﻿<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>কফি হাউসের আড্ডা &#187; প্রবন্ধ</title>
	<atom:link href="http://coffeehouseradda.com/blog/category/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a7/feed" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>http://coffeehouseradda.com</link>
	<description>বাঙালীর ব্লগ-আড্ডা</description>
	<lastBuildDate>Fri, 10 Sep 2010 04:15:43 +0000</lastBuildDate>
	<generator>http://wordpress.org/?v=2.8.4</generator>
	<language>en</language>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>1</sy:updateFrequency>
			<item>
		<title>অসমে রাষ্ট্রীয় নাগরিক পঞ্জি: সন্দেহ আর শংকা</title>
		<link>http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/3507</link>
		<comments>http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/3507#comments</comments>
		<pubDate>Sun, 29 Aug 2010 18:40:24 +0000</pubDate>
		<dc:creator>সুশান্ত</dc:creator>
				<category><![CDATA[অনুবাদ]]></category>
		<category><![CDATA[প্রবন্ধ]]></category>
		<category><![CDATA[রাজনীতি]]></category>
		<category><![CDATA[সমসাময়িক]]></category>
		<category><![CDATA[সমাজ]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://coffeehouseradda.com/?p=3507</guid>
		<description><![CDATA[<a href=http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/3507><img src=http://coffeehouseradda.com/files/2010/08/324367_f520.jpg class=imgtfe hspace=5 align=left width=100  border=0></a>                                        মূল অসমিয়া আব্দুল সালাম * 
          [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>      <a href="http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/3507/324367_f520" rel="attachment wp-att-3508"><img src="http://coffeehouseradda.com/files/2010/08/324367_f520.jpg" alt="324367_f520" width="520" height="759" class="alignleft size-full wp-image-3508" /></a>                                  মূল অসমিয়া আব্দুল সালাম * </p>
<p>                   ছ’বছরের ভূমিকম্পের শেষ ধাক্কাটিও ১৯৮৫ র ১৫ আগষ্টে সম্পাদিত অসম চুক্তির সঙ্গে সঙ্গে থেমে গেছিল। অসমের মানুষ ধীরে ধীরে অনুভব করলেন বিদেশি সমস্যা আর বিদেশি খেদা আন্দোলনের  প্রকৃত চরিত্র। সাম্প্রদায়িকতা আর উগ্র জাতীয়তাবাদের থেকে জন্ম নেয়া ফ্যাসিজমের ধার কমতে শুরু করল, কিন্তু তাতে খুশি  নয় সংঘ পরিবার, রাজনৈতিক দল বিজেপি আর তাদের সমভাবাপন্ন দলগুলো ।</p>
<p>                 অসমে পূর্ববঙ্গীয় মূলের যেসব মুসলমানদের বৃটিশ তার ঔপনিবেশিক  স্বার্থেই আমদানি করে এনে বন-জংগল, নদী পাড়ের চরাঞ্চল আর অনুর্বর জমিতে বসিয়েছিল, সেই সব মানুষকেই আবারো শত্রু এবং বৃহৎ বাংলাদেশ বা ইসলামিস্তান সৃষ্টির ষড়যন্ত্রকারী বলে চিহ্নিত করে অহরহ তাদের বিরুদ্ধে চক্রান্ত আরম্ভ হয়েছিল, সেই ষাটের দশকের থেকে। আগেকার অসম আন্দোলনের নেতৃত্ব প্রকৃত সত্য অনুধাবন করে এখন মৌনতা অবলম্বন করে বসে আছে, কিন্তু সাম্প্রদায়িক সাম্প্রদায়িক মনের অনেকে আইনের সাহায্যে হবে না জেনে মুসলমানদের ‘হাতে বা ভাতে’ মারবার জন্যে সভা-সমিতিতে প্রকাশ্যে আহ্বান জানাতে  শুরু করল।<br />
দরিদ্র নিরালম্ব মুসলমানেরা ঠেলা রিক্সা চালিয়ে, হোটেলের থালা বাসন ধুয়ে, নালা নর্দমা পরিষ্কার করে, বছরের হিসেবে চুক্তিতে হাল বেয়ে বা দিন মজুরি করে কোনোক্রমে পেটেভাতে টিকে ছিল। এদেরই কাউকে কাউকে উজান অসম বা অরুণাচলের মতো জায়গা থেকে তাড়িয়ে দিয়ে ভাতে মারবার ব্যাবস্থা হয়েছিল।  এই মুসলমানদের কেউ না ছিল  বিদেশি  না বাংলাদেশি। তারা ছিল ব্রহ্মপুত্রের ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্থ এবং নৃগোষ্ঠিগত সাফাই অভিযানের (এথনিক ক্লিনজিঙে)  বলি ভারতীয় নাগরিক। এমন অমানবিক আর বেআইনি কাজকর্ম দেখেও এমনিতে যারা মানবাধিকার, আইনের শাসন, সংবিধানের কথা বলে কথার খৈ ফোটান তাদের মুখ রইল বন্ধ হয়ে।বৃহৎ অসমিয়া জাতির স্বার্থে কলম ধরে যারা বৌদ্ধিক নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন তাদেরকে কলম রইল বন্ধ হয়ে। যাদেরকে হৃদয়বান এবং অসমের চিন্তানায়ক বলে শ্রদ্ধা করা হয় তারাও রইলেন মৌন। ‘মৌনেনঃ সম্মতি লক্ষনম’। বেঁচে থাকবার দুর্বার  প্রবৃত্তিতে সেই সব শ্রমজীবী মানুষগুলো বৌ বাচ্চাকে লালন পালন করতে ভারতের নানা প্রদেশে দৌড়ে গেল। বিজেপি, শিবসেনা আর অন্যান্য উগ্রহিন্দুত্ববাদি সংগঠনগুলো সেখান থেকেও এই ভারতীয় মুসলমানদের তাড়িয়ে দিল। মহাপুরুষ শংকর দেবের অসাম্প্রদায়িক দর্শনের প্রচার করতে ব্যস্ত অসমের এক সংবাদপত্র এই দুর্ভাগা মুসলমানদের ‘বিষ্ঠা’ বলে ঘৃণাভরা লেখা ছাপালো। এমন কুকর্ম চলছেই , বন্ধ হয় নি।</p>
<p>        <a href="http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/3507/2938640884_66f189ffe5_o" rel="attachment wp-att-3509"><img src="http://coffeehouseradda.com/files/2010/08/2938640884_66f189ffe5_o.jpg" alt="2938640884_66f189ffe5_o" width="640" height="480" class="alignleft size-full wp-image-3509" /></a>         পূর্ববঙ্গীয় মূলের মুসলমানের ধর্মনিরপেক্ষতার মুখোস পরা কিছু সংগঠন আর হিন্দুত্ববাদি নেতা সংগঠনের আগ্রাসী কাজ কর্মে শংকিত হয়ে পড়ল। ধর্মনিরপেক্ষতা আর অসম –অসমিয়াদের স্বার্থে নিত্য মুখর সারা অসম ছাত্র সংস্থাকেও এমন অমানবিক কাজের বিরোধীতা করতে কখনো দেখাতো যায়ই নি, উল্টে দেখা গেল সমর্থন দিতে ।  এই ‘মিঞারা’ হয়ে গেলেন ‘বাংলাদেশি-ইসলামিস্তানের সৈনিক’ , ট্রেডমার্কধারী সফট টার্গেট। দুর্ভাগা এই মানুষগুলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার হিটলারের অধীনের দেশগুলোর ইহুদি এবং বিশ শতকের ষাটের দশক অব্দি আমেরিকার নিগ্রোদের মতো সমস্ত ক্ষেত্রে বৈষম্য, বঞ্চনা আর লাঞ্ছিত মানুষের মতো জীবন কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন। এদের মধ্যের কিছু মানুষ&#8211; যারা মন্ত্রী, এম এল এ, আধিকারিক ইত্যাদি হতে পেরেছেন তাদের অবস্থা জার্মান নাজি কনসেন্ট্রেশন কেম্পের ‘কাপো’ দের থেকে ভালো কিছু নয়। </p>
<p>                         এতো কিছুর পরেও এই মানুষগুলো ঘোর অন্ধকারের পরে আলোর জন্যে  বড় আগ্রহে পথ চেয়ে রইল। অসমে যে সমস্ত পূর্ববঙ্গ মূলের মুসলমান রয়েছেন তারা  সেই বৃটিশ যাদের পাঁচ টাকার ‘রেলওয়ে ফেমিলি টিকিটে’ পূববাংলা থেকে অসমে এনে বি-ফর্মে ( B-form) জমি আবন্টন দিয়ে বসিয়েছিল তাদের তৃতীয় পুরুষ বা বংশধর। এই মানুষগুলোকেই ভোতার লিস্টে নামভর্তীর জন্যে বারে বারে সরকারী আধিকারিকদের সামনে  লাইন দিতে হলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, ন্যায়ালয়ের বিচারকের পরিবারের লোক, উকিল কিম্বা সরকারী কর্মচারীরাও রেহাই পেলেন না। ঠিক ইহুদি আর নিগ্রোদের মতৈ ডানদিকে পুরুষেরা আর মহিলারা বাঁদিকে।</p>
<p>                     উপযুক্ত নথিপত্র পরীক্ষার শেষে ভোটার লিস্ট তৈরি হলো, ছাত্র সংস্থা নারাজ। অভিযোগ উঠল লাখো লাখো বাংলাদেশির নাম ঢুকেছে। কোনো প্রাথমিক অনুসন্ধান না করেই প্রায় তিন লক্ষ পঞ্চাশ হাজার নাগরিকের নামের পাশে সন্দেহজনক ভোটারের ( D-voter) ছাপ মেরে দেয়া হলো। মা-বাবা নয়, সন্তান হলো ডি-ভোটার। দাদা ভারতীয় নাগরিক , ছোট ভাই বোন হলো ডি-ভোটার।  সমকালীন রাজনৈতিক পরিবেশে বৈষম্যের নজির বিহীন ব্যবস্থাতে কিছু সংখ্যালঘু মানুষকে মানসিকভাবে পঙ্গু করে ফেলা হলো। পৃথিবীর আর কোনো দেশে কি কেউ শুনেছে এমন অদ্ভূৎ ব্যবস্থার কথা? </p>
<p>                        অসমে যে সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় নাগরিক পঞ্জি প্রস্তুতির ( উন্নীতকরণ) প্রকল্পকে এই পরিপ্রেক্ষিতে বিচার করতে হবে। অসমে এন আর সি প্রস্তুত করা হচ্ছে না , হচ্ছে নবীকরণ । ভিত্তি হবে ১৯৫১ সনের  নাগরিক পঞ্জি । অসম চুক্তির কোন দফাতেই বা ১৯৫১ সনের নাগরিক পঞ্জিকে ভিত্তি ধরার দলিল করা হয়েছে? এখন সেই অসম্পূর্ণ নাগরিক পঞ্জিকে ভিত্তির দলিল করা হলো কেন, সেইটেই লাখ টাকার প্রশ্ন।  কে দেবে তার উত্তর? কারই বা গরজ পড়েছে ! সমস্ত ষড়যন্ত্রের আঁচ পেয়েও ১৯৫১কে ভিত্তি বর্ষ ধরাতে কাউকে দেখা গেল না প্রতিবাদ করতে । সবাই যেন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন। অসম চুক্তিতে যদিও ১৯৭১এর ২৮ মার্চের মাঝরাত অব্দি সময়কে নাগরিকত্বের ভিত্তি বছর ধরা হয়েছে, কার্যতঃ এখন ১৯৫১ সনকেই ভিত্তি বছর ধরা হলো। কারণ সরকার নিবন্ধনের জন্যে যে সব দরখাস্তের ফর্ম বিতরণ করেছে তার ১২ নং ঘরটিতে ১৯৫১ সনের নাগরিক পঞ্জির ক্রমিক নম্বর আর গৃহ সংখ্যা লেখাটা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর পরেই শুধু ১৯৭১, ১৯৬১ এবং তার আগের ভোটার তালিকার তথ্য দিয়ে ফর্মখানা ভরাতে হবে। এভাবেই বরপেটা আর ছয়গাঁও রাজস্ব চক্রে পরীক্ষামূলক প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। যঢ়যন্ত্র দিয়ে কত মানুষকে রাষ্ট্রহীন করা যায় তার পরীক্ষামূলক প্রকল্প।</p>
<p>                  উপরে উল্লেখিত দুটো রাজস্ব চক্রের মুসলমানেরা ১৯৫১ সনের নাগরিক পঞ্জিকে মূল প্রামাণ্য দলিল হিসেবে ঘোষণা করাতে কোনো আপত্তি করেন নি। এ নিয়ে তারা চিন্তিত নন। স্বাধীনতার আগে থেকে তাদের পূর্বপুরুষেরা এই এলাকাতে বাস করে আসছেন । তার নথিপত্র তাদের রয়েওছে।  তারা আশা করছেন রাষ্ট্রীয় নাগরিকপঞ্জিতে নাম নিবন্ধন করে ফটো পরিচয় পত্র পেয়ে গেলে এতো দিন ধরে তারা যে দুর্ভোগ ভোগে আসছেন তার অন্ত হবে। ফুরোবে যত সন্দেহ সংশয় ইত্যাদি। স্বাধীন নাগরিকের মতো থাকতে পারবেন ভারতের সর্বত্র।</p>
<p>                      কিন্তু,নাগরিকপঞ্জির ফর্ম , ১৯৫১সনের রাষ্ট্রীয় নাগরিকপঞ্জি আর ১৯৭১, ১৯৬১ সনের ভোটার তালিকা দেখে তাদের চোখ কপালে উঠবার জোগাড়। এদের মনে এক সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে, ভাবতে বাধ্য হয়েছে কোথাও একটা ষঢ়যন্ত্র হচ্ছে এই মানুষগুলোকে রাষ্ট্রহীন করবার। সাধারণ মুসলমানেরা এটা ভাবতে বাধ্য হলেন যে যে কাজটি ট্রাইবুনেল আর ন্যায়ালয় দিয়ে করা যায় নি, সেই কাজটিই এবারে সহজেই নাগরিকপঞ্জি দিয়ে করতে চাইছে স্বার্থান্বেষী মহল। </p>
<p>                 অসমের মুখ্য সচিব ২০০৫ সনের মে মাসে অনুষ্ঠিত ত্রিপাক্ষিক সভার পর নাগরিকপঞ্জি উন্নয়নের জন্যে যে কার্যপ্রণালী হাতে নিয়েছিলেন তাতে স্পষ্টভাবেই স্বীকার করেছিলেন যে অসমে বহু জেলাতেই ১৯৫১ সনের নাগরিক পঞ্জি এবং ১৯৬৬-৭১ ভোটার তালিকা আংশিকভাবেই আছে। জনগণ তাদের অসুবিধের কথা বিবেচনা করে নাগরিকত্বের দাবি সাব্যস্ত করতে যাতে অসুবিধে নাহয় তার জন্যে কেন্দ্রীয় সরকারকে বিকল্প গ্রহণযোগ্য নথির এক তালিকা তৈরি করবার দায়িত্ব দিয়েছিল। বিকল্প নথির তালিকা তৈরি করবার জন্যে কেন্দ্রীয় সরকারের পিল্লাই মশাই সময় করে উঠতে পারেন নি, এরই মধ্যে দরখাস্ত পেশ করবার শেষ তারিখ  ১০ আগষ্ট দোরগড়াতে এসে পৌঁছে যায়।</p>
<p>               পুনর্মূদ্রিত এন আর সি আর ভোটার তালিকাগুলোতে এমন কিছু ভুল থেকে গেছে যে গুলোকে সবাই  উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আর ষঢ়যন্ত্রমূলক বলে  ভাবতে বাধ্য হচ্ছেন। সাধারণ মানুষ নানা সময়ে নানা প্রয়োজনে বরপেটা পুলিশ অধীক্ষক এবং জেলা নির্বাচন আধিকারিকের থেকে ১৯৫১ সনের নাগরিকপঞ্জি আর ১৯৬৬-৭১ সনের ভোটার তালিকার কপি সংগ্রহ করেছিল। বর্তমানের জেলা নিবন্ধক ( জেলা শাসক) সেগুলোকে যখন আবার ছেপে প্রকাশ করেছেন তখন দেখা গেল তাতে সেই সব মানুষের নাম নেই। তার উপর আগেই সংগ্রহ করা এন আর সি-র  প্রতিলিপিতে  যার ক্রমিক নম্বর ছিল ৩৭৮, এখন প্রকাশ করা প্রতিলিপিতে তার ক্রমিক নম্বর হচ্ছে ১৭৮। মাঝের দুশো নম্বর গেল কৈ ? কতকগুলোর শুধু ক্রমিক নম্বর আছে , নাম নেই। নাম লেখার জায়গাতে লেখা আছে ‘ উইতে খেয়েছে’ ( ঊঁয়ে খালে)। বাবার নামের জায়গাতে ‘অজ্ঞাত’, ‘অমুক’, ‘অমুকের বাবা’ ইত্যাদি। কোনো ক্রমিক নম্বরের জায়গাতে আছে ‘বাচ্চা’ ( কেঁচুয়া)। পাইলট প্রকল্পের জায়গাতে যেসব মানুষের ১৯৫১র আগেই জন্ম হয়েছে  তাদের জন্মস্থানের জায়গাতে লেখা আছে ময়মন সিংহ, ঢাকা, পূর্ব বা পশ্চিম পাকিস্তান ইত্যাদি। অথচ তাদের জন্ম ভারতে প্রমাণ করবার জন্যে সমস্ত উপযুক্ত নথিপত্র তাদের হাতে  রয়েছে। পুরুষের স্বামীর নাম বলে পুরুষের নাম আর মহিলার স্বামীর নাম বলে মহিলার নাম লেখা হয়েছে। বাবার বয়স ১০, ছেলের বয়স ৫০, মায়ের বয়স নিজের পেটের ছেলের চে’ কম লেখা হয়েছে। একই ক্রমিক নম্বর চার পাঁচজন কিম্বা চার পাঁচ পরিবারের নামের আগে লেখা রয়েছে। বেশ কিছু মুসলমান গ্রামকে হিন্দু গ্রাম বলে দেখানো হয়েছে। মুসলমান পরিবার হয়েছেন হিন্দু পরিবার। বরপেটা রাজস্ব চক্রের ২৪টি গ্রামের এন আর সি, ১১ টি গ্রামের ১৯৬৬র এবং ১২টি গ্রামের ১৯৭১ সনের ভোটার তালিকা পাওয়াই যাচ্ছে না। এমন অবস্থাতে ফর্মের ১২ নং ঘরটি তারা পূরণ করবেন কী করে? শুধুমাত্র ঘিলাজারি আর হাউলি মৌজার ১,৭০০টি পরিবার মূদ্রিত এন আর সি এবং ভোটার তালিকার থেকে বাদ পড়েছে । তিনশ বছরের প্রাচীন অসমিয়া মুসলমান মানুষের গ্রাম ( খিলঞ্জিয়া মুসলমান)  ভেল্লা । সেই ভেল্লারও এন আর সি পাওয়া যায় না বলে সংবাদ পত্রে বেরিয়েছে। ডিসি বাহাদুর মৌন, গৃহ সচিব, মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্যপাল সব্বাই মৌন, সদুত্তর নেই। </p>
<p>                    ডাঃ ভূমিধর বর্মন ( অসম চুক্তি রূপায়ণ মন্ত্রী) বিধান সভাতে ঘোষণা করলেন –১৯৫১ সনের এন আর সি, ১৯৬৬-৭১ সনের ভোটার তালিকাতে নাম না থাকলেও ‘পুরোনো মাটির দলিল’ দেখিয়েও এন আর সি-তে নাম নথিভূক্ত করতে পারা যাবে। বিজ্ঞপ্তি জারি করাবার দাবি জানাবার বেলা নির্বিকার হয়ে রইলেন। অসম মন্ত্রীসভার মন্ত্রী, জেলা শাসক, সারা অসম ছাত্র সংস্থা ইত্যাদির মৌখিক প্রতিশ্রুতিকে কেন্দ্রীয় সরকারের জারি করা Citizenship (Registration of Citizens and Issue of National Identity Card ) Amendments Rules,2009 বিধি কিম্বা আইন আদালত কতটা গুরুত্ব দেবে তা জানবার জন্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রির দরকার পড়ে না। </p>
<p>                  ঘর পোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলেই ভয় পায়। মুসলমান মানুষ, কিছু সংগঠন, রাজনৈতিক দল এই সব অসুবিধেগুলো দূর করবার দাবি জানিয়ে নানা স্তরে আবেদন নিবেদন করতে শুরু করতেই এদেরকে শত্রু বলে ঠাউরে নিয়ে বিকারগ্রস্ত কিছু মানুষ আপত্তিকারীদের অসমের শত্রু, বাংলাদেশি ( মিঞা)র দালাল বলে চেঁচামেচি শুরু করে দিল। আপত্তির যে কিছু নায্যতা থাকতে পারে তার আভাস নেবার জন্যেও কোনো দরকার বোধ করে নি তারা যারা নিজেদের অসমের সয়ম্ভূ অভিভাবক বলে দাবি করে।</p>
<p>                     ১৯৫১ সনে অসমে লোকগণনা আয়োগের মুখ্য কর্তাব্যক্তি  ছিলেন আর এস ভাগাইওয়ালা, আই এ এস। তাঁর প্রতিবেদনে জানা গেল নেহরু-লিয়াকৎ চুক্তির ফলে যে ৬৮,৪৫১ জন মানুষ অসমে প্রত্যাবর্তন করেছেন তাঁদের নাম ইতিমধ্যে সমাপ্ত আর সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় নাগরিক পঞ্জিতে ওঠে নি। তারপর পাহাড়ি জেলাগুলো, ব্রহ্মপুত্রের চরগুলো, গোয়ালপাড়া আর কামরূপের একাংশ মুসলমানদের নাম এন আর সি-তে ওঠে নি। সেই মানুষগুলোর বেলা কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে  তার কোনো উত্তর নেই। এই সব মানুষেরা নিবন্ধনের জন্যে  ১২ নং ঘরে কী লিখবে? সবাই নিরুত্তর!<br />
মাঝখানে একবার দেওরিকুছিম দত্তাকুছিম ধাকালিয়াপাড়াম যুগীরপাম, দাবালিয়াপাড়া ইত্যাদি কিছু গ্রামের এন আর সি আর ভোটার তালিকা পাওয়া না গেলে  এলাকার বিভিন্ন সংগঠন, রাজনৈতিক দলগুলো যখন প্রতিবাদী কর্মসূচী হাতে নিয়েছিল , তখন সঙ্গে সঙ্গেই বরপেটার জেলা নিবন্ধন আধিকারিক এই পাঁচাখানা গাঁয়ের আগের বিশুদ্ধ আর সম্পূর্ণ এন আর সি বের করে দিলেন। চিঠি নং BA-NRC/2/2010/50Dt.12.07.2010  । অথচ এটিই  আগে পাওয়া যায় নি বলে জানানো হয়েছিল। সেই সঙ্গে তিনি আগের কিছু নথিপত্র নষ্ট করে দেবারও নির্দেশ দিলেন। আগে কেন এগুলো পাওয়া যায় নি তার কোনো কারণ জানানো হলো না। সাধারণ মানুষ বাক হয়ে ঘটনাক্রম লক্ষ্য করলেন, তাদের  ষঢ়যন্তের সন্দেহ আরো দৃঢ় হলো।<br />
নাগরিকত্ব দাবির জন্যে প্রতিশ্রুতি মতো বিকল্প নথির তালিকা নেই, এন আর সি নেই, ভোটার তালিকা নেই। তা হলে ১০ আগষ্টের ভেতরে আবেদনপত্র জমা দেন কী করে এই লোকগুলো?  জেলা নিবন্ধক সভা সমিতেতে বলে বেড়ান, “বিকল্প নথির তালিকার জন্যে যোগাযোগ করা হয়েছে। ভাবনার কিছু নেই। আপনারা দর্খাস্ত জমা দিন।”  লিখিত প্রতিশ্রুতি চাইলে তিনি চুপ মেরে যান। মানুষ মুখের কথাতে বিশ্বাস করেন না। মৌখিক কথাতে দর্খাস্ত দেয়ার মানেই হলো মরণ ফাঁদে পা দেয়া—মানুষের এই বিশ্বাসই আরো দৃঢ় হলো।</p>
<p>                       রাষ্ট্রীয় নাগরিকপঞ্জি উন্নীত করবার কাজে যে সব ভুল ত্রুটি দেখা দিয়েছে সেগুলো সংশোধন করবার জন্যে সে সংগঠন, দল বা ব্যক্তি দাবি জানালেন তাদের দমন করতে আখ্যা দেয়া হলো , ‘ বাংলাদেশির দালাল’, ‘অসম বিরোধী চক্র’ কিম্বা ‘অসমের শত্রু’। প্রতিবাদ করা চলবে না, যেভাবে বলা হয়েছে সেভাবেই দর্খাস্ত জমা দিতে হবে । আধিকারিক, মন্ত্রী আর তাদের চেলাচামুণ্ডারা বলে বেড়াচ্ছে যে , ভাবনা কিসের? পুরোনো মাটির দলিল থাকলেই হলো ! কেল্লা ফতে! লিখিত নোটিস দিতে বলতেই সব্বাই চুপ। সেরকম আধিকারিদের সংখ্যালঘু মানুষের বিশ্বাস করা মানেই হলো মৃত্যুর সমনে সহি করা। এমনটি ভাবা যে ভুল ছিল না সেটি পরে প্রমাণিত হলো।</p>
<p>              ২১ জুলাই তারিখে বরপেটাতে বেরুনো আমসুর প্রতিবাদি মিছিল এন আর সি উন্নীতকরণ বন্ধের  দাবিতে না সেইসব ভুলত্রুটিগুলো সংশোধনের দাবিতে ছিল সে কথা জানবার কারো কোনো গরজ দেখা গেল না।  চারজন প্রতিবাদীকে হত্যা এবং শতাধিক আহতের প্রতি নূন্যতম সমবেদনার গরজ নেই, তার বিপরীতে  প্রকৃত ঘটনাকে বিকৃত করে বিবৃতি দেয়া হলো আর তাতে  আক্রমণাত্মক ভাষার প্রোয়োগ করা হলো। ‘ ওরা বাংলাদেশি, কেন প্রতিবাদ করবে? এতো সাহস কোথায় পেল? কে উৎসাহিত করলে এদের?’ ইংগিতের আঙুল একবার দিসপুর আরেকবার হাতিগাঁওয়ের দিকে । হাতিগাঁওয়ের দিকে আঙুল দেখাবার অর্থ দুটো—এক হাতিগাঁও মানে জমিয়ত আর এ ইউ ডি এফ আরেকটি হাতিগাঁওয়ের ওপারে বাংলাদেশ। অতীতেত অসম আন্দোলনের সময়কার মানসিকতার পুনরাবৃত্তি ঘটল।</p>
<p>                   চারটা নিরীহ জীবন কেড়ে নেবার পর সরকার আপত্তির নায্যতা বুঝতে পেরে ভুল ত্রুটিগুলো সংশোধনের আশ্বাস দিয়েছে, নাগরিকপঞ্জি উন্নয়নের কাজ সাময়িক ভাবে স্তগিত রেখেছে। কিছু লোকের তাতে বিলম্ব সহ্য হচ্ছে না। স্তগিতকরণ চলবে না! ভুল নেই! ভুলত্রুটির কথা যারা বলছে তারা বাংলাদেশের দালাল! বাংলাদেশির কাছে আত্মসমর্পণ চলবে না! এরকম দাবিতে আবারো ৮৩র সেই আহ্বান জানাতে চাইছে।<br />
অসমের মানুষ এখন আবেগ সর্বস্ব না হয়ে যুক্তি তথ্য, তথ্য এবং অন্য পক্ষের আপত্তির কারণ জানবার জন্যেও আগ্রহী। এ একটি প্রশংসনীয় দিক বলে বিবেচিত হচ্ছে। ন্যায়-নিষ্ঠার ভিত্তিতে কোনো রাখঢাক না করে নাগরিকত্বের প্রমাণ দেবার সুবিধে দেয়া হোক। ন্যায়-নিষ্ঠার নীতিও এমনটি দাবি করে। সমাধান হোক –যাতে কোনো বিদেশির নাম অন্তর্ভূক্ত না হয় বা কোনো ভারতীয়ের নাম যেকোনো অজুহাতে কাটা না পড়ে সেটি দেখা উচিত। অসম এবং বৃহত্তর অসমিয়া জাতির স্বার্থে কথাগুলো সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করুক সবাই। আবেগের বদলে যুক্তিতে এগিয়ে যাক। যেভাবে তিরাশির আগুন মাড়িয়ে পার করে চলে এলাম , সেভাবেই সন্দেহ-শংকার এই দুর্ভাবনার থেকেও আমরা বেরিয়ে আসতে পারব। আঁধারের পর আলো আসবেই আসবে।</p>
<p>* লেখক অসমের নগাঁও জেলার  ধিং কলেজের অবসর প্রাপ্ত অধ্যাপক।  ফোনঃ ৯৮৩৫৩-৬০৬৯৬</p>
<a href="http://www.addtoany.com/add_to/google_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F3507&amp;linkname=%E0%A6%85%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%87%20%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A7%9F%20%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%97%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%95%20%E0%A6%AA%E0%A6%9E%E0%A7%8D%E0%A6%9C%E0%A6%BF%3A%20%E0%A6%B8%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B9%20%E0%A6%86%E0%A6%B0%20%E0%A6%B6%E0%A6%82%E0%A6%95%E0%A6%BE" title="Google Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/google.png" width="16" height="16" alt="Google Bookmarks"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/orkut?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F3507&amp;linkname=%E0%A6%85%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%87%20%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A7%9F%20%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%97%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%95%20%E0%A6%AA%E0%A6%9E%E0%A7%8D%E0%A6%9C%E0%A6%BF%3A%20%E0%A6%B8%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B9%20%E0%A6%86%E0%A6%B0%20%E0%A6%B6%E0%A6%82%E0%A6%95%E0%A6%BE" title="Orkut" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/orkut.png" width="16" height="16" alt="Orkut"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/twitter?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F3507&amp;linkname=%E0%A6%85%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%87%20%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A7%9F%20%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%97%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%95%20%E0%A6%AA%E0%A6%9E%E0%A7%8D%E0%A6%9C%E0%A6%BF%3A%20%E0%A6%B8%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B9%20%E0%A6%86%E0%A6%B0%20%E0%A6%B6%E0%A6%82%E0%A6%95%E0%A6%BE" title="Twitter" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/twitter.png" width="16" height="16" alt="Twitter"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/facebook?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F3507&amp;linkname=%E0%A6%85%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%87%20%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A7%9F%20%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%97%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%95%20%E0%A6%AA%E0%A6%9E%E0%A7%8D%E0%A6%9C%E0%A6%BF%3A%20%E0%A6%B8%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B9%20%E0%A6%86%E0%A6%B0%20%E0%A6%B6%E0%A6%82%E0%A6%95%E0%A6%BE" title="Facebook" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/facebook.png" width="16" height="16" alt="Facebook"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/yahoo_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F3507&amp;linkname=%E0%A6%85%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%87%20%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A7%9F%20%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%97%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%95%20%E0%A6%AA%E0%A6%9E%E0%A7%8D%E0%A6%9C%E0%A6%BF%3A%20%E0%A6%B8%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B9%20%E0%A6%86%E0%A6%B0%20%E0%A6%B6%E0%A6%82%E0%A6%95%E0%A6%BE" title="Yahoo Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/yahoo.png" width="16" height="16" alt="Yahoo Bookmarks"/></a> <a class="a2a_dd addtoany_share_save" href="http://www.addtoany.com/share_save?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F3507&amp;linkname=%E0%A6%85%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%87%20%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A7%9F%20%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%97%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%95%20%E0%A6%AA%E0%A6%9E%E0%A7%8D%E0%A6%9C%E0%A6%BF%3A%20%E0%A6%B8%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B9%20%E0%A6%86%E0%A6%B0%20%E0%A6%B6%E0%A6%82%E0%A6%95%E0%A6%BE"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/share_save_120_16.png" width="120" height="16" alt="Share/Bookmark"/></a>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/3507/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>4</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>বারাক ওবামার ধর্ম আর রক্ত-তেলচোরা সাদা সাহেবদের কেয়ামতের দিন</title>
		<link>http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/3471</link>
		<comments>http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/3471#comments</comments>
		<pubDate>Sun, 22 Aug 2010 15:50:01 +0000</pubDate>
		<dc:creator>সুশান্ত</dc:creator>
				<category><![CDATA[প্রবন্ধ]]></category>
		<category><![CDATA[রাজনীতি]]></category>
		<category><![CDATA[সমসাময়িক]]></category>
		<category><![CDATA[সমাজ]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://coffeehouseradda.com/?p=3471</guid>
		<description><![CDATA[<a href=http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/3471><img src=http://coffeehouseradda.com/files/2010/08/hero_immigrationspeech_PS-0109_20100701151916_640_480.JPG class=imgtfe hspace=5 align=left width=100  border=0></a>
               আমেরিকার আকাশ বাতাস এখন একটি মসজিদ নির্মাণের প্রশ্নে সরগরম। ঠিক মসজিদ নয়, ১১সেপ্টেম্বর, ২০০১এ ধ্বংশ প্রাপ্ত বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের নিচের তলার সামান্য কাছেই একটি ইসলামি কেন্দ্রের  নির্মাণের প্রস্তাবে রাষ্ট্রপতি ওবামা সমর্থণ জানিয়েছিলেন। যে কেন্দ্রে একটি মসজিদও থাকবে।  তাঁর [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><a href="http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/3471/hero_immigrationspeech_ps-0109_20100701151916_640_480" rel="attachment wp-att-3472"><img src="http://coffeehouseradda.com/files/2010/08/hero_immigrationspeech_PS-0109_20100701151916_640_480.JPG" alt="hero_immigrationspeech_PS-0109_20100701151916_640_480" width="615" height="346" class="alignleft size-full wp-image-3472" /></a><br />
               আমেরিকার আকাশ বাতাস এখন একটি মসজিদ নির্মাণের প্রশ্নে সরগরম। ঠিক মসজিদ নয়, ১১সেপ্টেম্বর, ২০০১এ ধ্বংশ প্রাপ্ত বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের নিচের তলার সামান্য কাছেই একটি ইসলামি কেন্দ্রের  নির্মাণের প্রস্তাবে রাষ্ট্রপতি ওবামা সমর্থণ জানিয়েছিলেন। যে কেন্দ্রে একটি মসজিদও থাকবে।  তাঁর বক্তব্য ছিল, এই দেশে মুসলমানদের অন্য সবার মতোই ধর্ম চর্চার সমান অধিকার রয়েছে। ব্যস! তাতেই চটে লাল আমেরিকা! এতো ভালো কথা সহ্য করতে তারা আর প্রস্তুত নয়। পরে তাঁকে একটু পিছিয়ে এসে বলতে হয়েছে, যারা সেই কেন্দ্র গড়তে চাইছেন তাদের উৎসাহিত করতে তিনি কিছু বলেন নি। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ন্যান্সি পেলসি বলেছেন, সংবিধান সব ধর্মের সমান অধিকার দিয়েছে বটে, কিন্তু একটি ধর্ম কেন্দ্র হবেটা কোথায় সেটি হবে একেবারেই স্থানীয় সিদ্ধান্ত।    প্রতিপক্ষ রিপাব্লিকানেরাও দ্বিচারিতার নিদর্শন রেখে মুসলমানেদের অধিকারকে নিয়ে প্রশ্ন তুলছে না। বরং উলটে ওবামাকেই ঝেড়ে কাশতে অনুরোধ করছে যাতে তাঁকে চেপে ধরতে সুবিধে হয়। রিপাব্লিকানদের হয়ে সবচে বেশি গলা উঁচু সেই মহিলা সারা পলিন্সের যিনি গেল নির্বাচনে উপরাষ্ট্রপতি পদে দাঁড়িয়ে উল্টপাল্টা মন্তব্য করে প্রচুর লোক হাসিয়েছেন, এবং এখন দুর্নীতির অভিযোগে হালে পানি পাচ্ছেন না। ইদানিং তিনি খুব ধর্মবাতিকগ্রস্থ হয়েছেন।</p>
<p>         <a href="http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/3471/kodorba" rel="attachment wp-att-3473"><img src="http://coffeehouseradda.com/files/2010/08/Kodorba.jpg" alt="Kodorba" width="625" height="375" class="alignright size-full wp-image-3473" /></a>          যারা এই ইসলামি কেন্দ্রটি গড়তে চাইছে তারা যে খুব ইসলামের বিজয় রথ ছোটাবার বাসনাতে কাজটি করছে তা কিন্তু নয়। তারা হচ্ছেন আমেরিকার সেই মুসলমান যারা  লাদেনের পাপকে ধুয়ে দেবার জন্যে মাঠে নেমেছেন। ইসলামে দানবীয়করণের বিরুদ্ধে গোটা বিশ্বকে একটা বার্তা দেয়াই তাদের উদ্দেশ্য ছিল। আর তাদের সঙ্গে যে শুধু মুসলমানেরাই রয়েছেন তাই নয়, রয়েছেন প্রচুর খৃষ্টান, এমনকি অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি যে তাদের সঙ্গে প্রচুর ইহুদীও রয়েছেন। যে সংগঠনটি এই ইসলামি কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিল তাদের নাম ‘কোরডোবা ইনিসিয়েটিভ’ (Cordoba initiative)। কোরডবা হচ্ছে স্পেনের এক বিখ্যাত প্রাচীন প্রাক-ধর্মযুদ্ধ  ইসলামি তীর্থক্ষেত্রে নাম। যায়গাটি তখন ইহুদি, খৃষ্টান , ইসলাম সহ নানা ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহবস্থানের জন্যে বিখ্যাত ছিল। সেখানে যে বিখ্যাত মসজিদটি ছিল ধর্মযুদ্ধের পরে সেটি এক খৃষ্টান চার্চে পরিণত হয়। আমরা সবাই জানি ধর্মযুদ্ধ খৃষ্টান চার্চগুলোর ধর্মীয় সহিষ্ণুতার সবচে’ কুখ্যাত নজির। সেই যুদ্ধ কেবল আরব উত্থানের পতন ঘটায় নি, গোটা ইউরোপকেও ঘনঅন্ধকারে ছেয়ে ফেলে। যাকে আমরা জেনে না জেনে ‘মধ্যযুগীয় বর্বরতা’ বলে চিহ্নিত করে থাকি। প্রায়শঃ এই পদগুচ্ছ অকারণে  ভারতের ইতিহাসেও প্রয়োগ করি। এহেন এক উদ্যোগকে যারা বাধা দিচ্ছেন আর ভাবছেন তাদেরকে  ধর্মকেন্দ্র গড়তে দিলে বিশ্ববাণিজ্য কেন্দ্রে নিহতদের অপমান করা হবে, তারা যে লাদেনবাহিনীর চে’ ভালো মানুষের দল নন, সেটি বুঝতে বুদ্ধি খাটাবার প্রয়োজন পড়ে না। বুদ্ধিমান অনেকেতো এও বলছেন ‘কোরডবাকে’ ধর্মকেন্দ্র গড়তে দিলে লাদেন সেটিকেও উড়িয়ে দেবেন। কিন্তু আপাতত লাদেনের খৃষ্টান প্রতিপক্ষরাই এর পথ আটকে তার কাজ কমিয়ে দিচ্ছেন । অথচ যে নিউইয়র্কে কেন্দ্রটি হবে, সেখানে প্রায় পাঁচ লক্ষ মুসলমান রয়েছেন আর রয়েছে অজস্র মসজিদ। তাতে এই আরেকটা যোগ হবে মাত্র। কিন্তু এক নতুন বার্তা নিয়ে। সেটি যারা হতে দিচ্ছেন না তারা স্পষ্টতই চাইছেন না ইসলাম তার পুরোনো গৌরবময় পরিচয় ফিরে পাক। পেলে যে মধ্য এশিয়াতে মার্কিনি তেলচোরাদের আসন্ন বিপদ!  </p>
<p>               ইতিমধ্যে নানা কারণে ওবামার  জনপ্রিয়তাতে ভাটা পড়েছে । সামনেই , নভেম্বরে সিনেটের কিছু আসনে মধ্যবর্তী নির্বাচন রয়েছে। তার আগে সে জনপ্রিয়তাতে আর ভাটা পড়ুক সেটি তিনি বা দল চাইছেন না। কিন্তু সম্ভবত আঁচড় যা পড়বার তা পড়ে গেছে। আমেরিকা জুড়ে ইসলাম বিরোধী প্রচার কিছু তো বেড়েইছে, সেই সঙ্গে এই বিশ্বাসও বেড়েছে যে ওবামা আসলে অন্তর থেকে একজন মুসলমানই। </p>
<p>                   জাতি রাষ্ট্র, ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে পশ্চিমী দেশগুলোর সাধারণত অহংকারে মাটিতে পা পড়েনা। ওদের থেকে পাঠ নিয়ে আমাদের দেশেও অনেকে আমাদের ধর্মনিরপেক্ষতার পাঠ নিতে বলেন। তার মধ্য , কিছু আগ মার্কা বামপন্থীও রয়েছেন। কিন্তু , আমেরিকার ঘটনাক্রম দেখে মনে হচ্ছে না কি যে ওরা আমাদের থেকে আর যাই হোক এ ব্যাপারে মোটেও বেশি সভ্য নয়! কল্পনা করুন যে মুম্বাইর হোটেল তাজের কাছে এক মসজিদ তৈরির  কথা বললেন, প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি আব্দুল কালাম , কিম্বা কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধি। কী প্রতিক্রিয়া হতে পারে, শিবসেনা, ভাজপারা কী বলতে পারে আমরা সহজেই  আঁচ করতে পারি।  আব্দুল কালামকে পাকিস্তান আর সোনিয়া গান্ধিকে ইতালি পাঠাবার ব্যবস্থা করে দিলেও অবাক হবার কিছু থাকবে না! দু’জনকেই তার পরে  সিদ্ধি বিনায়কের মন্দিরে গিয়ে মাথা ঠেকিয়ে প্রায়শ্চিত্ত করে আসতে হতো। আমেরিকার রাষ্ট্রপতিকেও ঠিক তেমনটাই করতে হয়েছে!</p>
<p>                         ইতিমধ্যে সরকারীভাবে ঘোষণা দিয়ে জানাতে হয়েছে যে রাষ্ট্রপতি ওবামা একজন নিষ্ঠাবান খৃষ্টান এবং রোজ প্রার্থণা করেন। ধর্মীয় উপদেষ্টার পরামর্শ না নিয়ে তিনি দিনের কোনো কাজই করেন না। তার জন্যে কেউ তাঁকে ধর্মান্ধ বা মৌলবাদি বলছে না!  তাঁর বাবা মুসলমান ছিলেন, তিনিও মুসলমান হতেই পারেন। এই সরল  কিম্বা জটিল বিশ্বাস থেকেও এই ক’দিন আগও কিছু মানুষ তাঁকে মুসলমান বলে ভাবতেন। সম্প্রতি নানা কারণে এমন বিশ্বাস করবার লোক বেড়ে গেছিল।  ওই মন্তব্যের দিন কতক আগেই পিউ গবেষণা কেন্দ্র বলে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমীক্ষা দেখিয়েছিল ওবামাকে মুসলমান বলে মনে করবার মত লোক ১১ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ২০ শতাংশ । প্রতি পাঁচজন মার্কিনিদের মধ্যে একজন ভাবছেন ওবামা একজন মুসলমান । ঐ মন্তব্যের পর আগষ্টের মাঝামাঝি টাইমস মেগাজিন আরেকটি সমীক্ষা চালায়। তাতে সেই পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ২৪ শতাংশ। তারা ভাবছেন ওবামা একজন মুসলমান তাই ওমন কথা বলেছেন। তিনি যে  একজন সৎ মানবতাবাদির অবস্থান থেকে কথাটা বলতে পারেন এই সহজ সত্য ওদের সাদা চামড়াতে ঢাকা উন্নত মস্তকে কিছুতেই ঢুকতে চাইছে না । ৪৭ শতাংশ লোক অবশ্যি সেরকম ভাবছেন না, কিন্তু তাতে ওবামা আশ্বস্ত  হলেও আমাদের হবার কোনো কারণ নেই। কারণ তাঁরা এই ভেবে তুষ্ট যে তিনি একজন নিষ্ঠাবান খৃষ্টান। মাত্র ২৪ শতাংশ এ নিয়ে কোনো মত জানান নি।</p>
<p>                           ওই যারা মত দেননি তাদের সংখ্যার থেকে অল্প কিছু বেশি লোক বিশ্ব বানিজ্য কেন্দ্রের সামনে ইস্লামিক কেন্দ্রটি গড়বার পক্ষে মত দিয়েছেন। তাদের সংখ্যা ২৬ শতাংশ।  তাদের কেউ কেউ সেই অধিকারের পক্ষে লড়াই চালাবার সাহসও গুটিয়ে নিয়েছেন। এবং বাণিজ্য কেন্দ্রের সামনে গিয়ে ধর্ণাও দিচ্ছেন। এর মধ্য অভিশপ্ত সেপ্তেম্বরে নিহত আহতদের পরিবারের অনেকেও রয়েছেন, যারা মনে করেন ঘৃণা কখনো ঘৃণার নিদান হতে পারে না। তাদের সংগঠনটির নাম “September 11th Families for Peaceful Tomorrows” । তারা এও এই বলে সভ্যতার চরম নিদর্শন উপস্থিত করছেন, “What better place for healing, reconciliation and understanding than Ground Zero? We honor our family members by practicing American principles and moving forward from Ground Zero to a future of peaceful coexist”</p>
<p>                           পিউ গবেষণা কেন্দ্রটি যে সমীক্ষা চালিয়েছিল তাতে মার্কিনি রাজনীতিতে ধর্মের ভূমিকা নিয়ে কিছু মজার তথ্য বেরিয়ে এসছে। বিতর্কিত মন্তব্যটি করাবার আগেই যে কিছু লোক ওবামাকে মুসলমান বলে ঠাউরেছিল তার কারণটি কিন্তু আর কিছু নয়, তিনি তার আগেকার রাষ্ট্রপতিদের থেকে ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলোতে কম হাজিরা দিচ্ছেন। এর মানে, এখনো সে দেশে এক রাষ্ট্রপতির কাছে ধর্মের, তাও সংখ্যাগরিষ্ঠের ধর্মের, থেকে দূরে সরে থাকাটা ভারতীয় উপমহাদেশগুলোর যেকোনো  দেশের মতোই খুব একটা নিরাপদ নয়। এখনো ৪৮ শতাংশ মার্কিনি  লোক মনে করেন রাষ্ট্রকে ধর্মের থেকে দূরে সরে থাকা উচিত নয়। এই সংখ্যাটা  ১৯৯৬ থেকে ২০০৬ এর আগের দশক থেকে সামান্য কমেছে মাত্র! </p>
<p>                   অনেক ভারতীয় কালো সাহেবেরাও মসজিদ নির্মাণ নিয়ে করা ওবামার মন্তব্যকে ভালো চোখে দেখেন নি। তাঁরাও ইসলামী আতঙ্ককে বিশ্বের সবচে বড় বিপদ হিসেবে দেখেন, এবং কোনো মুসলমান ধর্ম কেন্দ্রকে বিশ্বাস করতে পারেন না। আজকাল যে আমেরিকা আর ইউরোপের দেশে দেশে ইসলামের বিরুদ্ধে প্রচার ও ব্যবস্থা নেবার প্রবণতা বেড়েছে তাতে তাঁরা খুব হ্লাদিত। তাঁদের ধারণা, এর ফলে পৃথিবী ইসলামী সন্ত্রাসবাদ নামের ‘দানবীয়’ বিপদ থেকে মুক্ত হবে। তাঁদের সাহেব প্রীতিতে অন্ধচোখ দেখেও না যে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থাতে কিছু মৌলবাদি যদি তিন হাজার লোককে মেরেছিল, যারা মৌলবাদি নয় বলে বড়াই করে সেই সাহেবদের, পশ্চিমী দেশগুলো সেই বাহানা নিয়ে আফগানিস্তান নামের দেশটির  ভেতরে ঢুকে আজ প্রায় একটি দশক জুড়ে ঘাটি গেড়ে বসে মেরেছে তার থেকে বহুগুণ বেশি সাধারণ নিরীহ মানুষ । বছরে সেই সংখ্যা হাজার ছাড়ায়। তারা জোর করে বা ভয় দেখিয়ে সামরিক ঘাটি করে বসে আছে  মধ্য এশিয়ার প্রায় সমস্ত দেশে। কোনো এক সুদূর আশির দশকের শুরুতে পৌনে দু’শো কুর্দ নাগরিককে মারবার অপরাধে যারা সাদ্দামকে বিচারের প্রহশনে বসিয়ে মেরে ফেললে, তারা এই সাত বছরে মেরেছে ১ লক্ষ ৬১ হাজারেরো বেশি ইরাকি মানুষ। সাদা কিম্বা কালো কোন সাহেবদের চোখেই এই মৃত্যু কোনো আতঙ্কের ব্যাপারই নয়! মধ্য এশিয়ার  দেশগুলোর দখলদারি নিয়ে মাঝে মাঝে নিজেদের মধ্যেও মারামারি করে ওই সাহেবেরা। কারণতো একটাই মাটির তলার তেল সাবাড় করো আর যুদ্ধের বাজার ছড়িয়ে চলো।  </p>
<p>         <a href="http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/3471/ground0rally" rel="attachment wp-att-3474"><img src="http://coffeehouseradda.com/files/2010/08/ground0rally.jpg" alt="ground0rally" width="750" height="438" class="alignleft size-full wp-image-3474" /></a>             ফ্লরিডার  ডোভ ওয়ার্ল্ড আউটরিচ সেন্টার বলে এক খৃষ্টীয় চার্চ আগামী ১১ সেপ্টেম্বর তারিখে ওই বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের সামনে কোরান পোড়াবে বলে হুমকি দিয়ে রেখেছে। তারা সেই দিনটির নাম দিয়েছে ‘কোরান পোড়ানোর দিন’।  কার্ল মার্ক্সের মতো নিন্দিত নাস্তিক জানতেন যে যিশু খৃষ্টের মতো কোনো ঐতিহাসিক চরিত্র ছিলেন না। তারপরেও ওই কাল্পনিক ভদ্রলোকটির প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার অন্ত ছিলনা। এই তথ্য বহু মার্ক্স বিরোধীতায় অন্ধদের কিম্বা অন্ধ মার্ক্সবাদি নাস্তিকদের জানা নেই। তাঁর মতে খৃষ্টীয় ষষ্ঠ শতক অব্দি খৃষ্ট ধর্মই ছিল রোমান সভ্যতার সমাজবাদ! সেই খৃষ্ট ধর্মের দৃষ্টান্ত স্থাপন করবার মতো লোক সংখ্যাতে নগন্য হলেও অভাব নেই। The Christian Science Monitor বলে একটি বৈদ্যুতিন কাগজে ডান মারফি  লিখেছেনঃ   The increasingly acrimonious debate over the construction of the so-called Ground Zero mosque in Manhattan, about two blocks away from the World Trade Center towers that were destroyed by Al Qaeda on Sept. 11, 2001, echoes similar debates in Europe and could, if the rhetoric becomes commonplace, have broad and negative ramifications for the integration of America&#8217;s growing Muslim population । </p>
<p>                      এই সহজ বুদ্ধির লোকের সংখ্যা কমে গেছে আজকের মার্কিনি সাম্রাজ্যবাদিদের শাসিত এবং অনুগত বিশ্বে। বিপদ এইখানেই মারাত্মক। ওবামা এই সহজ বুদ্ধির থেকেই কথাগুলো বলেছিলেন। কিন্তু, তিনিও এই ব্যবস্থার দাস, তাই তাঁকে আপাতত পেছনে হাঁটতেই হলো। কিন্তু তর্কের যে ঢেঊ উঠল তা, ধর্ম এবং রাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে গোটা পৃথিবীকে আরো একবার কাঁপাবে। আমাদের দেশের ধর্ম নিরপেক্ষতা নিয়ে যারা বেশ গৌরবান্বিত, তাদের কথা নাহয় বাদই দিলাম, ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে গিয়ে যারা ইঊরোপের জাতিরাষ্ট্রগুলোর নজির দিয়ে ভাষা নির্ভর জাতীয়তাবাদের পক্ষে ওকালতি করেন, তাঁরাও তাঁদের তত্বর বিশুদ্ধতা আর  ফাঁকির যায়গাগুলো নিয়ে আরেকবার ভাবতে শুরু করলে আমরা ভবিষ্যত নিয়ে আশান্বিত হতে পারি। বস্তুত ওবামার এই ঘোষণা জাতি রাষ্ট্রের বিশুদ্ধতার সমস্ত ধারণাকে নস্যাৎ করে দিয়ে দিয়েছে।  </p>
<p>                  আপাতত নইলে ‘কোরান পোড়াবার দিন’ পালিত হোক।ওদের ক্ষমতা আছে পালন করবে, কে ঠেকাবে!  কিন্তু সেদিন আসবে খুব শীঘ্রই, যেদিন ঐ  তেল আর রক্তচোরা সাদা সাহেবদের কেয়ামতের দিন  পালিত হবে গোটা বিশ্ব, মায় আমেরিকাতেও। সেই অপেক্ষাতে আমাদের কাটবে আরো কিছু দিন, হয়তো কয়েকটি বছর কিম্বা দশক। কিন্তু আসবে , সে নিশ্চিত ! </p>
<a href="http://www.addtoany.com/add_to/google_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F3471&amp;linkname=%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%95%20%E0%A6%93%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%E0%A6%A7%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE%20%E0%A6%86%E0%A6%B0%20%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4-%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A6%9A%E0%A7%8B%E0%A6%B0%E0%A6%BE%20%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A6%BE%20%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A7%87%E0%A6%AC%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%A8" title="Google Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/google.png" width="16" height="16" alt="Google Bookmarks"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/orkut?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F3471&amp;linkname=%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%95%20%E0%A6%93%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%E0%A6%A7%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE%20%E0%A6%86%E0%A6%B0%20%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4-%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A6%9A%E0%A7%8B%E0%A6%B0%E0%A6%BE%20%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A6%BE%20%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A7%87%E0%A6%AC%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%A8" title="Orkut" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/orkut.png" width="16" height="16" alt="Orkut"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/twitter?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F3471&amp;linkname=%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%95%20%E0%A6%93%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%E0%A6%A7%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE%20%E0%A6%86%E0%A6%B0%20%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4-%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A6%9A%E0%A7%8B%E0%A6%B0%E0%A6%BE%20%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A6%BE%20%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A7%87%E0%A6%AC%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%A8" title="Twitter" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/twitter.png" width="16" height="16" alt="Twitter"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/facebook?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F3471&amp;linkname=%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%95%20%E0%A6%93%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%E0%A6%A7%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE%20%E0%A6%86%E0%A6%B0%20%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4-%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A6%9A%E0%A7%8B%E0%A6%B0%E0%A6%BE%20%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A6%BE%20%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A7%87%E0%A6%AC%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%A8" title="Facebook" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/facebook.png" width="16" height="16" alt="Facebook"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/yahoo_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F3471&amp;linkname=%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%95%20%E0%A6%93%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%E0%A6%A7%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE%20%E0%A6%86%E0%A6%B0%20%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4-%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A6%9A%E0%A7%8B%E0%A6%B0%E0%A6%BE%20%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A6%BE%20%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A7%87%E0%A6%AC%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%A8" title="Yahoo Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/yahoo.png" width="16" height="16" alt="Yahoo Bookmarks"/></a> <a class="a2a_dd addtoany_share_save" href="http://www.addtoany.com/share_save?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F3471&amp;linkname=%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%95%20%E0%A6%93%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%E0%A6%A7%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE%20%E0%A6%86%E0%A6%B0%20%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4-%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A6%9A%E0%A7%8B%E0%A6%B0%E0%A6%BE%20%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A6%BE%20%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A7%87%E0%A6%AC%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%A8"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/share_save_120_16.png" width="120" height="16" alt="Share/Bookmark"/></a>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/3471/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>4</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>এলোমেলো কিছু স্বাধীন চিন্তা</title>
		<link>http://coffeehouseradda.com/blog/abhra/3433</link>
		<comments>http://coffeehouseradda.com/blog/abhra/3433#comments</comments>
		<pubDate>Sat, 14 Aug 2010 13:34:39 +0000</pubDate>
		<dc:creator>অভ্র</dc:creator>
				<category><![CDATA[অর্থনীতি]]></category>
		<category><![CDATA[প্রবন্ধ]]></category>
		<category><![CDATA[রাজনীতি]]></category>
		<category><![CDATA[সমসাময়িক]]></category>
		<category><![CDATA[সমাজ]]></category>
		<category><![CDATA[ভারতের স্বাধীনতা দিবস]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://coffeehouseradda.com/?p=3433</guid>
		<description><![CDATA[<a href=http://coffeehouseradda.com/blog/abhra/3433><img src=http://www.amazingindia.net/wp-content/uploads/2010/03/the-proud-indian-flag-1.jpg class=imgtfe hspace=5 align=left width=100  border=0></a>
আজকে ২০১০ সালের ১৪-ই অগস্ট। সুখের কথা দিনটা শনিবার। হাতে তেমন কোন বড় কাজ নেই। বাইরে হালকা মেঘ, কম আলো। বেরিয়ে কোথাও যাওয়ার উপায় নেই। দেশ থেকে কয়েক হাজার মাইল দূরে। সমাজ, পরিবার সবকিছুর প্রতি দায়দাইত্ত্ব এড়িয়ে এক অদ্ভূত স্বার্থপরতার জীবন যাপন করছি পরবাসে। এইসময় একটি ব্লগ পোস্ট নজরে এল &#8211; স্বাধীনতা দিবস নিয়ে। অন্যান্য [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><img class="aligncenter" src="http://www.amazingindia.net/wp-content/uploads/2010/03/the-proud-indian-flag-1.jpg" alt="" width="523" height="429" /></p>
<p>আজকে ২০১০ সালের ১৪-ই অগস্ট। সুখের কথা দিনটা শনিবার। হাতে তেমন কোন বড় কাজ নেই। বাইরে হালকা মেঘ, কম আলো। বেরিয়ে কোথাও যাওয়ার উপায় নেই। দেশ থেকে কয়েক হাজার মাইল দূরে। সমাজ, পরিবার সবকিছুর প্রতি দায়দাইত্ত্ব এড়িয়ে এক অদ্ভূত স্বার্থপরতার জীবন যাপন করছি পরবাসে। এইসময় একটি ব্লগ পোস্ট নজরে এল &#8211; স্বাধীনতা দিবস নিয়ে। অন্যান্য কোনদিন হলে কি হত বলা যায় না, কারন রোজকার হাজার ফন্দিফিকিরে দেশ ও স্বাধীনতার চিন্তা কোন ঢেউ তুলতে পারত কিনা জানি না, তবে আজ হঠাৎ করেই কিছু কথা হুড়মুড় করে এসে ভিড় জমাল মাথার মধ্যে। কিছু নতুন, কিছু পুরোন। সবটাই হয়তো প্রাসঙ্গিক নাও হতে পারে। তবু মনে হল সবকিছু মনের মধ্যে জমিয়ে রেখে কি হবে? কাল নয় পরশু সেসব তো আবার চাপা পড়েই যাবে। তাই সেসব যতটা পারি গুছিয়ে লেখার চেষ্টা করছি। কারো অসম্মান করার কোন ইচ্ছে  বিন্দুমাত্র নেই। লিখছি শুধুমাত্র একটি মুক্ত আলোচনা হিসেবে।</p>
<p>স্বাধীনতা দিবস পালন করার একটা বাঁধাধরা উৎসবরীতি আছে আমাদের। দেশের জন্য যাঁরা প্রান দিয়ে স্বাধীনতা এনেছেন তাঁদের প্রতি শ্বদ্ধা অর্পন করা, তাঁদের জীবনী ও অসামান্য স্বার্থত্যাগের কাহিনী আরেকবার ঝালিয়ে নেওয়া, কিছু দেশাত্তবোধক গান শোনা, ফ্ল্যাগ ওড়ান আর তা না হলে ছোট ছোট ফ্ল্যাগ কিনে সঙ্গে রাখা  এইসব। গত বছর একটা অন্যধরনের ঘটনা ঘটে। ১৪ই আগস্ট ছিল এক বন্ধুর বাড়িতে পার্টি। সেখানে রাত বারোটা বাজার পর এক বন্ধুপত্নী আবদার জানালেন যে &#8211; বারোটা বেজে গেছে, এস আমরা সবাই মিলে জাতীয় সঙ্গীত গাই। যেমন কথা তেমন কাজ। সবাই মিলে দাঁড়িয়ে গান গাইলাম। ব্যস। ঐটুকুই। কেন জানিনা, বারবারই মনে হয়েছে যে আমাদের এই প্রচলিত উৎসবরীতি থেকে বেরিয়ে এসে অন্ততঃ এই দিনটায় একটু অন্যরকম চিন্তা করা উচিত।</p>
<p>স্বাধীনতা ও স্বার্থত্যাগের কাহিনীগুলো ক্রমশ অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাচ্ছে মানুষের কাছে। যে বীর সৈনিকরা প্রান দিলেন, তাঁদের স্মরন করার জন্য দুটো গান শোনাই কি যথেষ্ট? আজকের দুনিয়ায় কজন স্বার্থত্যাগ করেন যে এই ত্যাগের মহিমা বুঝবেন? যাঁরা প্রান দিয়েছিলেন, তাঁরা কেন প্রান দিলেন? কিসের আসায় এতটুকু সুখ আরামের কথা ভুলে পথে নামলেন? কি ছিল সেই স্বপ্ন এই প্রশ্নগুলো কি আমরা নিজেদের করি একবারও? আমি তো করি না। কারন আমি জানি আমি পারব না। কিন্তু আমার মনে হয় আজ এই প্রশ্নটা নিজেদের করার খুব প্রয়োজন আছে। পাঁচ মিনিটের জন্য ঐ রাস্তার মোড়ে মোড়ে বিক্রি হওয়া একটা প্লাস্টিকের ফ্ল্যাগ নিয়ে নাড়াচাড়া করবার সময়ে হলেও। তা না হলে আস্তে আস্তে ইতিহাসে যে ব্যখ্যা আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে পৌঁছবে তা স্বাধীনতার আলো কতটুকু থাকবে সন্দেহ আছে।</p>
<p>একটু একটু অন্য কথায় আসি এবার। আমাদের মানসিকতা ও জীবনদর্শনের অনেকটা তৈরী হয় ছাত্রজীবনে। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষার কয়েকটা বছরে। মাটি নরম। অনেক রকম ছাপ পড়ে সেখানে। বলাই বাহুল্য আমারও পড়েছে। তবে আমার ক্ষেত্রে অনেকগুলো বছর ছিল দ্বন্দ্ব ও সংশয়ের সময়। সেটা কাটতে সময় লেগেছে। এখনকার ছাত্রদের মানসিকতা তুলে ধরাটা খুব কঠিন কিছু কাজ না। প্রচন্ড প্রতিদ্বন্দীতা, প্রচন্ড উচ্চাকাঙ্খা। কিসের জন্য? জীবনে প্রতিষ্ঠা। একটি অনু পরিবারের প্রতিষ্ঠা যেখানে নিজস্ব সুখের সাথে কোন আপোষ করার প্রয়োজন নেই। মোটামুটিভাবে আমরা এই পথেই যাচ্ছি। উচ্চাকাঙ্খা এমন এক দুর্বার আকর্ষন যা কিন্তু সময়ের সাথে একটুও কমছে না। প্রতি মুহুর্তে কাজ করছে কিভাবে সিঁড়িভাঙ্গার অঙ্কটাকে একটু সহজ করে নেওয়া যাবে। সেটা দূষনীয় কিনা জানি না।  তবে আমার মনে হয় স্বাধীনতা দিবসের পালন করার সময় উচ্চাকাঙ্খার সাথে কয়েনের উলটো পিঠটাও দেখে নেওয়া উচিত।</p>
<p>এই প্রসঙ্গে দুজন মানুষের কথা উল্লেখ করব, যাদের বিশ্লেষন আমাকে খুবই চমৎকৃত করেছে। আশ্চর্যের বিষয় আসামের সঙ্গে দুজনেরই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। একজন আমার কলেজের খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু বিশ্বজিত ভুঁইয়া এবং অন্যজন তিনসুকিয়া কলেজের অধ্যাপক সুশান্ত কর। সুশান্তদার সাথে আমার ব্যক্তিগত আলাপ নেই। যেটুকু পরিচিতি তা এই ইন্টারনেট জগতে এবং ব্লগের মাধ্যমেই। বিশ্ব আর আমি মাঝে মাঝে অদ্ভূত আলোচনার তোড়ে হারিয়ে যেতাম। ওর জীবনদর্শন আমাকে খুব সহজে প্রভাবিত করত। বিশেষ করে মূল্যবোধের ব্যখ্যাটা ছিল দারুন। ও বলতে চাইত, কোনটা ভাল কোনটা খারাপ এটা বড়রা ছোটোদের কেন বলবে? সবাই সবকিছু খোলাখুলিভাব জেনে ঠিক করবে কোনটা ভাল আর কোনটা নয়। ধরাবাঁধা নিয়মে বড় হয়েছি বলে সেসব শুনতে ভালই লাগত।</p>
<p>একদিন চা খেতে খেতে সে আমায় বলে, ‘আমার মনে হয় আমাদের প্রত্যেকের আমাদের দেশের জন্য কিছু করা উচিত।’</p>
<p>আমি বললাম, ‘কি?’।</p>
<p>তো সে একটুও না চমকে বললে, ‘বেশি কিছু না। আমাদের দেশের একটা প্রজন্মকে একটু ত্যাগ করতে হবে। ডলারের লোভে পা না দিয়ে দেশের মধ্যেই থাকতে হবে। আমাদের যে প্রচন্ড গনশক্তি আছে, তাহলে তা কাজে লাগবে’</p>
<p>আমি পরে এই কথাগুলো অনেক ভেবেছি। এমন নয় যে আজ আমি নিজে বিদেশে বসে এই কথাগুলো ভাবছি। বোঝার চেষ্টা করেছি একটা সমষ্টিগত চিন্তাকে। প্রবাসে আমি তথাকথিত প্রবাসীদের সাথে নিজেকে মেলাতে পারিনি। ছোট্ট একটা উদাহরন দিই। গতবছর কালীপূজোর সময় একটি জমায়েতে বিদেশে সদ্য আগত এক গৃহবধূকে খুব গর্ব করে বলতে শুনেছি, ‘না না ওর চাকরি এমন না যে বছর গোরার আগেই দেশে ফিরতে হবে। আমরা এখন এখানেই থাকব। পরিষ্কার দেশ, সুন্দর রাস্তাঘাট, ছবির মত সব। কে এখন দেশে ফিরবে’ । শুনেছি, আর বোঝার চেষ্টা করেছি এমন কেন? কেন আমরা পরবাসের হাতছানি ভুলতে পারব না?  মনে করে নিয়েছিলাম এ হচ্ছে বিশ্বায়নের প্রভাব। কিন্তু সুশান্তদা আমার চোখ খুলে দিলেন। একদিন কথাপ্রসঙ্গে বললেন, ‘বিশ্বায়নটা তো ঔপনিবেশিকতার সম্প্রসারনই। নয়া উপনিবেশবাদ। ঔপনিবেশিকদের বিশ্বায়ন। প্রতিবেশিদের অপসারণ! পাশের দেশের সঙ্গে শত্রুতা করো। বন্ধুত্ব করো সাগর পারের দূর ধনী দেশের সঙ্গে । যার ধন আবার তোমাকে আমাকে লুটেই। আমারও ইংরেজির প্রতি বিদ্বেষ নেই। কিন্তু ঔপনিবেশিক মন শেখায় অন্য সব উপনিবেশের ভাষা সংস্কৃতিকে ঘৃণা করতে শেখো, চাই কি নিজেরটাকেও!’</p>
<p>বিশ্বের ইতিহাসটা না জানলে বোঝা যাবেনা আজকের দুনিয়ার অর্থনীতিকেও। আমার মনে হয় স্বাধীনতা দিবসে গ্রুপ থিঙ্কিং-এর বশবর্তী না হয়ে একটু স্বাধীনভাবে ভাবা উচিত আমাদের। খুলে দেওয়া উচিত মনের জানলাগুলো। নিজেকে প্রশ্ন করা উচিত, ‘যা জানি তাই কি ঠিক? এরা আমাদের ও আমাদের মত অনেক দেশের সম্পদ লুটে নিয়ে যে অপরিসীম ইকোনমিক রিসার্ভ বানিয়েছে, আমাদের কি তার প্রতি মাথা নীচু করে স্যালুট করা উচিত? আত্মবিস্মৃতির পথে একটু একটু করে হেঁটে যাওয়া উচিত?’</p>
<p>লেখার শেষপর্বে চলে এসেছি। সাধারনতঃ এই সময় আমরা স্বাধীনতার ষাট বছরে আমাদের সাফল্য ব্যর্থতার দিকগুলো আলোচনা করে থাকি। অর্থনৈতিক উন্নতি কিছুটা হয়েছে সে বিষয়ে সন্দেহ নেই। কিন্তু উন্নতির আলো আজও সবদিকে সমানভাবে পৌঁছতে পারল না। সেই দিকগুলো আমরা কি আবার ভেবে দেখবো না? ছোট থেকে আমার বাবা গভীর খেদের সঙ্গে একটা কথা বলতেন, ‘আমাদের দেশে গনতন্ত্র সফল হল না। দেশের অশিক্ষিত মানুষ কাকে ভোট দেয় কিছু এসে যায় না। যারা নিজের ভাল মন্দ বোঝেনা তাদের ভোটেরই বা কি দাম?’ আমি বিষয়টা খুব একটা ভাল বুঝতাম না। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে উপলব্ধি বদলেছে। যখনই একটি অজ্ঞানতার স্তর পের হয়েছি, তখনই মনে হয়েছে আরো কত কি জানা বাকী। তাহলে যে মানুষজন নাইট স্কুলে পড়ে কোনরকমে সই করতে শিখে ভোটিং মেশিনের বোতামটা টিপছেন, তিনি কতটুকু অজ্ঞানতার স্তর পেরিয়ে আসতে পেরেছেন? তিনি তো অসহায়। অশিক্ষিত মানুষের অভিমান নিয়ে নাড়াচাড়া করা তো খুবই সহজ আর তার সদব্যবহার আজও অবলীলাক্রমের করে চলেছেন মুষ্টিমেয় লোভী মানুষ। এই অন্ধকার থেকে মুক্তি পাব কবে? এই প্রশ্নগুলো অন্যদের করে যদি উত্তর না পাই, তাহলে করবো কাকে? নিজেকে? কখন? স্বাধীনতা দিবসের আগে? ব্লগপোস্টে?</p>
<a href="http://www.addtoany.com/add_to/google_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fabhra%2F3433&amp;linkname=%E0%A6%8F%E0%A6%B2%E0%A7%8B%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A7%8B%20%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%9B%E0%A7%81%20%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A7%E0%A7%80%E0%A6%A8%20%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE" title="Google Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/google.png" width="16" height="16" alt="Google Bookmarks"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/orkut?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fabhra%2F3433&amp;linkname=%E0%A6%8F%E0%A6%B2%E0%A7%8B%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A7%8B%20%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%9B%E0%A7%81%20%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A7%E0%A7%80%E0%A6%A8%20%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE" title="Orkut" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/orkut.png" width="16" height="16" alt="Orkut"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/twitter?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fabhra%2F3433&amp;linkname=%E0%A6%8F%E0%A6%B2%E0%A7%8B%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A7%8B%20%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%9B%E0%A7%81%20%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A7%E0%A7%80%E0%A6%A8%20%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE" title="Twitter" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/twitter.png" width="16" height="16" alt="Twitter"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/facebook?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fabhra%2F3433&amp;linkname=%E0%A6%8F%E0%A6%B2%E0%A7%8B%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A7%8B%20%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%9B%E0%A7%81%20%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A7%E0%A7%80%E0%A6%A8%20%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE" title="Facebook" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/facebook.png" width="16" height="16" alt="Facebook"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/yahoo_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fabhra%2F3433&amp;linkname=%E0%A6%8F%E0%A6%B2%E0%A7%8B%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A7%8B%20%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%9B%E0%A7%81%20%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A7%E0%A7%80%E0%A6%A8%20%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE" title="Yahoo Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/yahoo.png" width="16" height="16" alt="Yahoo Bookmarks"/></a> <a class="a2a_dd addtoany_share_save" href="http://www.addtoany.com/share_save?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fabhra%2F3433&amp;linkname=%E0%A6%8F%E0%A6%B2%E0%A7%8B%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A7%8B%20%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%9B%E0%A7%81%20%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A7%E0%A7%80%E0%A6%A8%20%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/share_save_120_16.png" width="120" height="16" alt="Share/Bookmark"/></a>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://coffeehouseradda.com/blog/abhra/3433/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>6</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>নবজাতকের কাছে এখনো অম্লান থাকুক, থাকবে আমাদের দৃঢ় অঙ্গীকার।</title>
		<link>http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/3396</link>
		<comments>http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/3396#comments</comments>
		<pubDate>Tue, 10 Aug 2010 04:24:40 +0000</pubDate>
		<dc:creator>সুশান্ত</dc:creator>
				<category><![CDATA[কবিতা]]></category>
		<category><![CDATA[প্রবন্ধ]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://coffeehouseradda.com/?p=3396</guid>
		<description><![CDATA[<a href=http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/3396><img src=http://lh3.ggpht.com/_Y7NPfnwUYj8/TGBR_lHwwRI/AAAAAAAACzU/OkcERQbB2vA/s288/Sukanta.jpg class=imgtfe hspace=5 align=left width=100  border=0></a>





From সুকান্ত ভট্টাচার্য


এসেছে নতুন শিশু, তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান
                                এই গেল সপ্তাহে অসমের প্রায় সমস্ত কাগজে গুয়াহাটি শহরের একটি সংবাদ ছিল এরকম। মরিয়ম [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><code><br />
<table style="width:auto">
<tr>
<td><a href="http://picasaweb.google.com/lh/photo/BVbZyOrNomESX4HXTue-qkXQPLg2RF_tEIgRISNclW0?feat=embedwebsite"><img src="http://lh3.ggpht.com/_Y7NPfnwUYj8/TGBR_lHwwRI/AAAAAAAACzU/OkcERQbB2vA/s288/Sukanta.jpg" /></a></td>
</tr>
<tr>
<td style="font-family:arial,sans-serif;font-size:11px;text-align:right">From <a href="http://picasaweb.google.com/karsushanta40/dfhcQF?authkey=Gv1sRgCILRu-e055-vtAE&amp;feat=embedwebsite">সুকান্ত ভট্টাচার্য</a></td>
</tr>
</table>
<p><strong>এসেছে নতুন শিশু, তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান</strong><em><br />
                                এই গেল সপ্তাহে অসমের প্রায় সমস্ত কাগজে গুয়াহাটি শহরের একটি সংবাদ ছিল এরকম। মরিয়ম বেগম বলে এক শ্রমিক পত্নী সন্তান প্রসব সম্ভাবনা নিয়েই বাসে চেপে মফসসলের এর বাড়ি থেকে গুয়াহাটিতে স্বামীর কাছে আসছিলেন। বাসের ভেতরেই প্রসব বেদনা শুরু হওয়াতে বাসটি তাকে গুয়াহাটি কমার্স কলেজের সামনে নামিয়ে রেখে চলে যায়। সভ্রান্ত-শিক্ষিত মানুষের ভীড়ে সেই মহিলার একটুকুও স্বচ্ছন্দ আশ্রয় মেলেনি। সেই পথের ‘পরেই পথচলতি কিছু মানুষ একটু আড়াল তৈরি করে দেন। সেখানেই ভদ্রমহিলা দুটি যমজ সন্তানের জন্ম দেন। পরে অবশ্যি খবর দিলে ‘মৃত্যুঞ্জয়’ এসে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু সেই প্রতিকূল পরিবেশে জন্ম নিতে গিয়ে একটি সন্তান জন্মেই আহত হয়। এবং পরে মারা যায়। স্বাধীনতার ছ’টি দশক অতিক্রান্ত করেও যখন এমন ঘটনা আমাদের সমাজে আকছার ঘটে  তখন কি মনে হয় না সুকান্তের সেই অঙ্গীকার এখনো কেমন জ্বলজ্যান্ত ভাবে প্রাসঙ্গিক। মনে পড়ে?<br />
                      যে শিশু ভূমিষ্ঠ হল আজ রাত্রে<br />
                     তার মুখে খবর পেলুমঃ<br />
                      সে পেয়েছে ছাড়পত্র এক,<br />
                       নতুন বিশ্বের দ্বারে তাই ব্যক্ত করে অধিকার<br />
                      জন্মমাত্র সুতীব্র চিৎকারে।<br />
                     খর্বদেহ নিঃসহায়, তবু তার মুষ্টিবদ্ধ হাত<br />
                      উত্তোলিত, উদ্ভাসিত<br />
                       কী এক দুর্বোধ্য প্রতিজ্ঞায়।<br />
তাঁর সেই বিখ্যাত কবিতা ‘ছাড়পত্রে’ সুকান্ত লিখছেনঃ<br />
                    এসেছে নতুন শিশু, তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান;<br />
                     জীর্ণ পৃথিবীতে ব্যর্থ, মৃত আর ধ্বংসস্তূপ-পিঠে<br />
                     চলে যেতে হবে আমাদের।<br />
                    চলে যাব- তবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ<br />
                      প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল,<br />
                    এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য ক’রে যাব আমি<br />
                       নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।<br />
<strong>হে সাথী, আজকে স্বপ্নের দিন গোনাঃ</strong></em><br />
সুকান্ত লিখেছিলেন ওই একই কবিতার শেষেঃ<br />
                           অবশেষে সব কাজ সেরে<br />
                           আমার দেহের রক্তে নতুন শিশুকে<br />
                            করে যাব আশীর্বাদ,<br />
                            তারপর হব ইতিহাস।।<br />
                সশরীরে এই কবি আজ আর নেই আমাদের কাছে। এমন কি ৪৭এর ১৫ আগষ্ট যেটুকু স্বাধীনতা আমাদের জুটেছে তার ক’মাস আগেই তাঁকে চলে যেতে হয়েছে। কিন্তু তিনি, তাঁর কবিতা এখনো বর্তমান। ইতিহাসের সামগ্রী হতে তাঁর এখনো অনেক বাকি মনে হয় না কি?<br />
	আমাদের স্বাধীনতার বছরটির সঙ্গে এই কবির জন্ম মৃত্যু দিনটির এক আশ্চর্য সংযোগ রয়েছে। ১৫ আগষ্ট তাঁর জন্ম দিন। বছর ১৯২৬। ১৯৪৭ তাঁর মৃত্যুর বছর। রবীন্দ্র জন্ম জয়ন্তীর মাত্র ক’দিন পর ১৩মে। এই বিশ বছর ন’মাস দিনেই তিনি ছাড়পত্র ( ১৩৫৭), ঘুমনেই ( ১৩৫৭), পূর্বাভাস (১৩৫৭), মিঠেকড়া ( ১৩৫৮), অভিযান (১৩৬০), হরতাল    ( ১৩৬৯), গীতিগুচ্ছ ( ১৩৭২), কবিতালিপি ( ১৯৮৩) ইত্যাদি আটটিরও বেশি গ্রন্থে ছড়ানো ছিটানো গান,কবিতা, গল্প,নাটক, প্রবন্ধের রচয়িতা। পথে পথে মিছিলে মিছিলে শোনা যাচ্ছে তাঁর অঙ্গীকার ,<br />
                    এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য ক’রে যাব আমি<br />
                     নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।<br />
কিম্বা ,<br />
      		         বন্ধু, তোমার ছাড়ো উদ্বেগ, সুতীক্ষ্ণ করো চিত্ত,<br />
    	                  বাংলার মাটি দুর্জয় ঘাঁটি বুঝে নিক দুর্বৃত্ত।<br />
            তের চৌদ্দ বছরের কবির কবিতা পড়ে মুগ্ধ তাঁর চেয়ে বয়সে বড় ‘পদাতিকে’র কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় তাঁর বন্ধু হয়ে যাচ্ছেন। পরে তিনিই তাঁর বেশির ভাগ গ্রন্থের সম্পাদনা করছেন ও ভূমিকা লিখছেন। ‘পরিচয়’, ‘কবিতা’র মতো সেকালের সেরা কবিতা পত্রিকাতে তাঁর কবিতা বেরুচ্ছে।<br />
            সারা বাংলা কিশোর বাহিনীর তিনি উদ্যোক্তা ও নেতা। চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের বীরেরা জেলথেকে ছাড়া পেয়েই  কলকাতার যক্ষা হাসপাতালে আসছেন কবির সঙ্গে দেখা করতে আর তাঁকে অভিনন্দন জানাতে। তাদেরই কেউ তাঁকে জানাচ্ছেন তখনই এই বিশবছরের কবির জীবনী বেরুতে যাচ্ছে আমেরিকা আর ফ্রান্সে! এই সম্মান তাঁর জুটছে কেবল কবি হবার জন্যে নয়। কেবলি কাগজে লিখে  ‘অঙ্গীকার’ জানাবার লোকতো তিনি ছিলেন না। ছিলেন একাধারে বিপ্লবী ও স্বাধীনতার আপোসহীন সংগ্রামী। কমুনিষ্ট পার্টির সারাক্ষণের কর্মী। সেই কাজে নিজের শরীরের উপর  যে অত্যাচারটুকু তিনি করলেন তাতেই না তাঁর শরীরে প্রথম ম্যালেরিয়া ও পরে যক্ষা বাসা বাঁধে এবং অকালেই তাঁর প্রাণটি কেড়ে নেয়।<br />
	 তাঁর রচনার সংখ্যা এমনিতে খুব একটা বেশি নয়। কিন্তু যদি তাঁর বয়সটির কথা মনে রাখি, তবে সেই সংখ্যা অবিশ্বাস্য। তাঁকে আমরা কবি হিসেবেই জানি। কিশোর কবি। কিন্তু যেমন রবীন্দ্রনাথ কেবল কবি ছিলেন না । সুকান্তও ঐ বয়সেই লিখেছিলেন কবিতা ছাড়াও, গান, গল্প, নাটক এবং প্রবন্ধ। তাঁর ‘ছন্দ ও আবৃত্তি’ প্রবন্ধটি পাঠেই বেশ বোঝা যায় ঐ বয়সেই তিনি  বাংলা ছন্দের প্রায়োগিক দিকটিই শুধু আয়ত্বে আনেন নি, সে নিয়ে ভালো তাত্বিক দক্ষতাও অর্জন করেছিলেন। অথচ ১৯৪৫এ প্রবেশিকা পরীক্ষাতে তিনি অকৃতকার্য হয়েছেন। স্কুলের ছাত্র হিসেবে ভালো মার্ক্স পাওয়া মেধাবী ছাত্র হবার নজির তাঁর নেই তেমন। ভারত ছাড়ো আন্দোলন ঝিমিয়ে গেলে আবার স্কুলে যেতে হচ্ছে বলে তিনি বেশ হতাশই হয়েছিলেন।<br />
               নিবারণ ভট্টাচার্য ও সুনীতি দেবী্র এই ক্ষণজন্মা সন্তান সুকান্ত জন্মেছিলেন এক মধ্যবিত্ত পরিবারে।  তাঁর বাবা জ্যাঠাদের পূব বাংলার ফরিদপুরের গ্রামের বাড়ি থেকে কলকাতা এসে বহু সংঘাত সংঘর্ষের মধ্যি দিয়ে থিতু হতে হয়েছিল। একান্নবর্তী পরিবারটিকে ধরে রেখেছিলেন তাঁরা।<br />
               তাঁদের বাড়িতে সাহিত্যের এক ভাল পরিবেশ ছিল। মনীন্দ্রলাল বসুর ‘রমলা’উপন্যাসের নায়ক সুকান্তের নামেই আদরের ভাইটির নাম রেখেছিলেন জ্যাঠতুতু দিদি রানি। রানিদিদির উৎসাহেই লেখালেখিতে সুকান্তের হাতে খড়ি। মনীন্দ্র বসুর উপন্যাসের সুকান্তকেও অকালেই যক্ষা রোগে চলে যেতে হয়েছিল। কবি সুকান্তেরও সেই একই গতি হবে রানিদি নিশ্চয়ই স্বপ্নেও ভাবেন নি। এই সংযোগ দেখতে পাবার বহু আগেই সেই রানিদির হঠাৎ মৃত্যু হয়েছিল। সুকান্তের বয়স তখন মাত্র সাত বা আট। তার পরেই বাবা জ্যাঠাদের পরিবার আলাদা হয়ে যায়।<br />
	সেই আট ন’ বছর বয়স থেকেই সুকান্ত লিখতে শুরু করেন।  স্কুলের হাতে লেখা পত্রিকা ‘সঞ্চয়ে’ একটি ছোট্ট হাসির গল্প লিখে আত্মপ্রকাশ করেন। তার দিনকতক পরে বিজন গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘শিখা’ কাগজে প্রথম ছাপার মুখ দেখে তাঁর লেখা বিবেকান্দের জীবনী।  মাত্র এগার বছর বয়সে ‘রাখাল ছেলে’ নামে একটি গীতি নাট্য রচনা করেন। এটি পরে তাঁর ‘হরতাল’ বইতে সংকলিত হয়। বলে রাখা ভাল্‌ পাঠশালাতে পড়বার কালেই ‘ধ্রুব’ নাটিকার নাম ভূমিকাতে অভিনয় করেছিলেন সুকান্ত। সপ্তম শ্রেণিতে পড়েন যখন তখন বাল্য বন্ধু লেখক অরুণাচল বসুর সঙ্গে মিলে আরেকটি হাতে লেখা কাগজ ‘সপ্তমিকা’ সম্পাদনা করেন। অরুণাচল তাঁর আমৃত্যু বন্ধু ছিলেন।<br />
                    ১৯৪১ পর্যন্ত এসে কলকাতা রেডিওর গল্পদাদুর আসরের নিয়মিত যোগদাতা ছিলেন সুকান্ত। সেখানে প্রথমে তিনি রবীন্দ্রনাথের কবিতা আবৃত্তি করেন। রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুর পর সেই আসরেই নিজের লেখা কবিতা পাঠ করে তাঁকে শ্রদ্ধা জানান। গল্পদাদুর আসরের জন্য সেই বয়সেই তাঁর লেখা গান মনোনীত হয়েছিল আর সুর দিয়ে গেয়েছিলেন আর কেউ নন সেকালের অন্যতম সেরা গায়ক পঙ্কজ মল্লিক। স্কুলের লেখাপড়াতে খুব ভালো ছিলেন সে খবর তেমন মেলেনা। কিন্তু তাঁর প্রতিভা যে ছিল প্রশ্নাতীত তা এই সব সম্মান আর স্বীকৃতিতেই প্রমাণ মেলে।<br />
<strong>আমার ঠিকানা খোঁজ ক’রো শুধু   সূর্যোদয়ের পথেঃ</strong><em><br />
                       দাদা সুশীল ভট্টাচার্যের বন্ধু বারীন্দ্রনাথ ঘোষের সংস্পর্শে এসে সুকান্ত সাম্যবাদী চেতনাতে উব্দুদ্ধ হন এবং কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেন। তিনিতো আর শুধু স্বাধীনতার স্বপ্নই দেখতেন না। তিনি  যে ‘নতুন চিঠি আসন্ন যুগের’ পেয়েছিলেন সে ছিল সাম্যবাদের। তিনি যখন পার্টিতে যোগ দেন তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলছে। বিয়াল্লিশের 'ভারত ছাড়ো' আন্দোলনের দামামা বাজছে। আর ওদিকে বাংলার ভয়ঙ্কর পঞ্চাশের মন্বন্তর। নিজের শেষ জীবনের সেরা রচনাটি  ‘সভ্যতার সংকট’ লিখে রবীন্দ্রনাথ প্রয়াত হয়েছেন। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদীদের উপর সমস্ত বিশ্বাস হারিয়েও লিখে গেছেন , 'মানুষের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ।’ লিখে গেছেন ‘জন্মদিনে’ কবিতায় তাঁর উইল পত্র ‘আমার কবিতা , জানি আমি ,<br />
গেলেও বিচিত্র পথে হয় নাই সে সর্বত্রগামী ।<br />
কৃষাণের জীবনের শরিক যে জন ,<br />
কর্মে ও কথায় সত্য আত্মীয়তা করেছে অর্জন ,<br />
যে আছে মাটির কাছাকাছি ,<br />
সে কবির বাণী-লাগি কান পেতে আছি ।‘<br />
 বলা হয়ে থাকে সুকান্ত সেই কবি। এ একটু বাড়াবাড়ি। কেননা এ কবিতা রবীন্দ্রনাথের বিনয় মাত্র। তিনি নিজেই চিরদিন সেই জনটি ছিলেন , কৃষাণের জীবনের শরিক যে জন ,/কর্মে ও কথায় সত্য আত্মীয়তা করেছে অর্জন’ ।  মনে পড়ে জীবনের প্রথম ভাগেই সেই চিত্রা কাব্যগ্রন্থের ‘এবার ফিরাও মোরে’ কবিতাতে  রবীন্দ্রনাথ আর একবার কোনো এক কবিকে সম্বোধন করে লিখছেনঃ<br />
                 “কবি , তবে উঠে এসো — যদি থাকে প্রাণ<br />
                  তবে তাই লহো সাথে , তবে তাই করো আজি দান ।<br />
                  বড়ো দুঃখ , বড়ো ব্যথা — সম্মুখেতে কষ্টের সংসার<br />
                  বড়োই দরিদ্র , শূন্য , বড়ো ক্ষুদ্র , বদ্ধ , অন্ধকার ।<br />
                  অন্ন চাই , প্রাণ চাই , আলো চাই , চাই মুক্ত বায়ু ,<br />
                   চাই বল , চাই স্বাস্থ্য , আনন্দ-উজ্জ্বল পরমায়ু ,<br />
                   সাহসবিস্তৃত বক্ষপট । এ দৈন্যমাঝারে , কবি ,<br />
                    একবার নিয়ে এসো স্বর্গ হতে বিশ্বাসের ছবি ।”<br />
       সে ছিল রবীন্দ্রনাথের বাকি জীবনের কাজের ইস্তাহার। তার তাঁর হাতে প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল ‘শ্রীনিকেতন’। হ্যাঁ, সুকান্তদের মতো তিনি সরাসরি বিদ্রোহের পথে হাঁটেননি বটে। সম্ভবত তাই জীবনের শেষে ওমন আরেক কবির ‘বাণী-লাগি কান পেতে’ ছিলেন। কিন্তু সেরকম কবি তখন আরো অনেক ছিলেন।   একা সুকান্তকে সে দায় দিলে তাঁর গৌরব বাড়ে হয়তো, কিন্তু তাঁর সমকালের পরিবেশটিকে বোঝা যায় না। সুকান্তের বন্ধু , তাঁর বেশিরভাগ গ্রন্থের সম্পাদক ‘পদাতিকে’র লেখক সুভাষ মুখপাধ্যায়ের কথা ভুলা যাবে কী করে? যাঁর ‘পদাতিকে’র প্রথম কবিতার পংক্তিগুলোই ছিল এরকমঃ<br />
                  “প্রিয় ফুল খেলবার দিন নয় অদ্য<br />
                  এসে গেছে ধ্বংসের বার্তা,<br />
                  দুর্যোগে পথ হয় হোক দুর্বোধ্য<br />
                  চিনে নেবে যৌবন আত্মা।“<br />
কাস্তের কবি দিনেশ দাশকে ভুলি কী করে, যার সেই কবিতার পংক্তি এক সময় মুখে মুখে ফিরতঃ<br />
                         নতুন চাঁদের বাঁকা ফালিটি<br />
                         তুমি বুঝি খুব ভালবাসতে?<br />
                        চাঁদের শতক আজ নহে তো<br />
                          এ-যুগের চাঁদ হ'লো কাস্তে!<br />
         এমন তখন আরো অনেক ছিলেন।  অরুণ মিত্র, সরোজ দত্ত, বীরেন্দ্র চট্টপাধ্যায়, সমর সেন এমন আরো কত! ঔপন্যাসিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা না হয় ভুলে থাকাই গেল, তখন সময়টাই এমন ছিল যে ‘পথের পাঁচালী’র আনন্দ যাত্রার পাঁচালীকার  আপাত উদাসীন লেখক  বিভূতি বন্ধোপাধ্যায়ের কন্ঠেও সেদিন শোনা গেছিল ‘অশনি সংকেত’। পঞ্চাশের আকালের উপর  লেখা উপন্যাস।  তখনকার বহু কবি লেখক  গোটা ভারতেই হয় সরাসরি কমিউনিষ্ট পার্টিতে নাম লিখিয়েছেন, না লেখালেও ‘ফ্যাসিবাদ বিরোধী লেখক শিল্পী সঙ্ঘে’ ছিলেন না এমন কবি লেখক শিল্পীদের নাম করা মুস্কিল! বুদ্ধদেব বসুর মতো ‘কবিতা’ নিবেদিত প্রাণও দূরে সরে থাকতে পারেন নি।<br />
তবে কিনা অন্যদের অনেকেই যখন রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে তখন কিছুটা সংশয়ী –সন্দিগ্ধ ছিলেন,অনেকেই তাঁকে বর্জন করছিলেন, সুকান্ত কিন্তু ‘রবীন্দ্রনাথের প্রতি’ কবিতাতে নির্বিরোধ উচ্চারণ করছেঃ<br />
                          যদিও রক্তাক্ত দিন, তবু দৃপ্ত তোমার সৃষ্টিকে<br />
                        এখনো প্রতিষ্ঠা করি আমার মনের দিকে দিকে।<br />
                রবীন্দ্রনাথের প্রতি তাঁর আকর্ষণ এতোটাই ছিল যে তিনি রীতিমত সাধনা করে নিজের হাতের লেখাকেও রবীন্দ্রনাথের মতো করে তুলেছিলেন। দু’জনের হাতের লেখা পান্ডুলিপি দেখলে চট করে অনেকে ধরতে পারবেননা কোনটা কার লেখা।<br />
</code><br />
<table style="width:auto">
<tr>
<td><a href="http://picasaweb.google.com/lh/photo/B2zH0ZsaWCJapCQQqDZCtUXQPLg2RF_tEIgRISNclW0?feat=embedwebsite"><img src="http://lh3.ggpht.com/_Y7NPfnwUYj8/TGBSGHF2RjI/AAAAAAAAC0M/uJe9YvNt9DA/s288/DSC03087.JPG" /></a></td>
</tr>
<tr>
<td style="font-family:arial,sans-serif;font-size:11px;text-align:right">From <a href="http://picasaweb.google.com/karsushanta40/dfhcQF?authkey=Gv1sRgCILRu-e055-vtAE&amp;feat=embedwebsite">সুকান্ত ভট্টাচার্য</a></td>
</tr>
</table>
<p><code><br />
<table style="width:auto">
<tr>
<td><a href="http://picasaweb.google.com/lh/photo/Er-q8qqN9rHa92WUb3DEx0XQPLg2RF_tEIgRISNclW0?feat=embedwebsite"><img src="http://lh4.ggpht.com/_Y7NPfnwUYj8/TGBSXc2CzdI/AAAAAAAACzk/9a2HugkygXI/s288/DSC03088.JPG" /></a></td>
</tr>
<tr>
<td style="font-family:arial,sans-serif;font-size:11px;text-align:right">From <a href="http://picasaweb.google.com/karsushanta40/dfhcQF?authkey=Gv1sRgCILRu-e055-vtAE&amp;feat=embedwebsite">সুকান্ত ভট্টাচার্য</a></td>
</tr>
</table>
<p>  সুভাষ মুখপাধ্যায় লিখেছিলেন, তাঁরা কবিতা ছেড়ে পার্টিতে এসছিলেন , আর সুকান্ত এলেন কবিতা নিয়ে। এর অর্থ সুকান্ত যখন পার্টিতে যোগ দিলেন তখন পার্টি তার রাজনীতির প্রচারে শিল্প সাহিত্যেকে গুরুত্ব দিতে শুরু করেছে। এক দশক পরেই দেখা গেছে শিল্প সাহিত্যের জন্যে কাজটা খুব সুখকর হয় নি। কিন্তু , সুকান্তের কাছে পার্টির আর পাঁচটা কাজের থেকে কবিতা লেখা আলাদা কিছু ছিল না। দুটোই তিনি সমান নিষ্ঠার সঙ্গে করছিলেন। কবি লেখক হিসেবে সেই বয়সেই অপার সম্মানের অধিকারি হওয়া সত্বেও তাঁর স্বপ্ন ছিল বিপ্লবী কর্মীদের মধ্যে তাঁর কবিতা তথা অন্য লেখালেখি জনপ্রিয় হলেই তাঁর শ্রম স্বার্থক। নিজের লেখা লেখি নিয়ে তাঁর আর কোনো স্বপ্ন বা পরিকল্পনা ছিল বলে মনে হয় না। তাই নিজের লেখাকে তিনি মোটেও সযত্ন লালন করতেন না। টুকরো টাকরা ছেঁড়া কাগজে, সিগেরেটের প্যাকেটে এখানে ওখানে লিখে ফেলে রেখে দিতেন। তেমন কোনো খাতা তাঁর ছিল না। এবাড়িতে অবাড়িতে দেয়ালে দেয়ালে কয়লা পেন্সিলে লিখে বকা খাবার নজিরও তাঁর প্রচুর আছে। সেগুলোরই কিছূ  পরে বন্ধুদের আনুকুল্যে সংগৃহীত হয়ে ‘পূর্বাভাসে’ দেয়ালিকা নামে সংকলিত হয়েছিল। বন্ধুদের কেউ কেউ বিশেষ করে তাঁর আবাল্য বন্ধু অরুণাচল তাঁকে লেখাগুলো যত্ন করে খাতায় তুলে রাখতে বললে বলতেন, যখনই দরকার তখনই লেখার জন্যে তিনি নিজেই যখন রয়েছেন তবে আর যেগুলো সংরক্ষিত রাখবার দরকার কী? এ যেন ছাত্র রাজনীতির নেতার বক্তৃতা। বক্তব্য রাখবার জন্যে বক্তা স্বয়ং যখন রয়েইছেন তবে আর লিখে রাখবার দরকার কী!<br />
                তাই বলে তাঁর লেখাগুলো হারিয়ে যায় নি। তাঁর বন্ধুরা  , অনুগতরা তাঁর সেই লেখালেখিগুলোর অনেকটাই সংগ্রহ করতে পেরেছেন। এবং সেগুলো ছেপে সংরক্ষিত করতে পেরেছেন। ভাগ্যিস, এখানে ওখানে প্রচুর প্রকাশিত হয়েছিল তাঁর লেখা। পার্টির কাগজ ‘স্বাধীনতা’র কিশোর বিভাগ  তিনি নিজেই সম্পাদনা করতেন। আকালের দিনগুলোতে ফ্যাসিবাদবিরোধী লেখক ও শিল্পিসঙ্ঘের পক্ষে আকাল (১৯৪৪) নামে একটি কাব্যগ্রন্থ সম্পাদনা করেন। বাংলার কিশোর বাহিনী থেকে তাঁর ও অন্নদাশঙ্কর ভট্টাচার্যের সম্পাদনাতে বেরিয়েছিল ‘অপরাজেয়’ , যেখানে তাঁর ‘অভিযান’ কাব্যনাট্যটি প্রকাশ পেয়েছিল। সেসব গ্রন্থও তাঁর লেখা সংগ্রহে সাহায্য করেছিল অনেক। এমনিতে নিজের জীবিতাবস্থাতে তিনি নিজের কোনো কাব্য বা গদ্য গ্রন্থের প্রকাশিত সংকলন দেখে যেতে পারেন নি। তিনি যখন রোগ শয্যাতে তখন ‘ছাড়পত্র’ প্রকাশের উদ্যোগ চলছে। বন্ধু অরুণাচল তাঁকে কিছু ছাপা পৃষ্ঠা দেখিয়েছিলেন মাত্র। একে একে তাঁরাই তাঁর সব লেখা উদ্ধার করে গ্রন্থবদ্ধ করেন। এ পর্যন্ত দু’ই বাংলা থেকেই তাঁর অজস্র রচনা সংকলন বেরিয়েছে।<br />
তাঁর জনপ্রিয়তা এমনই যে আজো বাংলা কিম্বা বাঙালি প্রধান এলাকার যেকোনো গণআন্দোলনে তাঁর কবিতার থেকে পংক্তি বাছাই করে দেয়াল লিখতে কিম্বা শ্লোগান দিতে শোনা যায়। ইতিহাসের কী পরিহাস তাঁরই ভ্রাতুষ্পুত্র বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য যখন পশ্চিম বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তখন সেখানে সংঘটিত হচ্ছে সিঙ্গুর, নন্দীগ্রাম , লালগড় ! আজকের কবির কন্ঠে উচ্চারিত হচ্ছেঃ<br />
                         হে কবি সুকান্ত!</p>
<p>                         তুমি কি জানতে যে<br />
                          তোমাদেরই বংশে আসবে<br />
                          এই বাংলার ধ্বংসকর্তা?</p>
<p>                           তুমি কি জানতে যে<br />
                           তোমাদেরই বংশে আসবে সে<br />
                            যে "গরীব মানুষকে চাপা দিয়ে<br />
                          বড়লোকের মোটরগাড়ী" বানাবার<br />
                           সব আয়োজন পাকা করবে?<br />
                  কিন্তু এও ঠিক যে, স্কুল পাঠ্য বইতে এখনো সংকলয়িতারা তাঁর কবিতাকে বাদ দিতে না পারলেও উঁচু ক্লাসের সাহিত্যের ইতিহাস লেখকেরা বা তাত্বিকেরা তাঁর কবিতার জন্যে বেশি পৃষ্ঠা বরাদ্দ করেন নি। বাংলা কবিতার ইতিহাসে রবীন্দ্রনাথের পর কে এই প্রশ্ন এলেই নির্দ্বিধায় তাঁরা আজ জীবনানন্দের নাম নিয়ে থাকেন । আর কারো কারো নাম যোগ দিতে হলে সেখানে বিষ্ণু দে, বুদ্ধদেব বসু , সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, অমিয় চক্রবর্তীর নাম চলে আসে, সুকান্তের আসে না। এমন তাত্বিকতা যে পক্ষপাত মুক্ত তা বলা যাবে না। কেন না, সমর  সেন , সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের মতো পরিণত কবির নাম না নেয়াটাও আমাদের কৌতুহলী করে। তাই বলে সুকান্তকে বিনা প্রশ্নে কবি হিসেবে গ্রহণ করাটাও হবে আরেক ধরণের পক্ষপাত। এটি ঘটনা যে সুকান্ত চর্চা আজকাল কমেছে। গণআন্দোলন বিহীন পরিবেশে তাঁর কবিতা তেমন পাঠক টানে না। তাঁর, কিম্বা নজরুলের কিম্বা বীরেন্দ্র চট্টপাধ্যাদের  কবিতার আবেদনের স্থান কালের পরিসর স্বল্প। বিদ্রোহী –বিপ্লবী কবি হিসেবে তাঁরা নিজেদের পরিচয় গড়েছেন। সে তাঁরা ছিলেন আছেন এবং থাকবেন। কিন্তু বিশুদ্ধ সাহিত্যিক বা কবি হিসেবে কোনো প্রতিষ্ঠা তাঁরা আকাঙ্খাও করেন নি, নেইও। নজরুলত লিখেইছেনঃ<br />
                     বড় কথা বড় ভাব আসে না ক’ মাথায়, বন্ধু, বড় দুখে!<br />
                   অমর কাব্য তোমরা লিখিও, বন্ধু, যাহারা আছ সুখে!<br />
  সুকান্তও কি ওই কথাই বলতে চাননি যখন লেখেনঃ<br />
                          প্রয়োজন নেই, কবিতার স্নিগ্ধতা–<br />
                          কবিতা তোমায় দিলাম আজকে ছুটি,<br />
                          ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী-গদ্যময়ঃ<br />
                          পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝল্‌সানো রুটি।।<br />
	সুকান্তের বেলা বয়স একটা সীমা বেঁধে দিয়েছিল। নজরুলের বেলাও কথাটা সত্যি। কেননা বেশিদিন নজরুলও সুস্থ শরীরে লিখে যেতে পারেন নি। কিন্তু তাঁদের গানগুলো দেখায় কোথাও তাঁরা দিক বদল করেওছিলেন। রূপ রঙের বৈচিত্র নিয়ে  শিল্পী হিসেবে তাঁদের স্থান পাকা করবার সম্ভাবনা পুরো মাত্রাতে ছিল। এবং সেদিকে তাঁর ঝুঁকছিলেনও। কিন্তু সময় বিদ্রোহী-বিপ্লবী সত্বার মধ্যে তাঁদেরকে সবদিক দিয়েই  বেঁধে ফেলেছিল।<br />
<strong>যদিও নগণ্য আমি, তুচ্ছ বটবৃক্ষের সমাজেঃ</strong></em><br />
	ছন্দ-অলঙ্কারের মতো কবিতার ঔপকরণিক বিষয়গুলোতে সুকান্তের দক্ষতা ঈর্ষণীয় ছিল। সে নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু,  রাজনৈতিক বা আদর্শগত বোধ তখনো পরিপক্ক হবার বয়স ছিল না। রবীন্দ্রনাথকেও সেই পরিপক্কতার জন্যে জীবনের নিদেন পক্ষে তিনটি দশক ব্যয় করতে হয়েছিল।  তাই তাঁর ‘বিয়েবাড়ির মজা’ কবিতাটির  রাজনৈতিক আবেদন আজ আমাদের হাসির উদ্রেক করে। তিনি লেখেনঃ<br />
                     বললে পুলিশঃ এই কি কর্তা, ক্ষুদ্র আয়োজন?<br />
                    পঞ্চাশ জন কোথায়? এ যে দেখছি হাজার জন!<br />
                          এমনি ক’রে চাল নষ্ট দুর্ভিক্ষের কালে?<br />
  	আমরা যারা সেই দুর্ভিক্ষের ইতিহাস জানি তারা জানি যে, “এমনি ক’রে চাল নষ্ট দুর্ভিক্ষের কালে?” এই প্রশ্ন করবার অধিকার ব্রিটিশের অধীনস্থ কোনো পুলিশের ছিল না। কবিতার এমন বিচারে যদি কেউ আপত্তি করেন তবে সে দোষ আমাদের নয়। রাজনীতির বার্তা দেয়াকেই যারা কবিতার আসল উদ্দেশ্য মনে করেন তাঁরা নিজেরাই এমন সম্ভাবনার বীজ উৎপাদন করে কবিতাতে বা উপন্যাসে বপন করে রেখে দেন। বিখ্যাত আবৃত্তিকার প্রদীপ ঘোষ এক সাক্ষাৎকারে জানাচ্ছেন এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজকেরা তাঁকে যখন সুকান্তের কবিতা আবৃত্তি করতে ডাকছেন তখন আগে থেকেই জানিয়ে দিচ্ছেন তিনি যেন ‘প্রিয়তমাসু’ কবিতাটি না পড়েন। কেননা সে কবিতার একজায়গাতে রয়েছেঃ<br />
                         যুদ্ধ চাই না আর, যুদ্ধ তো থেমে গেছে;<br />
                          পদার্পণ করতে চায় না মন ইন্দোনেশিয়ায়<br />
                          আর সামনে নয়,<br />
                           এবার পেছনে ফেরার পালা।<br />
এই ‘পেছনে ফেরার’ কথা থেকে আয়োজকদের মনে হয়েছে কবির রাজনৈতিক বিচ্যুতি হয়েছে! তার মানে দাঁড়ালো এই যে রাজনীতির বাতাবরণ পাল্টালেই এমন কবিতার আবেদন পালটে যায়। সযত্ন সংরক্ষণ করতেন না বলে সুকান্তের বহু কবিতা পুনরাবৃত্তির দোষেও দুষ্ট হয়েছে। পড়তে পড়তে মনে হয়, একই কথা বার বার বলছেন, যেমনটি রাজনীতি বা সমাজকর্মের মাঠের কর্মীরা বলে থাকেন। তাঁর বৈষয়িক দরকার থাকলেও শৈল্পিক দরকার একেবারেই নেই। কোথাও কোথাওতো পংক্তিগুলোও হুবহু প্রায় এক । যেমন ‘সিগেরেট’ এবং ‘ দিয়াশলাই কাঠি’ কবিতা দুটো।<br />
সিগেরেট’ কবিতাতে লিখছেনঃ<br />
                               তাই, আর নয়;<br />
                              আর আমরা বন্দী থাকব না<br />
                              কৌটোয় আর প্যাকেটে;<br />
                              আঙুলে আর পকেটে<br />
                             সোনা-বাঁধানো ‘কেসে’ আমাদের নিঃশ্বাস হবে না রুদ্ধ।<br />
                              আমরা বেরিয়ে পড়ব,<br />
                              সবাই একজোটে, একত্রে–<br />
                              তারপর তোমাদের অসতর্ক মুহূর্তে<br />
                               জ্বলন্ত আমরা ছিট্‌কে পড়ব তোমাদের হাত থেকে<br />
                                বিছানায় অথবা কাপড়ে;<br />
                               নিঃশব্দে হঠাৎ জ্বলে উঠে<br />
                               বাড়িসুদ্ধ পুড়িয়ে মারব তোমাদের<br />
                                যেমন করে তোমরা আমাদের পুড়িয়ে মেরেছ এতকাল।।<br />
দিয়াশলাই কাঠি’ কবিতাতে আবারো লিখছেন প্রায় ঐ একই কথাঃ<br />
                            আমরা বন্দী থাকবো না তোমাদের পকেটে পকেটে,<br />
                            আমরা বেরিয়ে পড়ব, আমরা ছড়িয়ে পড়ব<br />
                            শহরে, গঞ্জে , গ্রামে–দিগন্ত থেকে দিগন্তে।<br />
                            আমরা বার বার জ্বলি, নিতান্ত অবহেলায়–<br />
                             তা তো তোমরা জানোই!<br />
                            কিন্তু তোমরা তো জানো না:<br />
                           কবে আমরা জ্বলে উঠব–<br />
                           সবাই শেষবারের মতো!<br />
তেমনি ‘জাগবার দিন আজ’ কবিতাতে আছেঃ<br />
                            আজকের দিন নয় কাব্যের -<br />
                             আজকের সব কথা পরিণাম আর সম্ভাব্যের;<br />
 তেমনি আছে ‘মৃত পৃথিবী’তেঃ<br />
                             আজকের দিন নয় কাব্যের<br />
                             পরিণাম আর সম্ভাব্যের...<br />
            এরকম কিছু ত্রুটি আর সীমাবদ্ধতা সত্বেও আমাদের বিশ্বাস সুকান্ত কোনোদিন ফুরিয়ে যাবেন না। সাহিত্যের ইতিহাসের লেখকেরা বা তাত্বিকেরা তাঁর জন্যে বেশি পৃষ্ঠা বরাদ্দ না করলেও যখনই যেখানে  আম ‘জনতার মুখে ফোটে’ উঠবে  ‘বিদ্যুৎবাণী’ সুকান্ত সেখানে উচ্চারিত হবেন সে সত্য আমাদের দেখিয়েছে সিঙ্গুর নন্দীগ্রাম। তিনি লিখেছিলেনঃ<br />
                           যদিও নগণ্য আমি, তুচ্ছ বটবৃক্ষের সমাজে<br />
                           তবু ক্ষুদ্র এ শরীরে গোপনে মর্মরধ্বনি বাজে,<br />
                          বিদীর্ণ করেছি মাটি, দেখেছি আলোর আনাগোনা<br />
                            শিকড়ে আমার তাই অরণ্যের বিশাল চেতনা।<br />
আমরাও মনে করি তাঁর সিগারেট, একটি মোরগের কাহিনী, দেশলাই কাঠি, প্রিয়তমাসু, রবীন্দ্রনাথের প্রতি,আঠার বছর বয়স, রানার , অনুভব, লেনিন ইত্যাদি কিছু কবিতা ক্রমেই বাংলার মুষ্ঠিমেয় কিছু ধ্রুপদী কবিতার সারিতে নাম লেখাবে এবং আরো বহু বহু দিন আবৃত্তি তথা পাঠ করা হবে কবিতাগুলো। স্বাধীনতার এতোটা বছর পরেও যে শিশু আগামী কাল জন্ম নেবে তার জন্যে স্থান ছেড়ে দেবার, প্রাণপণে জঞ্জাল সরাবার কাজ এখনো সম্পন্ন হয়ে ওঠেনি। এখনো এ বিশ্বকে তার জন্যে বাসযোগ্য করে তুলা যায় নি। যে মানুষ তাতে হতাশ হয়ে সুকান্তের অঙ্গীকার ভুলে যায় তার মানবতাবোধ, তাঁর শিল্পবোধ আর সভ্যরুচিকে নিয়ে আমরা প্রশ্ন তুলতে পারি। তাই বলে সুকান্তের মহত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলবার মত অশিক্ষা  যেন আমাদের আচ্ছন্ন না করে   । নবজাতকের কাছে এখনো অম্লান থাকুক আর থাকবে আমাদের দৃঢ় অঙ্গীকার।<br />
</code><br />
<table style="width:auto">
<tr>
<td><a href="http://picasaweb.google.com/lh/photo/CXJ9Ky09PJQlYCiIWeYrvEXQPLg2RF_tEIgRISNclW0?feat=embedwebsite"><img src="http://lh6.ggpht.com/_Y7NPfnwUYj8/TGDNkSFwVvI/AAAAAAAAC0U/Ry79S6WEbfw/s288/DSC03089.JPG" /></a></td>
</tr>
<tr>
<td style="font-family:arial,sans-serif;font-size:11px;text-align:right">From <a href="http://picasaweb.google.com/karsushanta40/dfhcQF?authkey=Gv1sRgCILRu-e055-vtAE&amp;feat=embedwebsite">সুকান্ত ভট্টাচার্য</a></td>
</tr>
</table>
<p><a href="http://banglalibrary.evergreenbangla.com/sukantabhattacharya/">সুকান্তরচনাবলী পড়ুন এখানে</a></p>
<a href="http://www.addtoany.com/add_to/google_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F3396&amp;linkname=%E0%A6%A8%E0%A6%AC%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%9B%E0%A7%87%20%E0%A6%8F%E0%A6%96%E0%A6%A8%E0%A7%8B%20%E0%A6%85%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A8%20%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%95%2C%20%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%AC%E0%A7%87%20%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%A6%E0%A7%83%E0%A7%9D%20%E0%A6%85%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A7%80%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A5%A4" title="Google Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/google.png" width="16" height="16" alt="Google Bookmarks"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/orkut?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F3396&amp;linkname=%E0%A6%A8%E0%A6%AC%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%9B%E0%A7%87%20%E0%A6%8F%E0%A6%96%E0%A6%A8%E0%A7%8B%20%E0%A6%85%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A8%20%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%95%2C%20%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%AC%E0%A7%87%20%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%A6%E0%A7%83%E0%A7%9D%20%E0%A6%85%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A7%80%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A5%A4" title="Orkut" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/orkut.png" width="16" height="16" alt="Orkut"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/twitter?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F3396&amp;linkname=%E0%A6%A8%E0%A6%AC%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%9B%E0%A7%87%20%E0%A6%8F%E0%A6%96%E0%A6%A8%E0%A7%8B%20%E0%A6%85%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A8%20%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%95%2C%20%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%AC%E0%A7%87%20%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%A6%E0%A7%83%E0%A7%9D%20%E0%A6%85%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A7%80%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A5%A4" title="Twitter" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/twitter.png" width="16" height="16" alt="Twitter"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/facebook?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F3396&amp;linkname=%E0%A6%A8%E0%A6%AC%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%9B%E0%A7%87%20%E0%A6%8F%E0%A6%96%E0%A6%A8%E0%A7%8B%20%E0%A6%85%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A8%20%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%95%2C%20%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%AC%E0%A7%87%20%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%A6%E0%A7%83%E0%A7%9D%20%E0%A6%85%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A7%80%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A5%A4" title="Facebook" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/facebook.png" width="16" height="16" alt="Facebook"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/yahoo_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F3396&amp;linkname=%E0%A6%A8%E0%A6%AC%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%9B%E0%A7%87%20%E0%A6%8F%E0%A6%96%E0%A6%A8%E0%A7%8B%20%E0%A6%85%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A8%20%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%95%2C%20%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%AC%E0%A7%87%20%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%A6%E0%A7%83%E0%A7%9D%20%E0%A6%85%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A7%80%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A5%A4" title="Yahoo Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/yahoo.png" width="16" height="16" alt="Yahoo Bookmarks"/></a> <a class="a2a_dd addtoany_share_save" href="http://www.addtoany.com/share_save?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F3396&amp;linkname=%E0%A6%A8%E0%A6%AC%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%9B%E0%A7%87%20%E0%A6%8F%E0%A6%96%E0%A6%A8%E0%A7%8B%20%E0%A6%85%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A8%20%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%95%2C%20%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%AC%E0%A7%87%20%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%A6%E0%A7%83%E0%A7%9D%20%E0%A6%85%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A7%80%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A5%A4"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/share_save_120_16.png" width="120" height="16" alt="Share/Bookmark"/></a>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/3396/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>7</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>বঙ্গীয় নবজাগরণ প্রসঙ্গে</title>
		<link>http://coffeehouseradda.com/blog/arnabdutta/3379</link>
		<comments>http://coffeehouseradda.com/blog/arnabdutta/3379#comments</comments>
		<pubDate>Sat, 07 Aug 2010 14:28:05 +0000</pubDate>
		<dc:creator>অর্ণব দত্ত</dc:creator>
				<category><![CDATA[অনুবাদ]]></category>
		<category><![CDATA[প্রবন্ধ]]></category>
		<category><![CDATA[ব্লগাড্ডা]]></category>
		<category><![CDATA[বাংলার নবজাগরণ]]></category>
		<category><![CDATA[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]]></category>
		<category><![CDATA[সি. এফ. অ্যান্ড্রুজ]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://coffeehouseradda.com/?p=3379</guid>
		<description><![CDATA[(অ্যান এসে অন দ্য বেঙ্গল রেনেসাঁ)
চার্লস ফ্রিয়র অ্যান্ড্রুজ
অনুবাদ: অর্ণব দত্ত
এক
শতবর্ষ পূর্বের বঙ্গীয় নবজাগরণের ধারাটি ষোড়শ শতকের পাশ্চাত্য ইউরোপীয় রেনেসাঁ-চেতনার সঙ্গে আশ্চর্য সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই মানুষের ইতিহাসে তার ফলস্রুতিও কিছু কিছু ক্ষেত্রে একই প্রকারের। কারণ, সেদিন যেমন ইউরোপ নতুন জীবনে উদ্বুদ্ধ হয়ে জেগে উঠেছিল, ঠিক তেমনই জেগে উঠছে আজকের এশিয়া।
অন্ধকার যুগের বৌদ্ধিক অসাড়তা কাটিয়ে আরব সভ্যতা ও [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>(অ্যান এসে অন দ্য বেঙ্গল রেনেসাঁ)</p>
<p>চার্লস ফ্রিয়র অ্যান্ড্রুজ</p>
<p>অনুবাদ: অর্ণব দত্ত</p>
<p>এক</p>
<p>শতবর্ষ পূর্বের বঙ্গীয় নবজাগরণের ধারাটি ষোড়শ শতকের পাশ্চাত্য ইউরোপীয় রেনেসাঁ-চেতনার সঙ্গে আশ্চর্য সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই মানুষের ইতিহাসে তার ফলস্রুতিও কিছু কিছু ক্ষেত্রে একই প্রকারের। কারণ, সেদিন যেমন ইউরোপ নতুন জীবনে উদ্বুদ্ধ হয়ে জেগে উঠেছিল, ঠিক তেমনই জেগে উঠছে আজকের এশিয়া।</p>
<p>অন্ধকার যুগের বৌদ্ধিক অসাড়তা কাটিয়ে আরব সভ্যতা ও ইসলামীয় ধর্মবিশ্বাস পাশ্চাত্য জগতকে চমকিত করেছিল। ইউরোপের ক্ষেত্রে সেই ঘটনা ছিল আঘাতস্বরূপ। আর তারপরেই গ্রিক ও লাতিন ধ্রুপদী সাহিত্যের পুনরুদ্ধার তথা খ্রিস্টীয় ধর্মশাস্ত্রের নবতর ব্যাখ্যা একত্রে সেখানে নিয়ে আসে এক পরিপূর্ণ সংস্কার ও নবজাগরণ। </p>
<p>বঙ্গদেশে পাশ্চাত্য সভ্যতাই চমকিত করেছিল প্রাচ্যকে – তাকে উজ্জীবিত করেছিল এক নতুন জীবনে; চালিত করেছিল এক অত্যাশ্চর্য পুনর্জাগরণের পথে। এর পরই পুনরুজ্জীবিত হয়ে ওঠে ধ্রুপদী সংস্কৃত সাহিত্য; প্রাচীন ধর্মগুলির মধ্য থেকেই সাধিত হয় সেগুলির সংস্কার। এই দুই চালিকাশক্তি একযোগে বঙ্গীয় নবজাগরণকে এশিয়ার এক জীবন্ত শক্তিতে পরিণত করে। বঙ্গদেশের অভ্যন্তরে সাহিত্য ও শিল্প-আন্দোলন প্রতিভাত হয় সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসাবে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হন তার রাজমুকুট।</p>
<p> </p>
<p>দুই</p>
<p>ঊনবিংশ শতকের প্রথম পাদে বঙ্গদেশের এক জ্বলন্ত প্রশ্ন ছিল ইংরেজি ভাষার বিস্তারকে উৎসাহ দান করা উচিত কিনা। ১৮৩৫ সালে ম্যাকাউলির বিখ্যাত মিনিট বা সভাবিবরণীটিতে ইংরেজি ভাষা প্রতিষ্ঠিত হয় উচ্চশিক্ষার মাধ্যম হিসাবে। স্যার জন সিলে লিখেছেন, ‘বিশ্বে ইতিপূর্বে কখনও অধিক গুরুত্বপূর্ণ কোনও প্রশ্ন আলোচিত হয়নি।’ কথাটি লক্ষণীয়। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়টি সম্পর্কে অবগত না থাকলে কেবলমাত্র বঙ্গদেশ নয়, বরং প্রাচ্যের সকল দেশের অধিবাসীদের নিকটেই প্রসঙ্গটি দুর্বোধ্য এক অতিরঞ্জন মনে হতে বাধ্য।</p>
<p>ম্যাকাউলি যদিও জয়ী হয়েছিলেন; তথাপি তাঁর কয়েকটি সূত্র ছিল অযৌক্তিক ও যথার্থতারহিত। ধ্রুপদী সংস্কৃত সাহিত্যের উপর বর্ষিত হয় তাঁর ঘৃণা। বাংলা সাহিত্য তাঁর চোখে ছিল নিষ্ফলা। এই ধরনের মন্তব্য করে তিনি এক মর্মান্তিক ভুল করেন। অবশ্য আশ্চর্যের কথা এই যে, ঐরূপ সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি সত্ত্বেও তাঁর বাস্তববাদী অন্তর্দৃষ্টি তাৎক্ষণিকভাবে খুব একটা ভ্রান্ত ছিল না। স্বদেশী পুনর্জাগরণের সেই মুহুর্ত আসলে তখনও আসেনি। প্রয়োজন ছিল বাইরের এক প্রচণ্ড আঘাতের আর সেই প্রয়োজনীয় আঘাতটি হেনেছিল ইংরেজি শিক্ষা।</p>
<p>কিন্তু প্রথম যুগে প্রাপ্ত এই নবজীবন সর্বতোভাবে স্বাস্থ্যকর ছিল না। সহিংস চরম অবিবেচক পথে প্রথমেই তা আঘাত করল প্রাচীন রীতিনীতিগুলিকে; মূলচ্ছেদ করল ধর্মীয় বিশ্বাসসমূহের। সর্বাপেক্ষা গুরুতর বিশৃঙ্খলা দেখা দিল সামাজিক স্তরে। যে অভ্যাসগুলি একান্তই পশ্চিমি, সেগুলির অন্ধ অনুকরণ করতে গিয়ে জন্ম নিল এক দুঃখজনক আদর্শগত বিভ্রান্তি। মেধাবী অকালপক্কতার এই যুগে নয়া জীবনীশক্তি নিয়ে নানাপ্রকার অলীক পরিকল্পনা চলত। তা ছিল স্বেচ্ছাচারী ও উচ্ছৃঙ্খল – কতকটা ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ সমুদ্রে হালভাঙা নৌকার মতো।</p>
<p> </p>
<p>তিন</p>
<p> যে অবিস্মরণীয় ব্যক্তিত্ব বঙ্গদেশকে এই সংকট থেকে উদ্ধার করেন তিনি মহামতি রাজা রামমোহন রায়। এই অসামান্য মেধাসম্পন্ন মণীষী ছিলেন সমসাময়িককালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক রাজর্ষি। সেযুগে তাঁর সমকালীনদের অতিক্রম করে এই রাজকীয় প্রতিভা প্রত্যেকটি দ্রুত প্রবহমান নতুন চিন্তাধারার যথাযথ মূল্যায়ন করেন এবং নিজেকে পরিচালিত করে নিয়ে যান প্রায়-নির্ভুল এক আচারপরায়ণতায়। ম্যাকাউলির সমান বাস্তববোধসম্পন্ন রামমোহন অবশ্য কোনও সাধারণ সুযোগসন্ধানী ছিলেন না। তিনি ছিলেন সত্যকার ভবিষ্যদ্রষ্টা; তাঁর মধ্যে ছিল মহাপুরুষোচিত পরম উদ্যমের এক পবিত্র আগুন। বিদ্যাচর্চার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন প্রথম যুগের নব্য পাশ্চাত্যশিক্ষার সক্রিয় পথপ্রদর্শক। ম্যাকাউলির কর্মসূচি তিনি আগ্রহের সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে চলেন। কিন্তু তাঁর সেই বিস্ময়কর পূর্ণজীবনের শ্রেষ্ঠ কৃতিত্ব হল বাঙালি জাতির মনে ভারতের অতীত সম্পর্কে এক সত্য শ্রদ্ধাবোধের পুনরুজ্জীবন। পরবর্তীকালে যা এদেশের ধ্রুপদী সংস্কৃত সাহিত্যেরও পুনরুজ্জীবন ঘটায়। সর্বোপরি, তাঁর মাতৃভাষা বাংলাকে তিনি অবজ্ঞা করেননি, বরং বিদ্যাচর্চার ক্ষেত্রে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেন তাকে।</p>
<p> </p>
<p>চার</p>
<p>বঙ্গদেশের বৌদ্ধিক পুনর্জাগরণের পরবর্তী অবিস্মরণীয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন রবীন্দ্রনাথের পিতা দেবেন্দ্রনাথ। প্রায় অর্ধশতাব্দীকাল স্থায়ী হয়েছিল তাঁর কর্মপ্রভাব। এই সাহিত্যবৃক্ষের ভূগর্ভস্থ মূল যদি হন রামমোহন রায়, দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর তবে তার সুদৃঢ় তেজদৃপ্ত কাণ্ডস্বরূপ এবং তাঁর পুত্র রবীন্দ্রনাথ সে-বৃক্ষের ফুল ও ফল। সাহিত্যের ইতিহাসে এমন প্রত্যক্ষ পারম্পর্য সচরাচর দৃষ্ট হয় না।</p>
<p>দেবেন্দ্রনাথের ধর্মীয় চরিত্র সমসাময়িক যুগকে তাঁর স্বকীয় নীতিবোধের মহিমায় মহিমান্বিত করেছিল। তাঁর আধ্যাত্মিক কর্তৃত্বের প্রভাব এতই গভীর ছিল যে সর্বসাধারণ্যে তিনি মহর্ষি নামে প্রসিদ্ধি লাভ করেন। ইংরেজি ফ্যাসানের প্লাবনের যুগেও তিনি প্রাচীন ঐতিহ্যসূত্রগুলিকে আঁকড়ে ধরে থাকেন এবং স্বদেশকে তার নিজস্ব ইতিহাসের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে এরূপ বন্ধনগুলিকে শক্তিশালী করে তোলেন।</p>
<p>পুত্রদ্বারা অনূদিত তাঁর আত্মজীবনীতে প্রকাশিত হয় আধুনিক বঙ্গদেশের গভীর অধ্যাত্মশক্তি তথা বৌদ্ধিক জ্ঞানলাভের জন্য তাঁর অদম্য পিপাসার কথা। ঠাকুর পরিবার ইতিপূর্বেই আকর্ষিত হয়েছিল রাজা রামমোহন রায়ের বৃত্তের প্রতি। বাল্য থেকে যৌবনে নিজের জীবনে এই মহান সংস্কারকের অমলিন স্মৃতি দেবেন্দ্রনাথের জীবনের অন্যতম পাথেয় প্রতিপন্ন হয়।</p>
<p>ঊনবিংশ শতকের মধ্যভাগে এই সকল প্রারম্ভিক আন্দোলন বঙ্গদেশের বৌদ্ধিক ইতিহাসে এক সৃষ্টিশীল পর্যায়ের সূচনা ঘটায়; যা শুধু বঙ্গীয় নবজাগরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, সমগ্র প্রাচ্যের নিকট নবযুগের সূর্যোদয় রূপে প্রতিভাত হয়।</p>
<p> </p>
<p>পাঁচ</p>
<p>যে চিহ্নটি বঙ্গদেশের এই নবজাগরণের উপর জ্বাজল্যমান, তা হল নব্য পাশ্চাত্য শিক্ষা ও পুনরুজ্জীবিত ধ্রুপদী সংস্কৃত সাহিত্যের মধ্যকার দ্বন্দ্বের চিহ্ন। এযুগের লেখকদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা মনোহর তথা ক্ষণস্থায়ী কুসুমটি হলেন তরু দত্ত। তরু দত্ত কেবল ইংরেজি ভাষাতেই গান রচনা করতেন। কিন্তু তাঁর সামগ্রিক সাহিত্যকর্মে পরিব্যপ্ত প্রাচীন সংস্কৃতের সুবাস তাকে পরিণত করে এক জাতীয় সম্পদে। মাইকেল মধুসূদন দত্তও ইংরেজিতে কাব্যরচনা শুরু করেন; কিন্তু সেই সাহিত্যিক সক্ষমতার চূড়াতে অবস্থানকালেই তিনি ইংরেজি ভাষা পরিত্যাগ করে কাব্যরচনা শুরু করেন আশ্চর্য সুনাদিত ও রাজসিক বাংলা ছন্দে। তাঁকে বলা হয় পুনর্জাগরিত বঙ্গদেশের মিলটন। বঙ্কিমের উপন্যাসগুলি প্রতি মুহুর্তে মনে করিয়ে দেয় পাশ্চাত্য রোম্যান্স সাহিত্যিকদের কথা। নব্যবঙ্গের নবলব্ধ সম্পদের আনন্দই যে এগুলির আবির্ভাবের পশ্চাদে বিদ্যমান, তা অনুমান করতে কোনও ভুল হয় না আমাদের।</p>
<p>এই ইংরেজি শিক্ষার প্রতি এ যুগের আকর্ষণ বা নিষ্ঠা যতই থাকুক না কেন, অন্তরে তাঁরা ছিলেন প্রাচীন ভারতীয় আদর্শের প্রতি সত্যবদ্ধ। এই পর্যায়ের শক্তি নিহিত ছিল এখানেই – যে পাথরে তাঁরা নিজেরা খোদিত ছিলেন, সেই পাথর তাঁদের কাছে ছিল অতি সুপরিচিত। নিজেদের জন্মগত অধিকারকে তাঁরা ঘৃণা করতেন না। শুধু ভাষাই নয়, সাহিত্যের নতুন বিষয়ও তাকে নিয়ে আসে মানুষের সন্নিকটে। পশ্চাদপদ গ্রামীণ বঙ্গদেশের জীবন স্থাপিত হয় এক নতুন উপলব্ধির কেন্দ্রে। শুধু বিষয়বস্তুর খাতিরে তার দেহে সংস্থাপিত হয় মধ্যযুগীয় বা প্রাচীন উপাদান। অবশেষে মানুষের মনে জেগে ওঠে এক সার্বভৌম আদর্শচেতনা। স্বদেশী কাব্য ও সংগীতধারার জীবন্ত প্রস্তরের মধ্য থেকে সৃষ্টি হয় প্রকৃত জাতীয় সাহিত্য ও শিল্প।</p>
<p> </p>
<p>ছয়</p>
<p>অতীতের এই সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের মধ্যে প্রবেশ করেন যুবক কবি রবীন্দ্রনাথ। এই আদর্শচেতনাটিকে বঙ্গদেশের এক জ্বলন্ত উদাহরণে পরিণত করতে সর্বাধিক শ্রমদান করেন তিনিই। আমার এক বন্ধু আমকে একটি ঘটনার কথা বলেছিলেন। একবার প্রবীণ ঔপন্যাসিক বঙ্কিমকে মালা পরিয়ে সম্মানিত করা হয়। বৃদ্ধ মালাটি নিজের গলা হতে খুলে নিয়ে তাঁর পদতলে উপবিষ্ট নবীন সাহিত্যস্রষ্টা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গলায় পরিয়ে দেন সেটি।</p>
<p>বঙ্কিমের একাজ আজ সর্বসাধারণের দৃষ্টিতে তাঁর বদান্যতা ও যাথার্থ্যবোধের পরিচায়ক রূপে গণ্য হয়। যে উচ্চতা অর্জনে অন্যরা প্রাণপাত করছিলেন, অলঙ্ঘনীয় বাধার মধ্যেও রবীন্দ্রনাথ তাঁর সর্বোচ্চ মেধার স্বচ্ছন্দ আয়াসে সেখানে উন্নীত হন। যে শিল্পাদর্শ পূর্বে ধোঁয়াশাচ্ছন্ন ছিল, মানসচক্ষে তা তিনি দেখতে পান সুষ্পষ্ট। এছাড়াও পরবর্তীকালের রচনাগুলির মাধ্যমে তিনি তাঁর পিতৃদেবের অধ্যাত্মব্রতকে এগিয়ে নিয়ে চলেন; সহজ সুন্দরের আবরণে আবরিত করেন তাঁর স্বকীয় ধর্মচেতনাকে।</p>
<p>সাম্প্রতিক বছরগুলিতে তাঁর খ্যাতি লাভ করেছে পরিপূর্ণতা; তাঁর কাব্যে দেখা দিয়েছে দিব্যপ্রেরণার বৈশিষ্ট্য। প্রকৃতির কোলে সীমাহীন আনন্দের তুরীয় অবস্থান থেকে বেরিয়ে তিনি প্রবেশ করেছেন জগতের বিপুল দুঃখরহস্যে; দরিদ্রের বোঝার ভার ভাগ করে নিতে; অবিচল থেকে মৃত্যুর মুখোমুখি হতে; ঈশ্বরের নির্মেঘ দৃষ্টির অনুসন্ধান করতে, তাকে অর্জন করতে।</p>
<p> </p>
<p>সাত</p>
<p>এ সব কিছুর মধ্যেই রবীন্দ্রনাথ অবস্থান করেন বঙ্গদেশের হৃদয়ের অত্যন্ত নিকটে। ১৯১২ সালে যখন ওঁর কাছে ছিলাম, তখন দেখতাম শান্তিনিকেতনের ছেলেদের প্রীতিসম্ভাষণের জন্য কিভাবে তাঁর চোখ যেন সমুদ্র পেরিয়ে ছুটে চলত। শিলাইদহে গাঁয়ের মানুষগুলির মাঝেও ফিরে আসতে চাইতেন তিনি; তাদের কাছে তিনি ছিলেন পিতা ও সুহৃদ।</p>
<p>বঙ্গদেশের মাটি থেকে তিনি গ্রহণ করেছিলেন তাঁর গভীরতম অনুপ্রেরণা। তাই সেই বঙ্গদেশ যখন তাঁর সংগীতাভিসারের উচ্চ চেতনাধারায় অনুরণিত হয়, তখন তাতে আশ্চর্যান্বিত হওয়ার কিছুই থাকে না। স্বদেশবাসীর আশাকে উজ্জীবিত করে ইতিহাসের এক অমোঘ মুহুর্তে তিনি তাদের দিয়েছেন ভাবসঞ্জীবনী। শিল্প-সংগীতের দেশে,</p>
<p>     বৃহৎ বিশ্বের অন্তর্যামী সত্ত্বা</p>
<p>     অনাহতের স্বপ্নে</p>
<p>অবশেষে তাঁর কাব্যের মধ্যে ও মাধ্যমে খুঁজে পেয়েছে অন্তর্দৃষ্টি। আজ বঙ্গদেশ যে স্বপ্নে বিভোর, হয়ত তার সমস্তটা পূর্ণ হবে না কোনওদিন।</p>
<p>        উচ্ছ্বাস কলরোল ফুরাবে</p>
<p>       হারিয়ে যাবে নেতা ও নৃপতির দল</p>
<p> সাহিত্য ও সাম্রাজ্য – উভয়ের রঙ্গমঞ্চ থেকেই। কিন্তু সংগীত নামক মহৎ মাধ্যমটির দ্বারা উজ্জীবিত গণশক্তি আশান্বিত হয়ে নিনাদিত হবে। আজ নরনারী এমনকি শিশুরাও রবীন্দ্রনাথের দৃষ্টিতে ‘সোনার বাংলা’র স্বরূপটি অনুধাবন করতে সক্ষম।</p>
<p> এই শুভ স্বরূপটি উজ্জ্বল ও দীপ্তিমান। আর এক সসম্ভ্রম পূতচেতনা তার মধ্যে নিহিত যে ঈশ্বর তাঁর সন্তানদের ত্রাণের নিমিত্ত আবিভূর্ত হয়েছেন।</p>
<p> আপামর জনসাধারণের মধ্যে সংগীত ও সাহিত্যের সর্বোচ্চ শক্তির সাহায্যে এই নতুন চেতনাশক্তির জাগরণ পাশ্চাত্য দৃষ্টিতে কিছু অসম্ভব মনে হলেও, একথা অবশ্য স্মর্তব্য যে ভারত আজও অরূপের প্রতি রূপের আস্থায় বিশ্বাসী; যেমন অন্তরের গভীরে, তেমনই বহিরঙ্গে॥</p>
<p> </p>
<p>(লেটারস টু আ ফ্রেন্ড – রবীন্দ্রনাথ টেগোর’স লেটারস টু সি এফ অ্যান্ড্রুজ গ্রন্থের সূচনাভাগ থেকে অনূদিত)</p>
<a href="http://www.addtoany.com/add_to/google_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Farnabdutta%2F3379&amp;linkname=%E0%A6%AC%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A7%80%E0%A7%9F%20%E0%A6%A8%E0%A6%AC%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%97%E0%A6%B0%E0%A6%A3%20%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%B8%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A7%87" title="Google Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/google.png" width="16" height="16" alt="Google Bookmarks"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/orkut?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Farnabdutta%2F3379&amp;linkname=%E0%A6%AC%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A7%80%E0%A7%9F%20%E0%A6%A8%E0%A6%AC%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%97%E0%A6%B0%E0%A6%A3%20%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%B8%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A7%87" title="Orkut" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/orkut.png" width="16" height="16" alt="Orkut"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/twitter?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Farnabdutta%2F3379&amp;linkname=%E0%A6%AC%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A7%80%E0%A7%9F%20%E0%A6%A8%E0%A6%AC%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%97%E0%A6%B0%E0%A6%A3%20%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%B8%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A7%87" title="Twitter" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/twitter.png" width="16" height="16" alt="Twitter"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/facebook?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Farnabdutta%2F3379&amp;linkname=%E0%A6%AC%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A7%80%E0%A7%9F%20%E0%A6%A8%E0%A6%AC%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%97%E0%A6%B0%E0%A6%A3%20%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%B8%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A7%87" title="Facebook" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/facebook.png" width="16" height="16" alt="Facebook"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/yahoo_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Farnabdutta%2F3379&amp;linkname=%E0%A6%AC%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A7%80%E0%A7%9F%20%E0%A6%A8%E0%A6%AC%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%97%E0%A6%B0%E0%A6%A3%20%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%B8%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A7%87" title="Yahoo Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/yahoo.png" width="16" height="16" alt="Yahoo Bookmarks"/></a> <a class="a2a_dd addtoany_share_save" href="http://www.addtoany.com/share_save?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Farnabdutta%2F3379&amp;linkname=%E0%A6%AC%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A7%80%E0%A7%9F%20%E0%A6%A8%E0%A6%AC%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%97%E0%A6%B0%E0%A6%A3%20%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%B8%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A7%87"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/share_save_120_16.png" width="120" height="16" alt="Share/Bookmark"/></a>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://coffeehouseradda.com/blog/arnabdutta/3379/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>6</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>ভারতের প্রথম জাতীয় কবি&#8211; &#8220;তুতি-এ-হিন্দ&#8211; আমীর খসরু&#8221; ও তার প্রেক্ষাপট (পর্ব-২)</title>
		<link>http://coffeehouseradda.com/blog/ranykolkata/3345</link>
		<comments>http://coffeehouseradda.com/blog/ranykolkata/3345#comments</comments>
		<pubDate>Sat, 31 Jul 2010 15:22:18 +0000</pubDate>
		<dc:creator>রনি কোলকাতা</dc:creator>
				<category><![CDATA[প্রবন্ধ]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://coffeehouseradda.com/?p=3345</guid>
		<description><![CDATA[<a href=http://coffeehouseradda.com/blog/ranykolkata/3345><img src=http://prothom-aloblog.com/img/uploads/adad76a06d0bc8a55f3c853a5e19875f.jpg class=imgtfe hspace=5 align=left width=100  border=0></a>
ঠিক এমনিই আর একটি ঢেউ উঠেছিল সপ্তম শতকে ইসলামী সভ্যতার উথ্বান এবং বিকাশের মধ্য দিয়ে। মরুময় আরব ভূমি থেকে ছড়িয়ে পড়েছিল তদানীন্তন সময়ে পরিচিত ভৌগোলিক পরিসীমার আনাচে কানাচে। কোথাও প্রত্যক্ষভাবে, আবার কোথাও পরোক্ষভাবে। সমগ্র পশ্চিম এশিয়া, মধ্য এশিয়া, দক্ষিন পূর্ব এশিয়া, আফ্রিকা এবং ইউরোপের দক্ষিন অংশের গ্রিস, বর্তমান রাশিয়া, আলবেনিয়া, তুরস্কের ইউরোপীয় অংশ সহ ভূমধ্যসাগরীয় [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><img src="http://prothom-aloblog.com/img/uploads/adad76a06d0bc8a55f3c853a5e19875f.jpg" alt="" /></p>
<p>ঠিক এমনিই আর একটি ঢেউ উঠেছিল সপ্তম শতকে ইসলামী সভ্যতার উথ্বান এবং বিকাশের মধ্য দিয়ে। মরুময় আরব ভূমি থেকে ছড়িয়ে পড়েছিল তদানীন্তন সময়ে পরিচিত ভৌগোলিক পরিসীমার আনাচে কানাচে। কোথাও প্রত্যক্ষভাবে, আবার কোথাও পরোক্ষভাবে। সমগ্র পশ্চিম এশিয়া, মধ্য এশিয়া, দক্ষিন পূর্ব এশিয়া, আফ্রিকা এবং ইউরোপের দক্ষিন অংশের গ্রিস, বর্তমান রাশিয়া, আলবেনিয়া, তুরস্কের ইউরোপীয় অংশ সহ ভূমধ্যসাগরীয় এলাকার ছোট বড় দ্বীপের উপরে আসে প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণ। আরবদের ভাষা সংস্কৃতি পায় আন্তর্জাতিক গুরুত্ব।</p>
<p>মজার ব্যাপার হল ইসলাম কতৃক প্রজ্বলিত ভাষা সাহিত্য শিল্প বিজ্ঞান সংস্কৃতির আলোকে আলোকিত পারস্য সাম্রাজ্য ইসলাম এবং ইসলামের যা কিছু ভাল তা অকুণ্ঠ চিত্তে গ্রহন করল এবং সমৃদ্ধতর এক জাতিতে রূপান্তরিত হল। কিন্তু এই রূপান্তর অন্যদের মতো এক পাক্ষিক হল না। এমনিতেই বিশাল পারস্য সাম্রাজ্য নিজস্ব সভ্যতাও সংস্কৃতিতে উজ্জ্বল ছিল। তার অভিমানও ছিল তাদের চিত্তে। ইসলামী ধর্ম সংস্কৃতিকে বরন করে নেবার পরেও স্বকীয় প্রক্রিয়ায় আরবী ভাষা সংস্কৃতিকে আহিত করেছিল পারস্য ভাষা সাহিত্য শৈল্পিক সম্পদ দিয়ে। এটা গাঢ়তর রূপ লাভ করেছিল আরববাসীর খেলাফত আমলে ৮১১ খ্রিষ্টাব্দে খলিফা মামুনের রাজধানী সিরিয়ার দামাস্কাস থেকে বাগদাদে স্থানান্তরের পর থেকে। সমগ্র মধ্য এশিয়া, ভারতীয় উপমহাদেশ সহ দক্ষিন-পূর্ব এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়ল ইসলাম বাহিত পারস্য ভাষা সাহিত্য শিল্প। মধ্য এশিয়ায় যে স্পেনের কর্ডোভার মতই সমরখন্দ বুখারায় বৌদ্ধিক চর্চার কেন্দ্র হিসাবে গড়ে উঠেছিল সেখানেও রাজধানী স্থানান্তরের কিছু প্রভাব অবশ্যই ছিল। ভাবলে অবাক হতে হয় গনিত বিদ্যা, চিকিৎসা বিজ্ঞান, জ্যোতির্বিজ্ঞানের যে নতুন নতুন দিগন্তের উন্মোচন হয়েছিল—তার শুরু এখান থেকেই। উচ্চমানের অবজারভেটরি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল মহাকাশ গবেষণার জন্য। আবুসিনার মতো বিশ্ববিশ্রুত চিকিৎসক এবং দার্শনিক কবির বিচরন ভূমি ছিল এই সমস্ত এলাকা।</p>
<p>ভারতীয় সংস্কৃতির বিবর্তনে রাজধানীর স্থানন্তরের প্রভাব অত্যন্ত গভীর এবং সুদূর প্রসারী। ভারতে ইসলামী সভ্যতার প্রচার এবং প্রসারের ভাবনাটি ইসলামের জন্মের অব্যবহিত পরেই। দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর (রঃ) ৬৩৬-৬৩৭ খ্রীষ্টাব্দে প্রথম প্রচেষ্টা চালান কিন্তু তা ফলপ্রসূ হয়নি। পরে চতুর্থ খলিফা হযরত আলীর সময়েও উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং তা পরিত্যক্ত হয়। এ ব্যাপারে প্রথম সাফল্য আসে ৭১২ খ্রিষ্টাব্দে। ইসলামী সাম্রাজ্যের পূর্বাঞ্চলীয় শাসক হাজ্জাজ-বিন-ইউসুফের উদ্যোগে তারই জামাতা মহন্মদ-বিন-কাশিমের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযান এই সাফল্য এনে দেয়। সিন্ধুর রাজা দাহিরের পতনের মাধ্যমে ইসলামী সংস্কৃতির সঙ্গে ভারতীয় সংস্কৃতির প্রত্যক্ষ যোগাযোগের ক্ষেত্র তৈরী হয়। যদিও ঐতিহাসিক নেলপুন তাকে Triumph without result বলে মন্তব্য করেছেন। মন্তব্যটি অবশ্যই বিতর্কের উর্দ্ধে নয়।</p>
<p>পরবর্তী অভিযানকারী গজনীর সুলতান মামুদ। মহন্মদ-বিন-কাশিমের অভিযানের ২৮৮ বছর পর তার অভিযান এবং শুধু একবার বা দু বার নয়। তার জীবদ্দশায় (মৃত্যু-১০২৬) ১৭ বার ভারতে ঝড়ের বেগে প্রবেশ করেন। স্থায়ী কোন সাম্রাজ্যের বিস্তার তার লক্ষ্য ছিল না। শুধুমাত্র ধনসম্পদকে হস্তগত করা এবং তা দিয়ে গজনী কে সম্পদে ঐশ্বর্যে এবং হর্ম্য প্রাসাদে সুসজ্জিত করে তোলা। সে কারনেই তিনি সব চাইতে নিন্দিত আক্রমণ কারীদের মধ্যে অন্যতম বলে চিহ্নিত। তবে তার চরিত্রের আরও একটা দিক আছে যার জন্য তিনি নন্দিত হবার দাবি করতেই পারেন, সেটা হল নিবন্ধের লক্ষ্য মান বিষয়। ভারতীয় সংস্কৃতিতে আরব এবং পারস্য সংস্কৃতির মিলন এবং পরবর্তী সময়ে সংস্কৃতি চর্চায় তার ভূমিকা। এক্ষেত্রে সুলতান মামুদের এদিকটাও আলোচনার দাবি রাখে।</p>
<p>সমরখন্দ বুখারার প্রতিবেশী খোয়ারিজ দখলের পর ধন সম্পদের সঙ্গে তার চোখ যায় আবু রাইহান আল বিরুনী, আব্দুল খায়ের আল হুসেন বিন খন্মার আল বাগদাদী এবং আবু সহল ঈশা বিন ইয়াইয়া আল মসিহীর মত লব্ধ প্রতিষ্ঠিত দার্শনিক বিজ্ঞানী চিকিৎসকের উপর। তাদের তিনি গজনীতে এনে বসবাস করতে বাধ্য করেন। ভারত অভিযানের সময় এই সব পণ্ডিতদের কাউকে কাউকে সঙ্গে নিয়ে আসেন। সন্দেহ বাতিকগ্রস্ত এই মানুষটি তাদের চলাফেরার উপর সজাগ দৃষ্টি রাখতেন। তার সময় ভারতবর্ষ থেকেও বহু পণ্ডিতদের গজনীতে নিয়ে গিয়ে বসবাসের ব্যবস্থা করা হয়। যাকে অতি গোঁড়া বলে সমালোচনা করা হয়। তার দরবারেই ভারতীয় হিন্দু পণ্ডিত ছাড়াও খ্রীষ্টান পণ্ডিতদেরও সমাদর করা হতো। আল বিরুনীর সঙ্গে আনীত আবুল খায়ের এবং আবু সহল ধর্ম বিশ্বাসে দুজনেই খ্রীষ্টান ছিলেন।</p>
<p>চলবে&#8212;&#8212;</p>
<p>তথ্যসুত্রঃ-<br />
১) পারস্য সাহিত্য পরিক্রমা&#8212; পার্বতীচরন ভট্টাচার্য।<br />
২) আমীর খশরুর দীওয়ান—অনুবাদ—হাবিব আহসান<br />
৩) ভারতের মুসলিম সংস্কৃতির ক্রমবিকাশ &#8211;এম কে জওহর<br />
৪) সংস্কৃতির সমন্বয় কিছু ভাবনা &#8212; ডঃ রেজাউল করীম<br />
৫) ওমর খৈয়াম – অনুবাদ – সুরেশ চন্দ্রনন্দী<br />
৬) ইংরেজী সাহিত্যের ইতিহাস – কুন্তল চট্টোপাধ্যায়<br />
৭) আধুনিক ইংল্যান্ড – টিউডড় যুগ – অধ্যাপক গোপাল চন্দ্র সিনহা<br />
৮) ভাস্কো ডা গামার পাচশ বছর – সুরজিৎ দাস<br />
৯) আল বিরুণীর ভারত তত্ত্ব – অনুবাদ—বাংলা একাডেমি (ঢাকা)</p>
<a href="http://www.addtoany.com/add_to/google_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Franykolkata%2F3345&amp;linkname=%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A5%E0%A6%AE%20%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%80%E0%A7%9F%20%E0%A6%95%E0%A6%AC%E0%A6%BF%26%238211%3B%20%26%238220%3B%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%A4%E0%A6%BF-%E0%A6%8F-%E0%A6%B9%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%26%238211%3B%20%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A7%80%E0%A6%B0%20%E0%A6%96%E0%A6%B8%E0%A6%B0%E0%A7%81%26%238221%3B%20%E0%A6%93%20%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%BE%E0%A6%AA%E0%A6%9F%20%28%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AC-%E0%A7%A8%29" title="Google Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/google.png" width="16" height="16" alt="Google Bookmarks"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/orkut?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Franykolkata%2F3345&amp;linkname=%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A5%E0%A6%AE%20%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%80%E0%A7%9F%20%E0%A6%95%E0%A6%AC%E0%A6%BF%26%238211%3B%20%26%238220%3B%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%A4%E0%A6%BF-%E0%A6%8F-%E0%A6%B9%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%26%238211%3B%20%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A7%80%E0%A6%B0%20%E0%A6%96%E0%A6%B8%E0%A6%B0%E0%A7%81%26%238221%3B%20%E0%A6%93%20%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%BE%E0%A6%AA%E0%A6%9F%20%28%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AC-%E0%A7%A8%29" title="Orkut" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/orkut.png" width="16" height="16" alt="Orkut"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/twitter?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Franykolkata%2F3345&amp;linkname=%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A5%E0%A6%AE%20%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%80%E0%A7%9F%20%E0%A6%95%E0%A6%AC%E0%A6%BF%26%238211%3B%20%26%238220%3B%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%A4%E0%A6%BF-%E0%A6%8F-%E0%A6%B9%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%26%238211%3B%20%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A7%80%E0%A6%B0%20%E0%A6%96%E0%A6%B8%E0%A6%B0%E0%A7%81%26%238221%3B%20%E0%A6%93%20%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%BE%E0%A6%AA%E0%A6%9F%20%28%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AC-%E0%A7%A8%29" title="Twitter" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/twitter.png" width="16" height="16" alt="Twitter"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/facebook?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Franykolkata%2F3345&amp;linkname=%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A5%E0%A6%AE%20%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%80%E0%A7%9F%20%E0%A6%95%E0%A6%AC%E0%A6%BF%26%238211%3B%20%26%238220%3B%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%A4%E0%A6%BF-%E0%A6%8F-%E0%A6%B9%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%26%238211%3B%20%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A7%80%E0%A6%B0%20%E0%A6%96%E0%A6%B8%E0%A6%B0%E0%A7%81%26%238221%3B%20%E0%A6%93%20%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%BE%E0%A6%AA%E0%A6%9F%20%28%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AC-%E0%A7%A8%29" title="Facebook" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/facebook.png" width="16" height="16" alt="Facebook"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/yahoo_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Franykolkata%2F3345&amp;linkname=%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A5%E0%A6%AE%20%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%80%E0%A7%9F%20%E0%A6%95%E0%A6%AC%E0%A6%BF%26%238211%3B%20%26%238220%3B%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%A4%E0%A6%BF-%E0%A6%8F-%E0%A6%B9%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%26%238211%3B%20%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A7%80%E0%A6%B0%20%E0%A6%96%E0%A6%B8%E0%A6%B0%E0%A7%81%26%238221%3B%20%E0%A6%93%20%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%BE%E0%A6%AA%E0%A6%9F%20%28%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AC-%E0%A7%A8%29" title="Yahoo Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/yahoo.png" width="16" height="16" alt="Yahoo Bookmarks"/></a> <a class="a2a_dd addtoany_share_save" href="http://www.addtoany.com/share_save?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Franykolkata%2F3345&amp;linkname=%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A5%E0%A6%AE%20%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%80%E0%A7%9F%20%E0%A6%95%E0%A6%AC%E0%A6%BF%26%238211%3B%20%26%238220%3B%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%A4%E0%A6%BF-%E0%A6%8F-%E0%A6%B9%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%26%238211%3B%20%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A7%80%E0%A6%B0%20%E0%A6%96%E0%A6%B8%E0%A6%B0%E0%A7%81%26%238221%3B%20%E0%A6%93%20%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%BE%E0%A6%AA%E0%A6%9F%20%28%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AC-%E0%A7%A8%29"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/share_save_120_16.png" width="120" height="16" alt="Share/Bookmark"/></a>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://coffeehouseradda.com/blog/ranykolkata/3345/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>2</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>কাউন্ট ড্রাকুলা কী সত্যিই ছিলেন?</title>
		<link>http://coffeehouseradda.com/blog/arnabdutta/3332</link>
		<comments>http://coffeehouseradda.com/blog/arnabdutta/3332#comments</comments>
		<pubDate>Sat, 31 Jul 2010 11:43:58 +0000</pubDate>
		<dc:creator>অর্ণব দত্ত</dc:creator>
				<category><![CDATA[প্রবন্ধ]]></category>
		<category><![CDATA[ব্লগাড্ডা]]></category>
		<category><![CDATA[ট্রানসিলভানিয়া]]></category>
		<category><![CDATA[ড্রাকুলা]]></category>
		<category><![CDATA[ব্রাম স্টোকার]]></category>
		<category><![CDATA[ভ্যাম্পায়ার]]></category>
		<category><![CDATA[রোমানিয়া]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://coffeehouseradda.com/?p=3332</guid>
		<description><![CDATA[<a href=http://coffeehouseradda.com/blog/arnabdutta/3332><img src=http://coffeehouseradda.com/files/2010/07/dracula2.jpg class=imgtfe hspace=5 align=left width=100  border=0></a> মধ্যযুগে রোমানিয়া বিভক্ত ছিল তিনটি &#8220;প্রিন্সিপ্যালিটি&#8221; বা যুবরাজ-শাসিত রাজ্যে: ওয়ালাশিয়া, মলডাভিয়া ও ট্রানসিলভানিয়া। ১৪৩১ সালে কার্পেথিয়ান পর্বতমালার কোলে অবস্থিত ট্রানসিলভানিয়ার দক্ষিণে ওয়ালাশিয়া রাজ্যের যুবরাজ ভ্লাদ ড্রাকুলের স্ত্রী একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। তাঁর নাম তৃতীয় ভ্লাদ। রোমানিয়ান প্রথানুসারে তাঁকে ডাকা হত &#8220;ড্রাকুলা&#8221; নামে। ভ্লাদ ড্রাকুলের নামের অর্থ ছিল &#8220;ভ্লাদ দ্য ডেভিল&#8221; বা &#8220;শয়তান ভ্লাদ&#8221;। [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><img class="alignleft size-full wp-image-3333" src="http://coffeehouseradda.com/files/2010/07/dracula2.jpg" alt="dracula" width="290" height="369" /> মধ্যযুগে রোমানিয়া বিভক্ত ছিল তিনটি &#8220;প্রিন্সিপ্যালিটি&#8221; বা যুবরাজ-শাসিত রাজ্যে: ওয়ালাশিয়া, মলডাভিয়া ও ট্রানসিলভানিয়া। ১৪৩১ সালে কার্পেথিয়ান পর্বতমালার কোলে অবস্থিত ট্রানসিলভানিয়ার দক্ষিণে ওয়ালাশিয়া রাজ্যের যুবরাজ ভ্লাদ ড্রাকুলের স্ত্রী একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। তাঁর নাম তৃতীয় ভ্লাদ। রোমানিয়ান প্রথানুসারে তাঁকে ডাকা হত &#8220;ড্রাকুলা&#8221; নামে। ভ্লাদ ড্রাকুলের নামের অর্থ ছিল &#8220;ভ্লাদ দ্য ডেভিল&#8221; বা &#8220;শয়তান ভ্লাদ&#8221;। সেই অর্থে তাঁর পুত্রের নামের অর্থ হয় &#8220;শয়তানের পুত্র&#8221;। তৃতীয় ভ্লাদ ভ্যাম্পায়ার ছিলেন না বটে, কিন্তু তাঁর নামের সঙ্গে পরবর্তীকালে যে বিশেষণটি জুড়ে যায়, সেটি তাঁর &#8220;রক্তপিপাসু&#8221; প্রবৃত্তির কিছুটা আভাস বহন করে। তাঁকে বলা হত &#8220;ভ্লাদ দি ইমপেলার&#8221; বা &#8220;শূলে-চড়ানিয়া ভ্লাদ&#8221;। মধ্যযুগের ইতিহাসেও তাঁর নিষ্ঠুরতার কাহিনি একটু বেশি রকমের আশ্চর্যজনক।</p>
<p>সময়টা ইউরোপের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অস্থিরতার যুগ। তুর্কি মুসলমানেরা এই সময় সমগ্র ইউরোপ জুড়ে এক বড়োসড়ো যুদ্ধাভিযানের ছক কষছিল। আর তাই নিয়ে ইউরোপের খ্রিষ্টান রাজশক্তির সঙ্গে চলছিল তাদের সংঘাত। ছেলেবেলায় একবার তুর্কিদের হাতে বন্দি হয়েছিলেন ভ্লাদ। তাঁর মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার প্রিয় পদ্ধতি শূলে চড়ানোর কৌশলটিও তিনি শিখেছিলেন এই তুর্কিদের দেখাদেখিই। পদ্ধতিটা সহজ, তবে বর্বরোচিত। একটা সূচালো আগাবিশিষ্ট কাঠ বা লোহার বিরাট একটি শলা বিঁধিয়ে দেওয়া হত দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিটির শরীরে। তারপর ওই অবস্থাতেই শলাটিকে খাড়াভাবে দাঁড় করিয়ে মাটির সঙ্গে গেঁথে দেওয়া হত। শলার মাথায় দণ্ডপ্রাপ্ত লোকটি যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে প্রাণত্যাগ করত।<br />
<img class="alignright size-full wp-image-3335" src="http://coffeehouseradda.com/files/2010/07/Vlad-III-Vlad-the-Impaler-at-Impalement.gif" alt="Vlad III (Vlad the Impaler) at Impalement" width="267" height="315" /><br />
১৪৪৮ খ্রিষ্টাব্দে তুর্কিরা ভ্লাদকে ওয়ালাশিয়ার সিংহাসনে স্থাপন করে। কিন্তু ভ্লাদ বিদ্রোহ করে পালিয়ে যান একটি খ্রিষ্টান মঠে। তুর্কিরা পূর্ব ইউরোপের বাইজানটাইন সাম্রাজ্যের রাজধানী কনস্টান্টিনোপল দখল করে নিলে ১৪৫৬ সালে ওয়ালাশিয়ায় ফিরে আসেন ভ্লাদ। তুর্কিদের সঙ্গে শুরু হয় তাঁর তুমুল সংগ্রাম। তাঁর সেনাবাহিনী প্রায় কৃষ্ণসাগর পর্যন্ত গিয়ে দানিউব নদীর অববাহিকায় সবকটি দুর্গ পুনরুদ্ধার করে এবং নৃশংসভাবে হত্যা করতে থাকে শত্রুদের। এই সময়েই সমগ্র অঞ্চল জুড়ে একই সঙ্গে খ্যাতি ও কুখ্যাতি কুড়িয়েছিলেন ভ্লাদ। শোনা যায়, দু’জন তুর্কি দূত তাঁর সভায় পাগড়ি খুলতে অস্বীকার করলে, তিনি তাঁদের পাগড়ি তাঁদের মাথার খুলির সঙ্গে পেরেক দিয়ে গেঁথে দেওয়ার আদেশ দিয়েছিলেন। নিজের নিজের প্রজাদের সঙ্গেও যে ভ্লাদ খুব সুব্যবহার করতেন এমন নয়। কারণে অকারণে হানা দিতেন বন্ধুশহরে। অত্যাচার চালাতেন। মানুষ খুন করতেন। পুড়িয়ে মারতেন, জীবন্ত সিদ্ধ করতেন বা গায়ের চামড়া ছাড়িয়ে নিতেন। ১৪৬০ সালের সেন্ট বার্থালোমিও ডে-এর দিনে ট্রানসিলভানিয়ার একটি শহরে হানা দিয়ে ৩০,০০০ লোককে শূলে চড়িয়েছিলেন ভ্লাদ। এটিই ছিল তাঁর নিষ্ঠুরতম গণহত্যা।</p>
<p>শেষদিকে ভ্লাদের সেনাবাহিনী তুর্কিদের হাতে পরাজিত হয়। তাঁর নিজের লোকজনও তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হয়ে ওঠে। জাল কাগজ বের করে তারা প্রমাণ করে যে ঘৃণিত তুর্কিদের সঙ্গে ভ্লাদের যোগসাজেশ ছিল। হাঙ্গেরির কিং মাথিয়াসে তাঁকে বারো বছর বন্দী করে রাখা হয়। কিন্তু মানুষকে শূলে চড়ানো তাঁর নেশায় পরিণত হয়েছিল। জানা যায়, কারারক্ষীদের বশ করে তাদের দিয়ে নেংটি ইঁদুর বা অন্য ছোটো জানোয়ার নিজের কক্ষে আনিয়ে নেশাগ্রস্থের মতো শলায় বিঁধিয়ে মারতেন সেগুলোকে!</p>
<p>১৪৭৬ সালে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ১৪৭৮ সালে সিংহাসন ফিরে পাওয়ার দু’মাসের মধ্যে তুর্কিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর কাটা মাথাটি মধুতে জারিত করে তুর্কি সুলতানের কাছে উপহার হিসেবে পাঠানো হয়।</p>
<p><img class="alignleft size-full wp-image-3338" src="http://coffeehouseradda.com/files/2010/07/Vlad_Tepes_002.jpg" alt="Vlad_Tepes_002" width="381" height="453" /></p>
<p>এখন প্রশ্ন উঠতে পারে এই &#8220;শূলে-চড়ানিয়া&#8221; ভ্লাদের সঙ্গে ভ্যাম্পায়ারের কি সম্পর্ক? <em>ড্রাকুলা</em> উপন্যাসের সেই কুখ্যাত রক্তচোষা কাউন্টের নাম হিসেবে ব্রাম স্টোকার ব্যবহার করেছেন শূলে-চড়ানিয়া ভ্লাদের ডাকনামটি। শুধু তাই নয়, কার্পেথিয়ান পর্বতমালার ভুতুড়ে নিসর্গ, মধ্যযুগীয় রোমানিয়ান ইতিহাসের নানা আবছায়া অনুষঙ্গ নিয়ে ট্রানসিলভানিয়ার ইতিহাসের ছায়া অনেকটাই পড়েছে ওই বেস্টসেলার বইটির গল্পে। কাউন্ট ড্রাকুলা নামটি স্টোকার সম্ভবত পেয়েছিলেন উইলিয়াম উইলকিনসনের বই <em>অ্যান অ্যাকাউন্ট অফ দ্য প্রিন্সিপ্যালিটিস অফ ওয়ালাশিয়া অ্যান্ড মলডাভিয়া: ইউথ ভেরিয়াস পলিটিক্যাল অবজার্ভেশনস রিলেটিং টু দেম</em> থেকে। বইটির কথা স্টোকার উল্লেখও করেছেন। বুদাপেস্টের এক হাঙ্গেরীয় প্রোফেসর ছিলেন স্টোকারের বন্ধু। কেউ কেউ তাই মনে করেন কাউন্ট ড্রাকুলা নামটি তাঁর বন্ধুর মুখ থেকেই শোনা। কেউ কেউ আবার বলে থাকেন কাউন্ট ড্রাকুলার নামটি ছাড়া শূলে-চড়ানিয়া ভ্লাদ সম্পর্কে আর কিছুই তেমন জানতেন না স্টোকার। তবে উপন্যাস বিভিন্ন অংশে কাউন্টের সংলাপে তাঁর অতীতের যে টুকরো ছবি পাওয়া যায়, তা পড়ে বলতেই হয়, রোমানিয়ার ইতিহাস সম্পর্কে স্টোকার একেবারেই ক’অক্ষর গোমাংস ছিলেন না। তবে তিনি শূলে-চড়ানিয়া ভ্লাদের কোনো উল্লেখ করেননি, এমনকি তাঁর শূলে-চড়ানো অভ্যাসটিরও কোনো আভাস দেননি উপন্যাসে।</p>
<p>এই ক্ষেত্রে বিশেষ ভাবে উল্লেখ করতে হবে রোমানিয়ার ওই অঞ্চলে ভ্যাম্পায়ার মিথের জনপ্রিয়তা। ভ্যাম্পায়ার-জাতীয় প্রাণীর উল্লেখ গ্রিস, মিশর এমনকি ভারতীয় লোককথাতেও পাওয়া যায়। কিন্তু ইউরোপীয় ভ্যাম্পায়ার মিথের উৎস দক্ষিণ স্লাভিক উপকথা। রোমানিয়ার সংস্কৃতিতে অবশ্য এই উপকথাগুলি পাওয়া যায় না। সপ্তদশ শতাব্দীর শেষভাগে পূর্ব ইউরোপে ভ্যাম্পায়ার উপকথাগুলি ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। অষ্টাদশ শতাব্দী থেকে বলকান থেকে প্রত্যাগত পর্যটকদের হাত ধরে এই উপকথাগুলি এসে উপস্থিত হয় পশ্চিম ইউরোপে। কি আশ্চর্য সমাপতন! উনিশ শতকের শেষ ভাগে স্বয়ং কাউন্ট ড্রাকুলাও লন্ডনে এসেছিলেন এই রকম এক পর্যটকের সাহায্যে!</p>
<p>শূলে-চড়ানিয়া ভ্লাদের কিংবদন্তি আর ভ্যাম্পায়ার উপকথা – পূর্ব ইউরোপের এই দুই উপাদানের সংমিশ্রণেই স্টোকার লেখেন তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস <em>ড্রাকুলা</em>। সম্ভবত ট্রানসিলাভানিয়া অঞ্চলে প্রচলিত ভ্যাম্পায়ার উপকথার কথা স্মরণ করেই স্টোকার তাঁর সৃষ্ট বিখ্যাত ভ্যাম্পায়ার চরিত্রটির পটভূমি সেখানেই স্থাপন করেন। আর পটভূমি নির্বাচনের পর এখানকার সবচেয়ে কুখ্যাত শাসক ভ্লাদ ড্রাকুলার কথাও স্বভাবতই তাঁর মনে এসে থাকবে। তিনি জানতেন খুব কম লোকই ভ্লাদ ড্রাকুলার সঙ্গে কাউন্ট ড্রাকুলার সংযোগটি আবিষ্কার করতে সক্ষম হবেন। আর যাঁরা সক্ষম হবেন, তাঁরাও ভ্লাদ ড্রাকুলার &#8220;রক্তপিপাসু&#8221; প্রবৃত্তির সঙ্গে ভাল মতোই পরিচিত থাকবেন। আর তাই ভ্যাম্পায়ার হিসেবে ড্রাকুলাই ছিলেন স্টোকারের কাছে সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য। সাধে কি আর উপন্যাসের নায়ক জনাথান হার্কার তার জার্নালে লিখেছিল: &#8220;একটা কাল্পনিক ঘূর্ণির কেন্দ্রের মতো বিশ্বের যত পরিচিত কুসংস্কার এসে জমা হয় কারপেথিয়ানের ঘোড়ার খুরের নালে।&#8221;</p>
<p>তথ্যসূত্র:</p>
<p>১) <em>ড্রাকুলা</em>, ব্রাম স্টোকার।<br />
২) <em>হাউ ডিড ইট রিয়েলি হ্যাপেন</em>, রিডার্স ডাইজেস্ট সংকলন, নিউ ইয়র্ক, ২০০০<br />
৩) উইকিপিডিয়া</p>
<a href="http://www.addtoany.com/add_to/google_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Farnabdutta%2F3332&amp;linkname=%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%89%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%9F%20%E0%A6%A1%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A6%BE%20%E0%A6%95%E0%A7%80%20%E0%A6%B8%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BF%E0%A6%87%20%E0%A6%9B%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%A8%3F" title="Google Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/google.png" width="16" height="16" alt="Google Bookmarks"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/orkut?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Farnabdutta%2F3332&amp;linkname=%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%89%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%9F%20%E0%A6%A1%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A6%BE%20%E0%A6%95%E0%A7%80%20%E0%A6%B8%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BF%E0%A6%87%20%E0%A6%9B%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%A8%3F" title="Orkut" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/orkut.png" width="16" height="16" alt="Orkut"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/twitter?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Farnabdutta%2F3332&amp;linkname=%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%89%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%9F%20%E0%A6%A1%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A6%BE%20%E0%A6%95%E0%A7%80%20%E0%A6%B8%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BF%E0%A6%87%20%E0%A6%9B%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%A8%3F" title="Twitter" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/twitter.png" width="16" height="16" alt="Twitter"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/facebook?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Farnabdutta%2F3332&amp;linkname=%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%89%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%9F%20%E0%A6%A1%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A6%BE%20%E0%A6%95%E0%A7%80%20%E0%A6%B8%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BF%E0%A6%87%20%E0%A6%9B%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%A8%3F" title="Facebook" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/facebook.png" width="16" height="16" alt="Facebook"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/yahoo_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Farnabdutta%2F3332&amp;linkname=%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%89%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%9F%20%E0%A6%A1%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A6%BE%20%E0%A6%95%E0%A7%80%20%E0%A6%B8%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BF%E0%A6%87%20%E0%A6%9B%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%A8%3F" title="Yahoo Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/yahoo.png" width="16" height="16" alt="Yahoo Bookmarks"/></a> <a class="a2a_dd addtoany_share_save" href="http://www.addtoany.com/share_save?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Farnabdutta%2F3332&amp;linkname=%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%89%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%9F%20%E0%A6%A1%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A6%BE%20%E0%A6%95%E0%A7%80%20%E0%A6%B8%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BF%E0%A6%87%20%E0%A6%9B%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%A8%3F"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/share_save_120_16.png" width="120" height="16" alt="Share/Bookmark"/></a>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://coffeehouseradda.com/blog/arnabdutta/3332/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>10</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>ভারতের প্রথম জাতীয় কবি– “তুতি-এ-হিন্দ– আমীর খসরু” ও তার প্রেক্ষাপট (পর্ব-১)</title>
		<link>http://coffeehouseradda.com/blog/ranykolkata/3318</link>
		<comments>http://coffeehouseradda.com/blog/ranykolkata/3318#comments</comments>
		<pubDate>Fri, 30 Jul 2010 15:23:02 +0000</pubDate>
		<dc:creator>রনি কোলকাতা</dc:creator>
				<category><![CDATA[প্রবন্ধ]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://coffeehouseradda.com/?p=3318</guid>
		<description><![CDATA[<a href=http://coffeehouseradda.com/blog/ranykolkata/3318><img src=http://prothom-aloblog.com/img/uploads/adad76a06d0bc8a55f3c853a5e19875f.jpg class=imgtfe hspace=5 align=left width=100  border=0></a>
একটা সময়, ইউরোপের ইতিহাসে যে সময়টিকেই মধ্যযুগ বলে সাধারন ভাবে ধরা হয়, তার শেষ পর্যায়ে সে দেশের শাসক কুল ছিল স্বদেশের সামন্ত প্রভুদের করুণার পাত্র। এমন কি সাধারন মানুষের চোখেও তাদের অবস্থান ছিল ঐ সব স্বেচ্ছাচারী সামন্ত প্রভুদের নিচে। সুতরাং প্রতিবেশি দেশ ফ্রান্স, স্পেন, স্কটল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড ও ইটালির কাছে তার গুরুত্ব কতটুকু তা সহজ অনুমেয়।
অবস্থার [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><img src="http://prothom-aloblog.com/img/uploads/adad76a06d0bc8a55f3c853a5e19875f.jpg" alt="" /></p>
<p>একটা সময়, ইউরোপের ইতিহাসে যে সময়টিকেই মধ্যযুগ বলে সাধারন ভাবে ধরা হয়, তার শেষ পর্যায়ে সে দেশের শাসক কুল ছিল স্বদেশের সামন্ত প্রভুদের করুণার পাত্র। এমন কি সাধারন মানুষের চোখেও তাদের অবস্থান ছিল ঐ সব স্বেচ্ছাচারী সামন্ত প্রভুদের নিচে। সুতরাং প্রতিবেশি দেশ ফ্রান্স, স্পেন, স্কটল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড ও ইটালির কাছে তার গুরুত্ব কতটুকু তা সহজ অনুমেয়।</p>
<p>অবস্থার পরিবর্তন আসে ল্যাঙ্কাস্ট্রিয়ান ও ইয়র্কিস্ট রাজবংশের মধ্যে তিরিশ বছর ব্যাপী রক্তক্ষয়ী war of rose বা গোলাপ যুদ্ধের যবনিকা পাতের পর ইয়র্কিস্ট শাসক তৃতীয় রিচার্ডের পতন, মৃত্যু এবং হেনরি টিউডের ক্ষমতা দখলের মধ্যে দিয়ে। আধুনিক ইংল্যান্ড শিক্ষা, সংস্কৃতি, বানিজ্য, অর্থনীতি, শিল্প সাহিত্য তথা সাম্রাজ্যবাদী চরিত্রের উন্মেষ পর্ব সেই যুগ সন্ধিক্ষণে। ক্ষমতায় এসে (২০শে আগস্ট ১৪৮৫ খ্রীষ্টাব্দ) প্রথমেই যে গুরুত্বপূর্ণ কাজে তিনি মনোনিবেশ করেন তা হল রাষ্ট্রের একটি শক্তিশালি কেন্দ্রীয় ক্ষমতা অর্জন। এতদিন রাজা ছিলেন সামন্ত প্রভুদের হাতের পুতুল। পার্লামেন্টের উপর নিয়ন্ত্রণ ছিল না রাজার, ছিল সামন্ত প্রভুদের। ক্ষমতার কেন্দ্রীয় করন এবং পরবর্তীকালে স্থিতিশীল প্রশাসন ইংল্যান্ডকে সুদূর কয়েক শতাব্দী ব্যাপী এক গৌরবময় অবস্থানের অধিকারী করে তুলতে সাহায্য করে। ফলশ্রুতি হিসাবে অষ্টাদশ, ঊনবিংশ ও বিংশ শতকের বানিজ্য, শিল্পে সাহিত্যে, বিজ্ঞানে, রাজনীতিতে বিশ্বের এক নিয়ামক শক্তিধর একটি জাতি হিসাবে ইতিহাসে তার ভূমিকা পালন করে যায়।</p>
<p>আত্মসচেতন, সুসংহত জাতীয় চেতনার অবশ্যম্ভাবী পরিণতি, কিছু চিন্তাশীল মনীষীর জন্মলাভ। সমাজ জীবনের নানান ক্ষেত্রে এঁদের দিক নির্দেশক চিন্তা স্বদেশে যেমন যুগান্তর ঘটায় তেমনি উদ্বুদ্ধ করে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে গ্রহন যোগ্যতা বাড়ানোর। এক্ষেত্রে ব্যবসা বানিজ্য, রাজনীতি এবং সামরিক শক্তি অনুকুল থাকলে সেসবের গ্রহন যোগ্যতা দ্রুত বিস্তার লাভ করে। এতে সমৃদ্ধ চিন্তা সমৃদ্ধতর হয়ে ওঠে ভিন্ন ভিন্ন জাতির সংসর্গে এসে। ভিন্ন ভিন্ন জাতির ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশ থেকে লব্ধ সাংস্কৃতিক সম্পদ পরস্পর বিনিময়ে দ্বিপাক্ষিক সমৃদ্ধির একটি বাতাবরণ তৈরী হয়। আধুনিকোত্তর যুগের মানুষ হিসাবে আমরা এখন অর্থনীতির বিশ্বায়নের মত সাংস্কৃতিক বিশ্বায়নের উত্তরাধিকারী। শিল্প সাহিত্যও কোন দেশ বা জাতির একার নয়। তাতে সারা বিশ্বের অধিকার।</p>
<p>আসলে প্রতিপাদ্য বিষয়টি হল কিভাবে যুগ সন্ধিক্ষণে সপ্তম হেনরি ও তার পরবর্তী শাসকবর্গের নিরবিচ্ছিন্ন ও সুসংহত প্রয়াস কিভাবে একটি জাতিকে এমন মহিমান্বিত জাতিতে উন্নত করল, কিভাবে একটা সময় সামরিক শক্তিতে বলিয়ান হয়ে সারা দুনিয়াই তাদের প্রভাব বিস্তার করল, কিভাবে সেই শক্তির কাঁধে ভর করে তাদের ভাষা সাহিত্য, শিল্প, সংস্কৃতি বিশ্বকে জয় করল, সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ল—সেটা উপলব্ধিতে আনা।</p>
<p>যুগ চেতনার ফসল চসার (১৩৪০-১৪০০ খ্রীষ্টাব্দ), শেক্সপিয়ার (১৫৬৪-১৬১৬ খ্রীষ্টাব্দ), মিলটন (১৬০৮-১৬৭৪ খ্রীষ্টাব্দ) থেকে শুরু করে আজকের দিনের বরেণ্য কবি সাহিত্যিকদের সাহিত্যকীর্তি বিশ্বময় সাহিত্য সংস্কৃতির অঙ্গনে বিচরন শীল কালের প্রতিমা। সাম্রাজ্যের বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে সংস্কৃতিরও বিস্তার ঘটেছে অনিবার্য ভাবেই। সে সবের সঙ্গে আমাদের পরিচিতি ঘটেছে সেটাই শেষ কথা নয়। স্বদেশ প্রেম স্বাজাত্য বোধ থেকে শুরু করে আধুনিক চিন্তা চেতনার বিকাশের পথ খুঁজে পেয়েছি আমরা বা আমাদের মত শাসিত দেশ গুলি—এটা স্বীকার না করে আমাদের কোন উপায় নেই।</p>
<p>চলবে&#8212;&#8212;</p>
<p>তথ্যসূত্র-<br />
১) পারস্য সাহিত্য পরিক্রমা&#8212; পার্বতীচরন ভট্টাচার্য।<br />
২) আমীর খশরুর দীওয়ান—অনুবাদ—হাবিব আহসান<br />
৩) ভারতের মুসলিম সংস্কৃতির ক্রমবিকাশ &#8211;এম কে জওহর<br />
৪) সংস্কৃতির সমন্বয় কিছু ভাবনা &#8212; ডঃ রেজাউল করীম<br />
৫) ওমর খৈয়াম – অনুবাদ – সুরেশ চন্দ্রনন্দী<br />
৬) ইংরেজী সাহিত্যের ইতিহাস – কুন্তল চট্টোপাধ্যায়<br />
৭) আধুনিক ইংল্যান্ড – টিউডড় যুগ – অধ্যাপক গোপাল চন্দ্র সিনহা<br />
৮) ভাস্কো ডা গামার পাঁচশ বছর – সুরজিৎ দাস<br />
৯) আল বিরুণীর ভারত তত্ত্ব – অনুবাদ—বাংলা একাডেমি (ঢাকা)</p>
<a href="http://www.addtoany.com/add_to/google_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Franykolkata%2F3318&amp;linkname=%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A5%E0%A6%AE%20%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%80%E0%A7%9F%20%E0%A6%95%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E2%80%93%20%E2%80%9C%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%A4%E0%A6%BF-%E0%A6%8F-%E0%A6%B9%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E2%80%93%20%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A7%80%E0%A6%B0%20%E0%A6%96%E0%A6%B8%E0%A6%B0%E0%A7%81%E2%80%9D%20%E0%A6%93%20%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%BE%E0%A6%AA%E0%A6%9F%20%28%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AC-%E0%A7%A7%29" title="Google Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/google.png" width="16" height="16" alt="Google Bookmarks"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/orkut?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Franykolkata%2F3318&amp;linkname=%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A5%E0%A6%AE%20%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%80%E0%A7%9F%20%E0%A6%95%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E2%80%93%20%E2%80%9C%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%A4%E0%A6%BF-%E0%A6%8F-%E0%A6%B9%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E2%80%93%20%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A7%80%E0%A6%B0%20%E0%A6%96%E0%A6%B8%E0%A6%B0%E0%A7%81%E2%80%9D%20%E0%A6%93%20%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%BE%E0%A6%AA%E0%A6%9F%20%28%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AC-%E0%A7%A7%29" title="Orkut" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/orkut.png" width="16" height="16" alt="Orkut"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/twitter?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Franykolkata%2F3318&amp;linkname=%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A5%E0%A6%AE%20%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%80%E0%A7%9F%20%E0%A6%95%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E2%80%93%20%E2%80%9C%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%A4%E0%A6%BF-%E0%A6%8F-%E0%A6%B9%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E2%80%93%20%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A7%80%E0%A6%B0%20%E0%A6%96%E0%A6%B8%E0%A6%B0%E0%A7%81%E2%80%9D%20%E0%A6%93%20%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%BE%E0%A6%AA%E0%A6%9F%20%28%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AC-%E0%A7%A7%29" title="Twitter" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/twitter.png" width="16" height="16" alt="Twitter"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/facebook?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Franykolkata%2F3318&amp;linkname=%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A5%E0%A6%AE%20%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%80%E0%A7%9F%20%E0%A6%95%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E2%80%93%20%E2%80%9C%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%A4%E0%A6%BF-%E0%A6%8F-%E0%A6%B9%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E2%80%93%20%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A7%80%E0%A6%B0%20%E0%A6%96%E0%A6%B8%E0%A6%B0%E0%A7%81%E2%80%9D%20%E0%A6%93%20%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%BE%E0%A6%AA%E0%A6%9F%20%28%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AC-%E0%A7%A7%29" title="Facebook" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/facebook.png" width="16" height="16" alt="Facebook"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/yahoo_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Franykolkata%2F3318&amp;linkname=%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A5%E0%A6%AE%20%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%80%E0%A7%9F%20%E0%A6%95%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E2%80%93%20%E2%80%9C%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%A4%E0%A6%BF-%E0%A6%8F-%E0%A6%B9%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E2%80%93%20%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A7%80%E0%A6%B0%20%E0%A6%96%E0%A6%B8%E0%A6%B0%E0%A7%81%E2%80%9D%20%E0%A6%93%20%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%BE%E0%A6%AA%E0%A6%9F%20%28%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AC-%E0%A7%A7%29" title="Yahoo Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/yahoo.png" width="16" height="16" alt="Yahoo Bookmarks"/></a> <a class="a2a_dd addtoany_share_save" href="http://www.addtoany.com/share_save?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Franykolkata%2F3318&amp;linkname=%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A5%E0%A6%AE%20%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%80%E0%A7%9F%20%E0%A6%95%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E2%80%93%20%E2%80%9C%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%A4%E0%A6%BF-%E0%A6%8F-%E0%A6%B9%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E2%80%93%20%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A7%80%E0%A6%B0%20%E0%A6%96%E0%A6%B8%E0%A6%B0%E0%A7%81%E2%80%9D%20%E0%A6%93%20%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%BE%E0%A6%AA%E0%A6%9F%20%28%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AC-%E0%A7%A7%29"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/share_save_120_16.png" width="120" height="16" alt="Share/Bookmark"/></a>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://coffeehouseradda.com/blog/ranykolkata/3318/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>4</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>‘জনগণমন’-কে জাতীয় সংগীত করার বিপক্ষে ছিল পশ্চিমবঙ্গ</title>
		<link>http://coffeehouseradda.com/blog/arnabdutta/3315</link>
		<comments>http://coffeehouseradda.com/blog/arnabdutta/3315#comments</comments>
		<pubDate>Fri, 30 Jul 2010 14:54:53 +0000</pubDate>
		<dc:creator>অর্ণব দত্ত</dc:creator>
				<category><![CDATA[প্রবন্ধ]]></category>
		<category><![CDATA[ব্লগাড্ডা]]></category>
		<category><![CDATA[জনগণমন]]></category>
		<category><![CDATA[জাতীয় সংগীত]]></category>
		<category><![CDATA[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://coffeehouseradda.com/?p=3315</guid>
		<description><![CDATA[“ওরা যখন এক বিরাট সমাবেশের সম্মুখে ওটা বাজালো, তখন সবাই খুবই প্রশংসা করল। অনেক রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা এই নতুন সুরটির স্বরলিপি চেয়ে পাঠালেন, কারণ এই সুরের স্বাতন্ত্র্য ও উচ্চাঙ্গের ভাব ওঁদের স্পর্শ করেছিল।” ১৯৪৭ সালে নিউ ইয়র্কে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভায় প্রথম ভারতীয় জাতীয় সংগীত বাদনের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে লিখেছেন জওহরলাল নেহেরু। একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের আত্মপরিচয়ের প্রতীক [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>“ওরা যখন এক বিরাট সমাবেশের সম্মুখে ওটা বাজালো, তখন সবাই খুবই প্রশংসা করল। অনেক রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা এই নতুন সুরটির স্বরলিপি চেয়ে পাঠালেন, কারণ এই সুরের স্বাতন্ত্র্য ও উচ্চাঙ্গের ভাব ওঁদের স্পর্শ করেছিল।” ১৯৪৭ সালে নিউ ইয়র্কে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভায় প্রথম ভারতীয় জাতীয় সংগীত বাদনের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে লিখেছেন জওহরলাল নেহেরু। একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের আত্মপরিচয়ের প্রতীক তিনটি – তার সংবিধান, তার জাতীয় পতাকা ও তার জাতীয় সংগীত। ভারত স্বাধীন হওয়ার আগেই তার জাতীয় পতাকা গ্রহণ করে। সংবিধান রচনার কাজও সুষ্ঠুভাবে চলতে থাকে পাশাপাশি। কিন্তু জাতীয় সংগীত কি হবে, সে নিয়ে একটা মতানৈক্য কিন্তু থেকেই গিয়েছিল। ‘জনগণমন’ ভারতের জাতীয় সংগীত হিসেবে গৃহীত হয় ১৯৫০ সালের ২৪ জানুয়ারি। তার আগে থেকেই অবশ্য default জাতীয় সংগীত হিসেবে ‘জনগণমন’-ই বাজানো হচ্ছিল। সেই সঙ্গে বিতর্কও চলছিল জোর কদমে – ‘জনগণমন’, নাকি ‘বন্দে মাতরম্’।</p>
<p>‘বন্দে মাতরম্’ গানটি লেখা হয়েছিল দেবীস্তোত্রের আদলে। দেশজননী এখানে একাধারে দুর্গা, কমলা (লক্ষ্মী) ও বাণী (সরস্বতী)। আর এখানেই উঠেছে পৌত্তলিকতার অভিযোগ। ‘বন্দে’ শব্দটা নিয়েও মুসলিম সমাজের আপত্তি আছে। কথাটির অর্থ &#8216;বন্দনা করি&#8217;। মুসলমান আল্লাহ্ ছাড়া কাউকেই বন্দনা করতে পারে না।  ‘বন্দে মাতরম্’ নিয়ে আপত্তিটাও তাই স্বাধীনতার আগে থেকেই চলে আসছে। ১৯৩৭ সালে এই গানটিকে জাতীয় সংগীত হিসেবে গ্রহণ করা যায় কিনা তা নিয়ে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি একটি সাব-কমিটি গঠন করে। কমিটির সদস্য ছিলেন মৌলানা আবুল কালাম আজাদ, জওহরলাল নেহেরু, সুভাষচন্দ্র বসু ও আচার্য নরেন্দ্র দেব। এই কমিটি যখন এই ব্যাপারে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতামত জানতে চান, তখন কবি সাফ জানান, গানটিতে দশভূজা দুর্গার বন্দনা রয়েছে, তাই এই গান নিয়ে মুসলমানদের আপত্তি যুক্তিযুক্ত। এদিকে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে এই গানটির গুরুত্বের কথাও অস্বীকার করা যায় না। ‘বন্দে মাতরম্’-ই ছিল সেই মন্ত্র যা উচ্চারণ করে ক্ষুদিরাম থেকে সূর্য সেন সকলেই ফাঁসির দড়ি গলায় বরণ করেছিলেন। ১৮৭৫ সালে রচিত ও ১৮৮২ সালে প্রকাশিত এই গানটি ১৮৯৬ সাল থেকে প্রায় নিয়মিতই কংগ্রেসের সভাসমিতিতে গাওয়া হত। কংগ্রেস তাই সমগ্র গানটির বদলে, কেবলমাত্র প্রথম দুটি স্তবক গাইবার নির্দেশ দেয়।</p>
<p>তবে শোনা যায়, ‘বন্দে মাতরম্’-কে জাতীয় সংগীত করার ক্ষেত্রে একটি টেকনিক্যাল সমস্যাও ছিল। গানটি সঠিক সুরে সামরিক ব্যান্ডে বাজানোর অসুবিধা। তাছাড়া রাগাশ্রিত এই গানটির পরিবেশনেও কিছু সময় লাগত। বুদ্ধদেব বসু তাই ব্যঙ্গ করে রবীন্দ্রনাথকে লিখেছিলেন যে, কোনো দেশই তিরিশ মিনিট ধরে জাতীয় সংগীতের উত্তেজনা বহন করে না।</p>
<p>যাই হোক, নেতাজি সুভাষচন্দ্র এর একটি বিকল্পের খোঁজ পেয়েছিলেন। ১৯৪১ সাল নাগাদ তাঁর আজাদ হিন্দ ফৌজ রবীন্দ্রনাথের ‘জনগণমন’ গানটিকে জাতীয় সংগীত হিসেবে গ্রহণ করেন। স্বাধীনতার অব্যবহিত পরে জাতীয় সংগীত কি হবে তা নিয়ে ডামাডোলের মধ্যেই এসে পড়ে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভার বৈঠক। এই সভায় ভারতীয় প্রতিনিধিদলকে বলা হয় ভারতের জাতীয় সংগীত বাজাতে। প্রতিনিধিদলের কাছে ‘জনগণমন’ গানের একটি রেকর্ড ছিল; তারই ভিত্তিতে রাষ্ট্রসংঘের অর্কেস্ট্রা গানটি বাজায়। তার যে প্রতিক্রিয়া হয়, পণ্ডিত নেহেরুর ভাষায় তা নিবন্ধের শুরুতেই উল্লেখ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ভারতের প্রদেশগুলির (তখনও প্রদেশগুলি ‘রাজ্য’ হয়ে ওঠেনি) গভর্নরদের কাছ থেকে ‘জনগণমন’ গানটিকে জাতীয় সংগীত হিসেবে গ্রহণ করার ক্ষেত্রে তাঁদের মতামত কি তা জানতে চাওয়া হয়। রাজ্যের ‘প্রিমিয়ার’-দের (যে পদটির এখনকার নাম মুখ্যমন্ত্রী) সঙ্গে পরামর্শ করে তাঁদের মতামত জানাতে বলা হয়। দেখা যায় দুটি প্রদেশ বাদে সব প্রদেশই ‘জনগণমন’ গানটির পক্ষে সওয়াল করেছেন। আর সবচেয়ে মজার কথা, যে দুটি প্রদেশ ‘জনগণমন’ গানের বিরোধিতা করেছিল, তার একটি ছিল সেন্ট্রাল প্রভিন্স, অপরটি আমাদেরই পশ্চিমবঙ্গ। এই দুটি প্রদেশ চেয়েছিল জাতীয় সংগীত হোক ‘বন্দে মাতরম্’। এরপরই নেহেরু লিখেছিলেন, “দুর্ভাগ্যবশত ‘বন্দে মাতরম্’ আর ‘জনগণমন’ নিয়ে একধরনের বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ‘বন্দে মাতরম্’ গানটির একটি মহান ঐতিহাসিক ঐতিহ্য রয়েছে, যা অবশ্যই প্রশ্নাতীতভাবে এই গানটিকে ভারতের প্রধান জাতীয় সংগীতের মর্যাদা দিয়েছে। এই ঐতিহ্য আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। এই স্থানটি অত্যন্ত মজবুত; এবং আর কোনো গানই একে এখান থেকে বিচ্যূত করতে পারবে না। এই গানটি স্বাধীনতা সংগ্রামের আবেগের প্রতীক, তবে সেই অর্থে এই সংগ্রামের ফলস্রুতির প্রতীক নয়।”</p>
<p>১৯৫০ সালের ২৪ জানুয়ারি তাই গণপরিষদের সভাপতি জনগণমনকে জাতীয় সংগীত ঘোষণা করতে গিয়ে বলেছিলেন, “‘জনগণমন’ গানের কথা ও সুর ভারতের জাতীয় সংগীত হিসেবে গৃহীত হবে&#8230; এবং ‘বন্দে মাতরম্’, যা ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক ভূমিকা গ্রহণ করেছিল, তা-ও ‘জনগণমন’ গানের সঙ্গে সম মর্যাদায় জাতীয় সংগীতের সম্মান অর্জন করবে।”</p>
<a href="http://www.addtoany.com/add_to/google_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Farnabdutta%2F3315&amp;linkname=%E2%80%98%E0%A6%9C%E0%A6%A8%E0%A6%97%E0%A6%A3%E0%A6%AE%E0%A6%A8%E2%80%99-%E0%A6%95%E0%A7%87%20%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%80%E0%A7%9F%20%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%97%E0%A7%80%E0%A6%A4%20%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%AA%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A7%87%20%E0%A6%9B%E0%A6%BF%E0%A6%B2%20%E0%A6%AA%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%AE%E0%A6%AC%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97" title="Google Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/google.png" width="16" height="16" alt="Google Bookmarks"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/orkut?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Farnabdutta%2F3315&amp;linkname=%E2%80%98%E0%A6%9C%E0%A6%A8%E0%A6%97%E0%A6%A3%E0%A6%AE%E0%A6%A8%E2%80%99-%E0%A6%95%E0%A7%87%20%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%80%E0%A7%9F%20%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%97%E0%A7%80%E0%A6%A4%20%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%AA%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A7%87%20%E0%A6%9B%E0%A6%BF%E0%A6%B2%20%E0%A6%AA%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%AE%E0%A6%AC%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97" title="Orkut" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/orkut.png" width="16" height="16" alt="Orkut"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/twitter?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Farnabdutta%2F3315&amp;linkname=%E2%80%98%E0%A6%9C%E0%A6%A8%E0%A6%97%E0%A6%A3%E0%A6%AE%E0%A6%A8%E2%80%99-%E0%A6%95%E0%A7%87%20%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%80%E0%A7%9F%20%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%97%E0%A7%80%E0%A6%A4%20%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%AA%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A7%87%20%E0%A6%9B%E0%A6%BF%E0%A6%B2%20%E0%A6%AA%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%AE%E0%A6%AC%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97" title="Twitter" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/twitter.png" width="16" height="16" alt="Twitter"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/facebook?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Farnabdutta%2F3315&amp;linkname=%E2%80%98%E0%A6%9C%E0%A6%A8%E0%A6%97%E0%A6%A3%E0%A6%AE%E0%A6%A8%E2%80%99-%E0%A6%95%E0%A7%87%20%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%80%E0%A7%9F%20%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%97%E0%A7%80%E0%A6%A4%20%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%AA%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A7%87%20%E0%A6%9B%E0%A6%BF%E0%A6%B2%20%E0%A6%AA%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%AE%E0%A6%AC%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97" title="Facebook" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/facebook.png" width="16" height="16" alt="Facebook"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/yahoo_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Farnabdutta%2F3315&amp;linkname=%E2%80%98%E0%A6%9C%E0%A6%A8%E0%A6%97%E0%A6%A3%E0%A6%AE%E0%A6%A8%E2%80%99-%E0%A6%95%E0%A7%87%20%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%80%E0%A7%9F%20%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%97%E0%A7%80%E0%A6%A4%20%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%AA%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A7%87%20%E0%A6%9B%E0%A6%BF%E0%A6%B2%20%E0%A6%AA%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%AE%E0%A6%AC%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97" title="Yahoo Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/yahoo.png" width="16" height="16" alt="Yahoo Bookmarks"/></a> <a class="a2a_dd addtoany_share_save" href="http://www.addtoany.com/share_save?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Farnabdutta%2F3315&amp;linkname=%E2%80%98%E0%A6%9C%E0%A6%A8%E0%A6%97%E0%A6%A3%E0%A6%AE%E0%A6%A8%E2%80%99-%E0%A6%95%E0%A7%87%20%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%80%E0%A7%9F%20%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%97%E0%A7%80%E0%A6%A4%20%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%AA%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A7%87%20%E0%A6%9B%E0%A6%BF%E0%A6%B2%20%E0%A6%AA%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%AE%E0%A6%AC%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/share_save_120_16.png" width="120" height="16" alt="Share/Bookmark"/></a>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://coffeehouseradda.com/blog/arnabdutta/3315/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>5</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>কবি ছড়াশিল্পী সাজজাদ হোসাইন খানের</title>
		<link>http://coffeehouseradda.com/blog/afsarnizam/2840</link>
		<comments>http://coffeehouseradda.com/blog/afsarnizam/2840#comments</comments>
		<pubDate>Sun, 16 May 2010 09:49:26 +0000</pubDate>
		<dc:creator>আফসার নিজাম</dc:creator>
				<category><![CDATA[প্রবন্ধ]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://coffeehouseradda.com/?p=2840</guid>
		<description><![CDATA[<a href=http://coffeehouseradda.com/blog/afsarnizam/2840><img src=http://coffeehouseradda.com/files/2010/05/S-Khan.jpg class=imgtfe hspace=5 align=left width=100  border=0></a>কবি ছড়াশিল্পী সাজজাদ হোসাইন খানের
৬২ তম জন্মদিন আজ
দেশের অন্যতম কীর্তিমান ছড়াকার, শিশুসাহিত্যিক, সাংবাদিক ও ত্রৈমাসিক সাহিত্য পত্রিকা ‘কলম’-এর সম্পাদক কবি সাজজাদ হোসাইন খানের ৬২তম জন্মদিন আজ। তিনি ১৯৪৮ সনের ১৬ মে কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরবে মামাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈত্রিক নিবাস বি-বাড়িয়া জেলা সদরের ঘাটুরা গ্রামে। সফিকুল হোসেন খান ও আয়েশা খাতুন দম্পতি সন্তান সাজজাদ হোসাইন [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p style="text-align: left;line-height: 1.8em"><strong><img class="alignnone size-full wp-image-2841" src="http://coffeehouseradda.com/files/2010/05/S-Khan.jpg" alt="S-Khan" width="1200" height="1800" />কবি ছড়াশিল্পী সাজজাদ হোসাইন খানের<br />
৬২ তম জন্মদিন আজ</strong></p>
<p>দেশের অন্যতম কীর্তিমান ছড়াকার, শিশুসাহিত্যিক, সাংবাদিক ও ত্রৈমাসিক সাহিত্য পত্রিকা ‘কলম’-এর সম্পাদক কবি সাজজাদ হোসাইন খানের ৬২তম জন্মদিন আজ। তিনি ১৯৪৮ সনের ১৬ মে কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরবে মামাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈত্রিক নিবাস বি-বাড়িয়া জেলা সদরের ঘাটুরা গ্রামে। সফিকুল হোসেন খান ও আয়েশা খাতুন দম্পতি সন্তান সাজজাদ হোসাইন খান স্বাধীনতা উত্তর এদেশের ছড়াসাহিত্য ও শিশুসাহিত্যে রেখেছেন অনবদ্য অবদান। তার ছড়াগ্রন্থের মধ্যে রাজার কথা প্রজার কথা, নীল সবুজের হাট, স্বৈরাচারের ঐরাবত, মেঘের খামে চুমকি দানা, জোসনামাখা চাঁদ, ভাঙা চাঁদের রাঙা পাথর ও তারার গগন উল্লেখযোগ্য। তার শিশুতোষ গদ্যগ্রন্থ ‘সোনালী শাহজাদা’ একটি অন্যতম জনপ্রিয় গ্রন্থ। এছাড়াও তিনি লিখেছেন দুই কাননের পাখি, নীল সাগরে ভূতের বাড়ি ও লেংড়া জীনের বাগানবাড়ি’র মতো উল্লেখযোগ্য শিশু-কিশোর সাহিত্য। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে তার সম্পাদনায় প্রকাশ হয় সাহিত্য সংকলন ‘বিদ্রোহী বাংলা’। সাজজাদ হোসাইন খান বাংলা একাডেমী ও জাতীয় প্রেসকাবের সদস্য, বাংলা সাহিত্য পরিষদ ও ইতিহাস পরিষদের (ঢাবি) জীবন সদস্য এবং ঢাকা শিশু-কিশোর ফাউন্ডেশনের নির্বাহী সদস্য।</p>
<p>জনাব খান পারাবার সাহিত্য পুরস্কার (১৯৯৫) জাকারিয়া শাহ স্মৃতি পুরস্কার (২০০২), কিশোরকণ্ঠ সাহিত্য পুরস্কার (২০০৭), লেখা প্রকাশ সাহিত্য পুরস্কার (২০০৮), রকীবুল ইসলাম ছড়াপদক (২০০৮), শব্দশীলন একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার (২০১০)-এ ভূষিত হন।</p>
<a href="http://www.addtoany.com/add_to/google_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fafsarnizam%2F2840&amp;linkname=%E0%A6%95%E0%A6%AC%E0%A6%BF%20%E0%A6%9B%E0%A7%9C%E0%A6%BE%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AA%E0%A7%80%20%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A6%20%E0%A6%B9%E0%A7%8B%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%A8%20%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0" title="Google Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/google.png" width="16" height="16" alt="Google Bookmarks"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/orkut?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fafsarnizam%2F2840&amp;linkname=%E0%A6%95%E0%A6%AC%E0%A6%BF%20%E0%A6%9B%E0%A7%9C%E0%A6%BE%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AA%E0%A7%80%20%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A6%20%E0%A6%B9%E0%A7%8B%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%A8%20%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0" title="Orkut" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/orkut.png" width="16" height="16" alt="Orkut"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/twitter?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fafsarnizam%2F2840&amp;linkname=%E0%A6%95%E0%A6%AC%E0%A6%BF%20%E0%A6%9B%E0%A7%9C%E0%A6%BE%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AA%E0%A7%80%20%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A6%20%E0%A6%B9%E0%A7%8B%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%A8%20%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0" title="Twitter" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/twitter.png" width="16" height="16" alt="Twitter"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/facebook?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fafsarnizam%2F2840&amp;linkname=%E0%A6%95%E0%A6%AC%E0%A6%BF%20%E0%A6%9B%E0%A7%9C%E0%A6%BE%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AA%E0%A7%80%20%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A6%20%E0%A6%B9%E0%A7%8B%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%A8%20%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0" title="Facebook" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/facebook.png" width="16" height="16" alt="Facebook"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/yahoo_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fafsarnizam%2F2840&amp;linkname=%E0%A6%95%E0%A6%AC%E0%A6%BF%20%E0%A6%9B%E0%A7%9C%E0%A6%BE%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AA%E0%A7%80%20%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A6%20%E0%A6%B9%E0%A7%8B%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%A8%20%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0" title="Yahoo Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/yahoo.png" width="16" height="16" alt="Yahoo Bookmarks"/></a> <a class="a2a_dd addtoany_share_save" href="http://www.addtoany.com/share_save?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fafsarnizam%2F2840&amp;linkname=%E0%A6%95%E0%A6%AC%E0%A6%BF%20%E0%A6%9B%E0%A7%9C%E0%A6%BE%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AA%E0%A7%80%20%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A6%20%E0%A6%B9%E0%A7%8B%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%A8%20%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/share_save_120_16.png" width="120" height="16" alt="Share/Bookmark"/></a>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://coffeehouseradda.com/blog/afsarnizam/2840/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>2</slash:comments>
		</item>
	</channel>
</rss>
