﻿<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>কফি হাউসের আড্ডা &#187; গল্প</title>
	<atom:link href="http://coffeehouseradda.com/blog/category/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa/feed" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>http://coffeehouseradda.com</link>
	<description>বাঙালীর ব্লগ-আড্ডা</description>
	<lastBuildDate>Fri, 10 Sep 2010 04:15:43 +0000</lastBuildDate>
	<generator>http://wordpress.org/?v=2.8.4</generator>
	<language>en</language>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>1</sy:updateFrequency>
			<item>
		<title>লাল ঘুড়ির দেশে</title>
		<link>http://coffeehouseradda.com/blog/shankha28/3544</link>
		<comments>http://coffeehouseradda.com/blog/shankha28/3544#comments</comments>
		<pubDate>Thu, 02 Sep 2010 14:25:06 +0000</pubDate>
		<dc:creator>নীলাকাশ</dc:creator>
				<category><![CDATA[গল্প]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://coffeehouseradda.com/?p=3544</guid>
		<description><![CDATA[বিলু মিয়াঁ-র মন খুব খারাপ। ক্লাস থেকে ইংলিশ স্যার তাকে বার করে দিয়েছেন আজ।
ছোট গ্রামের ছোট হাইস্কুল, সব ক্লাসেই একটা করে সেকশন। টিনের চাল দেওয়া ছোট স্কুলবাড়ি। কিন্তু খেলার মাঠ বেজায় বড়। মাঠের ধারে বিরাট এক দিঘী, ধার দিয়ে নারকেল-গাছের সারি।
ক্লাস সিক্সের বিলু মিয়াঁ কিছুক্ষন হাঁ করে ক্লাস-রুমের সামনে দাঁড়িয়ে থেকে মনের দুঃখে দিঘীর ধারে [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>বিলু মিয়াঁ-র মন খুব খারাপ। ক্লাস থেকে ইংলিশ স্যার তাকে বার করে দিয়েছেন আজ।</p>
<p>ছোট গ্রামের ছোট হাইস্কুল, সব ক্লাসেই একটা করে সেকশন। টিনের চাল দেওয়া ছোট স্কুলবাড়ি। কিন্তু খেলার মাঠ বেজায় বড়। মাঠের ধারে বিরাট এক দিঘী, ধার দিয়ে নারকেল-গাছের সারি।<br />
ক্লাস সিক্সের বিলু মিয়াঁ কিছুক্ষন হাঁ করে ক্লাস-রুমের সামনে দাঁড়িয়ে থেকে মনের দুঃখে দিঘীর ধারে এসে বসে। মনে তার অবিচার পাবার ক্ষোভ, অপমানের জ্বালা। কি এমন অন্যায় করেছিল সে?</p>
<p>স্যার জিজ্ঞাসা করলেন, &#8220;ঘুড়ি কে ইংলিশে কি বলে?&#8221;<br />
বিলু মিয়াঁ-র সপ্রতিভ উত্তর , &#8220;কাইট!!&#8221;<br />
&#8220;যদি বলি লাল ঘুড়ি?&#8221;</p>
<p>সঙ্গে সঙ্গে বিলুর চোখের সামনে ভেসে ওঠে বিকেল বেলা মাঠের ধারে অন্য পাড়ার ছেলেরা ঘুড়ি ওড়াচ্ছে, ঘুড়ি-র লড়াই লেগেছে, একটা লাল ঘুড়ি-এ সঙ্গে কালো ঘুড়ি-র লড়াই&#8230;, লাল ঘুড়ি-র ছেঁড়া হাফ-প্যান্ট পরা মালিক প্রানপনে সুতো টানছে&#8230;।</p>
<p>&#8220;কিরে ? কি হল? লাল ঘুড়ি কে কি বলবি ইংলিশে?&#8221;<br />
বিলু হঠাৎ চমকে উঠে চোখ গোল-গোল করে চেঁচিয়ে বলে ওঠে, ‘&#8221;স্যার, কাইট-কাইট, ফাইট-ফাইট, কাটাকাটি ফাইট!!&#8221;’</p>
<p>সঙ্গে সঙ্গে ক্লাসের মধ্যে বাকি ছেলেদের হাসির রোল ওঠে ! তারপর সেই সমবেত হাস্যকে থামাবার জন্য স্যারের চিৎকার, &#8220;গেট আউট ! গেট আউট অফ মাই ক্লাস, আই সে ! মজা করা হচ্ছে পড়াবার সময়?&#8221;</p>
<p>আর কি করা যাবে? সব কটা ঘরে পড়ানো চলছে, বাইরে শুধু দু-একটা ঘুঘু পাখির ডাক ছাড়া আর কিছু শোনা যাচ্ছেনা।</p>
<p>দিঘীর পানি শান্ত শীতল,<br />
নিজের-ই কথা কয়<br />
মনে আজ দুঃখ কেবল,<br />
কে তার ভাগ নেয়?</p>
<p>বিলু-র মন ঘুরে বেড়ায় পানির তলায় মাছেদের সাথে- তাদের সাথে সুখ-দুঃখের কথা হয়, তারপর ফুড়ুৎ করে উড়ে যায় গাছের ডালে পাখির বাসায়, যেখানে মাছরাঙ্গা মা তার ছানাদের খাওয়ানোর জন্য ধরে আনে ছোট ছোট মাছ। গাছের ডাল থেকে আবার নেমে আসে দিঘীতে ভেসে বেড়ানো হাঁসেদের ডানায়, তারপরেই সে কিছুক্ষন মাঠে চরা গরুদের গলায় ঘন্টা হয়ে দোলে, হঠাৎ এক পশলা বৃষ্টি-তে ছাগল ছানার পিছন পিছন দৌড়ায়। পূব আকাশে দেখা দেয় হালকা রামধনু।</p>
<p>এই ভাবেই এক সময় আকাশে সন্ধ্যা নামে, চাঁদ ওঠে। দূরের মসজিদের আজানের শব্দ বাতাসে ভাসে।</p>
<p>চাঁদ উঠল আকাশে,<br />
ফুল ফুটল বাতাসে;<br />
গরুর পাল ঘরে ফেরে,<br />
সূর্য গেল অস্তাচলে।</p>
<p>বিলু মিয়াঁর চোখে ক্লান্তি, পেটে জ্বলে আগুন। বাসায় নিশ্চই এতক্ষনে বন্ধুরা স্কুলের গল্প শুনিয়ে সারা। আজ আম্মার কাছে কি করে মুখ দেখায় সে? আম্মা তাকে মারেও না বকেও না। কিন্তু কিছু সে কিছু গোলমাল করে এলে আম্মার দুঃখী মুখের দিকে তাকালে বিলুর বুকটা কষ্টে ফেটে যায়। বড় ভাল মানুষ যে বিলুর আম্মা। দিঘীর ধারে বসেই বিলু চলে যায় ঘুমের দেশে।</p>
<p>বিলু মিয়াঁ পৌঁছে যায় এক মজার দেশে। আদিগন্ত বিস্তৃত মাঠে সোনালী রোদ্দুর, গাঢ় নীল আকাশে সাদা-সাদা ছেঁড়া মেঘ, আকাশ ভর্তি লাল-কালো ঘুড়ি। সেই ঘুড়ি উৎসবের মাঠের মধ্যে দিয়ে বিলু মিয়াঁ এক লাল ঘুড়ির পিছনে ছোটে। লাল ঘুড়ি আর এক কালো ঘুড়ির মধ্য লাগে ভীষন লড়াই। লাল ঘুড়ির সুতো কেটে গিয়ে সে লাট খেতে খেতে বিলু মিয়াঁ-র দুহাতের মধ্যে আলতো ভাবে নেমে আসে। বিলু মিয়াঁ অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখে সেই ঘুড়ির মধ্যে চমৎকার মুখ-চোখ আঁকা।</p>
<p>ঘুড়ি বলে ওঠে, &#8220;বল তো আমি কে?&#8221;<br />
বিলু বলে, &#8220;আরে ! তুমি হলে তো সেই লাল ঘুড়ি!&#8221;<br />
&#8220;না না, হলনা। ইংলিশে বল।&#8221;<br />
&#8220;তুমি তাহলে রেড কাইট!&#8221;</p>
<p>আকাশ থেকে সবকটা ঘুড়ি সমস্বরে হাসতে হাসতে একসাথে কলকলিয়ে বলে ওঠে, ‘&#8221;কাইট-কাইট, ফাইট-ফাইট, কাটাকাটি ফাইট!!’&#8221;</p>
<p>দূর থেকে শিয়ালের ডাক আর গ্রামের লোকেদের চিৎকারে বিলুর ঘুম যখন ভাঙ্গে চাঁদ তখন মাঝ আকাশে। চারিদিক ধুয়ে যাচ্ছে জ্যোৎস্নায় । সবার মাঝ থেকে আম্মার ডাক শোনা যাচ্ছে, &#8220;বিলু, ও আমার বিলু রে&#8230;.!!&#8221;</p>
<a href="http://www.addtoany.com/add_to/google_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fshankha28%2F3544&amp;linkname=%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B2%20%E0%A6%98%E0%A7%81%E0%A6%A1%E0%A6%BC%E0%A6%BF%E0%A6%B0%20%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A7%87" title="Google Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/google.png" width="16" height="16" alt="Google Bookmarks"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/orkut?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fshankha28%2F3544&amp;linkname=%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B2%20%E0%A6%98%E0%A7%81%E0%A6%A1%E0%A6%BC%E0%A6%BF%E0%A6%B0%20%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A7%87" title="Orkut" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/orkut.png" width="16" height="16" alt="Orkut"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/twitter?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fshankha28%2F3544&amp;linkname=%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B2%20%E0%A6%98%E0%A7%81%E0%A6%A1%E0%A6%BC%E0%A6%BF%E0%A6%B0%20%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A7%87" title="Twitter" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/twitter.png" width="16" height="16" alt="Twitter"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/facebook?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fshankha28%2F3544&amp;linkname=%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B2%20%E0%A6%98%E0%A7%81%E0%A6%A1%E0%A6%BC%E0%A6%BF%E0%A6%B0%20%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A7%87" title="Facebook" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/facebook.png" width="16" height="16" alt="Facebook"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/yahoo_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fshankha28%2F3544&amp;linkname=%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B2%20%E0%A6%98%E0%A7%81%E0%A6%A1%E0%A6%BC%E0%A6%BF%E0%A6%B0%20%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A7%87" title="Yahoo Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/yahoo.png" width="16" height="16" alt="Yahoo Bookmarks"/></a> <a class="a2a_dd addtoany_share_save" href="http://www.addtoany.com/share_save?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fshankha28%2F3544&amp;linkname=%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B2%20%E0%A6%98%E0%A7%81%E0%A6%A1%E0%A6%BC%E0%A6%BF%E0%A6%B0%20%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A7%87"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/share_save_120_16.png" width="120" height="16" alt="Share/Bookmark"/></a>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://coffeehouseradda.com/blog/shankha28/3544/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>2</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>আড়াল</title>
		<link>http://coffeehouseradda.com/blog/abhra/3357</link>
		<comments>http://coffeehouseradda.com/blog/abhra/3357#comments</comments>
		<pubDate>Thu, 05 Aug 2010 01:56:26 +0000</pubDate>
		<dc:creator>অভ্র</dc:creator>
				<category><![CDATA[গল্প]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://coffeehouseradda.com/?p=3357</guid>
		<description><![CDATA[আড়াল
১
পুরোটা সময় জানলা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে কেটেছে লীনার। কি অদ্ভূত সুন্দর। মাঝে মাঝে অর্কর হাত ধরে বলে উঠেছে, ‘এই দ্যাখো, আমরা কিরকম মেঘের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। একটাও কালো মেঘ নয়, সব সাদা। তুলোর মত ধবধব করছে’, বা কখনো হয়তো বলেছে, ‘আচ্ছা, আমরা এখন কোন দেশের ওপর দিয়ে যাচ্ছি বলোতো?’ অথচ অর্কর সেদিকে কোন তাপ উত্তাপ [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>আড়াল</p>
<p>১</p>
<p>পুরোটা সময় জানলা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে কেটেছে লীনার। কি অদ্ভূত সুন্দর। মাঝে মাঝে অর্কর হাত ধরে বলে উঠেছে, ‘এই দ্যাখো, আমরা কিরকম মেঘের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। একটাও কালো মেঘ নয়, সব সাদা। তুলোর মত ধবধব করছে’, বা কখনো হয়তো বলেছে, ‘আচ্ছা, আমরা এখন কোন দেশের ওপর দিয়ে যাচ্ছি বলোতো?’ অথচ অর্কর সেদিকে কোন তাপ উত্তাপ নেই। সে দায়সারাভাবে জবাব দিচ্ছে, ‘তোমার ভাল লাগবে বলেই তো উইন্ডো সিট চেয়ে নিয়েছিলাম। এখন আমরা আফগানিস্তান, এখন আমরা মিশর, এখন আমরা আল্পস পেরোচ্ছি’। সে এই দীর্ঘ উড়ানের বেশির ভাগটাই কাটিয়েছে হিন্দী সিনেমা দেখে বা হাই তুলে, ঘুমিয়ে।<br />
লীনার ভাবনার শেষ নেই। সে যে শুধু নিজে মেঘের স্তর পেরিয়ে উড়ে চলেছে তাই-ই নয়, উড়ে চলেছে তার মনও। নীচে কার্পেটের মত যে সবুজ দেখা যাচ্ছে মাঝে মাঝে। মেঘের আস্তরন সব জায়গায় সমান নয়। তারই ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে ম্যাপ বইয়ের পাতার মত পৃথিবী। সে সবুজের রঙ সব জায়গায় এক রকম নয়। কখনও স্যাপ গ্রীন, কখনো জেড বা ওশান। কি ভাগ্যিস ওদের ফ্লাইটটা ছিল সকালবেলা, না হলে তো এত রঙ কিছুই দেখা যেত না। কখনও সখনও এক একটা পাহাড়ও চোখে পড়ে যাচ্ছে। লীনা ভাবছে, ‘ওফফ, কি দারুন ব্যাপার। এতদিন এইসব জায়গাগুলোর কথা খালি ভূগোল বইতেই পড়েছি।’ মাঝে মাঝে খোঁচা দিয়ে ডাকছে অর্ককে, ‘এই দেখনা একবার বাইরে। কি খালি ঘুমোচ্ছ। পারও বটে তুমি।’<br />
অর্ক চোখ না খুলেই বলল, ‘ও সব আমার দেখা। দেখে দেখে চোখ পচে গেছে। তুমিই দেখো। কপাল ভাল থাকলে আরেকটা জিনিসও দেখতে পাবে।’<br />
‘সে আবার কি গো?’, খুব উৎসাহ নিয়ে জানলা ছেড়ে ভিতরের দিকে তাকাল লীনা। এখন সে এতটাই উত্তেজিত যে কোন কিছু নিয়ে তর্ক করছে না। তাকে ঘিরে রেখেছে বিস্ময়ের ঘোর।<br />
‘আমরা একটু পরেই ল্যান্ড করবো হিথরোতে। সেখানে পরপর অনেক প্লেন নামবার জন্য ওয়েট করতে থাকে। প্রায় পাঁচ থেকে ছটা। এখন তো একটা নতুন টার্মিনাল খুলে দিয়েছে, কাজেই আরো বেশি হতে পারে। ল্যান্ডিং এর সময় দেখা যায় আকাশে পরপর প্লেনের সারি। একের পর এক রানওয়ে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে। এমনিতে দেখতে পাবে না, তবে যদি কোন কারনে আমাদের প্লেনটা একটু টার্ন নেয় তাহলে দেখতে পাবে।’<br />
ঠিক তখনই সিট বেল্টের জন্য এনাউন্সমেন্ট হল। অর্ক আরেকবার আলমোড়া ভাঙল। এই নিয়ে কতবার যে সে হিথরো এয়ারপোর্টে নামছে তার ঠিক ঠিকানা নেই। এমন সময় প্লেনটা একটু টাল খেল আকাশে। তার মানে এবার ঘুরবে, খুব সম্ভব রানওয়ে পাওয়া যাচ্ছে না। লীনা প্রায় হাততালি দিয়ে উঠল। তার মানে পরপর আরো অনেক প্লেন এখন দেখা যাচ্ছে। অর্ক মুচকি হাসল, এটা যে লীনার শুধু প্রথমবার বিদেশযাত্রা তাই নয়, প্রথম উড়ানও বটে। একমুহুর্তের আনন্দও সে ছাড়তে রাজি নয়। আর প্রথম উড়ান তো স্বপ্নের উড়ানই বটে। সে সিটবেল্ট বাঁধতে বাঁধতে জিজ্ঞেস করল, ‘তুমি বাসে করে যেতে চাও নাকি ট্রেনে?’<br />
লীনা কিছু বলল না। তার কাছে এখন দুটোই সমান।<br />
একটু বাদে বাসেই উঠে বসল দুজনে। অর্কর কাঁধে মাথা রেখে বাইরের জানলা দিয়ে তাকিয়ে ছিল লীনা। রাস্তাঘাট সব অচেনা, কিন্তু কি সুন্দর ছবির মত পরিপাটি সব। কিন্তু কিছুক্ষনের মধ্যেই বিদেশের কথা ভেবে সে ভাবতে বসল অর্কর কথা। ওদের বিয়েটা হয়ে গেল কেমন দুম করে। আর তার পর থেকে মানুষটাকে যত দেখছে তত অবাক হচ্ছে সে। বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে তার মধ্যে এতটুকু আবেগের ছিটেফোঁটাও নেই। অর্কর খুড়তুতো বোন নীলুর সাথে খুব ভাব হয়ে গিয়েছিল লীনার। সে জিজ্ঞেস করছিল, ‘আচ্ছা, তোমার দাদা কি খুব চুপচাপ? আমার সাথে তো কথা খুব কম বলে-’<br />
‘কয়েকটা দিন যেতে দাও ঠিকই বলবে। তোমাদের তো আবার এরেঞ্জড মেরেজ।’<br />
‘তাহলেও, আমার কথা বলতে ইচ্ছে করেনা বুঝি?’<br />
নীলু হেসে বলেছিল, ‘সবুর সবুর। দাদা এমনিতে কথা বলে কিনা আমিও ঠিক জানি না। কারন দাদা অনেকদিন ধরেই বাড়ির বাইরে। তবে তাতে তোমার কোন অসুবিধে হবে না-’<br />
‘কেন অসুবিধে হবে না কেন?’<br />
‘দাদার ডায়রি লেখে যে। একটা দুটো না। টানা পনের ষোল বছর ধরে লিখছে।’<br />
‘ওমা, তাই নাকি? তোমরা কেউ দেখেছ সেই ডায়রি?’<br />
‘দেখেছি বৈকী, তবে পড়িনি। ও কাউকে পড়তে দিত না দাদা। তবে তুমি তো দাদার বৌ। চুপি চুপি পড়ে নিও এখন। কবে কোথায় কি করেছিল ঠিক জানতে পেরে যাবে-’<br />
‘কোথায় পাব সেই সব ডায়রি?’<br />
ঠোট উলটে নীলু বলেছিল,‘সে কি আর আমরা জানি। এখন তোমার সংসার তোমাকেই খুঁজে নিতে হবে সেব।’<br />
বিয়ের পর তিন মাস কেটে গেছে, কিন্তু এখনও একটা ডায়রিও হাতে পায়নি সে। অর্কও নিজের সম্পর্কে খুব কম কথাই বলেছে। তারপর হঠাৎ করে দেশের বাইরে চলে আসতে হল। কাজেই পুরনো ডায়রিগুলো আর পড়ার উপায় নেই।<br />
এখন অর্ক কি ভাবছে সেটা বোঝার চেষ্টা করল লীনা। কিন্তু তার মুখ দেখে বোঝার তো উপায় নেই। সে পরম তৃপ্তিতে চোখদুটো বন্ধ করে বাসের সিটটাকে এলিয়ে দিয়েছে। গাড়িটা একবার ব্রেক কষতে লীনা একটু ছিটকে উঠল সিট থেকে। অর্ক সাথে সাথে চোখ মেলে বলল, ‘একি তুমি সিটবেল্ট বাঁধনি কেন? এখানে বাসে উঠলেও সিটবেল্ট বাঁধতে হয়। ঐতো ওঠার সময়ে বলছিল, শোননি তখন খেয়াল করে? নতুন এলে তো, সবসময় খেয়াল রাখবে চারদিকে। কিচ্ছু অসুবিধে হলেই আমাকে বলবে, বুঝলে?’ এই বলে সে লীনার সিটবেল্ট বেঁধে আবার চোখ বুজে ফেলল।<br />
লীনা মনে মনে বলল, ‘তুমি এরকম কেন?’</p>
<p>২</p>
<p>‘এই তুই একটু ওয়াইন নিবি?’<br />
ঘাড় নেড়ে না বলল লীনা। ওসব সে কখনও ছুঁয়েই দেখেনি।<br />
‘আরে দূর, নে তো। তোর বর দেখছে না। সেও আজ ওপরে গিয়ে সমান তালে চালাচ্ছে দেখ গিয়ে’, এই বলে ঢকঢক করে গ্লাসে খানিকটা ওয়াইন ঢেলে দিল রিয়া।<br />
সত্যিই অর্ক দেখছে না। আজকের পার্টিতে মেয়েরা সবাই একটা আলাদা ঘর দখল  করেছে। ছেলেদের ওখান থেকে ভাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। অর্ককে সুলেখা বৌদি আবার চোখ টিপে বলেছে, ‘তোর বউটা খুব সহজ সরল। আজকে আমরা সবাই মিলে একবার ক্লাস নিয়ে নিলেই একেবারে তৈরী হয়ে যাবে’। তারপর থেকে বলতে গেলে অবাক হয়েই একের পর এক বউদের সব কান্ডকারখানা দেখে যাচ্ছে লীনা। টি টেবিলের ওপরে সাজান রয়েছে একটা হোয়াইট ওয়াইন, একটা রোজ ওয়াইন আর একটা স্মার্ন-অফ ভডকার বোতল। মেয়েরা সাকুল্যে ছ’জন &#8211; সুলেখা অর্কর এক সিনিয়ারের বউ আর বাকীরা অর্কর বয়সীই হবে –রিয়া, জয়িতা, পুর্ণিমা আর কাকলি । কাকলিই একমাত্র লীনার চেয়ে বয়সে একটু ছোট –কিন্তু সেও কিছু কম যায় না। সবাই যে বৃস্টলে আসার আগে কেউ কাউকে চিনত এমন নয়। তবু এর মধ্যেই এমন ভাব জমিয়ে নিয়েছে যেন কতকালের বন্ধু সব। লীনা বাদে বাকী সব্বার মুখে খই ফুটছে। ঝড় বয়ে যাচ্ছে ছোট্ট ঘরটার মধ্যে। কারো মুখে কোন আগল নেই।<br />
হঠাৎ সুলেখা বলে উঠল, ‘এই তোরা সবাই একটু থামবি? দেখেছিস না লীনা কিছু বলছে না-’<br />
লীনা একটু থতমত খেয়ে বলল, ‘আমি আবার কি বলব?’<br />
রিয়া এর মধ্যে অনেকটা ড্রিঙ্ক করে ফেলেছে। সে চোখ পাকিয়ে বলল, ‘আমরা যা জিজ্ঞেস করব তা সব বলতে হবে?’<br />
লীনা বাধ্য মেয়ের মত একটু মাথা নাড়ল।<br />
সুলেখা বলে উঠল, ‘তোর নতুন বিয়ে হয়েছে না? বর কেমন?’<br />
‘ভালই?’<br />
‘ভালই মানে? আদর টাদর করে ঠিক ঠাক?’<br />
লীনা লজ্জায় লাল হয়ে উঠল। এই মেয়েগুলোর মুখে কি কিছু আটকায় না? সে কিছু বলতে পারল না। শুধু ঘাড় নাড়ল হালকা করে।<br />
‘ওরকম বললে হবে তো না বাবা, ঠিক ঠিক বলতে হবে রোজ রাতে কবার করে করে?’<br />
লীনা হাঁ করে চমকে তাকাল সুলেখার দিকে – ‘এ বলে কী?’<br />
‘আরে, এতে ঘাবড়ানোর কি আছে? আমার বর আমাকে পনের-ষোলবার অবধি আদর করেছে বিয়ের পর পর।’<br />
রিয়াও গলা চড়িয়ে বলল, ‘আরে আমার বর বিয়ের আগে যা রোমান্টিক ছিল না ভাবতেই পারবি না।’<br />
লীনা বলল, ‘বিয়ের আগে মানে?’<br />
রিয়া হেসে বলল, ‘বিয়ের আগে মানে বিয়ের আগে। তখন আমরা দুজনেই দিল্লীতে ছিলাম। চাকরি করতাম। আর মাঝে মাঝেই&#8230;আমাকে ছাড়া ও একটা উইকএন্ডও একা কাটাতে পারত না’<br />
লীনার খুব জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে করছিল, ‘আর এখন?’ কিন্তু পারল না। তবে কপাল ভাল সবাই ওকে ছেড়ে দিয়ে আবার নিজের নিজের গ্লাসে ফিরে গেছে। আজকে সুলেখার বর অমিতাভদার বাড়িতে পার্টি হচ্ছে একটা। কোন উপলক্ষ্য নেই। এমনিই। এখানে এসে লীনার এটাই প্রথম পার্টি। সেখানের অভিজ্ঞতাটা এরকম হবে সে ভাবতেও পারেনি। অর্কও সেরকম কিছু বলেনি আগে। তবে ওই বা জানবে কি করে? বিবাহিত মহিলাদের আসরে এরকম কান লাল করা কথাবার্তা হয় এমনিতে তো কেউ ভাবতেই পারবে না।<br />
রিয়া ঢকঢক করে গ্লাস শেষ করে সুলেখাকে বলে উঠল, ‘এই ফুলেখা তোর বরের কাছ থেকে একটা ফিগারেট নিয়ে আয় না-’<br />
এই আরেক অদ্ভূত কথাবার্তার ধরন। প্রথমে ঢুকতেই সুলেখা বলে উঠেছিল, ‘কাপলদের কারো ফেক্স করতে ইচ্ছে হলে আমাদের ওপরে একটা ঘর খালি আছে-’। লীনা প্রথমটায় ধরতে পারেনি। তারপর বুঝতে পারল অনেকেই শাহিদ কাপুরের কামিনে একসেন্ট নকল করে ‘স’ কে ‘ফ’ বলতে শুরু করেছে মাঝে মাঝে – আর বাকীরা হেসে গড়িয়ে পড়ছে সেই শুনে।<br />
‘দাঁড়া দাঁড়া সিগারেট চাইলেই ওরা সবাই এখানে এসে পড়বে। তার আগে আমাদের আজকের খেলাটা খেলতে হবে। আমরা প্রত্যেকেই অন্যদের কারো বরকে পছন্দ করে রাখব আর তাকে ঝাড়ি করব। কিন্তু কিছু বলা চলবে না। এখন সবাই এক এক করে নিজের বর ছাড়া আরেকজন কাউকে পছন্দ করে নাও। সবাই শুরু কর। আমার পছন্দ আর্য -’<br />
একটা প্রচন্ড হইহই শুরু হয়ে গেল। কাকলি বলল, ‘আমারও আর্য’দাকে পছন্দ।’<br />
জয়িতা হাত তুলে বলল, ‘না না, ওসব চলবে না আমার পছন্দ-’<br />
লীনা সবার মুখের দিকে চেয়ে চেয়ে বিস্ময়ের সীমা পেরিয়ে চলছিল এক এক করে। আর্যদা আসলে রিয়ার বর। দেখতে হ্যান্ডসাম। শেভ করে না বোধহয় ইচ্ছে করেই। ভারী গলা। সুন্দর গান গায়। ভাল ছবিটবি আঁকে। আশ্চর্য বাকী সবাই এরকম বলছে আর দেখে মনে হচ্ছে রিয়াদি বেশ মজাই পাচ্ছে এইসব শুনে। তার কোন তাপ উত্তাপ নেই।<br />
সুলেখা বলল, ‘আচ্ছা ঠিক আছে। তবে আমার পছন্দ অর্ক।’<br />
রিয়া হেসে ফেলল, ‘তবে তো ঠিক আছে। সেফ। এক্কেবারে হার্মলেস। ও আর কি করবে? বড়জোর তোকে দুটো কবিতা শোনাবে-’<br />
পুরো ঘরটায় হিস্টিরিয়ার ঝড় বয়ে গেল যেন। লীনা নিজেও না হেসে পারল না। তার নিজের স্বামীটা কি এতই নিরীহ? এর চেয়ে ও একটু অন্যরকম হলেই কি ভাল হত না? ও কি লেখে সেটা জানতেই হবে। বিয়ের পরে তো বউকে একটা লেখাও পড়ে শোনায়নি। তাহলে কি লেখে খাতায় এত সাতপাঁচ? অর্কর এখনকার ডায়রিটা বেশ সুন্দর। লেদার বাইন্ডিং, আবার সামনে একটা বোতাম আছে। যখন শুনেছিল তার হবু বর ডায়রি লিখতে খুব ভালবাসে তখন সে নিজেই আগ বাড়িয়ে একটা সুন্দর ডায়রি উপহার দিতে চেয়েছিল। কিন্তু অর্ক বলেছিল দিতে হবে না। দিলেও নাকি সে নেবে না। এই ডায়রিটাও সে কিনেছিল নিজের পছন্দে। এইসব ভাবতে ভাবতে সে পার্টির হইচইয়ের কেমন আড়ালে চলে গেল।  নাহ, বরটা যেমনই হোক; তাকে ছাড়া একটা দিনও চলবে না। যে মানুষটা কোনদিন হাতে ধরে একটাও মিষ্টি প্রেমের কথা বলল না, সে ডায়রিতে কি লেখে এত জানতে হবে না? ও কি এত ভাবে, লুকিয়ে লুকিয়ে কি লেখে তা যেভাবে হোক খুঁজে বার করে পড়তেই হবে।<br />
কেউ একটা কাঁধে ঝাঁকুনি দিল, ‘এই মেয়ে তোর হল কি?’<br />
লীনা হালকা হেসে বলল, ‘না, কিছু হয়নি-’<br />
রিয়া তখন উঠে গিয়ে ঘরের মাঝখানে ঠুমকা দিতে শুরু করেছে। কাকলি সঙ্গে করে এনেছিল আইপডের ডকিং স্টেশনটা। সেটাও বাজতে শুরু করেছে এর মধ্যে।<br />
এইসব দেখতে দেখতেই ওয়াইনের গ্লাসে প্রথম চুমুকটা দিল লীনা আর অদ্ভূত কষা একটা স্বাদে মুখটা বদলে গেল।</p>
<p>৩</p>
<p>‘তুই আমায় ভালবাসিস বুঝি?’<br />
‘হুঁ’<br />
‘শুধু হুঁ?’<br />
‘হুঁ মানে অনেক’<br />
‘অনেক মানে কতটা?’<br />
‘অনেক মানে অনেক, অনেক, অনেক -’, হাতদুটো দুপাশে যতটা ছড়াতে পারে ততদূর ছড়িয়ে দিল অর্ক। যেন ডানা মেলছে। লীনা কিছু বলল না। কেবল মুচকি মুচকি হাসল।<br />
‘কেন তোর বিশ্বাস হয়না বুঝি?’<br />
‘উঁহু-’, লীনার চোখে মুখে দুষ্টুমি। এই খেলা তো সে খেলতে চাইছিল কতদিন ধরে। কিন্তু খেলতে পারছিল না। বিয়ের পর অনেকদিন কেমন যেন বরফের মত হয়েছিল অর্ক। এখন সেই হিমশৈল একটু একটু করে গলছে। একদিন হঠাৎ করেই অর্ক তুইতোকারি করা শুরু করল। খারাপ কথা বলে নয়, এমনিই। আদর করে। দেখাদেখি লীনাও এখন ওকে তুই করে বলে। শুনতে যে কি মিষ্টিই লাগে সে ভেবে পায় না। সোফায় এলিয়ে বসেছিল দুজনে। লীনা মাথা  রেখেছিল অর্কর বুকে। এবার সে একটু উঠে মুখ ঘোরাবার চেষ্টা করল।<br />
লীনাকে জড়িয়ে ধরার চেষ্টা করল অর্ক, ‘কেন বিশ্বাস হয় না বল তো-’<br />
‘সে আমি কি জানি। তোর কি মেয়ে বন্ধুর অভাব ছিল। কত কে। সবাইকেই তো তোর ভাল লাগত।’<br />
‘আরে দূর। ঠিক করে কখনও কথাই বলতে পারিনি মেয়েদের সাথে।’<br />
‘তাতে কি, ভাল তো লাগত-’<br />
‘সে তো অনেকদিন আগের কথা’<br />
‘আর এখন?’<br />
‘এখন তো আমার আবার একটা বৌ হয়েছে।’ অর্ক হাসল।<br />
‘বউ হয়েছে তো কি হয়েছে, তাকে কি আর তুই ভালবাসিস?’<br />
‘খুব বাসি’<br />
‘কাঁচকলা’, এই বলে লীনা সোফা থেকে উঠে দৌড়ে চলে গেল বেডরুমে। হাসতে হাসতে ফেটে পড়ছিল সে। খুশিতে, মানুষটাকে নতুন করে পাওয়ার আনন্দে। অর্কও পিছন পিছন একছুটে হাজির হল তার কাছে। দিনের আলো ফটফট করছে বাইরে। তবু তাতে কি। কারো তর সইল না। লকগেট খুলে বহুদিনের অবরুদ্ধ জল ছুটে বেরিয়ে এল। বড় সুন্দর হল সেই মিলন। ভাসতে ভাসতে কেমন করে নেমে এল ক্লান্তি। ঘুমিয়ে পড়ল লীনা।<br />
ঘুমটা যখন পাতলা হয়ে আসছে তখন নিজের অজান্তেই বিছানাটা হাতড়ে দেখল লীনা। প্রায় সব সময়ই এমন হয়েছে যে ওকে না ডেকেই অর্ক ঘুম থেকে উঠে পড়েছে। আজকে একটু চমকে গেল সে। অর্ক উপুড় হয়ে মাথা নীচু করে কিছু লিখছে। একদৃষ্টে চেয়ে রইল সে। খুব জানতে ইচ্ছে করছে কি লিখছে অর্ক।<br />
অনেকক্ষন পর আলতো করে সে হাত রাখল অর্কর পিঠে, ‘কি লিখছিস রে সোনা?’<br />
অর্ক একটুও না চমকে বলল, ‘এই এমনি। সেরকম কিছু না।’<br />
‘কই দেখি কি লিখলি?<br />
‘উঁহু-’<br />
‘কেন, আমাকে দেখাবি না?’<br />
‘দূর পাগলি, সব দেখলে চলে? একটু আড়াল থাকা ভাল।’ এই বলে অর্ক ডায়রিটা ভাঁজ করে বালিশের নীচে চালান করে পাশ ফিরল।<br />
লীনা মনে মনে ভাবল, ‘ঠিকই তো। একটু রহস্য থাকুক। মানুষটার সবটুকু যেন কোনদিন জানা না হয়ে যায়’। আবার গভীর সুখের মধ্যে একটু একটু করে হারিয়ে যাচ্ছিল সে।</p>
<a href="http://www.addtoany.com/add_to/google_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fabhra%2F3357&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A7%9C%E0%A6%BE%E0%A6%B2" title="Google Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/google.png" width="16" height="16" alt="Google Bookmarks"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/orkut?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fabhra%2F3357&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A7%9C%E0%A6%BE%E0%A6%B2" title="Orkut" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/orkut.png" width="16" height="16" alt="Orkut"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/twitter?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fabhra%2F3357&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A7%9C%E0%A6%BE%E0%A6%B2" title="Twitter" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/twitter.png" width="16" height="16" alt="Twitter"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/facebook?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fabhra%2F3357&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A7%9C%E0%A6%BE%E0%A6%B2" title="Facebook" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/facebook.png" width="16" height="16" alt="Facebook"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/yahoo_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fabhra%2F3357&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A7%9C%E0%A6%BE%E0%A6%B2" title="Yahoo Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/yahoo.png" width="16" height="16" alt="Yahoo Bookmarks"/></a> <a class="a2a_dd addtoany_share_save" href="http://www.addtoany.com/share_save?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fabhra%2F3357&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A7%9C%E0%A6%BE%E0%A6%B2"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/share_save_120_16.png" width="120" height="16" alt="Share/Bookmark"/></a>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://coffeehouseradda.com/blog/abhra/3357/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>6</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>কোলাজ—অনুগল্প</title>
		<link>http://coffeehouseradda.com/blog/ranykolkata/3267</link>
		<comments>http://coffeehouseradda.com/blog/ranykolkata/3267#comments</comments>
		<pubDate>Mon, 26 Jul 2010 11:23:51 +0000</pubDate>
		<dc:creator>রনি কোলকাতা</dc:creator>
				<category><![CDATA[গল্প]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://coffeehouseradda.com/?p=3267</guid>
		<description><![CDATA[তিয়াস বিস্মিত কিছুটা বা। কিছুই ব্যার্থ হয়না এই পৃথিবীতে তাহলে। গ্রামের তথা পৃথিবীর জনসংখ্যা থেকে হয়ত কমবে একজন। এটা বিয়োগ। আবার যোগের হিসেবও আছে। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর রিপোর্টে আরো এক যোগ হবে। আজ তাহলে আরো একজন ভারতীয় আত্মহত্যা করবে। যাক বেশ নিশ্চিন্ত লাগছে নিজেকে সিদ্ধান্তটা নিতে পেরেছে বলে। বছর খানেক ধরে প্রতি পল অনুপল [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>তিয়াস বিস্মিত কিছুটা বা। কিছুই ব্যার্থ হয়না এই পৃথিবীতে তাহলে। গ্রামের তথা পৃথিবীর জনসংখ্যা থেকে হয়ত কমবে একজন। এটা বিয়োগ। আবার যোগের হিসেবও আছে। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর রিপোর্টে আরো এক যোগ হবে। আজ তাহলে আরো একজন ভারতীয় আত্মহত্যা করবে। যাক বেশ নিশ্চিন্ত লাগছে নিজেকে সিদ্ধান্তটা নিতে পেরেছে বলে। বছর খানেক ধরে প্রতি পল অনুপল অনুভব করতে হয়েছে নিউরোনের সুতোয় একটা শিরশিরানি; সবসময় একটা বিবিমিষা। কোন রঙ চোখে ধরত না আলাদা করে। বোধ না থাকলেও বুঝতে পারত একটি মাত্র রঙের উপস্থিতি—সবুজ। কেমন সব গোলমেলে তথ্য। সিদ্ধান্তটা নিতে সবথেকে অসুবিধা হয়েছিল স্ত্রী, কন্যা পরিজনদের কথা ভেবে। এদের অসহয়তার ভাবনা আরও অস্থির করত ওকে। এটাও একটা ভুলভুলাইয়া। অনেক আঁকে বাঁকে জানতে পেরেছে ওদের ভেতরেও আগুন আছে; মাঝে মাঝে তেজের আঁচ লাগে, একাকী বেঁচে থাকার আনন্দ আছে; অন্যের মূর্খামির সাথে নিজেকে জড়িয়ে ফেলার মত ‘সিলি’ কাজ ওরা করবে না।</p>
<p>খুব ফুরফুরে ভারহীন পালক পালক মনে হচ্ছে মনটাকে। শেষ পর্যন্ত এক বছর লড়াই করার পর সিদ্ধান্তটা নিয়ে ফেলতে পেরেছে। বটগাছটার নীচেই বসে আছে তিয়াস। স্কুল গেট পেরিয়ে প্রথম সিগারেট এই গাছ তলায়। বেলা বোসের চাহনির চুলচেরা বিশ্লেষন; নীল খামেদের ভেলায় চড়ে ভ্রমনঃ ঘণ্টার পর ঘন্টা ধরে পান্ডুলিপির পাঠ সবই এইখানে। কোন কোন দল আবার এই গাছতলা থেকেই ইভটিজিং এর প্রাথমিক পাঠ নিয়েছে। প্রতিটি স্কুল ছাত্রের বেড়ে ওঠার সাক্ষী এই বটগাছ।</p>
<p>শ্যাম জ্যেঠু হরিনাম গাইছে, জ্যেঠিমা প্রাত্যহিক বাক্যবানের কয়েকটা আবার নিক্ষেপ করছে শুতে যাবার আগে। তিনি নিজে একটা প্রতিষ্ঠান। আঙ্গুলের প্যাঁচে প্রান পেত জিলিপি। ডাল আর বাদামের চানাচুর। বাড়ীতে তৈ্রী। সাথে লবনের সঙ্গ একটু। যেন অমৃত। তিয়াসের বেড়ে ওঠার দিন গুলোর একমাত্র আকর্ষন।</p>
<p>দুটো তক্তার মাঝখানে ফাঁক থাকে নৌকার দড়ি দিয়ে গেড়ে সেই ফাঁক পূরণ করতে হয়” আটকে রাখতে হয় জলুই দিয়ে। সংসারে এই ফাঁক পূরণ হয় সন্তানের মল, মুত্র, কান্না-হাসি, পাশ-ফেল, প্রেম-অপ্রেম দিয়ে। এগুলোই দড়ি, এগুলো জলুই। শ্যাম জ্যেঠু ও জ্যেঠিমার সংসারে কোন অতিথি নেই। জাকির হোসেনের তবলার চেয়ে কারো হাতের তালি যে আরো মিষ্টি হতে পারে, কেউ কথা বললে সন্ধি সমাস যে ব্যাকরন থেকে ছুটি চাইতে পারে তিনমাস এই অনুভবের সুযোগ হয়নি ওদের কখোনো। সামনে তুলসিতলার জন্য একটুকরো উঠান। পেয়ারা গাছ পর্যন্ত নেই একটা। শ্যাম জ্যেঠু কর্তা নন সংসারে। এই গাছতলার পূর্ব দিকের একমাত্র ঘরখানি উনার। ঘরই দোকান; দোকানই ঘর।</p>
<p>অনেক জমান টাকা জ্যেঠিমার। এখানকার কোন ব্যাঙ্কে রাখেন নি। রেখেছেন কৃপনগড়ের কোন ব্যাঙ্কে। ওটা জ্যেঠিমার বাপের বাড়ি। কি অদ্ভুত একটা নাম “কৃপনগড়”। যেন টাকা জমানোর উৎকৃষ্ট জায়গা।কোন আসবাবপত্র কেনেননি জ্যেঠিমা, তক্তপোস মাটিতে বিছানা। গতবারের আগেরবার গরম পড়েছিল খুব। কুকুর জিভ বের করে থাকত সবসময়। নিরুপায় হয়ে জ্যেঠিমাও ফ্যান ঝুলালেন একটা। কিন্তু শান্তি পেলেন না কোন। ফ্যানের দিকে তাকালে ঘুম আসার বদলে ঘুম ভেঙ্গে যায়। এবারে খুলে দিয়ে এসেছেন কৃপনগড়ে। সব সময় একটা ভয় কাজ করে জ্যেঠিমার। আগে মরলে শ্যাম জ্যেঠু সবই বাদলাকে দিয়ে দেবে। রোমাঞ্চ লাগে তিয়াসের। বাদলের ভয়ে গরমকে জয় করেছেন জ্যেঠিমা। বাদল কে?? বাদল শ্যাম জ্যেঠুর ভাইপো। ওর মনে হয় একেই বোধ হয় বলে নিজেকে মেরে গরু দান। রাস্তা দিয়ে যাচ্ছেন মানি মিত্র। স্কুলে পড়ান। কোথাও হয়ত নিমন্ত্রন ছিল। আসলে এই ব্যাপারটা খুব ভালোবাসেন মানি দি। দুর্জনেরা বলে পয়সা না লাগলে সব নাকি খেতে রাজি উনি। শরীরটাও বেশ মজবুত, দেখনধারী।<br />
জ্যেঠিমার বদলে উনার গ্রামের নাম হওয়া উচিত ছিল কৃপনগড়। তিয়াস ভাবে মানিদির মা-বাবা নিশ্চয় খুব দূরদর্শী ছিলেন। চরিত্রের সাথে কি সুন্দর খাপ খেয়ে যায় নামটি- মানি মিত্র। খুব ঘ্যামও উনার। নিজেকে স্টার ভাবেন। কিন্তু তিয়াস জানে উনি আসলে একটা স্টার ফিস। পৃথিবীতে এই একটা জীব যার কোন মগজ নেই। নিজের অজান্তেই হেসে ওঠে তিয়াস।</p>
<p>ও দিকে শ্রীজার বাড়িতে লোকজনের সমাগম। কিসের উৎসব বুঝতে পারে না তিয়াস। আজকাল কত কিছুই নিয়ে তো উৎসব হচ্ছে। শিল্প গড়ার উৎসব, প্রতিরোধ কমিটির উৎসব, টিভিতে মুখ দেখানোর উৎসব।!!! আন্তেনিওনি গ্রামসির সুশীল সমাজের (Civic Society) কত ব্যস্ততা! হঠাৎই মাইক্রোফোনে ভেসে আসে ‘হ্যাপি বার্থ ডে&#8230;।“ বোঝা যায় ছেলের জন্মদিন। এটা একটা অদ্ভূত গান। আমেরিকার ‘ওয়ার্নার চ্যানেল সংস্থা” এই একটি গানের জন্য ১০ লক্ষ ডলার রয়্যালটি পেয়ে থাকে। শ্রীজা কোন ছেলের গায়ে গন্ধে হোক্কর করত, আঙ্গুলে আঙ্গুল ঠেকলে স্নান করত। সম্বিৎ বিয়ে করছে শুনে আচমকা প্রশ্ন করে ছিল তিয়াসকে “ইস চাকরি বাকরি করে না। বিয়ে করছে খাওয়াবে কি করে। এগুলো কিন্তু ঠিক নয়।“ সম্বিৎ চাকরি না করলেও আর্থিক উন্নতি ছিল তার যথেষ্ট। এই শ্রীজা হঠাৎ একদিন বিয়ে করল কাননকে। কানন ভিখারির ভাই। এটা খুবিই বিস্মিত করে তিয়াসকে। ওর মনে হয় এত ঘাম গন্ধ পেরিয়ে কিংশুকের জন্ম যেন এক রূপকথা। লোকের ছেলে মেয়েকে ‘গুটলে’ ‘গুটলে’ ডাকতে অভ্যস্ত শ্রীজা নিজের ছেলের নামের সামান্য বিচ্যুতি সহ্য করতে পারে না। যেন নিউটনের ফার্স্ট ল। কোনরকম বিকৃতি চলবে না। কারো ধুমপান করা, বাজে কথা বলা পুরোপুরি নিষিদ্ধ ছিল ছেলের সামনে। কোন ম্যাল প্রাক্টিস যেন পেয়ে না বসে ওকে।</p>
<p>অবাক হয়ে তিয়াস ভাবে এই ছেলের দ্বিতীয় উচ্চারিত শব্দটি ছিল ‘শালী’। এছাড়াও লোকের পাতে থুতু দেওয়া, খামচান, কামড়ান, হাতা নিয়ে মাকে তাড়া করা—সমস্ত ‘সুঅভ্যাস’ রপ্ত করেছে ছেলেটি সময়ের সাথে সাথে। ভারি আমোদ লাগে তিয়াসের&#8211; জীবনের এত রঙ্গের কথা ভেবে।</p>
<p>যে মেয়েটি বলে পৃথিবীতে যারা দুধ খেতে পায় না, তারা কত সুখী অথবা যে মেয়েটি ‘চাঁদের বাড়ী’ দেখতে যাবার সময় মন্তব্য করে “ ইস বাংলা ছবি দেখি না, বুঝতে পারছি না।“ তারাও নিজের মত করে রঙ ঢেলে জীবনের এই কোলাজকে সম্পূর্ন করছে। নীল তিমির জিভের ওজন একটি পূর্ন বয়স্ক হাতির ওজনের সমান। হামিং বার্ড উড়তে পারলেও হাঁটতে পারে না। বাদুড়ের পায়ের হাড় এত পাতলা যে দাড়াতে পারে না। কুমীরের শ্রেনীবিভাগ হয় তার নাকের গড়ন দেখে। পৃথিবীতে ২১ রকমের কুমীর আছে। ইংরাজীতে ছোট হাতের ‘j’ এর মাথার বিন্দুটিকে বলে টিটল (Title)।হাওয়াই দ্বীপটি নাকি প্রতি বছর ৪ ইঞ্চি করে ক্রমশ জাপানের দিকে সরে আসছে। কিছু দিনের মধ্যেই গলাগলি হয়ে যাবে ওদের।কত কিছুই না জানার আছে!!! প্রিয়ঙ্কা হয়ত রিজওয়ানুরকে প্রথম দিকে বলেছিল চিঁড়ে খেয়েই থেকে যাবে ওদের বাড়ি। ট্রাকে লেখা “রাগ করো না সোনা/ জল বাদে সবই কেনা” চারিদিকে কত রঙ, কত ব্যঞ্জনা তাতে।</p>
<p>এই সব ভাবতে ভাবতে হঠাৎই লক্ষ্য করে তিয়াস তার ফুরিয়ে ফেলতে চাওয়া জীবনটাও কোলাজের একটা শেড।<br />
&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;-</p>
<a href="http://www.addtoany.com/add_to/google_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Franykolkata%2F3267&amp;linkname=%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E2%80%94%E0%A6%85%E0%A6%A8%E0%A7%81%E0%A6%97%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AA" title="Google Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/google.png" width="16" height="16" alt="Google Bookmarks"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/orkut?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Franykolkata%2F3267&amp;linkname=%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E2%80%94%E0%A6%85%E0%A6%A8%E0%A7%81%E0%A6%97%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AA" title="Orkut" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/orkut.png" width="16" height="16" alt="Orkut"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/twitter?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Franykolkata%2F3267&amp;linkname=%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E2%80%94%E0%A6%85%E0%A6%A8%E0%A7%81%E0%A6%97%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AA" title="Twitter" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/twitter.png" width="16" height="16" alt="Twitter"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/facebook?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Franykolkata%2F3267&amp;linkname=%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E2%80%94%E0%A6%85%E0%A6%A8%E0%A7%81%E0%A6%97%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AA" title="Facebook" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/facebook.png" width="16" height="16" alt="Facebook"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/yahoo_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Franykolkata%2F3267&amp;linkname=%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E2%80%94%E0%A6%85%E0%A6%A8%E0%A7%81%E0%A6%97%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AA" title="Yahoo Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/yahoo.png" width="16" height="16" alt="Yahoo Bookmarks"/></a> <a class="a2a_dd addtoany_share_save" href="http://www.addtoany.com/share_save?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Franykolkata%2F3267&amp;linkname=%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E2%80%94%E0%A6%85%E0%A6%A8%E0%A7%81%E0%A6%97%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AA"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/share_save_120_16.png" width="120" height="16" alt="Share/Bookmark"/></a>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://coffeehouseradda.com/blog/ranykolkata/3267/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>2</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>অপ্রতুল &#8211; ৫</title>
		<link>http://coffeehouseradda.com/blog/abhra/3249</link>
		<comments>http://coffeehouseradda.com/blog/abhra/3249#comments</comments>
		<pubDate>Fri, 23 Jul 2010 00:28:34 +0000</pubDate>
		<dc:creator>অভ্র</dc:creator>
				<category><![CDATA[গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[বড়গল্প]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://coffeehouseradda.com/?p=3249</guid>
		<description><![CDATA[[আগের পর্ব]

বড় ঘড়িটার দিকে বারবার তাকাচ্ছিল দেবু। সাড়ে তিনটে বাজে। এখন খেলতে না বেরোলেই নয়। কিন্তু আজকে একটু সমস্যা আছে। মা বসে আছে নীচে। বেরোবার রাস্তার সামনে। কালকে খেলে বাড়ি ফিরতে ফিরতে প্রায় সাড়ে সাতটা বেজে গিয়েছিল। তারপরেই বেদম ঠ্যাঙ্গানি খেতে হয়েছে মার কাছে। টেস্ট পরীক্ষা এগিয়ে আসছে। খুব বেশীদিন বাকী নেই। এখন পড়তে হবে। [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><a href="http://coffeehouseradda.com/blog/abhra/3223">[আগের পর্ব]</a></p>
<hr />
বড় ঘড়িটার দিকে বারবার তাকাচ্ছিল দেবু। সাড়ে তিনটে বাজে। এখন খেলতে না বেরোলেই নয়। কিন্তু আজকে একটু সমস্যা আছে। মা বসে আছে নীচে। বেরোবার রাস্তার সামনে। কালকে খেলে বাড়ি ফিরতে ফিরতে প্রায় সাড়ে সাতটা বেজে গিয়েছিল। তারপরেই বেদম ঠ্যাঙ্গানি খেতে হয়েছে মার কাছে। টেস্ট পরীক্ষা এগিয়ে আসছে। খুব বেশীদিন বাকী নেই। এখন পড়তে হবে। কিন্তু মন আর কোথায় বসে। তিনটের পর থেকেই কেমন উসখুস করছে। উপায় নেই। মা দুপুরে না ঘুমিয়ে পাহারা দিচ্ছে নিচের বারান্দার সামনে।<br />
<br />
একটা হালকা শিসের শব্দ শোনা গেল। তারপর আরো কয়েকটা। চাপা গলায় কেউ যেন ডাকছে, ‘দেবু, দেবুউউউ, কোথায় রে তুই?’<br />
মার গলা শুনতে পেল দেবু, ‘তোমরা চলে যাও। ও আজকে খেলতে যাবে না। শরীরটা ভাল নেই।’<br />
একটা চাপা দীর্ঘশ্বাস ফেলল দেবু। আজকে আর কপালে খেলতে যাওয়া নেই। মার এই কথার পর নিশ্চয়ই ওরা আজ আর অপেক্ষা করবে না। এমনিতেও মা বেশ রাশভারি মহিলা। সবাই একটু ভয়টয়ই খায়।<br />
<br />
ভূগোল বইটা আরো কিছুক্ষন নাড়াচাড়া করল দেবু। ক্লাস নাইনের ফাইনাল পরীক্ষায় সে মেরেকেটে পেয়েছিল চল্লিশ। এই ভূগোলটাই ডোবাবে নির্ঘাত। ম্যাপটাও প্রত্যেকবার ভুলভালই করে আসে। কোন জায়গাটা যে কোথায় তা একেবারেই ঠাহর হয় না। সেদিক থেকে দেখতে গেলে ইতিহাসটাও কম যায় না। সন তারিখের তো মাবাপ নেই। তবে ইতিহাসে তাও গল্প দিয়ে কাটিয়ে দেওয়া যায়। এইভাবে কত পরীক্ষা সে উতরে গেল। ভূগোলে সে সুজোগ নেই। মনে মনে দেবু ভাবল, আর তো কটা মাস। তারপর হাতে গুনল – এক, দুই, তিন, চার &#8230;। নাহ, এখনও অনেক দিন। আর গুনতে ইচ্ছে করল না। মাধ্যমিক পরীক্ষাটা কবে কে জানে।<br />
<br />
একবার নীচে নেমে এল একটু জল খাওয়ার ছুতো করে। মা এখনও ঠায় বসেই আছে। কি একটা পত্রিকা পড়ছে। পা টেনে টেনে একটু করে আবার ফিরে এল সে নিজের ঘরে। বইটা এখন আর খোলার কোন মানে হয় না। কিছুতেই মাথায় ঢুকবে না। ঘুমও পাচ্ছে না। ঘুমটা আসে ঠিক সন্ধ্যেবেলা খেলেধুলে এসে বইটা নিয়ে বসার পর পরই। দেবু পায়ে পায়ে চলে এল ছাতে। দোতলায় একটাই ঘর, বাকীটুকু ছাত। যদিও খুব ছোটই। কার্নিশের কাছে এসে দাঁড়াল সে। ওদের বাড়ির পাশে আরো একটা বাড়ি তৈরী হচ্ছে। একপাশে ডাঁই করে রাখা রয়েছে থাক থাক ইট। আর প্রায় দেবুদের বাড়ির গা জুড়ে ফেলে রেখে গেছে একঢিপি বালি। নতুন বালিটা মনে হয় দু-এক দিনই হল রেখেছে। ঘরের দিকে ফিরতে গিয়ে হঠাৎ সারা শরীর জুড়ে কেমন শিহরন খেলে গেল। এই ছাত থেকে বালির ঢিপিটা কতটাই বা হবে? পাঁচিল থেকে লাফিয়েছে তো অনেকবারই। তার চেয়ে খুব বেশী কি আর হবে? খোলা দরজা দিয়ে ভূগোল বইটার দিকে আরেকবার চোখ গেল। মা জানতে পারলে কি আর হবে? বড়জোর ঠেঙাবে? তার বেশি তো কিছু না। ততক্ষনে চুটিয়ে খেলে নেওয়া যাবে।<br />
<br />
সন্ধ্যে ছটার মধ্যেও দেবু নীচে নামেনি দেখে মনে মনে খুশিই হচ্ছিলেন সুজাতা। তাহলে ছেলেটার পড়ায় মন বসেছে। একটু ঘুমিয়ে নিলেও কাজ হয়। রাতে ঠিক করে পড়তে পারে। গা ধুয়ে, সন্ধ্যে দিয়ে এক কাপ চা হাতে নিয়ে বারান্দায় গিয়ে চমকে উঠলেন নিজেই। খালি গায়ে, ধুলো মেখে হাসতে হাসতে বাড়ি ফিরছে দেবু। সঙ্গে ফুটবলটা নাচাতে নাচাতে নিয়ে আসছে আরো কয়েকজন।</p>
<hr />[ক্রমশ...]</p>
<hr />
<a href="http://www.addtoany.com/add_to/google_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fabhra%2F3249&amp;linkname=%E0%A6%85%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%B2%20%26%238211%3B%20%E0%A7%AB" title="Google Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/google.png" width="16" height="16" alt="Google Bookmarks"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/orkut?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fabhra%2F3249&amp;linkname=%E0%A6%85%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%B2%20%26%238211%3B%20%E0%A7%AB" title="Orkut" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/orkut.png" width="16" height="16" alt="Orkut"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/twitter?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fabhra%2F3249&amp;linkname=%E0%A6%85%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%B2%20%26%238211%3B%20%E0%A7%AB" title="Twitter" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/twitter.png" width="16" height="16" alt="Twitter"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/facebook?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fabhra%2F3249&amp;linkname=%E0%A6%85%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%B2%20%26%238211%3B%20%E0%A7%AB" title="Facebook" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/facebook.png" width="16" height="16" alt="Facebook"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/yahoo_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fabhra%2F3249&amp;linkname=%E0%A6%85%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%B2%20%26%238211%3B%20%E0%A7%AB" title="Yahoo Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/yahoo.png" width="16" height="16" alt="Yahoo Bookmarks"/></a> <a class="a2a_dd addtoany_share_save" href="http://www.addtoany.com/share_save?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fabhra%2F3249&amp;linkname=%E0%A6%85%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%B2%20%26%238211%3B%20%E0%A7%AB"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/share_save_120_16.png" width="120" height="16" alt="Share/Bookmark"/></a>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://coffeehouseradda.com/blog/abhra/3249/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>8</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>অপ্রতুল &#8211; ৪</title>
		<link>http://coffeehouseradda.com/blog/abhra/3223</link>
		<comments>http://coffeehouseradda.com/blog/abhra/3223#comments</comments>
		<pubDate>Tue, 20 Jul 2010 22:27:09 +0000</pubDate>
		<dc:creator>অভ্র</dc:creator>
				<category><![CDATA[গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[বড়গল্প]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://coffeehouseradda.com/?p=3223</guid>
		<description><![CDATA[[আগের পর্ব]



‘কি রে কিছু বলবি?’
‘নাহ!’
‘তাহলে এভাবে দাঁড়িয়ে আছিস কেন?’
‘নাহ ভাবছিলাম, কোচিং তো শেষ হয়ে গেল। এবার সবাই নিজের নিজের বাড়িতে থেকে পড়াশুনো করবে। আর কারো সাথে দেখা হবে না।’
‘কেন? তোর কি ব্যাচে কারো সাথে দেখা করার ইচ্ছে ছিল নাকি?’
‘নাহ, সেরকম না। তবে এখানে ফেয়ার কম্পিটিশন হত। বেশ লাগত। এই স্যার কিছু একটা জিজ্ঞেস করলেন, তো [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><a href="http://coffeehouseradda.com/blog/abhra/3194">[আগের পর্ব]</a><br />
</p>
<hr />
<br />
‘কি রে কিছু বলবি?’</p>
<p>‘নাহ!’</p>
<p>‘তাহলে এভাবে দাঁড়িয়ে আছিস কেন?’</p>
<p>‘নাহ ভাবছিলাম, কোচিং তো শেষ হয়ে গেল। এবার সবাই নিজের নিজের বাড়িতে থেকে পড়াশুনো করবে। আর কারো সাথে দেখা হবে না।’</p>
<p>‘কেন? তোর কি ব্যাচে কারো সাথে দেখা করার ইচ্ছে ছিল নাকি?’</p>
<p>‘নাহ, সেরকম না। তবে এখানে ফেয়ার কম্পিটিশন হত। বেশ লাগত। এই স্যার কিছু একটা জিজ্ঞেস করলেন, তো আমরা সবাই জবাব দেওয়ার জন্য হুড়োহুড়ি করতাম। সেটাই মিস করব-’</p>
<p>‘তাতে কি হয়েছে? তুই তো এমনিতেই পড়াশুনোয় এত ভাল।’</p>
<p>‘ধুস, আমি কোনদিনই তোদের মত পড়তে পারি না। যা ভাল লাগে তাইই পড়ি। তোরা কত বেশি করে নম্বর পাস আমার চেয়ে।’</p>
<p>‘আর বলিস না। তুই অনেক শার্প। ফাইনালে তুই-ই সবার চেয়ে ভাল করবি, দেখিস-’</p>
<p>‘হা হা, আমি পরীক্ষার রেসাল্ট নিয়ে অত ভাবি না।’</p>
<p>‘তাহলে কি নিয়ে ভাবিস?’</p>
<p>‘আমি সায়েন্সটা খুব ভাল করে বুঝতে চাই। আজ থেকে দুবছর যখন আমরা পড়ে শুরু করেছিলাম স্যারের কাছে, তখন স্যার একটা দারুন কথা বলেছিলেন। তোর কি মনে আছে?’</p>
<p>‘অনেক কিছুই তো বলেছেন। তুই কোন কথাটা বলছিস?’</p>
<p>‘বলেছিলেন যে যখন এক একটা চ্যাপ্টার পড়বে তখন যদি সেটাকে আলাদা করে দেখ তাহলে কিন্তু কোনদিনই বুঝতে পারবে না। একবার যা শিখলে তার সাথে পরের অংশটা জুড়তে হবে। মানে প্রথম চ্যাপ্টারের সাথে পরেরটার কি সম্পর্ক খুঁজে বের করতে হবে। এভাবে একদিন সবকিছু এমনভাবে মাথায় গেঁথে যাবে যে কিছুই মুখস্থ করতে হবে না।’</p>
<p>চোখ বড় বড় করে মধুরিমা বলল, তুই কি সত্যিই সেভাবে পড়েছিস নাকি?’</p>
<p>অনি মাথা নেড়ে মুচকি মুচকি হাসল।</p>
<p>‘এইজন্যেই বলি তুই আমাদের চেয়ে অনেক শার্প। তোর কিছু হবে রে, দেখিস!’</p>
<p>‘ধুর ছাড় ওসব কথা। তোর বাকী প্রিপারেশন কেমন চলছে?’</p>
<p>মধুরিমা কিছু উত্তর দিল না। দুজনে পাশাপাশি খানিকক্ষন চলতে থাকল। রাস্তা বেশি না। টিউশন থেকে বেরিয়ে বাসস্ট্যান্ড অবধি। সকাল বেলা। হালকা একটা ঠান্ডা ঠান্ডা ভাব আছে হাওয়ায়।</p>
<p>অনি একবার তাকাল পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া ছোটখাট মেয়েটার দিকে। ওর সাথে অন্য কিছু কথা বলতে ইচ্ছে করছিল। কিন্তু সেই কথাগুলো মনে আসছিল না। এখন অনেকদিন দেখা হবে না। কবে দেখা হবে কেউই ঠিক জানে না। ওর ফোন নম্বরটা নেওয়া কি ঠিক হবে? একবার যদি ওর হাতটা খপ করে ধরে ফেলে? ও কি খুব খারাপ মনে করবে?</p>
<p>শেষমেষ বাসস্ট্যান্ড এসে গেল। অনিকে এবার সাইকেলটা নিয়ে এগোতে হয়। আর বেশিক্ষন দাঁড়িয়ে থাকা ভাল দেখাচ্ছে না। অথচ চলে যেতেও ইচ্ছে করছে না। একটা বাসকে হেলেদুলে এগিয়ে আসতে দেখা গেল। অনি পিছন ফিরতে যাবে এমন সময় মধুরিমা ডাকল, ‘অনি!’ তারপর হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলল, ‘বেস্ট অফ লাক।’<br />
</p>
<hr />
[ক্রমশ...]</p>
<hr />
<a href="http://www.addtoany.com/add_to/google_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fabhra%2F3223&amp;linkname=%E0%A6%85%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%B2%20%26%238211%3B%20%E0%A7%AA" title="Google Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/google.png" width="16" height="16" alt="Google Bookmarks"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/orkut?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fabhra%2F3223&amp;linkname=%E0%A6%85%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%B2%20%26%238211%3B%20%E0%A7%AA" title="Orkut" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/orkut.png" width="16" height="16" alt="Orkut"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/twitter?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fabhra%2F3223&amp;linkname=%E0%A6%85%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%B2%20%26%238211%3B%20%E0%A7%AA" title="Twitter" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/twitter.png" width="16" height="16" alt="Twitter"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/facebook?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fabhra%2F3223&amp;linkname=%E0%A6%85%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%B2%20%26%238211%3B%20%E0%A7%AA" title="Facebook" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/facebook.png" width="16" height="16" alt="Facebook"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/yahoo_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fabhra%2F3223&amp;linkname=%E0%A6%85%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%B2%20%26%238211%3B%20%E0%A7%AA" title="Yahoo Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/yahoo.png" width="16" height="16" alt="Yahoo Bookmarks"/></a> <a class="a2a_dd addtoany_share_save" href="http://www.addtoany.com/share_save?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fabhra%2F3223&amp;linkname=%E0%A6%85%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%B2%20%26%238211%3B%20%E0%A7%AA"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/share_save_120_16.png" width="120" height="16" alt="Share/Bookmark"/></a>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://coffeehouseradda.com/blog/abhra/3223/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>5</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>অপ্রতুল &#8211; ৩</title>
		<link>http://coffeehouseradda.com/blog/abhra/3194</link>
		<comments>http://coffeehouseradda.com/blog/abhra/3194#comments</comments>
		<pubDate>Sat, 17 Jul 2010 10:36:59 +0000</pubDate>
		<dc:creator>অভ্র</dc:creator>
				<category><![CDATA[গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[অপ্রতুল]]></category>
		<category><![CDATA[বড়গল্প]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://coffeehouseradda.com/?p=3194</guid>
		<description><![CDATA[[আগের পর্ব]



বাড়ি থেকে দু’পা এগোলেই তরুন সংঘের মাঠ। মাঠের মাঝখানটা ক্রিকেটের পিচ বানিয়ে রাখা রয়েছে। তার চারদিকটা ঘেরা একটা দড়ি দিয়ে। সে দিক থেকে দেখতে গেলে তিনটে ক্লাবের ছেলেপুলে মাঠে যায় এখন। একদল ভলিবল খেলে, একদল ক্রিকেট আর বাকীরা এথলিট। মাঠের এক কোনে বসেছিল পরাগ। দেখছিল মাঝখানে ক্রিকেটের গ্রুপটাকে। ছোট থেকে বড় সবাই গোল করে [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><a href="http://coffeehouseradda.com/blog/abhra/3177">[আগের পর্ব]</a><br />
</p>
<hr />
<br />
বাড়ি থেকে দু’পা এগোলেই তরুন সংঘের মাঠ। মাঠের মাঝখানটা ক্রিকেটের পিচ বানিয়ে রাখা রয়েছে। তার চারদিকটা ঘেরা একটা দড়ি দিয়ে। সে দিক থেকে দেখতে গেলে তিনটে ক্লাবের ছেলেপুলে মাঠে যায় এখন। একদল ভলিবল খেলে, একদল ক্রিকেট আর বাকীরা এথলিট। মাঠের এক কোনে বসেছিল পরাগ। দেখছিল মাঝখানে ক্রিকেটের গ্রুপটাকে। ছোট থেকে বড় সবাই গোল করে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে কোচ দীপুদাকে ঘিরে। দীপুদার হাতে ব্যাট। সবাই এক এক করে দীপুদার দিকে ছুঁড়ে দিচ্ছে ক্ষয়ে আসা লালচে লেদার ডিউস বলটা আর দীপুদাও সবাইকে এক এক করে ফেরত দিচ্ছে। পরাগ বুঝে পায়না এতে কি যে মজা আছে। অথচ ঐ দলের সব্বাই বেশ নাকউঁচু। ভলিবলে বড়দের দলটা কিন্তু এমন না। ওরা নিজের মত ভলিবল পেটায় মাঠের এক কোনের কোর্টটায়। আবার বৃষ্টি বাদলার দিনে সবাই মিলে ফুটবল নিয়েও নেমে পড়ে।<br />
আরো কিছুক্ষন দেখে উঠে পড়ল পরাগ। ওয়ার্ম-আপ নেওয়ার পর একটু দম এসেছে। এবার আজকের বাকীটুকু করতে হবে। দৌড় শুরু করতে যাবে এমন সময় সে দেখতে পেল মেয়েটাকে। ক্লাবে নতুন মুখ তাতে সন্দেহ নেই। একেবারে পাকা এথলিটের মত সবুজ রঙের পোষাক। আশেপাশে আর কেউ ছিল না। তাই পরাগকে দেখে সে একটু হাসার চেষ্টা করল।<br />
পরাগও পালটা হেসে বলল, ‘তুমি কি নতুন এলে?’<br />
‘হ্যাঁ, এই আজ থেকেই। ক্লাবে সামুদার সঙ্গে কথা বলছিলাম। তবে আর কারো সাথে সেরকম আলাপ হয়নি। ভাবছিলাম ওয়ার্ম আপটা কারো সাথে শুরু করা যায় কিনা।’<br />
‘ও আচ্ছা। সে আস্তে আস্তে চিনে যাবে সবাইকে। তুমি কি আগে দৌড়তে?’<br />
‘হ্যাঁ, দৌড়তাম। তবে এ পাড়ায় আমি নতুন। তোমার কি ওয়ার্ম আপ করা হয়ে গেছে?’<br />
‘হ্যাঁ, এই তো দুটো রাউন্ড দিলাম-’<br />
‘দু রাউন্ড, মোটে?’<br />
‘কেন? কম কিসের?’ পরাগ একটু চমকে গেল। সে বরারবই শুরুতে ঐটুকুর বেশি দৌড়য় না।<br />
‘সে কি? তুমি জান না বুঝি? ওয়ার্ম আপে যত বেশি দৌড়োন যায় তত ভাল। কম করে চারটে রাউন্ড তো দিতেই হবে। এক কাজ কর, চল আমার সাথে আরেকবার দৌড়ে ফেল।’<br />
কি করবে ভেবে পাচ্ছিল না পরাগ। একা একা বেশিক্ষন দৌড়তে ভালও লাগে না। আজকে অনি কোন কারনে আসেনি। ক্লাবে কয়েকটা মেয়ে দৌড়য় বটে, কিন্তু কেউ তো ভাল করে কথাও বলে না। মেয়েটার সাথে আলাপ হয়ে ভালই লাগছে। বেশ ফরসা, ভালই দেখতে। মাথা নিচু করেই দাঁড়িয়েছিল পরাগ। হঠাৎ চোখ গেল মেয়েটির পায়ের দিকে। এত সুন্দর দুটো ধবধবে পা বোধহয় সে আগে কখনও দেখেনি। বাকী যারা দৌড়য় তারা মোটের ওপর কালোই।<br />
‘মাথা নীচু করে আবার কি ভাবতে শুরু করলে? যাবে?&#8217;<br />
একটু চমকে উঠেই সোজা হয়ে তাকাল সে। তারপর ঠোঁটের ওপর একটা হালকা হাসির রেখা এনে পরাগ বলল, ‘হ্যাঁ, চল। শুরু করা যাক।’<br />
ঘন্টাখানেক দৌড়ে ক্লান্ত হয়ে বাড়ি ফেরার সময়ও সেই হাসিটা তার মুখে লেগেই রইল। একবারও মনে হল না মেয়েটার নামটাই জিজ্ঞেস করা হয়নি।<br />
</p>
<hr />
[ক্রমশ...]</p>
<hr />
<a href="http://www.addtoany.com/add_to/google_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fabhra%2F3194&amp;linkname=%E0%A6%85%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%B2%20%26%238211%3B%20%E0%A7%A9" title="Google Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/google.png" width="16" height="16" alt="Google Bookmarks"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/orkut?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fabhra%2F3194&amp;linkname=%E0%A6%85%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%B2%20%26%238211%3B%20%E0%A7%A9" title="Orkut" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/orkut.png" width="16" height="16" alt="Orkut"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/twitter?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fabhra%2F3194&amp;linkname=%E0%A6%85%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%B2%20%26%238211%3B%20%E0%A7%A9" title="Twitter" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/twitter.png" width="16" height="16" alt="Twitter"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/facebook?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fabhra%2F3194&amp;linkname=%E0%A6%85%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%B2%20%26%238211%3B%20%E0%A7%A9" title="Facebook" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/facebook.png" width="16" height="16" alt="Facebook"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/yahoo_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fabhra%2F3194&amp;linkname=%E0%A6%85%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%B2%20%26%238211%3B%20%E0%A7%A9" title="Yahoo Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/yahoo.png" width="16" height="16" alt="Yahoo Bookmarks"/></a> <a class="a2a_dd addtoany_share_save" href="http://www.addtoany.com/share_save?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fabhra%2F3194&amp;linkname=%E0%A6%85%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%B2%20%26%238211%3B%20%E0%A7%A9"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/share_save_120_16.png" width="120" height="16" alt="Share/Bookmark"/></a>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://coffeehouseradda.com/blog/abhra/3194/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>5</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>অপ্রতুল &#8211; ২</title>
		<link>http://coffeehouseradda.com/blog/abhra/3177</link>
		<comments>http://coffeehouseradda.com/blog/abhra/3177#comments</comments>
		<pubDate>Thu, 15 Jul 2010 01:57:08 +0000</pubDate>
		<dc:creator>অভ্র</dc:creator>
				<category><![CDATA[গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[বড়গল্প]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://coffeehouseradda.com/?p=3177</guid>
		<description><![CDATA[[আগের পর্ব]



কদিন বাদেই স্কুল শেষ হয়ে যাচ্ছে। টেস্ট পরীক্ষার রুটিনও চলে এসেছে। স্কুলবাস থেকে ধুপধাপ করে লাফিয়ে নামল কয়েকজন। সারাদিন আট’টা পিরিরড ক্লাস সেরে সবাই ক্লান্ত। কারোরই বাড়ি ফেরার জন্য তর সইছে না। তবু জয়কে সবাই রাস্তা ছেড়ে দিল। সবাই জানে সে একটু দামাল, মারকুটে টাইপ। অনিন্দ্য নামল সবার শেষে, ধীরে সুস্থে। সে বেশ শান্ত, [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><a href="http://coffeehouseradda.com/blog/abhra/3160">[আগের পর্ব]</a><br />
</p>
<hr />
<br />
কদিন বাদেই স্কুল শেষ হয়ে যাচ্ছে। টেস্ট পরীক্ষার রুটিনও চলে এসেছে। স্কুলবাস থেকে ধুপধাপ করে লাফিয়ে নামল কয়েকজন। সারাদিন আট’টা পিরিরড ক্লাস সেরে সবাই ক্লান্ত। কারোরই বাড়ি ফেরার জন্য তর সইছে না। তবু জয়কে সবাই রাস্তা ছেড়ে দিল। সবাই জানে সে একটু দামাল, মারকুটে টাইপ। অনিন্দ্য নামল সবার শেষে, ধীরে সুস্থে। সে বেশ শান্ত, ভদ্র, পড়াশুনোয় বেশ ভাল। তার সাথে জয়ের বন্ধুত্ত্ব হওয়ার ব্যাপারটাই একটু অদ্ভূত। সবাইকে ঠেলেঠুলে আগে নেমে পড়লেও জয় অপেক্ষা করছিল অনির জন্য।<br />
‘অনি, তোকে কি এক্ষুনি বাড়ি যেতে হবে?’<br />
‘না, মানে রোজই তো বাড়ি ফিরে তারপর খেলতে যাই’<br />
‘আজকে না হয় একটু পরেই বাড়ি গে&#8230;’<br />
অনি একটু মাথা নিচু করে ভাবল। জয় কিছু বললে তার পক্ষে না করা মুশকিল। ‘আচ্ছা, চল। তবে আধঘন্টার বেশি দেরী করা কিন্তু চলবে না।’<br />
‘ঠিক আছে, আধঘন্টার মধ্যেই ফিরে আসব।’<br />
বাসরাস্তা থেকে একটা সরু রাস্তা চলে গেছে গঙ্গার দিকে। সেদিকেই হাঁটা দিল জয়। অনিও কিছু না বলে পিছু নিল। জয়ের সব রকম কীর্তিকলাপই অদ্ভূত সম্মোহনের মত তাকে টানে। ওর কোন কিছুতে ভয়ডর নেই। সেদিন হঠাৎ একটা উঁচু ক্লাসের ছেলে এসে একটা দামী চকোলেট জয়কে ধরিয়ে দিয়ে বলল, সৌমিকে দিয়ে দিবি। আশ্চর্য জয় সেটা দিয়েও দিল। যদিও সৌমি সেটা নেয়নি, ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিল। কিন্তু তাতে জয়ের কোন পরিবর্তন নেই। সে চকোলেটটা উঠেই খেয়ে নিল কয়েকজনের সাথে ভাগ করে। জয়ের পাশাপাশি হাঁটতে হাঁটতে অনিন্দ্য ভাবছিল হয়তো ভিতর ভিতর সে নিজে জয়ের মতই হতে চায়। ওদের ক্লাসে মধুরিমা বলে মেয়েটাকে অনিন্দ্যর খুব ভাল লাগে। কিন্তু আজ অবধি সাহস করে একবার কথাও বলে উঠতে পারল না।<br />
নদীর ধারে কিছুটা বাঁধান জায়গা, পার্ক ছাড়িয়ে জয় একটা পোড়োবাড়ির কাছাকাছি জায়গায় এসে হাজির হল। তারপর অনিন্দ্যর দিকে ফিরে বলল, ‘তোকে একটা খুব জরুরি কথা বলব বলে এখানে এনেছি।’<br />
‘সে তো তুই স্কুলে বা বাসেও বলতে পারতিস-’<br />
‘পারতাম। কিন্তু চাইনি।’<br />
‘ঠিক আছে, কি বলবি বল?’<br />
‘তুই আর আমার সাথে মিশিস না। তুই ভাল ছেলে। আমার সাথে থাকলে খারাপ হয়ে যাবি-’<br />
‘কি যা-তা বকছিস?’ অনিন্দ্য একটু কড়া স্বরেই বলল। ভাল ছেলের লেবেলটা নিজের গায়ে কেমন যেন অস্বস্তির মত সেঁটে বসেছে। ওকে চমকে দিয়ে ফস করে একটা সিগারেট ধরাল জয়। ‘কোত্থেকে এইসব জোগাড় করেছিস তুই’ &#8211; বলতে গিয়েও বলতে পারল না অনিন্দ্য।<br />
‘আজকে সকালে জানতে পারলাম আমার বাবার চাকরি চলে গেছে। মাধ্যমিক দেওয়ার পর আমি আর পড়াশুনো করব না ঠিক করেছি।’ জয় একটুও গলা না কাঁপিয়ে বলল।<br />
এলাকার বড় ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবরটা অনিন্দ্য সকালেই শুনেছিল বাড়িতে। কিন্তু সারাদিনে সাহস করে জয়কে জিজ্ঞেস করে উঠতে পারেনি। কিন্তু আর পড়াশুনো করবে না এরকম জয় ভাবতেই বা পারল কি করে?<br />
</p>
<hr />
[ক্রমশ...]</p>
<hr />
<a href="http://www.addtoany.com/add_to/google_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fabhra%2F3177&amp;linkname=%E0%A6%85%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%B2%20%26%238211%3B%20%E0%A7%A8" title="Google Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/google.png" width="16" height="16" alt="Google Bookmarks"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/orkut?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fabhra%2F3177&amp;linkname=%E0%A6%85%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%B2%20%26%238211%3B%20%E0%A7%A8" title="Orkut" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/orkut.png" width="16" height="16" alt="Orkut"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/twitter?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fabhra%2F3177&amp;linkname=%E0%A6%85%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%B2%20%26%238211%3B%20%E0%A7%A8" title="Twitter" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/twitter.png" width="16" height="16" alt="Twitter"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/facebook?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fabhra%2F3177&amp;linkname=%E0%A6%85%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%B2%20%26%238211%3B%20%E0%A7%A8" title="Facebook" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/facebook.png" width="16" height="16" alt="Facebook"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/yahoo_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fabhra%2F3177&amp;linkname=%E0%A6%85%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%B2%20%26%238211%3B%20%E0%A7%A8" title="Yahoo Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/yahoo.png" width="16" height="16" alt="Yahoo Bookmarks"/></a> <a class="a2a_dd addtoany_share_save" href="http://www.addtoany.com/share_save?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fabhra%2F3177&amp;linkname=%E0%A6%85%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%B2%20%26%238211%3B%20%E0%A7%A8"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/share_save_120_16.png" width="120" height="16" alt="Share/Bookmark"/></a>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://coffeehouseradda.com/blog/abhra/3177/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>5</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>অপ্রতুল &#8211; ১</title>
		<link>http://coffeehouseradda.com/blog/abhra/3160</link>
		<comments>http://coffeehouseradda.com/blog/abhra/3160#comments</comments>
		<pubDate>Sun, 11 Jul 2010 19:44:11 +0000</pubDate>
		<dc:creator>অভ্র</dc:creator>
				<category><![CDATA[গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[বড়গল্প]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://coffeehouseradda.com/?p=3160</guid>
		<description><![CDATA[[প্রথম পর্ব]



বিকেলবেলাটা বেশ সুন্দর। এই সময়টা কিছু করার থাকলেও ভাল, না থাকলেও ভাল। শুধু একটা জানলা চাই। একটা জানলা থাকলেই সময় কেটে যেতে পারে। জানলা দিয়ে তাকিয়ে থাকলে মনে মনে চলে যাওয়া যায় যেখানে ইচ্ছে। জানলা দিয়ে এক একসময়ে বেশ আলো এসে পড়ছে। সাদা মেঘগুলো সরছে আস্তে আস্তে। তাই আলোর গতিটা সবসময় সমান নয়। কখনো [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>[প্রথম পর্ব]<br />
</p>
<hr />
<br />
বিকেলবেলাটা বেশ সুন্দর। এই সময়টা কিছু করার থাকলেও ভাল, না থাকলেও ভাল। শুধু একটা জানলা চাই। একটা জানলা থাকলেই সময় কেটে যেতে পারে। জানলা দিয়ে তাকিয়ে থাকলে মনে মনে চলে যাওয়া যায় যেখানে ইচ্ছে। জানলা দিয়ে এক একসময়ে বেশ আলো এসে পড়ছে। সাদা মেঘগুলো সরছে আস্তে আস্তে। তাই আলোর গতিটা সবসময় সমান নয়। কখনো কখনো স্পষ্ট ভাবটা কেটে গিয়ে ম্লান হয়ে যাচ্ছে টেবিলের ওপর আলোর বৃত্তটুকু। যেন লুকোচুরি খেলা চলছে। এই বেশ। </p>
<p>এইসব লিখে রাখতে হবে। লিখে রাখতে হবে সঙ্গোপনে, একান্ত নিজের করে। ডায়রিতে। লিখতে লিখতে ডায়রি হয়ে গেছে প্রায় চারটে। প্রতিটা ডায়রি যে শেষ পাতা পর্যন্ত শেষ হয়েছে, তা কিন্তু নয়। কোন কোনটা হয়তো অর্ধেকও ভরেনি দেখতে গেলে। সে তো নিয়ম মেনে ডায়রিতে লেখে না। লেখে মনের খেয়ালে। সে খেয়ালের দিন-রাত সময় অসময় নেই। মাঝে মাঝে রাতে লিখতে ইচ্ছে করে। ঠিক যখন বাইরে যখন নিঝুম রাত। অন্ধকারে পাশের বাদামি পাঁচিলটা অবধি দেখা যায় না। তখন একটা গাঢ় টেবিল ল্যাম্পের আলোয় লিখতে লিখতে কেমন যেন নেশার মত হয়। রাতের লেখাগুলো বেশ লম্বাও হয়। চলতে থাকে পাতার পর পাতা। এই লেখাগুলো পরে পড়তেও বেশ ভাল লাগে। </p>
<p>ডায়রিটা খুলে বসতে বসতে দেখল যে পড়ন্ত রোদের আলো এখন কেমন মিলিয়ে এসেছে। রোদের সেই ঝিলিকটা যেন নেই। লেখার ইচ্ছেটাও অমনি কোথাও পালিয়ে গেল। মনে পড়ে গেল এইরকম একটি বিকেলের কথা। শান্তিনিকেতনে কাটিয়ে আসা কয়েকটা বিকেল দারুন ভাল লেগেছিল। সে শুধু রবীন্দ্রনাথের স্মৃতির জন্য নয়। তার কাছে একেবারেই অন্য মাত্রা পেয়েছিল শান্তিনিকেতন – ঐ লালমাটি, ঐ নিরিবিলি আর অদ্ভুত ছায়া। শহুরে মফঃস্বলে গাছের ছায়া এমন নয়। এরকমই একটি গাছের ছায়ায় সে একটি ছেলে আর মেয়েকে দেখেছিল একে অন্যের দিকে তাকিয়ে থাকতে। তারা শুধু তাকিয়েই ছিল একে অন্যের দিকে। মেয়েটির মুখে ছিল অদ্ভূত এক তৃপ্তির আলো। সামান্য খুশির ছোঁয়ার চেয়ে সে যেন ঢের বেশি। </p>
<p>এই কথা মনে পড়তেই কেমন যেন হালকা শিরশিরে ভাব ছড়িয়ে পড়ল সারা শরীরে। সে ডায়রির কয়েকটা পাতা উলটে ফিরে গেল আগের একটি লেখায়। কবিতা। আজকাল লেখার ফাঁকে ফাঁকে কবিতা লিখতে বড় ইচ্ছে করছে। সেই দুজনকে নিয়ে কিছু একটা লিখতে ইচ্ছে করেছিল। অথচ প্রেম যেন কেমন নিষিদ্ধ। প্রেম নিয়ে কেউ কিছু বলতে চায় না। লেখার পর পরই মনের মধ্যে একটা অপরাধবোধ কাজ করে &#8211; বড়রা কেউ এই লেখাটা পড়ে নিলে কি ভাববে? লিখলেও বড় সাবধানে লেখে অনিন্দ্য। যা লিখতে ইচ্ছে করে, তার সবটুকু লিখতে পারে না। কলমের ডগায় এসেও শব্দগুলো তিরতির করে কাঁপে। তার লেখার পাঠক বলতে তো কেবল একজন – জয়। অবশ্য সব লেখার নয়, শুধু কবিতার। অন্যান্য লেখা তো ক্লাসের বাকী বন্ধু বান্ধবেরাও পড়েছে। </p>
<p>পুরনো লেখাটা পড়তে পড়তে অনিন্দ্য আবারও ভাবল – প্রেম কি?<br />
</p>
<hr />
[ক্রমশ...]</p>
<hr />
<a href="http://www.addtoany.com/add_to/google_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fabhra%2F3160&amp;linkname=%E0%A6%85%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%B2%20%26%238211%3B%20%E0%A7%A7" title="Google Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/google.png" width="16" height="16" alt="Google Bookmarks"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/orkut?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fabhra%2F3160&amp;linkname=%E0%A6%85%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%B2%20%26%238211%3B%20%E0%A7%A7" title="Orkut" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/orkut.png" width="16" height="16" alt="Orkut"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/twitter?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fabhra%2F3160&amp;linkname=%E0%A6%85%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%B2%20%26%238211%3B%20%E0%A7%A7" title="Twitter" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/twitter.png" width="16" height="16" alt="Twitter"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/facebook?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fabhra%2F3160&amp;linkname=%E0%A6%85%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%B2%20%26%238211%3B%20%E0%A7%A7" title="Facebook" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/facebook.png" width="16" height="16" alt="Facebook"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/yahoo_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fabhra%2F3160&amp;linkname=%E0%A6%85%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%B2%20%26%238211%3B%20%E0%A7%A7" title="Yahoo Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/yahoo.png" width="16" height="16" alt="Yahoo Bookmarks"/></a> <a class="a2a_dd addtoany_share_save" href="http://www.addtoany.com/share_save?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fabhra%2F3160&amp;linkname=%E0%A6%85%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%B2%20%26%238211%3B%20%E0%A7%A7"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/share_save_120_16.png" width="120" height="16" alt="Share/Bookmark"/></a>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://coffeehouseradda.com/blog/abhra/3160/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>5</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>অন্তিম</title>
		<link>http://coffeehouseradda.com/blog/abhra/2980</link>
		<comments>http://coffeehouseradda.com/blog/abhra/2980#comments</comments>
		<pubDate>Sun, 06 Jun 2010 04:57:15 +0000</pubDate>
		<dc:creator>অভ্র</dc:creator>
				<category><![CDATA[গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[অনুগল্প]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://coffeehouseradda.com/?p=2980</guid>
		<description><![CDATA[একটু হন্তদন্ত হয়ে ভিটি স্টেশনে ঢুকল আশুতোষ। তারপর ইলেকট্রনিক বোর্ডে টাইমটেবিলটা এক ঝলক দেখেই দৌড়ে গেল পরিচিত ছ’নম্বর প্লাটফর্মটার দিকে। দশটায় ট্রেন। বাজে দশ’টা দুই। ধরতে হবে আন্ধেরির দিকে হার্বার লাইন। আসতে আজ একটু দেরীই হয়ে গেছে। দৌড় দিল সে। ট্রেনটা দাঁড়িয়ে ছিল, কিন্তু তার চোখের সামনেই চলতে শুরু করেছে একটু একটু করে।
এই লাইনটায় ট্রেন [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>একটু হন্তদন্ত হয়ে ভিটি স্টেশনে ঢুকল আশুতোষ। তারপর ইলেকট্রনিক বোর্ডে টাইমটেবিলটা এক ঝলক দেখেই দৌড়ে গেল পরিচিত ছ’নম্বর প্লাটফর্মটার দিকে। দশটায় ট্রেন। বাজে দশ’টা দুই। ধরতে হবে আন্ধেরির দিকে হার্বার লাইন। আসতে আজ একটু দেরীই হয়ে গেছে। দৌড় দিল সে। ট্রেনটা দাঁড়িয়ে ছিল, কিন্তু তার চোখের সামনেই চলতে শুরু করেছে একটু একটু করে।</p>
<p>এই লাইনটায় ট্রেন খালি থাকে বটে, কিন্তু আধঘন্টা পরপর ট্রেন। পনের মিনিট যে ট্রেনটা আছে সেটা কিং সার্কেল যাবে না। ভাড়ালা থেকে ঘুরে যাবে অন্য দিকে।  যেতে হবে মাটুঙ্গার কাছে, কিন্তু সেন্ট্রাল লাইন ধরলে চলত না। নাঃ, পরের ট্রেনটার জন্য আর অপেক্ষা করা যাবে না। চলন্ত ট্রেনেই উঠতে হবে আজ।</p>
<p>কয়েকটা ছেলে দাঁড়িয়েছিল প্রথম বগিটাতে। মনে হয় ক্রিকেট খেলে ফিরছে কোথাও থেকে। পরনে সাদা পোষাক, হাতে কিট ব্যাগ। তারা চেঁচিয়ে বলল, ‘হো, জায়েগা ইয়ার, আজা’। একজন দরজার পাশের হাতল ধরে অন্য হাতটা বাড়িয়ে দিল। আশুতোষ খপ করে ধরে ফেলল সেই হাত, আর একটা পা রাখল ট্রেনের মধ্যে। ঠিক তখনই ঘটে গেল ঘটনাটা।</p>
<p>ছেলেটির হাত ভেজা ছিল ঘামে। আশু সেই হাতটা ধরলেও পিছলে গেল মুহুর্তের মধ্যে। যেহেতু অন্য পা’টা তখনও প্লাটফর্মের ওপর, সেহেতু সামাল দিতে না পেরে সে পড়ে গেল স্টেশনের ওপর। অথচ ডান পাটা আটকে রইল ট্রেনের দরজায়। ট্রেন স্পিড নিচ্ছে। ট্রেনের সাথে ছেঁচড়াতে ছেঁচড়াতে মনে হল এই শেষ। আর কয়েক সেকেন্ড পরেই যে কোন মুহুর্তে সে ট্রেন আর প্লাটফর্মের মাঝখানে থেঁতলে যাবে। তবু ট্রেন ফুল স্পীড নেওয়ার আগে একটা শেষ ডিকবাজি খাওয়ার চেষ্টা করল সে।  আর পা’টা খুলে বেরিয়ে চলে এল ট্রেন থেকে। ট্রেনটা একটু একটু করে মিলিয়ে গেল দূরে।</p>
<p>সবাই ছুটে এসে আশুর ধরে তুলতে চাইল। তবু সে উঠল না। অদ্ভূত দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল ট্রেনলাইনের দিকে। আর একটু হলেই মরতে বসেছিল সে। অথচ শেষ মুহুর্তে কারো কথা মনে এল না তার। বাবা-মা, রুমি, ঈশান, বন্ধু-বান্ধব কেউ না। অনেকে অনেক কিছু বলছিল। কেউ গালাগাল দিচ্ছিল। অথচ সে কিছু শুনতে পাচ্ছিল না।  ভাবতে ইচ্ছে করছিল কার জন্য নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে ফিরে এল সে।</p>
<a href="http://www.addtoany.com/add_to/google_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fabhra%2F2980&amp;linkname=%E0%A6%85%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%AE" title="Google Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/google.png" width="16" height="16" alt="Google Bookmarks"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/orkut?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fabhra%2F2980&amp;linkname=%E0%A6%85%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%AE" title="Orkut" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/orkut.png" width="16" height="16" alt="Orkut"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/twitter?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fabhra%2F2980&amp;linkname=%E0%A6%85%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%AE" title="Twitter" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/twitter.png" width="16" height="16" alt="Twitter"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/facebook?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fabhra%2F2980&amp;linkname=%E0%A6%85%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%AE" title="Facebook" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/facebook.png" width="16" height="16" alt="Facebook"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/yahoo_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fabhra%2F2980&amp;linkname=%E0%A6%85%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%AE" title="Yahoo Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/yahoo.png" width="16" height="16" alt="Yahoo Bookmarks"/></a> <a class="a2a_dd addtoany_share_save" href="http://www.addtoany.com/share_save?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fabhra%2F2980&amp;linkname=%E0%A6%85%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%AE"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/share_save_120_16.png" width="120" height="16" alt="Share/Bookmark"/></a>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://coffeehouseradda.com/blog/abhra/2980/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>12</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>নক্ষত্রের গোধূলি-৮</title>
		<link>http://coffeehouseradda.com/blog/neelnokkhotro/2967</link>
		<comments>http://coffeehouseradda.com/blog/neelnokkhotro/2967#comments</comments>
		<pubDate>Fri, 04 Jun 2010 05:10:27 +0000</pubDate>
		<dc:creator>নীল নক্ষত্র</dc:creator>
				<category><![CDATA[গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[ধারাবাহিক উপন্যাস]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://coffeehouseradda.com/?p=2967</guid>
		<description><![CDATA[কখন যে এই সব টাকা আর জিনিষ পত্রের সম্পর্কটা টিকে গেল আর রক্তের সম্পর্কটা ম্লান হতে হতে এক সময় মুছে গেছে তা হঠাত করেই একদিন লক্ষ্য করে দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। কিন্তু তরী তখন কুল ছেড়ে উত্তাল বাতাস আর স্রোতের টানে মাঝ গাঙ্গে চলে গেছে, আর সে তরী পাড়ে ফিরিয়ে আনার কোন উপায় নেই। থাক তবুও আমার [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>কখন যে এই সব টাকা আর জিনিষ পত্রের সম্পর্কটা টিকে গেল আর রক্তের সম্পর্কটা ম্লান হতে হতে এক সময় মুছে গেছে তা হঠাত করেই একদিন লক্ষ্য করে দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। কিন্তু তরী তখন কুল ছেড়ে উত্তাল বাতাস আর স্রোতের টানে মাঝ গাঙ্গে চলে গেছে, আর সে তরী পাড়ে ফিরিয়ে আনার কোন উপায় নেই। থাক তবুও আমার মা, আমার বাবা, আমারই ভাই বোন ওদের জন্যইতো সব ছেড়েছি, ওরা সুখী হলেই যথেষ্ট। সময়ের স্রোত আমাকে দূরে টেনে নিয়ে গেছে, যাক, আমিতো দূরে যেতে পারি না। আমার হৃদয়ের গভীর কুঠরীতো ওদের জন্যই পূর্ণ হয়ে আছে ওরা আমাকে আর কতদূরে ঠেলে দিবে?আবার ভাবে না তা কি করে হয়, আমি এ বাড়ির বড় ছেলে, আমার ইচ্ছা অনিচ্ছা, সিদ্ধান্ত, মতামত অনেক মূল্যবান। আবার ভাবে কিন্তু বাস্তব যে এর বিপরীত! তাহলে? নিজেকেই প্রশ্ন করে মনে মনে আহত হলেও মন কিছুতেই তা মেনে নিতে পারে না। ভাবে যাক ওরা যা খুশি করুক আমি আমার কাজ করে যাব তাতে যা হয় হবে।</p>
<p>মনিরাও এই মুছে যাওয়া সম্পর্কের জের টের পেয়েছে কিন্তু স্বামির কাছে প্রকাশ করার ভাষা খুজে পায়নি। এমনিই দুজনে দুজনের মত ভিন্ন ভাবে লক্ষ করে কিন্তু কেও কারো কাছে প্রকাশ করতে পারে না। মনিরা নিজেও বিশাল একান্নবর্তি পরিবার থেকে স্কুল শেষ না হতেই বালিকা বধু সেজে এ বাড়ির বড় বৌ হয়ে এসেছে। দৈনন্দিন কাজে যখন রাশেদ সাহেব বাড়িতে থাকে না তখন বাড়ির এক রূপ আবার যখন সে বাড়িতে থাকে তখন আর এক রূপ। এই দুই রূপের তারতম্য মনিরার বালিকা মাথায় কিছুতেই ঢুকতে চায় না, কোন অবস্থাতেই সে মেলাতে পারে না। ছোট বেলা থেকে দেখে আসছে সবাইকে কিন্তু সেই আগের দেখা আর বিয়ের পর এই দেখার মধ্যে এই তফাত কেন সে কথা মনিরা তার স্বামীকে জিজ্ঞ্যেস করতে পারে না, মেনে নিতে পারেনা, সহ্য করতেও পারে না। </p>
<p>বিয়ের পর প্রথম দিকে মনিরার বাবা একবার মনিকে নিতে এলে শাশুরি তাকে আড়ালে ডেকে বললো তোমার বাবা যখন আমাকে তোমাকে নিয়ে যাবার কথা বলবে তখন আমি বলবো নিয়ে যান, কিন্তু তুমি বলবে না বাবা আমি আর ক’দিন পরে যাই। এই কথার কোন মানে খুজে পায় না, কেন এমন কথার কি এমন প্রয়োজন?সেইতো সরা সরি নিষেধ করে দিতে পারে। এই লুকোচুরি কেন? তার স্বামীর প্রতি উদাসীনতা, অবহেলা, অবজ্ঞ্যা, অমর্য্যাদা কেন?তার ইচ্ছার কোন মূল্যায়ন নেই, তার মতামতের কোন গুরুত্ব নেই। যে সন্তান নিজের ভবিষ্যত বিষর্যন দিয়ে সংসারের হাল ধরতে সাতার না জেনে সাগর পাড়ি দিয়েছে তার প্রতি এই মনোভাব কেন? </p>
<p>এই এত গুলি চেপে রাখা কেন তার বুকের ভিতর বাসা বাধতে থাকে, ক্ষত বিক্ষত হয়ে অসহ্য যন্ত্রনার কামড়ে সে দগ্ধ হতে থাকে। কেমন যেন একটা শুন্যতা, একটা বিষাদ, একটা হাহাকার, কিছু অব্যক্ত বেদনায় দগ্ধ মনিরা নিজেকে স্বামীর কাছ থেকে দূরে সরিয়ে রাখে। কি জানি আবার কখনো যদি ভুল করে এর কিছু স্বামীর কাছে বলে ফেলে তা হলে যে সে মনে ব্যাথা পাবে, আঘাত পাবে এই মনে করে, এ কি মনি! আমার মা, বাবা, ভাই বোনদের সম্পর্কে এই ধারনা পোষন কর?তখন সে কি জবাব দিবে, সে নিজেইত এর কোন ব্যাক্ষা খূজে পায় না। </p>
<p>কাছের রাশেদ আর দূরের রাশেদের মদ্ধ্যে এই পার্থক্যের বোঝা সব গিয়ে পরে মনিরার মাথায়। যে স্বামীর জন্য জীবনের সঞ্চিত সমস্ত শ্রদ্ধা, ভালবাসা, সমস্ত মমতা উজার করে দিয়েছে তার প্রতি এই আচড়ন কি করে মেনে নিতে পারে, কিছু না বুঝে ক্রমান্বয়ে তার বুকে চাপা পাথর জমে জমে এখন শ্বাস নিতেও কষ্ট বোধ করে। তবুও তার প্রিয় স্বামীকে কিছু বুঝতে দিতে চায় না। সমস্ত যন্ত্রনা তার একার উপর দিয়েই যাক। যে তার সংসারের প্রতি অন্ধ ভালোবাসা নিয়ে বিভোর রয়েছে সে থাকুক তার আপন মনে, যা হবার আমারই হোক। আভাসে ইঙ্গিতেও যাকে বোঝানো যায় না, বুঝতে চায়না সে তার ধারনা নিয়ে সুখে থাক।</p>
<p>একদিন যেদিন প্রথম মনিরার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে তখন স্বামীকে বলল আমার এমন লাগছে কেন?<br />
কি হয়েছে মনি?<br />
আমি যে শ্বাস নিতে পারছিনা।<br />
বল কি?<br />
রাশেদ সাহেব তারাতারি মাকে ডেকে এনে দেখাল,<br />
আম্মা দেখেন মনি এমন করছে কেন?<br />
কি হয়েছে?<br />
ইশারায় দেখাল শ্বাস নিতে পারছি না।<br />
আম্মা ডাক্তার ডাকবো?<br />
না থাক এমনিই শুয়ে থাক ঠিক হয়ে যাবে।<br />
থাকবে কেন?তুমি থাক, আমি আসছি।<br />
বলেই শার্টটা কোন মতে গায়ে দিয়ে বের হয়ে গেল ডাক্তারের সন্ধানে। বাড়ির কাছে তাদের চেনা ডাক্তারের চেম্বারে গিয়ে ডাক্তারকে পেয়ে সাথে সাথে ধরে নিয়ে আসার মত করে নিয়ে এলো। </p>
<p>ডাক্তার রুগী দেখে জানালো অনেক দিন থেকেই এমন চলছে মনে হচ্ছে, প্রচন্ড মানসিক চাপ থেকে এমন হয়। রাশেদ সাহেব মেনে নিতে চাইলেন না।<br />
না, ওর কেন মানসিক চাপ থাকবে?<br />
তুমি পুরুষ মানুষ তুমি কি বুঝবে, মেয়েদের অনেক কারনে মানসিক চাপ হতে পারে।<br />
প্রেসক্রিপশন লিখে দিল আর বলে দিল মানসিক চাপ কমাতে হবে, না হলে এ রোগ কিন্তু জটিল আকার ধারন করতে পারে। শোন তোমার স্ত্রির এই অবস্থা তুমি কিছু জান না এটা কিন্তু মেনে নেয়া যায় না বাবা। ওষুধ গুলি এনে সময় মত খাওয়াবে আর কোন মানসিক চাপের কারন হয় এমন কিছু করবে না।<br />
এ কথা শুনে রাশেদ কিছু বলতে পারলোনা মাথা নিচু করে ভাবতে লাগলেন কি হলো?  </p>
<p>ডাক্তারের সাথে রাশেদ সাহেব বের হলেন ওষুধ আনার জন্য। ওষুধ এনে মনিকে খাইয়ে দিয়ে জিজ্ঞ্যেস করলেন<br />
মনি বলতো তোমার কি এমন চাপ, প্রায়ই লক্ষ করি তুমি যেন কোথায় হারিয়ে যাও। আমার পাশে শুয়ে থাক তবুও মনে হয় তুমি আমার নাগালের বাইরে। কি এমন ব্যাপার বলতো মনি।<br />
মনি নিরুত্তর।<br />
কি হলো কথা বলছ না যে!<br />
না কিছু না।<br />
কিছু না আবার কি?তাহলে এমন হয় কেন?বল আজ তোমাকে বলতেই হবে, ডাক্তার কি এমনি এমনিই বলেছে?কি হয়েছে তোমার বল।<br />
মনি নিরুত্তর।<br />
কথা বলছ না কেন?<br />
কি বলবো, বললাম না কিছু না।<br />
তাহলে আমার এমন মনে হয় কেন?<br />
কিছু হয়েছে তা বোঝার ক্ষমতা তোমার নেই, আর তুমি তা চেষ্টাও করনি কখনো। </p>
<p>হ্যা তোমার একথা আমি মেনে নিচ্ছি, আমিতো তোমাকেই সব ভার দিয়ে দিয়েছি কাজেই আমাকে আলাদা করে কিছু ভাবতে হবে তা কি আমাকে বলেছ কখনো? না কি আমি সে ভাবে ভেবেছি?আমি জানি আমার মনি আছে, ব্যাস আর কি?(চলবে)</p>
<a href="http://www.addtoany.com/add_to/google_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fneelnokkhotro%2F2967&amp;linkname=%E0%A6%A8%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%97%E0%A7%8B%E0%A6%A7%E0%A7%82%E0%A6%B2%E0%A6%BF-%E0%A7%AE" title="Google Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/google.png" width="16" height="16" alt="Google Bookmarks"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/orkut?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fneelnokkhotro%2F2967&amp;linkname=%E0%A6%A8%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%97%E0%A7%8B%E0%A6%A7%E0%A7%82%E0%A6%B2%E0%A6%BF-%E0%A7%AE" title="Orkut" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/orkut.png" width="16" height="16" alt="Orkut"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/twitter?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fneelnokkhotro%2F2967&amp;linkname=%E0%A6%A8%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%97%E0%A7%8B%E0%A6%A7%E0%A7%82%E0%A6%B2%E0%A6%BF-%E0%A7%AE" title="Twitter" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/twitter.png" width="16" height="16" alt="Twitter"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/facebook?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fneelnokkhotro%2F2967&amp;linkname=%E0%A6%A8%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%97%E0%A7%8B%E0%A6%A7%E0%A7%82%E0%A6%B2%E0%A6%BF-%E0%A7%AE" title="Facebook" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/facebook.png" width="16" height="16" alt="Facebook"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/yahoo_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fneelnokkhotro%2F2967&amp;linkname=%E0%A6%A8%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%97%E0%A7%8B%E0%A6%A7%E0%A7%82%E0%A6%B2%E0%A6%BF-%E0%A7%AE" title="Yahoo Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/yahoo.png" width="16" height="16" alt="Yahoo Bookmarks"/></a> <a class="a2a_dd addtoany_share_save" href="http://www.addtoany.com/share_save?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fneelnokkhotro%2F2967&amp;linkname=%E0%A6%A8%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%97%E0%A7%8B%E0%A6%A7%E0%A7%82%E0%A6%B2%E0%A6%BF-%E0%A7%AE"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/share_save_120_16.png" width="120" height="16" alt="Share/Bookmark"/></a>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://coffeehouseradda.com/blog/neelnokkhotro/2967/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>3</slash:comments>
		</item>
	</channel>
</rss>
