুকান্তের কাছে পার্টির আর পাঁচটা কাজের থেকে কবিতা লেখা আলাদা কিছু ছিল না। দুটোই তিনি সমান নিষ্ঠার সঙ্গে করছিলেন। কবি লেখক হিসেবে সেই বয়সেই অপার সম্মানের অধিকারি হওয়া সত্বেও তাঁর স্বপ্ন ছিল বিপ্লবী কর্মীদের মধ্যে তাঁর কবিতা তথা অন্য লেখালেখি জনপ্রিয় হলেই তাঁর শ্রম স্বার্থক। নিজের লেখা লেখি নিয়ে তাঁর আর কোনো স্বপ্ন বা পরিকল্পনা ছিল বলে মনে হয় না। তাই নিজের লেখাকে তিনি মোটেও সযত্ন লালন করতেন না। টুকরো টাকরা ছেঁড়া কাগজে, সিগেরেটের প্যাকেটে এখানে ওখানে লিখে ফেলে রেখে দিতেন। তেমন কোনো খাতা তাঁর ছিল না। এবাড়িতে অবাড়িতে দেয়ালে দেয়ালে কয়লা পেন্সিলে লিখে বকা খাবার নজিরও তাঁর প্রচুর আছে। সেগুলোরই কিছূ  পরে বন্ধুদের আনুকুল্যে সংগৃহীত হয়ে ‘পূর্বাভাসে’ দেয়ালিকা নামে সংকলিত হয়েছিল। বন্ধুদের কেউ কেউ বিশেষ করে তাঁর আবাল্য বন্ধু অরুণাচল তাঁকে লেখাগুলো যত্ন করে খাতায় তুলে রাখতে বললে বলতেন, যখনই দরকার তখনই লেখার জন্যে তিনি নিজেই যখন রয়েছেন তবে আর যেগুলো সংরক্ষিত রাখবার দরকার কী? এ যেন ছাত্র রাজনীতির নেতার বক্তৃতা। বক্তব্য রাখবার জন্যে বক্তা স্বয়ং যখন রয়েইছেন তবে আর লিখে রাখবার দরকার কী!<br />
                তাই বলে তাঁর লেখাগুলো হারিয়ে যায় নি। তাঁর বন্ধুরা  , অনুগতরা তাঁর সেই লেখালেখিগুলোর অনেকটাই সংগ্রহ করতে পেরেছেন। এবং সেগুলো ছেপে সংরক্ষিত করতে পেরেছেন। ভাগ্যিস, এখানে ওখানে প্রচুর প্রকাশিত হয়েছিল তাঁর লেখা। পার্টির কাগজ ‘স্বাধীনতা’র কিশোর বিভাগ  তিনি নিজেই সম্পাদনা করতেন। আকালের দিনগুলোতে ফ্যাসিবাদবিরোধী লেখক ও শিল্পিসঙ্ঘের পক্ষে আকাল (১৯৪৪) নামে একটি কাব্যগ্রন্থ সম্পাদনা করেন। বাংলার কিশোর বাহিনী থেকে তাঁর ও অন্নদাশঙ্কর ভট্টাচার্যের সম্পাদনাতে বেরিয়েছিল ‘অপরাজেয়’ , যেখানে তাঁর ‘অভিযান’ কাব্যনাট্যটি প্রকাশ পেয়েছিল। সেসব গ্রন্থও তাঁর লেখা সংগ্রহে সাহায্য করেছিল অনেক। এমনিতে নিজের জীবিতাবস্থাতে তিনি নিজের কোনো কাব্য বা গদ্য গ্রন্থের প্রকাশিত সংকলন দেখে যেতে পারেন নি। তিনি যখন রোগ শয্যাতে তখন ‘ছাড়পত্র’ প্রকাশের উদ্যোগ চলছে। বন্ধু অরুণাচল তাঁকে কিছু ছাপা পৃষ্ঠা দেখিয়েছিলেন মাত্র। একে একে তাঁরাই তাঁর সব লেখা উদ্ধার করে গ্রন্থবদ্ধ করেন। এ পর্যন্ত দু’ই বাংলা থেকেই তাঁর অজস্র রচনা সংকলন বেরিয়েছে।<br />
তাঁর জনপ্রিয়তা এমনই যে আজো বাংলা কিম্বা বাঙালি প্রধান এলাকার যেকোনো গণআন্দোলনে তাঁর কবিতার থেকে পংক্তি বাছাই করে দেয়াল লিখতে কিম্বা শ্লোগান দিতে শোনা যায়। ইতিহাসের কী পরিহাস তাঁরই ভ্রাতুষ্পুত্র বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য যখন পশ্চিম বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তখন সেখানে সংঘটিত হচ্ছে সিঙ্গুর, নন্দীগ্রাম , লালগড় ! আজকের কবির কন্ঠে উচ্চারিত হচ্ছেঃ<br />
                         হে কবি সুকান্ত!</p>
<p>                         তুমি কি জানতে যে<br />
                          তোমাদেরই বংশে আসবে<br />
                          এই বাংলার ধ্বংসকর্তা?</p>
<p>                           তুমি কি জানতে যে<br />
                           তোমাদেরই বংশে আসবে সে<br />
                            যে "গরীব মানুষকে চাপা দিয়ে<br />
                          বড়লোকের মোটরগাড়ী" বানাবার<br />
                           সব আয়োজন পাকা করবে?<br />
                  কিন্তু এও ঠিক যে, স্কুল পাঠ্য বইতে এখনো সংকলয়িতারা তাঁর কবিতাকে বাদ দিতে না পারলেও উঁচু ক্লাসের সাহিত্যের ইতিহাস লেখকেরা বা তাত্বিকেরা তাঁর কবিতার জন্যে বেশি পৃষ্ঠা বরাদ্দ করেন নি। বাংলা কবিতার ইতিহাসে রবীন্দ্রনাথের পর কে এই প্রশ্ন এলেই নির্দ্বিধায় তাঁরা আজ জীবনানন্দের নাম নিয়ে থাকেন । আর কারো কারো নাম যোগ দিতে হলে সেখানে বিষ্ণু দে, বুদ্ধদেব বসু , সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, অমিয় চক্রবর্তীর নাম চলে আসে, সুকান্তের আসে না। এমন তাত্বিকতা যে পক্ষপাত মুক্ত তা বলা যাবে না। কেন না, সমর  সেন , সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের মতো পরিণত কবির নাম না নেয়াটাও আমাদের কৌতুহলী করে। তাই বলে সুকান্তকে বিনা প্রশ্নে কবি হিসেবে গ্রহণ করাটাও হবে আরেক ধরণের পক্ষপাত। এটি ঘটনা যে সুকান্ত চর্চা আজকাল কমেছে। গণআন্দোলন বিহীন পরিবেশে তাঁর কবিতা তেমন পাঠক টানে না। তাঁর, কিম্বা নজরুলের কিম্বা বীরেন্দ্র চট্টপাধ্যাদের  কবিতার আবেদনের স্থান কালের পরিসর স্বল্প। বিদ্রোহী –বিপ্লবী কবি হিসেবে তাঁরা নিজেদের পরিচয় গড়েছেন। সে তাঁরা ছিলেন আছেন এবং থাকবেন। কিন্তু বিশুদ্ধ সাহিত্যিক বা কবি হিসেবে কোনো প্রতিষ্ঠা তাঁরা আকাঙ্খাও করেন নি, নেইও। নজরুলত লিখেইছেনঃ<br />
                     বড় কথা বড় ভাব আসে না ক’ মাথায়, বন্ধু, বড় দুখে!<br />
                   অমর কাব্য তোমরা লিখিও, বন্ধু, যাহারা আছ সুখে!<br />
  সুকান্তও কি ওই কথাই বলতে চাননি যখন লেখেনঃ<br />
                          প্রয়োজন নেই, কবিতার স্নিগ্ধতা–<br />
                          কবিতা তোমায় দিলাম আজকে ছুটি,<br />
                          ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী-গদ্যময়ঃ<br />
                          পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝল্‌সানো রুটি।।<br />
	সুকান্তের বেলা বয়স একটা সীমা বেঁধে দিয়েছিল। নজরুলের বেলাও কথাটা সত্যি। কেননা বেশিদিন নজরুলও সুস্থ শরীরে লিখে যেতে পারেন নি। কিন্তু তাঁদের গানগুলো দেখায় কোথাও তাঁরা দিক বদল করেওছিলেন। রূপ রঙের বৈচিত্র নিয়ে  শিল্পী হিসেবে তাঁদের স্থান পাকা করবার সম্ভাবনা পুরো মাত্রাতে ছিল। এবং সেদিকে তাঁর ঝুঁকছিলেনও। কিন্তু সময় বিদ্রোহী-বিপ্লবী সত্বার মধ্যে তাঁদেরকে সবদিক দিয়েই  বেঁধে ফেলেছিল।<br />
<strong>যদিও নগণ্য আমি, তুচ্ছ বটবৃক্ষের সমাজেঃ</strong></em><br />
	ছন্দ-অলঙ্কারের মতো কবিতার ঔপকরণিক বিষয়গুলোতে সুকান্তের দক্ষতা ঈর্ষণীয় ছিল। সে নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু,  রাজনৈতিক বা আদর্শগত বোধ তখনো পরিপক্ক হবার বয়স ছিল না। রবীন্দ্রনাথকেও সেই পরিপক্কতার জন্যে জীবনের নিদেন পক্ষে তিনটি দশক ব্যয় করতে হয়েছিল।  তাই তাঁর ‘বিয়েবাড়ির মজা’ কবিতাটির  রাজনৈতিক আবেদন আজ আমাদের হাসির উদ্রেক করে। তিনি লেখেনঃ<br />
                     বললে পুলিশঃ এই কি কর্তা, ক্ষুদ্র আয়োজন?<br />
                    পঞ্চাশ জন কোথায়? এ যে দেখছি হাজার জন!<br />
                          এমনি ক’রে চাল নষ্ট দুর্ভিক্ষের কালে?<br />
  	আমরা যারা সেই দুর্ভিক্ষের ইতিহাস জানি তারা জানি যে, “এমনি ক’রে চাল নষ্ট দুর্ভিক্ষের কালে?” এই প্রশ্ন করবার অধিকার ব্রিটিশের অধীনস্থ কোনো পুলিশের ছিল না। কবিতার এমন বিচারে যদি কেউ আপত্তি করেন তবে সে দোষ আমাদের নয়। রাজনীতির বার্তা দেয়াকেই যারা কবিতার আসল উদ্দেশ্য মনে করেন তাঁরা নিজেরাই এমন সম্ভাবনার বীজ উৎপাদন করে কবিতাতে বা উপন্যাসে বপন করে রেখে দেন। বিখ্যাত আবৃত্তিকার প্রদীপ ঘোষ এক সাক্ষাৎকারে জানাচ্ছেন এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজকেরা তাঁকে যখন সুকান্তের কবিতা আবৃত্তি করতে ডাকছেন তখন আগে থেকেই জানিয়ে দিচ্ছেন তিনি যেন ‘প্রিয়তমাসু’ কবিতাটি না পড়েন। কেননা সে কবিতার একজায়গাতে রয়েছেঃ<br />
                         যুদ্ধ চাই না আর, যুদ্ধ তো থেমে গেছে;<br />
                          পদার্পণ করতে চায় না মন ইন্দোনেশিয়ায়<br />
                          আর সামনে নয়,<br />
                           এবার পেছনে ফেরার পালা।<br />
এই ‘পেছনে ফেরার’ কথা থেকে আয়োজকদের মনে হয়েছে কবির রাজনৈতিক বিচ্যুতি হয়েছে! তার মানে দাঁড়ালো এই যে রাজনীতির বাতাবরণ পাল্টালেই এমন কবিতার আবেদন পালটে যায়। সযত্ন সংরক্ষণ করতেন না বলে সুকান্তের বহু কবিতা পুনরাবৃত্তির দোষেও দুষ্ট হয়েছে। পড়তে পড়তে মনে হয়, একই কথা বার বার বলছেন, যেমনটি রাজনীতি বা সমাজকর্মের মাঠের কর্মীরা বলে থাকেন। তাঁর বৈষয়িক দরকার থাকলেও শৈল্পিক দরকার একেবারেই নেই। কোথাও কোথাওতো পংক্তিগুলোও হুবহু প্রায় এক । যেমন ‘সিগেরেট’ এবং ‘ দিয়াশলাই কাঠি’ কবিতা দুটো।<br />
সিগেরেট’ কবিতাতে লিখছেনঃ<br />
                               তাই, আর নয়;<br />
                              আর আমরা বন্দী থাকব না<br />
                              কৌটোয় আর প্যাকেটে;<br />
                              আঙুলে আর পকেটে<br />
                             সোনা-বাঁধানো ‘কেসে’ আমাদের নিঃশ্বাস হবে না রুদ্ধ।<br />
                              আমরা বেরিয়ে পড়ব,<br />
                              সবাই একজোটে, একত্রে–<br />
                              তারপর তোমাদের অসতর্ক মুহূর্তে<br />
                               জ্বলন্ত আমরা ছিট্‌কে পড়ব তোমাদের হাত থেকে<br />
                                বিছানায় অথবা কাপড়ে;<br />
                               নিঃশব্দে হঠাৎ জ্বলে উঠে<br />
                               বাড়িসুদ্ধ পুড়িয়ে মারব তোমাদের<br />
                                যেমন করে তোমরা আমাদের পুড়িয়ে মেরেছ এতকাল।।<br />
দিয়াশলাই কাঠি’ কবিতাতে আবারো লিখছেন প্রায় ঐ একই কথাঃ<br />
                            আমরা বন্দী থাকবো না তোমাদের পকেটে পকেটে,<br />
                            আমরা বেরিয়ে পড়ব, আমরা ছড়িয়ে পড়ব<br />
                            শহরে, গঞ্জে , গ্রামে–দিগন্ত থেকে দিগন্তে।<br />
                            আমরা বার বার জ্বলি, নিতান্ত অবহেলায়–<br />
                             তা তো তোমরা জানোই!<br />
                            কিন্তু তোমরা তো জানো না:<br />
                           কবে আমরা জ্বলে উঠব–<br />
                           সবাই শেষবারের মতো!<br />
তেমনি ‘জাগবার দিন আজ’ কবিতাতে আছেঃ<br />
                            আজকের দিন নয় কাব্যের -<br />
                             আজকের সব কথা পরিণাম আর সম্ভাব্যের;<br />
 তেমনি আছে ‘মৃত পৃথিবী’তেঃ<br />
                             আজকের দিন নয় কাব্যের<br />
                             পরিণাম আর সম্ভাব্যের...<br />
            এরকম কিছু ত্রুটি আর সীমাবদ্ধতা সত্বেও আমাদের বিশ্বাস সুকান্ত কোনোদিন ফুরিয়ে যাবেন না। সাহিত্যের ইতিহাসের লেখকেরা বা তাত্বিকেরা তাঁর জন্যে বেশি পৃষ্ঠা বরাদ্দ না করলেও যখনই যেখানে  আম ‘জনতার মুখে ফোটে’ উঠবে  ‘বিদ্যুৎবাণী’ সুকান্ত সেখানে উচ্চারিত হবেন সে সত্য আমাদের দেখিয়েছে সিঙ্গুর নন্দীগ্রাম। তিনি লিখেছিলেনঃ<br />
                           যদিও নগণ্য আমি, তুচ্ছ বটবৃক্ষের সমাজে<br />
                           তবু ক্ষুদ্র এ শরীরে গোপনে মর্মরধ্বনি বাজে,<br />
                          বিদীর্ণ করেছি মাটি, দেখেছি আলোর আনাগোনা<br />
                            শিকড়ে আমার তাই অরণ্যের বিশাল চেতনা।<br />
আমরাও মনে করি তাঁর সিগারেট, একটি মোরগের কাহিনী, দেশলাই কাঠি, প্রিয়তমাসু, রবীন্দ্রনাথের প্রতি,আঠার বছর বয়স, রানার , অনুভব, লেনিন ইত্যাদি কিছু কবিতা ক্রমেই বাংলার মুষ্ঠিমেয় কিছু ধ্রুপদী কবিতার সারিতে নাম লেখাবে এবং আরো বহু বহু দিন আবৃত্তি তথা পাঠ করা হবে কবিতাগুলো। স্বাধীনতার এতোটা বছর পরেও যে শিশু আগামী কাল জন্ম নেবে তার জন্যে স্থান ছেড়ে দেবার, প্রাণপণে জঞ্জাল সরাবার কাজ এখনো সম্পন্ন হয়ে ওঠেনি। এখনো এ বিশ্বকে তার জন্যে বাসযোগ্য করে তুলা যায় নি। যে মানুষ তাতে হতাশ হয়ে সুকান্তের অঙ্গীকার ভুলে যায় তার মানবতাবোধ, তাঁর শিল্পবোধ আর সভ্যরুচিকে নিয়ে আমরা প্রশ্ন তুলতে পারি। তাই বলে সুকান্তের মহত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলবার মত অশিক্ষা  যেন আমাদের আচ্ছন্ন না করে   । নবজাতকের কাছে এখনো অম্লান থাকুক আর থাকবে আমাদের দৃঢ় অঙ্গীকার।<br />
</code><br />
<table style="width:auto">
<tr>
<td><a href="http://picasaweb.google.com/lh/photo/CXJ9Ky09PJQlYCiIWeYrvEXQPLg2RF_tEIgRISNclW0?feat=embedwebsite"><img src="http://lh6.ggpht.com/_Y7NPfnwUYj8/TGDNkSFwVvI/AAAAAAAAC0U/Ry79S6WEbfw/s288/DSC03089.JPG" /></a></td>
</tr>
<tr>
<td style="font-family:arial,sans-serif;font-size:11px;text-align:right">From <a href="http://picasaweb.google.com/karsushanta40/dfhcQF?authkey=Gv1sRgCILRu-e055-vtAE&amp;feat=embedwebsite">সুকান্ত ভট্টাচার্য</a></td>
</tr>
</table>
<p><a href="http://banglalibrary.evergreenbangla.com/sukantabhattacharya/">সুকান্তরচনাবলী পড়ুন এখানে</a></p>
<a href="http://www.addtoany.com/add_to/google_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F3396&amp;linkname=%E0%A6%A8%E0%A6%AC%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%9B%E0%A7%87%20%E0%A6%8F%E0%A6%96%E0%A6%A8%E0%A7%8B%20%E0%A6%85%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A8%20%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%95%2C%20%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%AC%E0%A7%87%20%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%A6%E0%A7%83%E0%A7%9D%20%E0%A6%85%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A7%80%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A5%A4" title="Google Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/google.png" width="16" height="16" alt="Google Bookmarks"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/orkut?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F3396&amp;linkname=%E0%A6%A8%E0%A6%AC%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%9B%E0%A7%87%20%E0%A6%8F%E0%A6%96%E0%A6%A8%E0%A7%8B%20%E0%A6%85%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A8%20%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%95%2C%20%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%AC%E0%A7%87%20%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%A6%E0%A7%83%E0%A7%9D%20%E0%A6%85%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A7%80%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A5%A4" title="Orkut" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/orkut.png" width="16" height="16" alt="Orkut"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/twitter?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F3396&amp;linkname=%E0%A6%A8%E0%A6%AC%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%9B%E0%A7%87%20%E0%A6%8F%E0%A6%96%E0%A6%A8%E0%A7%8B%20%E0%A6%85%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A8%20%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%95%2C%20%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%AC%E0%A7%87%20%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%A6%E0%A7%83%E0%A7%9D%20%E0%A6%85%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A7%80%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A5%A4" title="Twitter" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/twitter.png" width="16" height="16" alt="Twitter"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/facebook?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F3396&amp;linkname=%E0%A6%A8%E0%A6%AC%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%9B%E0%A7%87%20%E0%A6%8F%E0%A6%96%E0%A6%A8%E0%A7%8B%20%E0%A6%85%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A8%20%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%95%2C%20%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%AC%E0%A7%87%20%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%A6%E0%A7%83%E0%A7%9D%20%E0%A6%85%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A7%80%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A5%A4" title="Facebook" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/facebook.png" width="16" height="16" alt="Facebook"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/yahoo_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F3396&amp;linkname=%E0%A6%A8%E0%A6%AC%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%9B%E0%A7%87%20%E0%A6%8F%E0%A6%96%E0%A6%A8%E0%A7%8B%20%E0%A6%85%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A8%20%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%95%2C%20%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%AC%E0%A7%87%20%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%A6%E0%A7%83%E0%A7%9D%20%E0%A6%85%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A7%80%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A5%A4" title="Yahoo Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/yahoo.png" width="16" height="16" alt="Yahoo Bookmarks"/></a> <a class="a2a_dd addtoany_share_save" href="http://www.addtoany.com/share_save?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F3396&amp;linkname=%E0%A6%A8%E0%A6%AC%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%9B%E0%A7%87%20%E0%A6%8F%E0%A6%96%E0%A6%A8%E0%A7%8B%20%E0%A6%85%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A8%20%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%95%2C%20%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%AC%E0%A7%87%20%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%A6%E0%A7%83%E0%A7%9D%20%E0%A6%85%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A7%80%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A5%A4"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/share_save_120_16.png" width="120" height="16" alt="Share/Bookmark"/></a>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/3396/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>7</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>কফিহাউসে নিয়মিত আসতে আমাকে কে আটকে রাখে জানেন?</title>
		<link>http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/3139</link>
		<comments>http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/3139#comments</comments>
		<pubDate>Thu, 08 Jul 2010 10:19:57 +0000</pubDate>
		<dc:creator>সুশান্ত</dc:creator>
				<category><![CDATA[পুস্তক]]></category>
		<category><![CDATA[রাজনীতি]]></category>
		<category><![CDATA[সমাজ]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://coffeehouseradda.com/?p=3139</guid>
		<description><![CDATA[<a href=http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/3139><img src=http://coffeehouseradda.com/files/2010/07/FCover08-01.JPG class=imgtfe hspace=5 align=left width=100  border=0></a>না ভালো গাইতে পারি, না পারি ভালো কবিতা কইতে। পারিতো এই কাগজটা করতে। আট বছরে পড়ল।
 বছরে তিনটা বের করা কি চাট্টিখানি কথা? তাই শুধু আপনাদের সঙ্গেই নয়, কার সঙ্গেই নিয়মিত আড্ডা দেয়া হয় না।
এ আমার লজ্জার কথা, দুঃখের কথা। তবু আনন্দ হয়, যদি এই কাগজের সঙ্গে কাউকে জুড়তে পারি।এবারে এটি আন্তর্জাতিক মান ধারাবাহিক সংখ্যা [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><a href="http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/3139/fcover08-01" rel="attachment wp-att-3140"><img src="http://coffeehouseradda.com/files/2010/07/FCover08-01.JPG" alt="FCover08-01" width="580" height="768" class="alignleft size-full wp-image-3140" /></a>না ভালো গাইতে পারি, না পারি ভালো কবিতা কইতে। পারিতো এই কাগজটা করতে। আট বছরে পড়ল।<br />
 বছরে তিনটা বের করা কি চাট্টিখানি কথা? তাই শুধু আপনাদের সঙ্গেই নয়, কার সঙ্গেই নিয়মিত আড্ডা দেয়া হয় না।<br />
এ আমার লজ্জার কথা, দুঃখের কথা। তবু আনন্দ হয়, যদি এই কাগজের সঙ্গে কাউকে জুড়তে পারি।এবারে এটি আন্তর্জাতিক মান ধারাবাহিক সংখ্যা (ISSN) পেয়ে গৌরবান্বিত হলো।বহু যত্নের আর শ্রমের  এই ফসল আপনাদের ভালো লাগলেই আমার ক্লান্তি ঝরে যাবে। নিচে ক্লিক করুন আর দেখুন।<br />
<code><a title="View Pragyan 08-01 on Scribd" href="http://www.scribd.com/doc/34002334/Pragyan-08-01">Pragyan 08-01</a>          <code>  		 		 		 		 		 		 		</p>
<a href="http://www.addtoany.com/add_to/google_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F3139&amp;linkname=%E0%A6%95%E0%A6%AB%E0%A6%BF%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%89%E0%A6%B8%E0%A7%87%20%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%A4%20%E0%A6%86%E0%A6%B8%E0%A6%A4%E0%A7%87%20%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%87%20%E0%A6%95%E0%A7%87%20%E0%A6%86%E0%A6%9F%E0%A6%95%E0%A7%87%20%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%96%E0%A7%87%20%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%A8%3F" title="Google Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/google.png" width="16" height="16" alt="Google Bookmarks"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/orkut?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F3139&amp;linkname=%E0%A6%95%E0%A6%AB%E0%A6%BF%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%89%E0%A6%B8%E0%A7%87%20%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%A4%20%E0%A6%86%E0%A6%B8%E0%A6%A4%E0%A7%87%20%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%87%20%E0%A6%95%E0%A7%87%20%E0%A6%86%E0%A6%9F%E0%A6%95%E0%A7%87%20%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%96%E0%A7%87%20%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%A8%3F" title="Orkut" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/orkut.png" width="16" height="16" alt="Orkut"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/twitter?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F3139&amp;linkname=%E0%A6%95%E0%A6%AB%E0%A6%BF%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%89%E0%A6%B8%E0%A7%87%20%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%A4%20%E0%A6%86%E0%A6%B8%E0%A6%A4%E0%A7%87%20%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%87%20%E0%A6%95%E0%A7%87%20%E0%A6%86%E0%A6%9F%E0%A6%95%E0%A7%87%20%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%96%E0%A7%87%20%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%A8%3F" title="Twitter" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/twitter.png" width="16" height="16" alt="Twitter"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/facebook?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F3139&amp;linkname=%E0%A6%95%E0%A6%AB%E0%A6%BF%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%89%E0%A6%B8%E0%A7%87%20%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%A4%20%E0%A6%86%E0%A6%B8%E0%A6%A4%E0%A7%87%20%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%87%20%E0%A6%95%E0%A7%87%20%E0%A6%86%E0%A6%9F%E0%A6%95%E0%A7%87%20%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%96%E0%A7%87%20%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%A8%3F" title="Facebook" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/facebook.png" width="16" height="16" alt="Facebook"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/yahoo_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F3139&amp;linkname=%E0%A6%95%E0%A6%AB%E0%A6%BF%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%89%E0%A6%B8%E0%A7%87%20%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%A4%20%E0%A6%86%E0%A6%B8%E0%A6%A4%E0%A7%87%20%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%87%20%E0%A6%95%E0%A7%87%20%E0%A6%86%E0%A6%9F%E0%A6%95%E0%A7%87%20%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%96%E0%A7%87%20%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%A8%3F" title="Yahoo Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/yahoo.png" width="16" height="16" alt="Yahoo Bookmarks"/></a> <a class="a2a_dd addtoany_share_save" href="http://www.addtoany.com/share_save?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F3139&amp;linkname=%E0%A6%95%E0%A6%AB%E0%A6%BF%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%89%E0%A6%B8%E0%A7%87%20%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%A4%20%E0%A6%86%E0%A6%B8%E0%A6%A4%E0%A7%87%20%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%87%20%E0%A6%95%E0%A7%87%20%E0%A6%86%E0%A6%9F%E0%A6%95%E0%A7%87%20%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%96%E0%A7%87%20%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%A8%3F"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/share_save_120_16.png" width="120" height="16" alt="Share/Bookmark"/></a>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/3139/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>4</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>লং ড্রাইভে রবীন্দ্রনাথ</title>
		<link>http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/3117</link>
		<comments>http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/3117#comments</comments>
		<pubDate>Sun, 04 Jul 2010 18:55:57 +0000</pubDate>
		<dc:creator>সুশান্ত</dc:creator>
				<category><![CDATA[অনুবাদ]]></category>
		<category><![CDATA[কবিতা]]></category>
		<category><![CDATA[ব্লগাড্ডা]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://coffeehouseradda.com/?p=3117</guid>
		<description><![CDATA[<a href=http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/3117><img src=http://coffeehouseradda.com/files/2010/07/RT_t2_pic1.jpg class=imgtfe hspace=5 align=left width=100  border=0></a>
                                                       [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><a href="http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/3117/rt_t2_pic1" rel="attachment wp-att-3118"><img src="http://coffeehouseradda.com/files/2010/07/RT_t2_pic1.jpg" alt="RT_t2_pic1" width="273" height="329" class="aligncenter size-full wp-image-3118" /></a><br />
                                                                   মূল অসমিয়াঃ বিকাশ জ্যোতি শইকিয়া।</p>
<p>লং ড্রাইভে বেরিয়েছেন রবীন্দ্রনাথ, তাঁকে সেলাম ঠুকছে পথের পাশের গাছগুলো।<br />
ফুলগুলো, সম্ভাষণ জানাচ্ছে বুড়ো পাহাড়ের পাথরগুলো।</p>
<p>রবীন্দ্রনাথের ঠোঁটে সিগেরেট, গেল রাতের  নেশার খানিকটা দু’চোখের আবেশে<br />
পথ চলতি লোকেরা দেখে রবীন্দ্রনাথের এলটো কার, বেপরোয়া চাল চলন<br />
ঐ যে , কানে মোবাইল নিয়ে ড্রাইভিং সিটে রবীন্দ্রনাথ, কারের স্টিরিওতে দুমদাম মিউজিক<br />
নচিকেতার গান, ট্রাফিক জ্যামে মন্থর রবীন্দ্রনাথের গাড়ি</p>
<p>মালিগাঁওয়ের* একটি ধাবাতে থেমে যায় রবীন্দ্রনাথের কার, ধাবার ভেতরে একটা ইন্টারভ্যুর আশাতে নীলিম কুমার **<br />
কাউণ্টারে দুই প্লেট পর্ক, আর একটা ব্লেন্ডারস প্রাইড ফুল অর্ডার দিয়ে সিট টেনে বসে পড়েন রবীন্দ্রনাথ,<br />
বিস্মিত নীলিম কুমার, দু’পেগ টেনে বলেন, দাদা , একটা কবিতা শোনান<br />
ধুর কবিতা!! বিরক্তিতে মুখ কোঁচকান রবীন্দ্রনাথ। বিরবিরিয়ে বলেন, দুনিয়াতে যত্তসব টাকার ধান্দা !<br />
তার চে’ বলো এই রাজ্যে  কি কিছু ম্যানেজ করা যাবে, এন আর এইচ এমের বাজার শুনেছি বেশ ভালো<br />
বাঁধের ঠিকাতেও বুঝি অঢেল টাকা, পি ডাব্লিউ ডি-র খবর কী, পেপারের বিজনেসও মন্দ নয় !<br />
আশ্চর্যচকিত হয়ে যান নীলিম কুমার, এ কী বলছেন রবীন্দ্রনাথ! কী বলছেন এ সব ?</p>
<p>এই কি সেই রবীন্দ্রনাথ যিনি কবিতা লিখেছিলেন, গীতাঞ্জলি, দ্য সং অফারিংস<br />
‘মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারানো পাপ!’ অ্যাঁ ! কী পরিবর্তন, বেশ  ! বেশ!<br />
মুড অফ হয়ে যায় রবীন্দ্রনাথের। কী কবিতা , কোথায় কবিতা, কিসের কবিতা!<br />
 এ পাগল বলে  কী! ছাড়ো তো তোমার প্রলাপ, কবিতাতে কি কিছু পাল্টায় ?<br />
কল্পনারসিকের বাজে কালচার!  কার জন্যে কবিতা ? নিরন্ন মানুষের পেট ভরে না কবিতাতে<br />
সোনাগাছির বেশ্যারা কাবিতা লেখে ভদ্রমানুষের, বানে ধোয়া ধেমাজি ***কবিতা লেখে রাজনীতির মানুষের<br />
সংঘর্ষে নিহতের আত্মীয়রা লেখে শোকের স্বরলিপি, কবিতার বিষাদ</p>
<p>বিব্রত, বিমূঢ় নীলিম কুমারকে ছেড়ে চলে আসেন রবীন্দ্রনাথ।  আবার, আবারো ড্রাইভিঙে রবীন্দ্রনাথ<br />
এইবার রবীন্দ্রনাথের ঠোঁটে শিস, এইবারে রবীন্দ্রনাথের ড্রাইভিঙে বসন্ত, ব্রেক মারেন, স্পীড বাড়ান<br />
ধীরে ধীরে খুলে যায় রবীন্দ্রনাথের মুখোস, ভিজে আসে রবীন্দ্রনাথের দুটো চোখ, পথের পাশে দাঁড় করান গাড়ি<br />
স্টিয়ারিঙে মুখ রেখে হুঁ হুঁ করে কাঁদেন রবীন্দ্রনাথ, হুঁ হুঁ করে কাঁদেন, হুঁ হুঁ করে কাঁদেন<br />
কেন কাঁদেন রবীন্দ্রনাথ? কেন কাঁদেন, কেন কাঁদেন<br />
এতোদিন কি তবে রবীন্দ্রনাথ একা ছিলেন, নির্বাসিত ছিলেন, ছিলেন বিপন্ন আর ক্লান্ত !<br />
মরে যাওয়া রবীন্দ্রনাথ কোত্থেকে এসেছিলেন, কোথায় কাটিয়েছিলেন দিনগুলো, কী খেয়েছিলেন, কোথায় শুয়েছিলেন<br />
এতোদিন কি বিশ্বকবি কবিতা লিখছিলেন, কফিহাউসের আড্ডাতে কি ছিলেন তিনি<br />
নাটক দেখেছিলেন, পড়েছিলেন খবরের কাগজ, ধর্ষণ বলাৎকারের ছবিরা কি তাঁর সকালবেলাগুলো গিলছিল?</p>
<p>গেল রাতে স্বপ্নে রবীন্দ্রনাথ, লং ড্রাইভে রবীন্দ্রনাথ, পথের পাশে গাড়ি দাঁড় করিয়ে কাঁদছিলেন<br />
পথ চলতি লোকেরা  দেখছিল সেই দৃশ্য, সিনেমার মতো পার হয়ে যাচ্ছিল সেই দৃশ্য আর মিলিয়ে যাচ্ছিল</p>
<p>রবীন্দ্রনাথ লং ড্রাইভে আসছিলেন  আর পথের পাশের গাছগুলো, ফুলগুলো তাঁকে  সেলাম ঠুকছিল<br />
সারা রাত ধরে   লং ড্রাইভে আসছিলেন রবীন্দ্রনাথ, আর ভোর বেলা চলেও গেছিলেন</p>
<p>আবার কি  কখনো  আসবেন, লং ড্রাইভে রবীন্দ্রনাথ ?<br />
<a href="http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/3117/rabindranath-03" rel="attachment wp-att-3119"><img src="http://coffeehouseradda.com/files/2010/07/Rabindranath-03.jpg" alt="Rabindranath 03" width="134" height="388" class="alignright size-full wp-image-3119" /></a><br />
 টীকা: *মলিগাঁও: গুয়াহটি শহরের এক উপকন্ঠ.<br />
       ** নীলিম কুমার: অসমিয়া কবিতার এই সমযের এক শক্তিশালী কবি.<br />
      *** ধেমজি: অসমের উত্তর পূর্ব কোনের অত্যন্ত পিছিযে পড়া এক জেলা.</p>
<a href="http://www.addtoany.com/add_to/google_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F3117&amp;linkname=%E0%A6%B2%E0%A6%82%20%E0%A6%A1%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%AD%E0%A7%87%20%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%A5" title="Google Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/google.png" width="16" height="16" alt="Google Bookmarks"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/orkut?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F3117&amp;linkname=%E0%A6%B2%E0%A6%82%20%E0%A6%A1%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%AD%E0%A7%87%20%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%A5" title="Orkut" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/orkut.png" width="16" height="16" alt="Orkut"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/twitter?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F3117&amp;linkname=%E0%A6%B2%E0%A6%82%20%E0%A6%A1%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%AD%E0%A7%87%20%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%A5" title="Twitter" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/twitter.png" width="16" height="16" alt="Twitter"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/facebook?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F3117&amp;linkname=%E0%A6%B2%E0%A6%82%20%E0%A6%A1%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%AD%E0%A7%87%20%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%A5" title="Facebook" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/facebook.png" width="16" height="16" alt="Facebook"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/yahoo_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F3117&amp;linkname=%E0%A6%B2%E0%A6%82%20%E0%A6%A1%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%AD%E0%A7%87%20%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%A5" title="Yahoo Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/yahoo.png" width="16" height="16" alt="Yahoo Bookmarks"/></a> <a class="a2a_dd addtoany_share_save" href="http://www.addtoany.com/share_save?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F3117&amp;linkname=%E0%A6%B2%E0%A6%82%20%E0%A6%A1%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%AD%E0%A7%87%20%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%A5"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/share_save_120_16.png" width="120" height="16" alt="Share/Bookmark"/></a>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/3117/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>1</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>বিহুঃ অসমিয়া সমাজের আয়ুরেখা নির্মাণের এক সংক্ষিপ্ত ইতিকথা।</title>
		<link>http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/2913</link>
		<comments>http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/2913#comments</comments>
		<pubDate>Mon, 24 May 2010 04:52:18 +0000</pubDate>
		<dc:creator>সুশান্ত</dc:creator>
				<category><![CDATA[ব্লগাড্ডা]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://coffeehouseradda.com/?p=2913</guid>
		<description><![CDATA[<a href=http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/2913><img src=http://lh6.ggpht.com/_Y7NPfnwUYj8/S_l36ThfnFI/AAAAAAAACe0/BQTZISK80nU/s288/IMG_2839.JPG class=imgtfe hspace=5 align=left width=100  border=0></a>Junbai Bihu Song: Parbator Dhekiya 





From Bihu: Sushanta


                           অতি চেনেহৰ মুগাৰে মহুৰা অতি চেনেহৰ মাকো।
               [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><a href='http://www.youtube.com/watch?v=llk1hWHa10g'>Junbai Bihu Song: Parbator Dhekiya </a></p>
<table style="width:auto">
<tr>
<td><a href="http://picasaweb.google.com/lh/photo/CYMRtqfJ-9MLzvrv_jOjMOp359GlMcqQ_pBzT6n73ig?feat=embedwebsite"><img src="http://lh6.ggpht.com/_Y7NPfnwUYj8/S_l36ThfnFI/AAAAAAAACe0/BQTZISK80nU/s288/IMG_2839.JPG" /></a></td>
</tr>
<tr>
<td style="font-family:arial,sans-serif;font-size:11px;text-align:right">From <a href="http://picasaweb.google.com/karsushanta40/BihuSushanta?authkey=Gv1sRgCO2M_vTX56-sWQ&amp;feat=embedwebsite">Bihu: Sushanta</a></td>
</tr>
</table>
<p>                           অতি চেনেহৰ মুগাৰে মহুৰা অতি চেনেহৰ মাকো।<br />
                           তাতকৈ চেনেহৰ বহাগৰ বিহুটি নাপাতি কেনেকৈ থাকো ।।<br />
           মাঠের ফসল ফলানোর বীজ ছড়ানো থেকে ফসল ফলে উঠার প্রক্রিয়ার সঙ্গে গোটা পৃথিবীতেই মানুষের জন্ম তথা যৌন  জীবনের সাদৃশ্য কল্পনা করাটা এক স্বাভাবিক  প্রাকৃতিক প্রবণতা। তার ফলে  সভ্যতার উন্মেষ লগ্ন থেকেই গোটা পৃথিবীর প্রায় সমস্ত আদিম মানুষেরাই কিছু আচার সংস্কার আর উৎসবের সূচনা করেছিল। সে আমরা জানি। সূচনা লগ্নের সেই উৎসবের রেশ এখনো আমাদের উন্নত সংস্কৃতিতেও থেকে গেছে। বাংলা অসমের তান্ত্রিক আচার বা অসমের কামাখ্যা ধামের অম্বুবাচি তেমনি একটি। সারা ভারতের রঙের উৎসব হোলিও তাই । পরে যদিও এদের সঙ্গে সতীর দেহত্যাগের কাহিনি, রামায়ণের কাহিনি , ভক্ত প্রহ্লাদের কাহিনি ইত্যাদি জুড়ে দিয়ে এক ব্রাহ্মণ্য আভিজাত্য দেবার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু কৃষিই যাদের জীবিকা সেই গ্রাম ভারতে সংস্কার গুলো নানা চেহারাতে তার আদিম প্রকৃতিতে এখনো রয়ে গেছে। এখনো দীর্ঘ খরার থেকে মুক্তি পেতে লোকে বেঙের বিয়ে দেয়। কুমারি মেয়েকে নগ্ন করে মাঠে শুইয়ে রাখে বা ঘুরিয়ে নিয়ে আসে।বস্তুত জন্মান্তরবাদ থেকে শুরু করে প্রায় কোনো হিন্দু আচার ও বিশ্বাসই নিজেকে আদিম প্রকৃতি পূজোর পরম্পরা থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারেনি, কিম্বা করেনি।    </p>
<p>           অসমের ‘বিহু’ তেমনি এক সূচনার রূপান্তরিত শিল্পীত  রূপ। অসম বললেই আজকাল প্রথমেই মনে পড়ে ‘বিহু’র কথা। চোখের সামনে ভেসে উঠে ‘ঢোল-পেঁপা-গগনা’ বাজাচ্ছে একদল ছেলে আর তাদের সঙ্গে কোমর দুলিয়ে নেচে চলেছে কয়েক জোড়া তরুণ তরুণী। পরনে তাদের ধুতি পাঞ্জাবি, মাথায় লাল সুতোতে ফুলের কাজ করা  গামোছা ( ওরা বলেন ‘ফুলাম গামোছা’) বাঁধা, মেয়েদের পরণে মেখেলা চাদর আর গায়ে সোনা রূপার অসমিয়া ছাঁদের গহনা। তাই দেখে মনে হয়ে বটে এ যেন এক প্রেমের উৎসব। আর মনে হবেই না কেন, গান গুলোও তো তেমনি ঃ কোমোৰা বগালে চালত,/জীৱনে মৰণে নেৰিবা লাহৰী/নেৰিবা বিপদৰ কালত।/চাইনো চাই থাকিলে হাবিয়াস নপলায়/নেখালে নুগুচে ভো্‌ক,/কিনো খায়ে যাবি বালিহাটৰ বেঙেনা/দলিয়াই দি যাম তোক।”(বুলজিত)১ কিন্তু উপমা-রূপকগুলো লক্ষ্য করুন—উঠে এসছে একেবারেই কৃষি জীবন থেকে। এবারে, কৃষি জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত একটা উৎসব কেবল এক নির্দিষ্ট ভাষিক গোষ্ঠীর উৎসব হতে পারে না।<br />
<table style="width:auto">
<tr>
<td><a href="http://picasaweb.google.com/lh/photo/cFhOXOXCfoM5OIBYT2j_Dep359GlMcqQ_pBzT6n73ig?feat=embedwebsite"><img src="http://lh3.ggpht.com/_Y7NPfnwUYj8/S_l371jys1I/AAAAAAAACe8/VIE8nui7a1I/s288/bihu-dance.jpg" /></a></td>
</tr>
<tr>
<td style="font-family:arial,sans-serif;font-size:11px;text-align:right">From <a href="http://picasaweb.google.com/karsushanta40/BihuSushanta?authkey=Gv1sRgCO2M_vTX56-sWQ&amp;feat=embedwebsite">Bihu: Sushanta</a></td>
</tr>
</table>
<p>               ‘বিহু’ সম্পর্কে পূর্বোত্তরের আন্তর্জালিক অভিধান <a href="www.xobdo.org">‘শব্দে</a>’ লেখা হয়েছে , “বিহু অসমীয়াৰ জাতীয় তথা স্বকীয় উৎসৱ ৷ ‘বিহু’ শব্দটো সংস্কৃত ‘বিষুবত’ শব্দৰ পৰা অহা বুলি ধাৰণা কৰা হয় ৷ বৈদিক ‘বিষুবন’ শব্দই এবছৰ ব্যাপী হোৱা ‘সত্ৰ’ বা ‘যজ্ঞ’ৰ মাজৰ দিনটোক বুজায় ৷ অৰ্থাৎ দিন আৰু ৰাতি সমান হোৱা দিনটোক বুজায় ৷ এই দিনটোক মকৰ সংক্ৰান্তি বুলি কোৱা হয় ৷ কিছুমান পণ্ডিতে অসমীয়া ‘বিহু’ শব্দটি সংস্কৃত ভাষাৰ ‘বিষুবন’ শব্দৰ লগত মিল থকা বুলি ধাৰণা কৰিছে ৷ বিহু প্ৰধানত অসমীয়াৰ কৃষিৰ লগত জৰিত এটা উৎসৱ।” (<a href="www.xobdo.org">www.xobdo.org</a>)  বেশির ভাগ অসমিয়া অভিধানের এবং পন্ডিতদের সেরকমই মত। হতে পারে সংস্কৃত ‘বিষুবত বা বিষুবন’ থেকে শব্দটি এসছে। বাংলাতেও ‘বিষুব সংক্রান্তি’ কথাটা রয়েছে। আর সে শব্দও কৃষি সভ্যতার সঙ্গেই সংযুক্ত। ভোরে স্নান করে সূর্যদেবতাকে প্রণাম করা হচ্ছে সারা ভারতের সমস্ত সংক্রান্তিতে করণীয় প্রথম কাজ। এই জল আর সূর্য কৃষিকাজের জন্যেই দরকার। কিন্তু অসমে বিহু শব্দটির অন্য উৎসও রয়েছে। আর সেই উৎসগুলো দেখায় ‘বিহু; কেবল অসমিয়াদের উৎসব নয়। পূর্বোত্তরের প্রায় সমস্ত জনজাতির উৎসব। মায় সিলেটি কাছাড়ি বাঙালিদের পৌষ সংক্রান্তির সঙ্গে ‘ভোগালি’ বা মাঘ বিহুর পার্থক্য অতি সামান্য। সুপরিচিত অসমিয়া ভাষাতাত্বিক ড০ উপেন রাভা হাকাচাম দেখিয়েছেন বিহুর সঙ্গে সম্পৃক্ত ‘গগণা’, পেঁপা, হুঁচরি, মেজি, হারলি ইত্যাদি শব্দগুলোর উৎস, তিব্বত বর্মী শাখার ভাষা বডো গারো, ডিমাসা, মিশিং, তাই আহোম ইত্যাদি। ‘বিহু’শব্দের সংস্কৃত উৎসের কথা তিনি জানেন। তারপরেও তিব্বত বর্মী ভাষাগুলোর থেকে আসা আপাত ভিন্নার্থক শব্দের উল্লেখ করেছেন। যেমন তাই আহোম পয়হু/পিহু/বিহু। এবারে, ‘পয়’ শব্দের অর্থ কিন্তু ‘বিষুব’ জাতীয় কিছু নয়। ঠাট্টা তামাস। রং ধেমালি। তেমনি তাই-আহোম ‘বৈহু’র ‘বৈ’ অর্থ পুজো ‘হু’ অর্থ গরু। বডো মূলীয় ‘বিহু’ শব্দের ‘বি’ মানে হাটা, হু মানে দেওয়া ( বি-খোজ, হু-দি)।  দেউরি ‘বিচু’ শব্দের ‘বি’ অর্থ অতি, চু  অর্থ  আনন্দদায়ক । ( উপেন রাভা)২ বডোরা বৈশাখের বিহুকে বলেন ‘রংজালী বৈশাগৌ’। এতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ‘হৌচৌৰি হৌচৌৰি বিহৌ মাগি ফুৰাৰ’ প্রথা রয়েছে। অসমীয়াতে এসে সেই প্রথার নাম হয়েছে ‘হুঁচরি’। রাভাদের বিহুর জনপ্রিয় নাম ‘বাইখ’, সনোয়াল কাছাড়িদের ‘বাইথ’, মিশিংদের ‘আলি আই লৃগাং’। বডোদের  এদের বেশির ভাগ জনগোষ্ঠীই যদিও নিজেদের অসমিয়া বলে পরিচয় দেয় তাদের উৎসবের দিন ক্ষণ আর রকম সকম মোটেও হুবহু এক নয়। বডোরা নিজদের অসমিয়া বলে পরিচয় দেয় না। তাই আহোমরা যদিও সে পরিচয়  দেয় তারাও আজকাল ‘তাই বিহু’বলে স্বতন্ত্র আয়োজন করে থাকেন। চাকমাদের মধ্যে ‘বিজু’, মারলাদের ‘সাংগ্রাই’ আর ত্রিপুরিদের ‘বৈসুক’ এর থেকে আদ্যাক্ষর নিয়ে আজ ক’বছর ধরে বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের এই তিন জনগোষ্ঠী একত্রে পালন করছেন ‘বৈসাবি’ উৎসব। সেটি নিশ্চয় অসমিয়া ব্যাপার নয়।<br />
<table style="width:auto">
<tr>
<td><a href="http://picasaweb.google.com/lh/photo/ZopZtOVVlcEjIR9dQlNaDup359GlMcqQ_pBzT6n73ig?feat=embedwebsite"><img src="http://lh6.ggpht.com/_Y7NPfnwUYj8/S_l4o3cVWxI/AAAAAAAACfY/GDn2wgf-TN4/s288/3478277583_a2c9fbc520_o.jpg" /></a></td>
</tr>
<tr>
<td style="font-family:arial,sans-serif;font-size:11px;text-align:right">From <a href="http://picasaweb.google.com/karsushanta40/BihuSushanta?authkey=Gv1sRgCO2M_vTX56-sWQ&amp;feat=embedwebsite">Bihu: Sushanta</a></td>
</tr>
</table>
<p>                  বাকি ভারতের লোকেদের কাছে যে ‘বিহু’ বললেই আজকাল অসম আর অসমিয়াদের কথা মনে পড়ে তার কারণ গেল অর্ধ শতক ধরে এরা একে সফলতার সঙ্গে লৌকিক উৎসব থেকে জাতীয় উৎসবে রূপান্তরিত করেছেন। সেটি অসমিয়া মধ্যবিত্তের এক রাজনৈতিক উদ্যোগ। রাজনীতি বললে অনেকেই দলীয় রাজনীতির কথা বুঝে থাকেন আমরা সেরকম কিছু বোঝাতে চাইছিনা। বাকি ভারতের থেকে বিশেষ করে বাঙালিদের থেকে নিজদের স্বতন্ত্র বলে তুলে ধরাটা একসময় অসমিয়া মধ্যবিত্তের অনিবার্য প্রয়োজন হিসেবে দেখা দিয়েছিল। জাতীয় উৎসব ‘বিহু’ সেই প্রয়োজনের ফসল। নইলে একসময় অসমিয়াদের  অজনজাতি অভিজাত অংশ ‘বিহু’কে মোটেও শ্রদ্ধার চোখে দেখতেন না। ভাটি অসমে বিহু তেমন কোনো জনপ্রিয় উৎসব ছিলনা এই সেদিন অব্দি। আজো গোয়াল পাড়ার ‘বিষুয়া উৎসবে’ আর সবই আছে, নেই শুধু কোনো নৃত্যগীত। বাংলা ভাষাতে প্রথম ইতিহাস গ্রন্থের অসমিয়া লেখক হলিরাম ঢেকিয়াল ফুকন তাঁর ‘আসাম বুরঞ্জী’তে লিখেছিলেন , “ বিহুর গান একটা হইয়া থাকে তাহাতে সাধারণ লোকের স্ত্রীলোক ও লম্পট পুরুষসকল একত্র হইয়া জুগুপৎচিত নৃত্যগীত করিয়া থাকে।” অসমিয়া জাতীয়তাবাদের পিতৃপুরুষ আনন্দরাম বরুয়ার জীবনী লেখক গুণাভিরাম বরুয়া লিখেছেন , “ অশ্লীলতা তেঁও বৰ ঘৃণা কৰিছিল। বৈশাখৰ বিহুত নগাঁওৰ স্থানে স্থানে অশ্লীল নৃত্যগীত হৈছিল সেইসকলক তেঁও নিবাৰণ কৰালে আৰু এইৰূপ কার্য যে অনিষ্টজনক তাক তেঁও সকলোকে বুজাই দিছিল।” (দেবব্রত)৩                   অসম সাহিত্য সভার দু’একজন প্রাক্তন সভাপতিও ছিলেন বিহু বিরোধী। এরা প্রায় প্রত্যেকেই বাংলার নবজাগরণের দ্বারা বিশেষ করে ‘ব্রাহ্ম ধর্ম’ আন্দোলনের দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন। বাংলাতে যেমন রবীন্দ্রনাথের আগে পুরোনো লোক সংস্কৃতিকে প্রত্যাখ্যানের এক আয়োজন পূর্ণদ্যমে চলছিল। এখানেও তাই হচ্ছিল। ড০ দেবব্রত শর্মা লিখেছেন অসম সাহিত্য সভার প্রাক্তন সভাপতি কমলাকান্ত ভট্টাচার্য বিহু বিরোধীতা করেছিলেন এই ভয়ে, “ জানোচাঁ ‘বিহুর গীতবোৰ বৰ নিলাজ অভং’ শুনি সতীৰ মতিভ্রম হয়। তেওঁ নিলাজ (বিহু) গীতৰ ঠাইত বীৰ-গীত গাবলৈহে আহবান জানাইছিল। মন কৰিবলগীয়া যে অসমীয়া ভাষা-সাহিত্যর কামত একাণপতীয়াকৈ আত্মনিয়োগ করা এই সকল ব্যক্তির সম্পর্কে কোনো আঁচনি বা চিন্তা নাছিল। সংস্কৃতি সম্পর্কে কোনো আঁচনি নাছিল। সংস্কৃতি সম্পর্কে তেঁওলোকৰ ধাৰণা আছিল হয় বাংলা সংস্কৃতি কেন্দ্রিক, নহয় ব্রাহ্মণ্য/সত্রীয়া সংস্কৃতি কেন্দ্রিক। (দেবব্রত)৪ </p>
<p>                  বস্তুত মেয়েরা প্রকাশ্য বিহু নৃত্যে যোগ দিত অতি অল্পই। ছেলেরাই মেয়ে সেজে বিহুর নানা নৃত্যে যোগ দিত। আজ যখন গাছ তলার বিহুকে এক পাশে সরিয়ে দিয়ে মঞ্চ বিহু নামে এক নতুন ধারা ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ছে, মেয়েদের যোগদান ব্যাপক ভাবে বেড়েছে, তখনো একে বিকৃত  প্রথা বলবার লোকের অভাব নেই। এই সেদিন চাও দেবেন্দ্রচরণ বরবরুয়া ‘প্রান্তিকে’৫ লিখেছেনঃ  “&#8230;বুঢ়াচেওৰ বিহুত ছোয়ালীৰ ( মেয়েদের-লেখক) স্থান নাছিল । আজিকালি ডেকা ( জোয়ান ছেলে),বুঢ়া, ল’ৰা, চেমনীয়া ( কিশোর-লেখক) গোট খাই লগত সৰু ডাঙৰ ছোয়ালী লৈ ঘৰে ঘৰে বিহু মৰা বিকৃত প্রথা এটা ওলাইছে। এনে প্রথাক বিশিষ্ট সাহিত্যিক ড০  নির্মলপ্রভা বৰদলৈয়ে ধিক্কাৰ দি কৈ গৈছে যে ‘আগতে হুঁচুৰি ( বিহুর আরম্ভ অংশের এক আবশ্যিক অংগ-লেখক) গাবলৈ মানুহৰ ঘৰলৈ যাওঁতে ল’ৰা লগত ছোয়ালী নানিছিল। ল’ৰাক কোনোয়ে ছোয়ালী সজাই নচুয়াইছিল। এতিয়া হুঁচৰি গাওঁতে ছোয়ালিয়েও বিহু মাৰিবলৈ যায়, বাঃ আধুনিকতা।”    বিশ শতকের ষাটের দশক অব্দি ‘হুঁচরি’তে- যাতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে নাচ গান করা আর গৃহস্থকে আশীর্বাদ জানানো হয়—তাতে মেয়েরা যেমন অংশ নিতনা তেমনি গানের বিষয়েও প্রেমপ্রীতির আধিক্য ছিলনা।ষাটের দশক থেকে ছেলেদের মেয়ে সাজিয়ে নিয়ে যাবার প্রথা প্রচলিত হয়। তখন থেকেই এতে প্রেমের গানের আধিপত্য বাড়তে শুরু করে। আশির দশকে সেই সাজানো মেয়েদের প্রতিস্থাপিত করে রীতি মতো কৈশোরোত্তীর্ণ যুবতিরা। ৬ </p>
<p>                 স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় জাতীয়তাবোধে উদ্দীপিত অসমীয়ারা যখন নানা গোষ্টীতে বিভক্ত জাতিকে একত্রে বাঁধবার প্রয়োজনে এক জাতীয় উৎসবের প্রয়োজন বোধ করছিলেন, তখন অনেকেই বাঙালি হিন্দুর  আদর্শে দুর্গা পূজাকে সে জায়গা দেবার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ঢাকার থেকে প্রকাশিত কালীপ্রসন্ন ঘোষের সম্পাদিত বাংলা পত্রিকা ‘বান্ধবে’র অনুসরণে ডিব্রুগড়ের চা-বাগিচা মালিক গংগারাম চৌধুরী ‘আসাম বান্ধব’ প্রকাশ করতেন। ঐ কাগজ দুর্গা পূজার পক্ষে জোর সওয়াল করেছিল। ‘আলোচনী’ নামে অন্য এক কাগজের নেতৃত্বে আরো অনেকে তখনই বিহুর পক্ষে উঠে পড়ে লাগেন। লক্ষীনাথ বেজবরুয়া, রজনীকান্ত বরদলৈ, জ্ঞানদাভিরাম বরুয়া প্রমুখ লেখক বুদ্ধিজীবিরা অনেক লড়াই করে ‘বিহু’ মতো এক ধর্ম নিরপেক্ষ উৎসবকে অসমীয়াদের জাতীয় উৎসবের মর্যাদাতে উন্নিত ও প্রতিষ্ঠিত করতে সমর্থ হন। তাঁদের লক্ষ্য ছিল এমন এক উৎসব যার ছায়াতলে নানা জনগোষ্ঠীতে বিভক্ত অসমের সমাজ মিলনের স্বাদটুকু নিতে পারে। সাহিত্য সভার ১৯৫৯সনের সভাপতি  অতুল চন্দ্র হাজারিকা বলেছিলেন, “আজি কেই বছৰ মানৰ পৰা অসমৰ বহু ঠাইত ৰাজহুয়াভাবে বিহু উৎসব পালন কৰা হ’ব ধৰিছে সাংস্কৃতিক উৎসব হিচাপে। নতুন যুগৰ নতুন বিহুতলীক ( যেখানে বিহু উদযাপিত হয়-লেখক) উদ্দেশ্য কৰি আমি ক’ব পাৰোঁ  মিকিৰ কচাৰী বড়ো/আবৰ মিছিমি গাৰো/ খাচীয়া, জয়ন্তীয়া, মিৰি নগা/ জনমে মৰণে সতে লগা-ভগা আহাঁ আহাঁ আহাঁ/ আমার এই বিহুতলী যাউতিযুগীয়া/ সকলোৰে উমৈহতীয়া ( সার্বজনীন-লেখক)।”  (দেবব্রত)৭</p>
<p>                      পৌষ সংক্রান্তি বা নববর্ষের মতো ব্যাপারকে নিয়ে বাংলারও এক ধর্ম নিরপেক্ষ জাতীয়  উৎসব গড়ে উঠতে পারত। আধুনিক বাংলাদেশের ‘নববর্ষ’ সেটিকে প্রমাণ করে। কিন্তু বর্ণহিন্দু বাঙালি সেরকম কোনো উদ্যোগকে  প্রশ্রয় দিলনা। অথচ সেই কাজই অসমিয়াদের মধ্যে করতে সফল হলেন এক বিশাল মাপের বাঙালি ভদ্রলোক ও গণ সঙ্গীত শিল্পী হেমাঙ্গ বিশ্বাস। তাঁর সেই বিখ্যাত উক্তি, “যি নাই অসমত সি নাই বিহুগীতত”  এখনো অসমিয়া সমাজে প্রবাদের মতো শোনা যায়। তাঁর ‘অসম আৰু বংগৰ লোকসঙ্গীত সমীক্ষা’ বইতে যা লিখেছেন তাকে বাংলা করলে দাঁড়ায় , “ অসমে যা নেই তা বিহু গানেও নেই। অসম এবং অসমিয়া জনমানসের নির্ভুল দর্পণ এই বিহু.।.. ধর্মপ্রভাবমুক্ত ইহজগত   এবং শ্রমশীল জীবনের প্রতি অসীম মমতা—এই হলো বিহুর দর্শন। &#8230;শারদীয় উৎসব, দীপান্বিতা, দোল এই সবগুলো হিন্দুদের উৎসবে পরিণত হয়েছে। জাতীয় উৎসবের মর্যাদা  এগুলো হারিয়েছে&#8230;। বর্ণহিন্দু সমাজের বিধি নিষেধ আর বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদই হলো বিহুর প্রধান উপজীব্য&#8230;।দুঃখের বিষয় ভারতের সবগুলো উৎসবই সাম্প্রদায়িক। বসন্ত উৎসব রূপান্তৰিত হয়েছে হোলি বা চৈতন্য উৎসব ইত্যাদিতে। শারদীয় উৎসব পরিণত হয়েছে দুর্গোৎসব ইত্যাদিতে। কারবালার কাহিনীমূলক মহরম হলো মুসলমান সম্প্রদায়ের। কিন্তু বিহু তার মধ্যেও এর ধর্মনিরপেক্ষ প্রকৃতি অক্ষুন্ন রাখতে পেরেছে। এটাই বিহুর গৌরব, অসমিয়া জনগণের গৌরব।” সেই গৌরবকে সম্মানিত করে চূড়ান্ত গানটি গাইলেন হেমাঙ্গ বিশ্বাসেরই এককালের শিষ্য ভূপেন হাজারিকাঃ ‘বিহু মাথোঁ এক ঋতু নহয়  , নহয় বহাগ এটি মাহ। অসমিয়া জাতিৰ ই আয়ুস ৰেখা&#8230;” </p>
<p>                       ‘লোক সংস্কৃতি’র থেকে ‘জাতীয়  উৎসব’ হয়ে উঠতে গিয়ে কিছু পরিবর্তনতো বিহুর মধ্যে হয়েইছে। উজান অসমের মূল স্রোতের অসমিয়াদের ‘বিহু’ই প্রচারের মুখ দেখেছে বেশি। আগে যেখানে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ‘হুঁচরি’ গেয়ে সংগৃহীত ধনে গাছতলাতে বিহু হতো, এখন সেখানে সংগঠিত কমিটির অধীনে  ‘দুর্গাপূজা’ ও তার পরবর্তী অনুষ্ঠানের মতো চাঁদা তুলে মঞ্চে বিহু আয়োজিত হয়। জাতীয় রাজনীতির প্রয়োজনে বিহুর এই যে রূপান্তরণ তার পূর্ণ সুযোগ নিয়েছে আধুনিক রাষ্ট্র ও ব্যবসায়িক কোম্পানীগুলো। গ্রামের বিহু এখন নগর কেন্দ্রিক এবং কোটি টাকার আয়োজনে রূপান্তরিত হয়েছে। বিহুর একধরণের ব্যবসায়িক রূপান্তরো ঘটছে । যাকে বলতে পারি বিহুর পণ্যায়ন। বিহুকে পণ্য করে  বিকৃত করবার অভিযোগও আজকাল সরবে শোনা যাচ্ছে। একে আটকানো কতটা যাবে সেটি বলা মুস্কিল।  দেবব্রত শর্মা আক্ষেপ করে লিখেছেন , “ড০ ভূপেন হাজাৰিকার দৰে একালৰ গণশিল্পীয়ে (আজিৰ গেৰুয়া নির্বাচন প্রার্থী) বিহু সন্মিলনত এৰাতি গোয়াৰ বাবদ গণি গণি আদায় লৈছে লাখৰ হিচাপত টকা। তার বিপৰীতে গাঁওবোৰ নিজম পৰি আহিছে। অভাব অনাটনে বিহুৰ হৰিষ হৰিছে ( আনন্দ হরণ করেছে-লেখক)।” (দেবব্রত)৮</p>
<p>                 আর সমস্ত জনগোষ্ঠির লোক সংস্কৃতির বেলাতে যেমন বিহুর বেলাতেও তেমনি কোনো ধরাবাঁধা ‘শাস্ত্রীয়’ নিয়ম নেই।  না আছে তার নাচের গানের কিম্বা বাদ্যের কোনো জটিল তত্ব কথা। হাজার বছরের পরম্পরা পরিবর্তনের মধ্যি দিয়ে যেতে যেভাবে তাকে গড়ে তুলেছে সে সেভাবেই গড়ে উঠেছে।  ফসল উৎপাদনের সঙ্গে মানুষের যৌনজীবনের সাদৃশ্য কল্পনার থেকে যার যাত্রা শুরু সে সেখানেই মোটেও থেমে থাকেনি কোনোদিনই।এমন কি অনেক সময় আজ বিহুর সঙ্গে যে কৃষি কাজের কোনো সম্পর্ক রয়েছে তাকেই বেশ খোঁজে বের করতে হয়। এই যেমন বিহু নাচের ব্যাপারটি। একে  অসমিয়া স্বতন্ত্র নাচের শৈলী বলে গোটা বিশ্ব জানে। বড় যৌন উত্তেজক বলে মুখরোচক আলোচনাও হয়। ভাবনা ওইখানেই থেমে যায়। আসলে কিন্তু এই নাচে বৈশাখের গাছে গাছে নতুন ডাল পালা মেলা আর পাতা গজানোর উৎসব শুরু হয় তারই এক শৈল্পিক পুনস্থাপন করা হয়। পাশের ছবিটি<br />
<table style="width:auto">
<tr>
<td><a href="http://picasaweb.google.com/lh/photo/wUP2v9xyC8CI7PD1QcRP0up359GlMcqQ_pBzT6n73ig?feat=embedwebsite"><img src="http://lh5.ggpht.com/_Y7NPfnwUYj8/S_l37UTCtrI/AAAAAAAACe4/WAKQj08l0CI/s288/Bihu%20Nrritya%20Shoili.jpg" /></a></td>
</tr>
<tr>
<td style="font-family:arial,sans-serif;font-size:11px;text-align:right">From <a href="http://picasaweb.google.com/karsushanta40/BihuSushanta?authkey=Gv1sRgCO2M_vTX56-sWQ&amp;feat=embedwebsite">Bihu: Sushanta</a></td>
</tr>
</table>
<p>দেখুন আর বিহু নাচের সঙ্গে তার সাদৃশ্য কল্পনা করুন। ব্যাপারটা স্পষ্ট হবে। মহিষের শিঙে তৈরি পেঁপাতে ( কৃষি সমাজের জনপ্রিয় বাদ্য। বাংলাদেশের কৃষির দেবতা শিবের শিঙার থেকে আকারে সামান্য ছোট আর সুসজ্জিত) মুক্তি নাথ বরগোঁহাই লিখেছেন ,” আমাক অগ্রজ তথা সমল ব্যক্তিয়ে ১৯৬০-৬১ চনতে এনেদৰে শিখাইছিল&#8230;পেঁপাৰ প্রথম লহৰ বজালে দুয়োখন হাত কঁকালত থৈ হাউলি ঢেঁকি খোজৰ দোপন দি ঢোলৰ তাল আৰু লয়ৰ লগত সংগতি ৰাখি,ঠাইতে ঘুৰি ঘুৰি নচা আৰু পেঁপাবাদকে উশাহ সলাওঁতে ঢোলৰ বুলনীত থিয় হৈ হাত মেলি নচা।” ৯ অর্থাৎ ঢেঁকিতে পাড় দেবার অনুকরণ করে এক  সুন্দর এক নৃত্য ভঙিমা গড়ে তোলা হচ্ছে। হাত মেলে নাচাটাও আসলে শিল্পী শিখেছেন বসন্তের নতুন পাতাভরা ডালের থেকে। এমন কি ‘নাচনী’রা ( নৃত্যাঙ্গনা-লেখক) যখন কোমরটাকেও একটু পেছনে ঠেলে মাথা এক পাকে উপরে আবার পরের পাকে নিচে নামিয়ে হাত মেলে নিজের চারদিকে ঘুরছে তখন আসলে ওরা বসন্তের শেষদিনগুলোতে বড় বড়  গাছে  স্বর্ণলতার প্যাঁচিয়ে ওঠাকে নৃত্যশৈলীতে  রূপান্তরিত করছে। বিহুনামে ( বিহুগানে-লেখক) রয়েছেঃ গছত বগোয়া ক’লীয়া লতা চ’তে গৈয়ে গৈয়ে/গছত বগোয়া ক’লীয়া লতা বহাগে পালেহি/ গছত  বগোয়া ক’লীয়া লতা ফুলিলে ভেবেলি লতা। কিম্বা ধরুন এই গানটি ঃ ৰাঙলী মদাৰৰ পাতে ঐ নাচনী/ৰাঙলী মদাৰৰ পাত। কঁকাল ঘূৰাই ঘূৰাই নাচিবি নাচনী লগাইছো নামৰে জাত।  </p>
<p>	এই যে ‘নামৰে জাত’—জাত কিন্তু বিহু গানের এক রকমফেরের নাম। তেমন কোনো শাস্ত্রীয় বিধিবিধান না থাকলেও স্থানে কালে বিহু নাচের যেমন তেমনি গানেরও বেশ রকমফের প্রচলিত রয়েছে। বিহু গানের ঘোষা, পদ, যোজনা, চুটি, বা খন্ড ছিগা নাম , যোরা নাম, জাত (জাত নাম), বহুয়া নাম ইত্যাদি বেশ ভাগ রয়েছে। চুটি মানে ছোট, ছিগা মানে ছেঁড়া, নাম কথাটার অসমিয়া অর্থ গীত , এসছে বৈষ্ণব পরম্পরার থেকে। এই চুটি নামই মূল বিহু। শুরুতে শুধু এগুলোই ছিল। সাধারণত এগুলো চার পংক্তির স্তবক হয়। চুটি নাম দিয়ে বিহুনাম ‘পকি উঠে’ মানে জমে উঠে। বাংলা কবির লড়াইর মতো বিহুতে জোরানামের প্রচলন পরবর্তী ঘটনা। লোকসংস্কৃতির গবেষকেরা একে কী বলবেন জানিনা। এ হলো বিহুর মূল কারক থেকে অপসারণ বা বিস্তার। জোরানামের সময় অব্দি এসে তরুণ জিজ্ঞেস করছে, বাঁহৰে আগলৈ চাই পঠিয়ালো/ বাঁহৰ কোনডাল পোন ( সোজা-লেখক)/ সঁচাকৈ সুধিছো মিছাকৈ নক’বা / তোমাৰ মৰমিয়াল কোন? । তরুণী যেন জলের ঘাটে দাঁড়িয়ে জলাজমিতে মহিষ চরাতে  ব্যস্ত তরুণকে শুনিয়ে জবাব দিচ্ছেঃ তিৰোতাৰ জনম দি বিধাতাই স্রজিলে/ পুৰুষৰ লগতে যোৰ/ আয়ো লোকৰ বোপায়ো লোকৰ/ তোমাকে বুলি যাওঁ মোৰ। </p>
<p>               মুল কাক থেকে অপসারণ এখানেই থেমে থাকেনি। ব্যক্তি, পরিবার, গ্রাম ও স্বদেশের সংস্কৃতি, রাজনীতি, ইতিহাস সমস্ত কিছুকেই বিহু নিজের মধ্যে ধারণ করে হয়ে উঠেছে আক্ষরিক অর্থেই অসমিয়া সমাজের দর্পণ।  আনন্দের উৎসব বিহুতে অসমিয়া নিজের দারিদ্র্যের নিরানন্দের কথা জানিয়ে এও গেয়ে উঠেছেঃদেউতা অ’ খুজি মাগি এমুঠি রান্ধো/ মাহ হালধিরে, গরু গা ধুয়াই লৈ, তরালি পঘারে বান্ধো। কিংবা গেয়েছেঃ টকাৰ সৰু সৰু মাত সমনীয়া /টকাৰ সৰু সৰু মাত/ম’হঘূলি চাপৰিত টকাৰ মাত শুনি/এৰি যাওঁ পেটৰে ভাত।        ( বুলজিত) ইতিহাসের স্বাক্ষর ধরে রেখেছে এমন গানঃ স্বর্গদেউ ওলালে বাটচৰাৰ মুখলৈ/ দুলীয়াই পাতিলে দোলা/ কাণত জিলিকিলে নৰা জাংফাই/ গাতে গোমেচেঙৰ চোলা। কিম্বা দিখৌত গুমগুমাই  কোম্পানীৰ জাহাজ ঐ/ঢেঁকীত গুমগুমাই থোৰা/ গাত জুই জ্বলিছে সৰিয়হ ফুটিছে/ তোমাক দেখিবৰে পৰা। সিপাহী বিদ্রোহ বা দেশের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মণিরাম দেওয়ান আর পিয়লি বরুয়া ফাঁসি কাঠে ঝুলেছিলেন। সেই ঘটনাকেও অসমিয়া শিল্পী বিহু গানে ধরে রাখতে ভুল করেনিঃ সোণৰ ধোঁয়াখোয়াত খালি ওই মণিৰাম/ৰূপৰ ধোঁয়াখোয়াত খালি/ কোম্পানীৰ ঘৰতে কিনো দায় লগালি/ ডিঙিত চিপেজৰী ল’লি। সুতরাং  কেউ যখন বিহুর দিনগুলোতে গেয়ে উঠেঃ আমি অসমীয়া গাতে মুগা-ৰিহা/খোপাত আমাৰ কপৌফুল,/আমাৰে চিনাকি ব’হাগৰ বিহুটি/হাততে জেতুকা বোল।–এই কথাগুলোর ব্যঞ্জনা বিস্তর , অর্থ ব্যাপক। অন্য কাউকে খাটো না করে  নিজের সমাজের এর চেয়ে সুন্দর পরিচয় আর কিসেই বা কেউ তুলে ধরতে পারে!  </p>
<p>********* </p>
<p>তথ্যসূত্রঃ<br />
 ১) <a href="http://buljit.blogspot.com/">বুলজিত বুড়াগোহাইর সংগ্রহ থেকে; </a><br />
 ২) ড০ উপেন রাভা হাকাসাম;অসমীয়া আরু অসমর তিব্বত বর্মীয় ভাষা; পৃঃ১০১।<br />
 ৩)ড০ দেবব্রত শর্মার ‘অসমীয়া জাতি গঠন প্রক্রিয়া আরু জাতীয় জনগোষ্ঠীগত অনুষ্ঠানসমূহ’ তে ব্যবহৃত উদ্ধৃতি; পৃঃ ৩২৮)<br />
 ৪)  ঐ; পৃঃ ৩২৯<br />
 ৫)অসমৰ লোকসমাজ লোক উৎসৱ বিহুৰ হুঁচৰি, পদ, ঘোষা। যোজনা, নাম , জাত নাচ আদিৰ চমু মর্মকথা; প্রান্তিক; ১৬-৩০<br />
   এপ্রিল, ২০১০ সংখ্যা; পৃঃ১২ ।<br />
 ৬) ড০ প্রদীপ নেওগ; গৃহস্থৰ চোতালত হঁচৰি মৰা প্রথাটো চলি থকা প্রসংগত;প্রান্তিক; ১৬-৩০ এপ্রিল, ২০১০ সংখ্যা;পৃঃ১৭ ।<br />
       ৭) ঐ; পৃঃ৩৩১)<br />
        ৮)ঐ; পৃঃ৩৩৩)<br />
        ৯)  পেঁপাবাদন আৰু নাচোনশৈলী; প্রান্তিক, ১৬-৩০ এপ্রিল সংখ্যা, পৃঃ ২৬  </p>
<a href="http://www.addtoany.com/add_to/google_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F2913&amp;linkname=%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B9%E0%A7%81%E0%A6%83%20%E0%A6%85%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A6%BE%20%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%86%E0%A7%9F%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%96%E0%A6%BE%20%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A3%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%8F%E0%A6%95%20%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%BF%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%A4%20%E0%A6%87%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A5%A4" title="Google Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/google.png" width="16" height="16" alt="Google Bookmarks"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/orkut?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F2913&amp;linkname=%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B9%E0%A7%81%E0%A6%83%20%E0%A6%85%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A6%BE%20%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%86%E0%A7%9F%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%96%E0%A6%BE%20%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A3%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%8F%E0%A6%95%20%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%BF%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%A4%20%E0%A6%87%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A5%A4" title="Orkut" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/orkut.png" width="16" height="16" alt="Orkut"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/twitter?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F2913&amp;linkname=%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B9%E0%A7%81%E0%A6%83%20%E0%A6%85%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A6%BE%20%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%86%E0%A7%9F%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%96%E0%A6%BE%20%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A3%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%8F%E0%A6%95%20%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%BF%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%A4%20%E0%A6%87%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A5%A4" title="Twitter" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/twitter.png" width="16" height="16" alt="Twitter"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/facebook?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F2913&amp;linkname=%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B9%E0%A7%81%E0%A6%83%20%E0%A6%85%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A6%BE%20%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%86%E0%A7%9F%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%96%E0%A6%BE%20%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A3%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%8F%E0%A6%95%20%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%BF%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%A4%20%E0%A6%87%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A5%A4" title="Facebook" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/facebook.png" width="16" height="16" alt="Facebook"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/yahoo_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F2913&amp;linkname=%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B9%E0%A7%81%E0%A6%83%20%E0%A6%85%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A6%BE%20%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%86%E0%A7%9F%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%96%E0%A6%BE%20%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A3%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%8F%E0%A6%95%20%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%BF%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%A4%20%E0%A6%87%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A5%A4" title="Yahoo Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/yahoo.png" width="16" height="16" alt="Yahoo Bookmarks"/></a> <a class="a2a_dd addtoany_share_save" href="http://www.addtoany.com/share_save?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F2913&amp;linkname=%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B9%E0%A7%81%E0%A6%83%20%E0%A6%85%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A6%BE%20%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%86%E0%A7%9F%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%96%E0%A6%BE%20%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A3%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%8F%E0%A6%95%20%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%BF%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%A4%20%E0%A6%87%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A5%A4"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/share_save_120_16.png" width="120" height="16" alt="Share/Bookmark"/></a>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/2913/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>3</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>১৯শের ভাষা শহিদ দিবসের সংবাদ এবং আর কিছু</title>
		<link>http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/2868</link>
		<comments>http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/2868#comments</comments>
		<pubDate>Wed, 19 May 2010 05:38:32 +0000</pubDate>
		<dc:creator>সুশান্ত</dc:creator>
				<category><![CDATA[ব্লগাড্ডা]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://coffeehouseradda.com/?p=2868</guid>
		<description><![CDATA[<a href=http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/2868><img src=http://coffeehouseradda.com/files/2010/05/19sher-shhidera-002.jpg class=imgtfe hspace=5 align=left width=100  border=0></a>ইচ্ছে ছিল ১৯শের ইতিবৃত্ত নিয়ে একটা লেখা তৈরি করি। সময়ের অভাবে হয়ে উঠল না। এখানে শহিদের বৃত্তান্ত ছবিতে রইল। সঙ্গে কিছু সংবাদ পত্রের লিঙ্ক। দেখুন, বাংলাদেশের ২১ থেকে কম উতসাহে পালিত হয় না এই দিন। তার উপর এবারে শুরু হচ্ছে তার ৫০ বছর !


দৈনিক প্রান্তজ্যোতিতে ১৯শের নানা অনুষ্ঠানের সংবাদ পড়ুন।
http://dainikprantojyoti.com/
১৯শের সংবাদ পড়ুন সাময়িক প্রসঙ্গে
http://samayikprasanga.karimganj.com/
-
১৯শের সংবাদ [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>ইচ্ছে ছিল ১৯শের ইতিবৃত্ত নিয়ে একটা লেখা তৈরি করি। সময়ের অভাবে হয়ে উঠল না। এখানে শহিদের বৃত্তান্ত ছবিতে রইল। সঙ্গে কিছু সংবাদ পত্রের লিঙ্ক। দেখুন, বাংলাদেশের ২১ থেকে কম উতসাহে পালিত হয় না এই দিন। তার উপর এবারে শুরু হচ্ছে তার ৫০ বছর !<br />
<a href="http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/2868/19sher-shhidera-002" rel="attachment wp-att-2869"><img src="http://coffeehouseradda.com/files/2010/05/19sher-shhidera-002.jpg" alt="19sher sh`hidera 002" width="205" height="616" class="aligncenter size-full wp-image-2869" /></a><br />
<a href="http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/2868/19sher-shhidera-01" rel="attachment wp-att-2870"><img src="http://coffeehouseradda.com/files/2010/05/19sher-shhidera-01.jpg" alt="19sher sh`hidera 01" width="225" height="603" class="aligncenter size-full wp-image-2870" /></a><br />
দৈনিক প্রান্তজ্যোতিতে ১৯শের নানা অনুষ্ঠানের সংবাদ পড়ুন।<br />
<a href="http://dainikprantojyoti.com/">http://dainikprantojyoti.com/</a><br />
১৯শের সংবাদ পড়ুন সাময়িক প্রসঙ্গে<br />
<a href="http://samayikprasanga.karimganj.com/ -">http://samayikprasanga.karimganj.com/<br />
-</a><br />
১৯শের সংবাদ পড়ুন যুগশঙ্খে</p>
<p><a href="http://www.dainikjugasankha.net/">http://www.dainikjugasankha.net/</a><br />
আমার &#8216; এর আগে পোস্ট করা প্রবন্ধটি আজ জনকন্ঠে প্রকাশ পাবে। এর ওয়েব সাইট কাজ করছে না। পরে পিডিএফ দেবো। কবিতাটা সাময়িক প্রসঙ্গে বেরুবে আগামি রোববার।<br />
আশা করছি এই লিঙ্কগুলো আগামি কাল ও পরশুও আপনারা অনুসরণ করবেন<br />
********<br />
<a href="https://docs.google.com/fileview?id=0BxlSPC75rjjUODI1YmY1NDMtNWFhMi00MWQyLWFhYmEtMGE5ZDllNDY5MDUx&amp;hl=en">১৯ নিয়ে আমার লেখার প্রথমাংশ জনকন্ঠে পড়ুন একখানেঃ</a><br />
<a href="https://docs.google.com/fileview?id=0BxlSPC75rjjUOWNkNWY2YjItZDg5Yy00YmNkLWE4NGYtYzFiZGNmZDEzNTdl&amp;hl=en">জনকন্ঠের প্রথম পাতা এখানেঃ</a><br />
১৯ শের ভাষা শহিদ দিবসকে সামনে রেখে জনকন্ঠে প্রকাশিত আমার লেখার দ্বীতিয় অংশ এখানে পড়ুনঃ<a href="https://docs.google.com/fileview?id=0BxlSPC75rjjUYTdjY2MzZmYtZGI0YS00ZGI4LTlmNDItMjZjMjA3MWJlMzNi&amp;hl=en">https://docs.google.com/fileview?id=0BxlSPC75rjjUYTdjY2MzZmYtZGI0YS00ZGI4LTlmNDItMjZjMjA3MWJlMzNi&amp;hl=en</a><br />
১৯ শের ভাষা শহিদ দিবসকে সামনে রেখে জনকন্ঠে প্রকাশিত আমার লেখার তৃতীয় অংশ এখানে পড়ুনঃ<br />
<a href="https://docs.google.com/fileview?id=0BxlSPC75rjjUZTYwNmUzODAtM2I1MC00YTY2LWEwNjUtN2E1YzJlMjI0ZWRk&amp;hl=en">https://docs.google.com/fileview?id=0BxlSPC75rjjUZTYwNmUzODAtM2I1MC00YTY2LWEwNjUtN2E1YzJlMjI0ZWRk&amp;hl=en</a></p>
<a href="http://www.addtoany.com/add_to/google_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F2868&amp;linkname=%E0%A7%A7%E0%A7%AF%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B7%E0%A6%BE%20%E0%A6%B6%E0%A6%B9%E0%A6%BF%E0%A6%A6%20%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%AC%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A6%20%E0%A6%8F%E0%A6%AC%E0%A6%82%20%E0%A6%86%E0%A6%B0%20%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%9B%E0%A7%81" title="Google Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/google.png" width="16" height="16" alt="Google Bookmarks"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/orkut?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F2868&amp;linkname=%E0%A7%A7%E0%A7%AF%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B7%E0%A6%BE%20%E0%A6%B6%E0%A6%B9%E0%A6%BF%E0%A6%A6%20%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%AC%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A6%20%E0%A6%8F%E0%A6%AC%E0%A6%82%20%E0%A6%86%E0%A6%B0%20%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%9B%E0%A7%81" title="Orkut" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/orkut.png" width="16" height="16" alt="Orkut"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/twitter?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F2868&amp;linkname=%E0%A7%A7%E0%A7%AF%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B7%E0%A6%BE%20%E0%A6%B6%E0%A6%B9%E0%A6%BF%E0%A6%A6%20%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%AC%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A6%20%E0%A6%8F%E0%A6%AC%E0%A6%82%20%E0%A6%86%E0%A6%B0%20%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%9B%E0%A7%81" title="Twitter" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/twitter.png" width="16" height="16" alt="Twitter"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/facebook?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F2868&amp;linkname=%E0%A7%A7%E0%A7%AF%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B7%E0%A6%BE%20%E0%A6%B6%E0%A6%B9%E0%A6%BF%E0%A6%A6%20%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%AC%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A6%20%E0%A6%8F%E0%A6%AC%E0%A6%82%20%E0%A6%86%E0%A6%B0%20%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%9B%E0%A7%81" title="Facebook" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/facebook.png" width="16" height="16" alt="Facebook"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/yahoo_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F2868&amp;linkname=%E0%A7%A7%E0%A7%AF%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B7%E0%A6%BE%20%E0%A6%B6%E0%A6%B9%E0%A6%BF%E0%A6%A6%20%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%AC%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A6%20%E0%A6%8F%E0%A6%AC%E0%A6%82%20%E0%A6%86%E0%A6%B0%20%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%9B%E0%A7%81" title="Yahoo Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/yahoo.png" width="16" height="16" alt="Yahoo Bookmarks"/></a> <a class="a2a_dd addtoany_share_save" href="http://www.addtoany.com/share_save?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F2868&amp;linkname=%E0%A7%A7%E0%A7%AF%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B7%E0%A6%BE%20%E0%A6%B6%E0%A6%B9%E0%A6%BF%E0%A6%A6%20%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%AC%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A6%20%E0%A6%8F%E0%A6%AC%E0%A6%82%20%E0%A6%86%E0%A6%B0%20%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%9B%E0%A7%81"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/share_save_120_16.png" width="120" height="16" alt="Share/Bookmark"/></a>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/2868/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>8</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>আমাদের অত্যন্ত প্রিয় এই যে মাতৃভাষাগুলো</title>
		<link>http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/2834</link>
		<comments>http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/2834#comments</comments>
		<pubDate>Sat, 15 May 2010 18:43:22 +0000</pubDate>
		<dc:creator>সুশান্ত</dc:creator>
				<category><![CDATA[ব্লগাড্ডা]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://coffeehouseradda.com/?p=2834</guid>
		<description><![CDATA[<a href=http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/2834><img src=http://coffeehouseradda.com/files/2010/05/muslim-kid-asif-a-4-year-old-survivor-of-hindu-muslim-riots-is-seen-at-a-civil-hospital-in-ahmadabad-india-monday-march-4-2002-150x150.jpg class=imgtfe hspace=5 align=left width=100  border=0></a>( ১৯শে মে ভাষা শহিদের সম্মানে আমার এই অনুবাদ)
মূল অসমিয়াঃ  ঋতুরাজ কলিতা

আমাদের ভারতবর্ষের এই অংশটির এই যে মাতৃভাষাগুলোঃ
অসমিয়া,মণিপুরি, বাংলা, বডো, ভোজপুরি, মিশিং, সিলেটি,নেপালি, খাসি, হিন্দি,রাজস্থানী,
কার্বী,তিওয়া, ডিমাসা,জেমি নাগা, তাংখুল, আংগামি, কুকি, মিজো,মনপা,ককবরক&#8230;
আমাদের অত্যন্ত প্রিয় তথা পূজনীয়। ইতিহাস আর ভাষাবিজ্ঞান আমাদের জানিয়েছে যে
হাজার হাজার বছর ধরে বিকশিত আমাদের এই সমস্ত ভাষাই
সমস্ত সামাজিক এবং মানবিক ভাব প্রকাশ [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>( ১৯শে মে ভাষা শহিদের সম্মানে আমার এই অনুবাদ)<br />
মূল অসমিয়াঃ  ঋতুরাজ কলিতা</p>
<p><a href="http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/2834/muslim-kid-asif-a-4-year-old-survivor-of-hindu-muslim-riots-is-seen-at-a-civil-hospital-in-ahmadabad-india-monday-march-4-2002" rel="attachment wp-att-2835"><img src="http://coffeehouseradda.com/files/2010/05/muslim-kid-asif-a-4-year-old-survivor-of-hindu-muslim-riots-is-seen-at-a-civil-hospital-in-ahmadabad-india-monday-march-4-2002-150x150.jpg" alt="muslim-kid-asif-a-4-year-old-survivor-of-hindu-muslim-riots-is-seen-at-a-civil-hospital-in-ahmadabad-india-monday-march-4-2002" width="150" height="150" class="aligncenter size-thumbnail wp-image-2835" /></a><br />
আমাদের ভারতবর্ষের এই অংশটির এই যে মাতৃভাষাগুলোঃ<br />
অসমিয়া,মণিপুরি, বাংলা, বডো, ভোজপুরি, মিশিং, সিলেটি,নেপালি, খাসি, হিন্দি,রাজস্থানী,<br />
কার্বী,তিওয়া, ডিমাসা,জেমি নাগা, তাংখুল, আংগামি, কুকি, মিজো,মনপা,ককবরক&#8230;<br />
আমাদের অত্যন্ত প্রিয় তথা পূজনীয়। ইতিহাস আর ভাষাবিজ্ঞান আমাদের জানিয়েছে যে<br />
হাজার হাজার বছর ধরে বিকশিত আমাদের এই সমস্ত ভাষাই<br />
সমস্ত সামাজিক এবং মানবিক ভাব প্রকাশ তথা  বিনিময় করবার জন্যে পুরোপুরি উপযুক্ত<br />
জীবনের সমস্ত আনন্দ বেদনা, দয়া করুণা, ক্ষোভ প্রীতি সবগুলো অনুভূতির পরিপূর্ণ বাহন</p>
<p>তবুও , কাগজের পৃষ্ঠা তথা দূরদর্শনের পর্দাতে নানারকম খবরগুলো দেখে শুনে<br />
জায়গায় জায়গায় অহরহ যে সব ছোট বড় আন্দোলন হচ্ছে সেগুলোর  স্লোগান পড়ে শুনে<br />
আমাদের মনে কেন জানি এই সন্দেহ জাগে যে<br />
আমাদের এই ভাষাগুলো<br />
সত্যি বুঝি একই রকম করে নানা রকম মানুষের মর্মবেদনাকে প্রকাশ করতে পারে?</p>
<p>একই রকম প্রকাশ করতে পারে কি সেনা আতিশয্যের বলি নিরীহ অসমিয়া কৃষকের যন্ত্রণাকে?<br />
আর উগ্রপন্থীর মাইন আক্রমণে পা কাটা পড়া তেলেগু সেনার দুর্ভাগ্যকে?<br />
( যদি তাই হয়, তবে কেন অসমিয়া বর্ণমালাতে  এক বিশেষ ধরণের খবরই দেখি বেশি বেশি করে?)<br />
একই রকম বর্ণনা করতে কি পারে থৌবাল গ্রামে পুলিশের হাফাজতে     মৃত কাঠ মিস্ত্রি ছেলেটির<br />
তথা ইম্ফলে সন্ত্রাসবাদি বোমা বিস্ফোরণে মৃতা মণিপুরি ব্যাবসায়ী মায়ের কাহিনিকে?<br />
( যদি তাই হয়, তবে কেন মণিপুরি স্লোগানগুলোতে আমরা এক বিশেষ ধরণের প্রতিবাদই দেখি<br />
বেশি বেশি  করে?)</p>
<p>মা বাবাকে হঠাৎ করেই হারিয়েছে যে ডিমাসা বা জেমি নাগা বা মাড় কিংবা ভোজপুরি কিশোরীটি<br />
তার হৃদয়ের হাহাকারকে কি সেই একই রকম ব্যক্ত  করতে পারে?<br />
(যদি তাই হয়, তবে কি জেমিনাগা গণহত্যার বিরুদ্ধেও  একই রকম প্রতিবাদে সোচ্চার হতো না ডিমাসা নারী?)<br />
উদ্যত অস্ত্রের সামনে হতবাক নাগা বা কুকি বাসযাত্রীদের হাহাকারকে কি একই রকম বোঝাতে পারে?<br />
একই রকম বোঝাতে পারে কি উগ্রপন্থীর আকাশছোঁয়া টাকার দাবিতে বিভ্রান্ত<br />
অসমিয়া আর রাজস্থানী মূলের ব্যবসায়ীদের কিংকর্তব্যবিমূঢ়তাকে? </p>
<p>যদি প্রতিটি ভাষা সবার সুখ দুঃখ একই সমান করে প্রকাশ করে পারত<br />
তিনসুকিয়ার গ্রামবাসিদের কন্ঠে কি আর শুনতে পেতাম সেই সংগঠন আর সেই ব্যক্তির জন্যে<br />
জিন্দাবাদ ধ্বনি, যাদের নির্দেশে গণহত্যাতে মারা গেছে তিনসুকিয়ারই শতাধিক অন্যভাষী<br />
যার সন্ত্রাসবাদি আক্রমণে হতাহত হয়েছে নিম্ন অসমের শহর গুলোর শত সহস্র আম জনতা<br />
( অর্থাৎ তোমরা সেদিন স্লোগান দিয়েছিলে গণহত্যা জিন্দাবাদ, বোমা বিস্ফোরণ জিন্দাবাদ)<br />
ধরা বাঁধা কতকগুলো শব্দ এবং শব্দজোড়কে গেঁথে গেঁথে<br />
আজ আমরা আমাদের ভাষাগুলোর যে অবস্থা করেছি&#8230;<br />
সেগুলো কি আর বোঝাতে পারল গুয়াহাটির বেলতলাতে<br />
দুর্বৃত্তের অপ্ররোচিত আক্রমণে জীবিকা হারানো শত শত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর বেদনাকে?<br />
বোঝাতে পারল কি অসমের চর অঞ্চলের থেকে উজানের ইটভাটাতে ট্রাকে করে যাবার বেলা<br />
বিদেশি আখ্যা দিয়ে যেখানে সেখানে ঘন্টার পর ঘন্টা খিদে তৃষ্ণাতে আবদ্ধ করে রাখবার যাতনা?<br />
ঠিক ঠিক করে কি বোঝাতে পেরেছে গ্রামে গ্রামে বাঁদরের দলে<br />
আর শোনিতপুর-নগাঁও-গোলাঘাটের গ্রামাঞ্চলে হাতিতে দলিত মথিত করে<br />
যাদের খেত খামার ধ্বংস করেছে সেই জনতার ভবিতব্যকে?</p>
<p>রাষ্ট্রযন্ত্র, নিপীড়িত জাতিসত্তা, নারী-নির্যাতন, সন্দেহযুক্ত বিদেশী, হাতি মানুষের  সংঘাত<br />
ইত্যাদি কিছু শব্দবন্ধের অকারণ আধিক্য তথা অহরহ চাপে<br />
আমাদের পূজনীয় মাতৃভাষাগুলো কি তাদের স্বাভাবিক ন্যায় অন্যায় বোধ হারিয়ে ফেলেছে<br />
এমন কি আমাদের &#8230;এই ভাষাগুলোর প্রিয় সন্তানদের&#8212; জীবন মৃত্যুর পার্থক্য বোঝার ক্ষমতা?</p>
<p>এগুলো কি চমস্কি যেমনটি বলেছেন,<br />
মানুষের সত্য সন্ধানের পথে  জীব বৈজ্ঞানিক ভাবে অপ্রতিরোধ্য এক একটা সিড়ি&#8230;<br />
না, হয়ে পড়েছে আমাদের অহরহ আত্ম প্রবঞ্চনার নীরব সাক্ষী এবং অসহায় সহায়ক ?</p>
<p>( কবিতাটি ড০ হীরেন গোঁহাই সম্পাদিত ‘নতুন পদাতিক’ কাগজের  এপ্রিল,২০১০ সংখ্যাতে প্রকাশ পেয়েছে। ঋতুরাজ নিজেও কাগজটির সহ সম্পাদক।)<br />
অনুবাদঃ ১৫-০৫-১০</p>
<a href="http://www.addtoany.com/add_to/google_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F2834&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%85%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%20%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A7%9F%20%E0%A6%8F%E0%A6%87%20%E0%A6%AF%E0%A7%87%20%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%83%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B7%E0%A6%BE%E0%A6%97%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A7%8B" title="Google Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/google.png" width="16" height="16" alt="Google Bookmarks"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/orkut?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F2834&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%85%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%20%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A7%9F%20%E0%A6%8F%E0%A6%87%20%E0%A6%AF%E0%A7%87%20%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%83%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B7%E0%A6%BE%E0%A6%97%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A7%8B" title="Orkut" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/orkut.png" width="16" height="16" alt="Orkut"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/twitter?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F2834&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%85%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%20%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A7%9F%20%E0%A6%8F%E0%A6%87%20%E0%A6%AF%E0%A7%87%20%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%83%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B7%E0%A6%BE%E0%A6%97%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A7%8B" title="Twitter" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/twitter.png" width="16" height="16" alt="Twitter"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/facebook?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F2834&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%85%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%20%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A7%9F%20%E0%A6%8F%E0%A6%87%20%E0%A6%AF%E0%A7%87%20%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%83%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B7%E0%A6%BE%E0%A6%97%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A7%8B" title="Facebook" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/facebook.png" width="16" height="16" alt="Facebook"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/yahoo_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F2834&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%85%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%20%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A7%9F%20%E0%A6%8F%E0%A6%87%20%E0%A6%AF%E0%A7%87%20%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%83%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B7%E0%A6%BE%E0%A6%97%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A7%8B" title="Yahoo Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/yahoo.png" width="16" height="16" alt="Yahoo Bookmarks"/></a> <a class="a2a_dd addtoany_share_save" href="http://www.addtoany.com/share_save?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F2834&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%85%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%20%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A7%9F%20%E0%A6%8F%E0%A6%87%20%E0%A6%AF%E0%A7%87%20%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%83%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B7%E0%A6%BE%E0%A6%97%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A7%8B"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/share_save_120_16.png" width="120" height="16" alt="Share/Bookmark"/></a>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/2834/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>9</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>‘হৃদয়ে রবীন্দ্রনাথ, চেতনায় উনিশ’ঃ</title>
		<link>http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/2821</link>
		<comments>http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/2821#comments</comments>
		<pubDate>Fri, 14 May 2010 16:00:32 +0000</pubDate>
		<dc:creator>সুশান্ত</dc:creator>
				<category><![CDATA[প্রবন্ধ]]></category>
		<category><![CDATA[রাজনীতি]]></category>
		<category><![CDATA[সমসাময়িক]]></category>
		<category><![CDATA[সমাজ]]></category>
		<category><![CDATA[ভাষ শহিদ দিবস]]></category>
		<category><![CDATA[১৯শে মে]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://coffeehouseradda.com/?p=2821</guid>
		<description><![CDATA[<a href=http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/2821><img src=http://lh5.ggpht.com/_Y7NPfnwUYj8/S-zN2_ItUtI/AAAAAAAACdE/g7ZPmASJRis/s400/RABI%20THAKUR%20a.jpg class=imgtfe hspace=5 align=left width=100  border=0></a>বাঙালির আত্মাভিমান, অসমিয়া উগ্রজাতীয়তাবাদ এবং  রবীন্দ্রনাথের  হৃদয়  কথা
                    ( ১৯শে মে , ভাষা শহিদ দিবসের সম্মানে ) 





From ঈশান কোনের কথা







From ঈশান কোনের কথা







From ঈশান কোনের কথা


 “আমাৰ ,ভাৰতবর্ষৰ এই খণ্ডৰ অধিবাসিসকলৰ, এই [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><strong>বাঙালির আত্মাভিমান, অসমিয়া উগ্রজাতীয়তাবাদ এবং  রবীন্দ্রনাথের  হৃদয়  কথা</strong><br />
                   <em> ( ১৯শে মে , ভাষা শহিদ দিবসের সম্মানে ) </em></p>
<table style="width:auto">
<tr>
<td><a href="http://picasaweb.google.com/lh/photo/E3TUAg_sYl33IJgtAssTwmmVhySa3WFidBu30Ozx1YM?feat=embedwebsite"><img src="http://lh5.ggpht.com/_Y7NPfnwUYj8/S-zN2_ItUtI/AAAAAAAACdE/g7ZPmASJRis/s400/RABI%20THAKUR%20a.jpg" /></a></td>
</tr>
<tr>
<td style="font-family:arial,sans-serif;font-size:11px;text-align:right">From <a href="http://picasaweb.google.com/karsushanta40/sKdaHF?authkey=Gv1sRgCPnEwuzA77D05gE&amp;feat=embedwebsite">ঈশান কোনের কথা</a></td>
</tr>
</table>
<table style="width:auto">
<tr>
<td><a href="http://picasaweb.google.com/lh/photo/BYkwCgkUrDL0dxuxhuqeh2mVhySa3WFidBu30Ozx1YM?feat=embedwebsite"><img src="http://lh4.ggpht.com/_Y7NPfnwUYj8/S-zNTcHWK7I/AAAAAAAACdA/YO1zGQKR9Jk/s400/8%20X%204%20%20%20%201%20NO%20FL.jpg" /></a></td>
</tr>
<tr>
<td style="font-family:arial,sans-serif;font-size:11px;text-align:right">From <a href="http://picasaweb.google.com/karsushanta40/sKdaHF?authkey=Gv1sRgCPnEwuzA77D05gE&amp;feat=embedwebsite">ঈশান কোনের কথা</a></td>
</tr>
</table>
<table style="width:auto">
<tr>
<td><a href="http://picasaweb.google.com/lh/photo/BUNo5v4ngJtJwxaQfMniRmmVhySa3WFidBu30Ozx1YM?feat=embedwebsite"><img src="http://lh6.ggpht.com/_Y7NPfnwUYj8/S-zOKCkd_MI/AAAAAAAACdI/_X0hyIAZnnQ/s800/19%20copy.jpg" /></a></td>
</tr>
<tr>
<td style="font-family:arial,sans-serif;font-size:11px;text-align:right">From <a href="http://picasaweb.google.com/karsushanta40/sKdaHF?authkey=Gv1sRgCPnEwuzA77D05gE&amp;feat=embedwebsite">ঈশান কোনের কথা</a></td>
</tr>
</table>
<p> “আমাৰ ,ভাৰতবর্ষৰ এই খণ্ডৰ অধিবাসিসকলৰ, এই যে মাতৃভাষাবোৰঃ/অসমীয়া,মণিপুৰি,বাংলা,বডো,ভোজপুৰী,মিছিং,চিলেটী,নেপালী,খাচি,হিন্দী, ৰাজস্থানী,/কার্বী,তিৱা,ডিমাছা,জেমিনাগা,টাংখুল,আঙ্গামী,কুকি,মিজো,মনপা,ককবৰক…/আমাৰ অতিকৈ প্রিয় তথা পূজ্য।&#8230;” এভাবেই শুরু হয়েছে সুপরিচিত অসমিয়া তরুণ কবি ঋতুরাজ কলিতার এক আশ্চর্য সুন্দর গদ্য কবিতা। কবিতাটি দীর্ঘ। সবটা তুলে দেয়াটা এই প্রবন্ধের পক্ষে বিরক্তিকর হবে। আমি বরং প্রাসঙ্গিক ক’টা পংক্তি তুলে দিচ্ছি।“…তথাপি, কাকতৰ পাত তথা দূৰদর্শনৰ পর্দাত ভিন ভিন বাতৰিবোৰ দেখি-শুনি…আমাৰ মনত কিয় জানো এই সন্দেহ আহে/যে আমার এই ভাষাবোৰ/সঁচাকৈয়ে জানো প্রকাশ কৰিব পাৰে সকলোধৰণৰ মানুহৰ মর্মবেদনা?&#8230;।যদি প্রতিটো ভাষাই সকলোৰে সুখদুখ সমানেই প্রকাশ কৰিব পাৰিলেহেতেন/তিনিচুকীয়াৰ গাঁওবাসীৰ কণ্ঠত শুনিলোহেঁতেন জানো সেই সংগঠন আৰু সেই ব্যক্তিৰ বাবে জিন্দাবাদ ধ্বনি, যাৰ নির্দেশিত গণহত্যাত নিহত হৈছে তিনিচুকীয়াৰেই শতাধিক অন্যভাষী…বুজাব পাৰিছে জানো অসমৰ চৰ অঞ্চলৰ পৰা উজনিৰ ইটাভাটালৈ ট্রাকেৰে গৈ থাকোঁতে/বিদেশী আখ্যা দি যেয়ে –সেয়ে ঘন্টাৰ পিচত ঘন্টা ভোকে-পিয়াহে আৱদ্ধ কৰি ৰখাৰ যাতনা?&#8230;।”               </p>
<p>                                     স্পষ্ট যে উগ্রজাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে কবি কন্ঠ সোচ্চার। ঋতুরাজ অসমের সর্বজন শ্রদ্ধেয় লেখক বুদ্ধিজীবী হীরেন গোহাঁই সম্পাদিত বহুল প্রচারিত ছোট কাগজ , ‘নতুন পদাতিকে’র অন্যতম সহযোগী সম্পাদকও বটে। কবিতাটি সে কাগজেরই সাম্প্রতিক সংখ্যাতে ( ১০ এপ্রিল,১০) প্রকাশিত হয়েছে। সুতরাং তিনি একেবারে যে সে ব্যক্তি নন।</p>
<p>                                        না, না। ঋতুরাজ কিম্বা তাঁর কবিতা আমাদের আলোচনার বিষয়ই নয়। আমাদের বিষয়, ‘সিলেটি’ শব্দটি। সে আবার বাংলার থেকে স্বতন্ত্র উল্লেখ করবার মতো আলাদা মাতৃভাষা হলো কবে? অনেক অসমিয়া লেখক বুদ্ধিজীবী ‘সিলেটি’কে বাংলার থেকে স্বতন্ত্র পূর্বোত্তর ভারতীয় ভাষা হিসেবে ভাবতে ভালোবাসেন। ‘নিন্দুকে’রা বলেন  এ হলো বাংলার থেকে আলাদা করে পরে অসমিয়ার স্বগোত্রীয় বলে চালিয়ে দিয়ে সেই ভাষাতেই মিলিয়ে দেবার পরিকল্পনা মাত্র। ঋতুরাজ কিম্বা তাঁর মতো বাম প্রগতিশীলদের কলমেও যখন সেই পরিকল্পনার ছায়ার দেখা মেলে তখন চোখ আমাদের একটু কোঁচকায় বটে। মনে হয় যেন বাম দক্ষিণ নির্বিশেষে অসমিয়া মানেই উগ্রজাতীয়তাবাদি। কিন্তু ব্যাপার এতো সহজ নয়। সে নিয়ে আমরা পরে আসছি।</p>
<p>                                      সাম্প্রতিক অসমে ময়মন সিংহ থেকে ১৯৭১এর মার্চের আগে আসা মুসলমানেরা আদমসুমারীতে নিজেদের মাতৃভাষা কী লেখাবেন তাই নিয়ে আলো হাওয়া বেশ উত্তপ্ত হয়েছে। বছরের আগামীদিনগুলোতে  আরো হবে এই আশঙ্কাই করা যায়। যারা বলছেন, ‘বাংলা লেখান’ তাদের সম্পর্কে অসমিয়া ভাষার পক্ষের লোকেরা বলছেন এসব বরাক উপত্যকার বাঙালি উগ্রজাতীয়তাবাদীদের প্ররোচনা। অসমিয়া জাতিকে ভাঙ্গার ষড়যন্ত্র।এক বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়বার সৎপ্রয়াসে বাঙালিরা জল ঢালছেন। অন্যদিকে এই ‘সৎপ্রয়াসকে’ বাঙালি মাত্রেই উগ্রজাতীয়াতাবাদ আখ্যা দিয়ে আসছেন। বলছেন,  এ হলো বাঙালির সংখ্যা কমিয়ে আধিপত্য বিস্তারের প্রয়াস মাত্র।  মুসলমানদের মধ্যে  যারা বলছেন, ‘অসমিয়া লেখান’-তাদের সম্পর্কে বাংলার পক্ষের লোকেরা বলছেন ‘বিশ্বাসঘাতক’! আর যারা বলছেন, ‘বাংলা লেখান’ তাদের সম্বন্ধেও অসমিয়ারা অন্যকোনো শব্দ ব্যবহার করছেনই না। অসমিয়ারা বলছেন এতোদিন ঘরের বাইরে অসমিয়া লিখে পড়ে কথা বলে এই মুসলমানেরা অসমিয়া হয়েই গেছেন। বিরুদ্ধবাদিরা জিজ্ঞেস করছেন, তবে যে মূলস্রোতের অসমিয়ারা ঘরের বাইরে ইংরেজিতে লেখা পড়া করছেন, কথা বলছেন তারা কি ইংরেজ হয়ে গেলেন?   ভোটের বাজার তাতে কতটা সরগরম হবে তাতো আগামি দিনে দেখাই যাবে। কিন্তু আপাতত যে এতে পত্রিকা কাগজগুলোর বাজার বেশ জমে উঠেছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।   কিন্তু যে ব্যাপারটি খোদ মুসলমানদেরকে ভাবাচ্ছে, বাঙালি বলে লিখলেও বরাকে ‘বাঙাল’ আর ব্রহ্মপুত্রে ‘বাংলাদেশি’ এই অবিধা তাদের যাবার নয়। কেউই তাদের পুরো বাঙালি কিম্বা পুরো অসমিয়া বলে মেনে নেবার মতো অবস্থাতে নেই। মেনে নেবেন এই আস্থাও কেউ যোগাবার মতো কোনো আয়োজন করছেন না। যার মারটা জোরালো, তার হাত থেকে বাঁচবার জন্যে তাঁদের দিকেই ঝুঁকে পড়বার সম্ভাবনাই বেশি এই মুসলমান মানুষগুলোর । অসমিয়ারা সংখ্যাগরিষ্ঠ । সুতরাং তাদের দিকেই ভিড়ে যাবার সম্ভাবনা যথারীতি প্রবল। যেমনটি তারা এতোদিন করে এসছেন। যদি তা না করেন তবে সে হবে এক ঐতিহাসিক ঘটনা। সেটি ভালো কি মন্দ হবে সে তর্ক আমরা আপাতত না হয় তুলছি না।</p>
<p>                                          এই মুসলমানেরা থাকেন মূলত ব্রহ্মপুত্রের চর অঞ্চলে। তাদের বেশির ভাগ আসলে গরীব কৃষক, জেলে। জল জমিতে কাজ না মিললে তারা পাথর ভেঙে বড়লোকদের গাড়ি চলবার পথ তৈরি করে দিতে ছড়িয়ে পড়েন পূর্বোত্তরের অন্যত্র। সেখানে তাদের কপালে কী জোটে ঋতুরাজ লিখেছেন সেটিই, “বুজাব পাৰিছে জানো অসমৰ চৰ অঞ্চলৰ পৰা উজনিৰ ইটাভাটালৈ ট্রাকেৰে গোই থাকোঁতে/বিদেশী আখ্যা দি যেয়ে –সেয়ে ঘন্টাৰ পিচত ঘন্টা ভোকে-পিয়াহে আৱদ্ধ কৰি ৰখাৰ যাতনা?&#8230;।” এসব দেখে শুনে অন্নদা শঙ্করের সেই কবিতাকে খানিকটা পালটে দিয়ে আবৃত্তি করতে ইচ্ছে জাগে, “তেলের শিশি ভাঙল বলে খোকার পরে রাগ করো?/ তোমরা যে সব বুড়া খোকা ‘অসম’ ভেঙে ভাগ করো।    তার বেলা? ”  এই গরীব মুসলমানেরা নিজেদের অসমিয়া লিখিয়ে পিঠ বাঁচাবার যে সংগ্রামটি করেন তা খুব কম বাঙ্গালি জাতি ভাইয়ের চোখে পড়ে। কেন না ভাষা কিম্বা ধর্ম যার আধারেই ‘জাতি’ গড়বার স্বপ্ন দেখুন সেই স্বপ্নদ্রষ্টারা শ্রেণিগত ভাবেই মধ্যবিত্ত। সেই শ্রেণি অবস্থান থেকে উপরে যত দূরেই তাদের চোখ যাক না কেন তলার দিকে সে চোখ পড়ে অতি অল্প।</p>
<p>                                        আমাদের নিজেদের ‘চোখ’কে নিয়ে খুব অহঙ্কার রয়েছে। নিজেদের খুব সত্যদ্রষ্টা বলে ভাবতে আমরা ভালোবাসি। প্রায়ই ধমকে দিয়ে পরকে বলি, ‘তুমি কি আমার থেকে বেশি জানো?” সত্য হলো, আমরা কেউই বেশি জানি না। ঋতুরাজ জানেন না যে ‘সিলেটি’ বাংলার এক উপভাষা মাত্র, আলাদা কারো মাতৃভাষা নয়। এই না জানার উপর ঋতুরাজের নিজের খুব একটা দখল নেই। তিনি সেই ছেলে বেলা থেকে স্কুল পাঠ্য সমস্ত অসমিয়া বইতে, সভা সমিতিতে সেরকমই শুনে এসছেন। অত্যুৎসাহীরা ‘সিলেটি’কেও অসমিয়ার উপভাষা  বলে বৃহৎ অসমিয়া জাতি গড়বার স্বপ্ন দেখেছেন , দেখিয়েছেন। কিন্তু যারা জানেন যে সিলেটিদের মধ্যে গরীব শ্রমিক, কৃষক থাকলেও এক শক্তিশালী মধ্যবিত্ত বৌদ্ধিক সমাজ রয়েছেন তারা সে   উৎসাহ  খানিকটা দমিয়ে এনে একে বাংলার থেকে আলাদা ভাষা হিসেবে ভাবতে ভালো বেসেছেন। বানীকান্ত কাকতি কে বাদ দিলে আমি এখনো কোনো অসমিয়া বইতে একে বাংলারই এক উপভাষা বলে সানন্দ স্বীকৃতি দিতে দেখিনি। । ব্যাপারটার শুরু হয়েছিল সেই ১৯১৩তে । যখন বেনুধর রাজখোয়া সিলেট জেলা মেজিষ্ট্রেট ছিলেন, তিনি তখন একটি বই লেখেন যার নাম ছিলঃ Notes on the Sylheti Dialect . তিনি দেখিয়েছিলেন যে সিলেটি উপভাষাটি আদর্শ বাংলার থেকে অসমিয়ার অনেক কাছের ভাষা । তিনি বিশেষ করে উল্লেখ করেছিলেন যে সিলেটিরা শিষ ধ্বনি স (s) কে অসমিয়াদের মতো &#8216;স&#8217; (X) উচ্চারণ করে । এরা অল্প /h/-এর দিকে হেলে পড়ে, আদর্শ বাংলার -&#8217;সে&#8217;, &#8216;ঐ&#8217;,&#8217; সেইটি&#8217;&#8212;র বদলে তারা বলে, &#8216;হি&#8217; /he/ ( অস. সি /xi/), হউ /hou/ (অস. সৌ /xou/) , হেইটো ( অস. সেইটো /xeito/) ইত্যাদি । বেনুধর রাজখোয়া অসমিয়া লিপিতে লেখা এক পুরোনো সিলেটি &#8216;পদ্মাপুরাণে&#8217;র পাণ্ডুলিপিও দেখেছিলেন । তার পর একেবারেই সাম্প্রতিক গুয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অসমিয়া বিভাগের অধ্যাপক ভাষাবিদ উপেন রাভা হাকাসামের বই ‘অসমীয়া আৰু অসমৰ তিব্বত বর্মীয় ভাষা’ এবং ‘অসমীয়া আৰু অসমৰ ভাষা-উপভাষা’ বই দুটিতেও বেনুধর রাজখোয়ার  সেই শতাব্দি প্রাচীন তত্বের প্রতিধ্বনি শোনা যাবে। মাঝখানের ভাষাবিদেরা এ নিয়ে কী লিখে গেছেন উপেন রাভা হাকাচাম থেকেই না হয় তার নজির টানা যাক , “ অবশ্যে পৰবর্তী কালত ড০ উপেন্দ্র নাথ গোস্বামীয়ে তেওঁৰ ‘অসমীয়া ভাষা আৰু উপভাষা’ (১৮৮৬)নামৰ পুথিত ড০  প্রমোদচন্দ্র ভট্টাচার্যৰ সুৰতে সুৰ মিলাই ক’বলৈ অকণো সংকোচ বোধ কৰা নাই যে “ কাছাৰী উপভাষাটো কামৰূপী উপভাষা আৰু অসমীয়া মান্য ভাষাৰ ওচৰ চপা। ইয়াত শতকৰা পয়সত্তৰটা শব্দ সজাতীয় শব্দ।” ( পৃঃ ১১; ‘অসমীয়া আৰু অসমৰ তিব্বত বর্মীয় ভাষা ) । এরা পণ্ডিত মানুষ। কিন্তু তা সত্বেও তাঁদের ‘চোখ’ যে সর্বত্রগামী হয় নি সেতো বেনুধর রাজখোয়ার ঐ ছোট্ট উল্লেখটিতেই স্পষ্ট। হেইটো ( অস. সেইটো /xeito/) সিলেটি শব্দই নয়। সিলেটি শব্দ হবেঃ হকটা বা হটা বা হিটা। তাঁর অসমিয়ার সাদৃশ্য সন্ধানী চোখ ‘হিটা’কে ‘হেইটো’ শুনেছিল।</p>
<p>                                  এমন সীমাবদ্ধতা প্রায় শতাব্দী পরের উপেন রাভাতেও রয়েছে। তিনি বাংলা বলে যে ভাষার নজির দিয়ে তুলনা টেনেছেন তা প্রায়ই বাংলা সাধু ভাষা। মুখের বদলে কৃত্রিম ভাবে গড়ে তোলা সাহিত্যের ভাষা। যেমন তিনি লিখেছেন, “ অসমীয়াৰ সৈতে সাদৃশ্য থকা প্রধান কেতবোৰ ৰূপতাত্বিক বৈশিষ্ট হ’ল—ভবিষ্যত কালৰ প্রথম পুৰুষৰ ৰূপ –ইমু ( যাইমু, কৰিমু),তু,অসমীয়া –ইম/ম কিন্তু বাংলা –ইব, দ্বিতীয় পুৰুষৰ ৰূপ –ইবা ( যাইবা, কৰিবা) তু, অসমীয়া-ইবা/বা কিন্তু বাংলা –ইবে, তৃতীয় পুৰুষৰ ৰূপ –ইব (কৰিব) ,তু অসমীয়া –ইব/-ব কিন্তু বাংলা –ইবে&#8230;” ( পৃঃ ১২’ঐ) এমন নজির তাঁর দুটো বইতেই প্রচুর রয়েছে। বস্তুত প্রায় সবই এরকম। প্রথম,দ্বিতীয়, তৃতীয় পুরুষ বিভাজন বাংলাতে নেই। আমি যদ্দুর জানি অসমীয়াতেও নেই। আসলে তিনি প্রথম বলতে উত্তম পুরুষ,দ্বিতীয় বলে মধ্যম আর তৃতীয় বলে প্রথম পুরুষ বুঝিয়েছেন সেটি অসমীয়া নজির থেকে স্পষ্ট। তাই যদি হয়, তবে উত্তম পুরুষে  আদর্শ চলিত বাংলার রূপ আসলে –ইব নয় -ব ( আমি যাব, খাব।) সাধু বাংলাতে –ইব ( যাইবে, খাইবে), তেমনি মধ্যম পুরুষের চলিত বাংলার ইবে নয়, বে ( তুমি যাবে, খাবে), প্রথম পুরুষের চলিত বাংলার রূপ  ইবে নয়, মধ্যম পুরুষের মতোই –বে ( সে যাবে, খাবে)। সিলেটি উদাহরণও যথাযথ নয় এখানে। মধ্যম পুৰুষৰ ৰূপ –ইবা এবং তার দৃষ্টান্ত মোটেও  যাইবা, কৰিবা –কোনোটাই নয়। সে হবে –ইও ( যাইও, করিও) । তৃতীয় পুরুষের ৰূপ অসমীয়ার মতোই –ইব/ব হয় বটে । কিন্ত ‘কৰিব’ শব্দটি তার দৃষ্টান্ত হতে পারে না। এটি একেবারেই উত্তম পুরুষের সাধু বাংলার রূপ, সিলেটি মোটেও নয়। সিলেটি হবে ‘ হে যাইব, করব, খাইব, মরব ইত্যাদি। অসমিয়াতে ‘সি কৰিব’, কিন্তু সাধু বাংলাতে , ‘আমি করিব’ ।  এ ধরণের দৃষ্টান্ত দেয়া আর সিদ্ধান্ত টানা থেকে একটা কথাতো পরিষ্কার যে উপেন রাভা অবরোহী পদ্ধতিতে অনুসন্ধান চালিয়েছেন।  অর্থাৎ, সিদ্ধান্ত কী টানতে হবে তাঁর আগেই জানা ছিল, পরে তিনি তার অনুকূলে দৃষ্টান্ত সংগ্রহ করে গেছেন। সেটি করতে গিয়ে সিলেটিকে যতটা পারেন অসমিয়ার মতো করে ফেলেছেন, আর বাংলাকে যতটা সম্ভব সাধু করে দূরে ঠেলে দিয়েছেন। তাতে অসমীয়া অক্ষত থাকলেও বাংলা বা সিলেটি কেউই তাদের যথাযথ রূপ এবং চরিত্রে তাঁর গ্রন্থে এসে উপস্থিত হয় নি।  বৈজ্ঞানিক নৈরাসক্তি তাঁর অধ্যয়নে পাওয়া যাবে না। তাঁর পরেও কিন্তু তাঁর মন্তব্য আমরা সিলেটিরা বুঝি যথেষ্ট বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান না করেই একটা ভুল ধারণা নিয়ে বসে আছি যে আমাদের মাতৃভাষা বাংলা। প্রমোদ চন্দ্র ভট্টাচার্যের একটি উদ্ধৃতি দিয়ে তিনিও   লিখেছেন, “এনেদৰে কাছাৰ অঞ্চলৰ ভাষা-উপভাষাৰ তুলনামূলক বিচাৰ-বিশ্লেষণ কৰিলে কাছাৰীয় উপভাষা সীমান্তৰ মাত -কথা  ৰূপে বঙলাতকৈ অসমীয়া ভাষাৰ ওচৰ চপা আৰু ঘনিষ্ঠ ৰূপ বুলি প্রমাণ কৰিব পাৰি&#8230; কিন্তু কাছাড় আৰু কৰিমগঞ্জ অঞ্চলৰ কথিত ভাষা-উপভাষাৰ বৈজ্ঞানিক আৰু ক্ষেত্র অধ্যয়নমূলক বিচাৰ বিশ্লেষণ নোহোৱাৰ বাবে,&#8230; পুৰণি ভুল ধাৰণাই এই অঞ্চলৰ কথিত ভাষা-উপভাষাক বঙলা  বুলিহে অভিহিত কৰি চৰকাৰী ব্যৱস্থা লোৱা হৈছে।” ( পৃঃ১২; ঐ)</p>
<p>                                        তাঁর নিজের অধ্যয়নই যে যথেষ্ট বৈজ্ঞানিক নয় সেতো পাঠক মাত্রেই আগে দেয়া নজির থেকে ধরে নেবেন। বোঝাই যায়  জাতীয়তাবাদ  তাঁর দৃষ্টিকে নিয়ন্ত্রিত আর সীমাবদ্ধ করেছে। এমন জাতি, বর্ণ, অঞ্চল, শ্রেণি বা অন্যান্য সামাজিক স্বার্থ আমাদের দৃষ্টিকে নিয়ন্ত্রিত করে বলেই সমাজ বিজ্ঞান আজো বিশুদ্ধ বিজ্ঞান বলে স্বীকৃতি পেলনা।“কাছাৰীয় উপভাষা সীমান্তৰ মাত -কথা  ৰূপে বঙলাতকৈ অসমীয়া ভাষাৰ ওচৰ চপা আৰু ঘনিষ্ঠ ৰূপ বুলি প্রমাণ কৰিব পাৰি&#8230;”&#8211; তাঁর এই কথাৰ সঙ্গে কোনো বাঙালিই দ্বিমত পোষণ করবেন না। রবীন্দ্রনাথ অব্দি তাঁর প্রথম জীবনের এক রচনাতে  লিখেছেন, “ বীরভূমের কথিত ভাষার সহিত ঢাকার ভাষার যে প্রভেদ, বাংলার সহিত আসামির প্রভেদ তাহা অপেক্ষা খুব বেশি নহে।” (পৃঃ ৭৩৯, ভাষাবিচ্ছেদ;পরিশিষ্ট,শব্দতত্ব; রবীন্দ্ররচনাবলী, ৬ষ্ঠ খন্ড;১২৫তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বিশ্বভারতী প্রকাশিত সুলভ সংস্করণ) ।   এই কথা প্রতিষ্ঠার জন্যে উপেন রাভার দরকার ছিলনা সিলেটি উদাহরণকে অসমিয়াপ্রায় আর বাংলা উদাহরণকে সাধু বাংলা করে দূরে ঠেলবার। এর পক্ষে তিনি  বহু বাংলা ভাষাবিদদের থেকেও নজির পেয়ে যেতেন। চাইকি শুধু সিলেটি কেন পূর্ব বাংলার আরো আরো উপভাষার অধ্যয়ন করলেও তিনি সেটা প্রমাণ করতে পারতেন। সম্ভবত চট্টগ্রামের ভাষার সঙ্গে আর বেশি। উপরে উল্লেখ করা প্রবন্ধেই রবীন্দ্রনাথই লিখেছেন, “ আসামিরা চ-কে দন্ত্য স ( ইংরেজি s) জ-কে দন্ত্য জ ( ইংরেজি z) রূপে উচ্চারণ করে , পূর্ববাংলাতেও সেই নিয়ম । তাহারা শ-কে হ বলে, পূর্ববঙ্গেও তাই। তাহারা বাক্য-কে ‘বাইক্য’, মান্য-কে ‘মাইন্য’ বলে, এ সম্বন্ধেও তাহার প্রভেদ দেখি না।”( (পৃঃ ৭৪১, ভাষাবিচ্ছেদ;ঐ) উপেন রাভা  বা বেনুধর রাজখোয়া কেউ ওতো দূর অব্দি তাকানই নি, কেননা তাঁদের দৃষ্টিকে নিয়ন্ত্রিত করেছে গেল এক দেড় শতকের অসমের রাজনৈতিক ইতিহাস আর মানচিত্র। সিলেট ১৮৭৪থেকে অসমের একেজেলা ছিল। আজো তার একটা অংশ অসমেরই অংশ। কিন্তু উপেন রাভা হাকাসামের, “পুৰণি ভুল ধাৰণাই এই অঞ্চলৰ কথিত ভাষা-উপভাষাক বঙলা  বুলিহে অভিহিত কৰি চৰকাৰী ব্যৱস্থা লোৱা হৈছে।” এই কথাতে অন্য বাঙালিতো বটেই সিলেটি মাত্রকেই ক্ষেপিয়ে তুলবার পক্ষে যথেষ্ট।  অথচ তাঁর উদ্দেশ্য এক বৃহত্তর  ঐক্য গড়ে তোলা।</p>
<p>                                   গেল বছর (১ সেপ্টেম্বর,২০০৯) তিনি আমাদের তিনসুকিয়া কলেজে ভাষা উপভাষার উপর এক বক্তৃতা দিতে আমন্ত্রিত হয়ে এসছিলেন। সেই সভাতে সিলেটি শ্রোতার সংখ্যা ছিল অতি নগন্য,ময়মনসিংহী কেউ তো ছিলেনই না। তাদের তুষ্ট করবার কোনো প্রশ্নই উঠেনা। তবুও তিনি  বেশ জোর দিয়েই নানা ভাষাতাত্বিক উদাহরণ দিয়ে দিয়ে বলেছেন, কৌনোজ থেকে আসা বহু মূলস্রোতের অসমিয়াদের থেকেও সিলেটিরা, ময়মনসিংহের লোকেরা এই অসমের মাটিতে বেশি প্রাচীন। বেশি ‘খিলঞ্জিয়া’।  মজার কথাটা হলো, এই সত্য কথাটা অসমের বহু সিলেটিও জানেনই না। তিনিতো ‘বাংলাদেশি’ বলে ময়মনসিংহীদের হেনস্থা করবার প্রয়াসের বিরুদ্ধেও তাঁর ক্ষোভ প্রকাশ্যেই জানিয়ে গেলেন।</p>
<p>                                       উপেন রাভার এই ‘সৎ উদ্দেশ্য’কে বহু সিলেটি তথা বাঙ্গালি  সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখতে চাইবেন। তাঁরা  ভেবে নেবেন যে যতই ভালো ভালো কথা বলুন লিখুন অসমিয়া মাত্রেই উগ্রজাতীয়তাবাদি। এই বাঙালিদের জন্যে এবারে আমরা বাংলার উগ্রজাতীয়তাবাদিদের খবর  জানাবো।</p>
<p>                                        বরাক উপত্যকার ভাষাকে বাংলা বলে চালিয়ে দেবার চেষ্টাকে নিয়ে উপেন রাভার আক্ষেপের প্রতিধ্বনি শোনা যাবে বাংলার তথা কথিত কামরূপী উপভাষা তথা কামতাপুরি ভাষা নিয়ে সুধীর কুমার বিষ্ণুর করা এই মন্তব্যে , “ কামরূপী উপভাষাকে একটি প্রাচীন ও স্বতন্ত্র ভাষা রূপে দাবি করা হয়েছে, এর পেছনে দু’টি কারণ আছে  বলে আমার মনে হয়। প্রথমত, মাতৃভাষা সম্পর্কে মানুষের আবেগকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের চেষ্টা, দ্বিতীয়ত, ভাষা ও উপভাষা সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির অভাব।” (পৃঃ ১৫৮, কামরূপী উপভাষা; সুধীর কুমার বিষ্ণু; উত্তর বঙ্গের ভাষা; সম্পাদক-রতন বিশ্বাস।)পাঠককে আমরা মনে করিয়ে দিতে চাই অসমের বরাকউপত্যকার রাজনৈতিক আর সামাজিক অবস্থান থেকে পশ্চিম বাংলার উত্তর ভাগের চেহারা চরিত্র খুব একটা পৃথক নয়। পিছিয়ে পড়া উত্তর বাংলাতেও কামতাপুরি ভাষার আন্দোলনকে কঠোর ভাবে দমন করে আসছে সেখানকার সরকার আর বাঙালি মধ্যবিত্ত। তবু বরাকে যারা ভাষার প্রশ্নে প্রচণ্ড আবেগিক,  যারা মুলতঃ লেখক বুদ্ধিজীবি, রাজনীতির সঙ্গে চোখে পড়ার মতো  সম্পর্ক যাদের অতি অল্প তাদের আমরা সেই উত্তর বঙ্গের বাস্তবতার সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করতে  দেখিই না। তাঁরা মাঝে মধ্যে স্লোগান তোলেন বটে , “মাতৃভাষা প্রাণের ভাষা। এ ভাষায় আছে অধিকার সকল জাতির সকল জনতার।” কিন্তু সেটি কতটা আন্তরিক তাঁর পরীক্ষা দেবার এখনো অনেক বাকি। বরাকের মণিপুরি ভাষাকে সরকারি ভাষা করবার প্রস্তাব সম্ভবত এখনো তাদের কোনো কল্পনাতেই নেই। কেউ সে প্রস্তাব দিলেও তিনি কতটা সমাদৃত হবেন তা এখনো দেখার বাকি।    তাঁরা বরং অতি আগ্রহী কলকাতার প্রতি। কারণ কলকাতাই বাংলার সাংস্কৃতিক রাজনীতির রাজধানী! যার একটা শাখা তারা খুলে চালাতে চাইছেন শিলচরে।  কথাগুলো কটু, অপ্রিয়। কিন্তু সত্য।</p>
<p>                                         খুব কম বাঙালিই সুধীর বিষ্ণুর মন্তব্যে সহজে কোনো ত্রুটি দেখতে পাবেন, বরং বৃহৎ বাঙালি ঐক্যের স্বার্থকে উর্ধে তুলে ধরবার জন্যে বাহবাই  দেবেন। তবু যদি কেউ ভেবে থাকেন যে অধ্যাপক সুধীর বিষ্ণু নিশ্চয়ই কোনো এলেবেলে লোক তাদের জন্যে আমরা এবারে এক মোক্ষম উদাহরণ তুলে ধরব। সেটি আর কেউ নন, স্বয়ং রবীন্দ্রনাথের থেকে । রবীন্দ্রনাথের যে উদ্ধৃতি দু’টো এ অব্দি তুলে দিলাম যাতে মনে হতে পারে যে তিনিও ভাষাদু’টোর মিত্রতার    জয়ধ্বজা তুলবার মহান ব্রত কাঁধে তুলে নিয়েছেন, তাঁর সেই লেখার মধ্যেই পাওয়া যাবে বেনুধর রাজখোয়া বা উপেন রাভা হাকাসামের মন্তব্যগুলোর শেকড় বাকড়ের খোঁজ , “&#8230; আসাম ও উড়িষ্যায় বাংলা যদি লিখন পঠনের ভাষা হয় তবে তাহা যেমন বাংলা সাহিত্যের পক্ষে শুভজনক হইবে তেমনিই সেই দেশের পক্ষেও। কিন্তু ইংরেজের কৃত্রিম উৎসাহে বাঙ্গলার এই দুই উপকণ্ঠবিভাগে একদল শিক্ষিত যুবক বাংলা প্রচলনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহধ্বজা তুলিয়া স্থানীয় ভাষার জয়কীর্তন করিতেছেন।” অসমিয়া বা ওড়িয়া ভাষাতে যে কোনো বড় কাজ করা যেতে পারে সেটি রবীন্দ্রনাথ তখন ( ১৩০৫ বাংলা) বিশ্বাসই করতে পারতেন না । তিনি লিখেছেন, “ এ কথা আমাদের স্মরণ রাখা উচিত যে দেশীয় ভাষা আমাদের রাজভাষা নহে, যে ভাষার সাহায্যে বিদ্যালয়ের উপাধি বা মোটা বেতন লাভের আশা নাই। অতএব, দেশীয় সাহিত্যের একমাত্র ভরসা তাহার প্রজাসংখ্যা, তাহার লেখক ও পাঠক সাধারণের ব্যাপ্তি। খন্ড বিচ্ছিন্ন দেশে কখনোই মহৎ সাহিত্য জন্মিতে পারে না। তাহা সংকীর্ণ গ্রাম্য প্রাদেশিক আকার ধারণ করে। তাহা ঘেরো এবং আটপৌরে হইয়া উঠে, তাহা মানব-রাজদরবারের উপযুক্ত নয়।” (পৃঃ ৭৪১, ভাষাবিচ্ছেদ;ঐ)</p>
<p>                                         এ বছর সমগ্র অসমেও রবীন্দ্রনাথের সার্ধশতবর্ষ যথেষ্ট সম্মানের সঙ্গে পালিত হচ্ছে আর হবে। অসমিয়া মানুষও তার উদ্যোগ নিচ্ছেন। ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার  প্রায় প্রতিটি সঙ্গীত বিদ্যালয়ে রবীন্দ্রসঙ্গীতের পাঠ দেয়া হয়ে থাকে।  তিনি  যে প্রতিটি অসমিয়া মনে জ্যোতি প্রসাদ বিষ্ণুরাভার থেকে মোটেও কম শ্রদ্ধার আসনে বসে নেই তার কারণ ঘটনাক্রম সেই ১৩০৫ সনে রবীন্দ্রনাথের আশা করা মতো ঘটেনি,  রবীন্দ্রনাথও তাঁর তখনকার অভিমত আঁকড়ে ধরে থাকেন নি। ঐ প্রবন্ধটি লেখার সময় অব্দি এমন কি ১৯০৫এর বাংলা ভাগ বিরোধী আন্দোলনের সময় অব্দি তিনি সমকালীন উগ্র ভারতীয় তথা বাঙালি  জাতীয়তাবাদের সঙ্গে ছিলেন। এমনকি ইউরোপীয় জাতি-রাষ্ট্রের ধারণার প্রতিও তাঁর অগাধ শ্রদ্ধা ছিল। ওই প্রবন্ধেই তিনি লিখছেন, “ বৃটিশ দ্বীপে স্কটল্যান্ড, আয়র্ল্যান্ড ও ওয়েলসের স্থানীয় ভাষা ইংরেজি সাধুভাষা হইতে একেবারেই স্বতন্ত্র। তাহাদিগকে ইংরেজির উপভাষাও বলা যায়  না। উক্ত ভাষাসকলের প্রাচীন সাহিত্যও স্বল্পবিস্তৃত নহে। কিন্তু ইংরেজের বল জয়ী হওয়ায় প্রবল ইংরেজিভাষাই বৃটিশ দ্বীপের সাধুভাষারূপে গণ্য হইয়াছে। এই ভাষার ঐক্যে বৃটিশ যে উন্নতি ও বললাভ করিয়াছে, ভাষা পৃথক থাকিলে তাহা কদাচ সম্ভব হইত না।” এটি এক উজ্জ্বল প্রমাণ যে ভারতে ‘জাতি গঠনে’র ধারণাটি একটি ইউরোপীয় আমদানি। রবীন্দ্রনাথের নিজেরই পরের রচনাগুলোতে তার স্বীকৃতি ও উল্লেখ অজস্র আছে। জাতি রাষ্ট্রের ধারণা এক ইউরোপীয় এবং বর্বর ধারণা। যেখানেই সে ধারণা গেছে সঙ্গে করে মৃত্যু আর ধ্বংস ছাড়া আর কিছুই নিয়ে যায় নি। আমরা সবাই জানি এখানে যে  ‘ইংরেজের বলে’র তিনি ভূয়সী প্রশংসা করছেন তাকেই তিনি ‘অজগর সাপের ঐক্য নীতি’ বলে পরের জীবনে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। জীবনের শেষে ‘সভ্যতার সংকট’ অব্দি আসতে আসতে সেই ক্ষোভ অভিশাপে পরিণত হয়েছে। কেবল অসমীয়ারা ক্ষুন্ন হয়ে আছে বলেই তিনি অসমীয়াকে স্বতন্ত্র ভাষা বলে মেনে নিয়েছেন তা নয়। তিনিই প্রথম আবিষ্কার করেছেন ‘বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্য’ই আমাদের দেশের মূল সুর।পরের স্বাতন্ত্র্য স্বীকার করে নিয়ে তাকে আপন করবার প্রতিভাটা ভারতের নিজস্ব প্রতিভা।  আমরা যে রচনার থেকে তাঁর উদ্ধৃতিগুলো দিলাম সে লেখাটিও তাই পরে পরিত্যক্ত হয়েছিল। শুধু ঐতিহাসিক সত্যতার দায়ে ১২৫তম জন্মজয়ন্তীর  সময় প্রকাশিত সুলভ সংস্করণের সম্পাদকেরা একে পরিশিষ্টে ঠাই দিয়েছেন।</p>
<p>                                       অসমীয়া ভাষাতে গ্রন্থ প্রকাশের বিষয়ে লক্ষীনাথ বেজবরুয়ার সঙ্গে কথা প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথ কিছু বিরূপ মন্তব্য করেছিলেন। তাঁর আশঙ্কা ছিল এমন করে সবাই যদি বাংলা ছাড়তে শুরু করে তবে আর বাংলা সাহিত্য বলে কিছু টিকে থাকবে না। এই কথাগুলো অসমিয়া পন্ডিতদের মধ্যে বহুবার বহুভাবে আলোচিত হয়েছে। লোক সংস্কৃতির প্রখ্যাত গবেষক, অসম সাহিত্য সভার প্রাক্তন সভাপতি অধ্যাপক বীরেন্দ্রনাথ দত্তের কথাতে রবীন্দ্রনাথের এই সব মন্তব্য “ কিছুদূৰ বৈষয়িক ধৰণৰহে আছিল। আৰু সেয়া আছিল কবিৰ আগ বয়সৰ কথা । ৰবীন্দ্রনাথেৰ পৰিণত চিন্তাত আন এখন ছবিহে ফুটি উঠে । প্রত্যেক আঞ্চলিক ভাষাই সমৃদ্ধি লাভ কৰক আৰু তাৰ মাজতেই সাংস্কৃতিক-ভাষিক বিস্তৃতি লাভ কৰক-কবিয়ে মনে প্রাণে তাকেই কামনা কৰিছিল” ( অসমীয়া আৰু বাঙালীৰ সম্পর্কঃ এক ঐতিহাসিক বিহঙ্গম দৃষ্টি; সাতসৰী, ১৬-৩১ ডিসেম্বর সংখ্যা,২০০৭, পৃঃ২০)</p>
<p>                                         যারা ভাবেন যে কোনো এক ভাষাতে বেঁধে ফেলতে পারলেই এক সর্বভারতীয় ঐক্য দাঁড়িয়ে যাবে তাদের সে  উগ্রজাতিয়তাবাদি ধারণার বিরুদ্ধে যে রবীন্দ্রনাথ যে কেমন সোচ্চার ছিলেন তার কথা বলতে গিয়ে ওই একই লেখাতে বীরেন্দ্রনাথ প্রভাত কুমারের ‘রবীন্দ্র জীবনকথা’ থেকে এক উদ্ধৃতি দিয়েছেন, “ কবি বলেন, ভারত ব্যাপী মিলনের একটা ভারতীয় ভাষা করবার কথা হচ্ছে। তাঁর মতে এতে করে যথার্থ সমন্বয় হতে পারে না, হয়তো একাকারত্ব ( uniformity ) হতে পারে, কিন্তু একত্ব (unity) হতে পারে না। দড়ি দিয়ে বাঁধা , মিলনের প্রয়াস মাত্র। সে মিলন শৃঙ্খলের মিলন অথবা বাহ্য শৃঙ্খলার মিলন মাত্র। তবে প্রবাসী বাঙালিদের উদ্দেশে কবি বললেন, তাঁরা যেন যে দেশে বাস করেন সে দেশ সম্বন্ধে উদাসীন না থাকেন। তিনি বললেন, প্রায়ই দেখা যায় বাংলার বাইরে যেখানে বাঙালিরা থাকেন তার ভাষা সাহিত্য তথ্যাদি সম্বন্ধে তাঁদের একটা ঔদাসীন্য আছে; এই উদাসীনতা বা অবজ্ঞা অজ্ঞতারই নামান্তর। বাঙালির প্রধান রিপু এই আত্মাভিমান।”</p>
<p>                                  ঔদাসীন্যের কথা যখন এলোই তবে উল্লেখ করে রাখা মন্দ হবে না যে রবীন্দ্রনাথের  ভাষাবিজ্ঞানেরও ভালোই অধ্যয়ন ছিল। প্রখ্যাত ভাষাবিজ্ঞানী সুকুমার সেনের কথায়, ঐ অধ্যয়নগুলোর কথা মনে রাখলে, “রবীন্দ্রনাথকে বাঙ্গালী ভাষাবিজ্ঞানীদের মধ্যে প্রথম বলিতেই হয়।” ( বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস; চতুর্থ খন্ড; পৃঃ৪১৫) তাঁর সেই অধ্যয়নের মধ্যে অসমিয়া ভাষাও রয়েছে। ‘বিলাক-বোৰ’ ইত্যাদি অসমিয়া বহুবচন প্রত্যয়ের উৎস সন্ধানে তিনি বেশ নিবিড় অনুসন্ধান চালিয়েছিলেন। অসমিয়া ভাষা নিয়ে নাথান ব্রাউনের ব্যাকরণ তাঁর আয়ত্বে ছিল।</p>
<p>                                   এখন কথা হলো, উপেন রাভা হাকাচামের মতো অসমিয়া কিম্বা সুধীর বিষ্ণুর মতো বাঙালি ভাষাবিদেরা কি তাদের ‘শৃঙ্খলের মিলন’ তত্ব ছাড়তে রাজি রয়েছেন? রাজি আছেন কি, ‘একাকারত্বে’র ( uniformity ) তত্বকে ধুলোয় মিলিয়ে  একত্ব (unity) প্রতিষ্ঠার পথে পা বাড়াতে?  উনিশে মে’র পঞ্চাশ বছরকে সামনে রেখে এক দল সাংস্কৃতিক কর্মী সারা বরাকের শহরগুলোতে বিশেষ করে শিলচরে একটি স্লোগান দিচ্ছেন দেখা যাচ্ছে, ‘হৃদয়ে রবীন্দ্রনাথ চেতনায় উনিশ’।  ভালো কথা। কিন্তু এমন চিহ্নায়নের নানান  অর্থ হতে পারে। আমজনতার কাছে যে সোজা অর্থটা সোজাসুজি পৌঁছুবে তা এই যে রবীন্দ্রনাথ বাংলা ভাষার কবি, উনিশ সেই ভাষার অধিকার রক্ষার জন্যে রক্ত দেবার দিন। সুতরাং যে কোনো মূল্যেই বাংলার জন্যে লড়াইটা চালিয়ে যেতেই হবে। তাতেও মন্দ কিছু নেই।</p>
<p>                                               কিন্তু হৃদয়ে রবীন্দ্রনাথ কথাটার অর্থতো অনেক ব্যাপক। কেবল বাংলা ভাষার অধিকারের কথা বলা হলো গে রবীন্দ্রনাথকে হত্যা করা। মনে কি পড়ে রবীন্দ্রনাথের সেই আক্ষেপ, ‘সাত কোটি সন্তানেরে হে মুগ্ধ জননী, রেখেছো বাঙালি করে ,মানুষ করোনি।” সেদিকে খেয়াল আছে তো? ‘বাঙালির প্রধান রিপু এই আত্মাভিমান’ –এর বিরুদ্ধেও লড়াইটা সমানে হয়ে উঠবে কি? উঠছে কি?  মণিপুরি, ডিমাসাদের হৃদয়ের কথাতে কান পাতা হচ্ছে কি? রবীন্দ্রনাথের কথাগুলো অসমিয়া হৃদয়েও পৌঁছে দেবার কাজটা হয়ে উঠবে তো? বাঙালিদের মনে অসমিয়া জাতীয়তাবাদের আগ্রাসনের আতঙ্ক রয়েছে। কিন্তু অসমিয়া মনেও যে বাঙ্গালির আত্মাভিমানের আতঙ্ক রয়েছে তার প্রতি কোনো সম্মান আর সহানুভূতি রয়েছেতো?  অষ্টাদশ শতকের তিন দশক প্রাদেশিক ভাষা হিসেবে বাংলার স্বীকৃতি থাকবার পর যখন তাকে তুলে দেয়া হয়েছিল তখন বহু বাঙালি এর বিরোধীতা করেছিলেন এই যুক্তিতে যে  অসমীয়ার স্বতন্ত্র ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পাবার কোনো যোগ্যতাই নেই। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অসমিয়া চালু করতে গিয়ে আশুতোষ বন্দোপাধ্যায়কেও দিনেশ সেনের মতো পন্ডিত মানুষের  বিরোধীতার অনেক কাঠখড় পোহাতে হয়েছে সেই ইতিহাস  আমরা জানি তো? আমরা কি সত্য তার কোনো সমাধান বের করেছি, না বের করতে আগ্রহী? মুসলমানেরা আদমসুমারিতে নিজের মাতৃভাষা বাংলা লেখালে অসমিয়ারা আর  অসমিয়া লেখালে বাঙালিরা কি  ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে গাল দিয়েই যাব,  না এর উর্ধে গিয়েও কিছু ভাবব?</p>
<p>                                       বছর কয় আগে ভাষার দাবিতে কামতাপুরিদের ডাকা এক বন্ধের সময় আমার এক বামপন্থী অসমিয়া সহকর্মীর সঙ্গে ওদের মাতৃভাষা কী, তাই  নিয়ে তর্ক হচ্ছিল। তিনি বলছিলেন, ওদের ডাকা বন্ধের কোনো বৈধতা নেই। ওরা অসমিয়া ভাষাকে ভাঙ্গবার ষড়যন্ত্র করছে। আমি বলছিলাম, “ওদিকে আপনাদের পশ্চিম বাংলার কমরেডরা বলবেন ওরা ‘বাঙালি’, এদিকে আপনারা অসমের কমরেডরা বলবেন ওরা ‘অসমিয়া’। ওদিকে বুদ্ধদেব সরকার বলবে ওরা ‘বাঙালি’, এদিকে তরুণ গগৈ সরকার বলবে ওরা ‘অসমিয়া’। ওরা বেচারা যাবে কোনদিকে ?   ভালো হয় না কি ওরা কি সেটা ওদেরই ঠিক করতে দেয়া?” তিনি খুব চটে গেছিলেন। যুক্তিতে না পেরে বলছিলেন , “আপনি আসলে অসমিয়া স্বার্থ বোঝেন না। বোঝবেন কী করে? নিজেই তো বাঙালি উগ্রজাতিয়তাবাদ ছাড়তে পারেন নি।“ আমি বললাম, “সেটি কীরকম?”             উনি বললেন, “আপনি এখনো ‘অহমিয়া’ বলে যাচ্ছেন! বলুন অসমিয়া ,যেমন বলেন ‘অস’মিয়া’ ( oxomia)।” আমি যতই বল্‌ আমি এখনো অসমিয়া ‘স’ উচ্চারণ করতে শিখিনি,; উনি বলে গেলেন , “আপনি ইচ্ছে করেই বলছেন না! বলুন ‘অসমিয়া!’”</p>
<p>                                         ভাবছি আমার এই লেখা পড়বার পর আমার অসমিয়া কিম্বা বাঙালি বন্ধু, যারা ভাষার প্রশ্নে খুবই স্পর্শকাতর, জোর গলায় ধমকে দিয়ে বলবেন নাতো, ‘থামুন মশাই! চুপ করুন। একদম বাজে কথা বলবেন না! এক্কেবাৰে কথা নক’ব!” রবীন্দ্রনাথ যেভাবে অসমিয়া হৃদয় জয় করে নিলেন আমরা কি তার থেকে শিক্ষা নিয়ে  পরস্পরের হৃদয় জয় করতে  এক্কেবারেই অপারগ? অক্ষম?! </p>
<table style="width:auto">
<tr>
<td><a href="http://picasaweb.google.com/lh/photo/HnkqLf-zyuYqiyRseNadUWmVhySa3WFidBu30Ozx1YM?feat=embedwebsite"><img src="http://lh6.ggpht.com/_Y7NPfnwUYj8/S-zQkDDFQPI/AAAAAAAACdM/qNZX0B4aLHA/s400/4%20X%208%20%20%20%20%20%20%20%20%20%20%20%20%20%20%20%201%20NO%20FL.jpg" /></a></td>
</tr>
<tr>
<td style="font-family:arial,sans-serif;font-size:11px;text-align:right">From <a href="http://picasaweb.google.com/karsushanta40/sKdaHF?authkey=Gv1sRgCPnEwuzA77D05gE&amp;feat=embedwebsite">ঈশান কোনের কথা</a></td>
</tr>
</table>
<table style="width:auto">
<tr>
<td><a href="http://picasaweb.google.com/lh/photo/SFuQ5D5CBPneoobfEAYh2GmVhySa3WFidBu30Ozx1YM?feat=embedwebsite"><img src="http://lh4.ggpht.com/_Y7NPfnwUYj8/S-1wOC06CLI/AAAAAAAACdo/v7eqSeXMhbI/s400/Jamiyot%20and%20Matribhasha-Jugoshonkho%20April%2011-001.jpg" /></a></td>
</tr>
<tr>
<td style="font-family:arial,sans-serif;font-size:11px;text-align:right">From <a href="http://picasaweb.google.com/karsushanta40/sKdaHF?authkey=Gv1sRgCPnEwuzA77D05gE&amp;feat=embedwebsite">ঈশান কোনের কথা</a></td>
</tr>
</table>
<a href="http://www.addtoany.com/add_to/google_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F2821&amp;linkname=%E2%80%98%E0%A6%B9%E0%A7%83%E0%A6%A6%E0%A7%9F%E0%A7%87%20%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%A5%2C%20%E0%A6%9A%E0%A7%87%E0%A6%A4%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A7%9F%20%E0%A6%89%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E2%80%99%E0%A6%83" title="Google Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/google.png" width="16" height="16" alt="Google Bookmarks"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/orkut?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F2821&amp;linkname=%E2%80%98%E0%A6%B9%E0%A7%83%E0%A6%A6%E0%A7%9F%E0%A7%87%20%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%A5%2C%20%E0%A6%9A%E0%A7%87%E0%A6%A4%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A7%9F%20%E0%A6%89%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E2%80%99%E0%A6%83" title="Orkut" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/orkut.png" width="16" height="16" alt="Orkut"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/twitter?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F2821&amp;linkname=%E2%80%98%E0%A6%B9%E0%A7%83%E0%A6%A6%E0%A7%9F%E0%A7%87%20%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%A5%2C%20%E0%A6%9A%E0%A7%87%E0%A6%A4%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A7%9F%20%E0%A6%89%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E2%80%99%E0%A6%83" title="Twitter" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/twitter.png" width="16" height="16" alt="Twitter"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/facebook?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F2821&amp;linkname=%E2%80%98%E0%A6%B9%E0%A7%83%E0%A6%A6%E0%A7%9F%E0%A7%87%20%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%A5%2C%20%E0%A6%9A%E0%A7%87%E0%A6%A4%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A7%9F%20%E0%A6%89%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E2%80%99%E0%A6%83" title="Facebook" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/facebook.png" width="16" height="16" alt="Facebook"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/yahoo_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F2821&amp;linkname=%E2%80%98%E0%A6%B9%E0%A7%83%E0%A6%A6%E0%A7%9F%E0%A7%87%20%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%A5%2C%20%E0%A6%9A%E0%A7%87%E0%A6%A4%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A7%9F%20%E0%A6%89%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E2%80%99%E0%A6%83" title="Yahoo Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/yahoo.png" width="16" height="16" alt="Yahoo Bookmarks"/></a> <a class="a2a_dd addtoany_share_save" href="http://www.addtoany.com/share_save?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F2821&amp;linkname=%E2%80%98%E0%A6%B9%E0%A7%83%E0%A6%A6%E0%A7%9F%E0%A7%87%20%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%A5%2C%20%E0%A6%9A%E0%A7%87%E0%A6%A4%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A7%9F%20%E0%A6%89%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E2%80%99%E0%A6%83"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/share_save_120_16.png" width="120" height="16" alt="Share/Bookmark"/></a>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/2821/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>8</slash:comments>
		</item>
	</channel>
</rss>
