﻿<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>কফি হাউসের আড্ডা &#187; ব্লগাড্ডা</title>
	<atom:link href="http://coffeehouseradda.com/blog/category/%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%a1%e0%a7%8d%e0%a6%a1%e0%a6%be/feed" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>http://coffeehouseradda.com</link>
	<description>বাঙালীর ব্লগ-আড্ডা</description>
	<lastBuildDate>Wed, 08 Sep 2010 06:29:35 +0000</lastBuildDate>
	<generator>http://wordpress.org/?v=2.8.4</generator>
	<language>en</language>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>1</sy:updateFrequency>
			<item>
		<title>&#8220;নয়নভোলানো নিউঅর্লিন্স&#8221;</title>
		<link>http://coffeehouseradda.com/blog/indira/3564</link>
		<comments>http://coffeehouseradda.com/blog/indira/3564#comments</comments>
		<pubDate>Wed, 08 Sep 2010 06:16:12 +0000</pubDate>
		<dc:creator>ইন্দিরা  মুখার্জি</dc:creator>
				<category><![CDATA[ব্লগাড্ডা]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://coffeehouseradda.com/blog/indira/3564</guid>
		<description><![CDATA[<a href=http://coffeehouseradda.com/blog/indira/3564><img src=http://coffeehouseradda.com/files/2010/09/Statesman-NewOrleans.png class=imgtfe hspace=5 align=left width=100  border=0></a>কিছুদিন আগে কফিহাউসে নয়নোভোলানো নিউঅর্লিন্স নামে একটি ছোট গদ্য-কবিতা লিখেছিলাম । দৈনিক স্টেটসম্যান কাগজে আমার লেখা ভুটান ভ্রমণ কাহিনী প্রকাশিত হবার পর আবার ভ্রমণকাহিনী লেখার অনুরোধ আসায় সেই পুরোণো গদ্য কবিতাটিকে পুনরায় লিখতে হয়েছে ভ্রমণকাহিনী হিসেবে আর সেটি তাদের পাঠালে আগষ্টমাসেই  তাঁরা ছেপেছেন কারণ যে ভয়ানক ক্যাটরিনার কবলে পড়েছিল নিউ অরলিন্স শহর তার পাঁচ [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>কিছুদিন আগে কফিহাউসে নয়নোভোলানো নিউঅর্লিন্স নামে একটি ছোট গদ্য-কবিতা লিখেছিলাম । দৈনিক স্টেটসম্যান কাগজে আমার লেখা ভুটান ভ্রমণ কাহিনী প্রকাশিত হবার পর আবার ভ্রমণকাহিনী লেখার অনুরোধ আসায় সেই পুরোণো গদ্য কবিতাটিকে পুনরায় লিখতে হয়েছে ভ্রমণকাহিনী হিসেবে আর সেটি তাদের পাঠালে আগষ্টমাসেই  তাঁরা ছেপেছেন কারণ যে ভয়ানক ক্যাটরিনার কবলে পড়েছিল নিউ অরলিন্স শহর তার পাঁচ বছর পূর্ণ হল ২০১০ এর আগষ্টে । সেই তারিখের সাথে সামঞ্জস্য রেখে দৈনিক স্টেটসম্যান প্রকাশ করেছেন তাদের রোববারের পাতায়, গত মাসে । আমি অভ্রর অনুরোধে এখানে দিলাম পোষ্টটি |</p>
<p><a href="http://coffeehouseradda.com/files/2010/09/Statesman-NewOrleans.png"><img class="aligncenter size-full wp-image-3563" src="http://coffeehouseradda.com/files/2010/09/Statesman-NewOrleans.png" alt="Statesman-NewOrleans" width="150" height="105" /></a><br />
আমেরিকার অনেক নাম করা শহর যেমন নিউইয়র্ক ,ফ্লোরিডা, নিউজার্সি,  বস্টন, ক্যালিফোর্নিয়া, লস এন্জেলেস নিয়ে আমরা পত্র-পত্রিকায় অনেক গল্প, ভ্রমণকাহিনী, পড়ে থাকি । এই শহর গুলি আমাদের না ঘোরা হলেও নামগুলির সাথে আমরা অত্যন্ত পরিচিত । কেউ আমেরিকা যাচ্ছে শুনলেই আমাদের এই সব চিরাচরিত  শহর গুলির কথা প্রথমেই মাথায় আসে ।  কিন্তু আজ আমি এমন একটি শহরের নাম করব তা হয়ত অনেকের চেনা আবার অনেকের কাছেই অচেনা  । বহু পুরোনো শহর এটি । আমেরিকার একটি গুরুত্ব পূর্ণ পোর্ট আর পাঁচমিশেলি ঐতিহ্যবাহী এই শহরটির নাম নিউ-অর্লিন্স । লুইসিয়ানা স্টেটের বন্দর শহর ।  মিসিসিপি নদীর ধারে  অবস্থিত এই শহরে আমার যাবার অভিজ্ঞতা এবং সৌভাগ্য হয়েছিল ১৯৮৯ সালে । ডালাস শহর থেকে গাড়ি করে এক ভোরে আমরা পাড়ি দিয়েছিলাম নিউ-অর্লিন্সের দিকে ।   টেক্সাস স্টেট আর লুইসিয়ানা স্টেটের  মধ্যবর্তী ইন্টারস্টেট হাইওয়ে ধরে মাজদা ৬২৬ গাড়ি নিয়ে আমাদের যাত্রা হল শুরু । সাথে এক থার্মোস কফি, ইন্স্ট্যান্ট কেক মিক্স  দিয়ে বানানো কেক , কুচো নিমকি আর আইসবক্সে &#8220;কোল্ড-কার্ট&#8221; (স্যান্ডুইচ এর মাংসের স্লাইস ) , স্যান্ডুইচ ব্রেড আর কয়েকটা কোক ক্যান । ডালাস থেকে নিউঅর্লিন্স প্রায় ৮০০ কিলোমিটার । রাস্তাঘাট ভাল, পথে ছোট বড় ফুড জয়েন্টেরও অভাব নেই   কিন্তু স্টুডেন্টের পকেটমানিতে কথায় কথায় রেস্তোরাঁয় থামতে হলে নিউঅর্লিন্সে পৌঁছে মেমেন্টো কেনার সামর্থ্য হবে না তাই খাবার দাবার খানিকটা নিয়ে যাওয়া এই আর কি ।<br />
গাড়ি করে লংড্রাইভে যেতে যেতে দেখেছি আমেরিকার রাস্তাঘাটের  বৈচিত্র্য । নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখেনা যে বিধাতা পুরুষ ছপ্পর ফুঁড়ে দিয়েছেন এদের, দু হাত তুলে সর্বক্ষণ আশীর্বাদ করে চলেছেন আর দেশের মানুষগুলিও সর্বদা প্রাণ দিয়ে  নিজের দেশ কে আরো সজীব, আরো সুন্দর করার ব্রতে ব্রতী  ।  এত পরিচ্ছন্নতা, এত পর্রিকল্পনাময় পরিকাঠামো দেখে বারবার মনে হয়েছে ভগবানের নিজের দেশ বোধ হয় এটি । তাই বোধ হয় এত সুন্দর । তাই নিউঅর্লিন্স যাবার সময় ও বারেবারে মনে হয়েছে</p>
<p style="text-align: center">&#8220;তোমার গান গাওয়া শেষে রেখে যেও তব হাতের কোমল স্পর্শ ,</p>
<p style="text-align: center">আমি আবার ফিরে এসেছি হেথায় পেরিয়ে আলোকবর্ষ&#8221;</p>
<p>টেক্সাসের সবুজ আর লুইসিয়ানার নীল নিয়ে চললাম । গাড়ি ছুটে চলল হাইওয়ের ওপর দিয়ে, গাড়ির অডিওতে বাজতে লাগল রাবিঠাকুরের গান &#8220;পথ দিয়ে কে যায় গো চলে &#8221; যত এগোই তত মনে হয় সবুজে-নীলে মিশে প্রকৃতি একাকার । এখানকার আকাশ বোধ হয় আরো নীল আর ধানক্ষেতের সবুজ যেন আরো বেশি সবুজ ।  গ্রাম, ভুট্টার ক্ষেত, গম ও ধানের ক্ষেত, ছোট ছোট খাল-বিল আর বক, সারস তো চললই আমাদের সাথে । ঘন্টা দুয়েক চলার পর একটু বিশ্রাম নিয়ে কফি আর কেক খেয়ে আবার চলা ।হাতে একটা ম্যাপ নিয়ে পাশের ড্রাইভার ভদ্রলোকটিকে ন্যাভিগেট করতে করতে চললাম |তখন মার্চ মাস, গরম একদম নেই । বাতাসে হালকা ঠান্ডার রেশ । শেষ বসন্তের  একটুকু ছোঁয়া ।   রাস্তার ধারে বড় বড় গাছেদের পাতা ঝরে গিয়ে নতুন কচি পাতা । কোনো গাছে পাতা নেই ফুল সর্বস্ব । কত রঙ তাদের&#8230; কখনো হলুদ, কখনো বেগুনী  । বাদাম গাছের মত কোনো একটা গাছ কমলা রঙের কচি পাতাদের উদ্ধত গ্রীবা মেলে ধরেছে আকাশের সীমায়,  কখনো পেরোলাম গাছেদের সুশীতল ছায়াময় এভিনিউ ।   আমেরিকার বসন্ত বোধ করি সব জায়গায় একই রকম । আরো নীল, ঘন নীল, কচি কলাপাতা সবুজ, গাঢ় সবুজ  ।  মনে হল দোল খেললাম প্রকৃতির সাথে ।<br />
বেলা গড়িয়ে দুপুর সূর্য যখন মাথার ওপর তখন একটা ছায়ায় গাড়ি দাঁড় করিয়ে স্যান্ডুইচ বানালাম গাড়ির মধ্যে বসেই । কোক আর স্যান্ডুইচ দিয়ে সারলাম দুপুরের খাওয়া । পাশের একটা গ্যাস স্টেশনে তেল ভরে ফ্রেশ হয়ে আবার  শুরু করলাম যাওয়া । ইতিমধ্যে টেক্সাস কে ফেলে লুইসিয়ানা ঢুকে পড়েছি । প্রকৃতিগত দিক থেকে বৈচিত্র কিছু চোখে না পড়লেও ছোট,  বড় সব নদীর দেশে এসেছি মনে হল । নদীর পাড়, সেতু সবকিছুর রক্ষণাবেক্ষণ দেখে নিজের দেশের জন্য বড় মায়া হতে লাগল ।  সবশুদ্ধ প্রায় ন&#8217; ঘন্টা লাগল  নিউঅর্লিন্স পৌঁছতে । বিকেল প্রায় তিনটে তখন ।</p>
<p>পৌঁছলাম সাউথ-ইস্টার্ন লুইসিয়ানার অন্যতম শহর নিউ অর্লিন্সে । ভারতবর্ষে গ্রেটব্রিটেনের ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানি যেমন রাজত্ব করতে এসে কোলকাতায় গড়েছিল তাদের রাজধানী ঠিক তেমনি ৭ই মে, ১৭১৮ সালে ফ্রেন্চ মিসিসিপি কোম্পানি আমেরিকায় এসে নিউঅর্লিন্স শহরের গোড়াপত্তন করেছিল । তারপর নেপোলিয়ান    এই শহরের আশপাশের এলাকা লুইসিয়ানা স্টেটকে বিক্রি করেন ১৮০৩ সালে । আমেরিকার  দক্ষিণে অবস্থিত বলে ক্রীতদাস প্রথা বহু যুগ ধরে চালু ছিল এখানে তাই জনসংখ্যার বেশিরভাগ ই কৃষ্ণাঙ্গ । তবে শহরে পা দিয়ে ই মনে হল প্রাচীন ঐতিহ্যের ছোঁয়া এখানে, পুরোণো বাড়িদের, পুরোণো ট্রামেদের সারি ,ফুটপাথ ঘেঁষা গথিক স্টাইলের স্থাপত্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে তারা স্বমহিমায় ।  কেমন একটা মন কেমন করা পুরোণো পুরোণো গন্ধ পেলাম । পরে আমেরিকার অন্য শহর গুলিতে গিয়ে যা পায়নি । ঠিক আমাদের নিউমার্কেট, এস্প্ল্যানেডের গলি আর কলেজ স্ট্রীট কফি হাউসের মাদকতার স্পর্শ অনুভব করলাম ।   তবে মেন্ট্যানেন্স আর পরিচ্ছন্নতা দেখে আবার কেঁদে উঠল প্রাণ  পুরোণো কলকাতার জন্যে ।</p>
<p><a href="http://coffeehouseradda.com/files/2010/09/HorseCarriage.png"><img class="aligncenter size-full wp-image-3566" src="http://coffeehouseradda.com/files/2010/09/HorseCarriage.png" alt="HorseCarriage" width="150" height="101" /></a><br />
ডিউক অফ অর্লিন্স, ফিলিপ-ডি-অরলিন্সের  এর নামে এই শহরের নাম হয় নিউ অর্লিন্স ।    মিসিসিপি নদীর বদ্বীপে অবস্থিত এই শহরের পুব আর পশ্চিম জুড়ে শুধু তরঙ্গায়িত মিসিসিপির নীল জলরাশি আর দক্ষিণে রাজকীয় হ্রদ লেক পনচার্ট্রেন ।  অমেরিকার সবচেয়ে গুরুত্ব পূর্ণ বন্দর এটি আর অফশোর এবং অনশোর পেট্রোল এবং ন্যাচারাল গ্যাস উতপাদনে পঞ্চম বৃহত বন্দর এই নিউ অর্লিন্স ।   ঔপনিবেশিকতার প্রভাবে আমাদের কোলকাতায় যেমন এক সময় ফরাসী, ওলন্দাজ সহ বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির অভূতপূর্ব মেলবন্ধন ঘটেছিল নিউ অর্লিন্সে এসে ঠিক তেমন মনে হল । এই শহরটি আমেরিকার এক অনন্য শহর যেখানে নানা ভাষা, নানা মত, নানা পরিধানের  মাঝে এক মাল্টিলিঙ্গুয়াল এবং ক্রস কাল্চারাল হেরিটেজের সংমিশ্রণ ঘটেছে  । আর বহুমুখী ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক হয়ে নিউঅর্লিন্স বাকী আমেরিকা থেকে যেন বিছিন্ন । নতুন আমেরিকার শপিংমলের গন্ধ নেই এখানে , নেই মোড়ে মোড়ে পিত্জা জয়েন্ট বা বার্গার পয়েন্ট, নেই এক্সপ্রেস ওয়ের চাকচিক্য। বরং ইওরোপীয় সংস্কৃতির অনন্দাধারা ব‌ইছে সেখানে ।<br />
<a href="http://coffeehouseradda.com/files/2010/09/StreetPainter.png"><img class="aligncenter size-full wp-image-3567" src="http://coffeehouseradda.com/files/2010/09/StreetPainter.png" alt="StreetPainter" width="150" height="225" /></a> একটি মোটেলে গিয়ে উঠলাম আমরা । মালপত্র রেখে স্নান করে বাকি কফিটুকুর সদ্ব্যবহার করে বিকেল বিকেল বেরিয়ে পড়লাম শহর দেখতে ।প্রথমে ই দেখলাম লাল রঙয়ের ঝকঝকে ট্রাম একখানা । ফুটপাথথেকে নেমে ট্রামস্টপেজে গিয়ে উঠে পড়লাম ট্রামে । ওখানে বলে স্ট্রীটকার ।  পাঁচমিনিটের মধ্যে ট্রাম আমাদের নিয়ে গেল নিউ অর্লিন্সের সেন্ট্রাল বিজনেস পয়েন্ট জ্যাকসন স্কোয়ারে । উইকের মাঝামাঝি ; যথারীতি ডালহৌসি স্কোয়ারের মত ব্যস্ত রাজপথ  । অফিস পাড়া বা ডাউনটাউন নিউঅর্লিন্স । সন্ধ্যে হয়ে এসেছে তখন । নিরাপত্তাহীনতার ভয় হয়ত নেই নিউইয়র্কের মত কিন্তু  পথের ক্লান্তি রয়েছে সাথে তাই সেখানে বেশিক্ষণ না থেকে ফিরে এলাম আবার ট্রামে করে । রাতে হোটেলে ফিরে ডিনার খেয়ে ঘুমোলাম । পরদিন ব্রেকফাস্ট সেরে প্রথমেই গেলাম  &#8220;vieux carre&#8221; নিউ অর্লিন্সের প্রাণ কেন্দ্র, পুরোণো নিউঅর্লিন্সের ফ্রেঞ্চকোয়ার্টার ছিল এককালে, তাই ফরাসী ঐতিহ্য বহমান এখনো রাস্তার মাঝে |এই শহরই নাকি জ্যাজ মিউজিকের পীঠস্থান বলে জনপ্রিয় । বিখ্যাত জ্যাজ শিল্পী লুই আমস্ট্রং এখানকার ই লোক জানলাম । পথে ঘাটে অণুরণিত হচ্ছে জ্যাজ টিউন ।    রাস্তার ধারে ধারে বাদ্যশিল্পীর জ্যাজ অনুশীলনবিশালকার স্যাক্সোফোন নিয়ে সঙ্গীত চর্চা দেখে মুগ্ধ হয়ে গেলাম । এ শহরের আকাশে বাতাসে জ্যাজ; আমি জ্যাজের কিছুই বুঝি না কিন্তু   নিষ্ঠাবান কৃষ্ণকায় এই মানুষ গুলির সঙ্গীতচর্চায় ডেডিকেশন দেখে যারপরনাই মুগ্ধ হলাম ।<br />
<a href="http://coffeehouseradda.com/files/2010/09/Jazz-on-the-Street.png"><img class="aligncenter size-full wp-image-3568" src="http://coffeehouseradda.com/files/2010/09/Jazz-on-the-Street.png" alt="Jazz-on-the-Street" width="150" height="223" /></a> চোখে পড়ল ক্ষুদে চিত্রশিল্পীদের শিল্পকলা রাস্তার ফুটপাথে ছবি আঁকার ,রঙ, তুলি নিয়ে বিছিয়ে বসেছে । যেমন   আমাদের কলকাতা ব‌ইমেলা বসে ছবি এঁকে কত বিক্রি হয় সুন্দর সুন্দর ছবি ।  দাড়িওয়ালা এক বড় শিল্পী কিছু দূরে তার ইজেল নিয়ে দাঁড়িয়ে মন দিয়ে ছবি এঁকে চলেছে । ফ্রান্সের পথে পথে এমন হয় জানতাম কিন্তু এ শহরে দেখে বড় ভাল লাগল ।ফুটপাথের ধারে প্রাসাদোপম অট্টালিকার আধুনিক বুটিকে রূপান্তকরণ যেন অধুনা অমুক নং বালিগঞ্জ প্লেস অথবা তমুক নং ল্যান্সডাউন টেরেসে নামজাদা ডিজাইনার বুটিক!  ঐতিহ্যময় বাড়ি গুলির এত সুন্দর রক্ষণাবেক্ষণ দেখে মনে হল এরা সত্যি গড়তে জানে বেশি ভাঙতে জানে কম ।  নয়নভোলানো সব আর্টগ্যালারি দেখলাম  । এ শহর যে শিল্প-গীত-বাদ্য-কলার সনতন পীঠস্থান সে ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই ।   মজার শহর নিউঅর্লিন্স সকলে নিজের খেয়ালখুশিতে চলে । কোনো সময়ের অভাব নেই, নেই কোনো একঘেয়েমি । কোনোবাড়ির পোর্টিকোতে গীটারে জ্যাজ বাজায় তরুণ, কোথায় আবার বিউগল বাজিয়ে ভিক্ষা চাইছে যুবক, কোথাও আবার একর্ডিয়ানে সুর তুলতে ব্যস্ত কোনো শিল্পী । মনে হল  ল্যাটিন কোয়ার্টার &#8220;Vieux Carre&#8221; আজও ফরাসীয়ানায় অমলিন।<br />
সুন্দর বাঁধানো ফুটপাথ,  রাস্তায় ঘোড়ার গাড়ি, সাবেকি স্ট্রীটল্যাম্প আর টুকটুকে লাল ট্রামগাড়ি সব মিলিয়ে এ শহর বারেবারে  মনে করিয়ে দিল আমাদের তিলোত্তমার কথা&#8230;. একদা ভারতের রাজধানী পুরোণো কলকাতার কথা  । গেলাম সেন্টপিটার্স স্কোয়ারে ।  সেন্ট পিটার্স ক্যাথিড্রাল দেখলাম । বাকি আমেরিকার মত প্রোটেস্ট্যান্ট বাইবেল বেল্ট নেই এখানে । প্রধানত ক্যাথলিক ধর্মাবলম্বী এ শহরের মানুষ । একটা ছোট্ট বুকলেট কিনলাম শহর সম্বন্ধে জানার জন্য । এই শহর বিখ্যাত তার প্রাচীন ঐতিহ্যময়তায় । ফ্রেন্চ আর স্প্যানিশ সংস্কৃতির ধারক ও বাহক বলে বিখ্যাত &#8220;mardi gras&#8221;ফেস্টিভাল এখানে হয় জানলাম ।  সেন্টপিটার্স স্কোয়ারেও নামা-অনামা কত শিল্পীর চিত্র প্রদর্শনী চলছে, যেন  ফ্রান্স শহরের পুরোনো সাবেকিয়ানা  ব‌ইছে  নিউঅর্লিন্সের কোণায় কোণায় |<br />
গেলাম সাহেবি পাড়া ব্যস্তময় বুরবন স্ট্রীটে ।   বর্ণময় রাস্তার ধারের একটা পাবে ঢুকে এখানকার বিশেষ পানীয় &#8220;টেকিলা উইথ মার্গারিটা&#8221; খেলাম । লাঞ্চ সারলাম বুর্বন স্ট্রীটের এক পুরোণো হোটেলে ।   সেদিন প্লেটে সুসজ্জিত কেজুন রাইস আর ক্রফিস কারি নিয়ে পৌঁছে গেছিলাম পার্কস্ট্রীটের চাইনিস রেস্তোরাঁয়, এক নস্টালজিয়ায়&#8230;.     লুইসিয়ানার খাবারে ক্রেওল এবং কেজুন এই দুই অভিনব ঘরানার সংমিশ্রণ ঘটেছে। স্থানীয় রেডাইন্ডিয়ানদের কুইসিন কে বলে ক্রেওল আর কেজুন হল গাল্ফ অয়েষ্টার, স্টীমড বা বয়েল্ড ক্রফিশ রেড বিনস আর স্মোকড রাইস হল এই দুই   মিশ্র খাবারের প্রধান অঙ্গ । ক্রফিশ আমাদের বাগদা চিংড়ির মত কিন্তু লবস্টার  বা কাঁকড়ার মত দাঁড়া আছে  । ট্রাইবাল কুইজিন তো কি সার্ভ করার ধরণ ধারণে সাহেবিয়ানার স্পর্শ । একটা প্লেটে স্মোকড রাইসের মাঝখানে বড় গর্ত করে ক্রফিশ কারি ঢালা রয়েছে । সে ভাবেই সকলে খাচ্ছে মাছভাত মেখে চামচ আর কাঁটা দিয়ে । সবশেষে খেলাম এখানকার অথেন্টিক সুইটডিশ &#8220;প্রালিন&#8221;| এটি এক প্রকার মিষ্টি, ক্যান্ডি জাতীয় যা তৈরী হয়  ব্রাউনসুগার, পাউডার্ড হোয়াইট সুগার, ক্রিম, মাখন আর &#8220;পেকন&#8221; বা আখরোটের মত একটি শুকনো ফল দিয়ে ।<br />
গেলাম নিউঅর্লিন্সের কলেজ পাড়ায় । সেন্ট চার্লস এভিনিউতে দুটি বিখ্যাত কলেজ দেখলাম । লয়োলা এবং টিউলেন ইউনিভার্সিটি । রাস্তায় একটা আর্ট এন্ড কিউরিও শপে গিয়ে কিনলাম বিখ্যাত নিউঅর্লিন্স শহরের মুখোশ , পোর্সেলিনের তৈরি এই মাস্ক । সব প্রাচীন শহরেই থাকে এমন কোনো না কোনো কিউরিও । যেমন ভুটানের ড্রাগন মাস্ক, পুরুলিয়ার ছৌ নাচের মুখোশ বাঁকুড়ার টেরাকোটার ঘোড়া আর শান্তিনিকেতনের ডোকরা ।<br />
এবার গেলাম মিসিসিপি নদী দেখতে । ভূগোল পড়ার  সাক্ষী হয়ে চিরকাল যে আমাকে হাতছানি দিয়ে ডেকেছে তাকে স্বচক্ষে দেখে আত্মহারা হয়ে গেলাম । নদীর ওপর রিভার ক্রুজের ব্যবস্থা রয়েছে । খুব একটা ব্যয় বহুল ও নয় । আম-আদমী সকলেই যাচ্ছে । আমরাও চড়লাম এক মস্ত জাহাজে ।  মিসিসিপি বক্ষে ভেসেছিলাম সেদিন দুজনে.. আমার ভূগোল ব‌ইয়ের ইতিহাস সামনে দিয়ে বয়ে চলল ।<br />
স্রোতের সুর তুলে নীলঘাগরার কুঁচি লুটিয়ে, মিসিসিপির ডেকে বসে দেখেছিলাম সূর্যাস্তের লাল রঙ ওপারের সেন্ট পিটার্স ক্যাথিড্রালও সাক্ষী হয়ে দেখেছিল সে বিকেলের সূর্যাস্তের লাল-কমলার কত খেলা!<br />
<a href="http://coffeehouseradda.com/files/2010/09/RiverBoat.png"><img class="aligncenter size-full wp-image-3569" src="http://coffeehouseradda.com/files/2010/09/RiverBoat.png" alt="RiverBoat" width="150" height="102" /></a> মিসিসিপিকে বিদায় জানাতে বড় কষ্ট হয়েছিল মনে মনে বলেছিলাম &#8220;ঠিক এমন করেই থেকো তুমি যেমন আজ আছো,তোমার আকাশ আমার আকাশের চেয়েও নীল দেখে যাচ্ছি তোমার জলের রং আমার চোখের তারায় ধরে নিয়েছি তোমার আকাশে সেদিন দেখেছি পড়ন্ত সূর্য়ের লাল-কমলার খেলা !<br />
জলের ওপরে সেই ছায়া আর তার ওপরে আমাদের ছবি তা তুমিও কিন্তু রেখো ধরে সুন্দর করে.. শহর নিউঅর্লিন্সকে বলেছিলাম যদি তুমি হারিয়ে যাও একদিন যদি কোনো বিধ্বংসী ঝড় এসে তোমায় গ্রাস করে নেয় তোমার ঋণ আমি শোধ করতে পারবো না, তুমি হয়ত তলিয়ে যাবে,কিন্তু আমার মনের ক্যানভাসে তুমি বেঁচে থাকবে চিরসুন্দর হয়ে&#8221;<br />
২৯শে আগস্ট ২০০৫ এর এক বিধ্বংসি সাইক্লোন,  গাল্ফ অফ মেক্সিকো থেকে উড়ে এসে  আছড়ে পড়ে | কুখ্যাত এই সাইক্লোন  এখানে &#8220;হারিকেন ক্যাটরিনা&#8221; নামে পরিচিত। এর আঘাতে  মিসিসিপি নদীর বাঁধ ভেঙে  যায় এবং সমুদ্রের জলের উচ্ছ্বাসে সারা নিউ অর্লিন্স শহর গভীর জলে নিমগ্ন হয় । ১০০০ এরও বেশি মানুষ প্রাণ হারায় অসংখ্য বাড়িঘর ভেঙে পড়ে এবং ব্যাবসা বাণিজ্যের বিপুল ক্ষতি হয় । পাঁচ বছর আগে ঘটে যাওয়া এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব এখনো মুছে যায়নি নিউ অর্লিন্স থেকে, তার অর্থনীতি থেকে ও শহরের মানুষের মন থেকে  । &#8220;vieu carre&#8221; তে হয়ত এখনো বাজছে সেই জ্যাজ টিউনের সুর কিন্তু এ এক করুণ বিরহের সুর কারণ এখানকার দুটি ফর্চুন ৫০০ কোম্পানির মধ্যে একটির আজ কোনো অস্তিত্ব নেই |ঝড়ের ধাক্কায় কাবু হয়ে সে নিজেকে বেচে দিয়েছে দূর দেশের অন্য কোম্পানির মালিককে|</p>
<a href="http://www.addtoany.com/add_to/google_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Findira%2F3564&amp;linkname=%26%238220%3B%E0%A6%A8%E0%A7%9F%E0%A6%A8%E0%A6%AD%E0%A7%8B%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%8B%20%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%89%E0%A6%85%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%B8%26%238221%3B" title="Google Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/google.png" width="16" height="16" alt="Google Bookmarks"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/orkut?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Findira%2F3564&amp;linkname=%26%238220%3B%E0%A6%A8%E0%A7%9F%E0%A6%A8%E0%A6%AD%E0%A7%8B%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%8B%20%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%89%E0%A6%85%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%B8%26%238221%3B" title="Orkut" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/orkut.png" width="16" height="16" alt="Orkut"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/twitter?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Findira%2F3564&amp;linkname=%26%238220%3B%E0%A6%A8%E0%A7%9F%E0%A6%A8%E0%A6%AD%E0%A7%8B%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%8B%20%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%89%E0%A6%85%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%B8%26%238221%3B" title="Twitter" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/twitter.png" width="16" height="16" alt="Twitter"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/facebook?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Findira%2F3564&amp;linkname=%26%238220%3B%E0%A6%A8%E0%A7%9F%E0%A6%A8%E0%A6%AD%E0%A7%8B%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%8B%20%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%89%E0%A6%85%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%B8%26%238221%3B" title="Facebook" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/facebook.png" width="16" height="16" alt="Facebook"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/yahoo_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Findira%2F3564&amp;linkname=%26%238220%3B%E0%A6%A8%E0%A7%9F%E0%A6%A8%E0%A6%AD%E0%A7%8B%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%8B%20%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%89%E0%A6%85%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%B8%26%238221%3B" title="Yahoo Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/yahoo.png" width="16" height="16" alt="Yahoo Bookmarks"/></a> <a class="a2a_dd addtoany_share_save" href="http://www.addtoany.com/share_save?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Findira%2F3564&amp;linkname=%26%238220%3B%E0%A6%A8%E0%A7%9F%E0%A6%A8%E0%A6%AD%E0%A7%8B%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%8B%20%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%89%E0%A6%85%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%B8%26%238221%3B"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/share_save_120_16.png" width="120" height="16" alt="Share/Bookmark"/></a>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://coffeehouseradda.com/blog/indira/3564/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>ঈদের শুভেচ্ছা</title>
		<link>http://coffeehouseradda.com/blog/admin/3561</link>
		<comments>http://coffeehouseradda.com/blog/admin/3561#comments</comments>
		<pubDate>Tue, 07 Sep 2010 18:57:11 +0000</pubDate>
		<dc:creator>মডারেটর</dc:creator>
				<category><![CDATA[ব্লগাড্ডা]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://coffeehouseradda.com/?p=3561</guid>
		<description><![CDATA[কফিহাউসের তরফ থেকে সকল ব্লগার, পাঠক ও অতিথিকে পবিত্র ঈদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। ভালো থাকবেন।
শুভ ব্লগিং। 
     ]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>কফিহাউসের তরফ থেকে সকল ব্লগার, পাঠক ও অতিথিকে পবিত্র ঈদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। ভালো থাকবেন।<br />
শুভ ব্লগিং। </p>
<a href="http://www.addtoany.com/add_to/google_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fadmin%2F3561&amp;linkname=%E0%A6%88%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%B6%E0%A7%81%E0%A6%AD%E0%A7%87%E0%A6%9A%E0%A7%8D%E0%A6%9B%E0%A6%BE" title="Google Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/google.png" width="16" height="16" alt="Google Bookmarks"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/orkut?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fadmin%2F3561&amp;linkname=%E0%A6%88%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%B6%E0%A7%81%E0%A6%AD%E0%A7%87%E0%A6%9A%E0%A7%8D%E0%A6%9B%E0%A6%BE" title="Orkut" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/orkut.png" width="16" height="16" alt="Orkut"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/twitter?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fadmin%2F3561&amp;linkname=%E0%A6%88%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%B6%E0%A7%81%E0%A6%AD%E0%A7%87%E0%A6%9A%E0%A7%8D%E0%A6%9B%E0%A6%BE" title="Twitter" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/twitter.png" width="16" height="16" alt="Twitter"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/facebook?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fadmin%2F3561&amp;linkname=%E0%A6%88%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%B6%E0%A7%81%E0%A6%AD%E0%A7%87%E0%A6%9A%E0%A7%8D%E0%A6%9B%E0%A6%BE" title="Facebook" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/facebook.png" width="16" height="16" alt="Facebook"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/yahoo_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fadmin%2F3561&amp;linkname=%E0%A6%88%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%B6%E0%A7%81%E0%A6%AD%E0%A7%87%E0%A6%9A%E0%A7%8D%E0%A6%9B%E0%A6%BE" title="Yahoo Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/yahoo.png" width="16" height="16" alt="Yahoo Bookmarks"/></a> <a class="a2a_dd addtoany_share_save" href="http://www.addtoany.com/share_save?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fadmin%2F3561&amp;linkname=%E0%A6%88%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%B6%E0%A7%81%E0%A6%AD%E0%A7%87%E0%A6%9A%E0%A7%8D%E0%A6%9B%E0%A6%BE"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/share_save_120_16.png" width="120" height="16" alt="Share/Bookmark"/></a>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://coffeehouseradda.com/blog/admin/3561/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>1</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>নক্ষত্রের গোধূলি-১৮</title>
		<link>http://coffeehouseradda.com/blog/neelnokkhotro/3559</link>
		<comments>http://coffeehouseradda.com/blog/neelnokkhotro/3559#comments</comments>
		<pubDate>Tue, 07 Sep 2010 12:10:13 +0000</pubDate>
		<dc:creator>নীল নক্ষত্র</dc:creator>
				<category><![CDATA[ব্লগাড্ডা]]></category>
		<category><![CDATA[ধারাবাহিক উপন্যাস]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://coffeehouseradda.com/?p=3559</guid>
		<description><![CDATA[নক্ষত্রের গোধূলি-১৮
ভাবী অনেক কিছু রান্না করেছে বিরিয়ানি, রোস্ট, কাবাব, চিকেন গ্রীল। খেতে বসে ফিরোজের মা মনিকে বললো রাশেদের বাড়ি তো শুনলাম আমাদের পাশেই তা তোমার বাবার বাড়ি কোথায়?
ওখানেই।
আপনাদের বাড়ি পাশেই মানে কোথায়?
ফিরোজের মা তার বাবার বাড়ির ঠিকানা বলতেই মনি আনন্দে আত্মহারা হয়ে বলে উঠল,
ও! আপনি শহিদ চাচার বোন? এই ব্যাপার! অথচ দেখেন আমাকে এতো দিন [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>নক্ষত্রের গোধূলি-১৮<br />
ভাবী অনেক কিছু রান্না করেছে বিরিয়ানি, রোস্ট, কাবাব, চিকেন গ্রীল। খেতে বসে ফিরোজের মা মনিকে বললো রাশেদের বাড়ি তো শুনলাম আমাদের পাশেই তা তোমার বাবার বাড়ি কোথায়?<br />
ওখানেই।<br />
আপনাদের বাড়ি পাশেই মানে কোথায়?<br />
ফিরোজের মা তার বাবার বাড়ির ঠিকানা বলতেই মনি আনন্দে আত্মহারা হয়ে বলে উঠল,<br />
ও! আপনি শহিদ চাচার বোন? এই ব্যাপার! অথচ দেখেন আমাকে এতো দিন কিচ্ছু বলেনি, তাহলে তো আপনি আমাদের ফুফু হন<br />
নিজের বাবার নাম বলে জানতে চাইল আপনি আমার বাবাকে চিনতে পেরেছেন?<br />
তুমি তাহলে ওর মেয়ে!<br />
হ্যা। আর আমি ভাবছিলাম কোথায় নিয়ে যাচ্ছে, কোথায় থাকবো কি করবো কত কি ভেবে আমি অস্থির ছিলাম এ কয় দিন। </p>
<p>ফিরোজ এলো একটু পরে, এসে পিয়াজ দেখেই বললো কি রাশেদ পিঁয়াজের কথা তোমার এখনো মনে আছে?<br />
রাশেদ আর ফিরোজ একই স্কুলে পড়েছে। স্কুল ছাড়ার পর এই প্রথম দেখা। লন্ডন আসার দিন ঠিক হবার পর কামরুলের কাছ থেকে ফিরোজের ফোন নম্বর, মেইল ঠিকানা নিয়ে যোগাযোগ করেছিলো। তা প্রায় ত্রিশ বৎসর পর দেখা। খেতে বসে আরো আলাপ হোল। শেফালি ভাবী একটা ড্রাইভিং স্কুল চালায়। মনিরা যতই দেখছে ততই অবাক হচ্ছে। মনিরা জানে ওর সব বন্ধুরাই এমন। একেক জনের সাথে বিশ, পঁচিশ বা ত্রিশ বত্সর পরে দেখা হলেও কারো ভাব দেখে বোঝার উপায় নেই যে এতো দিন পর দেখা হয়েছে, এমনকি এর মধ্যে এদের কারো সাথে কোন যোগাযোগও নেই তবুও কেউ কাউকে কোন অবহেলা করছে না ভুলে যাচ্ছে না। সবাই একই রকম, আন্তরিকতায় কেউ কম না। আনন্দে, কৃতজ্ঞতায়, পাগল স্বামীর প্রতি ভালোবাসায় মনিরার চোখ ভিজে উঠলো। </p>
<p>সত্যিই ভাবি আমি যে এখানে এসে এমনটা পাব তা কল্পনাও করতে পারিনি। মনে হচ্ছে আপনি আমার কত দিনের চেনা, কত আপন, বলেই সেফালিকে জড়িয়ে ধরল।<br />
না ভাবি আপনার ভাই শুধু বলেছে ওর অনেক দিনের পুরনো এক বন্ধু বৌ নিয়ে আসছে। আমাকে আর কিছু বলে নাই।<br />
মনিরা বলে উঠলো তাহলে দুইজনে একই রকম।<br />
সেফালি বলল তা না হলে বন্ধুত্ব হবে কি করে?<br />
মনিরার চোখ এর পরে আর পানি সামলাতে পারেনি ফোটা ফোটা করে গড়িয়ে পরছে। </p>
<p>তাই দেখে ফিরোজের মা বললো ওকি মা তুমি কাঁদছ কেন?আমি তো জানতাম না যে তুমি আমাদের আপন জন। ফিরোজ আমাকেও কিছু বলেনি। আমি জিজ্ঞেস করাতে শুধু বলেছিল তোমাদের পাশের গ্রামেই।<br />
তা বলত মা গ্রামের কি অবস্থা, কে কেমন আছে, কোথায় কি হচ্ছে, ওই ব্রীজটা কি হয়েছে, ঢাকা থেকে ঝিটকা যেতে এখন রাস্তার কি অবস্থা?এরকম আরো নানা কৌতুহল। তোমার ছেলে মেয়ে কজন, বাড়িতে কে কে আছে, তোমার বাবা চাচার কি অবস্থা। </p>
<p>আমার বাবা তো অনেক আগেই চলে গেছেন ফুফু, চাচাও এইতো কয়েক বৎসর হোল। শহিদ চাচাকে কিছু দিন আগে দেখেছিলাম, আমাদের বাড়ি এসেছিল। আমিও ফুফু আম্মা আপনার মতই প্রায়, দেশে থেকেও গ্রামে খুব একটা যেতে পারি না।<br />
আচ্ছা চল শুয়ে পর আজ আর না কাল গল্প করব, এতদিন পর গ্রামের মেয়ে পেলাম আমার যে কি ভালো লাগছে মা। আজ তোমরা ক্লান্ত, যাও বিশ্রাম নাও।<br />
ভাবী চলেন। এখানে কিন্তু আপনাদের ঢাকার মত বড় বড় ঘর নেই। ছোট ঘর, শীতের দেশে ঘর গরম রাখতে গেলে বড় ঘরে অনেক খরচ হয় তাই সবাই ছোট ছোট ঘর বানায়।</p>
<p>কি যে বলেন ভাবী, ছোট আর বড়। আমি যে কি দুশ্চিন্তায় ছিলাম, কোথায় নিয়ে যাচ্ছে, কোথায় থাকবো আমি তো আসতেই চাইছিলাম না। শুধু ওর পাগলামির জন্য আসা।<br />
এসে ভালো করেছেন, এর পরে আপনি যে কোন সময় আসতে পারবেন।</p>
<p>মনিরা আর রাশেদ আপাতত সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে উপরে তাদের ঘরে চলে এলো। ছোট্ট একটা ঘর, সিঙ্গেল একটা খাট। এর মধ্যেই তাদের দুজনকে থাকতে হবে। রাশেদ সাহেব বাঙ্গালির স্বাভাবিক উচ্চতার চেয়ে একটু বেশি লম্বা বলে দেশের বাজারে যে মাপের খাট তৈরী হয় তাতে শুতে পারে না। নিজে কাঠ কিনে এনে বাড়িতে মিস্ত্রি ডেকে তার নিজের মাপ মত খাট বানিয়ে নিয়েছেন। আজ এই ছোট্ট খাটে দুজনকে শুতে হবে। মনির দিকে চেয়ে হেসে বললেন কি করবে, এর মধ্যেই শুয়ে পর। লম্বা জার্নি করেছ তুমি ক্লান্ত। খাটের দিকে চেয়ে লাভ নেই। এখানে যা পেয়েছ তাতেই শোকর কর। না হলে এতক্ষণে ভিক্টোরিয়া স্টেশনের কাছা কাছি বা হোয়াইট চ্যাপেলের কাছে কম দামের ‘বেড এন্ড ব্রেক ফাস্ট’ খুজতে হতো। অনেক পেয়েছি এখানে। </p>
<p>দেখেছ, ফিরোজের বোন, বোন জামাই আমাদের জন্য এই ঘর ছেড়ে অন্য বাসায় গিয়ে থাকছে। এদেশে যার যার নিজের যতটুক দরকার ততটাই ঘর কিনে। এতো বড় ঘর দিয়ে কি করবে?এটাই এই লন্ডনের জীবন। দেশের মানুষ যেমন ভাবে যারা লন্ডন থাকে তারা না জানি কত সুখে আছে আসলে তা নয়। হ্যা রোজগার ভাল কিন্তু জীবনের অনেক কিছু থেকে বঞ্চিত থাকতে হয় এখানে। কদিন থাক দেখবে, এখানকার জীবন কেমন।<br />
এই যে এই জানালা দেখছ দেখ এতে মোটা দুইটা কাচ লাগানো রয়েছে, এর নাম হচ্ছে ডাবল গ্লেজিং যাতে শীতের তাণ্ডব দ্বিতীয় কাচ ভেদ করে ঘরে ঢুকতে না পারে। শীত বল আর গরম বল কখনোই জানালা খুলে রাখতে পারবে না। আমাদের দেশের মত বারান্দায় বসা কাকে বলে এরা তা জানেই না। কাল দিনে দেখবে বাড়ি ঘর একেকটা একেক দিকে মুখ করা। দক্ষিন মুখী হতে হবে নয়তো একান্ত পূর্ব মুখী না হলে বাতাস এসে দেহ মন জুড়িয়ে দিবে এদের এমন ভাবনা নেই। আরো দেখবে, এখানে কেউ কারো নয়। কেউ কাউকে এক কাপ চাও খেতে বলে না নিতান্ত কোন উদ্দেশ্য না থাকলে। তবুও যা করেছে আমি ভাবতেও পারিনি। সেই কবে স্কুল ছেড়ে আসার পর আর দেখা হয়নি, জানা না থাকলে ওকে দেখে হয় তো চিনতেও পারতাম না। ও যা করেছে সে ঋণ আমি কোন দিন শোধ করতে পারব কিনা জানি না। ওর বৌ যদি এমন না হতো তাহলে হয়ত ফিরোজের পক্ষে এতটা সম্ভব হতো না। </p>
<p>সবই আল্লাহর ইচ্ছা নয়তো এমন জামাই আদর? অসম্ভব। আমি তো ভাবতেই পারিনি, শুনেছি এদেশের মেয়ে তাই ভেবেই নিয়েছিলাম সাদা কেউ হবে, এতো দিন তাই মনে করেছি। নিজের আপন ভাই তো রয়েছে তাকে তো জানাতেও পারিনি। যাক কাল থেকেই সব দেখতে পাবে। এখন শুয়ে পর, আমরা তো আর হানিমুন করতে আসিনি বা সখ করে বেড়াতে আসিনি। আমাদের ভাগ্য টেনে নিয়ে এসেছে এখানে।<br />
ভোরে সেহরী খাবার জন্য উঠেছিল, কোন রকম সেহরী খেয়েই আবার ঘুম। সকালে ঘুম ভেঙ্গেছে অনেক দেরীতে। ভাবি বা ফিরোজ কে ও  ইচ্ছা করেই ডাকেনি।<br />
মনিরার সারা পেয়ে ভাবী উপরে এসে জিজ্ঞেস করলেন কি ভাবী ঘুম হয়েছে?<br />
হ্যা ভাবী দুই দিন পথে থেকে ভীষন টায়ার্ড ছিলাম শোবার সাথে সাথেই ঘুম কোথা দিয়ে এত বেলা হয়েছে বুঝতেই পারিনি। </p>
<p>নিচে নেমে সবাই গল্প করছে। চল দেখি তোমাদের জায়গাটা কেমন দেখায়। ঘরের বাইরে বের হোল, প্রচন্ড শীত, গরম কাপড় গায়ে তবুও কাঁপুনি লাগছে। ওর বাড়িটা বেশ সুন্দর। সামনে একটু ফুলের বাগান, এখন শীত বলে কোন ফুল নেই শুধু গাছ গুলি দাঁড়িয়ে আছে। তারপরেই বাচ্চাদের খেলাধুলার একটু জায়গা। আবার তার পরেই রাস্তা। কাল যে গাড়িতে করে এসেছে সেটা রাস্তার পাশেই ওর বাড়ির সামনে রেখেছে। ফিরোজ বললো ওটা শেফালির। তোমার কোনটা?ওই তো ওর পিছনের টা।<br />
শীত সহ্য করতে না পেরে মনি ভিতরে চলে এলো। বাড়ির পিছনে শাক সব্জী করার মত খানিকটা মাটি, চারদিকে কাঠের বেড়া দেয়া। এক কোনায় একটা আপেল গাছ। নীচ তলায় বসার ঘর, রান্না ঘরে আবার ছোট একটা খাবার টেবিল পাতা আছে, ছোট একটা টয়লেট আর একটা ঘর যেখানে ওর মা থাকে। উপরে দোতলায় দুইটা ঘর, বাথরুম টয়লেট, তিনতলায় চিলে কোঠার মত একটা ঘর। বেশ ছিম ছাম করে সাজানো। সারা বাড়িতে মোটা কার্পেট বিছানো। এমনকি বাথরুমেও, বাথরুমের এক পাশে পর্দা ঘেরা বাথ টাব। এখানে আমাদের দেশের মত ঘরে ঘরে জনে জনে একটা করে বাথরুম নেই। অতিরিক্ত কোন ঘর নেই। এখানে একটা বাড়ি আছে এই যথেষ্ট। বিলাসিতা করার মত বা অনর্থক খরচের বোঝা বাড়িয়ে কোন লাভ নেই। শীত কালে বাড়ি গরম রাখার জন্য যথেষ্ট গ্যাস বিজলী খরচ হয়ে যায়। এর নাম লন্ডন শহর। সারা দিন কাজ আর কাজ, বাড়িতে কতক্ষণই থাকার সুযোগ পায়। রাতে কোন রকমে শরীরটাকে একটু বিছানায় ফেলে দেয়া।</p>
<p>বাড়িতে সেন্ট্রাল হিটিং চলছে তবুও বসার ঘরে আলাদা একটা হিটার চলছে। নাশতার পর চা চলছে এখন। নভেম্বরের প্রথম, এর মধ্যে লন্ডন শহরে আর কেু জায়গা পাক আর না পাক শীত মহোদয় তার আসন পেতে নিয়েছে। ফিরোজের মা মনিকে ডেকে পাশের রান্না ঘরে গেল।[চলবে] </p>
<a href="http://www.addtoany.com/add_to/google_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fneelnokkhotro%2F3559&amp;linkname=%E0%A6%A8%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%97%E0%A7%8B%E0%A6%A7%E0%A7%82%E0%A6%B2%E0%A6%BF-%E0%A7%A7%E0%A7%AE" title="Google Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/google.png" width="16" height="16" alt="Google Bookmarks"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/orkut?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fneelnokkhotro%2F3559&amp;linkname=%E0%A6%A8%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%97%E0%A7%8B%E0%A6%A7%E0%A7%82%E0%A6%B2%E0%A6%BF-%E0%A7%A7%E0%A7%AE" title="Orkut" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/orkut.png" width="16" height="16" alt="Orkut"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/twitter?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fneelnokkhotro%2F3559&amp;linkname=%E0%A6%A8%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%97%E0%A7%8B%E0%A6%A7%E0%A7%82%E0%A6%B2%E0%A6%BF-%E0%A7%A7%E0%A7%AE" title="Twitter" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/twitter.png" width="16" height="16" alt="Twitter"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/facebook?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fneelnokkhotro%2F3559&amp;linkname=%E0%A6%A8%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%97%E0%A7%8B%E0%A6%A7%E0%A7%82%E0%A6%B2%E0%A6%BF-%E0%A7%A7%E0%A7%AE" title="Facebook" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/facebook.png" width="16" height="16" alt="Facebook"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/yahoo_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fneelnokkhotro%2F3559&amp;linkname=%E0%A6%A8%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%97%E0%A7%8B%E0%A6%A7%E0%A7%82%E0%A6%B2%E0%A6%BF-%E0%A7%A7%E0%A7%AE" title="Yahoo Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/yahoo.png" width="16" height="16" alt="Yahoo Bookmarks"/></a> <a class="a2a_dd addtoany_share_save" href="http://www.addtoany.com/share_save?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fneelnokkhotro%2F3559&amp;linkname=%E0%A6%A8%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%97%E0%A7%8B%E0%A6%A7%E0%A7%82%E0%A6%B2%E0%A6%BF-%E0%A7%A7%E0%A7%AE"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/share_save_120_16.png" width="120" height="16" alt="Share/Bookmark"/></a>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://coffeehouseradda.com/blog/neelnokkhotro/3559/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>পাকুয়াখালীর মৃত্যুকূপ থেকে ফিরে আসা ইউনুছ মিয়া</title>
		<link>http://coffeehouseradda.com/blog/sayedibnrahmat/3556</link>
		<comments>http://coffeehouseradda.com/blog/sayedibnrahmat/3556#comments</comments>
		<pubDate>Tue, 07 Sep 2010 10:16:37 +0000</pubDate>
		<dc:creator>sayedibnrahmat</dc:creator>
				<category><![CDATA[ব্লগাড্ডা]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://coffeehouseradda.com/?p=3556</guid>
		<description><![CDATA[<a href=http://coffeehouseradda.com/blog/sayedibnrahmat/3556><img src=http://media.somewhereinblog.net/images/thumbs/sayedibnrahmat_1283883133_1-Yunus.jpg class=imgtfe hspace=5 align=left width=100  border=0></a>
ইউনুছ মিয়া
বাংলাদেশের পার্বত্যচট্টগ্রামে শান্তিবাহিনী ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর চুক্তি সাক্ষরের পূর্ব পর্যন্ত অজস্র হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে। এগুলোর মধ্যে কোন কোন হত্যাকান্ডের নৃসংশতা ইতিহাসের জঘন্যতম গণহত্যাগুলোকেও হারমানায়। পাকুয়াখালী ট্রাজেডি এই নৃসংশ গণহত্যাগুলোরই একটি। ১৯৯৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর পার্বত্য রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়িতে ঘটে বর্বরতম এই ঘটনা। এই দিন পাকুয়াখালীতে শান্তিবাহিনী ঘটিয়েছিল পার্বত্য ইতিহাসের জঘন্যতম হত্যাকান্ড। ৩৫ জন নিরীহ [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><img src="http://media.somewhereinblog.net/images/thumbs/sayedibnrahmat_1283883133_1-Yunus.jpg" alt="" /></p>
<p>ইউনুছ মিয়া</p>
<p>বাংলাদেশের পার্বত্যচট্টগ্রামে শান্তিবাহিনী ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর চুক্তি সাক্ষরের পূর্ব পর্যন্ত অজস্র হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে। এগুলোর মধ্যে কোন কোন হত্যাকান্ডের নৃসংশতা ইতিহাসের জঘন্যতম গণহত্যাগুলোকেও হারমানায়। পাকুয়াখালী ট্রাজেডি এই নৃসংশ গণহত্যাগুলোরই একটি। ১৯৯৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর পার্বত্য রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়িতে ঘটে বর্বরতম এই ঘটনা। এই দিন পাকুয়াখালীতে শান্তিবাহিনী ঘটিয়েছিল পার্বত্য ইতিহাসের জঘন্যতম হত্যাকান্ড। ৩৫ জন নিরীহ বাঙালি কাঠুরিয়াকে নির্মমভাবে হত্যা করে বিকৃত করেছিল তাদের প্রতিটি লাশ। সেদিন ঘটনাস্থল থেকে সৃষ্টি কর্তার অসীম করুণায় পালিয়ে আসতে পেরেছিল মুহাম্মদ ইউনুছ মিয়া নামের এক ভাগ্যবান। সেদিনের সেই মৃত্যুকূপ থেকে ফিরে আসা ইউনুছ মিয়ার একটি সাক্ষাৎকার- সৈয়দ ইবনে রহমত।</p>
<p>প্রঃ কি করছিলেন?<br />
উঃ গায়ে জ্বর, শুইয়া আছিলাম।</p>
<p>প্রঃ কতদিন যাবৎ জ্বর? ওষুধপত্র খাচ্ছেন না?<br />
উঃ দুইদিন ধইরা জ্বর। ভাই, ওষুধপাতি খাইয়া কি অইব। জ্বরের লাগি ওষুধ খাইলেই কি আর না খাইলেই কি। এই বাড়ে-এই কমে, ওষুধ খাওন লাগব না, দুই দিন পরে এমনেই সাইরা যাইব।</p>
<p>প্রঃ আপনার কাছে আসার উদ্দেশ্য হলো পাকুয়াখালী হত্যাকান্ড সম্পর্কে কিছু কথা বলা।<br />
উঃ এইসব কইয়া লাভ কি? কতই তো কইলাম। আর্মি, পুলিশ, সিআইডির অফিসার, সাংবাদিক, আরো কতজনের লগে কইছি। কই, কিছুইতো অইল না। এইসব কইয়া আর মনের জ্বালাটা বাড়াইয়া লাভ কি?</p>
<p>প্রঃ আপনারা তো জানতেন যে, পাহাড়ে শান্তিবাহিনী আছে, তারা বাঙালিদর দেখা মাত্রই গুলি করে। তারপরও পাহাড়ে যাওয়ার সাহস পেলেন কিভাবে?<br />
উঃ ভাই, শখ কইরা কেউ কী আর মরণের সামনে যায়? পেটের দায়ে যাওন লাগে। পাহাড়ে যাওন ছাড়া আর তো বাঁচনের পথ নাই। সামান্য জমি-জমা যা আছে এইডাও তো কোন বছর চাষ কইরা ঘরে তোলা যায় না। কাপ্তাই বান্ধের পানি আইসা ডুবাইয়া দেয়। তাই বাধ্য অইয়াই পাহাড়ে যাওন লাগে। আর পাকুয়াখালীর ঘটনার সময়তো কোন ভয় আছিল না। তখন শান্তিবাহিনীর লগে আমাদের চুক্তি আছিল। আমরা তাদেরকে ১ ফুট (এক ঘনফুট) গাছের বিনিময়ে ৪০/৫০ টাকা কইরা চান্দা দিতাম।</p>
<p>প্রঃ শান্তিবাহিনীর সাথে কখন থেকে টাকার বিনিময়ে গাছ কাটার চুক্তি হয়েছিল?<br />
উঃ পাকুয়াখালীর ঘটনার ৫/৬ বছর আগে একদিন বড় মাহিল্যার তক্তা নজরুল (লম্বা এবং হালকা পাতলা গড়নের কারণে তাকে লোকজন তক্তা নজরুল নামে চিনত) আমাদের কইল, পাহাড়ে গাছ কাটতে গেলে শান্তিবাহিনীরা আর বাঙালিরে গুলি করব না। কিন্তু তাদেরকে চান্দা দিতে অইব। তারপর থাইক্যা শুরু অইল গাছ কাটা। আগের থাইক্যাই চাকমাদের লগে নজরুল ভাইয়ের বালা সম্পর্ক আছিল। চাকমাদের বাড়ীতে মাঝে মধ্যে হে যাইত, আবার চাকমারাও হের বাড়ীতে আসা যাওয়া করত। এদের মধ্যে কেউ কেউ শান্তিবাহিনীও আছিল। তারাই তক্তা নজরুলরে দিয়া চান্দার মাধ্যমে গাছ কাটার খবর দিছিল।</p>
<p>প্রঃ চাঁদা দিয়া যখন গাছ কাটতেন, তখন আপনাদের সাথে শান্তিবাহিনী কেমন আচরণ করত?<br />
উঃ এমনিতে তারা কোন খারাপ আচরণ করত না। তবে তাদের আইন কানুন আছিল খুব কড়া। যেই দিন যা কইতো, তাই করতে অইতো। কেউ কথা না হুনলে মাইর-দোর করতো, পাহাড়ে যাওন বন্ধ কইরা দিত।</p>
<p>প্রঃ আপনারা যেখানে গাছ কাটতে যেতেন, সেখানকার চাকমাদের সাথে আপনাদের সম্পর্ক কেমন ছিল?<br />
উঃ আমরা যেখানে গাছ কাটতে যাইতাম সেখানে অনেক চাকমা বসবাস করত। এদের কেউ কেউ শান্তিবাহিনীও আছিল। তবে বেশির ভাগই ছিল আমাদের মতই সাধারণ মানুষ। তারাও আমাদের সাথে গাছ কাটত। স্থানীয় এইসব চাকমাদের লগে আমাদের বালা সম্পর্ক আছিল। তারা আমাদের ঈদ-পরবের সময় বেড়াইতে আইত। আমরাও বিজুর (চাকমাদের বাৎসরিক উৎসব) সময় তাদের বাড়ীতে বেড়াইতে যাইতাম। অনেক সময় পাহাড়ে কোন গন্ডগোলের ভাব থাকলে তারা আমাদেরকে আগেই জানাইয়া দিত।</p>
<p>প্রঃ শান্তিবাহিনীর সাথে স্থানীয় চাকমাদের সম্পর্ক কেমন ছিল?<br />
উঃ শান্তিবাহিনীরা স্থানীয় চাকমাদের উপরেও অত্যাচার করতো, ওদের কাছ থাইকয়াও চান্দা নিত। সামান্য ভুল-ত্রুটি অইলে বা তাদের কথামতো না চললে মাইর-দোর করতো। কতজনরে তো গুলি কইরা মাইরাও ফালাইছে। শান্তিবাহিনীর খাওন-খোরাক অনেক সময় বাজার থাইক্যা কিইন্যা পাহাড়ে গিয়া দিয় আইতে অইতো। তাই স্থানীয় চাকমারা কৌশলে শান্তিবাহিনীর কালেক্টরদেরকে বিপদে ফালাইয়া তাড়ানোর চেষ্টা করতো। কোন কোন সময় মদ-টদ খাওয়াইয়া মাইয়া সংক্রান্ত ঝামেলায় ফালাইতো, আবার কোন কোন সময় টাকা-পয়সার হিসাবে গোলমাল লাগাইয়া শান্তিবাহিনীর বড় অফিসারের কাছে নালিশ করতো। এমনও সময় গেছে যখন এক মাসের মধ্যে তিন-চারজন কালেক্টর বদল হইছে।</p>
<p>প্রঃ দুই মাসের চাঁদা বাকি পড়ায় শান্তিবাহিনী ব্যবসায়ীদেরকে একটা মিটিংয়ে ডেকেছিল। কিন্তু ব্যবসায়ীরা না যাওয়ায় তারা ক্ষেপে গিয়ে এই হত্যাকান্ড চালিয়ে ছিল বলে অনেকে মনে করে। আপনারও কি তাই মনে হয়?<br />
উঃ এইডা একটা ফালতু কথা। ব্যবসায়ীরা পাহাড়েও যায় না। পাহাড়ে গিয়া কখনো চান্দা দেয় না। পাহাড়ে যাই আমরা। কাঠ বলেন, বাঁশ বলেন, তার চান্দা প্রত্যেক দিন সন্ধ্যার সময় দিয়াই আনতে হইত। কোন দিনের চান্দাই বাকি থাকত না।</p>
<p>প্রঃ ব্যবসায়ীদের কথা বলছি-<br />
উঃ ব্যবসায়ীরা তাদের মাল (কাঠ, বাঁশ) নেওনের সময় রাস্তায় রাস্তায় চান্দা দেয়। চান্দা ছাড়া ১ ফুট গাছ নেওনের মেতাও ব্যবসায়ীদে নাই। চান্দা বাকী রাইখ্যা শান্তিবাহিনী গাছ নিতে দিছে এই কথা জীবনেও শুনি নাই। ব্যবসা করতে চাইলে তাদেরকে চান্দা দেওনই লাগবো। আর হেগোর লাইগ্যা আমাদের মতন গরীব মানুষেরে মারব ক্যান্?</p>
<p>প্রঃ এতগুলো মানুষকে নির্মমভাবে মেরে ফেলার পিছনে কি কারণ আছে বলে আপনার মনে হয়?<br />
উঃ জানি না ভাই। কি জন্য যে মারল, হেইডাই তো কইতে পারি না। ওরা ভাই বিশ্বাসঘাতক, মীরজাফর, তক্তা নজরুলরে পর্যন্ত মাইরা ফালাইল। যে নিজে না খাইয়াও হেগোরে খাওয়াইছে, কত বিপদ থাইক্যা উদ্ধার করছে।</p>
<p>প্রঃ ঘটনার দিন পাহাড়ে গিয়ে সন্দেহজনক কিছু দেখেছিলেন?<br />
উঃ ঐদিন আমার পোলাগো মোসলমানির (খৎনা করার) কথা আছিল। তাছাড়া শরীরটাও বেশি বালা আছিলনা। কিন্তু আলাল ভাই (স্ত্রীর বড় ভাই) কইল, পাহাড়ে যাওনের লাগি। একরকম জোরের মধ্যেই আমি আলাল ভাইয়ের লগে রওনা হইলাম। অফিস ছড়া দিয়া পাহাড়ে ঢুকলাম। কেচিং (একটা জায়গার নাম) থাইক্যা সামন্য উপরে একটা দোকান। দোকানে দেখলাম তিনজন শান্তিবাহিনী অস্ত্র নিয়া বইসা আছে। এইডাতে অবশ্য সন্দেহ করি নাই। এই রকমতো মাঝে মধ্যেই দেখতাম। আলাল ভাইয়ের সাথে গ্যানো চাকমার ছোটখাট ব্যবসা আছিল। আলাল ভাই তার জন্য কিছু টাকা নিয়া গেছিল। টাকা দেওনের লাগি আলাল ভাই যখন গ্যানো চাকমার সাথে কথা কইতেছিল তখন কালু চাকমা এবং তার সাথের কয়েকজন আইসা কইল, মিটিং আছে, ভিতরে যাইতে অইব। তখন আলাল ভাই কইল, গ্যানো বদ্দা, তোমার টাকা মিটিং থাইক্যা আসার সময় দিব। কিন্তু গ্যানো চাকমা, টাকাটা তখনই লইতে চাইছিল। কালু চাকমা আলাল ভাইরে কইল, যাওনের সময় দিয়া যাওনের লাইগ্যা।</p>
<p>প্রঃ প্রথম কখন বুঝতে পারলেন যে, কোন দুর্ঘটনার সম্ভাবনা আছে?<br />
উঃ কালু চাকমার সাথে কিছুদূর যাইতেই দেখি রাস্তার দুই পাশে চার জন করে মোট আট জন এসএম জি নিয়া বইসা আছে। আমরা কাছে যাওন মাত্রই আমাদেরকে ঘিরে ফালাইল। এই অবস্থা দেইখ্যাই আমার প্রথম মনে অইল যে, আজকে আমাদেরকে মাইরা ফালাইব। পকেট থাইক্যা টাকা পয়সা সব রাইখ্যা কালু চাকমা আর তার লগের একজন আমাদের হাত পিছ-মোড়া কইরা গাছের লতা দিয়া বানল। বান্ধার সময় কইল মিটিংয়ের জায়গা নিয়া বান ছাইড়া দিব। তখন আমি কইলাম ছাইড়াই যখন দিবা, তখন অত শক্ত কইরা বান্ধনের দরকার কী, আমরাতো পালাইতেছি না। আমিও হাত এমন ভাবে রাখলাম যাতে বান বেশি শক্ত না হয়।</p>
<p>প্রঃ আপনাদের বেঁধে যেখানে নিয়ে গেল সেখানে গিয়ে কি দেখলেন?<br />
উঃ ১৫/২০ মিনিট হাইট্টা ভিতরে যাওনের পর দেখলাম একাটা মেড়া গাছের লগে তক্তা নজরুল সহ ৪ জন বান্ধা। সামনেই অন্যান্য গাছের লগে আরো মানুষ বান্ধা। গুনে দেখলাম আমিসহ ২৯ জন। এলএমজি ও এসএমজি হাতে পাহাড়া দিতেছে ১৯ জন শান্তিবাহিনী। আর লাঠি, দা, কুইচ্যা মারা শিক হাতে আরো ১২ জন চাকমা আছে, এদের মধ্যে কয়েকজনরে আমি চিনি। তারা হল- লাম্পায়া চাকমা, ছিক্কা কারবারী, বলি চাকমা, শান্তিময় চাকমা, বাবুল চাকমা, গুলুক্যা চাকমা, তরুন চাকমা(কালেক্টর), কবির চাকমা, বাশি চাকমা, বিমল চাকমা এবং সমিতি রঞ্জন চাকমা। এক সময় শান্তিবাহিনীর একজন একটা খাতা ও কলম নিয়া আমাদের সবার নাম লিখল এবং কার কাছ থাইক্যা রাস্তায় কত টাকা এবং কি কি জিনিস পত্র রাখা হইছে তা লিখল।</p>
<p>প্রঃ বাঁধা অবস্থা থেকে আপনি পালালেন কিভাবে?<br />
উঃ কিছুক্ষণ পর কালাপাকুইজ্যার ৫ জনরে গাছের থাইক্যা দড়ি খুইল্লা আরো সামনের দিকে লইয়া গেল। তাদের সাথে গেল ২ জন অস্ত্রধারী আর ৩ জন গেল দা, লাঠি, কুইচ্যা মারার শিক নিয়া। ১০/১২ মিনিট পর নজরুল ভাইসহ আরো ৫ জনরে নিয়া গেল। কিছুদূর যাওয়ার পর দেখলাম নজরুল ভাই আর যাইতে চাইতেছে না। তখন একজন তারে ঘাড়ে ধাক্কা দিয়া নিয়া গেল। তখনই বুঝলাম যে, লোকজনেরে সামনে নিয়া মাইরা ফালাইতেছে। কারণ নজরুল ভাইরে ঘাড়ে ধরা দূরের কথা. তার লগে গরম অইয়াও চাকমাদেরকে কথা কইতে কোন দিন দেহি নাই। তখন আমি একজনরে কইলাম, দাদা আমি একটু পেশাব করব। উনি এবং আরেক জন আমাকে একটু দূরে নিয়া গেল। পেশাবের ছল কইরা কিছুক্ষণ বইসা থাইক্যা মনে মনে ঠিক করছিলাম খাড়াইয়াই দৌড় দিমু। কিন্তু যখন খাড়াইলাম, তখন ঠাস কইরা বাঁকা একটা বাঁশের লগে মাথাটা বাড়ি লাগল। তখন আমার সাথের শান্তিবাহিনী দুইজন সর্তক হইয়া গেল। আমি মাথা হাতাইতে হাতাইতে আবার আগের জায়গায় আইলাম। আমারে আবার অন্যদের লগে বানল। তখন খুব লুকাইয়া লুকাইয়া আমি আমার হাতের বান খুইলা ফালাইলাম এবং কেউ যাতে বুঝতে না পারে সেই জন্য হাতের নিচে চাইপ্যা রাখলাম। তারপর আল্লাহর নাম লইয়া দিলাম এক দৌড়। কিন্তু সামনেই দেখি এলএমজি নিয়া একজন খাড়াইয়া রইছে। আমারে কইল, দৌড় দিবিনা, ব্রাশ কইরা দিমু, তখন আমি ডান পাশের ছড়ার দিকে লাফ দিলাম। লাফ দেয়ার সাথে সাথে ব্রাশ ফায়ারের শব্দ শুনলাম, আর শব্দ শুনতে শুনতেই গড়ায়ে পড়লাম নিচের দিকে। কিছুদূর যাওয়ার পর একটা গাছের গুড়ির দিকে গর্তমতো জাগা পাইলাম। সেইখানে বইসা মাথার উপরে জঙ্গল টাইন্যা ধইরা রাখলাম। ভয়ে তখন আমার বুকের মধ্যে এমন জোরে আওয়াজ অইতেছিল যে, মনে হইছিল এই শব্দ না জানি শান্তিবাহিনী শুইনা ফালায়। রাত হওয়ার পর ছড়া দিয়াই বাড়ির দিকে রওনা দিলাম। ছড়ার মধ্যে কোথাও হাঁটু পানি, কোথাও গলা পানি, আবার কোথাও সাঁতার। ঘন জঙ্গলে ভরা ছড়া দিয়ে চলবার মত কোন পথ নাই। তার উপর আবার নিশি অন্ধকার। ছড়ার মধ্যে ঠান্ডা পানি, বেতের কাঁটা, বিষাক্ত সাপ, হিংস্র প্রাণীর ভয়ও ছিল। কিন্তু তখন এক শান্তিবাহিনী ছাড়া আর কিছুকেই ভয় হচ্ছিল না। সারা রাত হেঁটে হেঁটে অবশেষে ভোরের দিকে পাহাড় থেকে বের হই।</p>
<p>প্রঃ ১১ তারিখ সেনাবাহিনীর লাশ উদ্ধারের কথা কিছু বলুন।<br />
উঃ বাড়িতে আসার পর আর্মিরা যহন জানল যে আমাকেও শান্তিবাহিনী ধরে নিয়া গেছিল। তহন তারা আমাকে সাথে নিয়া গেল পথ দেখানোর জন্য। আমি তাদের পাহাড়ে নিয়া গেলাম। তক্তা নজরুলরে যেইখানে ঘাড়ে ধাক্কা দিছিল, সেইখান থাইকা আরেকটু সামনে গিয়া দেখলাম, বাম দিকে প্রায় এক-দেড়’শ গজ পাহাড়ের নিচে একটা বেড়া। নিচে নাইমা সেই বেড়া পার হইলাম। কিন্তু তারপর আর রাস্তার কোন চিহ্ন নাই। একটু দূরে দেখলাম, একটা কাঁচা বাঁশের কঞ্চি আধা ভাঙ্গা অবস্থায় ঝুইলা রইছে। কঞ্চিটা সরানোর পর একটা ছোট পথ পাইলাম। এই পথ দিয়া সামনে গিয়া দেখি সরাফদ্দি ভাইয়ের টুপিটা একটা কঞ্চির লগে বাইজ্যা রইছে। এরপর সেন্ডেল, মদের টেংকি, বেশ কয়ডা লাঠিও দেখলাম। তারপর দেখলাম আলাল ভাইয়ের লাশ। আরেকটু সামনে গিয়া দেখি বিশাল জায়গা জুইড়া লাশ আর লাশ। কেউরে চিনা যায় না। বন্দুকের সামনে যে চাকুটা (বেয়নেট) থাকে এইডা দিয়া খোঁচাইয়া খোঁচাইয়া মারছে। লাঠি দিয়া পিটাইয়া, দা দিয়া কুবাইয়া, কুইচ্যা মারার শিক দিয়া পারাইয়া, চোখ তুইলা, আরো কতভাবে যে কষ্ট দিয়া মারছে তা কইয়া শেষ করুন যাইব না। ঐকথা মনে অইলে আইজো শরীরের পশম খাড়াইয়া যায়। ঐখানে লাশ পাওয়া যায় ২৮ জনের।</p>
<p>পাকুয়াখালিতে নিহত কয়েকজন কাঠুরিয়ার লাশ<br />
<img src="http://media.somewhereinblog.net/images/thumbs/sayedibnrahmat_1283883159_2-Pakuakhali-1.jpg" alt="" /><br />
<img src="http://media.somewhereinblog.net/images/thumbs/sayedibnrahmat_1283883177_3-Pakuakhali-2.jpg" alt="" /><br />
<img src="http://media.somewhereinblog.net/images/thumbs/sayedibnrahmat_1283883196_4-Pakuakhali-3.jpg" alt="" /><img src="http://media.somewhereinblog.net/images/thumbs/sayedibnrahmat_1283883219_5-Pakuakhali-4.jpg" alt="" /><img src="http://media.somewhereinblog.net/images/thumbs/sayedibnrahmat_1283883237_6-Pakuakhali-5.jpg" alt="" /><br />
প্রঃ মানুষ মারা গিয়েছিল ৩৫ জন, আপনি বলছেন লাশ পাওয়া যায় ২৮ জনের। বাকিদের সম্পর্কে আপনার ধারণা কি?<br />
উঃ ঘটনার দিন আমি যাদেরকে বান্ধা অবস্থায় দেখছিলাম তাদের মধ্যে আমার পরিচিত আলী, দুলু দুই ভাইসহ ৪ জনের লাশ ঐখানে ছিল না। আর এমন তিনজনের লাশ পাইছি যারা ঐ দিন ঐখানে বান্ধা ছিল না। আমার মনে হয়, আমি পালানোর পরে আরো সাত জনরে শান্তিবাহিনীরা ধইরা নিয়া গেছিল। সাত জনরে মনে হয় অন্য কোন খানে নিয়া মারছে, আমরা তাদের লাশ খুইজ্জা বাইর করতে পারি নাই। আর বালা কইরা খুজবার মতো পরিস্থিতি তখন ছিল না।</p>
<p>প্রঃ শান্তিবাহিনী এতগুলো মানুষকে একসাথে হত্যা করল, অথচ তাদের কোন বিচার হল না। আপনারা কি সরকারের কাছে এর বিচার চান নাই?<br />
উঃ আমরাতো বিচারের দাবী করছিই, আমি নিজে বাদী অইয়া মামলাও করছিলাম। তখন সরকারের মন্ত্রীরাও কইছিল বিচার করব। তদন্তও করছিল। হুনছি তদন্তের রিপোর্ট সরকারের কাছে জমা দিছে। কিন্তু সেই রিপোর্ট সম্পর্কে আমরা কিছুই জানি না। দেখতে দেখতে আজ ১৪ বছর পার অইয়া গেল। কই, কিছুই তো অইল না। শুধু এইডাই না, শান্তিবাহিনী তো আরো অনেক বাঙালিরে মারছে। কোনডারই তো বিচা অয় নাই। চাকমারা মানুষ মারলে তো এই দেশে বিচার অয় না। বিচার অয় চাকমাদেরকে কেউ গালি দিলে, তার। আর অহন তো চুক্তি কইরা শান্তিবাহিনীরাই সরকার (সাবেক শান্তিবাহিনীর প্রধান সন্তু লারমা চুক্তির পর থেকে পার্বত্যচট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন) অইছে। তাইলে আর বিচার করব কেডা? তারপরেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমার দাবী, আপনার বাবাকেও মাইরা ফালাইছিল। বাবা হারানোর ব্যথা আপনি বুঝেন। আর আপনি সেই হত্যাকারীদের বিচার করেছেন। এই জন্য আপনাকেই বলি- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, পাকুয়াখালীতে যেসব সন্তান তাদের বাবাকে হারিয়েছে তারাও তাদের বাবা হত্যার বিচার চায়, যারা সেখানে ভাই হারিয়েছে তারা তাদের ভাই হত্যার বিচার চায়, যেসব মা-বাবা তাদের সন্তান হারিয়েছে তারা সন্তান হত্যাকারীর বিচার চায়, যেসব মহিলা স্বামী হারিয়েছে তারা স্বামী হত্যার বিচার চায়। কিন্তু তারা তো আর প্রধানমন্ত্রী হইয়া আত্বীয়-স্বজনদের হত্যাকারীর বিচার করতে পারব না। তাই এই হত্যাকান্ডের বিচার আপনাকেই করতে হইব।</p>
<a href="http://www.addtoany.com/add_to/google_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsayedibnrahmat%2F3556&amp;linkname=%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%80%E0%A6%B0%20%E0%A6%AE%E0%A7%83%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A7%81%E0%A6%95%E0%A7%82%E0%A6%AA%20%E0%A6%A5%E0%A7%87%E0%A6%95%E0%A7%87%20%E0%A6%AB%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%87%20%E0%A6%86%E0%A6%B8%E0%A6%BE%20%E0%A6%87%E0%A6%89%E0%A6%A8%E0%A7%81%E0%A6%9B%20%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A6%BE" title="Google Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/google.png" width="16" height="16" alt="Google Bookmarks"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/orkut?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsayedibnrahmat%2F3556&amp;linkname=%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%80%E0%A6%B0%20%E0%A6%AE%E0%A7%83%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A7%81%E0%A6%95%E0%A7%82%E0%A6%AA%20%E0%A6%A5%E0%A7%87%E0%A6%95%E0%A7%87%20%E0%A6%AB%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%87%20%E0%A6%86%E0%A6%B8%E0%A6%BE%20%E0%A6%87%E0%A6%89%E0%A6%A8%E0%A7%81%E0%A6%9B%20%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A6%BE" title="Orkut" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/orkut.png" width="16" height="16" alt="Orkut"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/twitter?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsayedibnrahmat%2F3556&amp;linkname=%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%80%E0%A6%B0%20%E0%A6%AE%E0%A7%83%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A7%81%E0%A6%95%E0%A7%82%E0%A6%AA%20%E0%A6%A5%E0%A7%87%E0%A6%95%E0%A7%87%20%E0%A6%AB%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%87%20%E0%A6%86%E0%A6%B8%E0%A6%BE%20%E0%A6%87%E0%A6%89%E0%A6%A8%E0%A7%81%E0%A6%9B%20%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A6%BE" title="Twitter" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/twitter.png" width="16" height="16" alt="Twitter"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/facebook?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsayedibnrahmat%2F3556&amp;linkname=%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%80%E0%A6%B0%20%E0%A6%AE%E0%A7%83%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A7%81%E0%A6%95%E0%A7%82%E0%A6%AA%20%E0%A6%A5%E0%A7%87%E0%A6%95%E0%A7%87%20%E0%A6%AB%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%87%20%E0%A6%86%E0%A6%B8%E0%A6%BE%20%E0%A6%87%E0%A6%89%E0%A6%A8%E0%A7%81%E0%A6%9B%20%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A6%BE" title="Facebook" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/facebook.png" width="16" height="16" alt="Facebook"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/yahoo_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsayedibnrahmat%2F3556&amp;linkname=%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%80%E0%A6%B0%20%E0%A6%AE%E0%A7%83%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A7%81%E0%A6%95%E0%A7%82%E0%A6%AA%20%E0%A6%A5%E0%A7%87%E0%A6%95%E0%A7%87%20%E0%A6%AB%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%87%20%E0%A6%86%E0%A6%B8%E0%A6%BE%20%E0%A6%87%E0%A6%89%E0%A6%A8%E0%A7%81%E0%A6%9B%20%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A6%BE" title="Yahoo Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/yahoo.png" width="16" height="16" alt="Yahoo Bookmarks"/></a> <a class="a2a_dd addtoany_share_save" href="http://www.addtoany.com/share_save?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsayedibnrahmat%2F3556&amp;linkname=%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%80%E0%A6%B0%20%E0%A6%AE%E0%A7%83%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A7%81%E0%A6%95%E0%A7%82%E0%A6%AA%20%E0%A6%A5%E0%A7%87%E0%A6%95%E0%A7%87%20%E0%A6%AB%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%87%20%E0%A6%86%E0%A6%B8%E0%A6%BE%20%E0%A6%87%E0%A6%89%E0%A6%A8%E0%A7%81%E0%A6%9B%20%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A6%BE"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/share_save_120_16.png" width="120" height="16" alt="Share/Bookmark"/></a>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://coffeehouseradda.com/blog/sayedibnrahmat/3556/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>আঁতুড় ঘর(২৩)শেষ পর্ব ।</title>
		<link>http://coffeehouseradda.com/blog/raja1952/3554</link>
		<comments>http://coffeehouseradda.com/blog/raja1952/3554#comments</comments>
		<pubDate>Sun, 05 Sep 2010 02:58:00 +0000</pubDate>
		<dc:creator>রাজা সরকার</dc:creator>
				<category><![CDATA[ব্লগাড্ডা]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://coffeehouseradda.com/?p=3554</guid>
		<description><![CDATA[হরিমামার ঘরে এসে আমাদের থাকা খাওয়ার একটু সুবিধে হলো । কিন্তু বেড়ে গেল আমার চিঠি লেখার কাজ । বাণেশ্বর জেঠার ওখানে থাকতেই আমাকে এই কাজটি মাঝে মাঝে করতে হতো । বেশী করতে হতো গোপালমামীর চিঠি লেখার কাজ । ঠিক দুপুরের খাওয়া দাওয়ার পর পরই তার আগমন ঘটতো । ঠাম্মার সংগে এটা সেটা আলাপ ছিলো তার [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>হরিমামার ঘরে এসে আমাদের থাকা খাওয়ার একটু সুবিধে হলো । কিন্তু বেড়ে গেল আমার চিঠি লেখার কাজ । বাণেশ্বর জেঠার ওখানে থাকতেই আমাকে এই কাজটি মাঝে মাঝে করতে হতো । বেশী করতে হতো গোপালমামীর চিঠি লেখার কাজ । ঠিক দুপুরের খাওয়া দাওয়ার পর পরই তার আগমন ঘটতো । ঠাম্মার সংগে এটা সেটা আলাপ ছিলো তার নিত্যদিনের কাজ । কারণ তারা পূর্ব পরিচিত এবং একই গ্রামের। কিন্তু মাঝে মাঝে তার হাতে থাকতো একখানা পোষ্টকার্ড । পোষ্টকার্ড দেখলেই আমি বুঝতে পারতাম আজ আমার বিকেলটা মাটি। ঘরে ঢুকতে ঢুকতেই বলতেন&#8212;দেওছেন বাপ আমার এইহান এট্টু ভইরা । অর্থাৎ পোষ্টকার্ডটি লিখে ভরে দিতে হবে । তার জন্য আমাকেও মাচার উপর তার সঙ্গে আমাকেও যুত করে বসতে হতো । </p>
<p>প্রথম প্রথম মেজদার কলমেই লিখতাম । কোনোদিন সেই কলম যদি না থাকতো বলতাম &#8211;কলম নাইগা মামী, আইজ অইতোনা । না লেখার অব্যর্থ যুক্তি । পরে দেখতাম মামী মাঝে মাঝে একটা পুরোনো রুল পেন্সিল সংগে নিয়ে আসতো । মানে কলম না থাকলে যাতে লেখা বন্ধ না হয়। </p>
<p>মামী বা ঐ বয়সী মহিলাদের তখনও ব্লাউজ পরতে দেখিনি । মামী বেশ স্থুলকায়া হওয়ার দরুন আমাদের মাচায় উঠে বসতে তার বেশ হাঁসফাঁস হতো । কিন্তু পরণের শাড়ি ঠিকঠাক করতে করতেই তিনি শুরু করে দিতেন&#8211;লেহ শিরিচরন &#8211;হে হে কিতা য্যান ক্য়&#8211;। তার বলতে বলতে বা শাড়ি ঠিক করতে করতে আমার লেখা হয়ে যেত &#8216;শ্রীচরণকমলেষু&#8221; । বেশীর ভাগ সময় তিনি তার বাবাকেই লিখতেন । লেখার বিষয় অনেক সময়ই ছিল বিনিময় প্রসঙ্গ । যাকে মামী বলতেন &#8216;এওয়াজ বদল&#8217; । প্রথম এই শব্দটা শুনে আমি লিখতে গিয়ে মামীর কাছে জানতে চেয়েছিলাম এর মানে । মামী যা বোঝালেন তাতে আমি বুঝলাম সম্পত্তি বিনিময় । আমি ঐ &#8216;এওয়াজ বদল&#8217;এর বদলে বিনিময় লিখে খুব বিপদে পড়লাম । অনেক কষ্ট করে তখন আমাকে আবার বিনিময়ের মানে বোঝাতে হলো। </p>
<p>চিঠি লেখার সময় মামী নিজের দেশী ভাষায় তার নানা আবেগপূর্ণ বক্তব্য পেশ করতেন । আমি সে গুলো নিজের মতো করে যথাসম্ভব ভাব বজায় রেখে লিখতাম । দুই লাইন লেখা হলেই তাকে পড়ে শোনাতে হতো । মাঝে মাঝে শুনে বলতেন&#8211;বাঃ বেডা ভালা লেকছ ।</p>
<p>মামীর দেখাদেখি আরো অনেক মামী জুটে গেল । কত যে কথা তাদের । দেশ ছেড়ে এসে এখনও তারা যে কত আশা বুকে ধরে রেখেছে তার শেষ নেই । মাথা গুজে আমাকে তা দিয়ে চিঠির ভাষায় নানা রচনা লিখতে হতো । </p>
<p>হরি মামার ঘরে গিয়ে এই উৎপাত আরো বেড়ে গেলো । কারণ গোপালমামার ঘর হরিমামার ঘরের সংগে লাগানো । এখানে আবার তিনি আমাকে ঘরে ডেকে নিতেন । ঘর ভর্তি একগাদা বাচ্চাকাচ্চার মধ্যে প্রায়শঃই তার অর্ধ আবৃত দেহ নিয়ে নিঃসংকোচে আমার সামনে বসে ছোট বাচ্চাটিকে বুকের দুধ খাওয়াতে খাওয়াতে চিঠির বক্তব্য পেশ করা শুরু করতেন । ফলে দেহের উপরাংশ অনাবৃতই থাকতো । ঐ বয়সে আমার ঐ দিকে তাকাতে যে লজ্জা করতো তা মামী বুঝতো বলে মনে হতো না । সবসময় তাই আমার মাথা নিচু করেই তার বাক্য শুনতে হতো । কিন্তু এ বিষয়ে তিনি ছিলেন নির্বিকার ।<br />
তখন এক কথায় চিঠি লিখতে লিখতে আমি হতাশ । ঠাম্মাকে বললে ঠাম্মা বকেন । সামান্য অক্ষর জ্ঞান আছে বলে আমার নাকি এই কাজ করা পরম কর্তব্য । কেউ কেউ আবার ডাকে আসা চিঠিখানিও হাতে করে নিয়ে আসতেন । প্রথমে সেই চিঠি পাঠ ,তারপর তার উত্তর লেখা ।</p>
<p>এইসব কারণে আশপাশে রটে গেল&#8211;ছেরাডা ভালা কইরা লেহে । তখন আমার পালানো ছাড়া পথ থাকতোনা । কিন্তু পালিয়ে কতদূর যাবো ? হঠাৎ কোনো চিঠিওলা দেখে ফেললে হয়তো বলে ফেলল&#8211;এই ছেরা বাড়িত্‌ যা ঠাউরাইনে ডাহে । অর্থাৎ ঠাম্মার কথা বললেই আমি বাড়িতে ফিরব । আর বাড়িতে ফিরলেই তাদের কাজটা হয়ে যায়।</p>
<p>এদিকে আমার পেটের অসুখ আবার ফিরে এলো । এবার খুব বাড়াবাড়ি হচ্ছে । রেশন রিলিফের আতপ চালের ভাত আমি আর খেতে পারছিনা । বমি হয় যখন তখন । আমার জন্য বাজার থেকে সামান্য সেদ্ধ চাল কিনে আনা হয়েছে । ন্যাকড়ায় বেঁধে ভাতের হাড়িতে আমার জন্য তা ফুটিয়ে নেয়া হতো । কিন্তু তাও আর হজম হচ্ছেনা ।ধীরে ধীরে পা&#8217; ফুলে যাচ্ছে । অবস্থা বিবেচনা করে ঠাম্মা মেজদাকে বললেন বড়দা কে জানাতে ।</p>
<p>আমার আর এখন কিছুই ভালো লাগেনা । হাঁটতে পারিনা বেশীক্ষণ । নিমু ডাকতে আসলে যাবনা বলি । এক সময় নিমুর সংগে জংগলে যেতে খুব ভালো লাগতো । মাঝে মাঝে স্বপ্ন দেখি গ্রামের বাড়িতেই আছি । রান্না ঘরে বসে বসে খাচ্ছি, মাঠে ঘাটে ঘুরে বেড়াচ্ছি, খেলছি । কখনো দেখি নেত্রকোনায় আছি । সেখানে ইস্কুলে যাচ্ছি । এদিকে দেখতে দেখতে আমি প্রায় শয্যাশায়ী হয়ে পড়েছি । এই সময় হরিমামার বউ একদিন ঠাম্মার সংগে আমাকে নিয়ে খুব দুর্ব্যবহার করল । তার কথা হলো এই রকম রুগী নিয়ে এখানে থাকা ঠিক হচ্ছেনা । রতু&#8217;র তো অনেক জানা শোনা ক্যাম্প অফিসে । সে কি চেষ্টা করলে একটা ঘর জোগাড় করতে পারেনা? </p>
<p>এই অশান্তির ফলে আমাদের একটা ঘর অবশ্য পাওয়া হলো । মেজদা ঠাম্মার মুখে এই ঝগড়ার কথা শুনে রাতারাতি ঘরটা আদায় করলো । পরে বোঝা গেল ঘরটা খালি ছিলো অনেকদিন । কিন্তু ভেজা কাদা আর স্যাঁত স্যাঁতে হওয়ার কারণে ওটা কেউই নিচ্ছিলনা । যাক্‌ কারোর অসুবিধা করেতো আর থাকা যায়না । আমরা ভালো ভাবে হরিমামা আর তার স্ত্রীর কাছে বিদায় নিয়ে নতুন ঘরে চলে এলাম । এবার শুধু আমরা তিনজন । </p>
<p>এইসময় একটাই সুখবর যে মেজদার ক্যাম্পের ইস্কুলে একটা চাকরি হয়ে গেল শিক্ষকের । কিন্ত আমার শরীর আর ভালো যাচ্ছেনা । ঘরের কাছেই ঘেরা দিয়ে আমার জন্য শৌচ কাজের জায়গা করে দেয়া হয়েছে । আমি আর দূরে যেতে পারিনা । ফোলা পা আর ফোলা পেট নিয়ে আমি ঘরেই থাকি । এখন অনেকেই আমাকে দেখতে আসে । তাদের মধ্যে যারা আমাকে দিয়ে তাদের চিঠি লেখাতো তারা আর চিঠি লেখার কথা বলেনা । শুধু যাওয়ার সময় মাথায় হাত বুলিয়ে চলে যায় ।</p>
<p>মেজদা এক মাসের বেতন পেল । আমার জন্য ভালো কিছু ওষুদ কিনে আনলো । আমি সে সব শুয়ে শুয়ে খাই । ঠাম্মা সারাদিন কাজকম্মের পর আমাকে নিয়েই আছে । এইসময় একদিন মেজদা ইস্কুল থেকে ফিরে এলো হাতে একখানা চিঠি । ঠাম্মাকে বলল-বড়দা লিখছে ভুনুরে শিলিগুড়ি নিয়া যাইতে । আমি বিছানা থেকে প্রায় লাফিয়ে উঠতে গেলাম । কিন্তু পারলামনা । তবু শুয়ে শুয়েই মেজদার হাত থেকে চিঠিটা নিয়ে বারবার পড়তে শুরু করলাম । আনন্দে চোখে আমার জল এসে গেলো ।</p>
<p>এর ঠিক দুই দিন পরই আমি আর মেজদা শিলিগুড়ি রওনা হয়ে গেলাম । ঠাম্মা একা থাকবে । দেশগাঁয়ের সবাইকে বলে রাখা হলো । আমার অবস্থা বিবেচনা করে সবাই মেজদাকে আশ্বস্থ করলো । ঘরে রেখে যাওয়া হলো নিমুকে ঠাম্মার দেখাশোনার জন্য ।<br />
&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;-</p>
<p>**&#8217;আঁতুড় ঘর&#8217; পর্বের লেখাটি এখানেই শেষ । এর পর &#8221;ফিরে দেখা আঁতুড় ঘর&#8217;<br />
নামে এর দ্বিতীয় পর্বটি রয়েছে। কিন্তু সেটি আপাতত থাক । এ পর্যন্ত যারা পড়েছেন, মন্তব্য করেছেন তাদের সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।</p>
<a href="http://www.addtoany.com/add_to/google_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3554&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%28%E0%A7%A8%E0%A7%A9%29%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%B7%20%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AC%20%E0%A5%A4" title="Google Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/google.png" width="16" height="16" alt="Google Bookmarks"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/orkut?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3554&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%28%E0%A7%A8%E0%A7%A9%29%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%B7%20%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AC%20%E0%A5%A4" title="Orkut" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/orkut.png" width="16" height="16" alt="Orkut"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/twitter?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3554&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%28%E0%A7%A8%E0%A7%A9%29%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%B7%20%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AC%20%E0%A5%A4" title="Twitter" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/twitter.png" width="16" height="16" alt="Twitter"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/facebook?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3554&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%28%E0%A7%A8%E0%A7%A9%29%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%B7%20%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AC%20%E0%A5%A4" title="Facebook" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/facebook.png" width="16" height="16" alt="Facebook"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/yahoo_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3554&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%28%E0%A7%A8%E0%A7%A9%29%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%B7%20%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AC%20%E0%A5%A4" title="Yahoo Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/yahoo.png" width="16" height="16" alt="Yahoo Bookmarks"/></a> <a class="a2a_dd addtoany_share_save" href="http://www.addtoany.com/share_save?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3554&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%28%E0%A7%A8%E0%A7%A9%29%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%B7%20%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AC%20%E0%A5%A4"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/share_save_120_16.png" width="120" height="16" alt="Share/Bookmark"/></a>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://coffeehouseradda.com/blog/raja1952/3554/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>আঁতুড় ঘর(২২)</title>
		<link>http://coffeehouseradda.com/blog/raja1952/3552</link>
		<comments>http://coffeehouseradda.com/blog/raja1952/3552#comments</comments>
		<pubDate>Sat, 04 Sep 2010 18:07:35 +0000</pubDate>
		<dc:creator>রাজা সরকার</dc:creator>
				<category><![CDATA[ব্লগাড্ডা]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://coffeehouseradda.com/?p=3552</guid>
		<description><![CDATA[একটা জায়গায় কয়েক হাজার মানুষ আশ্রিত । বিতাড়িত অথবা পলাতক । ভয় ত্রাস উত্তেজনা দুঃস্বপ্ন নিয়েই তাদের দিন কাটছে । তবে এই দেশে শারীরিক নিরাপত্তার আশ্বাস থাকলেও ভবিষ্যৎ বলতে কী- তা যেন নিজেকে নিজে প্রশ্ন করার মতোই ।
এর ফাঁকে দেশের কোনো খবর এলে বা দেশ থেকে নতুন কেউ এলে এই সব মানুষেরা  প্রায় ঝাঁপিয়ে [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>একটা জায়গায় কয়েক হাজার মানুষ আশ্রিত । বিতাড়িত অথবা পলাতক । ভয় ত্রাস উত্তেজনা দুঃস্বপ্ন নিয়েই তাদের দিন কাটছে । তবে এই দেশে শারীরিক নিরাপত্তার আশ্বাস থাকলেও ভবিষ্যৎ বলতে কী- তা যেন নিজেকে নিজে প্রশ্ন করার মতোই ।<br />
এর ফাঁকে দেশের কোনো খবর এলে বা দেশ থেকে নতুন কেউ এলে এই সব মানুষেরা  প্রায় ঝাঁপিয়ে পড়ে । এ এক অদ্ভুত রুটিন হয়েছে তাদের । সকাল বিকেল ক্যাম্প অফিসের সামনে গিয়ে খোঁজ খবর নেয়া । এই সময় দেশে থাকলে হয়তো তাদের সারাদিন চলতো আমন চাষের প্রস্তুতি । বা আরো কতো কিসিমের সংসারী কাজ&#8211;তার কি আর হিসেব আছে । অথচ এখানে সপ্তাহে একদিন রেশনে চাল ডাল নুন তেল কেরোসিনের বরাদ্দ তোলা ছাড়া কোনো কাজ নেই । ঘরেও জায়গা কম । তার উপর বাচ্চাকাচ্চার উৎপাত। তার চে বরং এই রুটিনই ভাল।</p>
<p>ধনী গরীব উচ্চ নিচ সবাইকে এই এক বিপর্যয় এক জায়গায় এনে দিয়েছে । এখানে উপরিতলে হয়তো এনিয়ে কোনো ভেদ নেই । কিন্তু ভেতরে ভেতরে পার্থক্যটা রয়েই গেছে । দেখে বোঝা যায় ধনীরা নিজেদের মত কিছুটা সুখ সুবিধার ব্যবস্থা করে নিয়েছে । যা সাধারণদের পক্ষে অসম্ভব । সেদিকে চোখ পড়ে আমারও তাবুবাসীদের প্রতি আকর্ষণ জন্মালো । ঘুরে ঘুরে এমন আরো কিছু তাবুবাসী চোখে পড়লো । মাঝে মাঝে সেখান থেকে বিশুদ্ধ মাছ ভাজার গন্ধ পাওয়া যায় । তারা যেন বাড়ী থেকে শিলপাটাটিও নিয়ে এসেছে । মাঝে মাঝে মসলা বাটার সুগন্ধও নাকে লাগে । তখন মনে পড়ে যায় আমাদের গ্রামের বাড়ীর রান্না ঘরের কথা । এই দুপুর বেলা মা&#8217; হয়তো সেখানে একই কাজে ব্যস্ত আছেন । শুধু আমরা ক&#8217;জন সেখানে নেই ।</p>
<p>এরই মধ্যে চলছে বিয়ে । বাদ্যকররাও দেখছি এসেছে উদ্বাষ্তু হয়ে। তারা বাজনা বাজাচ্ছে । হচ্ছে অন্নপ্রাশন । দল বেঁধে মানুষেরা নেমতন্নও খাচ্ছে । তার পাশ দিয়ে আমি হাঁটি নিঃশব্দে । এক কথায় স্বাভাবিক জীবন চালু রাখার প্রয়াস সর্বত্র । মাঝখানে আমি শুধু ছিন্ন হয়ে পড়া পাতার মতো বাতাসে ঘুরে ঘুরে বেড়াচ্ছি । সংগে কখনো ফুলদা, কখনো নিমু, বা কখনো বা একা একাই </p>
<p>এরই মধ্যে কথা অনুযায়ী ক্যাম্পে এসে দুটো চিঠি লেখা হয়েছিলো । তার মধ্যে বড়দা চিঠি পেয়ে একদিন এসে উপস্থিত । বড়দার মুখ ছোটবেলায় দেখেছিলাম । পরিষ্কার মনে ছিলনা । এখন দেখে অবাক লাগলো । ভীষণ সুন্দর ছোটখাটো চেহারা । প্যান্ট শার্ট পরা । এরকম প্যান্ট শার্ট পরা মানুষ আমি খুব বেশী দেখিনি । আমাদের চেনাজানা স্বজনরা সবাই দেখতে এলো বড়দাকে । ঘর ভর্তি মানুষের মাঝে বড়দাকে দারুন দেখাচ্ছিলো । আমার এসবে খুব আনন্দ হলো । সেদিন আমি আর ঘর থেকে বের হইনি । একসময় খাওয়া দাওয়ার পর মেজদা বড়দাকে নিয়ে ক্যাম্প ঘুরতে বের হলো । আমারও যাওয়ার ইচ্ছা ছিলো, কিন্তু আমাকে নেওয়া হয়নি । বদলে আমাকে দুআনা পয়সা দিলো বড়দা । আমি তা দিয়ে বিস্কুট খেতে বাজারে দিকে গেলাম ।</p>
<p>বড়দা দুটো রাত আমাদের ঘরে ছিলো । তার যাওয়ার দিন যেন খুব তাড়াতাড়ি চলে এলো । এরমধ্যে বড়রা পরামর্শ করে ঠিক করে ফেলেছে যে বড়দার সংগে ফুলদা চলে যাবে বড়দা যেখানে থাকে সেখানে, অর্থাৎ শিলিগুড়িতে । এটা জানতে পারার পর আমার ভীষণ দুঃখ হলো । প্রায় মন ভেংগে গেলো । অভিমানে সকাল থেকে আমি আর কারোর সংগেই কথা বলছিনা । কেউ সান্ত্বনা দিতে এলেই আমার কান্না পাচ্ছিলো । কিন্তু কিছু করার নেই । ফুলদা যাবেই । সংগে আমি যাবনা । একসময় তারা রওনা হয়েও গেল । আমি শুধু চেয়ে রইলাম । বড়দা যাওয়ার সময় আমার হাতে দুইটা টাকা দিলো । বলল-তুইও যাবি পরে । আমি বড়দার কথা মেনে ঘাড় কাৎ করলাম । কিন্তু  চেয়ে বসলাম বড়দার একটা হাল্‌কা নীল রংএর রোদচশমা । বিনা বাক্যে বড়দা সেটা আমাকে দিয়ে দিলো । </p>
<p>তারপর থেকে ক&#8217;দিন দিনরাত আমি ঐ রোদচশমা পরে থাকতাম । কিন্তু মেজদা একদিন সেটা নিয়ে নিলো । বলল&#8211;পোলাপানের চশমা বেশী পরতে নাই । চশমাটা চলে যাওয়ার পর আমার সবার উপর খুব রাগ হলো । যদিও হাফপ্যান্টের পকেটে সেই বড়দার দেয়া দুই টাকা তখনও আছে । আমি তার থেকে ঐ দিয়ে বাজার থেকে মাঝে মাঝে লজেন্স বিস্কুট খাই আর একা একা ঘুরি । খলি পা&#8217;য়েই ঘুরি । কখনো কখনো নিমুর সংগে জংগলে যাই জ্বালানী কাঠ আনতে । প্রথম প্রথম ভাবতাম এসব আমাদের ঘরেই লাগবে । কিন্তু একদিন লক্ষ্য করলাম নিমু ঐসব বাড়ীর জন্য আনেনা । বিক্রি করে দেয় ।</p>
<p>জলে জংগলে ঘুরে ঘুরে আমার হাত পা&#8217;য়ে বেশ খোস পাচরা হয়েছে । ঠাম্মা একদিন খেয়াল করে বললেন যে&#8211;এইডার পেটটাত দেহি ফোলা ফোলা লাগে । হ্যারে রতু এইডারেতো ডাক্তার দেহানোর কাম । ব্যাপারটা ঘরের সবাই খেয়াল করলো । আরো খেয়াল করলো যে আমি দিনে চার পাঁচ বার ঘর থেকে জল নিয়ে মাঠের দিকে যাই ।</p>
<p>এরমধ্যে শুরু হলো আমার হাসপাতালে যাতায়াত । দুধনৈ হাসপাতাল বেশি দূরে নয়। প্রথমে একদিন গেলাম মেজদার সংগে । পরে কয়েকবার নিমুর সংগে । প্রত্যেকবারই একটা শিশিতে লাল রংএর মিক্সার । কাগজ কেটে দাগ দিয়ে দেওয়া । আর একটুকরো কাগজে এক হাতা ঘন বেগুনি রংয়ের মন্ড জাতীয় ওষুদ । এটা চর্মরোগের জন্য । এই দুটো ওষুদ মনে হয় ক্যাম্পের সবার ঘরেই বার বার এসেছে । যাই হউক কিছুদিনের মধ্যেই আমার অসুখ সেরে গেল ।</p>
<p>আমি আবার আগের মতো টো টো করতে শুরু করেছি । ঠাম্মা বকে না । মেজদা তার মতো করে ক্যাম্প জীবনে জড়িয়ে পড়েছে । কারণ সে একজন ম্যাট্রিক পাশ যুবক । ম্যাট্রিক পাশ  ক্যাম্পে গুটি কয়েক মাত্র ।  তার উপর মেজদা দেখতেও ভালো । পরে বুঝেছি তার চুলের স্টাইল উত্তম কুমারের মতো । ফুলপ্যান্টের সামর্থ না থাকলেও সে পরে হাতা গোটানো শার্ট এবং পাজামা । তাতেই তাকে বেশ দেখায় । দিনের বেলা ক্যাম্প অফিসে সে কিছু লেখাপত্রের কাজ করে । সেখানে ক্যাম্পের একমাত্র বিএ পাশ মেয়ে হেনাও কাজ করে । তাদের দুজনকে অফিসে পাশাপাশি বসে গল্প করতেও নাকি অনেকে দেখেছে । এনিয়ে ঠাম্মার কাছে অনেকে অনেক কথাই বলেছে । তার মধ্যে কেউ কেউ মেজদাকে বিয়ে দেবার মতলবও করেছিলো । তাদের বক্তব্য যে  বিএ পাশ মেয়ে হেনার এতদিন বিয়ে না হওয়া খুব সংগত ব্যাপার নয় । তাই ঠাম্মা যদি তার নাতির ভালো চায় তবে নাতিকে যেন বিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করেন । কিন্তু  কার সংগে ? কেন ক্যাম্পে মাইয়ার অভাব ! এইডা কিতা কইন ঠাউরাইন , সৎ বংশজাত পাত্রী বললে আফনেরে অহনি কন তো দেহাইয়া দেই । </p>
<p>ঠাম্মার হয়ছে বিপদ । কাজকর্মহীন মানুষগুলোরে আর কিইবা বলা যায় । তারা এইরকম একটা বিষয় পেলে সারাদিনের খোরাক মনে করে । অবশ্য  দেখা গেছে যে অধিকাংশেরই ঘরে বিবাহযোগ্যা মেয়ে আছে । তারা আর কিইবা করতে পারে । </p>
<p>এদিকে মেজদাকে একদিন একথা বলাতে মেজদার সে কি নাটকীয় হাসি । এই হাসিতে ঘরে সবাই যেন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল ।</p>
<p>এর মধ্যে প্রায় মাস দুয়েক কাটতে চলেছে । আর এই সময়ই আমরা একটা দুর্ঘটনার সাক্ষী এবং সংগী হলাম । একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি ঘরে অনেক মানুষ । নিমুর মা&#8217; খুব কান্নাকাটি করছে । একটু আগেই নাকি বাণেশ্বর জেঠা মারা গেছেন । মাচার উপরে কোনের দিকে নির্দিষ্ট জায়গায় প্রতিদিনের মতই তিনি শায়িত । তবে আজ নাকি তার দেহে প্রাণ নেই । হিন্দুর মৃত্যু তাও ঘরের মধ্যে &#8212;এটার শাস্ত্রসম্মত বিহিত হওয়া দরকার । শোক দুঃখের মধ্যে অনেকেই অনেক কথার মধ্যে এটা জানাতে ভুলছেনা । হঠাৎ দেখলাম মেজদা বাইরের থেকে কয়েকজন যুবক সহ ঘরে ঢুকলো । উপস্থিত সবাইকে বলল &#8211;আফনেরা অহন একটুক জায়গা দেন । এই বলে তারা কয়েকজন ধরাধরি করে লাশ বাইরে এনে আগে এনে রাখা ছোট একটা মাচার উপর শুইয়ে দিলো । তারপর তারা চারজন কাধে তুলে শ্মশানের দিকে রওনা হয়ে গেল । অনেকেই তাতে অবাক বা কিছুটা রুষ্টও হলো বটে । </p>
<p>আসলে মেজদা ক্যাম্প অফিসে কাজের পাশাপাশি একটা স্বেচ্ছাসেবার সংঘও গড়ে তুলেছিলো । এরকম কাজ তারা প্রায়ই করে । তাদের কথা হলো ক্যাম্পে যাদের ঘর বলতে একটাই তাদের আবার ঘরে মরা বাইরে মরা কি । মারা গেলে দাহ করতে হবে । খরচ দেবে ক্যাম্প কর্তৃপক্ষ । তারপর কারোর সাধ্য থাকলে শ্রাদ্ধ টাদ্ধ করবে, না পারলে না করবে । দেশে যারা থাকতে পারলো না তাদের যেখানে যেমন সেখানে সে ভাবেই চলতে হবে । উপায় কি ।</p>
<p>জেঠার এই মৃত্যু আমাদের আবার ঘরছাড়া করলো । পারলৌকিক ক্রিয়াদির জন্য ঘরে জায়গার প্রয়োজন । ঐ দিনই বিকেলের দিকে আমরা আশ্রয় নিলাম গোপাল মামার শালার ঘরে । গোপাল মামা আমাদের গ্রাম প্রতিবেশী । তার সুবাদেই ঘরতা জুটলো । সেই ঘরটা একটু ভালো । শুকনো । মামার শালার নাম হরি । হরির কোনো সন্তান নেই । তারা স্বামী স্ত্রী দুজন । যোগ হলাম আমরা তিনজন । মোট পাঁচজন ।</p>
<a href="http://www.addtoany.com/add_to/google_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3552&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%28%E0%A7%A8%E0%A7%A8%29" title="Google Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/google.png" width="16" height="16" alt="Google Bookmarks"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/orkut?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3552&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%28%E0%A7%A8%E0%A7%A8%29" title="Orkut" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/orkut.png" width="16" height="16" alt="Orkut"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/twitter?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3552&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%28%E0%A7%A8%E0%A7%A8%29" title="Twitter" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/twitter.png" width="16" height="16" alt="Twitter"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/facebook?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3552&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%28%E0%A7%A8%E0%A7%A8%29" title="Facebook" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/facebook.png" width="16" height="16" alt="Facebook"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/yahoo_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3552&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%28%E0%A7%A8%E0%A7%A8%29" title="Yahoo Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/yahoo.png" width="16" height="16" alt="Yahoo Bookmarks"/></a> <a class="a2a_dd addtoany_share_save" href="http://www.addtoany.com/share_save?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3552&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%28%E0%A7%A8%E0%A7%A8%29"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/share_save_120_16.png" width="120" height="16" alt="Share/Bookmark"/></a>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://coffeehouseradda.com/blog/raja1952/3552/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>আঁতুড় ঘর (২১)</title>
		<link>http://coffeehouseradda.com/blog/raja1952/3548</link>
		<comments>http://coffeehouseradda.com/blog/raja1952/3548#comments</comments>
		<pubDate>Thu, 02 Sep 2010 17:12:25 +0000</pubDate>
		<dc:creator>রাজা সরকার</dc:creator>
				<category><![CDATA[ব্লগাড্ডা]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://coffeehouseradda.com/?p=3548</guid>
		<description><![CDATA[হ্যাঁ, নরকের কিছুটা পথই আমাদের অতিক্রম করতে হলো । জলকাদামলমূত্রআবর্জনার সংগে সহবাসরত সারি সারি ব্যারাকপূর্ণ মানুষজন পেরিয়ে আমরা একসময় পৌঁছে গেলাম বাণেশ্বের জেঠার ঘরে । দুই ছেলে নিয়ে তারাও চারজন । সংগে যোগ হলাম আমরা চারজন । মোট আটজন । একটাই ঘর । রান্নার আলাদা কোনো জায়গা নেই । ঘরেরই এক কোনে রান্নাঘর । ঘরের [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>হ্যাঁ, নরকের কিছুটা পথই আমাদের অতিক্রম করতে হলো । জলকাদামলমূত্রআবর্জনার সংগে সহবাসরত সারি সারি ব্যারাকপূর্ণ মানুষজন পেরিয়ে আমরা একসময় পৌঁছে গেলাম বাণেশ্বের জেঠার ঘরে । দুই ছেলে নিয়ে তারাও চারজন । সংগে যোগ হলাম আমরা চারজন । মোট আটজন । একটাই ঘর । রান্নার আলাদা কোনো জায়গা নেই । ঘরেরই এক কোনে রান্নাঘর । ঘরের এক দিকে প্রায় অর্ধেক ঘর নিয়ে বাঁশ দিয়ে তৈরি মাচা । যা বিছানা হিসেবে ব্যবহৃত । আমরাও ওদের সংগে ঐ মাচাতেই শোবো । ঘরের মেঝেতে এখন কাদা । বাইরের অন্যান্য গন্ধের সংগে এখন কাদা মাটির গন্ধও নাকে লাগছে । মাচার উপরে শুয়ে থাকা অসুস্থ বাণেশ্বর জেঠা কোনো মতে বিছানায় উঠে বসে হাত কপালে ঠেকিয়ে ঠাম্মাকে প্রণাম করলেন । বললেন&#8211;&#8217;আউহাইন কাহিমা &#8216;।</p>
<p>হঠাৎ হঠাৎ এই পরিবেশ বদলের চাপে আমি ভেতরে ভেতরে ভীষণ ভেঙ্গে পড়েছি । কিন্তু এখন আর কান্নাকাটি করছিনা । সবারই চোখে মুখে অসহায়তা । কান্না জানানোর মত কেউ নেই । মাচার এককোনে চুপচাপ বসে আছি আমরা ছোট দুইজন । কোনো কথা নেই আমাদের মুখে । খিদে তৃষ্ণার বোধ নেই । এদিকে খেয়াল নেই যে বেলা প্রায় দুপুর । একসময় বাণেশ্বর জেঠার ছোট ছেলে নিমু আমাদের দুজনকে ডেকে নিয়ে গেল স্নানের জন্য । স্নানের জন্য যেতে হয় কিছুটা দূরে একটা নদীতে । সময়টা গরম আর বর্ষার মাঝামাঝি । নদীর জল বেশ ঘোলা আর স্রোতও বেশ । এইসময় নাকি জলের চেহারা এমনই হয় । কোনো মতে স্নান করে বাড়ি ফেরা হলো ।</p>
<p>এদিকে ঘরে রান্না দেখছি এক সংগেই হচ্ছে । কারণ সবারই নিরামিষ । রেশনের চাল ডালেই ভরসা । বিছানায় বসে জেঠা বলছে &#8211;&#8217;বাবাদের তো খাওনের কষ্ট হবে&#8217; । কারণ বাজারে অল্প বিস্তর মাছ যা পাওয়া যায় তা একমাত্র পয়সাওলা মানুষেরাই কিনে খায় । সাধারণের পক্ষে অসম্ভব । </p>
<p>রান্নার সময়টাও চারপাশে সব গন্ধের সংগে মিশে এক অদ্ভুত গন্ধ আবহ তৈরি করে । কারণ অল্প জায়গায় অনেক অনেক রান্নাঘরের এক সাথে রান্না করার ফল । তার সাথে আছে উনানের ধূঁয়ো আর ফোঁড়নের ঝাঁঝ । </p>
<p>এই অল্প সময়ের মধ্যেই চোখে পড়লো আমাদের ঘরের মুখোমুখি কয়েকটা ছোট ছোট ত্রিপলের তাবু । মনে হলো তার একটাতে হচ্ছে রান্না । আর গুলোতে আছে মানুষ । ভেতরে অল্প অল্প দেখা যায় দড়ির খাট যাকে ক্যাম্পখাটও বলা যায় । আছে চেয়ারও বেশ কয়েকটা । তাতে ভালো পোশাক পরা ক&#8217;জন পুরুষ বসে আছে । পরে শোনা গেল ওরা নেত্রকোনার কোনো ধনী পরিবার । ওরা ব্যারাকে থাকতে রাজি হয়নি । নিজেরাই তাবু কিনে জায়গা পেয়ে বসে গেছে । সরকারের দেয়া একটা মাত্র ত্রিপল দিয়ে স্নান ঘর বানিয়েছে । বড় বড় ড্রামে তাতে জল ভরে রাখে তাদের চাকরেরা । নিমু বলছিলো পেচ্ছাব পায়খানার ব্যবস্থাও নাকি ভেতরে আছে । </p>
<p>অথচ এই কাজের জন্য আমাদের কষ্টের শেষ নেই । প্রায় আধ মাইল হাঁটতে হয় । সেই পথও নরকময় । তারপর দেখা যায় কয়েকশ ছোট ছোট ঘর তৈরি হয়েছে লম্বা এবং গভীর করে কাটা একটা নালা উপর । দেখতে বেশ মনে হলেও তা বিপজ্জনক । আমার ধারণা হয়ছিলো যে ওখানে কেউ পড়ে গেলে তার আর মরার দরকার নেই বরং তার আগেই নরকপ্রাপ্তি ঘটে যাবে । </p>
<a href="http://www.addtoany.com/add_to/google_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3548&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%20%28%E0%A7%A8%E0%A7%A7%29" title="Google Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/google.png" width="16" height="16" alt="Google Bookmarks"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/orkut?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3548&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%20%28%E0%A7%A8%E0%A7%A7%29" title="Orkut" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/orkut.png" width="16" height="16" alt="Orkut"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/twitter?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3548&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%20%28%E0%A7%A8%E0%A7%A7%29" title="Twitter" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/twitter.png" width="16" height="16" alt="Twitter"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/facebook?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3548&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%20%28%E0%A7%A8%E0%A7%A7%29" title="Facebook" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/facebook.png" width="16" height="16" alt="Facebook"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/yahoo_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3548&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%20%28%E0%A7%A8%E0%A7%A7%29" title="Yahoo Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/yahoo.png" width="16" height="16" alt="Yahoo Bookmarks"/></a> <a class="a2a_dd addtoany_share_save" href="http://www.addtoany.com/share_save?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3548&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%20%28%E0%A7%A8%E0%A7%A7%29"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/share_save_120_16.png" width="120" height="16" alt="Share/Bookmark"/></a>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://coffeehouseradda.com/blog/raja1952/3548/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>নতুন এলাম এখানে&#8230;&#8230;সবাইকে হেলো&#8230;</title>
		<link>http://coffeehouseradda.com/blog/zissan/3539</link>
		<comments>http://coffeehouseradda.com/blog/zissan/3539#comments</comments>
		<pubDate>Wed, 01 Sep 2010 15:04:11 +0000</pubDate>
		<dc:creator>কবুতরওয়ালা</dc:creator>
				<category><![CDATA[ব্লগাড্ডা]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://coffeehouseradda.com/?p=3539</guid>
		<description><![CDATA[এটি আমার প্রথম পোষ্ট&#8230; কফিতে আজকেই প্রথম এলাম&#8230; আশা করি আপনাদের সাথে অনেক মজা করতে পারবো&#8230;&#8230;
অন্য একটি জায়গায় নিয়মিত লেখালিখি করি, আশা করি এখানেও নিয়মিত হতে পারবো&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;
     ]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>এটি আমার প্রথম পোষ্ট&#8230; কফিতে আজকেই প্রথম এলাম&#8230; আশা করি আপনাদের সাথে অনেক মজা করতে পারবো&#8230;&#8230;</p>
<p>অন্য একটি জায়গায় নিয়মিত লেখালিখি করি, আশা করি এখানেও নিয়মিত হতে পারবো&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;</p>
<a href="http://www.addtoany.com/add_to/google_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fzissan%2F3539&amp;linkname=%E0%A6%A8%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%A8%20%E0%A6%8F%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AE%20%E0%A6%8F%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%87%26%238230%3B%26%238230%3B%E0%A6%B8%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%95%E0%A7%87%20%E0%A6%B9%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A7%8B%26%238230%3B" title="Google Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/google.png" width="16" height="16" alt="Google Bookmarks"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/orkut?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fzissan%2F3539&amp;linkname=%E0%A6%A8%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%A8%20%E0%A6%8F%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AE%20%E0%A6%8F%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%87%26%238230%3B%26%238230%3B%E0%A6%B8%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%95%E0%A7%87%20%E0%A6%B9%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A7%8B%26%238230%3B" title="Orkut" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/orkut.png" width="16" height="16" alt="Orkut"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/twitter?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fzissan%2F3539&amp;linkname=%E0%A6%A8%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%A8%20%E0%A6%8F%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AE%20%E0%A6%8F%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%87%26%238230%3B%26%238230%3B%E0%A6%B8%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%95%E0%A7%87%20%E0%A6%B9%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A7%8B%26%238230%3B" title="Twitter" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/twitter.png" width="16" height="16" alt="Twitter"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/facebook?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fzissan%2F3539&amp;linkname=%E0%A6%A8%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%A8%20%E0%A6%8F%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AE%20%E0%A6%8F%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%87%26%238230%3B%26%238230%3B%E0%A6%B8%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%95%E0%A7%87%20%E0%A6%B9%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A7%8B%26%238230%3B" title="Facebook" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/facebook.png" width="16" height="16" alt="Facebook"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/yahoo_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fzissan%2F3539&amp;linkname=%E0%A6%A8%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%A8%20%E0%A6%8F%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AE%20%E0%A6%8F%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%87%26%238230%3B%26%238230%3B%E0%A6%B8%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%95%E0%A7%87%20%E0%A6%B9%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A7%8B%26%238230%3B" title="Yahoo Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/yahoo.png" width="16" height="16" alt="Yahoo Bookmarks"/></a> <a class="a2a_dd addtoany_share_save" href="http://www.addtoany.com/share_save?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fzissan%2F3539&amp;linkname=%E0%A6%A8%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%A8%20%E0%A6%8F%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AE%20%E0%A6%8F%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%87%26%238230%3B%26%238230%3B%E0%A6%B8%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%95%E0%A7%87%20%E0%A6%B9%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A7%8B%26%238230%3B"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/share_save_120_16.png" width="120" height="16" alt="Share/Bookmark"/></a>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://coffeehouseradda.com/blog/zissan/3539/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>1</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>৪৪ কবিতা দুপুর মিত্র</title>
		<link>http://coffeehouseradda.com/blog/dupurmitra/3538</link>
		<comments>http://coffeehouseradda.com/blog/dupurmitra/3538#comments</comments>
		<pubDate>Wed, 01 Sep 2010 10:13:20 +0000</pubDate>
		<dc:creator>দুপুরমিত্র</dc:creator>
				<category><![CDATA[কবিতা]]></category>
		<category><![CDATA[ব্লগাড্ডা]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://coffeehouseradda.com/blog/dupurmitra/3538</guid>
		<description><![CDATA[প্রথম প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১০
বইটি বিক্রির জন্য নয়
কপিলেফ্ট। এই বইয়ের সমস্ত লেখা কপিলেফ্ট। এই বইটির যে কোন অংশ যে কেউ অবাণিজ্যিক ও অলাভজনক উদ্দেশ্যে
মূল লেখক ও লেখাকে অবিকৃত রেখে লেখক ও প্রকাশকের অনুমতি ব্যতিরেকেই যে কেউ নকল এবং পরিবেশন করতে পারবেন।
এছাড়া বইটি কেবল মাত্র ই মেইলে লেখকের সাথে যোগাযোগ করে যে কেউ বিনামূল্যে সংগ্রহ করতে [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>প্রথম প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১০<br />
বইটি বিক্রির জন্য নয়<br />
কপিলেফ্ট। এই বইয়ের সমস্ত লেখা কপিলেফ্ট। এই বইটির যে কোন অংশ যে কেউ অবাণিজ্যিক ও অলাভজনক উদ্দেশ্যে</p>
<p>মূল লেখক ও লেখাকে অবিকৃত রেখে লেখক ও প্রকাশকের অনুমতি ব্যতিরেকেই যে কেউ নকল এবং পরিবেশন করতে পারবেন।<br />
এছাড়া বইটি কেবল মাত্র ই মেইলে লেখকের সাথে যোগাযোগ করে যে কেউ বিনামূল্যে সংগ্রহ করতে পাবেন। ই মেইল ঠিকানা-<br />
mitra_bibhuti@yahoo.com<br />
প্রকাশক<br />
দুপুর মিত্র<br />
প্রচ্ছদ<br />
কাঠের শরীর<br />
লে আউট ও মুদ্রণ<br />
ম্যাড হর্স, ১২৫, আজিজ সুপার মার্কেট, শাহবাগ, ঢাকা<br />
বিশেষ কৃতজ্ঞতা: আমার বন্ধু আহসান হাবীবকে</p>
<p>উৎসর্গ<br />
আমার মা<br />
কল্যাণী রানী মিত্র<br />
আমার বাবা<br />
ভোলা নাথ মিত্র<br />
ও আমার ছোট ভাই<br />
আকাশ মিত্র – কে</p>
<p>১.</p>
<p>নদীঘাটেই তবু আসতে হবে কারো<br />
নদীর বুক চিরে নিতে হবে তাকে রূপালি দানা<br />
সন্ধ্যায় বাতাসে গা এলিয়ে দিয়ে গলা ছেড়ে দিতে হবে টান</p>
<p>জলকে শাসন করতে করতে নায়ককে পেতে হবে<br />
স্নান করতে আসা জলকুমারী</p>
<p>স্টিমার আসবে দূর দেশ থেকে<br />
ভিনদেশী দেবতার পায়ে হুমরি খেয়ে নিতেই হবে ধূলো</p>
<p>সমস্ত রাত সাইরেনের মতো কেঁদে কেঁদে ঘুমাবে<br />
তীরবর্তী গ্রামের নিত্যনতুন শিশু</p>
<p>কারো কারো মনে পড়বে শৈশবে সাঁতার শিখতে এসে<br />
ডুবে যাওয়া রঙধনু<br />
আর<br />
ক্রোধান্বিত মেঘ তাড়িয়ে বেড়াবে কাউকে এপার থেকে ওপার</p>
<p>২.</p>
<p>বড় রাস্তাগুলো হবার পর<br />
এলাকাটির অনেক উন্নতি হয়েছে<br />
অনেক দালানকোঠা হয়েছে<br />
দোকান বসেছে<br />
শিক্ষিত মানুষ এসেছে<br />
এসেছে বিদেশী জিনিস<br />
এই এলাকায় নতুন আসা লোকজন খুব খুশি<br />
বড় রাস্তা দিয়ে চলে এসেছে অনেক সুখ</p>
<p>কেবল যারা এই এলাকার মানুষ<br />
তারা বড় রাস্তার দিকে কখনোই যান না<br />
তাদের ভয়<br />
বড় রাস্তায় গেলে হারিয়ে যায় মানুষ</p>
<p>৩.</p>
<p>একদিন বুঝবে ট্রেন চলে গেলে শূন্য হয়ে থাকে স্টেশন<br />
দোকানিরা পান মুখে দেয়<br />
হকাররা জিরিয়ে নেয় কোথাও বসে<br />
স্টেশন মাস্টার হেসে কথা বলে<br />
স্টেশনের পাশে যে নদী<br />
সে নদী থেকে ঠাণ্ডা বাতাস আসে<br />
আশ-পাশের গাছগুলোতে পাখি এসে বসে<br />
গান গায়<br />
কেবল আমরা যাদের বলি স্টেশনের মানুষ<br />
তাদেরই বুকটা খালি হয়ে যায়<br />
বিষন্ন চোখ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন তারা<br />
আর তাদের বাচ্চাদের চলে যাওয়া ট্রেনকে দেখিয়ে বলেন<br />
ঐ যে দেখ আবার আসছে</p>
<p>৪.</p>
<p>আমার সন্তান যখন আমার<br />
ঘাড়ে চড়ে ঘোড়া বানিয়ে বলতে থাকে<br />
টগবগ টগবগ<br />
তখন আমার নিজেকে খেলনা ঘোড়া করেই রাখতে ইচ্ছে করে<br />
সারাক্ষণ<br />
সারাটাজীবন<br />
যে ঘোড়ায় চরে<br />
একদিন সে জয় করবে সমস্ত রাজ্য<br />
৫.</p>
<p>শহরে হেলিকপ্টার উড়ে আসলে<br />
কতলোক উপরে তাকায়<br />
যেন কত দিন ধরে তাদের ইচ্ছে উড়ে বেড়াবার<br />
কতদিন ধরে ইচ্ছে তাদের মুক্ত হবার</p>
<p>আমাদের গ্রামেও একদিন হেলিকপ্টার উড়েছিল<br />
তখন অবশ্য কেউ উড়ে বেড়াবার কথা ভাবেনি<br />
ভেবেছিল কিছু খাবার পড়ুক<br />
হেলিকপ্টারের জানালা থেকে</p>
<p>৬.</p>
<p>মা যখন তার বালকদের শরীর<br />
সাবান দিয়ে পরিস্কার করিয়ে দেন<br />
তখন আমার বালকবেলার কথা মনে পড়ে<br />
মনে হয়<br />
সমস্ত বালকদের আগামী দিন যদি<br />
মায়েরা<br />
এরকম সুন্দর-উজ্জ্বল-পরিষ্কার<br />
করে দিতে পারতেন<br />
৭.</p>
<p>আমাকে তোমার ফসলি ক্ষেতের<br />
কাকতাড়ুয়া বানিয়ে নাও<br />
আমি আজীবন তোমার আদরের পাশে<br />
থাকতে চাই<br />
আর তোমার ক্ষেতের ফসল দেখে রাখতে চাই<br />
যেন কোন বিদেশী ছলাকলা এসে নষ্ট না করে ফসল</p>
<p>যেন তুমি ফসলকে জড়িয়ে ধরে<br />
ঘুমিয়ে পড়তে পার<br />
নিশ্চিন্তে</p>
<p>৮.</p>
<p>আবার তো দিন আসবে<br />
আকাশ ভেদ করে গলে পরবে আলো<br />
সে আলোয় দেখা যাবে<br />
পৃথিবীর ঘর বাড়ি মানুষ জীবজন্তু সব<br />
এবং তোমাকেও<br />
আজ রাতটা অন্ধকার থাক<br />
কালো নিকষ অন্ধকার<br />
যেন পৃথিবীর কোন কিছুই দেখা না যায়<br />
এমনকি আমাকেও</p>
<p>আজ রাতটা<br />
শুধু পরস্পরকে বিশ্বাস করে ভালবাসতে চাই<br />
কোন প্রকার বিচার বিবেচনাহীন<br />
যেন তুমি আমার সাথেই লড়ছো<br />
শহরে<br />
গ্রামে<br />
বন্দরে<br />
একই স্বপ্নে আমরা<br />
দীর্ঘদিন</p>
<p>৯.</p>
<p>কাশ্মীরকে ভূ-স্বর্গ বলা হয়<br />
আমি সেই স্বর্গের দিকে তাকিয়ে আছি<br />
আর ভাবছি<br />
আমার মা যখন ছোট ছিলেন<br />
তখনও কাশ্মীরে অনেক দাঙ্গা-হাঙ্গামা হত<br />
এখন আমি যখন বড়<br />
এখনও কাশ্মীরে অনেক দাঙ্গা-হাঙ্গামা হয়</p>
<p>আর কাশ্মীরি শাল জড়িয়ে আমার বাবার মতো আমিও<br />
ভাবি এখনও<br />
আমার স্ত্রী আর সন্তানদের কথা</p>
<p>১০.</p>
<p>আমার তা মনে হয় না<br />
অন্তত কৃষকের বাড়ির উঠোন দেখে<br />
যে উঠোন শরতের আকাশের মতো স্বচ্ছ আর পরিষ্কার<br />
সন্ধ্যা হলে যেখানে তারা ফোটে<br />
কিষান-কিষানিরা গোল হয়ে বসে<br />
গল্প জমে হাসিতে<br />
গানে<br />
কিচ্ছায়<br />
আর ধান কাটা শেষ হলে<br />
সমস্ত সোনা ঝরা ¯^cœ এসে জড় হয় উঠোনে উঠোনে</p>
<p>বাংলাদেশের সমস্ত সুন্দর<br />
সমস্ত মানুষের আগামী সুদিন<br />
উঠোনের উপর চিকচিক করে চলছে অজস্র বছর<br />
আমার এরকম মনে হয়</p>
<p>১১.</p>
<p>এই যে চুপচাপ বসে আছে<br />
খুব দূরে একা একটি শ্বেত-শুভ্র বক<br />
দেখে মনে হয়<br />
এত ধ্যানী এত শান্ত-স্নিন্ধ রূপ<br />
কোথাও যাবে না পাওয়া<br />
তাই আমিও মেলে রাখি চোখ<br />
তার দিকে</p>
<p>হঠাৎ একটু উড়াল দিয়ে<br />
যখন ডুবিয়ে দিল মুখ<br />
জলের গভীরে<br />
তখনও ঠিক টের পাইনি<br />
এই ধ্যান এই শান্ত-স্নিগ্ধতা<br />
এও এক কৌশল<br />
শিকারের</p>
<p>১২.</p>
<p>আমার এখনো সাঁতার শেখার কথা মনে পড়ে<br />
মনে পড়ে আমার বাবা কীভাবে<br />
আমার শরীর শক্ত করে ধরে সাঁতার শেখাতেন<br />
কখনো একটু হাত ফসকে গেলেই<br />
কেমন ছোট হয়ে যেত তার মুখ</p>
<p>সেই মুখ এখনো হঠাৎ মনে হলে<br />
কেমন যেন সেই সাঁতার থামিয়ে দাঁড়িয়ে পরার মতন<br />
কোথাও চুপচাপ জড়সড় হয়ে যাই<br />
কাজের গতি কমে যায় আমার<br />
আর মনে মনে বলতে থাকি<br />
বাবা এইতো আমি তোমার পাশেই আছি</p>
<p>১৩.</p>
<p>মানুষের ঘুমমুখ দেখলে কেমন চুপ হয়ে যাই আমি<br />
ঘুমন্ত মানুষেরা শিশুর মতো পাপহীন জ্যোতির্ময় দেহে চোখ বুজে থাকে<br />
মানুষের ঘুমমুখ আমার ভিতর ছড়িয়ে দেয় এক অদ্ভূত ভালবাসা<br />
অনেকক্ষণ তাকিয়ে থাকি তাই ঘুমমুখের দিকে<br />
ঘুমমুখ আমাকে জাগিয়ে রাখে সারারাত<br />
আমি মিশে থাকি স্নিগ্ধতার ভিতর<br />
জেনে যাই যে মানুষ রমণীকে ফুল দেবার আগে কেঁদেছিল<br />
কিংবা কাউকে খুন করার আগে হেঁটেছিল সারারাত<br />
সারাক্ষণ অস্থির হয়ে থাকে যে মানুষ একটু স্বস্তির মতো আশ্রয়ের জন্য<br />
অথবা মুখ গুঁজে রাখে শীতল জলে<br />
সেইসব মানুষেরাও অজান্তে আশ্রয় চায় ঘুমের কাছে<br />
ঘুম তাকে অনেকক্ষণ ভুলিয়ে রাখে বেঁচে থাকা<br />
ঘুম অনেকক্ষণ তাকে তার ভাবনার ভিতর, স্বপ্নের ভিতর,<br />
প্রাপ্তির ভিতর বাঁচিয়ে রাখে<br />
আমি তাই গোপনে ঘুমপাড়ানি মেয়ে বসিয়ে রাখি<br />
মানুষের শিয়রের কাছে<br />
আর তাকিয়ে দেখি পাপহীন জ্যোতির্ময় স্নিগ্ধ এক ঘুমমুখ</p>
<p>১৪.</p>
<p>আকাশে ওড়া চিল দেখে মনে হয় সবসময় সুন্দর সুন্দর<br />
আর আড়ালে থেকে যায় তার হিংস্র শিকারি চোখ<br />
সৌন্দর্য থেকে দূরে থাকাই বোধহয় ভাল<br />
তাতে বিশুষ্ক মাঠ<br />
দমকলের পেট থেকে টেনে হিঁচড়ে নিতে পারবে প্রাণবন্ত জল<br />
সন্ধ্যা হলে<br />
হাতমুখ ধুয়ে ঘরে যেতে পারবে সকল প্রাণিজগত<br />
আর আমরাতো সবাই জানি<br />
সৌন্দর্য বিমোহিত হয়ে<br />
বেশিক্ষণ নিষ্পলক তাকিয়ে থাকলে<br />
জল আসে চোখে</p>
<p>১৫.</p>
<p>ধনীলোকদের বাসার সামনে<br />
অনেক সুন্দর সুন্দর ফুলের বাগান থাকে<br />
বাগান যত্নের জন্যে একজন মালি রাখা হয়<br />
সেখানে বাহারি রকমের ফুল ফোটে<br />
গরীব লোকদের বাসার সামনে<br />
থাকে সবজির বাগান<br />
বাসায় খাবার কিছু না থাকলে<br />
তারা এখান থেকে তুলে নেন<br />
রান্নার জন্য</p>
<p>১৬.</p>
<p>বস্তির যুবতি মেয়ে সুন্দর হতে পারে<br />
এ ধারণা ছিল না<br />
ধারণা ছিল না<br />
অদ্ভুত কণ্ঠে সেও গেয়ে উঠতে পারে গান<br />
বস্তির চেয়ারম্যান যে গানের মানে জানে না<br />
উঠতি মাস্তান জানে না কাকে বলে হৃদকম্পন<br />
শুধু জানে ওর শরীর ধরে কিভাবে টেনে নিতে হয় অন্ধকার ঘরে<br />
আর আমিও কেবল জানি<br />
বস্তির মেয়ে মানে খারাপ মেয়ে</p>
<p>১৭.</p>
<p>শহরে বড় বড় বিল্ডিং হবার পর<br />
অনেক মানুষ হয়েছে<br />
বিল্ডিংগুলো হবার কারণে<br />
এলাকাটির চেহারাও পাল্টে গেছে<br />
এখন অনেক উন্নত মনে হয়<br />
কিন্তু শহরের যে জায়গার বিল্ডিংগুলো ছোট<br />
একটা খুপরির মত<br />
সে জায়গাগুলো আর সেখানকার মানুষগুলোকে<br />
জঞ্জাল মনে হয়<br />
একদিন হয়ত এই জঞ্জালগুলো এমনিতেই পরিষ্কার হয়ে যাবে<br />
কেউ টেরও পাবে না</p>
<p>১৮.</p>
<p>এই দুপুরে যে রোদ খিল খিল করে হেসে ওঠে বালির চরে<br />
তা কি কোনো নতুন কৃষকের ভাষা<br />
যে ভাষার হাসির আন্দোলনে ঝাপসা হয়ে আসছে<br />
আয়েসি চোখ<br />
আজ যেন তাকানোর জায়গা নাই কোথাও<br />
আজ তাই ঘরের ভিতর শাড়ির কারচুপি লাগিয়ে যাচ্ছে গেরস্থের বউ</p>
<p>আর কৃষক একটি বিড়ি নিয়ে বসে বসে আঁকছে<br />
লাল টুকটুকে তরমুজ ক্ষেতের স্বপ্ন</p>
<p>১৯.</p>
<p>রাস্তায় ঘুরে ঘুরে যে লোকটি<br />
গান করে টাকা তুলে সংসার চালায়<br />
মাঝে মাঝে মনে হয়<br />
সেই লোকটিই কেবল জানে<br />
শিল্প আর জীবন<br />
এক ও অদ্বিতীয়</p>
<p>২০.</p>
<p>প্রকৃতির কাছে এলে<br />
মানুষ অজান্তেই হয়ে উঠে<br />
প্রাকৃতিক আর জীবন্ত</p>
<p>তা না হলে পার্কে<br />
অবারিত প্রকৃতির কাছে এসে<br />
যুবক-যুবতীরা চুমু খেত না<br />
এভাবে</p>
<p>২১.</p>
<p>যে ঘটনাগুলোর সাথে বৃষ্টি জড়িত<br />
সে ঘটনাগুলো প্রায়ই মনে পড়ে কেন জানি না<br />
জানি না বৃষ্টির সাথে ঘটনার কি এমন সম্পর্ক</p>
<p>যেদিন তুমি আমাকে তাড়িয়ে দিলে<br />
সেদিনও বৃষ্টি হয়েছিল খুব</p>
<p>আমার বাহিরে আর ভিতরে</p>
<p>২২.</p>
<p>আজ মাঝ নদীতে এসে মনে হলো<br />
আমাদের চারপাশে কেউ নেই<br />
বিশাল জল আর জলরাশি ছাড়া</p>
<p>আর আমি<br />
নৌকা<br />
নৌকার মাঝি ছাড়া</p>
<p>পৃথিবী সৃষ্টির সময়ও নাকি এরকম ছিল</p>
<p>আজ মনে হচ্ছিল আবার নতুন করে যদি<br />
পৃথিবীটা সাজাতে পারতাম</p>
<p>২৩.</p>
<p>পুলিশের হাতে লাঠি-বন্দুক থাকার<br />
মানে হচ্ছে দেশের খুব কম লোকই<br />
প্রচলিত রাষ্ট্রের পক্ষে</p>
<p>২৪.</p>
<p>যে মেয়েটিকে পুতুল খেলতে দেখেছি ছোটবেলায়<br />
সেই মেয়েটি আজো পুতুলই খেলে চলছে<br />
গভীর মনোযোগে</p>
<p>২৫.</p>
<p>এতদূর সূর্য্য<br />
তবু কত নির্ভরতা<br />
মানুষের</p>
<p>২৬.</p>
<p>বিয়োগেও আনন্দ আছে<br />
এ কথা শিশুটিও বোঝে<br />
কেননা<br />
গ্যাসবেলুন উড়িয়ে দিয়ে<br />
সেও আনন্দে লাফিয়ে উঠে</p>
<p>২৭.</p>
<p>জলের নিচে যে আকাশ<br />
সে আকাশে উড়ে বেড়াচ্ছে<br />
মাছ আর গাঙচিল<br />
আর তার পাশে বসে থাকতে দেখা যাচ্ছে আমায়<br />
চুপচাপ<br />
প্রাচীন যুগের পাথুরে গড়া মূর্তির মতো</p>
<p>২৮.</p>
<p>চারিদিকে শুধু ধানের ক্ষেত<br />
দিগন্ত বিস্তৃত সবুজ<br />
শুধু তাকিয়েই থাকতে ইচ্ছে করে<br />
এই দিগন্ত বিস্তৃত সবুজের আনাচে কানাচে<br />
দাঁড়িয়ে আছে যেসব কৃষক<br />
তাদের আর ভালো লাগে না<br />
দূর থেকে দেখে মনে হয়<br />
এই সবুজের গা জুড়ে<br />
বেশ কটি কীট ঘুরে ঘুরে বেড়াচ্ছে</p>
<p>অথচ এই সবুজকে জন্ম দিয়েছে তারাই</p>
<p>২৯.</p>
<p>শ্রমিকের মুখ আর পণ্যের মুখ এক নয়<br />
কেননা শ্রমিকের অনেক শ্রম ও ঘামের বিনিময়ে তৈরি হয় পণ্য<br />
শ্রমিক কেবলই ক্ষয়ে ক্ষয়ে যায়<br />
আর পণ্য হয়ে উঠে উজ্জ্বলসুন্দর<br />
পণ্য ক্রমান্বয়ে দামি হয়ে উঠে<br />
শ্রমিক কেবলই ক্ষয়ে ক্ষয়ে যায়<br />
শ্রমিক আর পণ্য ক্রমাগত সরে সরে যায়<br />
দূরে<br />
আরো দূরে</p>
<p>৩০.</p>
<p>আমার বান্ধবী যেদিন হেসে হেসে বলেছিল<br />
পুষ্টিহীন রোগাক্রান্ত শিশুটি তাকে মা ডেকেছে<br />
সেদিন আমিও বাবা হবার কথা ভেবেছি<br />
পুষ্টিহীন রোগাক্রান্ত শিশুকে দেখে বার বার মনে হয়েছে<br />
আমার একজন ভালো বাবা হওয়া প্রয়োজন<br />
যেমন প্রয়োজন আমার বান্ধবীর<br />
একজন ভালো মা হবার</p>
<p>৩১.</p>
<p>বাজারে কিছু কিনতে গেলে আমার মনে হয়<br />
কেউ একজন আমাকে বিক্রি করার জন্য<br />
দাম হাঁকছে<br />
আমি আর কোনো কিছু কিনতে পারি না<br />
কেবল বাজারের জিনিস দেখে<br />
কোনো রকম ফিরে আসি ঘরে</p>
<p>৩২.</p>
<p>এই যে জনপদ<br />
দূর থেকে দেখে মনে হয়<br />
আকাশ নুয়ে নুয়ে বারবার চুমু খাচ্ছে তাকে<br />
দিন যতই যাচ্ছে বড় হচ্ছে তত<br />
এখানে রক্ত পিপাসু দানব আছে<br />
খেটে খাওয়া পোড় খাওয়া মানুষ আছে<br />
করুণ আর্তি আছে আহাজারি আছে<br />
আছে সুখ আনন্দ উল্লাস<br />
আছে অনেক অজানা ইতিহাস<br />
আমি বলতে পারব না<br />
এই জনপদেরই কোনো ভাঙ্গা ন্যুব্জ ঘরে হয়ত শুয়ে আছে কোনো বুড়ো<br />
সেই বলতে পারবে তা<br />
সেই বলতে পারবে আকাশ কেন বারবার চুমু খায়<br />
এই জনপদকে</p>
<p>৩৩.</p>
<p>এই শহরে কত বন্ধু হলো<br />
ঘোরা হলো কত অলি গলি পথ<br />
কোনকোনদিন এই শহরে<br />
সারাদুপুর সারারাত<br />
ঘুরে ঘুরে কাটিয়েছি<br />
তবু চেনা হলো না এই শহর<br />
এখানে এখনো একা বের হলে<br />
আমি হারিয়ে ফেলি পথ</p>
<p>কোনদিনই চেনা হবে না বোধহয় এই শহর</p>
<p>৩৪.</p>
<p>ঘুরে ফিরে আকালের মাসে আমাদের দেশে ফাল্গুন আসে<br />
আমরা কবিতা লিখি গান গাই<br />
গাছে গাছে ফুল ফোটে<br />
আনন্দের ফল্গুধারায় হেসে উঠে ফাল্গুন<br />
আর চৈত্রের খাঁ খাঁ রৌদ্রের মতো হাসে<br />
আমাদের গ্রামের মানুষের পেট</p>
<p>৩৫.</p>
<p>নদীর পাড়ে যে ঢেউ আছড়ে পড়ে<br />
সুর আর বাজনা হয়<br />
আমরা জানি না<br />
নদী পাড়ের মানুষ জানে<br />
সেই সুর আর বাজনা<br />
কতখানি বেদনাময়</p>
<p>৩৬.</p>
<p>কৃষকের হাতে একদিন আমি শ্রেণীসংগ্রামের বীজ তুলে দিব<br />
সেই বীজ দিয়ে কৃষক বীজতলা বানাবে<br />
তারপর সমস্ত ক্ষেত ছড়িয়ে দিবে সেই বীজের চারায়<br />
তারপর ফসল ফলবে<br />
দিগন্ত বিস্তৃত ক্ষেত জুড়ে ফলবে ফসল আর ফসল<br />
কিষান-কিষানীরা<br />
হাসতে-হাসতে<br />
নাচতে-নাচতে<br />
গাইতে-গাইতে<br />
তুলবে সেই ফসল<br />
আমি একদিন বাংলাদেশের সমস্ত কিষান-কিষানীর হাতে<br />
তুলে দেব বীজ<br />
শ্রেণী-সংগ্রামের বীজ</p>
<p>৩৭.</p>
<p>এই লাঙলে তার প্রপিতামহের শরীরের দাগ আছে<br />
এই লাঙলে তার পিতামহের শরীরের দাগ আছে<br />
এই লাঙলে তার পিতার শরীরের দাগ আছে<br />
এই লাঙলে তার শরীরের দাগ আছে<br />
এই লাঙলে কি তার ছেলের শরীরেরও দাগ থাকবে</p>
<p>৩৮.</p>
<p>সকাল বেলায় আয়নায় মুখ দেখে<br />
যখন অফিসে যাই<br />
তখন মনে হয়<br />
আয়নাটি আমার সৌন্দর্য আটকে রেখেছে<br />
সন্ধ্যায় অফিস থেকে বাসায় ফিরে<br />
যখন আয়নার দিকে তাকাই<br />
তখন মনে হয়<br />
আয়নাটি আমার সৌন্দর্য ফেরত দিয়েছে</p>
<p>৩৯.</p>
<p>আজ আমি সেই ট্রাফিক<br />
যার ইশারায় থেমে যাচ্ছে শহরের সমস্ত গতি<br />
গাড়ি-রিক্সা-টেম্পু-বেবী সব<br />
সাগরের গভীর থেকে ছুটে আসা এক নিঃসীম বেগের অজানা হাওয়া<br />
যার আঘাতে তছনছ হয়ে যায় শহরের অলিগলি পথ<br />
সেও থেমে যাচ্ছে আঙুলের একটুখানি ইশারায়<br />
জ্বলে উঠছে লাল-হলুদ-নীল রঙের বাতি<br />
কোথায় আছো শহরের আরাম?<br />
আজ তোমাকে নিয়ে যেতে চাই ঘরে<br />
যে ভিখিরি লম্বা কালো হাত ঢুকিয়ে দেন<br />
প্রাইভেট কারের জানালার ভিতর<br />
যে শিশুর কোমল চোখ পপকর্ন পপকর্ন বলে<br />
তাকিয়ে থাকে ধনীশিশুর হাতে থাকা<br />
আইসক্রিমের উপর<br />
তার জন্য<br />
আজ থামিয়ে রেখেছি শহরের সকল গতি</p>
<p>৪০.</p>
<p>আমি পাখিদের ভাষা বুঝি না<br />
পাখিদের সমস্ত শব্দই আমার কাছে গান মনে হয়<br />
কেননা পাখির গান ছাড়া<br />
আমি তার অন্য কোন ভাষার সাথে পরিচিত নই</p>
<p>৪১.</p>
<p>গ্রাম থেকে যারা শহরে আসেন<br />
কেমন যেন তাদের মুখের দিকে<br />
তাকানো যায় না<br />
কেমন উৎকণ্ঠা<br />
আর নিজেকে হারিয়ে ফেলার ভয়<br />
সারাক্ষণ তাকে যেন তাড়িয়ে বেড়ায়</p>
<p>যারা শহর থেকে গ্রামে যান<br />
তাদের মুখগুলো অবশ্য<br />
বেশ হাস্যোজ্জ্বল<br />
মুক্ত মনে হয়<br />
মনে হয়<br />
কিছুটা সময়ের জন্য তারা<br />
নিজেরা নিজেদের ফিরে পেয়েছেন</p>
<p>৪২.</p>
<p>উৎসব হলে<br />
কত মানুষ দুলে ওঠে<br />
কত প্রেম কত অনুরাগ<br />
হেসে ওঠে<br />
অনেকদিন পর<br />
যেন অনেকদিন পর<br />
তাদের উদোরে ঢুকেছে ভাত<br />
আর কিছু মাংস<br />
সেই ঘ্রাণ<br />
রন্ধন-ঘ্রাণ<br />
মুহুর্মুহু কেঁপে উঠে<br />
আকাশে-বাতাসে<br />
নববধূর শীৎকারে<br />
উৎসবের ছায়ায়<br />
উৎসব হলে<br />
তোমাকেও বেশ ভালো মানায়<br />
অনেক অনেকদিন পর<br />
অভাবের সংসারে</p>
<p>৪৩.</p>
<p>প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে মনে হয়<br />
কেউ একজন আমাকে<br />
ঝেড়ে ফেলে দিচ্ছে<br />
বিছানার চাদর থেকে<br />
ময়লা ফেলার মতো</p>
<p>প্রতিদিন ঘুমুতে গেলে মনে হয়<br />
এখানেই আমাকে ঘুমুতে হবে<br />
বালিশে শ্বাসরোধ করে হলেও</p>
<p>৪৪.</p>
<p>মুখোশের প্রতি মানুষের এত আগ্রহ<br />
এমনকি শিশু বাচ্চাদেরও<br />
ওরা মুখোশ পরে ভয় দেখাতে এত আনন্দ পায়<br />
আর বাবাদেরও ভয়ের অভিনয় করতে ভালোলাগে<br />
ছোটবেলা থেকেই এমন মুখোশ-মুখোশ খেলা দেখতে<br />
আমার ভাললাগে না<br />
ভেবেছিলাম আমি আমার বাচ্চাকে<br />
কখনও মুখোশ কিনে দেব না<br />
কিন্তু যেদিন সে হালুম বলে<br />
আমাকে ভয় পাওয়ানোর চেষ্টা করেছিল<br />
সেদিন থেকে<br />
আমি নিশ্চিত<br />
মানুষ ইচ্ছে করলেই মুখোশ থেকে</p>
<p>বেরুতে পারে না</p>
<a href="http://www.addtoany.com/add_to/google_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fdupurmitra%2F3538&amp;linkname=%E0%A7%AA%E0%A7%AA%20%E0%A6%95%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A6%BE%20%E0%A6%A6%E0%A7%81%E0%A6%AA%E0%A7%81%E0%A6%B0%20%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0" title="Google Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/google.png" width="16" height="16" alt="Google Bookmarks"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/orkut?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fdupurmitra%2F3538&amp;linkname=%E0%A7%AA%E0%A7%AA%20%E0%A6%95%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A6%BE%20%E0%A6%A6%E0%A7%81%E0%A6%AA%E0%A7%81%E0%A6%B0%20%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0" title="Orkut" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/orkut.png" width="16" height="16" alt="Orkut"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/twitter?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fdupurmitra%2F3538&amp;linkname=%E0%A7%AA%E0%A7%AA%20%E0%A6%95%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A6%BE%20%E0%A6%A6%E0%A7%81%E0%A6%AA%E0%A7%81%E0%A6%B0%20%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0" title="Twitter" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/twitter.png" width="16" height="16" alt="Twitter"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/facebook?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fdupurmitra%2F3538&amp;linkname=%E0%A7%AA%E0%A7%AA%20%E0%A6%95%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A6%BE%20%E0%A6%A6%E0%A7%81%E0%A6%AA%E0%A7%81%E0%A6%B0%20%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0" title="Facebook" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/facebook.png" width="16" height="16" alt="Facebook"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/yahoo_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fdupurmitra%2F3538&amp;linkname=%E0%A7%AA%E0%A7%AA%20%E0%A6%95%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A6%BE%20%E0%A6%A6%E0%A7%81%E0%A6%AA%E0%A7%81%E0%A6%B0%20%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0" title="Yahoo Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/yahoo.png" width="16" height="16" alt="Yahoo Bookmarks"/></a> <a class="a2a_dd addtoany_share_save" href="http://www.addtoany.com/share_save?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fdupurmitra%2F3538&amp;linkname=%E0%A7%AA%E0%A7%AA%20%E0%A6%95%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A6%BE%20%E0%A6%A6%E0%A7%81%E0%A6%AA%E0%A7%81%E0%A6%B0%20%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/share_save_120_16.png" width="120" height="16" alt="Share/Bookmark"/></a>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://coffeehouseradda.com/blog/dupurmitra/3538/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>আঁতুড় ঘর (২০)</title>
		<link>http://coffeehouseradda.com/blog/raja1952/3536</link>
		<comments>http://coffeehouseradda.com/blog/raja1952/3536#comments</comments>
		<pubDate>Wed, 01 Sep 2010 08:40:22 +0000</pubDate>
		<dc:creator>রাজা সরকার</dc:creator>
				<category><![CDATA[ব্লগাড্ডা]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://coffeehouseradda.com/?p=3536</guid>
		<description><![CDATA[দুধনৈ ক্যাম্পে সকাল হয়েছে আমাদের । আমাদের সবার জন্য এই সকাল   মনে দুঃখ আর চোখে বিস্ময় মাখা এক সকাল। ঠাম্মা আর মেজদা একটু আগে উঠে থাকবে । আমার যখন ঘুম ভাঙলো দেখি আমাদের গুহার সামনে তারা দুজন চুপচাপ বসে আছে । পাশে ফুলদা তখনও ঘুমোচ্ছে ।
এদিকে আমাদের দেশগা&#8217;য়ের প্রতিবেশীরা অর্থাৎ গত রাতের আগন্তুকরা [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>দুধনৈ ক্যাম্পে সকাল হয়েছে আমাদের । আমাদের সবার জন্য এই সকাল   মনে দুঃখ আর চোখে বিস্ময় মাখা এক সকাল। ঠাম্মা আর মেজদা একটু আগে উঠে থাকবে । আমার যখন ঘুম ভাঙলো দেখি আমাদের গুহার সামনে তারা দুজন চুপচাপ বসে আছে । পাশে ফুলদা তখনও ঘুমোচ্ছে ।</p>
<p>এদিকে আমাদের দেশগা&#8217;য়ের প্রতিবেশীরা অর্থাৎ গত রাতের আগন্তুকরা দিনের বেলাতেও সমান তৎপর । বোঝা যাচ্ছে তারা বেশ সকালে এসেই হাজির হয়েছে । আমরা কোথায় যাব, কার ঘরে থাকবো তাই নিয়ে জোর কথাবার্তা চলছে । পরবর্তীতে মনে হয়েছে দেশ ছাড়া মানুষগুলোর রূপান্তর পর্ব তখনও শুরু হয়নি । তখনও তাদের গা&#8217;য়ে নিজস্ব মাটির গন্ধ কিংবা পুকুরের জল লেগে আছে যেন । তাই এই নতুন পরিবেশে একজন চেনা বয়স্কা মহিলা যিনি দেশ গাঁয়ে মাননীয়া ছিলেন, তাঁকে তো আর যাই হোক এভাবে রাখা যায়না । তার উপর এখন এই ক্যাম্পে মানুষের যা চাপ তাতে জেডাইমাদের ঘর পাইতে যে কতদিন লাগবে &#8216;কেডা জানে&#8217; । এই স্বজনবোধ তখনও জাগ্রত তাদের মনে । </p>
<p>কিন্তু এইদিকে ঠাম্মা আর মেজদা আত্মোপলব্ধির জন্য সময়  বেশী পায়নি । কারণ একদিকে হয়ে যাচ্ছে বেলা আর অন্যদিকে ধীরে ধীরে গতরাতের মানুষেরা দুএকজন করে আসতে আসতে এখন অনেকেই এসে গেছেন । </p>
<p>গুহার বাইরে বেরিয়ে ক্যাম্পের আয়তন আন্দাজ করে আমি অবাক । যেদিকে চোখ যায় শুধু ব্যারাক আর ব্যারাক । খড়ের ছাউনি । এতো দেখি ব্যারাকের সমুদ্র ! কত হাজার মানুষ যে এখানে আছে আন্দাজ করা আমার পক্ষে মনে হলো অসম্ভব । ডালু ক্যাম্প তো এর কাছে শিশু । অবশ্য পরে জেনেছি  দুধনৈ থেকে কিছু দূরে &#8216;মাটিয়া&#8217; নামে আর একটা ক্যাম্প ছিলো যা নাকি প্রায় দুটো দুধনৈ এর সমান । এতো মানুষ দেখে আমার বিহ্বলতা আর কাটছেনা । </p>
<p>দেখতে দেখতে আমাদের নিজেদের মানুষেরা এসে পড়েছে সবাই । পরিস্থিতি বুঝে ঠাম্মা এবার আর দ্বিমত করলেন না । কোনো ঘরে আমরা অতিথি না হলে আমাদের অনির্দিষ্ট কাল ত্রিপলের ছাউনি বানিয়ে তার নিচে থাকতে হবে । তালিকা অনুযায়ী কোনো পরিবার ঘর ছেড়ে দিলে তবেই আমরা ঘর পাবো । এই আশায় অনেকেই আমাদের আগে থেকেই রয়েছে । এখন কোনো ঘর নেই । ঘরের খুব অভাব । সরকার থেকে নাকি আর ঘর বানানোর ইচ্ছা নেই । সুতরাং আমরা অনেকটা নিরুপায় হয়েই আতিথ্য গ্রহণ করবো । </p>
<p>শেষপর্যন্ত ঠিক হলো বাণেশ্বর জেঠার ছেলের সংগে আমরা তাদের ঘরে যাবো । অন্য স্বজনরা তাতে খুশি মনেই সায় দিলো । হাতে হাতে খুলে ফেলা হলো ছাউনি । আমাদের একরাতের সংসার । মালপত্র ধরা ধরি করে সবাই আমাদের নিয়ে চলল ক্যাম্পের ভেতরের দিকে । কিছুটা ভেতরে ঢুকতে না ঢুকতেই আমার নাকে এসে লাগলো তীব্র আমাশার গন্ধ । সচকিত হয়ে চারপাশে তাকাতেই যা দেখলাম তাতো সাংঘাতিক । রান্নাঘরের বর্জ্য আর মানুষের বর্জ্যের স্তুপ মাঝে মাঝেই । জায়গাটা মনে হয় নিচু জলা জায়গা ছিল । তার উপর হয়তো বৃষ্টি হয়ে থাকবে তাই প্যাচ প্যাচে কাদা । অল্প জায়গায় বেশী মানুষ থাকার ফল যা হয় আর কি । বসবাসের কায়দা কৌশল তখন হয়তো এমনই জানা ছিল । লক্ষ্য করলাম ঠাম্মা মুখে আঁচল চাপা দিয়ে এগোচ্ছে। পাশাপাশি আমরা । আমরা কি কোনো নরকের দিকে এগোচ্ছি ? (চলবে)</p>
<a href="http://www.addtoany.com/add_to/google_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3536&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%20%28%E0%A7%A8%E0%A7%A6%29" title="Google Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/google.png" width="16" height="16" alt="Google Bookmarks"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/orkut?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3536&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%20%28%E0%A7%A8%E0%A7%A6%29" title="Orkut" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/orkut.png" width="16" height="16" alt="Orkut"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/twitter?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3536&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%20%28%E0%A7%A8%E0%A7%A6%29" title="Twitter" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/twitter.png" width="16" height="16" alt="Twitter"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/facebook?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3536&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%20%28%E0%A7%A8%E0%A7%A6%29" title="Facebook" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/facebook.png" width="16" height="16" alt="Facebook"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/yahoo_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3536&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%20%28%E0%A7%A8%E0%A7%A6%29" title="Yahoo Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/yahoo.png" width="16" height="16" alt="Yahoo Bookmarks"/></a> <a class="a2a_dd addtoany_share_save" href="http://www.addtoany.com/share_save?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fraja1952%2F3536&amp;linkname=%E0%A6%86%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A7%9C%20%E0%A6%98%E0%A6%B0%20%28%E0%A7%A8%E0%A7%A6%29"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/share_save_120_16.png" width="120" height="16" alt="Share/Bookmark"/></a>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://coffeehouseradda.com/blog/raja1952/3536/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
	</channel>
</rss>
