﻿<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>কফি হাউসের আড্ডা &#187; রাজনীতি</title>
	<atom:link href="http://coffeehouseradda.com/blog/category/%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%9f%e0%a6%bf%e0%a6%95/%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%a8%e0%a7%80%e0%a6%a4%e0%a6%bf/feed" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>http://coffeehouseradda.com</link>
	<description>বাঙালীর ব্লগ-আড্ডা</description>
	<lastBuildDate>Fri, 10 Sep 2010 04:15:43 +0000</lastBuildDate>
	<generator>http://wordpress.org/?v=2.8.4</generator>
	<language>en</language>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>1</sy:updateFrequency>
			<item>
		<title>অসমে রাষ্ট্রীয় নাগরিক পঞ্জি: সন্দেহ আর শংকা</title>
		<link>http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/3507</link>
		<comments>http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/3507#comments</comments>
		<pubDate>Sun, 29 Aug 2010 18:40:24 +0000</pubDate>
		<dc:creator>সুশান্ত</dc:creator>
				<category><![CDATA[অনুবাদ]]></category>
		<category><![CDATA[প্রবন্ধ]]></category>
		<category><![CDATA[রাজনীতি]]></category>
		<category><![CDATA[সমসাময়িক]]></category>
		<category><![CDATA[সমাজ]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://coffeehouseradda.com/?p=3507</guid>
		<description><![CDATA[<a href=http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/3507><img src=http://coffeehouseradda.com/files/2010/08/324367_f520.jpg class=imgtfe hspace=5 align=left width=100  border=0></a>                                        মূল অসমিয়া আব্দুল সালাম * 
          [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>      <a href="http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/3507/324367_f520" rel="attachment wp-att-3508"><img src="http://coffeehouseradda.com/files/2010/08/324367_f520.jpg" alt="324367_f520" width="520" height="759" class="alignleft size-full wp-image-3508" /></a>                                  মূল অসমিয়া আব্দুল সালাম * </p>
<p>                   ছ’বছরের ভূমিকম্পের শেষ ধাক্কাটিও ১৯৮৫ র ১৫ আগষ্টে সম্পাদিত অসম চুক্তির সঙ্গে সঙ্গে থেমে গেছিল। অসমের মানুষ ধীরে ধীরে অনুভব করলেন বিদেশি সমস্যা আর বিদেশি খেদা আন্দোলনের  প্রকৃত চরিত্র। সাম্প্রদায়িকতা আর উগ্র জাতীয়তাবাদের থেকে জন্ম নেয়া ফ্যাসিজমের ধার কমতে শুরু করল, কিন্তু তাতে খুশি  নয় সংঘ পরিবার, রাজনৈতিক দল বিজেপি আর তাদের সমভাবাপন্ন দলগুলো ।</p>
<p>                 অসমে পূর্ববঙ্গীয় মূলের যেসব মুসলমানদের বৃটিশ তার ঔপনিবেশিক  স্বার্থেই আমদানি করে এনে বন-জংগল, নদী পাড়ের চরাঞ্চল আর অনুর্বর জমিতে বসিয়েছিল, সেই সব মানুষকেই আবারো শত্রু এবং বৃহৎ বাংলাদেশ বা ইসলামিস্তান সৃষ্টির ষড়যন্ত্রকারী বলে চিহ্নিত করে অহরহ তাদের বিরুদ্ধে চক্রান্ত আরম্ভ হয়েছিল, সেই ষাটের দশকের থেকে। আগেকার অসম আন্দোলনের নেতৃত্ব প্রকৃত সত্য অনুধাবন করে এখন মৌনতা অবলম্বন করে বসে আছে, কিন্তু সাম্প্রদায়িক সাম্প্রদায়িক মনের অনেকে আইনের সাহায্যে হবে না জেনে মুসলমানদের ‘হাতে বা ভাতে’ মারবার জন্যে সভা-সমিতিতে প্রকাশ্যে আহ্বান জানাতে  শুরু করল।<br />
দরিদ্র নিরালম্ব মুসলমানেরা ঠেলা রিক্সা চালিয়ে, হোটেলের থালা বাসন ধুয়ে, নালা নর্দমা পরিষ্কার করে, বছরের হিসেবে চুক্তিতে হাল বেয়ে বা দিন মজুরি করে কোনোক্রমে পেটেভাতে টিকে ছিল। এদেরই কাউকে কাউকে উজান অসম বা অরুণাচলের মতো জায়গা থেকে তাড়িয়ে দিয়ে ভাতে মারবার ব্যাবস্থা হয়েছিল।  এই মুসলমানদের কেউ না ছিল  বিদেশি  না বাংলাদেশি। তারা ছিল ব্রহ্মপুত্রের ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্থ এবং নৃগোষ্ঠিগত সাফাই অভিযানের (এথনিক ক্লিনজিঙে)  বলি ভারতীয় নাগরিক। এমন অমানবিক আর বেআইনি কাজকর্ম দেখেও এমনিতে যারা মানবাধিকার, আইনের শাসন, সংবিধানের কথা বলে কথার খৈ ফোটান তাদের মুখ রইল বন্ধ হয়ে।বৃহৎ অসমিয়া জাতির স্বার্থে কলম ধরে যারা বৌদ্ধিক নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন তাদেরকে কলম রইল বন্ধ হয়ে। যাদেরকে হৃদয়বান এবং অসমের চিন্তানায়ক বলে শ্রদ্ধা করা হয় তারাও রইলেন মৌন। ‘মৌনেনঃ সম্মতি লক্ষনম’। বেঁচে থাকবার দুর্বার  প্রবৃত্তিতে সেই সব শ্রমজীবী মানুষগুলো বৌ বাচ্চাকে লালন পালন করতে ভারতের নানা প্রদেশে দৌড়ে গেল। বিজেপি, শিবসেনা আর অন্যান্য উগ্রহিন্দুত্ববাদি সংগঠনগুলো সেখান থেকেও এই ভারতীয় মুসলমানদের তাড়িয়ে দিল। মহাপুরুষ শংকর দেবের অসাম্প্রদায়িক দর্শনের প্রচার করতে ব্যস্ত অসমের এক সংবাদপত্র এই দুর্ভাগা মুসলমানদের ‘বিষ্ঠা’ বলে ঘৃণাভরা লেখা ছাপালো। এমন কুকর্ম চলছেই , বন্ধ হয় নি।</p>
<p>        <a href="http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/3507/2938640884_66f189ffe5_o" rel="attachment wp-att-3509"><img src="http://coffeehouseradda.com/files/2010/08/2938640884_66f189ffe5_o.jpg" alt="2938640884_66f189ffe5_o" width="640" height="480" class="alignleft size-full wp-image-3509" /></a>         পূর্ববঙ্গীয় মূলের মুসলমানের ধর্মনিরপেক্ষতার মুখোস পরা কিছু সংগঠন আর হিন্দুত্ববাদি নেতা সংগঠনের আগ্রাসী কাজ কর্মে শংকিত হয়ে পড়ল। ধর্মনিরপেক্ষতা আর অসম –অসমিয়াদের স্বার্থে নিত্য মুখর সারা অসম ছাত্র সংস্থাকেও এমন অমানবিক কাজের বিরোধীতা করতে কখনো দেখাতো যায়ই নি, উল্টে দেখা গেল সমর্থন দিতে ।  এই ‘মিঞারা’ হয়ে গেলেন ‘বাংলাদেশি-ইসলামিস্তানের সৈনিক’ , ট্রেডমার্কধারী সফট টার্গেট। দুর্ভাগা এই মানুষগুলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার হিটলারের অধীনের দেশগুলোর ইহুদি এবং বিশ শতকের ষাটের দশক অব্দি আমেরিকার নিগ্রোদের মতো সমস্ত ক্ষেত্রে বৈষম্য, বঞ্চনা আর লাঞ্ছিত মানুষের মতো জীবন কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন। এদের মধ্যের কিছু মানুষ&#8211; যারা মন্ত্রী, এম এল এ, আধিকারিক ইত্যাদি হতে পেরেছেন তাদের অবস্থা জার্মান নাজি কনসেন্ট্রেশন কেম্পের ‘কাপো’ দের থেকে ভালো কিছু নয়। </p>
<p>                         এতো কিছুর পরেও এই মানুষগুলো ঘোর অন্ধকারের পরে আলোর জন্যে  বড় আগ্রহে পথ চেয়ে রইল। অসমে যে সমস্ত পূর্ববঙ্গ মূলের মুসলমান রয়েছেন তারা  সেই বৃটিশ যাদের পাঁচ টাকার ‘রেলওয়ে ফেমিলি টিকিটে’ পূববাংলা থেকে অসমে এনে বি-ফর্মে ( B-form) জমি আবন্টন দিয়ে বসিয়েছিল তাদের তৃতীয় পুরুষ বা বংশধর। এই মানুষগুলোকেই ভোতার লিস্টে নামভর্তীর জন্যে বারে বারে সরকারী আধিকারিকদের সামনে  লাইন দিতে হলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, ন্যায়ালয়ের বিচারকের পরিবারের লোক, উকিল কিম্বা সরকারী কর্মচারীরাও রেহাই পেলেন না। ঠিক ইহুদি আর নিগ্রোদের মতৈ ডানদিকে পুরুষেরা আর মহিলারা বাঁদিকে।</p>
<p>                     উপযুক্ত নথিপত্র পরীক্ষার শেষে ভোটার লিস্ট তৈরি হলো, ছাত্র সংস্থা নারাজ। অভিযোগ উঠল লাখো লাখো বাংলাদেশির নাম ঢুকেছে। কোনো প্রাথমিক অনুসন্ধান না করেই প্রায় তিন লক্ষ পঞ্চাশ হাজার নাগরিকের নামের পাশে সন্দেহজনক ভোটারের ( D-voter) ছাপ মেরে দেয়া হলো। মা-বাবা নয়, সন্তান হলো ডি-ভোটার। দাদা ভারতীয় নাগরিক , ছোট ভাই বোন হলো ডি-ভোটার।  সমকালীন রাজনৈতিক পরিবেশে বৈষম্যের নজির বিহীন ব্যবস্থাতে কিছু সংখ্যালঘু মানুষকে মানসিকভাবে পঙ্গু করে ফেলা হলো। পৃথিবীর আর কোনো দেশে কি কেউ শুনেছে এমন অদ্ভূৎ ব্যবস্থার কথা? </p>
<p>                        অসমে যে সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় নাগরিক পঞ্জি প্রস্তুতির ( উন্নীতকরণ) প্রকল্পকে এই পরিপ্রেক্ষিতে বিচার করতে হবে। অসমে এন আর সি প্রস্তুত করা হচ্ছে না , হচ্ছে নবীকরণ । ভিত্তি হবে ১৯৫১ সনের  নাগরিক পঞ্জি । অসম চুক্তির কোন দফাতেই বা ১৯৫১ সনের নাগরিক পঞ্জিকে ভিত্তি ধরার দলিল করা হয়েছে? এখন সেই অসম্পূর্ণ নাগরিক পঞ্জিকে ভিত্তির দলিল করা হলো কেন, সেইটেই লাখ টাকার প্রশ্ন।  কে দেবে তার উত্তর? কারই বা গরজ পড়েছে ! সমস্ত ষড়যন্ত্রের আঁচ পেয়েও ১৯৫১কে ভিত্তি বর্ষ ধরাতে কাউকে দেখা গেল না প্রতিবাদ করতে । সবাই যেন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন। অসম চুক্তিতে যদিও ১৯৭১এর ২৮ মার্চের মাঝরাত অব্দি সময়কে নাগরিকত্বের ভিত্তি বছর ধরা হয়েছে, কার্যতঃ এখন ১৯৫১ সনকেই ভিত্তি বছর ধরা হলো। কারণ সরকার নিবন্ধনের জন্যে যে সব দরখাস্তের ফর্ম বিতরণ করেছে তার ১২ নং ঘরটিতে ১৯৫১ সনের নাগরিক পঞ্জির ক্রমিক নম্বর আর গৃহ সংখ্যা লেখাটা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর পরেই শুধু ১৯৭১, ১৯৬১ এবং তার আগের ভোটার তালিকার তথ্য দিয়ে ফর্মখানা ভরাতে হবে। এভাবেই বরপেটা আর ছয়গাঁও রাজস্ব চক্রে পরীক্ষামূলক প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। যঢ়যন্ত্র দিয়ে কত মানুষকে রাষ্ট্রহীন করা যায় তার পরীক্ষামূলক প্রকল্প।</p>
<p>                  উপরে উল্লেখিত দুটো রাজস্ব চক্রের মুসলমানেরা ১৯৫১ সনের নাগরিক পঞ্জিকে মূল প্রামাণ্য দলিল হিসেবে ঘোষণা করাতে কোনো আপত্তি করেন নি। এ নিয়ে তারা চিন্তিত নন। স্বাধীনতার আগে থেকে তাদের পূর্বপুরুষেরা এই এলাকাতে বাস করে আসছেন । তার নথিপত্র তাদের রয়েওছে।  তারা আশা করছেন রাষ্ট্রীয় নাগরিকপঞ্জিতে নাম নিবন্ধন করে ফটো পরিচয় পত্র পেয়ে গেলে এতো দিন ধরে তারা যে দুর্ভোগ ভোগে আসছেন তার অন্ত হবে। ফুরোবে যত সন্দেহ সংশয় ইত্যাদি। স্বাধীন নাগরিকের মতো থাকতে পারবেন ভারতের সর্বত্র।</p>
<p>                      কিন্তু,নাগরিকপঞ্জির ফর্ম , ১৯৫১সনের রাষ্ট্রীয় নাগরিকপঞ্জি আর ১৯৭১, ১৯৬১ সনের ভোটার তালিকা দেখে তাদের চোখ কপালে উঠবার জোগাড়। এদের মনে এক সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে, ভাবতে বাধ্য হয়েছে কোথাও একটা ষঢ়যন্ত্র হচ্ছে এই মানুষগুলোকে রাষ্ট্রহীন করবার। সাধারণ মুসলমানেরা এটা ভাবতে বাধ্য হলেন যে যে কাজটি ট্রাইবুনেল আর ন্যায়ালয় দিয়ে করা যায় নি, সেই কাজটিই এবারে সহজেই নাগরিকপঞ্জি দিয়ে করতে চাইছে স্বার্থান্বেষী মহল। </p>
<p>                 অসমের মুখ্য সচিব ২০০৫ সনের মে মাসে অনুষ্ঠিত ত্রিপাক্ষিক সভার পর নাগরিকপঞ্জি উন্নয়নের জন্যে যে কার্যপ্রণালী হাতে নিয়েছিলেন তাতে স্পষ্টভাবেই স্বীকার করেছিলেন যে অসমে বহু জেলাতেই ১৯৫১ সনের নাগরিক পঞ্জি এবং ১৯৬৬-৭১ ভোটার তালিকা আংশিকভাবেই আছে। জনগণ তাদের অসুবিধের কথা বিবেচনা করে নাগরিকত্বের দাবি সাব্যস্ত করতে যাতে অসুবিধে নাহয় তার জন্যে কেন্দ্রীয় সরকারকে বিকল্প গ্রহণযোগ্য নথির এক তালিকা তৈরি করবার দায়িত্ব দিয়েছিল। বিকল্প নথির তালিকা তৈরি করবার জন্যে কেন্দ্রীয় সরকারের পিল্লাই মশাই সময় করে উঠতে পারেন নি, এরই মধ্যে দরখাস্ত পেশ করবার শেষ তারিখ  ১০ আগষ্ট দোরগড়াতে এসে পৌঁছে যায়।</p>
<p>               পুনর্মূদ্রিত এন আর সি আর ভোটার তালিকাগুলোতে এমন কিছু ভুল থেকে গেছে যে গুলোকে সবাই  উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আর ষঢ়যন্ত্রমূলক বলে  ভাবতে বাধ্য হচ্ছেন। সাধারণ মানুষ নানা সময়ে নানা প্রয়োজনে বরপেটা পুলিশ অধীক্ষক এবং জেলা নির্বাচন আধিকারিকের থেকে ১৯৫১ সনের নাগরিকপঞ্জি আর ১৯৬৬-৭১ সনের ভোটার তালিকার কপি সংগ্রহ করেছিল। বর্তমানের জেলা নিবন্ধক ( জেলা শাসক) সেগুলোকে যখন আবার ছেপে প্রকাশ করেছেন তখন দেখা গেল তাতে সেই সব মানুষের নাম নেই। তার উপর আগেই সংগ্রহ করা এন আর সি-র  প্রতিলিপিতে  যার ক্রমিক নম্বর ছিল ৩৭৮, এখন প্রকাশ করা প্রতিলিপিতে তার ক্রমিক নম্বর হচ্ছে ১৭৮। মাঝের দুশো নম্বর গেল কৈ ? কতকগুলোর শুধু ক্রমিক নম্বর আছে , নাম নেই। নাম লেখার জায়গাতে লেখা আছে ‘ উইতে খেয়েছে’ ( ঊঁয়ে খালে)। বাবার নামের জায়গাতে ‘অজ্ঞাত’, ‘অমুক’, ‘অমুকের বাবা’ ইত্যাদি। কোনো ক্রমিক নম্বরের জায়গাতে আছে ‘বাচ্চা’ ( কেঁচুয়া)। পাইলট প্রকল্পের জায়গাতে যেসব মানুষের ১৯৫১র আগেই জন্ম হয়েছে  তাদের জন্মস্থানের জায়গাতে লেখা আছে ময়মন সিংহ, ঢাকা, পূর্ব বা পশ্চিম পাকিস্তান ইত্যাদি। অথচ তাদের জন্ম ভারতে প্রমাণ করবার জন্যে সমস্ত উপযুক্ত নথিপত্র তাদের হাতে  রয়েছে। পুরুষের স্বামীর নাম বলে পুরুষের নাম আর মহিলার স্বামীর নাম বলে মহিলার নাম লেখা হয়েছে। বাবার বয়স ১০, ছেলের বয়স ৫০, মায়ের বয়স নিজের পেটের ছেলের চে’ কম লেখা হয়েছে। একই ক্রমিক নম্বর চার পাঁচজন কিম্বা চার পাঁচ পরিবারের নামের আগে লেখা রয়েছে। বেশ কিছু মুসলমান গ্রামকে হিন্দু গ্রাম বলে দেখানো হয়েছে। মুসলমান পরিবার হয়েছেন হিন্দু পরিবার। বরপেটা রাজস্ব চক্রের ২৪টি গ্রামের এন আর সি, ১১ টি গ্রামের ১৯৬৬র এবং ১২টি গ্রামের ১৯৭১ সনের ভোটার তালিকা পাওয়াই যাচ্ছে না। এমন অবস্থাতে ফর্মের ১২ নং ঘরটি তারা পূরণ করবেন কী করে? শুধুমাত্র ঘিলাজারি আর হাউলি মৌজার ১,৭০০টি পরিবার মূদ্রিত এন আর সি এবং ভোটার তালিকার থেকে বাদ পড়েছে । তিনশ বছরের প্রাচীন অসমিয়া মুসলমান মানুষের গ্রাম ( খিলঞ্জিয়া মুসলমান)  ভেল্লা । সেই ভেল্লারও এন আর সি পাওয়া যায় না বলে সংবাদ পত্রে বেরিয়েছে। ডিসি বাহাদুর মৌন, গৃহ সচিব, মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্যপাল সব্বাই মৌন, সদুত্তর নেই। </p>
<p>                    ডাঃ ভূমিধর বর্মন ( অসম চুক্তি রূপায়ণ মন্ত্রী) বিধান সভাতে ঘোষণা করলেন –১৯৫১ সনের এন আর সি, ১৯৬৬-৭১ সনের ভোটার তালিকাতে নাম না থাকলেও ‘পুরোনো মাটির দলিল’ দেখিয়েও এন আর সি-তে নাম নথিভূক্ত করতে পারা যাবে। বিজ্ঞপ্তি জারি করাবার দাবি জানাবার বেলা নির্বিকার হয়ে রইলেন। অসম মন্ত্রীসভার মন্ত্রী, জেলা শাসক, সারা অসম ছাত্র সংস্থা ইত্যাদির মৌখিক প্রতিশ্রুতিকে কেন্দ্রীয় সরকারের জারি করা Citizenship (Registration of Citizens and Issue of National Identity Card ) Amendments Rules,2009 বিধি কিম্বা আইন আদালত কতটা গুরুত্ব দেবে তা জানবার জন্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রির দরকার পড়ে না। </p>
<p>                  ঘর পোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলেই ভয় পায়। মুসলমান মানুষ, কিছু সংগঠন, রাজনৈতিক দল এই সব অসুবিধেগুলো দূর করবার দাবি জানিয়ে নানা স্তরে আবেদন নিবেদন করতে শুরু করতেই এদেরকে শত্রু বলে ঠাউরে নিয়ে বিকারগ্রস্ত কিছু মানুষ আপত্তিকারীদের অসমের শত্রু, বাংলাদেশি ( মিঞা)র দালাল বলে চেঁচামেচি শুরু করে দিল। আপত্তির যে কিছু নায্যতা থাকতে পারে তার আভাস নেবার জন্যেও কোনো দরকার বোধ করে নি তারা যারা নিজেদের অসমের সয়ম্ভূ অভিভাবক বলে দাবি করে।</p>
<p>                     ১৯৫১ সনে অসমে লোকগণনা আয়োগের মুখ্য কর্তাব্যক্তি  ছিলেন আর এস ভাগাইওয়ালা, আই এ এস। তাঁর প্রতিবেদনে জানা গেল নেহরু-লিয়াকৎ চুক্তির ফলে যে ৬৮,৪৫১ জন মানুষ অসমে প্রত্যাবর্তন করেছেন তাঁদের নাম ইতিমধ্যে সমাপ্ত আর সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় নাগরিক পঞ্জিতে ওঠে নি। তারপর পাহাড়ি জেলাগুলো, ব্রহ্মপুত্রের চরগুলো, গোয়ালপাড়া আর কামরূপের একাংশ মুসলমানদের নাম এন আর সি-তে ওঠে নি। সেই মানুষগুলোর বেলা কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে  তার কোনো উত্তর নেই। এই সব মানুষেরা নিবন্ধনের জন্যে  ১২ নং ঘরে কী লিখবে? সবাই নিরুত্তর!<br />
মাঝখানে একবার দেওরিকুছিম দত্তাকুছিম ধাকালিয়াপাড়াম যুগীরপাম, দাবালিয়াপাড়া ইত্যাদি কিছু গ্রামের এন আর সি আর ভোটার তালিকা পাওয়া না গেলে  এলাকার বিভিন্ন সংগঠন, রাজনৈতিক দলগুলো যখন প্রতিবাদী কর্মসূচী হাতে নিয়েছিল , তখন সঙ্গে সঙ্গেই বরপেটার জেলা নিবন্ধন আধিকারিক এই পাঁচাখানা গাঁয়ের আগের বিশুদ্ধ আর সম্পূর্ণ এন আর সি বের করে দিলেন। চিঠি নং BA-NRC/2/2010/50Dt.12.07.2010  । অথচ এটিই  আগে পাওয়া যায় নি বলে জানানো হয়েছিল। সেই সঙ্গে তিনি আগের কিছু নথিপত্র নষ্ট করে দেবারও নির্দেশ দিলেন। আগে কেন এগুলো পাওয়া যায় নি তার কোনো কারণ জানানো হলো না। সাধারণ মানুষ বাক হয়ে ঘটনাক্রম লক্ষ্য করলেন, তাদের  ষঢ়যন্তের সন্দেহ আরো দৃঢ় হলো।<br />
নাগরিকত্ব দাবির জন্যে প্রতিশ্রুতি মতো বিকল্প নথির তালিকা নেই, এন আর সি নেই, ভোটার তালিকা নেই। তা হলে ১০ আগষ্টের ভেতরে আবেদনপত্র জমা দেন কী করে এই লোকগুলো?  জেলা নিবন্ধক সভা সমিতেতে বলে বেড়ান, “বিকল্প নথির তালিকার জন্যে যোগাযোগ করা হয়েছে। ভাবনার কিছু নেই। আপনারা দর্খাস্ত জমা দিন।”  লিখিত প্রতিশ্রুতি চাইলে তিনি চুপ মেরে যান। মানুষ মুখের কথাতে বিশ্বাস করেন না। মৌখিক কথাতে দর্খাস্ত দেয়ার মানেই হলো মরণ ফাঁদে পা দেয়া—মানুষের এই বিশ্বাসই আরো দৃঢ় হলো।</p>
<p>                       রাষ্ট্রীয় নাগরিকপঞ্জি উন্নীত করবার কাজে যে সব ভুল ত্রুটি দেখা দিয়েছে সেগুলো সংশোধন করবার জন্যে সে সংগঠন, দল বা ব্যক্তি দাবি জানালেন তাদের দমন করতে আখ্যা দেয়া হলো , ‘ বাংলাদেশির দালাল’, ‘অসম বিরোধী চক্র’ কিম্বা ‘অসমের শত্রু’। প্রতিবাদ করা চলবে না, যেভাবে বলা হয়েছে সেভাবেই দর্খাস্ত জমা দিতে হবে । আধিকারিক, মন্ত্রী আর তাদের চেলাচামুণ্ডারা বলে বেড়াচ্ছে যে , ভাবনা কিসের? পুরোনো মাটির দলিল থাকলেই হলো ! কেল্লা ফতে! লিখিত নোটিস দিতে বলতেই সব্বাই চুপ। সেরকম আধিকারিদের সংখ্যালঘু মানুষের বিশ্বাস করা মানেই হলো মৃত্যুর সমনে সহি করা। এমনটি ভাবা যে ভুল ছিল না সেটি পরে প্রমাণিত হলো।</p>
<p>              ২১ জুলাই তারিখে বরপেটাতে বেরুনো আমসুর প্রতিবাদি মিছিল এন আর সি উন্নীতকরণ বন্ধের  দাবিতে না সেইসব ভুলত্রুটিগুলো সংশোধনের দাবিতে ছিল সে কথা জানবার কারো কোনো গরজ দেখা গেল না।  চারজন প্রতিবাদীকে হত্যা এবং শতাধিক আহতের প্রতি নূন্যতম সমবেদনার গরজ নেই, তার বিপরীতে  প্রকৃত ঘটনাকে বিকৃত করে বিবৃতি দেয়া হলো আর তাতে  আক্রমণাত্মক ভাষার প্রোয়োগ করা হলো। ‘ ওরা বাংলাদেশি, কেন প্রতিবাদ করবে? এতো সাহস কোথায় পেল? কে উৎসাহিত করলে এদের?’ ইংগিতের আঙুল একবার দিসপুর আরেকবার হাতিগাঁওয়ের দিকে । হাতিগাঁওয়ের দিকে আঙুল দেখাবার অর্থ দুটো—এক হাতিগাঁও মানে জমিয়ত আর এ ইউ ডি এফ আরেকটি হাতিগাঁওয়ের ওপারে বাংলাদেশ। অতীতেত অসম আন্দোলনের সময়কার মানসিকতার পুনরাবৃত্তি ঘটল।</p>
<p>                   চারটা নিরীহ জীবন কেড়ে নেবার পর সরকার আপত্তির নায্যতা বুঝতে পেরে ভুল ত্রুটিগুলো সংশোধনের আশ্বাস দিয়েছে, নাগরিকপঞ্জি উন্নয়নের কাজ সাময়িক ভাবে স্তগিত রেখেছে। কিছু লোকের তাতে বিলম্ব সহ্য হচ্ছে না। স্তগিতকরণ চলবে না! ভুল নেই! ভুলত্রুটির কথা যারা বলছে তারা বাংলাদেশের দালাল! বাংলাদেশির কাছে আত্মসমর্পণ চলবে না! এরকম দাবিতে আবারো ৮৩র সেই আহ্বান জানাতে চাইছে।<br />
অসমের মানুষ এখন আবেগ সর্বস্ব না হয়ে যুক্তি তথ্য, তথ্য এবং অন্য পক্ষের আপত্তির কারণ জানবার জন্যেও আগ্রহী। এ একটি প্রশংসনীয় দিক বলে বিবেচিত হচ্ছে। ন্যায়-নিষ্ঠার ভিত্তিতে কোনো রাখঢাক না করে নাগরিকত্বের প্রমাণ দেবার সুবিধে দেয়া হোক। ন্যায়-নিষ্ঠার নীতিও এমনটি দাবি করে। সমাধান হোক –যাতে কোনো বিদেশির নাম অন্তর্ভূক্ত না হয় বা কোনো ভারতীয়ের নাম যেকোনো অজুহাতে কাটা না পড়ে সেটি দেখা উচিত। অসম এবং বৃহত্তর অসমিয়া জাতির স্বার্থে কথাগুলো সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করুক সবাই। আবেগের বদলে যুক্তিতে এগিয়ে যাক। যেভাবে তিরাশির আগুন মাড়িয়ে পার করে চলে এলাম , সেভাবেই সন্দেহ-শংকার এই দুর্ভাবনার থেকেও আমরা বেরিয়ে আসতে পারব। আঁধারের পর আলো আসবেই আসবে।</p>
<p>* লেখক অসমের নগাঁও জেলার  ধিং কলেজের অবসর প্রাপ্ত অধ্যাপক।  ফোনঃ ৯৮৩৫৩-৬০৬৯৬</p>
<a href="http://www.addtoany.com/add_to/google_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F3507&amp;linkname=%E0%A6%85%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%87%20%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A7%9F%20%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%97%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%95%20%E0%A6%AA%E0%A6%9E%E0%A7%8D%E0%A6%9C%E0%A6%BF%3A%20%E0%A6%B8%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B9%20%E0%A6%86%E0%A6%B0%20%E0%A6%B6%E0%A6%82%E0%A6%95%E0%A6%BE" title="Google Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/google.png" width="16" height="16" alt="Google Bookmarks"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/orkut?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F3507&amp;linkname=%E0%A6%85%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%87%20%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A7%9F%20%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%97%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%95%20%E0%A6%AA%E0%A6%9E%E0%A7%8D%E0%A6%9C%E0%A6%BF%3A%20%E0%A6%B8%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B9%20%E0%A6%86%E0%A6%B0%20%E0%A6%B6%E0%A6%82%E0%A6%95%E0%A6%BE" title="Orkut" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/orkut.png" width="16" height="16" alt="Orkut"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/twitter?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F3507&amp;linkname=%E0%A6%85%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%87%20%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A7%9F%20%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%97%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%95%20%E0%A6%AA%E0%A6%9E%E0%A7%8D%E0%A6%9C%E0%A6%BF%3A%20%E0%A6%B8%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B9%20%E0%A6%86%E0%A6%B0%20%E0%A6%B6%E0%A6%82%E0%A6%95%E0%A6%BE" title="Twitter" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/twitter.png" width="16" height="16" alt="Twitter"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/facebook?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F3507&amp;linkname=%E0%A6%85%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%87%20%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A7%9F%20%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%97%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%95%20%E0%A6%AA%E0%A6%9E%E0%A7%8D%E0%A6%9C%E0%A6%BF%3A%20%E0%A6%B8%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B9%20%E0%A6%86%E0%A6%B0%20%E0%A6%B6%E0%A6%82%E0%A6%95%E0%A6%BE" title="Facebook" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/facebook.png" width="16" height="16" alt="Facebook"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/yahoo_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F3507&amp;linkname=%E0%A6%85%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%87%20%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A7%9F%20%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%97%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%95%20%E0%A6%AA%E0%A6%9E%E0%A7%8D%E0%A6%9C%E0%A6%BF%3A%20%E0%A6%B8%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B9%20%E0%A6%86%E0%A6%B0%20%E0%A6%B6%E0%A6%82%E0%A6%95%E0%A6%BE" title="Yahoo Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/yahoo.png" width="16" height="16" alt="Yahoo Bookmarks"/></a> <a class="a2a_dd addtoany_share_save" href="http://www.addtoany.com/share_save?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F3507&amp;linkname=%E0%A6%85%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%87%20%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A7%9F%20%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%97%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%95%20%E0%A6%AA%E0%A6%9E%E0%A7%8D%E0%A6%9C%E0%A6%BF%3A%20%E0%A6%B8%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B9%20%E0%A6%86%E0%A6%B0%20%E0%A6%B6%E0%A6%82%E0%A6%95%E0%A6%BE"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/share_save_120_16.png" width="120" height="16" alt="Share/Bookmark"/></a>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/3507/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>4</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>বারাক ওবামার ধর্ম আর রক্ত-তেলচোরা সাদা সাহেবদের কেয়ামতের দিন</title>
		<link>http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/3471</link>
		<comments>http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/3471#comments</comments>
		<pubDate>Sun, 22 Aug 2010 15:50:01 +0000</pubDate>
		<dc:creator>সুশান্ত</dc:creator>
				<category><![CDATA[প্রবন্ধ]]></category>
		<category><![CDATA[রাজনীতি]]></category>
		<category><![CDATA[সমসাময়িক]]></category>
		<category><![CDATA[সমাজ]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://coffeehouseradda.com/?p=3471</guid>
		<description><![CDATA[<a href=http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/3471><img src=http://coffeehouseradda.com/files/2010/08/hero_immigrationspeech_PS-0109_20100701151916_640_480.JPG class=imgtfe hspace=5 align=left width=100  border=0></a>
               আমেরিকার আকাশ বাতাস এখন একটি মসজিদ নির্মাণের প্রশ্নে সরগরম। ঠিক মসজিদ নয়, ১১সেপ্টেম্বর, ২০০১এ ধ্বংশ প্রাপ্ত বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের নিচের তলার সামান্য কাছেই একটি ইসলামি কেন্দ্রের  নির্মাণের প্রস্তাবে রাষ্ট্রপতি ওবামা সমর্থণ জানিয়েছিলেন। যে কেন্দ্রে একটি মসজিদও থাকবে।  তাঁর [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><a href="http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/3471/hero_immigrationspeech_ps-0109_20100701151916_640_480" rel="attachment wp-att-3472"><img src="http://coffeehouseradda.com/files/2010/08/hero_immigrationspeech_PS-0109_20100701151916_640_480.JPG" alt="hero_immigrationspeech_PS-0109_20100701151916_640_480" width="615" height="346" class="alignleft size-full wp-image-3472" /></a><br />
               আমেরিকার আকাশ বাতাস এখন একটি মসজিদ নির্মাণের প্রশ্নে সরগরম। ঠিক মসজিদ নয়, ১১সেপ্টেম্বর, ২০০১এ ধ্বংশ প্রাপ্ত বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের নিচের তলার সামান্য কাছেই একটি ইসলামি কেন্দ্রের  নির্মাণের প্রস্তাবে রাষ্ট্রপতি ওবামা সমর্থণ জানিয়েছিলেন। যে কেন্দ্রে একটি মসজিদও থাকবে।  তাঁর বক্তব্য ছিল, এই দেশে মুসলমানদের অন্য সবার মতোই ধর্ম চর্চার সমান অধিকার রয়েছে। ব্যস! তাতেই চটে লাল আমেরিকা! এতো ভালো কথা সহ্য করতে তারা আর প্রস্তুত নয়। পরে তাঁকে একটু পিছিয়ে এসে বলতে হয়েছে, যারা সেই কেন্দ্র গড়তে চাইছেন তাদের উৎসাহিত করতে তিনি কিছু বলেন নি। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ন্যান্সি পেলসি বলেছেন, সংবিধান সব ধর্মের সমান অধিকার দিয়েছে বটে, কিন্তু একটি ধর্ম কেন্দ্র হবেটা কোথায় সেটি হবে একেবারেই স্থানীয় সিদ্ধান্ত।    প্রতিপক্ষ রিপাব্লিকানেরাও দ্বিচারিতার নিদর্শন রেখে মুসলমানেদের অধিকারকে নিয়ে প্রশ্ন তুলছে না। বরং উলটে ওবামাকেই ঝেড়ে কাশতে অনুরোধ করছে যাতে তাঁকে চেপে ধরতে সুবিধে হয়। রিপাব্লিকানদের হয়ে সবচে বেশি গলা উঁচু সেই মহিলা সারা পলিন্সের যিনি গেল নির্বাচনে উপরাষ্ট্রপতি পদে দাঁড়িয়ে উল্টপাল্টা মন্তব্য করে প্রচুর লোক হাসিয়েছেন, এবং এখন দুর্নীতির অভিযোগে হালে পানি পাচ্ছেন না। ইদানিং তিনি খুব ধর্মবাতিকগ্রস্থ হয়েছেন।</p>
<p>         <a href="http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/3471/kodorba" rel="attachment wp-att-3473"><img src="http://coffeehouseradda.com/files/2010/08/Kodorba.jpg" alt="Kodorba" width="625" height="375" class="alignright size-full wp-image-3473" /></a>          যারা এই ইসলামি কেন্দ্রটি গড়তে চাইছে তারা যে খুব ইসলামের বিজয় রথ ছোটাবার বাসনাতে কাজটি করছে তা কিন্তু নয়। তারা হচ্ছেন আমেরিকার সেই মুসলমান যারা  লাদেনের পাপকে ধুয়ে দেবার জন্যে মাঠে নেমেছেন। ইসলামে দানবীয়করণের বিরুদ্ধে গোটা বিশ্বকে একটা বার্তা দেয়াই তাদের উদ্দেশ্য ছিল। আর তাদের সঙ্গে যে শুধু মুসলমানেরাই রয়েছেন তাই নয়, রয়েছেন প্রচুর খৃষ্টান, এমনকি অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি যে তাদের সঙ্গে প্রচুর ইহুদীও রয়েছেন। যে সংগঠনটি এই ইসলামি কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিল তাদের নাম ‘কোরডোবা ইনিসিয়েটিভ’ (Cordoba initiative)। কোরডবা হচ্ছে স্পেনের এক বিখ্যাত প্রাচীন প্রাক-ধর্মযুদ্ধ  ইসলামি তীর্থক্ষেত্রে নাম। যায়গাটি তখন ইহুদি, খৃষ্টান , ইসলাম সহ নানা ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহবস্থানের জন্যে বিখ্যাত ছিল। সেখানে যে বিখ্যাত মসজিদটি ছিল ধর্মযুদ্ধের পরে সেটি এক খৃষ্টান চার্চে পরিণত হয়। আমরা সবাই জানি ধর্মযুদ্ধ খৃষ্টান চার্চগুলোর ধর্মীয় সহিষ্ণুতার সবচে’ কুখ্যাত নজির। সেই যুদ্ধ কেবল আরব উত্থানের পতন ঘটায় নি, গোটা ইউরোপকেও ঘনঅন্ধকারে ছেয়ে ফেলে। যাকে আমরা জেনে না জেনে ‘মধ্যযুগীয় বর্বরতা’ বলে চিহ্নিত করে থাকি। প্রায়শঃ এই পদগুচ্ছ অকারণে  ভারতের ইতিহাসেও প্রয়োগ করি। এহেন এক উদ্যোগকে যারা বাধা দিচ্ছেন আর ভাবছেন তাদেরকে  ধর্মকেন্দ্র গড়তে দিলে বিশ্ববাণিজ্য কেন্দ্রে নিহতদের অপমান করা হবে, তারা যে লাদেনবাহিনীর চে’ ভালো মানুষের দল নন, সেটি বুঝতে বুদ্ধি খাটাবার প্রয়োজন পড়ে না। বুদ্ধিমান অনেকেতো এও বলছেন ‘কোরডবাকে’ ধর্মকেন্দ্র গড়তে দিলে লাদেন সেটিকেও উড়িয়ে দেবেন। কিন্তু আপাতত লাদেনের খৃষ্টান প্রতিপক্ষরাই এর পথ আটকে তার কাজ কমিয়ে দিচ্ছেন । অথচ যে নিউইয়র্কে কেন্দ্রটি হবে, সেখানে প্রায় পাঁচ লক্ষ মুসলমান রয়েছেন আর রয়েছে অজস্র মসজিদ। তাতে এই আরেকটা যোগ হবে মাত্র। কিন্তু এক নতুন বার্তা নিয়ে। সেটি যারা হতে দিচ্ছেন না তারা স্পষ্টতই চাইছেন না ইসলাম তার পুরোনো গৌরবময় পরিচয় ফিরে পাক। পেলে যে মধ্য এশিয়াতে মার্কিনি তেলচোরাদের আসন্ন বিপদ!  </p>
<p>               ইতিমধ্যে নানা কারণে ওবামার  জনপ্রিয়তাতে ভাটা পড়েছে । সামনেই , নভেম্বরে সিনেটের কিছু আসনে মধ্যবর্তী নির্বাচন রয়েছে। তার আগে সে জনপ্রিয়তাতে আর ভাটা পড়ুক সেটি তিনি বা দল চাইছেন না। কিন্তু সম্ভবত আঁচড় যা পড়বার তা পড়ে গেছে। আমেরিকা জুড়ে ইসলাম বিরোধী প্রচার কিছু তো বেড়েইছে, সেই সঙ্গে এই বিশ্বাসও বেড়েছে যে ওবামা আসলে অন্তর থেকে একজন মুসলমানই। </p>
<p>                   জাতি রাষ্ট্র, ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে পশ্চিমী দেশগুলোর সাধারণত অহংকারে মাটিতে পা পড়েনা। ওদের থেকে পাঠ নিয়ে আমাদের দেশেও অনেকে আমাদের ধর্মনিরপেক্ষতার পাঠ নিতে বলেন। তার মধ্য , কিছু আগ মার্কা বামপন্থীও রয়েছেন। কিন্তু , আমেরিকার ঘটনাক্রম দেখে মনে হচ্ছে না কি যে ওরা আমাদের থেকে আর যাই হোক এ ব্যাপারে মোটেও বেশি সভ্য নয়! কল্পনা করুন যে মুম্বাইর হোটেল তাজের কাছে এক মসজিদ তৈরির  কথা বললেন, প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি আব্দুল কালাম , কিম্বা কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধি। কী প্রতিক্রিয়া হতে পারে, শিবসেনা, ভাজপারা কী বলতে পারে আমরা সহজেই  আঁচ করতে পারি।  আব্দুল কালামকে পাকিস্তান আর সোনিয়া গান্ধিকে ইতালি পাঠাবার ব্যবস্থা করে দিলেও অবাক হবার কিছু থাকবে না! দু’জনকেই তার পরে  সিদ্ধি বিনায়কের মন্দিরে গিয়ে মাথা ঠেকিয়ে প্রায়শ্চিত্ত করে আসতে হতো। আমেরিকার রাষ্ট্রপতিকেও ঠিক তেমনটাই করতে হয়েছে!</p>
<p>                         ইতিমধ্যে সরকারীভাবে ঘোষণা দিয়ে জানাতে হয়েছে যে রাষ্ট্রপতি ওবামা একজন নিষ্ঠাবান খৃষ্টান এবং রোজ প্রার্থণা করেন। ধর্মীয় উপদেষ্টার পরামর্শ না নিয়ে তিনি দিনের কোনো কাজই করেন না। তার জন্যে কেউ তাঁকে ধর্মান্ধ বা মৌলবাদি বলছে না!  তাঁর বাবা মুসলমান ছিলেন, তিনিও মুসলমান হতেই পারেন। এই সরল  কিম্বা জটিল বিশ্বাস থেকেও এই ক’দিন আগও কিছু মানুষ তাঁকে মুসলমান বলে ভাবতেন। সম্প্রতি নানা কারণে এমন বিশ্বাস করবার লোক বেড়ে গেছিল।  ওই মন্তব্যের দিন কতক আগেই পিউ গবেষণা কেন্দ্র বলে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমীক্ষা দেখিয়েছিল ওবামাকে মুসলমান বলে মনে করবার মত লোক ১১ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ২০ শতাংশ । প্রতি পাঁচজন মার্কিনিদের মধ্যে একজন ভাবছেন ওবামা একজন মুসলমান । ঐ মন্তব্যের পর আগষ্টের মাঝামাঝি টাইমস মেগাজিন আরেকটি সমীক্ষা চালায়। তাতে সেই পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ২৪ শতাংশ। তারা ভাবছেন ওবামা একজন মুসলমান তাই ওমন কথা বলেছেন। তিনি যে  একজন সৎ মানবতাবাদির অবস্থান থেকে কথাটা বলতে পারেন এই সহজ সত্য ওদের সাদা চামড়াতে ঢাকা উন্নত মস্তকে কিছুতেই ঢুকতে চাইছে না । ৪৭ শতাংশ লোক অবশ্যি সেরকম ভাবছেন না, কিন্তু তাতে ওবামা আশ্বস্ত  হলেও আমাদের হবার কোনো কারণ নেই। কারণ তাঁরা এই ভেবে তুষ্ট যে তিনি একজন নিষ্ঠাবান খৃষ্টান। মাত্র ২৪ শতাংশ এ নিয়ে কোনো মত জানান নি।</p>
<p>                           ওই যারা মত দেননি তাদের সংখ্যার থেকে অল্প কিছু বেশি লোক বিশ্ব বানিজ্য কেন্দ্রের সামনে ইস্লামিক কেন্দ্রটি গড়বার পক্ষে মত দিয়েছেন। তাদের সংখ্যা ২৬ শতাংশ।  তাদের কেউ কেউ সেই অধিকারের পক্ষে লড়াই চালাবার সাহসও গুটিয়ে নিয়েছেন। এবং বাণিজ্য কেন্দ্রের সামনে গিয়ে ধর্ণাও দিচ্ছেন। এর মধ্য অভিশপ্ত সেপ্তেম্বরে নিহত আহতদের পরিবারের অনেকেও রয়েছেন, যারা মনে করেন ঘৃণা কখনো ঘৃণার নিদান হতে পারে না। তাদের সংগঠনটির নাম “September 11th Families for Peaceful Tomorrows” । তারা এও এই বলে সভ্যতার চরম নিদর্শন উপস্থিত করছেন, “What better place for healing, reconciliation and understanding than Ground Zero? We honor our family members by practicing American principles and moving forward from Ground Zero to a future of peaceful coexist”</p>
<p>                           পিউ গবেষণা কেন্দ্রটি যে সমীক্ষা চালিয়েছিল তাতে মার্কিনি রাজনীতিতে ধর্মের ভূমিকা নিয়ে কিছু মজার তথ্য বেরিয়ে এসছে। বিতর্কিত মন্তব্যটি করাবার আগেই যে কিছু লোক ওবামাকে মুসলমান বলে ঠাউরেছিল তার কারণটি কিন্তু আর কিছু নয়, তিনি তার আগেকার রাষ্ট্রপতিদের থেকে ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলোতে কম হাজিরা দিচ্ছেন। এর মানে, এখনো সে দেশে এক রাষ্ট্রপতির কাছে ধর্মের, তাও সংখ্যাগরিষ্ঠের ধর্মের, থেকে দূরে সরে থাকাটা ভারতীয় উপমহাদেশগুলোর যেকোনো  দেশের মতোই খুব একটা নিরাপদ নয়। এখনো ৪৮ শতাংশ মার্কিনি  লোক মনে করেন রাষ্ট্রকে ধর্মের থেকে দূরে সরে থাকা উচিত নয়। এই সংখ্যাটা  ১৯৯৬ থেকে ২০০৬ এর আগের দশক থেকে সামান্য কমেছে মাত্র! </p>
<p>                   অনেক ভারতীয় কালো সাহেবেরাও মসজিদ নির্মাণ নিয়ে করা ওবামার মন্তব্যকে ভালো চোখে দেখেন নি। তাঁরাও ইসলামী আতঙ্ককে বিশ্বের সবচে বড় বিপদ হিসেবে দেখেন, এবং কোনো মুসলমান ধর্ম কেন্দ্রকে বিশ্বাস করতে পারেন না। আজকাল যে আমেরিকা আর ইউরোপের দেশে দেশে ইসলামের বিরুদ্ধে প্রচার ও ব্যবস্থা নেবার প্রবণতা বেড়েছে তাতে তাঁরা খুব হ্লাদিত। তাঁদের ধারণা, এর ফলে পৃথিবী ইসলামী সন্ত্রাসবাদ নামের ‘দানবীয়’ বিপদ থেকে মুক্ত হবে। তাঁদের সাহেব প্রীতিতে অন্ধচোখ দেখেও না যে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থাতে কিছু মৌলবাদি যদি তিন হাজার লোককে মেরেছিল, যারা মৌলবাদি নয় বলে বড়াই করে সেই সাহেবদের, পশ্চিমী দেশগুলো সেই বাহানা নিয়ে আফগানিস্তান নামের দেশটির  ভেতরে ঢুকে আজ প্রায় একটি দশক জুড়ে ঘাটি গেড়ে বসে মেরেছে তার থেকে বহুগুণ বেশি সাধারণ নিরীহ মানুষ । বছরে সেই সংখ্যা হাজার ছাড়ায়। তারা জোর করে বা ভয় দেখিয়ে সামরিক ঘাটি করে বসে আছে  মধ্য এশিয়ার প্রায় সমস্ত দেশে। কোনো এক সুদূর আশির দশকের শুরুতে পৌনে দু’শো কুর্দ নাগরিককে মারবার অপরাধে যারা সাদ্দামকে বিচারের প্রহশনে বসিয়ে মেরে ফেললে, তারা এই সাত বছরে মেরেছে ১ লক্ষ ৬১ হাজারেরো বেশি ইরাকি মানুষ। সাদা কিম্বা কালো কোন সাহেবদের চোখেই এই মৃত্যু কোনো আতঙ্কের ব্যাপারই নয়! মধ্য এশিয়ার  দেশগুলোর দখলদারি নিয়ে মাঝে মাঝে নিজেদের মধ্যেও মারামারি করে ওই সাহেবেরা। কারণতো একটাই মাটির তলার তেল সাবাড় করো আর যুদ্ধের বাজার ছড়িয়ে চলো।  </p>
<p>         <a href="http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/3471/ground0rally" rel="attachment wp-att-3474"><img src="http://coffeehouseradda.com/files/2010/08/ground0rally.jpg" alt="ground0rally" width="750" height="438" class="alignleft size-full wp-image-3474" /></a>             ফ্লরিডার  ডোভ ওয়ার্ল্ড আউটরিচ সেন্টার বলে এক খৃষ্টীয় চার্চ আগামী ১১ সেপ্টেম্বর তারিখে ওই বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের সামনে কোরান পোড়াবে বলে হুমকি দিয়ে রেখেছে। তারা সেই দিনটির নাম দিয়েছে ‘কোরান পোড়ানোর দিন’।  কার্ল মার্ক্সের মতো নিন্দিত নাস্তিক জানতেন যে যিশু খৃষ্টের মতো কোনো ঐতিহাসিক চরিত্র ছিলেন না। তারপরেও ওই কাল্পনিক ভদ্রলোকটির প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার অন্ত ছিলনা। এই তথ্য বহু মার্ক্স বিরোধীতায় অন্ধদের কিম্বা অন্ধ মার্ক্সবাদি নাস্তিকদের জানা নেই। তাঁর মতে খৃষ্টীয় ষষ্ঠ শতক অব্দি খৃষ্ট ধর্মই ছিল রোমান সভ্যতার সমাজবাদ! সেই খৃষ্ট ধর্মের দৃষ্টান্ত স্থাপন করবার মতো লোক সংখ্যাতে নগন্য হলেও অভাব নেই। The Christian Science Monitor বলে একটি বৈদ্যুতিন কাগজে ডান মারফি  লিখেছেনঃ   The increasingly acrimonious debate over the construction of the so-called Ground Zero mosque in Manhattan, about two blocks away from the World Trade Center towers that were destroyed by Al Qaeda on Sept. 11, 2001, echoes similar debates in Europe and could, if the rhetoric becomes commonplace, have broad and negative ramifications for the integration of America&#8217;s growing Muslim population । </p>
<p>                      এই সহজ বুদ্ধির লোকের সংখ্যা কমে গেছে আজকের মার্কিনি সাম্রাজ্যবাদিদের শাসিত এবং অনুগত বিশ্বে। বিপদ এইখানেই মারাত্মক। ওবামা এই সহজ বুদ্ধির থেকেই কথাগুলো বলেছিলেন। কিন্তু, তিনিও এই ব্যবস্থার দাস, তাই তাঁকে আপাতত পেছনে হাঁটতেই হলো। কিন্তু তর্কের যে ঢেঊ উঠল তা, ধর্ম এবং রাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে গোটা পৃথিবীকে আরো একবার কাঁপাবে। আমাদের দেশের ধর্ম নিরপেক্ষতা নিয়ে যারা বেশ গৌরবান্বিত, তাদের কথা নাহয় বাদই দিলাম, ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে গিয়ে যারা ইঊরোপের জাতিরাষ্ট্রগুলোর নজির দিয়ে ভাষা নির্ভর জাতীয়তাবাদের পক্ষে ওকালতি করেন, তাঁরাও তাঁদের তত্বর বিশুদ্ধতা আর  ফাঁকির যায়গাগুলো নিয়ে আরেকবার ভাবতে শুরু করলে আমরা ভবিষ্যত নিয়ে আশান্বিত হতে পারি। বস্তুত ওবামার এই ঘোষণা জাতি রাষ্ট্রের বিশুদ্ধতার সমস্ত ধারণাকে নস্যাৎ করে দিয়ে দিয়েছে।  </p>
<p>                  আপাতত নইলে ‘কোরান পোড়াবার দিন’ পালিত হোক।ওদের ক্ষমতা আছে পালন করবে, কে ঠেকাবে!  কিন্তু সেদিন আসবে খুব শীঘ্রই, যেদিন ঐ  তেল আর রক্তচোরা সাদা সাহেবদের কেয়ামতের দিন  পালিত হবে গোটা বিশ্ব, মায় আমেরিকাতেও। সেই অপেক্ষাতে আমাদের কাটবে আরো কিছু দিন, হয়তো কয়েকটি বছর কিম্বা দশক। কিন্তু আসবে , সে নিশ্চিত ! </p>
<a href="http://www.addtoany.com/add_to/google_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F3471&amp;linkname=%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%95%20%E0%A6%93%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%E0%A6%A7%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE%20%E0%A6%86%E0%A6%B0%20%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4-%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A6%9A%E0%A7%8B%E0%A6%B0%E0%A6%BE%20%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A6%BE%20%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A7%87%E0%A6%AC%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%A8" title="Google Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/google.png" width="16" height="16" alt="Google Bookmarks"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/orkut?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F3471&amp;linkname=%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%95%20%E0%A6%93%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%E0%A6%A7%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE%20%E0%A6%86%E0%A6%B0%20%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4-%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A6%9A%E0%A7%8B%E0%A6%B0%E0%A6%BE%20%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A6%BE%20%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A7%87%E0%A6%AC%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%A8" title="Orkut" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/orkut.png" width="16" height="16" alt="Orkut"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/twitter?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F3471&amp;linkname=%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%95%20%E0%A6%93%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%E0%A6%A7%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE%20%E0%A6%86%E0%A6%B0%20%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4-%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A6%9A%E0%A7%8B%E0%A6%B0%E0%A6%BE%20%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A6%BE%20%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A7%87%E0%A6%AC%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%A8" title="Twitter" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/twitter.png" width="16" height="16" alt="Twitter"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/facebook?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F3471&amp;linkname=%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%95%20%E0%A6%93%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%E0%A6%A7%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE%20%E0%A6%86%E0%A6%B0%20%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4-%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A6%9A%E0%A7%8B%E0%A6%B0%E0%A6%BE%20%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A6%BE%20%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A7%87%E0%A6%AC%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%A8" title="Facebook" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/facebook.png" width="16" height="16" alt="Facebook"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/yahoo_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F3471&amp;linkname=%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%95%20%E0%A6%93%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%E0%A6%A7%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE%20%E0%A6%86%E0%A6%B0%20%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4-%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A6%9A%E0%A7%8B%E0%A6%B0%E0%A6%BE%20%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A6%BE%20%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A7%87%E0%A6%AC%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%A8" title="Yahoo Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/yahoo.png" width="16" height="16" alt="Yahoo Bookmarks"/></a> <a class="a2a_dd addtoany_share_save" href="http://www.addtoany.com/share_save?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F3471&amp;linkname=%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%95%20%E0%A6%93%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%E0%A6%A7%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE%20%E0%A6%86%E0%A6%B0%20%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4-%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A6%9A%E0%A7%8B%E0%A6%B0%E0%A6%BE%20%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A6%BE%20%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A7%87%E0%A6%AC%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%A8"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/share_save_120_16.png" width="120" height="16" alt="Share/Bookmark"/></a>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/3471/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>4</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>এলোমেলো কিছু স্বাধীন চিন্তা</title>
		<link>http://coffeehouseradda.com/blog/abhra/3433</link>
		<comments>http://coffeehouseradda.com/blog/abhra/3433#comments</comments>
		<pubDate>Sat, 14 Aug 2010 13:34:39 +0000</pubDate>
		<dc:creator>অভ্র</dc:creator>
				<category><![CDATA[অর্থনীতি]]></category>
		<category><![CDATA[প্রবন্ধ]]></category>
		<category><![CDATA[রাজনীতি]]></category>
		<category><![CDATA[সমসাময়িক]]></category>
		<category><![CDATA[সমাজ]]></category>
		<category><![CDATA[ভারতের স্বাধীনতা দিবস]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://coffeehouseradda.com/?p=3433</guid>
		<description><![CDATA[<a href=http://coffeehouseradda.com/blog/abhra/3433><img src=http://www.amazingindia.net/wp-content/uploads/2010/03/the-proud-indian-flag-1.jpg class=imgtfe hspace=5 align=left width=100  border=0></a>
আজকে ২০১০ সালের ১৪-ই অগস্ট। সুখের কথা দিনটা শনিবার। হাতে তেমন কোন বড় কাজ নেই। বাইরে হালকা মেঘ, কম আলো। বেরিয়ে কোথাও যাওয়ার উপায় নেই। দেশ থেকে কয়েক হাজার মাইল দূরে। সমাজ, পরিবার সবকিছুর প্রতি দায়দাইত্ত্ব এড়িয়ে এক অদ্ভূত স্বার্থপরতার জীবন যাপন করছি পরবাসে। এইসময় একটি ব্লগ পোস্ট নজরে এল &#8211; স্বাধীনতা দিবস নিয়ে। অন্যান্য [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><img class="aligncenter" src="http://www.amazingindia.net/wp-content/uploads/2010/03/the-proud-indian-flag-1.jpg" alt="" width="523" height="429" /></p>
<p>আজকে ২০১০ সালের ১৪-ই অগস্ট। সুখের কথা দিনটা শনিবার। হাতে তেমন কোন বড় কাজ নেই। বাইরে হালকা মেঘ, কম আলো। বেরিয়ে কোথাও যাওয়ার উপায় নেই। দেশ থেকে কয়েক হাজার মাইল দূরে। সমাজ, পরিবার সবকিছুর প্রতি দায়দাইত্ত্ব এড়িয়ে এক অদ্ভূত স্বার্থপরতার জীবন যাপন করছি পরবাসে। এইসময় একটি ব্লগ পোস্ট নজরে এল &#8211; স্বাধীনতা দিবস নিয়ে। অন্যান্য কোনদিন হলে কি হত বলা যায় না, কারন রোজকার হাজার ফন্দিফিকিরে দেশ ও স্বাধীনতার চিন্তা কোন ঢেউ তুলতে পারত কিনা জানি না, তবে আজ হঠাৎ করেই কিছু কথা হুড়মুড় করে এসে ভিড় জমাল মাথার মধ্যে। কিছু নতুন, কিছু পুরোন। সবটাই হয়তো প্রাসঙ্গিক নাও হতে পারে। তবু মনে হল সবকিছু মনের মধ্যে জমিয়ে রেখে কি হবে? কাল নয় পরশু সেসব তো আবার চাপা পড়েই যাবে। তাই সেসব যতটা পারি গুছিয়ে লেখার চেষ্টা করছি। কারো অসম্মান করার কোন ইচ্ছে  বিন্দুমাত্র নেই। লিখছি শুধুমাত্র একটি মুক্ত আলোচনা হিসেবে।</p>
<p>স্বাধীনতা দিবস পালন করার একটা বাঁধাধরা উৎসবরীতি আছে আমাদের। দেশের জন্য যাঁরা প্রান দিয়ে স্বাধীনতা এনেছেন তাঁদের প্রতি শ্বদ্ধা অর্পন করা, তাঁদের জীবনী ও অসামান্য স্বার্থত্যাগের কাহিনী আরেকবার ঝালিয়ে নেওয়া, কিছু দেশাত্তবোধক গান শোনা, ফ্ল্যাগ ওড়ান আর তা না হলে ছোট ছোট ফ্ল্যাগ কিনে সঙ্গে রাখা  এইসব। গত বছর একটা অন্যধরনের ঘটনা ঘটে। ১৪ই আগস্ট ছিল এক বন্ধুর বাড়িতে পার্টি। সেখানে রাত বারোটা বাজার পর এক বন্ধুপত্নী আবদার জানালেন যে &#8211; বারোটা বেজে গেছে, এস আমরা সবাই মিলে জাতীয় সঙ্গীত গাই। যেমন কথা তেমন কাজ। সবাই মিলে দাঁড়িয়ে গান গাইলাম। ব্যস। ঐটুকুই। কেন জানিনা, বারবারই মনে হয়েছে যে আমাদের এই প্রচলিত উৎসবরীতি থেকে বেরিয়ে এসে অন্ততঃ এই দিনটায় একটু অন্যরকম চিন্তা করা উচিত।</p>
<p>স্বাধীনতা ও স্বার্থত্যাগের কাহিনীগুলো ক্রমশ অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাচ্ছে মানুষের কাছে। যে বীর সৈনিকরা প্রান দিলেন, তাঁদের স্মরন করার জন্য দুটো গান শোনাই কি যথেষ্ট? আজকের দুনিয়ায় কজন স্বার্থত্যাগ করেন যে এই ত্যাগের মহিমা বুঝবেন? যাঁরা প্রান দিয়েছিলেন, তাঁরা কেন প্রান দিলেন? কিসের আসায় এতটুকু সুখ আরামের কথা ভুলে পথে নামলেন? কি ছিল সেই স্বপ্ন এই প্রশ্নগুলো কি আমরা নিজেদের করি একবারও? আমি তো করি না। কারন আমি জানি আমি পারব না। কিন্তু আমার মনে হয় আজ এই প্রশ্নটা নিজেদের করার খুব প্রয়োজন আছে। পাঁচ মিনিটের জন্য ঐ রাস্তার মোড়ে মোড়ে বিক্রি হওয়া একটা প্লাস্টিকের ফ্ল্যাগ নিয়ে নাড়াচাড়া করবার সময়ে হলেও। তা না হলে আস্তে আস্তে ইতিহাসে যে ব্যখ্যা আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে পৌঁছবে তা স্বাধীনতার আলো কতটুকু থাকবে সন্দেহ আছে।</p>
<p>একটু একটু অন্য কথায় আসি এবার। আমাদের মানসিকতা ও জীবনদর্শনের অনেকটা তৈরী হয় ছাত্রজীবনে। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষার কয়েকটা বছরে। মাটি নরম। অনেক রকম ছাপ পড়ে সেখানে। বলাই বাহুল্য আমারও পড়েছে। তবে আমার ক্ষেত্রে অনেকগুলো বছর ছিল দ্বন্দ্ব ও সংশয়ের সময়। সেটা কাটতে সময় লেগেছে। এখনকার ছাত্রদের মানসিকতা তুলে ধরাটা খুব কঠিন কিছু কাজ না। প্রচন্ড প্রতিদ্বন্দীতা, প্রচন্ড উচ্চাকাঙ্খা। কিসের জন্য? জীবনে প্রতিষ্ঠা। একটি অনু পরিবারের প্রতিষ্ঠা যেখানে নিজস্ব সুখের সাথে কোন আপোষ করার প্রয়োজন নেই। মোটামুটিভাবে আমরা এই পথেই যাচ্ছি। উচ্চাকাঙ্খা এমন এক দুর্বার আকর্ষন যা কিন্তু সময়ের সাথে একটুও কমছে না। প্রতি মুহুর্তে কাজ করছে কিভাবে সিঁড়িভাঙ্গার অঙ্কটাকে একটু সহজ করে নেওয়া যাবে। সেটা দূষনীয় কিনা জানি না।  তবে আমার মনে হয় স্বাধীনতা দিবসের পালন করার সময় উচ্চাকাঙ্খার সাথে কয়েনের উলটো পিঠটাও দেখে নেওয়া উচিত।</p>
<p>এই প্রসঙ্গে দুজন মানুষের কথা উল্লেখ করব, যাদের বিশ্লেষন আমাকে খুবই চমৎকৃত করেছে। আশ্চর্যের বিষয় আসামের সঙ্গে দুজনেরই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। একজন আমার কলেজের খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু বিশ্বজিত ভুঁইয়া এবং অন্যজন তিনসুকিয়া কলেজের অধ্যাপক সুশান্ত কর। সুশান্তদার সাথে আমার ব্যক্তিগত আলাপ নেই। যেটুকু পরিচিতি তা এই ইন্টারনেট জগতে এবং ব্লগের মাধ্যমেই। বিশ্ব আর আমি মাঝে মাঝে অদ্ভূত আলোচনার তোড়ে হারিয়ে যেতাম। ওর জীবনদর্শন আমাকে খুব সহজে প্রভাবিত করত। বিশেষ করে মূল্যবোধের ব্যখ্যাটা ছিল দারুন। ও বলতে চাইত, কোনটা ভাল কোনটা খারাপ এটা বড়রা ছোটোদের কেন বলবে? সবাই সবকিছু খোলাখুলিভাব জেনে ঠিক করবে কোনটা ভাল আর কোনটা নয়। ধরাবাঁধা নিয়মে বড় হয়েছি বলে সেসব শুনতে ভালই লাগত।</p>
<p>একদিন চা খেতে খেতে সে আমায় বলে, ‘আমার মনে হয় আমাদের প্রত্যেকের আমাদের দেশের জন্য কিছু করা উচিত।’</p>
<p>আমি বললাম, ‘কি?’।</p>
<p>তো সে একটুও না চমকে বললে, ‘বেশি কিছু না। আমাদের দেশের একটা প্রজন্মকে একটু ত্যাগ করতে হবে। ডলারের লোভে পা না দিয়ে দেশের মধ্যেই থাকতে হবে। আমাদের যে প্রচন্ড গনশক্তি আছে, তাহলে তা কাজে লাগবে’</p>
<p>আমি পরে এই কথাগুলো অনেক ভেবেছি। এমন নয় যে আজ আমি নিজে বিদেশে বসে এই কথাগুলো ভাবছি। বোঝার চেষ্টা করেছি একটা সমষ্টিগত চিন্তাকে। প্রবাসে আমি তথাকথিত প্রবাসীদের সাথে নিজেকে মেলাতে পারিনি। ছোট্ট একটা উদাহরন দিই। গতবছর কালীপূজোর সময় একটি জমায়েতে বিদেশে সদ্য আগত এক গৃহবধূকে খুব গর্ব করে বলতে শুনেছি, ‘না না ওর চাকরি এমন না যে বছর গোরার আগেই দেশে ফিরতে হবে। আমরা এখন এখানেই থাকব। পরিষ্কার দেশ, সুন্দর রাস্তাঘাট, ছবির মত সব। কে এখন দেশে ফিরবে’ । শুনেছি, আর বোঝার চেষ্টা করেছি এমন কেন? কেন আমরা পরবাসের হাতছানি ভুলতে পারব না?  মনে করে নিয়েছিলাম এ হচ্ছে বিশ্বায়নের প্রভাব। কিন্তু সুশান্তদা আমার চোখ খুলে দিলেন। একদিন কথাপ্রসঙ্গে বললেন, ‘বিশ্বায়নটা তো ঔপনিবেশিকতার সম্প্রসারনই। নয়া উপনিবেশবাদ। ঔপনিবেশিকদের বিশ্বায়ন। প্রতিবেশিদের অপসারণ! পাশের দেশের সঙ্গে শত্রুতা করো। বন্ধুত্ব করো সাগর পারের দূর ধনী দেশের সঙ্গে । যার ধন আবার তোমাকে আমাকে লুটেই। আমারও ইংরেজির প্রতি বিদ্বেষ নেই। কিন্তু ঔপনিবেশিক মন শেখায় অন্য সব উপনিবেশের ভাষা সংস্কৃতিকে ঘৃণা করতে শেখো, চাই কি নিজেরটাকেও!’</p>
<p>বিশ্বের ইতিহাসটা না জানলে বোঝা যাবেনা আজকের দুনিয়ার অর্থনীতিকেও। আমার মনে হয় স্বাধীনতা দিবসে গ্রুপ থিঙ্কিং-এর বশবর্তী না হয়ে একটু স্বাধীনভাবে ভাবা উচিত আমাদের। খুলে দেওয়া উচিত মনের জানলাগুলো। নিজেকে প্রশ্ন করা উচিত, ‘যা জানি তাই কি ঠিক? এরা আমাদের ও আমাদের মত অনেক দেশের সম্পদ লুটে নিয়ে যে অপরিসীম ইকোনমিক রিসার্ভ বানিয়েছে, আমাদের কি তার প্রতি মাথা নীচু করে স্যালুট করা উচিত? আত্মবিস্মৃতির পথে একটু একটু করে হেঁটে যাওয়া উচিত?’</p>
<p>লেখার শেষপর্বে চলে এসেছি। সাধারনতঃ এই সময় আমরা স্বাধীনতার ষাট বছরে আমাদের সাফল্য ব্যর্থতার দিকগুলো আলোচনা করে থাকি। অর্থনৈতিক উন্নতি কিছুটা হয়েছে সে বিষয়ে সন্দেহ নেই। কিন্তু উন্নতির আলো আজও সবদিকে সমানভাবে পৌঁছতে পারল না। সেই দিকগুলো আমরা কি আবার ভেবে দেখবো না? ছোট থেকে আমার বাবা গভীর খেদের সঙ্গে একটা কথা বলতেন, ‘আমাদের দেশে গনতন্ত্র সফল হল না। দেশের অশিক্ষিত মানুষ কাকে ভোট দেয় কিছু এসে যায় না। যারা নিজের ভাল মন্দ বোঝেনা তাদের ভোটেরই বা কি দাম?’ আমি বিষয়টা খুব একটা ভাল বুঝতাম না। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে উপলব্ধি বদলেছে। যখনই একটি অজ্ঞানতার স্তর পের হয়েছি, তখনই মনে হয়েছে আরো কত কি জানা বাকী। তাহলে যে মানুষজন নাইট স্কুলে পড়ে কোনরকমে সই করতে শিখে ভোটিং মেশিনের বোতামটা টিপছেন, তিনি কতটুকু অজ্ঞানতার স্তর পেরিয়ে আসতে পেরেছেন? তিনি তো অসহায়। অশিক্ষিত মানুষের অভিমান নিয়ে নাড়াচাড়া করা তো খুবই সহজ আর তার সদব্যবহার আজও অবলীলাক্রমের করে চলেছেন মুষ্টিমেয় লোভী মানুষ। এই অন্ধকার থেকে মুক্তি পাব কবে? এই প্রশ্নগুলো অন্যদের করে যদি উত্তর না পাই, তাহলে করবো কাকে? নিজেকে? কখন? স্বাধীনতা দিবসের আগে? ব্লগপোস্টে?</p>
<a href="http://www.addtoany.com/add_to/google_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fabhra%2F3433&amp;linkname=%E0%A6%8F%E0%A6%B2%E0%A7%8B%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A7%8B%20%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%9B%E0%A7%81%20%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A7%E0%A7%80%E0%A6%A8%20%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE" title="Google Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/google.png" width="16" height="16" alt="Google Bookmarks"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/orkut?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fabhra%2F3433&amp;linkname=%E0%A6%8F%E0%A6%B2%E0%A7%8B%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A7%8B%20%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%9B%E0%A7%81%20%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A7%E0%A7%80%E0%A6%A8%20%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE" title="Orkut" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/orkut.png" width="16" height="16" alt="Orkut"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/twitter?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fabhra%2F3433&amp;linkname=%E0%A6%8F%E0%A6%B2%E0%A7%8B%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A7%8B%20%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%9B%E0%A7%81%20%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A7%E0%A7%80%E0%A6%A8%20%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE" title="Twitter" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/twitter.png" width="16" height="16" alt="Twitter"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/facebook?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fabhra%2F3433&amp;linkname=%E0%A6%8F%E0%A6%B2%E0%A7%8B%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A7%8B%20%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%9B%E0%A7%81%20%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A7%E0%A7%80%E0%A6%A8%20%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE" title="Facebook" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/facebook.png" width="16" height="16" alt="Facebook"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/yahoo_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fabhra%2F3433&amp;linkname=%E0%A6%8F%E0%A6%B2%E0%A7%8B%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A7%8B%20%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%9B%E0%A7%81%20%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A7%E0%A7%80%E0%A6%A8%20%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE" title="Yahoo Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/yahoo.png" width="16" height="16" alt="Yahoo Bookmarks"/></a> <a class="a2a_dd addtoany_share_save" href="http://www.addtoany.com/share_save?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fabhra%2F3433&amp;linkname=%E0%A6%8F%E0%A6%B2%E0%A7%8B%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A7%8B%20%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%9B%E0%A7%81%20%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A7%E0%A7%80%E0%A6%A8%20%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/share_save_120_16.png" width="120" height="16" alt="Share/Bookmark"/></a>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://coffeehouseradda.com/blog/abhra/3433/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>6</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>পরিবর্তন</title>
		<link>http://coffeehouseradda.com/blog/kallollahiri/2933</link>
		<comments>http://coffeehouseradda.com/blog/kallollahiri/2933#comments</comments>
		<pubDate>Sat, 29 May 2010 05:56:21 +0000</pubDate>
		<dc:creator>কল্লোল</dc:creator>
				<category><![CDATA[রাজনীতি]]></category>
		<category><![CDATA[সমাজ]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://coffeehouseradda.com/?p=2933</guid>
		<description><![CDATA[<a href=http://coffeehouseradda.com/blog/kallollahiri/2933><img src=http://2.bp.blogspot.com/_LDONQv14whA/TACmzxhkdoI/AAAAAAAABOU/3_608nH1d68/s320/C-8.jpg class=imgtfe hspace=5 align=left width=100  border=0></a>পরিবর্তন

এই ট্রেনের কামরায় আমি বা আপনি থাকতে পারতাম।
এই ট্রেনের কামরায় থাকতে পারতো আমার কোনো সুজন।
আমার মা, পরিবার, আমার ভবিষ্যত&#8230;।
আমি এই মুহূর্তে নিশ্চিন্ত।
এই ট্রেনে আমার কেউ নেই&#8230;।
কাছের&#8230;দূরের&#8230;আপতকালীন খানা-তল্লাশীর পরেও না।
আমি আবার পরম শান্তিতে&#8230;আমি আবার চায়ের কাপে চুমুক&#8230;
আমার সামনে শতাধিক মৃত দেহের স্তুপ&#8230;তাদের গা থেকে সদ্য সকালের
আনকোরা ছাপা কালীর গন্ধ&#8230;।

আমি নিরুত্তাপ উতসাহী&#8230; কারণ আমার ভাইঝি শাম্মি বা [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><span style="font-size: large">পরিবর্তন</span></p>
<div style="clear: both;text-align: center"><a href="http://2.bp.blogspot.com/_LDONQv14whA/TACmzxhkdoI/AAAAAAAABOU/3_608nH1d68/s1600/C-8.jpg"><img src="http://2.bp.blogspot.com/_LDONQv14whA/TACmzxhkdoI/AAAAAAAABOU/3_608nH1d68/s320/C-8.jpg" border="0" alt="" /></a></div>
<p><span style="font-size: large">এই ট্রেনের কামরায় আমি বা আপনি থাকতে পারতাম।<br />
এই ট্রেনের কামরায় থাকতে পারতো আমার কোনো সুজন।<br />
আমার মা, পরিবার, আমার ভবিষ্যত&#8230;।<br />
আমি এই মুহূর্তে নিশ্চিন্ত।<br />
এই ট্রেনে আমার কেউ নেই&#8230;।<br />
কাছের&#8230;দূরের&#8230;আপতকালীন খানা-তল্লাশীর পরেও না।<br />
আমি আবার পরম শান্তিতে&#8230;আমি আবার চায়ের কাপে চুমুক&#8230;<br />
আমার সামনে শতাধিক মৃত দেহের স্তুপ&#8230;তাদের গা থেকে সদ্য সকালের<br />
আনকোরা ছাপা কালীর গন্ধ&#8230;।</span></p>
<div style="clear: both;text-align: center"><a href="http://3.bp.blogspot.com/_LDONQv14whA/TACnom6yaoI/AAAAAAAABOg/jRSl_x_RYQQ/s1600/C-6.jpg"><img src="http://3.bp.blogspot.com/_LDONQv14whA/TACnom6yaoI/AAAAAAAABOg/jRSl_x_RYQQ/s320/C-6.jpg" border="0" alt="" /></a></div>
<p><span style="font-size: large">আমি নিরুত্তাপ উতসাহী&#8230; কারণ আমার ভাইঝি শাম্মি বা শিরিন নয়&#8230;।<br />
এই তো এই মাত্র আমার সামনে তারা&#8230;কেমন ভাবে নুইয়ে পড়েছে দেহ&#8230;<br />
কেমন ভাবে হেলে আছে তার ঘাড়&#8230;ছোট্ট ছোট্ট হাত গুলো ঝুলছে &#8230;<br />
কোলে ওঠার তেমন ইচ্ছে নেই তাদের&#8230;<br />
নেই হৃদ-স্পন্দের এতটুকু লক্ষণ&#8230;।</span></p>
<div style="clear: both;text-align: center"><a href="http://1.bp.blogspot.com/_LDONQv14whA/TACoLDA6u7I/AAAAAAAABOs/xt2qmp2jlSs/s1600/C-2.jpg"><img src="http://1.bp.blogspot.com/_LDONQv14whA/TACoLDA6u7I/AAAAAAAABOs/xt2qmp2jlSs/s320/C-2.jpg" border="0" alt="" /></a></div>
<p><span style="font-size: large">আমি বেশ সুখে আছি জানেন&#8230;<br />
আমার বাড়ি জঙ্গল মহলে নয়&#8230;।<br />
আমাকে রোজ সকালে পাঁচ দিনের বাসি ভুট্টা পচা (জুনার ভাটা) খেতে হয় না&#8230;<br />
বাবুই ঘাসের দড়ি নিয়ে মহাজন বা দালাল আমার রক্ত চোষে না&#8230;<br />
কেন্দু পাতা তুলতে গিয়ে ল্যান্ড মাইনে উড়ে যায় না আমার দিদির একটা হাত&#8230;<br />
আমার ঠাকুমা বাঁশের একটা ঝাঁটা তৈরীর পর,  মাত্র চারটে টাকা পাওয়ার বিনিময়ে<br />
আকুল নয়নে  বাড়িয়ে দেয় না হাত।<br />
আমার বাবা গাঁয়ের স্কুলের শিক্ষক নন&#8230;<br />
বোনকে বাবার ক্ষত বিক্ষত দেহের পাশে বসে বাইট দিতে হয় না&#8230;<br />
লিখতে হয় না, <strong>“আজ থেকে আমরা সিপিএম নই”</strong>।<br />
আমার দাদা শিলদায় মারা যায় নি&#8230;<br />
ছোট্ট থেকে শুনতে হয়নি পুলিশ আসলে চোর&#8230;।</span></p>
<div style="clear: both;text-align: center"><span style="font-size: large"><a href="http://4.bp.blogspot.com/_LDONQv14whA/TACpQFjBTSI/AAAAAAAABO4/J5hoM7BqoFI/s1600/C-7.jpg"><img src="http://4.bp.blogspot.com/_LDONQv14whA/TACpQFjBTSI/AAAAAAAABO4/J5hoM7BqoFI/s320/C-7.jpg" border="0" alt="" /></a></span></div>
<p><span style="font-size: large">আমি খুব নিরাপদ দূরত্ত্বে&#8230;<br />
আমি <strong>গানওয়ালার</strong> গান শুনে <strong>প্রতি বিপ্লবের</strong> দিন গুনি&#8230;<br />
রোজ সকালে উঠে যিনি পাঁচটা সিপিএম <strong>খুন</strong> করে জল খাওয়ার কথা বলেন<br />
তাঁর কন্ঠে বিভোর হই&#8230;।<br />
<strong>রুদ্ধ সংগীতের</strong> গুলিয়ে দেওয়া ইতিহাসের বিভ্রমে শেম শেম করে উঠি&#8230;<br />
<strong>জাপানিজ ওয়াইফ</strong> দেখে চিনে নিই বাংলার ‘পোয়েটিক- সিনেম্যাটিক’ গ্রাম&#8230;<br />
যাত্রী নিরাপত্তার তকমায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত গাড়িতে মাথার ওপর ঘোরে<br />
লাল রঙের আলো&#8230;<br />
আমি লাল রঙের আলোতে ভয় দেখাই এবং ভয় পাই&#8230;<br />
বিভিন্ন টিভি চ্যানেল আমাকে এখন বেশ খাতির করে&#8230;<br />
কর্পোরেট হাউস গুলো “আসুন, বসুন, ঠান্ডা খান” বলে এগিয়ে দেয় নোটের তোড়া।<br />
রগ ফুলিয়ে এখন আমি চিতকার করি&#8230;বিতর্ক করি&#8230;ভাষণ দিই।<br />
আর ঠিক তখনি সকালের কাগজটা ক্রমশ বাসি হয়ে উঠতে থাকে&#8230;<br />
ছাপা কালীর গন্ধ সরে গিয়ে উপচে পড়ে পচা-মাংস-দেহ&#8230;<br />
এরপরেও<br />
আমি খুব নিশ্চিন্তে থাকি।<br />
কারণ<br />
এই <strong>পরিবর্তনটাই</strong> তো আমি চেয়েছিলাম।</span></p>
<p><span style="font-size: small">ছবি কৃতজ্ঞতা</span><br />
<span style="font-size: large"><span style="font-size: small">এপি</span></span></p>
<a href="http://www.addtoany.com/add_to/google_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fkallollahiri%2F2933&amp;linkname=%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%AC%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%A8" title="Google Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/google.png" width="16" height="16" alt="Google Bookmarks"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/orkut?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fkallollahiri%2F2933&amp;linkname=%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%AC%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%A8" title="Orkut" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/orkut.png" width="16" height="16" alt="Orkut"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/twitter?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fkallollahiri%2F2933&amp;linkname=%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%AC%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%A8" title="Twitter" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/twitter.png" width="16" height="16" alt="Twitter"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/facebook?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fkallollahiri%2F2933&amp;linkname=%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%AC%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%A8" title="Facebook" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/facebook.png" width="16" height="16" alt="Facebook"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/yahoo_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fkallollahiri%2F2933&amp;linkname=%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%AC%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%A8" title="Yahoo Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/yahoo.png" width="16" height="16" alt="Yahoo Bookmarks"/></a> <a class="a2a_dd addtoany_share_save" href="http://www.addtoany.com/share_save?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fkallollahiri%2F2933&amp;linkname=%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%AC%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%A8"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/share_save_120_16.png" width="120" height="16" alt="Share/Bookmark"/></a>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://coffeehouseradda.com/blog/kallollahiri/2933/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>27</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>গাঁও ছোড়াব নাহি</title>
		<link>http://coffeehouseradda.com/blog/jayabrata/2925</link>
		<comments>http://coffeehouseradda.com/blog/jayabrata/2925#comments</comments>
		<pubDate>Tue, 25 May 2010 07:34:09 +0000</pubDate>
		<dc:creator>জয়ব্রত ভট্টাচার্য্য</dc:creator>
				<category><![CDATA[অর্থনীতি]]></category>
		<category><![CDATA[ব্লগাড্ডা]]></category>
		<category><![CDATA[রাজনীতি]]></category>
		<category><![CDATA[সমসাময়িক]]></category>
		<category><![CDATA[সমাজ]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://coffeehouseradda.com/?p=2925</guid>
		<description><![CDATA[একটা ছোট্ট গান আপনাদের শোনাতে চাই। গানের কোন বিস্তৃত ব্যাখ্যায় যাচ্ছিনা, শুধু গানটুকুই শুনতে বলছি, কারণ এই গানটা শোনাবার পরে আর বলার জন্য কিছু বাকি থাকে না।

     ]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>একটা ছোট্ট গান আপনাদের শোনাতে চাই। গানের কোন বিস্তৃত ব্যাখ্যায় যাচ্ছিনা, শুধু গানটুকুই শুনতে বলছি, কারণ এই গানটা শোনাবার পরে আর বলার জন্য কিছু বাকি থাকে না।<br />
<!-- Smart Youtube --><span class="youtube"><object width="425" height="355"><param name="movie" value="http://www.youtube.com/v/8M5aeMpzOLU&amp;rel=1&amp;color1=3a3a3a&amp;color2=999999&amp;border=0&amp;fs=1&amp;hl=en&amp;autoplay=0&amp;showinfo=0&amp;iv_load_policy=3&amp;showsearch=0" /><param name="allowFullScreen" value="true" /><embed wmode="transparent" src="http://www.youtube.com/v/8M5aeMpzOLU&amp;rel=1&amp;color1=3a3a3a&amp;color2=999999&amp;border=0&amp;fs=1&amp;hl=en&amp;autoplay=0&amp;showinfo=0&amp;iv_load_policy=3&amp;showsearch=0" type="application/x-shockwave-flash" allowfullscreen="true" width="425" height="355" ></embed><param name="wmode" value="transparent" /></object></span></p>
<a href="http://www.addtoany.com/add_to/google_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fjayabrata%2F2925&amp;linkname=%E0%A6%97%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%93%20%E0%A6%9B%E0%A7%8B%E0%A7%9C%E0%A6%BE%E0%A6%AC%20%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%BF" title="Google Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/google.png" width="16" height="16" alt="Google Bookmarks"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/orkut?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fjayabrata%2F2925&amp;linkname=%E0%A6%97%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%93%20%E0%A6%9B%E0%A7%8B%E0%A7%9C%E0%A6%BE%E0%A6%AC%20%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%BF" title="Orkut" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/orkut.png" width="16" height="16" alt="Orkut"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/twitter?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fjayabrata%2F2925&amp;linkname=%E0%A6%97%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%93%20%E0%A6%9B%E0%A7%8B%E0%A7%9C%E0%A6%BE%E0%A6%AC%20%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%BF" title="Twitter" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/twitter.png" width="16" height="16" alt="Twitter"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/facebook?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fjayabrata%2F2925&amp;linkname=%E0%A6%97%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%93%20%E0%A6%9B%E0%A7%8B%E0%A7%9C%E0%A6%BE%E0%A6%AC%20%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%BF" title="Facebook" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/facebook.png" width="16" height="16" alt="Facebook"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/yahoo_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fjayabrata%2F2925&amp;linkname=%E0%A6%97%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%93%20%E0%A6%9B%E0%A7%8B%E0%A7%9C%E0%A6%BE%E0%A6%AC%20%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%BF" title="Yahoo Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/yahoo.png" width="16" height="16" alt="Yahoo Bookmarks"/></a> <a class="a2a_dd addtoany_share_save" href="http://www.addtoany.com/share_save?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fjayabrata%2F2925&amp;linkname=%E0%A6%97%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%93%20%E0%A6%9B%E0%A7%8B%E0%A7%9C%E0%A6%BE%E0%A6%AC%20%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%BF"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/share_save_120_16.png" width="120" height="16" alt="Share/Bookmark"/></a>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://coffeehouseradda.com/blog/jayabrata/2925/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>5</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>‘হৃদয়ে রবীন্দ্রনাথ, চেতনায় উনিশ’ঃ</title>
		<link>http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/2821</link>
		<comments>http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/2821#comments</comments>
		<pubDate>Fri, 14 May 2010 16:00:32 +0000</pubDate>
		<dc:creator>সুশান্ত</dc:creator>
				<category><![CDATA[প্রবন্ধ]]></category>
		<category><![CDATA[রাজনীতি]]></category>
		<category><![CDATA[সমসাময়িক]]></category>
		<category><![CDATA[সমাজ]]></category>
		<category><![CDATA[ভাষ শহিদ দিবস]]></category>
		<category><![CDATA[১৯শে মে]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://coffeehouseradda.com/?p=2821</guid>
		<description><![CDATA[<a href=http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/2821><img src=http://lh5.ggpht.com/_Y7NPfnwUYj8/S-zN2_ItUtI/AAAAAAAACdE/g7ZPmASJRis/s400/RABI%20THAKUR%20a.jpg class=imgtfe hspace=5 align=left width=100  border=0></a>বাঙালির আত্মাভিমান, অসমিয়া উগ্রজাতীয়তাবাদ এবং  রবীন্দ্রনাথের  হৃদয়  কথা
                    ( ১৯শে মে , ভাষা শহিদ দিবসের সম্মানে ) 





From ঈশান কোনের কথা







From ঈশান কোনের কথা







From ঈশান কোনের কথা


 “আমাৰ ,ভাৰতবর্ষৰ এই খণ্ডৰ অধিবাসিসকলৰ, এই [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><strong>বাঙালির আত্মাভিমান, অসমিয়া উগ্রজাতীয়তাবাদ এবং  রবীন্দ্রনাথের  হৃদয়  কথা</strong><br />
                   <em> ( ১৯শে মে , ভাষা শহিদ দিবসের সম্মানে ) </em></p>
<table style="width:auto">
<tr>
<td><a href="http://picasaweb.google.com/lh/photo/E3TUAg_sYl33IJgtAssTwmmVhySa3WFidBu30Ozx1YM?feat=embedwebsite"><img src="http://lh5.ggpht.com/_Y7NPfnwUYj8/S-zN2_ItUtI/AAAAAAAACdE/g7ZPmASJRis/s400/RABI%20THAKUR%20a.jpg" /></a></td>
</tr>
<tr>
<td style="font-family:arial,sans-serif;font-size:11px;text-align:right">From <a href="http://picasaweb.google.com/karsushanta40/sKdaHF?authkey=Gv1sRgCPnEwuzA77D05gE&amp;feat=embedwebsite">ঈশান কোনের কথা</a></td>
</tr>
</table>
<table style="width:auto">
<tr>
<td><a href="http://picasaweb.google.com/lh/photo/BYkwCgkUrDL0dxuxhuqeh2mVhySa3WFidBu30Ozx1YM?feat=embedwebsite"><img src="http://lh4.ggpht.com/_Y7NPfnwUYj8/S-zNTcHWK7I/AAAAAAAACdA/YO1zGQKR9Jk/s400/8%20X%204%20%20%20%201%20NO%20FL.jpg" /></a></td>
</tr>
<tr>
<td style="font-family:arial,sans-serif;font-size:11px;text-align:right">From <a href="http://picasaweb.google.com/karsushanta40/sKdaHF?authkey=Gv1sRgCPnEwuzA77D05gE&amp;feat=embedwebsite">ঈশান কোনের কথা</a></td>
</tr>
</table>
<table style="width:auto">
<tr>
<td><a href="http://picasaweb.google.com/lh/photo/BUNo5v4ngJtJwxaQfMniRmmVhySa3WFidBu30Ozx1YM?feat=embedwebsite"><img src="http://lh6.ggpht.com/_Y7NPfnwUYj8/S-zOKCkd_MI/AAAAAAAACdI/_X0hyIAZnnQ/s800/19%20copy.jpg" /></a></td>
</tr>
<tr>
<td style="font-family:arial,sans-serif;font-size:11px;text-align:right">From <a href="http://picasaweb.google.com/karsushanta40/sKdaHF?authkey=Gv1sRgCPnEwuzA77D05gE&amp;feat=embedwebsite">ঈশান কোনের কথা</a></td>
</tr>
</table>
<p> “আমাৰ ,ভাৰতবর্ষৰ এই খণ্ডৰ অধিবাসিসকলৰ, এই যে মাতৃভাষাবোৰঃ/অসমীয়া,মণিপুৰি,বাংলা,বডো,ভোজপুৰী,মিছিং,চিলেটী,নেপালী,খাচি,হিন্দী, ৰাজস্থানী,/কার্বী,তিৱা,ডিমাছা,জেমিনাগা,টাংখুল,আঙ্গামী,কুকি,মিজো,মনপা,ককবৰক…/আমাৰ অতিকৈ প্রিয় তথা পূজ্য।&#8230;” এভাবেই শুরু হয়েছে সুপরিচিত অসমিয়া তরুণ কবি ঋতুরাজ কলিতার এক আশ্চর্য সুন্দর গদ্য কবিতা। কবিতাটি দীর্ঘ। সবটা তুলে দেয়াটা এই প্রবন্ধের পক্ষে বিরক্তিকর হবে। আমি বরং প্রাসঙ্গিক ক’টা পংক্তি তুলে দিচ্ছি।“…তথাপি, কাকতৰ পাত তথা দূৰদর্শনৰ পর্দাত ভিন ভিন বাতৰিবোৰ দেখি-শুনি…আমাৰ মনত কিয় জানো এই সন্দেহ আহে/যে আমার এই ভাষাবোৰ/সঁচাকৈয়ে জানো প্রকাশ কৰিব পাৰে সকলোধৰণৰ মানুহৰ মর্মবেদনা?&#8230;।যদি প্রতিটো ভাষাই সকলোৰে সুখদুখ সমানেই প্রকাশ কৰিব পাৰিলেহেতেন/তিনিচুকীয়াৰ গাঁওবাসীৰ কণ্ঠত শুনিলোহেঁতেন জানো সেই সংগঠন আৰু সেই ব্যক্তিৰ বাবে জিন্দাবাদ ধ্বনি, যাৰ নির্দেশিত গণহত্যাত নিহত হৈছে তিনিচুকীয়াৰেই শতাধিক অন্যভাষী…বুজাব পাৰিছে জানো অসমৰ চৰ অঞ্চলৰ পৰা উজনিৰ ইটাভাটালৈ ট্রাকেৰে গৈ থাকোঁতে/বিদেশী আখ্যা দি যেয়ে –সেয়ে ঘন্টাৰ পিচত ঘন্টা ভোকে-পিয়াহে আৱদ্ধ কৰি ৰখাৰ যাতনা?&#8230;।”               </p>
<p>                                     স্পষ্ট যে উগ্রজাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে কবি কন্ঠ সোচ্চার। ঋতুরাজ অসমের সর্বজন শ্রদ্ধেয় লেখক বুদ্ধিজীবী হীরেন গোহাঁই সম্পাদিত বহুল প্রচারিত ছোট কাগজ , ‘নতুন পদাতিকে’র অন্যতম সহযোগী সম্পাদকও বটে। কবিতাটি সে কাগজেরই সাম্প্রতিক সংখ্যাতে ( ১০ এপ্রিল,১০) প্রকাশিত হয়েছে। সুতরাং তিনি একেবারে যে সে ব্যক্তি নন।</p>
<p>                                        না, না। ঋতুরাজ কিম্বা তাঁর কবিতা আমাদের আলোচনার বিষয়ই নয়। আমাদের বিষয়, ‘সিলেটি’ শব্দটি। সে আবার বাংলার থেকে স্বতন্ত্র উল্লেখ করবার মতো আলাদা মাতৃভাষা হলো কবে? অনেক অসমিয়া লেখক বুদ্ধিজীবী ‘সিলেটি’কে বাংলার থেকে স্বতন্ত্র পূর্বোত্তর ভারতীয় ভাষা হিসেবে ভাবতে ভালোবাসেন। ‘নিন্দুকে’রা বলেন  এ হলো বাংলার থেকে আলাদা করে পরে অসমিয়ার স্বগোত্রীয় বলে চালিয়ে দিয়ে সেই ভাষাতেই মিলিয়ে দেবার পরিকল্পনা মাত্র। ঋতুরাজ কিম্বা তাঁর মতো বাম প্রগতিশীলদের কলমেও যখন সেই পরিকল্পনার ছায়ার দেখা মেলে তখন চোখ আমাদের একটু কোঁচকায় বটে। মনে হয় যেন বাম দক্ষিণ নির্বিশেষে অসমিয়া মানেই উগ্রজাতীয়তাবাদি। কিন্তু ব্যাপার এতো সহজ নয়। সে নিয়ে আমরা পরে আসছি।</p>
<p>                                      সাম্প্রতিক অসমে ময়মন সিংহ থেকে ১৯৭১এর মার্চের আগে আসা মুসলমানেরা আদমসুমারীতে নিজেদের মাতৃভাষা কী লেখাবেন তাই নিয়ে আলো হাওয়া বেশ উত্তপ্ত হয়েছে। বছরের আগামীদিনগুলোতে  আরো হবে এই আশঙ্কাই করা যায়। যারা বলছেন, ‘বাংলা লেখান’ তাদের সম্পর্কে অসমিয়া ভাষার পক্ষের লোকেরা বলছেন এসব বরাক উপত্যকার বাঙালি উগ্রজাতীয়তাবাদীদের প্ররোচনা। অসমিয়া জাতিকে ভাঙ্গার ষড়যন্ত্র।এক বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়বার সৎপ্রয়াসে বাঙালিরা জল ঢালছেন। অন্যদিকে এই ‘সৎপ্রয়াসকে’ বাঙালি মাত্রেই উগ্রজাতীয়াতাবাদ আখ্যা দিয়ে আসছেন। বলছেন,  এ হলো বাঙালির সংখ্যা কমিয়ে আধিপত্য বিস্তারের প্রয়াস মাত্র।  মুসলমানদের মধ্যে  যারা বলছেন, ‘অসমিয়া লেখান’-তাদের সম্পর্কে বাংলার পক্ষের লোকেরা বলছেন ‘বিশ্বাসঘাতক’! আর যারা বলছেন, ‘বাংলা লেখান’ তাদের সম্বন্ধেও অসমিয়ারা অন্যকোনো শব্দ ব্যবহার করছেনই না। অসমিয়ারা বলছেন এতোদিন ঘরের বাইরে অসমিয়া লিখে পড়ে কথা বলে এই মুসলমানেরা অসমিয়া হয়েই গেছেন। বিরুদ্ধবাদিরা জিজ্ঞেস করছেন, তবে যে মূলস্রোতের অসমিয়ারা ঘরের বাইরে ইংরেজিতে লেখা পড়া করছেন, কথা বলছেন তারা কি ইংরেজ হয়ে গেলেন?   ভোটের বাজার তাতে কতটা সরগরম হবে তাতো আগামি দিনে দেখাই যাবে। কিন্তু আপাতত যে এতে পত্রিকা কাগজগুলোর বাজার বেশ জমে উঠেছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।   কিন্তু যে ব্যাপারটি খোদ মুসলমানদেরকে ভাবাচ্ছে, বাঙালি বলে লিখলেও বরাকে ‘বাঙাল’ আর ব্রহ্মপুত্রে ‘বাংলাদেশি’ এই অবিধা তাদের যাবার নয়। কেউই তাদের পুরো বাঙালি কিম্বা পুরো অসমিয়া বলে মেনে নেবার মতো অবস্থাতে নেই। মেনে নেবেন এই আস্থাও কেউ যোগাবার মতো কোনো আয়োজন করছেন না। যার মারটা জোরালো, তার হাত থেকে বাঁচবার জন্যে তাঁদের দিকেই ঝুঁকে পড়বার সম্ভাবনাই বেশি এই মুসলমান মানুষগুলোর । অসমিয়ারা সংখ্যাগরিষ্ঠ । সুতরাং তাদের দিকেই ভিড়ে যাবার সম্ভাবনা যথারীতি প্রবল। যেমনটি তারা এতোদিন করে এসছেন। যদি তা না করেন তবে সে হবে এক ঐতিহাসিক ঘটনা। সেটি ভালো কি মন্দ হবে সে তর্ক আমরা আপাতত না হয় তুলছি না।</p>
<p>                                          এই মুসলমানেরা থাকেন মূলত ব্রহ্মপুত্রের চর অঞ্চলে। তাদের বেশির ভাগ আসলে গরীব কৃষক, জেলে। জল জমিতে কাজ না মিললে তারা পাথর ভেঙে বড়লোকদের গাড়ি চলবার পথ তৈরি করে দিতে ছড়িয়ে পড়েন পূর্বোত্তরের অন্যত্র। সেখানে তাদের কপালে কী জোটে ঋতুরাজ লিখেছেন সেটিই, “বুজাব পাৰিছে জানো অসমৰ চৰ অঞ্চলৰ পৰা উজনিৰ ইটাভাটালৈ ট্রাকেৰে গোই থাকোঁতে/বিদেশী আখ্যা দি যেয়ে –সেয়ে ঘন্টাৰ পিচত ঘন্টা ভোকে-পিয়াহে আৱদ্ধ কৰি ৰখাৰ যাতনা?&#8230;।” এসব দেখে শুনে অন্নদা শঙ্করের সেই কবিতাকে খানিকটা পালটে দিয়ে আবৃত্তি করতে ইচ্ছে জাগে, “তেলের শিশি ভাঙল বলে খোকার পরে রাগ করো?/ তোমরা যে সব বুড়া খোকা ‘অসম’ ভেঙে ভাগ করো।    তার বেলা? ”  এই গরীব মুসলমানেরা নিজেদের অসমিয়া লিখিয়ে পিঠ বাঁচাবার যে সংগ্রামটি করেন তা খুব কম বাঙ্গালি জাতি ভাইয়ের চোখে পড়ে। কেন না ভাষা কিম্বা ধর্ম যার আধারেই ‘জাতি’ গড়বার স্বপ্ন দেখুন সেই স্বপ্নদ্রষ্টারা শ্রেণিগত ভাবেই মধ্যবিত্ত। সেই শ্রেণি অবস্থান থেকে উপরে যত দূরেই তাদের চোখ যাক না কেন তলার দিকে সে চোখ পড়ে অতি অল্প।</p>
<p>                                        আমাদের নিজেদের ‘চোখ’কে নিয়ে খুব অহঙ্কার রয়েছে। নিজেদের খুব সত্যদ্রষ্টা বলে ভাবতে আমরা ভালোবাসি। প্রায়ই ধমকে দিয়ে পরকে বলি, ‘তুমি কি আমার থেকে বেশি জানো?” সত্য হলো, আমরা কেউই বেশি জানি না। ঋতুরাজ জানেন না যে ‘সিলেটি’ বাংলার এক উপভাষা মাত্র, আলাদা কারো মাতৃভাষা নয়। এই না জানার উপর ঋতুরাজের নিজের খুব একটা দখল নেই। তিনি সেই ছেলে বেলা থেকে স্কুল পাঠ্য সমস্ত অসমিয়া বইতে, সভা সমিতিতে সেরকমই শুনে এসছেন। অত্যুৎসাহীরা ‘সিলেটি’কেও অসমিয়ার উপভাষা  বলে বৃহৎ অসমিয়া জাতি গড়বার স্বপ্ন দেখেছেন , দেখিয়েছেন। কিন্তু যারা জানেন যে সিলেটিদের মধ্যে গরীব শ্রমিক, কৃষক থাকলেও এক শক্তিশালী মধ্যবিত্ত বৌদ্ধিক সমাজ রয়েছেন তারা সে   উৎসাহ  খানিকটা দমিয়ে এনে একে বাংলার থেকে আলাদা ভাষা হিসেবে ভাবতে ভালো বেসেছেন। বানীকান্ত কাকতি কে বাদ দিলে আমি এখনো কোনো অসমিয়া বইতে একে বাংলারই এক উপভাষা বলে সানন্দ স্বীকৃতি দিতে দেখিনি। । ব্যাপারটার শুরু হয়েছিল সেই ১৯১৩তে । যখন বেনুধর রাজখোয়া সিলেট জেলা মেজিষ্ট্রেট ছিলেন, তিনি তখন একটি বই লেখেন যার নাম ছিলঃ Notes on the Sylheti Dialect . তিনি দেখিয়েছিলেন যে সিলেটি উপভাষাটি আদর্শ বাংলার থেকে অসমিয়ার অনেক কাছের ভাষা । তিনি বিশেষ করে উল্লেখ করেছিলেন যে সিলেটিরা শিষ ধ্বনি স (s) কে অসমিয়াদের মতো &#8216;স&#8217; (X) উচ্চারণ করে । এরা অল্প /h/-এর দিকে হেলে পড়ে, আদর্শ বাংলার -&#8217;সে&#8217;, &#8216;ঐ&#8217;,&#8217; সেইটি&#8217;&#8212;র বদলে তারা বলে, &#8216;হি&#8217; /he/ ( অস. সি /xi/), হউ /hou/ (অস. সৌ /xou/) , হেইটো ( অস. সেইটো /xeito/) ইত্যাদি । বেনুধর রাজখোয়া অসমিয়া লিপিতে লেখা এক পুরোনো সিলেটি &#8216;পদ্মাপুরাণে&#8217;র পাণ্ডুলিপিও দেখেছিলেন । তার পর একেবারেই সাম্প্রতিক গুয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অসমিয়া বিভাগের অধ্যাপক ভাষাবিদ উপেন রাভা হাকাসামের বই ‘অসমীয়া আৰু অসমৰ তিব্বত বর্মীয় ভাষা’ এবং ‘অসমীয়া আৰু অসমৰ ভাষা-উপভাষা’ বই দুটিতেও বেনুধর রাজখোয়ার  সেই শতাব্দি প্রাচীন তত্বের প্রতিধ্বনি শোনা যাবে। মাঝখানের ভাষাবিদেরা এ নিয়ে কী লিখে গেছেন উপেন রাভা হাকাচাম থেকেই না হয় তার নজির টানা যাক , “ অবশ্যে পৰবর্তী কালত ড০ উপেন্দ্র নাথ গোস্বামীয়ে তেওঁৰ ‘অসমীয়া ভাষা আৰু উপভাষা’ (১৮৮৬)নামৰ পুথিত ড০  প্রমোদচন্দ্র ভট্টাচার্যৰ সুৰতে সুৰ মিলাই ক’বলৈ অকণো সংকোচ বোধ কৰা নাই যে “ কাছাৰী উপভাষাটো কামৰূপী উপভাষা আৰু অসমীয়া মান্য ভাষাৰ ওচৰ চপা। ইয়াত শতকৰা পয়সত্তৰটা শব্দ সজাতীয় শব্দ।” ( পৃঃ ১১; ‘অসমীয়া আৰু অসমৰ তিব্বত বর্মীয় ভাষা ) । এরা পণ্ডিত মানুষ। কিন্তু তা সত্বেও তাঁদের ‘চোখ’ যে সর্বত্রগামী হয় নি সেতো বেনুধর রাজখোয়ার ঐ ছোট্ট উল্লেখটিতেই স্পষ্ট। হেইটো ( অস. সেইটো /xeito/) সিলেটি শব্দই নয়। সিলেটি শব্দ হবেঃ হকটা বা হটা বা হিটা। তাঁর অসমিয়ার সাদৃশ্য সন্ধানী চোখ ‘হিটা’কে ‘হেইটো’ শুনেছিল।</p>
<p>                                  এমন সীমাবদ্ধতা প্রায় শতাব্দী পরের উপেন রাভাতেও রয়েছে। তিনি বাংলা বলে যে ভাষার নজির দিয়ে তুলনা টেনেছেন তা প্রায়ই বাংলা সাধু ভাষা। মুখের বদলে কৃত্রিম ভাবে গড়ে তোলা সাহিত্যের ভাষা। যেমন তিনি লিখেছেন, “ অসমীয়াৰ সৈতে সাদৃশ্য থকা প্রধান কেতবোৰ ৰূপতাত্বিক বৈশিষ্ট হ’ল—ভবিষ্যত কালৰ প্রথম পুৰুষৰ ৰূপ –ইমু ( যাইমু, কৰিমু),তু,অসমীয়া –ইম/ম কিন্তু বাংলা –ইব, দ্বিতীয় পুৰুষৰ ৰূপ –ইবা ( যাইবা, কৰিবা) তু, অসমীয়া-ইবা/বা কিন্তু বাংলা –ইবে, তৃতীয় পুৰুষৰ ৰূপ –ইব (কৰিব) ,তু অসমীয়া –ইব/-ব কিন্তু বাংলা –ইবে&#8230;” ( পৃঃ ১২’ঐ) এমন নজির তাঁর দুটো বইতেই প্রচুর রয়েছে। বস্তুত প্রায় সবই এরকম। প্রথম,দ্বিতীয়, তৃতীয় পুরুষ বিভাজন বাংলাতে নেই। আমি যদ্দুর জানি অসমীয়াতেও নেই। আসলে তিনি প্রথম বলতে উত্তম পুরুষ,দ্বিতীয় বলে মধ্যম আর তৃতীয় বলে প্রথম পুরুষ বুঝিয়েছেন সেটি অসমীয়া নজির থেকে স্পষ্ট। তাই যদি হয়, তবে উত্তম পুরুষে  আদর্শ চলিত বাংলার রূপ আসলে –ইব নয় -ব ( আমি যাব, খাব।) সাধু বাংলাতে –ইব ( যাইবে, খাইবে), তেমনি মধ্যম পুরুষের চলিত বাংলার ইবে নয়, বে ( তুমি যাবে, খাবে), প্রথম পুরুষের চলিত বাংলার রূপ  ইবে নয়, মধ্যম পুরুষের মতোই –বে ( সে যাবে, খাবে)। সিলেটি উদাহরণও যথাযথ নয় এখানে। মধ্যম পুৰুষৰ ৰূপ –ইবা এবং তার দৃষ্টান্ত মোটেও  যাইবা, কৰিবা –কোনোটাই নয়। সে হবে –ইও ( যাইও, করিও) । তৃতীয় পুরুষের ৰূপ অসমীয়ার মতোই –ইব/ব হয় বটে । কিন্ত ‘কৰিব’ শব্দটি তার দৃষ্টান্ত হতে পারে না। এটি একেবারেই উত্তম পুরুষের সাধু বাংলার রূপ, সিলেটি মোটেও নয়। সিলেটি হবে ‘ হে যাইব, করব, খাইব, মরব ইত্যাদি। অসমিয়াতে ‘সি কৰিব’, কিন্তু সাধু বাংলাতে , ‘আমি করিব’ ।  এ ধরণের দৃষ্টান্ত দেয়া আর সিদ্ধান্ত টানা থেকে একটা কথাতো পরিষ্কার যে উপেন রাভা অবরোহী পদ্ধতিতে অনুসন্ধান চালিয়েছেন।  অর্থাৎ, সিদ্ধান্ত কী টানতে হবে তাঁর আগেই জানা ছিল, পরে তিনি তার অনুকূলে দৃষ্টান্ত সংগ্রহ করে গেছেন। সেটি করতে গিয়ে সিলেটিকে যতটা পারেন অসমিয়ার মতো করে ফেলেছেন, আর বাংলাকে যতটা সম্ভব সাধু করে দূরে ঠেলে দিয়েছেন। তাতে অসমীয়া অক্ষত থাকলেও বাংলা বা সিলেটি কেউই তাদের যথাযথ রূপ এবং চরিত্রে তাঁর গ্রন্থে এসে উপস্থিত হয় নি।  বৈজ্ঞানিক নৈরাসক্তি তাঁর অধ্যয়নে পাওয়া যাবে না। তাঁর পরেও কিন্তু তাঁর মন্তব্য আমরা সিলেটিরা বুঝি যথেষ্ট বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান না করেই একটা ভুল ধারণা নিয়ে বসে আছি যে আমাদের মাতৃভাষা বাংলা। প্রমোদ চন্দ্র ভট্টাচার্যের একটি উদ্ধৃতি দিয়ে তিনিও   লিখেছেন, “এনেদৰে কাছাৰ অঞ্চলৰ ভাষা-উপভাষাৰ তুলনামূলক বিচাৰ-বিশ্লেষণ কৰিলে কাছাৰীয় উপভাষা সীমান্তৰ মাত -কথা  ৰূপে বঙলাতকৈ অসমীয়া ভাষাৰ ওচৰ চপা আৰু ঘনিষ্ঠ ৰূপ বুলি প্রমাণ কৰিব পাৰি&#8230; কিন্তু কাছাড় আৰু কৰিমগঞ্জ অঞ্চলৰ কথিত ভাষা-উপভাষাৰ বৈজ্ঞানিক আৰু ক্ষেত্র অধ্যয়নমূলক বিচাৰ বিশ্লেষণ নোহোৱাৰ বাবে,&#8230; পুৰণি ভুল ধাৰণাই এই অঞ্চলৰ কথিত ভাষা-উপভাষাক বঙলা  বুলিহে অভিহিত কৰি চৰকাৰী ব্যৱস্থা লোৱা হৈছে।” ( পৃঃ১২; ঐ)</p>
<p>                                        তাঁর নিজের অধ্যয়নই যে যথেষ্ট বৈজ্ঞানিক নয় সেতো পাঠক মাত্রেই আগে দেয়া নজির থেকে ধরে নেবেন। বোঝাই যায়  জাতীয়তাবাদ  তাঁর দৃষ্টিকে নিয়ন্ত্রিত আর সীমাবদ্ধ করেছে। এমন জাতি, বর্ণ, অঞ্চল, শ্রেণি বা অন্যান্য সামাজিক স্বার্থ আমাদের দৃষ্টিকে নিয়ন্ত্রিত করে বলেই সমাজ বিজ্ঞান আজো বিশুদ্ধ বিজ্ঞান বলে স্বীকৃতি পেলনা।“কাছাৰীয় উপভাষা সীমান্তৰ মাত -কথা  ৰূপে বঙলাতকৈ অসমীয়া ভাষাৰ ওচৰ চপা আৰু ঘনিষ্ঠ ৰূপ বুলি প্রমাণ কৰিব পাৰি&#8230;”&#8211; তাঁর এই কথাৰ সঙ্গে কোনো বাঙালিই দ্বিমত পোষণ করবেন না। রবীন্দ্রনাথ অব্দি তাঁর প্রথম জীবনের এক রচনাতে  লিখেছেন, “ বীরভূমের কথিত ভাষার সহিত ঢাকার ভাষার যে প্রভেদ, বাংলার সহিত আসামির প্রভেদ তাহা অপেক্ষা খুব বেশি নহে।” (পৃঃ ৭৩৯, ভাষাবিচ্ছেদ;পরিশিষ্ট,শব্দতত্ব; রবীন্দ্ররচনাবলী, ৬ষ্ঠ খন্ড;১২৫তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বিশ্বভারতী প্রকাশিত সুলভ সংস্করণ) ।   এই কথা প্রতিষ্ঠার জন্যে উপেন রাভার দরকার ছিলনা সিলেটি উদাহরণকে অসমিয়াপ্রায় আর বাংলা উদাহরণকে সাধু বাংলা করে দূরে ঠেলবার। এর পক্ষে তিনি  বহু বাংলা ভাষাবিদদের থেকেও নজির পেয়ে যেতেন। চাইকি শুধু সিলেটি কেন পূর্ব বাংলার আরো আরো উপভাষার অধ্যয়ন করলেও তিনি সেটা প্রমাণ করতে পারতেন। সম্ভবত চট্টগ্রামের ভাষার সঙ্গে আর বেশি। উপরে উল্লেখ করা প্রবন্ধেই রবীন্দ্রনাথই লিখেছেন, “ আসামিরা চ-কে দন্ত্য স ( ইংরেজি s) জ-কে দন্ত্য জ ( ইংরেজি z) রূপে উচ্চারণ করে , পূর্ববাংলাতেও সেই নিয়ম । তাহারা শ-কে হ বলে, পূর্ববঙ্গেও তাই। তাহারা বাক্য-কে ‘বাইক্য’, মান্য-কে ‘মাইন্য’ বলে, এ সম্বন্ধেও তাহার প্রভেদ দেখি না।”( (পৃঃ ৭৪১, ভাষাবিচ্ছেদ;ঐ) উপেন রাভা  বা বেনুধর রাজখোয়া কেউ ওতো দূর অব্দি তাকানই নি, কেননা তাঁদের দৃষ্টিকে নিয়ন্ত্রিত করেছে গেল এক দেড় শতকের অসমের রাজনৈতিক ইতিহাস আর মানচিত্র। সিলেট ১৮৭৪থেকে অসমের একেজেলা ছিল। আজো তার একটা অংশ অসমেরই অংশ। কিন্তু উপেন রাভা হাকাসামের, “পুৰণি ভুল ধাৰণাই এই অঞ্চলৰ কথিত ভাষা-উপভাষাক বঙলা  বুলিহে অভিহিত কৰি চৰকাৰী ব্যৱস্থা লোৱা হৈছে।” এই কথাতে অন্য বাঙালিতো বটেই সিলেটি মাত্রকেই ক্ষেপিয়ে তুলবার পক্ষে যথেষ্ট।  অথচ তাঁর উদ্দেশ্য এক বৃহত্তর  ঐক্য গড়ে তোলা।</p>
<p>                                   গেল বছর (১ সেপ্টেম্বর,২০০৯) তিনি আমাদের তিনসুকিয়া কলেজে ভাষা উপভাষার উপর এক বক্তৃতা দিতে আমন্ত্রিত হয়ে এসছিলেন। সেই সভাতে সিলেটি শ্রোতার সংখ্যা ছিল অতি নগন্য,ময়মনসিংহী কেউ তো ছিলেনই না। তাদের তুষ্ট করবার কোনো প্রশ্নই উঠেনা। তবুও তিনি  বেশ জোর দিয়েই নানা ভাষাতাত্বিক উদাহরণ দিয়ে দিয়ে বলেছেন, কৌনোজ থেকে আসা বহু মূলস্রোতের অসমিয়াদের থেকেও সিলেটিরা, ময়মনসিংহের লোকেরা এই অসমের মাটিতে বেশি প্রাচীন। বেশি ‘খিলঞ্জিয়া’।  মজার কথাটা হলো, এই সত্য কথাটা অসমের বহু সিলেটিও জানেনই না। তিনিতো ‘বাংলাদেশি’ বলে ময়মনসিংহীদের হেনস্থা করবার প্রয়াসের বিরুদ্ধেও তাঁর ক্ষোভ প্রকাশ্যেই জানিয়ে গেলেন।</p>
<p>                                       উপেন রাভার এই ‘সৎ উদ্দেশ্য’কে বহু সিলেটি তথা বাঙ্গালি  সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখতে চাইবেন। তাঁরা  ভেবে নেবেন যে যতই ভালো ভালো কথা বলুন লিখুন অসমিয়া মাত্রেই উগ্রজাতীয়তাবাদি। এই বাঙালিদের জন্যে এবারে আমরা বাংলার উগ্রজাতীয়তাবাদিদের খবর  জানাবো।</p>
<p>                                        বরাক উপত্যকার ভাষাকে বাংলা বলে চালিয়ে দেবার চেষ্টাকে নিয়ে উপেন রাভার আক্ষেপের প্রতিধ্বনি শোনা যাবে বাংলার তথা কথিত কামরূপী উপভাষা তথা কামতাপুরি ভাষা নিয়ে সুধীর কুমার বিষ্ণুর করা এই মন্তব্যে , “ কামরূপী উপভাষাকে একটি প্রাচীন ও স্বতন্ত্র ভাষা রূপে দাবি করা হয়েছে, এর পেছনে দু’টি কারণ আছে  বলে আমার মনে হয়। প্রথমত, মাতৃভাষা সম্পর্কে মানুষের আবেগকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের চেষ্টা, দ্বিতীয়ত, ভাষা ও উপভাষা সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির অভাব।” (পৃঃ ১৫৮, কামরূপী উপভাষা; সুধীর কুমার বিষ্ণু; উত্তর বঙ্গের ভাষা; সম্পাদক-রতন বিশ্বাস।)পাঠককে আমরা মনে করিয়ে দিতে চাই অসমের বরাকউপত্যকার রাজনৈতিক আর সামাজিক অবস্থান থেকে পশ্চিম বাংলার উত্তর ভাগের চেহারা চরিত্র খুব একটা পৃথক নয়। পিছিয়ে পড়া উত্তর বাংলাতেও কামতাপুরি ভাষার আন্দোলনকে কঠোর ভাবে দমন করে আসছে সেখানকার সরকার আর বাঙালি মধ্যবিত্ত। তবু বরাকে যারা ভাষার প্রশ্নে প্রচণ্ড আবেগিক,  যারা মুলতঃ লেখক বুদ্ধিজীবি, রাজনীতির সঙ্গে চোখে পড়ার মতো  সম্পর্ক যাদের অতি অল্প তাদের আমরা সেই উত্তর বঙ্গের বাস্তবতার সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করতে  দেখিই না। তাঁরা মাঝে মধ্যে স্লোগান তোলেন বটে , “মাতৃভাষা প্রাণের ভাষা। এ ভাষায় আছে অধিকার সকল জাতির সকল জনতার।” কিন্তু সেটি কতটা আন্তরিক তাঁর পরীক্ষা দেবার এখনো অনেক বাকি। বরাকের মণিপুরি ভাষাকে সরকারি ভাষা করবার প্রস্তাব সম্ভবত এখনো তাদের কোনো কল্পনাতেই নেই। কেউ সে প্রস্তাব দিলেও তিনি কতটা সমাদৃত হবেন তা এখনো দেখার বাকি।    তাঁরা বরং অতি আগ্রহী কলকাতার প্রতি। কারণ কলকাতাই বাংলার সাংস্কৃতিক রাজনীতির রাজধানী! যার একটা শাখা তারা খুলে চালাতে চাইছেন শিলচরে।  কথাগুলো কটু, অপ্রিয়। কিন্তু সত্য।</p>
<p>                                         খুব কম বাঙালিই সুধীর বিষ্ণুর মন্তব্যে সহজে কোনো ত্রুটি দেখতে পাবেন, বরং বৃহৎ বাঙালি ঐক্যের স্বার্থকে উর্ধে তুলে ধরবার জন্যে বাহবাই  দেবেন। তবু যদি কেউ ভেবে থাকেন যে অধ্যাপক সুধীর বিষ্ণু নিশ্চয়ই কোনো এলেবেলে লোক তাদের জন্যে আমরা এবারে এক মোক্ষম উদাহরণ তুলে ধরব। সেটি আর কেউ নন, স্বয়ং রবীন্দ্রনাথের থেকে । রবীন্দ্রনাথের যে উদ্ধৃতি দু’টো এ অব্দি তুলে দিলাম যাতে মনে হতে পারে যে তিনিও ভাষাদু’টোর মিত্রতার    জয়ধ্বজা তুলবার মহান ব্রত কাঁধে তুলে নিয়েছেন, তাঁর সেই লেখার মধ্যেই পাওয়া যাবে বেনুধর রাজখোয়া বা উপেন রাভা হাকাসামের মন্তব্যগুলোর শেকড় বাকড়ের খোঁজ , “&#8230; আসাম ও উড়িষ্যায় বাংলা যদি লিখন পঠনের ভাষা হয় তবে তাহা যেমন বাংলা সাহিত্যের পক্ষে শুভজনক হইবে তেমনিই সেই দেশের পক্ষেও। কিন্তু ইংরেজের কৃত্রিম উৎসাহে বাঙ্গলার এই দুই উপকণ্ঠবিভাগে একদল শিক্ষিত যুবক বাংলা প্রচলনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহধ্বজা তুলিয়া স্থানীয় ভাষার জয়কীর্তন করিতেছেন।” অসমিয়া বা ওড়িয়া ভাষাতে যে কোনো বড় কাজ করা যেতে পারে সেটি রবীন্দ্রনাথ তখন ( ১৩০৫ বাংলা) বিশ্বাসই করতে পারতেন না । তিনি লিখেছেন, “ এ কথা আমাদের স্মরণ রাখা উচিত যে দেশীয় ভাষা আমাদের রাজভাষা নহে, যে ভাষার সাহায্যে বিদ্যালয়ের উপাধি বা মোটা বেতন লাভের আশা নাই। অতএব, দেশীয় সাহিত্যের একমাত্র ভরসা তাহার প্রজাসংখ্যা, তাহার লেখক ও পাঠক সাধারণের ব্যাপ্তি। খন্ড বিচ্ছিন্ন দেশে কখনোই মহৎ সাহিত্য জন্মিতে পারে না। তাহা সংকীর্ণ গ্রাম্য প্রাদেশিক আকার ধারণ করে। তাহা ঘেরো এবং আটপৌরে হইয়া উঠে, তাহা মানব-রাজদরবারের উপযুক্ত নয়।” (পৃঃ ৭৪১, ভাষাবিচ্ছেদ;ঐ)</p>
<p>                                         এ বছর সমগ্র অসমেও রবীন্দ্রনাথের সার্ধশতবর্ষ যথেষ্ট সম্মানের সঙ্গে পালিত হচ্ছে আর হবে। অসমিয়া মানুষও তার উদ্যোগ নিচ্ছেন। ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার  প্রায় প্রতিটি সঙ্গীত বিদ্যালয়ে রবীন্দ্রসঙ্গীতের পাঠ দেয়া হয়ে থাকে।  তিনি  যে প্রতিটি অসমিয়া মনে জ্যোতি প্রসাদ বিষ্ণুরাভার থেকে মোটেও কম শ্রদ্ধার আসনে বসে নেই তার কারণ ঘটনাক্রম সেই ১৩০৫ সনে রবীন্দ্রনাথের আশা করা মতো ঘটেনি,  রবীন্দ্রনাথও তাঁর তখনকার অভিমত আঁকড়ে ধরে থাকেন নি। ঐ প্রবন্ধটি লেখার সময় অব্দি এমন কি ১৯০৫এর বাংলা ভাগ বিরোধী আন্দোলনের সময় অব্দি তিনি সমকালীন উগ্র ভারতীয় তথা বাঙালি  জাতীয়তাবাদের সঙ্গে ছিলেন। এমনকি ইউরোপীয় জাতি-রাষ্ট্রের ধারণার প্রতিও তাঁর অগাধ শ্রদ্ধা ছিল। ওই প্রবন্ধেই তিনি লিখছেন, “ বৃটিশ দ্বীপে স্কটল্যান্ড, আয়র্ল্যান্ড ও ওয়েলসের স্থানীয় ভাষা ইংরেজি সাধুভাষা হইতে একেবারেই স্বতন্ত্র। তাহাদিগকে ইংরেজির উপভাষাও বলা যায়  না। উক্ত ভাষাসকলের প্রাচীন সাহিত্যও স্বল্পবিস্তৃত নহে। কিন্তু ইংরেজের বল জয়ী হওয়ায় প্রবল ইংরেজিভাষাই বৃটিশ দ্বীপের সাধুভাষারূপে গণ্য হইয়াছে। এই ভাষার ঐক্যে বৃটিশ যে উন্নতি ও বললাভ করিয়াছে, ভাষা পৃথক থাকিলে তাহা কদাচ সম্ভব হইত না।” এটি এক উজ্জ্বল প্রমাণ যে ভারতে ‘জাতি গঠনে’র ধারণাটি একটি ইউরোপীয় আমদানি। রবীন্দ্রনাথের নিজেরই পরের রচনাগুলোতে তার স্বীকৃতি ও উল্লেখ অজস্র আছে। জাতি রাষ্ট্রের ধারণা এক ইউরোপীয় এবং বর্বর ধারণা। যেখানেই সে ধারণা গেছে সঙ্গে করে মৃত্যু আর ধ্বংস ছাড়া আর কিছুই নিয়ে যায় নি। আমরা সবাই জানি এখানে যে  ‘ইংরেজের বলে’র তিনি ভূয়সী প্রশংসা করছেন তাকেই তিনি ‘অজগর সাপের ঐক্য নীতি’ বলে পরের জীবনে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। জীবনের শেষে ‘সভ্যতার সংকট’ অব্দি আসতে আসতে সেই ক্ষোভ অভিশাপে পরিণত হয়েছে। কেবল অসমীয়ারা ক্ষুন্ন হয়ে আছে বলেই তিনি অসমীয়াকে স্বতন্ত্র ভাষা বলে মেনে নিয়েছেন তা নয়। তিনিই প্রথম আবিষ্কার করেছেন ‘বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্য’ই আমাদের দেশের মূল সুর।পরের স্বাতন্ত্র্য স্বীকার করে নিয়ে তাকে আপন করবার প্রতিভাটা ভারতের নিজস্ব প্রতিভা।  আমরা যে রচনার থেকে তাঁর উদ্ধৃতিগুলো দিলাম সে লেখাটিও তাই পরে পরিত্যক্ত হয়েছিল। শুধু ঐতিহাসিক সত্যতার দায়ে ১২৫তম জন্মজয়ন্তীর  সময় প্রকাশিত সুলভ সংস্করণের সম্পাদকেরা একে পরিশিষ্টে ঠাই দিয়েছেন।</p>
<p>                                       অসমীয়া ভাষাতে গ্রন্থ প্রকাশের বিষয়ে লক্ষীনাথ বেজবরুয়ার সঙ্গে কথা প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথ কিছু বিরূপ মন্তব্য করেছিলেন। তাঁর আশঙ্কা ছিল এমন করে সবাই যদি বাংলা ছাড়তে শুরু করে তবে আর বাংলা সাহিত্য বলে কিছু টিকে থাকবে না। এই কথাগুলো অসমিয়া পন্ডিতদের মধ্যে বহুবার বহুভাবে আলোচিত হয়েছে। লোক সংস্কৃতির প্রখ্যাত গবেষক, অসম সাহিত্য সভার প্রাক্তন সভাপতি অধ্যাপক বীরেন্দ্রনাথ দত্তের কথাতে রবীন্দ্রনাথের এই সব মন্তব্য “ কিছুদূৰ বৈষয়িক ধৰণৰহে আছিল। আৰু সেয়া আছিল কবিৰ আগ বয়সৰ কথা । ৰবীন্দ্রনাথেৰ পৰিণত চিন্তাত আন এখন ছবিহে ফুটি উঠে । প্রত্যেক আঞ্চলিক ভাষাই সমৃদ্ধি লাভ কৰক আৰু তাৰ মাজতেই সাংস্কৃতিক-ভাষিক বিস্তৃতি লাভ কৰক-কবিয়ে মনে প্রাণে তাকেই কামনা কৰিছিল” ( অসমীয়া আৰু বাঙালীৰ সম্পর্কঃ এক ঐতিহাসিক বিহঙ্গম দৃষ্টি; সাতসৰী, ১৬-৩১ ডিসেম্বর সংখ্যা,২০০৭, পৃঃ২০)</p>
<p>                                         যারা ভাবেন যে কোনো এক ভাষাতে বেঁধে ফেলতে পারলেই এক সর্বভারতীয় ঐক্য দাঁড়িয়ে যাবে তাদের সে  উগ্রজাতিয়তাবাদি ধারণার বিরুদ্ধে যে রবীন্দ্রনাথ যে কেমন সোচ্চার ছিলেন তার কথা বলতে গিয়ে ওই একই লেখাতে বীরেন্দ্রনাথ প্রভাত কুমারের ‘রবীন্দ্র জীবনকথা’ থেকে এক উদ্ধৃতি দিয়েছেন, “ কবি বলেন, ভারত ব্যাপী মিলনের একটা ভারতীয় ভাষা করবার কথা হচ্ছে। তাঁর মতে এতে করে যথার্থ সমন্বয় হতে পারে না, হয়তো একাকারত্ব ( uniformity ) হতে পারে, কিন্তু একত্ব (unity) হতে পারে না। দড়ি দিয়ে বাঁধা , মিলনের প্রয়াস মাত্র। সে মিলন শৃঙ্খলের মিলন অথবা বাহ্য শৃঙ্খলার মিলন মাত্র। তবে প্রবাসী বাঙালিদের উদ্দেশে কবি বললেন, তাঁরা যেন যে দেশে বাস করেন সে দেশ সম্বন্ধে উদাসীন না থাকেন। তিনি বললেন, প্রায়ই দেখা যায় বাংলার বাইরে যেখানে বাঙালিরা থাকেন তার ভাষা সাহিত্য তথ্যাদি সম্বন্ধে তাঁদের একটা ঔদাসীন্য আছে; এই উদাসীনতা বা অবজ্ঞা অজ্ঞতারই নামান্তর। বাঙালির প্রধান রিপু এই আত্মাভিমান।”</p>
<p>                                  ঔদাসীন্যের কথা যখন এলোই তবে উল্লেখ করে রাখা মন্দ হবে না যে রবীন্দ্রনাথের  ভাষাবিজ্ঞানেরও ভালোই অধ্যয়ন ছিল। প্রখ্যাত ভাষাবিজ্ঞানী সুকুমার সেনের কথায়, ঐ অধ্যয়নগুলোর কথা মনে রাখলে, “রবীন্দ্রনাথকে বাঙ্গালী ভাষাবিজ্ঞানীদের মধ্যে প্রথম বলিতেই হয়।” ( বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস; চতুর্থ খন্ড; পৃঃ৪১৫) তাঁর সেই অধ্যয়নের মধ্যে অসমিয়া ভাষাও রয়েছে। ‘বিলাক-বোৰ’ ইত্যাদি অসমিয়া বহুবচন প্রত্যয়ের উৎস সন্ধানে তিনি বেশ নিবিড় অনুসন্ধান চালিয়েছিলেন। অসমিয়া ভাষা নিয়ে নাথান ব্রাউনের ব্যাকরণ তাঁর আয়ত্বে ছিল।</p>
<p>                                   এখন কথা হলো, উপেন রাভা হাকাচামের মতো অসমিয়া কিম্বা সুধীর বিষ্ণুর মতো বাঙালি ভাষাবিদেরা কি তাদের ‘শৃঙ্খলের মিলন’ তত্ব ছাড়তে রাজি রয়েছেন? রাজি আছেন কি, ‘একাকারত্বে’র ( uniformity ) তত্বকে ধুলোয় মিলিয়ে  একত্ব (unity) প্রতিষ্ঠার পথে পা বাড়াতে?  উনিশে মে’র পঞ্চাশ বছরকে সামনে রেখে এক দল সাংস্কৃতিক কর্মী সারা বরাকের শহরগুলোতে বিশেষ করে শিলচরে একটি স্লোগান দিচ্ছেন দেখা যাচ্ছে, ‘হৃদয়ে রবীন্দ্রনাথ চেতনায় উনিশ’।  ভালো কথা। কিন্তু এমন চিহ্নায়নের নানান  অর্থ হতে পারে। আমজনতার কাছে যে সোজা অর্থটা সোজাসুজি পৌঁছুবে তা এই যে রবীন্দ্রনাথ বাংলা ভাষার কবি, উনিশ সেই ভাষার অধিকার রক্ষার জন্যে রক্ত দেবার দিন। সুতরাং যে কোনো মূল্যেই বাংলার জন্যে লড়াইটা চালিয়ে যেতেই হবে। তাতেও মন্দ কিছু নেই।</p>
<p>                                               কিন্তু হৃদয়ে রবীন্দ্রনাথ কথাটার অর্থতো অনেক ব্যাপক। কেবল বাংলা ভাষার অধিকারের কথা বলা হলো গে রবীন্দ্রনাথকে হত্যা করা। মনে কি পড়ে রবীন্দ্রনাথের সেই আক্ষেপ, ‘সাত কোটি সন্তানেরে হে মুগ্ধ জননী, রেখেছো বাঙালি করে ,মানুষ করোনি।” সেদিকে খেয়াল আছে তো? ‘বাঙালির প্রধান রিপু এই আত্মাভিমান’ –এর বিরুদ্ধেও লড়াইটা সমানে হয়ে উঠবে কি? উঠছে কি?  মণিপুরি, ডিমাসাদের হৃদয়ের কথাতে কান পাতা হচ্ছে কি? রবীন্দ্রনাথের কথাগুলো অসমিয়া হৃদয়েও পৌঁছে দেবার কাজটা হয়ে উঠবে তো? বাঙালিদের মনে অসমিয়া জাতীয়তাবাদের আগ্রাসনের আতঙ্ক রয়েছে। কিন্তু অসমিয়া মনেও যে বাঙ্গালির আত্মাভিমানের আতঙ্ক রয়েছে তার প্রতি কোনো সম্মান আর সহানুভূতি রয়েছেতো?  অষ্টাদশ শতকের তিন দশক প্রাদেশিক ভাষা হিসেবে বাংলার স্বীকৃতি থাকবার পর যখন তাকে তুলে দেয়া হয়েছিল তখন বহু বাঙালি এর বিরোধীতা করেছিলেন এই যুক্তিতে যে  অসমীয়ার স্বতন্ত্র ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পাবার কোনো যোগ্যতাই নেই। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অসমিয়া চালু করতে গিয়ে আশুতোষ বন্দোপাধ্যায়কেও দিনেশ সেনের মতো পন্ডিত মানুষের  বিরোধীতার অনেক কাঠখড় পোহাতে হয়েছে সেই ইতিহাস  আমরা জানি তো? আমরা কি সত্য তার কোনো সমাধান বের করেছি, না বের করতে আগ্রহী? মুসলমানেরা আদমসুমারিতে নিজের মাতৃভাষা বাংলা লেখালে অসমিয়ারা আর  অসমিয়া লেখালে বাঙালিরা কি  ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে গাল দিয়েই যাব,  না এর উর্ধে গিয়েও কিছু ভাবব?</p>
<p>                                       বছর কয় আগে ভাষার দাবিতে কামতাপুরিদের ডাকা এক বন্ধের সময় আমার এক বামপন্থী অসমিয়া সহকর্মীর সঙ্গে ওদের মাতৃভাষা কী, তাই  নিয়ে তর্ক হচ্ছিল। তিনি বলছিলেন, ওদের ডাকা বন্ধের কোনো বৈধতা নেই। ওরা অসমিয়া ভাষাকে ভাঙ্গবার ষড়যন্ত্র করছে। আমি বলছিলাম, “ওদিকে আপনাদের পশ্চিম বাংলার কমরেডরা বলবেন ওরা ‘বাঙালি’, এদিকে আপনারা অসমের কমরেডরা বলবেন ওরা ‘অসমিয়া’। ওদিকে বুদ্ধদেব সরকার বলবে ওরা ‘বাঙালি’, এদিকে তরুণ গগৈ সরকার বলবে ওরা ‘অসমিয়া’। ওরা বেচারা যাবে কোনদিকে ?   ভালো হয় না কি ওরা কি সেটা ওদেরই ঠিক করতে দেয়া?” তিনি খুব চটে গেছিলেন। যুক্তিতে না পেরে বলছিলেন , “আপনি আসলে অসমিয়া স্বার্থ বোঝেন না। বোঝবেন কী করে? নিজেই তো বাঙালি উগ্রজাতিয়তাবাদ ছাড়তে পারেন নি।“ আমি বললাম, “সেটি কীরকম?”             উনি বললেন, “আপনি এখনো ‘অহমিয়া’ বলে যাচ্ছেন! বলুন অসমিয়া ,যেমন বলেন ‘অস’মিয়া’ ( oxomia)।” আমি যতই বল্‌ আমি এখনো অসমিয়া ‘স’ উচ্চারণ করতে শিখিনি,; উনি বলে গেলেন , “আপনি ইচ্ছে করেই বলছেন না! বলুন ‘অসমিয়া!’”</p>
<p>                                         ভাবছি আমার এই লেখা পড়বার পর আমার অসমিয়া কিম্বা বাঙালি বন্ধু, যারা ভাষার প্রশ্নে খুবই স্পর্শকাতর, জোর গলায় ধমকে দিয়ে বলবেন নাতো, ‘থামুন মশাই! চুপ করুন। একদম বাজে কথা বলবেন না! এক্কেবাৰে কথা নক’ব!” রবীন্দ্রনাথ যেভাবে অসমিয়া হৃদয় জয় করে নিলেন আমরা কি তার থেকে শিক্ষা নিয়ে  পরস্পরের হৃদয় জয় করতে  এক্কেবারেই অপারগ? অক্ষম?! </p>
<table style="width:auto">
<tr>
<td><a href="http://picasaweb.google.com/lh/photo/HnkqLf-zyuYqiyRseNadUWmVhySa3WFidBu30Ozx1YM?feat=embedwebsite"><img src="http://lh6.ggpht.com/_Y7NPfnwUYj8/S-zQkDDFQPI/AAAAAAAACdM/qNZX0B4aLHA/s400/4%20X%208%20%20%20%20%20%20%20%20%20%20%20%20%20%20%20%201%20NO%20FL.jpg" /></a></td>
</tr>
<tr>
<td style="font-family:arial,sans-serif;font-size:11px;text-align:right">From <a href="http://picasaweb.google.com/karsushanta40/sKdaHF?authkey=Gv1sRgCPnEwuzA77D05gE&amp;feat=embedwebsite">ঈশান কোনের কথা</a></td>
</tr>
</table>
<table style="width:auto">
<tr>
<td><a href="http://picasaweb.google.com/lh/photo/SFuQ5D5CBPneoobfEAYh2GmVhySa3WFidBu30Ozx1YM?feat=embedwebsite"><img src="http://lh4.ggpht.com/_Y7NPfnwUYj8/S-1wOC06CLI/AAAAAAAACdo/v7eqSeXMhbI/s400/Jamiyot%20and%20Matribhasha-Jugoshonkho%20April%2011-001.jpg" /></a></td>
</tr>
<tr>
<td style="font-family:arial,sans-serif;font-size:11px;text-align:right">From <a href="http://picasaweb.google.com/karsushanta40/sKdaHF?authkey=Gv1sRgCPnEwuzA77D05gE&amp;feat=embedwebsite">ঈশান কোনের কথা</a></td>
</tr>
</table>
<a href="http://www.addtoany.com/add_to/google_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F2821&amp;linkname=%E2%80%98%E0%A6%B9%E0%A7%83%E0%A6%A6%E0%A7%9F%E0%A7%87%20%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%A5%2C%20%E0%A6%9A%E0%A7%87%E0%A6%A4%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A7%9F%20%E0%A6%89%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E2%80%99%E0%A6%83" title="Google Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/google.png" width="16" height="16" alt="Google Bookmarks"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/orkut?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F2821&amp;linkname=%E2%80%98%E0%A6%B9%E0%A7%83%E0%A6%A6%E0%A7%9F%E0%A7%87%20%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%A5%2C%20%E0%A6%9A%E0%A7%87%E0%A6%A4%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A7%9F%20%E0%A6%89%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E2%80%99%E0%A6%83" title="Orkut" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/orkut.png" width="16" height="16" alt="Orkut"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/twitter?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F2821&amp;linkname=%E2%80%98%E0%A6%B9%E0%A7%83%E0%A6%A6%E0%A7%9F%E0%A7%87%20%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%A5%2C%20%E0%A6%9A%E0%A7%87%E0%A6%A4%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A7%9F%20%E0%A6%89%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E2%80%99%E0%A6%83" title="Twitter" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/twitter.png" width="16" height="16" alt="Twitter"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/facebook?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F2821&amp;linkname=%E2%80%98%E0%A6%B9%E0%A7%83%E0%A6%A6%E0%A7%9F%E0%A7%87%20%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%A5%2C%20%E0%A6%9A%E0%A7%87%E0%A6%A4%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A7%9F%20%E0%A6%89%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E2%80%99%E0%A6%83" title="Facebook" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/facebook.png" width="16" height="16" alt="Facebook"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/yahoo_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F2821&amp;linkname=%E2%80%98%E0%A6%B9%E0%A7%83%E0%A6%A6%E0%A7%9F%E0%A7%87%20%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%A5%2C%20%E0%A6%9A%E0%A7%87%E0%A6%A4%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A7%9F%20%E0%A6%89%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E2%80%99%E0%A6%83" title="Yahoo Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/yahoo.png" width="16" height="16" alt="Yahoo Bookmarks"/></a> <a class="a2a_dd addtoany_share_save" href="http://www.addtoany.com/share_save?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsushanta40%2F2821&amp;linkname=%E2%80%98%E0%A6%B9%E0%A7%83%E0%A6%A6%E0%A7%9F%E0%A7%87%20%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%A5%2C%20%E0%A6%9A%E0%A7%87%E0%A6%A4%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A7%9F%20%E0%A6%89%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E2%80%99%E0%A6%83"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/share_save_120_16.png" width="120" height="16" alt="Share/Bookmark"/></a>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://coffeehouseradda.com/blog/sushanta40/2821/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>8</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>মদন তাঁতী আর ক্যামেরুনের বৌ</title>
		<link>http://coffeehouseradda.com/blog/suddha/2610</link>
		<comments>http://coffeehouseradda.com/blog/suddha/2610#comments</comments>
		<pubDate>Tue, 27 Apr 2010 07:28:07 +0000</pubDate>
		<dc:creator>শুদ্ধ</dc:creator>
				<category><![CDATA[অর্থনীতি]]></category>
		<category><![CDATA[ব্লগাড্ডা]]></category>
		<category><![CDATA[রাজনীতি]]></category>
		<category><![CDATA[সমসাময়িক]]></category>
		<category><![CDATA[সমাজ]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://coffeehouseradda.com/?p=2610</guid>
		<description><![CDATA[<a href=http://coffeehouseradda.com/blog/suddha/2610><img src=http://thefourthdimention.files.wordpress.com/2010/04/rain.jpg class=imgtfe hspace=5 align=left width=100  border=0></a>ই-বে,ইন্টারনেটের একটি সাইট।সেখানে আপনার যা যা বিক্রি করার মত সবটাই আপনি দিতে পারেন তুলে দিতে বিক্রির জন্যে।সেখানে দরকারে নিলাম-ও হয়।সেখানে এক স্ত্রী তাঁর স্বামীকে বিক্রি করার বিজ্ঞাপন দিয়েছেন।তাঁদের সন্তান জন্মানোর পরে তাঁরা অর্থকষ্টে আছেন আর সেই কারণে Sonya Semmens তাঁর স্বামী Cameron Semmens-কে বিক্রির জন্যে রেখেছেন।বিক্রয়মূল্য ২৫,০০০ ডলার।ক্যামেরুন একজন আইভানহো কবি।সেটা কি?
সেটা আলোচনার আগে একটু [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>ই-বে,ইন্টারনেটের একটি সাইট।সেখানে আপনার যা যা বিক্রি করার মত সবটাই আপনি দিতে পারেন তুলে দিতে বিক্রির জন্যে।সেখানে দরকারে নিলাম-ও হয়।সেখানে এক স্ত্রী তাঁর স্বামীকে বিক্রি করার বিজ্ঞাপন দিয়েছেন।তাঁদের সন্তান জন্মানোর পরে তাঁরা অর্থকষ্টে আছেন আর সেই কারণে Sonya Semmens তাঁর স্বামী Cameron Semmens-কে বিক্রির জন্যে রেখেছেন।বিক্রয়মূল্য ২৫,০০০ ডলার।ক্যামেরুন একজন আইভানহো কবি।সেটা কি?</p>
<p>সেটা আলোচনার আগে একটু অন্য কথা বলে নিই,আমাদের সাহিত্য পাঠের ধরণ নিয়ে।আমরা কোনো লেখা যখন পরি তার মানে হল আমরা তার অর্থ করে নিই মনের মধ্যে।সেই অর্থের কারণেই আমাদের মধ্যে কর্ণের জন্যে সহানুভূতি থেকে রামের জন্যে বিদ্রুপ সবটাই তৈরী হয়।এবারে কে কোন অবস্থানে আছি তার উপরে নির্ভর করে সেই অর্থটি!যাঁরা সনাতন হিন্দু ধর্মের কথা বলেন তাঁরা রামের বিষয়ে খারাপ মনে করতে পারবেন না।কিন্তু যদি আপনি মেঘনাদ বধ কাব্য পড়েন তাহলে বিদ্রুপটি সহজেই চোখে পড়বে।রাবণকে পরাস্ত করতে সবাইকে জোট বাঁধতে হচ্ছে,নিরস্ত্র মেঘনাদকে হত্যা করতে হচ্ছে ছদ্মবেশে নিকুম্ভিলায় ঢুকে।</p>
<p>এটা একটা স্তর যদি হয় তাহলে আছে অন্য স্তর-ও।সেটা হল লেখকের জীবন।মাইকেল মধুসূদন দত্ত বা ডাট এক চরিত্র আমাদের সাহিত্যে।দক্ষিণে থাকাকালিন সেখানকার রামায়ণ থেকে এই ব্যাখ্যা পেয়েছেন তিনি।সেখানকার রামায়ণে সীতার রামকে ঝ্যাঁটা নিয়ে মারতে যায়ওয়ার বয়ানো আছে তা আমরা জানি লেখক নবনীতা দেব সেন-এর কল্যাণে।কাজেই বিদ্রুপ সঙ্গত খুব।কিন্তু তাছাড়া যা আছে?মেঘনাদ বধে একটা সময় আসে যখন বীরবাহুর মৃত্যুর পরে তার মা চিত্রাঙ্গদা প্রবেশ করে রাজসভায়।রাবণের রাজসভায় তাঁর স্ত্রী আসছেন নিহত পুত্রের জন্য বিচার চাইতে।কেন?নিজের মহলে ডাকলেন না কেন রাবণকে?সেক্ষেত্রে যে সর্বসমক্ষে বলা হত না কেন রাঘব গিয়েছে সে দেশে!</p>
<p>সীতার জন্যে যুদ্ধ।সে যুদ্ধের অনেক বলি।তবে শুধু সেই জন্যেই নয়।রাবণকে ভাল্বেসেছিলেন চিত্রাঙ্গদা।প্রাগজ্যোতিষপুরের দানব কন্যা তিনি,সেখানে ব্রাহ্মণ্যবাদের আধিক্য কম।সেখানে নারী অনেক বেশী স্বাধীন।তিনিও বেছেছিলেন নিজের জীবন সঙ্গী হিসেবে রাবণকে।সেই রাবণ বীর যোদ্ধা শুধু নয়,নৃত্য-গীতাদি কলাকুশল।সেই রাবণের বীণের সঙ্গে দেবী স্বরস্বতী ছাড়া কারোর তুলনা হয়না।শিবকে সন্তুষ্ট করতে স্তোত্র রচনা করেছেন, তার অনুষঙ্গে নৃত্য।মহাপন্ডিত রাবণ,সুন্দর এক যুবক তখন।তাকে ভালোবেসেছিলেন তিনি।সেই রাবণের ঘরণি হয়ে বুঝলেন মাথার উপরে থাকবে মন্দোদরি।বীরবাহু নিহত,বেঁচে মেঘনাদ।সম্ভাব্য উত্তরাধিকারী।তাহলে তিনি কি পেলেন?তার উপরে রতিকুশল রাবণের সঙ্গে সীতার সম্ভাব্য প্রণয়!তাঁর মাথায় আগুণ জ্বলে।সর্বসমক্ষে রাবণকে ছোট করে দেওয়াটাই একমাত্র প্রতিশোধ।মাইকেল কি কোথাও নিজেকে দেখছিলেন?পাঁচ সন্তান সহ প্রথমা স্ত্রী(এর আগে অনিচ্ছায় ভুবনেশ্বরী দেবীকে বিয়ে করেছিলেন বাবার চাপে,যার সঙ্গে কখনই ঘর করেননি)রেবেকা-কে ফেলে রেখে মাদ্রাজ থেকে হেনরিয়েটা নামের আরেক শ্বেতাঙ্গিণীর সঙ্গে চলে আসা কলকাতায় মনে পড়ছিল?কখনো রেবেকা তাঁর জন্যে আসেননি আর,খোঁজ-ও নেননি।বিবাহবিচ্ছেদ হয়নি তাঁদের।অভাব ছিল মাইকেলের তীব্র।বাসনা ছিল বিখ্যাত হওয়ার।তাবলে এই ভাবে?নাকি রাবণের মত মনে মনে ভাবতেন যে তিনি বিখ্যাত হলে রেবেকাকেও লোকে জানবে,সেটাই তাঁর দান।রাবণ বলছে ‘এক পুত্র শোকে তুমি আকুলা ললনে/শত পুত্র শোকে বুক আমার ফাটিছে দিবা-নিশি’!অথবা,’বীরমাতা তুমি/বীরকর্মে হত পুত্রহেতু কি উচিত ক্রন্দন?’মানে কি?’আমি বিখ্যাত হতে এসেছি,সাহিত্যে স্থান গড়তে এসেছি রেবেকা।তোমাদের ছয়জনের চাপে আমি মারা যাচ্ছিলাম।আমি মারা গেলে কে লিখবে মেঘনাদ বধ কাব্য?’এমন ভাবে ভাবছিলেন?ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠে এভাবে ভাবলে।নতুন নতুন মানে তৈরী হতে থাকে।</p>
<p>এটাই আইভানহো।এটাও একটা ইন্টারনেটে অন-লাইন খেলা।যেখানে আপনি যোগদান করতে পারেন।বিষয় যদি মেঘনাদ বধ হয়, তাহলে আপনি তাতে মধুসূদন থেকে রাবণ যেকোনো চরিত্র হয়ে আসতে পারেন।খেলার নিয়ম হল আপনি যা করবেন তা কেন করবেন সেটা লিখে জানিয়ে দিতে হবে।ইন্টারপ্রিটেশন বা ব্যাখ্যা দিয়ে দিয়ে যেতে হবে।অন্যের ব্যাখ্যাতে টীকা যোগ করে করে নিজের ব্যাখ্যাকে জিতিয়ে আনতে হবে ক্রমশ।আপনার থেকে শক্তিশালী ব্যাখ্যা যদি থাকে তাহলে সেই ব্যাখ্যা জিতবে, আপনি হারবেন।কেই বা হারতে চায়?</p>
<p>এই খেলা সাহিত্যের।ভিডিও গেমসের মতই ছাত্র বা গবেষকদের জন্যে জনপ্রিয় খেলা।বায়রণ থেকে আধুনিক কবিকূল যে কেউ এতে বিষয় হতে পারে আর আপনি অংশগ্রহণ করতে পারেন।ক্যামেরুনের কবিতা ও ক্যামেরুনকে এইরকম খেলায় ব্যবহার করা হয়।তাই তিনি আইভানহো পার্ফমেন্স পোয়েট।যিনি ওনাকে একবছরের জন্যে স্পন্সর করবেন তাঁর নামে একটি বই লিখে উৎস্বর্গ করবেন ক্যামেরুন।</p>
<p>সবকালেই শিল্পিদের প্রয়োজন হয় মদতদাতার।সেটা রাজনৈতিক থেকে আর্থিক সব রকমেরই।কিন্তু এভাবে সরাসরি বিক্রির ব্যবস্থা এই প্রথম।তাও যিনি করছেন তিনি তাঁর স্ত্রী।মনে পড়ছে দ্রৌপদীর প্রশ্ন?স্বামী,যিনি নিজে পণে হেরে গ্যাছেন তিনি পারেন তাঁর স্ত্রী-কে পণ রাখতে?সেখানে তবু পণ ছিল,এখানে বিক্রি।</p>
<p>আমরা শুনিনি কি এমন কথা?পুরাণে মনে পড়ে শুনঃশেপ-কে বিক্রি করেছিল তার ব্রাহ্মণ পিতা রাজা হরিশচন্দ্রের কাছে।রাজার পুত্র রোহিতের জন্মের জন্যে ইন্দ্রের কাছে বলি দেবার কথা ছিল রোহিতকে।সেই রোহিতের বিনিময়ে ব্রাহ্মণ-পুত্র বলি দিলে চলবে।এই অবস্থায় শুনঃশেপকে কেনা কয়েকশো গরুর বিনিময়ে।বশিষ্ঠ্য গোটাটার দেখভাল করছিলেন।কিন্তু শেষমেশ বাধা দিলেন বিশ্বামিত্র।বলি বন্ধ করে দিলেন।ইন্দ্র বা বশিষ্ঠ্য কারোর সাহসে কুলোলোনা তাঁকে অতিক্রম করতে।শুনঃশেপকে নিজের পুত্রদের মধ্যে ঠাঁই দিলেন বিশ্বামিত্র।কিন্তু তারপরে অনেক সময় কেটে গ্যাছে।ভারতে দূর্ভিক্ষ্যে সন্তান-স্ত্রী বিক্রি এমন কোনো অবাক বিষয় নয়।১৯৪২-এর মন্বন্তরেও এর শেষ নয়।আজ-ও অর্থের অভাবে গ্রামে-গঞ্জে এ কাজ চলে।নারী বা শিশু চালান এর উপরেই টিকে আছে।কিন্তু তথাকথিত উন্নত দেশে এমন?তাহলে এ কোন উন্নয়ণ?এই উন্নয়ণের ঢাক আমাদের রাজনৈতিক মহল পিটিয়ে চলেছেন মহানন্দে?শিল্পবিপ্লব বলে একটি ফেরেব্বাজী উন্নত দেশগুলোকে বাঁচাতে পারলোনা, আমাদের পারবে?শিল্পবিপ্লব শিল্পিকে দাস বানিয়ে দিল,মদন তাঁতীর তাঁত বন্ধ করে দিল, আমাদের নির্বুদ্ধিতা বন্ধ হলনা।ক্যামেরুনের ক্লান্ত বৌ,ছেলে স্পেন্সারকে ঘুম পাড়িয়ে ই-বে খুলে দেখছে কে দাম দেবে তার শিল্পি সঙ্গীর?<br />
<a href="http://thefourthdimention.wordpress.com/"><img alt="" src="http://thefourthdimention.files.wordpress.com/2010/04/rain.jpg" class="aligncenter" width="623" height="527" /></a></p>
<a href="http://www.addtoany.com/add_to/google_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsuddha%2F2610&amp;linkname=%E0%A6%AE%E0%A6%A6%E0%A6%A8%20%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%80%20%E0%A6%86%E0%A6%B0%20%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%B0%E0%A7%81%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%AC%E0%A7%8C" title="Google Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/google.png" width="16" height="16" alt="Google Bookmarks"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/orkut?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsuddha%2F2610&amp;linkname=%E0%A6%AE%E0%A6%A6%E0%A6%A8%20%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%80%20%E0%A6%86%E0%A6%B0%20%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%B0%E0%A7%81%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%AC%E0%A7%8C" title="Orkut" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/orkut.png" width="16" height="16" alt="Orkut"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/twitter?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsuddha%2F2610&amp;linkname=%E0%A6%AE%E0%A6%A6%E0%A6%A8%20%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%80%20%E0%A6%86%E0%A6%B0%20%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%B0%E0%A7%81%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%AC%E0%A7%8C" title="Twitter" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/twitter.png" width="16" height="16" alt="Twitter"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/facebook?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsuddha%2F2610&amp;linkname=%E0%A6%AE%E0%A6%A6%E0%A6%A8%20%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%80%20%E0%A6%86%E0%A6%B0%20%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%B0%E0%A7%81%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%AC%E0%A7%8C" title="Facebook" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/facebook.png" width="16" height="16" alt="Facebook"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/yahoo_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsuddha%2F2610&amp;linkname=%E0%A6%AE%E0%A6%A6%E0%A6%A8%20%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%80%20%E0%A6%86%E0%A6%B0%20%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%B0%E0%A7%81%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%AC%E0%A7%8C" title="Yahoo Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/yahoo.png" width="16" height="16" alt="Yahoo Bookmarks"/></a> <a class="a2a_dd addtoany_share_save" href="http://www.addtoany.com/share_save?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsuddha%2F2610&amp;linkname=%E0%A6%AE%E0%A6%A6%E0%A6%A8%20%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%80%20%E0%A6%86%E0%A6%B0%20%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%B0%E0%A7%81%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%AC%E0%A7%8C"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/share_save_120_16.png" width="120" height="16" alt="Share/Bookmark"/></a>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://coffeehouseradda.com/blog/suddha/2610/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>5</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>ব্রহ্মপুত্রে বাঁধের কথা স্বীকার করল চীন</title>
		<link>http://coffeehouseradda.com/blog/diganta/2585</link>
		<comments>http://coffeehouseradda.com/blog/diganta/2585#comments</comments>
		<pubDate>Wed, 21 Apr 2010 22:20:52 +0000</pubDate>
		<dc:creator>দিগন্ত</dc:creator>
				<category><![CDATA[বিজ্ঞান]]></category>
		<category><![CDATA[রাজনীতি]]></category>
		<category><![CDATA[বাঁধ]]></category>
		<category><![CDATA[ব্রহ্মপুত্র]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://coffeehouseradda.com/?p=2585</guid>
		<description><![CDATA[চীন ব্রহ্মপুত্রে মোট পাঁচটি বাঁধ দিচ্ছে। এগুলো সবই মূলত তিব্বতে অবস্থান করবে। মোট ৫১০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথমটি নির্মাণ করছে গেশুবা নামক চিনা কোম্পানী, যা চিনে বাঁধ নির্মাণের জন্য বিখ্যাত। ভারতীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কাল লোকসভায় এই বিবৃতি দিয়েছেন।
ভারতীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এস এম কৃষ্ণর চীন সফরকালে এই খবর দেন তাকে চীনা মন্ত্রীরা। তাদের মধ্যে বাঁধের নকশা ও পরিকল্পনাও হস্তান্তর [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>চীন ব্রহ্মপুত্রে মোট পাঁচটি বাঁধ দিচ্ছে। এগুলো সবই মূলত তিব্বতে অবস্থান করবে। মোট ৫১০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথমটি নির্মাণ করছে গেশুবা নামক চিনা কোম্পানী, যা চিনে বাঁধ নির্মাণের জন্য বিখ্যাত। ভারতীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কাল লোকসভায় এই বিবৃতি দিয়েছেন।</p>
<p>ভারতীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এস এম কৃষ্ণর চীন সফরকালে এই খবর দেন তাকে চীনা মন্ত্রীরা। তাদের মধ্যে বাঁধের নকশা ও পরিকল্পনাও হস্তান্তর হয়েছে। কৃষ্ণ প্রথমে স্যাটেলাইট ইমেজে নির্মাণকার্যের ছবি দেখালে চীনা কর্তৃপক্ষ বাঁধ নির্মাণের ব্যাপারটি স্বীকার করে। তবে এর সাথে তারা এও জানায় যে সব বাঁধই হবে &#8220;রান অব দ্য রিভার&#8221; ধরণের অর্থাৎ তাতে জল খুব একটা ধরে রাখা হবে না। শুধু তাই নয়, তারা এও বলেছেন যে ব্রহ্মপুত্র থেকে জল সরিয়ে পূর্বে নিয়ে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনাও তাদের নেই।</p>
<p>বিশ্লেষকদের মতে চীনের সাথে ভারতের নকশা লেনদেন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতির আভাষ দিচ্ছে।</p>
<p>সূত্র &#8211; <a href="http://timesofindia.indiatimes.com/india/China-admits-to-Brahmaputra-project/articleshow/5841348.cms">টাইমস অব ইন্ডিয়া</a></p>
<p>এ বিষয়ে আমার পুরোনো লেখা &#8211; <a href="http://coffeehouseradda.com/blog/diganta/314">ব্রহ্মপুত্র, ভারত ও চিন – সম্পাদক সমীপেষু</a></p>
<a href="http://www.addtoany.com/add_to/google_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fdiganta%2F2585&amp;linkname=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%B9%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A6%AA%E0%A7%81%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%20%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%A7%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%95%E0%A6%A5%E0%A6%BE%20%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A6%B2%20%E0%A6%9A%E0%A7%80%E0%A6%A8" title="Google Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/google.png" width="16" height="16" alt="Google Bookmarks"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/orkut?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fdiganta%2F2585&amp;linkname=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%B9%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A6%AA%E0%A7%81%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%20%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%A7%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%95%E0%A6%A5%E0%A6%BE%20%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A6%B2%20%E0%A6%9A%E0%A7%80%E0%A6%A8" title="Orkut" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/orkut.png" width="16" height="16" alt="Orkut"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/twitter?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fdiganta%2F2585&amp;linkname=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%B9%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A6%AA%E0%A7%81%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%20%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%A7%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%95%E0%A6%A5%E0%A6%BE%20%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A6%B2%20%E0%A6%9A%E0%A7%80%E0%A6%A8" title="Twitter" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/twitter.png" width="16" height="16" alt="Twitter"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/facebook?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fdiganta%2F2585&amp;linkname=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%B9%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A6%AA%E0%A7%81%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%20%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%A7%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%95%E0%A6%A5%E0%A6%BE%20%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A6%B2%20%E0%A6%9A%E0%A7%80%E0%A6%A8" title="Facebook" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/facebook.png" width="16" height="16" alt="Facebook"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/yahoo_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fdiganta%2F2585&amp;linkname=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%B9%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A6%AA%E0%A7%81%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%20%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%A7%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%95%E0%A6%A5%E0%A6%BE%20%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A6%B2%20%E0%A6%9A%E0%A7%80%E0%A6%A8" title="Yahoo Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/yahoo.png" width="16" height="16" alt="Yahoo Bookmarks"/></a> <a class="a2a_dd addtoany_share_save" href="http://www.addtoany.com/share_save?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fdiganta%2F2585&amp;linkname=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%B9%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A6%AA%E0%A7%81%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%20%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%A7%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%95%E0%A6%A5%E0%A6%BE%20%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A6%B2%20%E0%A6%9A%E0%A7%80%E0%A6%A8"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/share_save_120_16.png" width="120" height="16" alt="Share/Bookmark"/></a>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://coffeehouseradda.com/blog/diganta/2585/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>5</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>সমাজঃ এবং গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠানগুলি</title>
		<link>http://coffeehouseradda.com/blog/suddha/2544</link>
		<comments>http://coffeehouseradda.com/blog/suddha/2544#comments</comments>
		<pubDate>Mon, 19 Apr 2010 08:26:58 +0000</pubDate>
		<dc:creator>শুদ্ধ</dc:creator>
				<category><![CDATA[অর্থনীতি]]></category>
		<category><![CDATA[প্রবন্ধ]]></category>
		<category><![CDATA[রাজনীতি]]></category>
		<category><![CDATA[সমসাময়িক]]></category>
		<category><![CDATA[সমাজ]]></category>
		<category><![CDATA[সমালোচনা]]></category>
		<category><![CDATA[অমর্ত্য সেন]]></category>
		<category><![CDATA[পশ্চিমবঙ্গ]]></category>
		<category><![CDATA[ভারত]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://coffeehouseradda.com/?p=2544</guid>
		<description><![CDATA[<a href=http://coffeehouseradda.com/blog/suddha/2544><img src=http://www.telegraphindia.com/1080510/images/10nblCBstorm4.jpg class=imgtfe hspace=5 align=left width=100  border=0></a>উত্তরবঙ্গের একটা অংশ কালবৈশাখির ধ্বংসলীলায় বিধ্বস্ত।ত্রাণ আজো পৌঁছয়নি।যা গিয়েছিল তা পঞ্চায়েত প্রধান,এমনকি কোথাও কোথাও বিধানপরিসদ সদস্যের উপস্থিতিতেই পাচার হয়ে গ্যাছে বলে অভিযোগ।রাজ্যের বিরোধী দল এ নিয়ে স্বভাবতই আকাশ-বাতাস বিচলিত করে তোলার চেষ্টা করছেন।রাজনীতির একটি পর্যায়ে এ ধরনের নাট্য খুবই উপযোগী।বিশেষত সামনেই পুরোভোট যখন তখন এটা হবেই।এসব কিছুর শেষেও মানুষগুলো ত্রাণ পাবেন না।বিধানসভার বিরোধী দলনেতা বলে [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><img alt="" src="http://www.telegraphindia.com/1080510/images/10nblCBstorm4.jpg" class="alignnone" width="170" height="238" />উত্তরবঙ্গের একটা অংশ কালবৈশাখির ধ্বংসলীলায় বিধ্বস্ত।ত্রাণ আজো পৌঁছয়নি।যা গিয়েছিল তা পঞ্চায়েত প্রধান,এমনকি কোথাও কোথাও বিধানপরিসদ সদস্যের উপস্থিতিতেই পাচার হয়ে গ্যাছে বলে অভিযোগ।রাজ্যের বিরোধী দল এ নিয়ে স্বভাবতই আকাশ-বাতাস বিচলিত করে তোলার চেষ্টা করছেন।রাজনীতির একটি পর্যায়ে এ ধরনের নাট্য খুবই উপযোগী।বিশেষত সামনেই পুরোভোট যখন তখন এটা হবেই।এসব কিছুর শেষেও মানুষগুলো ত্রাণ পাবেন না।বিধানসভার বিরোধী দলনেতা বলে এলেন তাঁদের নেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় তাঁকে পাঠিয়েছেন;এতে প্রশ্ন থাকে নাহোলে কি তিনি যেতেন না?সে প্রশ্ন তাঁকে কেউ করেননি এবং তিনিও উত্তরহীন।অন্যদিকে মন্ত্রীসভা থেকে,বা শাসক পক্ষ থেকে ত্রাণমন্ত্রী মূর্তাজা হোসেন অবশেষে গেলেন।মন্ত্রী নাহলে যেতেন কি?এই সব প্রশ্নগুলোকে একটু অন্যভাবে দেখে নিই পাঠক।আজ সময় এসেছে গণতন্ত্রের এই স্বরূপটি সম্যক বোঝার।</p>
<p>David Gauthier-এর ‘Morals by Agreement’ বলে একটি লেখা আছে।সেখানে তিনি বলছেন পক্ষগুলি যখন একটি চুক্তিতে পৌঁছয় তখন তারা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে।এটা হয় খোলাবাজারের পক্ষগুলোর মধ্যে।তারা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুললে সেই সঠিক প্রতিষ্ঠানের হাতে আমরা নিরাপদ।এই প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলেই যে পক্ষগুলো চুক্তি করেছে তাদের আর ‘নীতি’ বা ‘Morality’ নিয়ে মাথা ঘামাতে হবেনা।এই সুবচন যে অধ্যায়ে আছে সেই অধ্যায়টির নাম ‘The Market: Freedom from Morality’! অমর্ত্য সেন মশাই তাঁর ‘The Idea of Justice’-এ এর কড়া সমালোচনা করেছেন।</p>
<p>দাদাভাই নৌরজী-কে মনে পড়ে?এককালের ভারতের কন্ঠস্বর ছিলেন ব্রিটেনের পার্লামেন্টে।ভারতে ব্রিটিশের ‘Un-British Rule’ নিয়ে খুব সরব ছিলেন।ব্রিটেনে বসবাসের সময় তিনি ব্রিটেনের অন্য উপনিবেশগুলো এবং তার নিজস্ব ভূখন্ডে অত্যাচারের কদর্য্য রূপ তিনি দেখেননি এ কি হতে পারে?শ্রমিকশোষণে ব্রিটিশ পুঁজিপতি কসুর করেছে?কিন্তু তা সত্ত্বেও এ অলীক বিশ্বাস কেন?পুঁজি,বাজারে চুক্তি মেনে প্রতিষ্ঠান বানিয়েই নীতির দায়িত্ব যে এড়িয়ে গ্যাছে তা তিনি বোঝেন নি কেন?নাকি বুঝলে অনেক বড় যুদ্ধে যেতে হত বলে পেছিয়ে এসেছেন?ব্রিটিশ পুঁজিপতিদেরই তৈরী করা তো খোলা বাজারের তত্ত্ব!</p>
<p>ডেভিড জানেন না কিভাবে দূর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান কাজ করে?না জানলে তাঁর এই ত্রাণহীন মানুষদের থেকে জেনে নেওয়া উচিত।অবশ্য তাতে তাঁর মোটা অঙ্কের লাভ কম পড়বে একথা তিনি জানেন অন্তত।ত্রাণের আশায় থাকা মানুষগুলো জানেন।রাতের অন্ধকারে পঞ্চায়েত প্রধান তার দলের নির্দেশে ত্রিপল থেকে চাল সব নিয়ে চলে যায়।তার বিবেকে বাঁধেনা,দলের নীতিতে আটকায় না।সব দলের লোকের ক্ষেত্রেই প্রায় একি কথা খাটে।বিরোধী দল বিগত পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকার পরেও কিছুই হয়নি অনেক পঞ্চায়েত বা পৌরসভায়।কেন?প্রতিষ্ঠান এবং চুক্তি কি কাজে এল তাহলে?বামফ্রন্টের বিরুদ্ধে ঘুমের মধ্যেও অভিযোগ তুলে যাওয়া দলনেত্রী তাহলে কোন বিকল্প?<img alt="" src="http://www.outlookindia.com/images/amratya_sen_20070820.jpg" class="alignright" width="370" height="333" /></p>
<p>আসলে প্রতিষ্ঠানকে শেষ কথা ভাবার একটা অভ্যাস তৈরী করা হয়েছে পরিকল্পনা মাফিক।আজকে যখন পরিবর্তনের কথা হচ্ছে চারপাশে তখন কোন পরিবর্তনের কথা হচ্ছে?মমতা আসবেন বুদ্ধের বদলে?তাতে কি হবে?পুলিশ ঘুষ নেওয়া বন্ধ করে দেবে?প্রোমোটার বাড়ি তৈরী করবে নিয়ম মেনে?চাষীকে মহাজন শোষণ করা বন্ধ করে দেবে?শ্রমিকের প্রভিডেন্ড ফান্ড মেরে দেওয়া মালিক গ্রেপ্তার হবে?ব্যাঙ্ক সত্যি সত্যি বেকারদের ঋণ দেবে?বেকারেরা সে ঋণকে রাষ্ট্রের সম্পত্তি জেনে ঠিকঠাক শোধ করবে?প্রতিটি যোজনার পাই পয়সার হিসেব থাকবে?যে যোজনা থেকে টাকা মারার উপায় নেই তা রূপায়ণে জনপ্রতিনিধি সক্রিয় হবেন?সমস্ত বেকার কাজ পাবে?কাজ পেলে তার সত্যি সে কাজ করার মত যোগ্যতা,যা অনেক সময় সত্যি অনুপস্থিত তা তৈরী হয়ে যাবে?পুঁজিপতির দালালী করা ছেড়ে রাষ্ট্র সাধারণের কথা ভাববে?ব্রিটিশ আমল থেকে চলে আসা বনজাতিদের বনের অধিকার,যার স্বীকৃতি নিয়েই পরের পর বিদ্রোহ হয়েছে,সেই অধিকার সংসদে পাস হয়ে,কার্যকরী হবে?এমন হাজারো প্রশ্ন আছে,থাকবে?উত্তর নেই!তাহলে এই ধোঁকার টাটী কেন?</p>
<p>John Rawls-এর ধারনায় ‘Justice is Fairness’! তার পথ কি?তাঁর ‘ন্যায়’ বা ‘Justice’ সংক্রান্ত ধারণার দ্বিতীয়ভাগে সমাজে অসাম্যের দাওয়াই দিচ্ছেন।‘They are to be attached to offices and positions open to all under conditions of fair equality of opportunity; and second, they are to be to the greatest benefit of the least advantaged members of society.’ভাল কথা।মনমোহন অর্থনীতি বিশারদ।তিনি একথা জানেন।সনিয়া-রাহুলের নামে ‘আম আদমী’ নিয়ে অনেক কিছু করে ফেললেন।১০০ দিনের কাজকে শতাব্দীর সেরা লড়াই করে ফেললেন। কাজের অধিকারকে মৌলিক অধিকারে সম্প্রসারিত করলেন।শিক্ষাকে প্রাথমিক অধিকার করে দিলেন।এমন অনেক কিছুই করছেন কাগজে কলমে।লোকে তার সুফল পাচ্ছে?না পেলেই বলা যাবে স্থানীয় স্তরে এসব হচ্ছে,ওঁদের স্বদিচ্ছার শেষ নেই।</p>
<p>বাজে কথা।যদি Fair equality of opportunity-র প্রশ্ন হয় তাহলে সংরক্ষণ করা যায়না।এমনকি মহিলাদের জন্যেও না।কিন্তু পরের ভাবনা Greatest benefit হবে least advantaged-দের জন্যে।তাই সংরক্ষণ!তাই এসব প্রকল্প।মানে একদিকে বনজাতির বন,চাষীর জমি কেড়ে নাও।তারপরে বল তার জন্যে সংরক্ষণ করছি।বল সে কেন অর্ধউলঙ্গ হয়ে থাকবে?তার ছেলে কেন ইঞ্জিনীয়ার হবেনা?মানে কাপড়ে ঢেকে ফেলা বা ইঞ্জিনীয়ার হওয়াটাই সব কথা এবং তার প্রবল সুযোগ সকলের জন্যে উপস্থিত।এই যে মিথ্যাচারী ভাবনা এবং তার রূপায়ণ তা একটি তথ্যকে চোখের আড়াল করে দেয়।আজ অবধি যে সমস্ত প্রতিষ্ঠান হয়েছে তা কখনই তার ঘোষিত উদ্দেশ্যকে স্বার্থক করেনি শেষ অবধি।এমনকি সোভিয়েত বা চীনের বিপ্লবী গণরাজ্যও তার চরিত্র বদলে অচিরেই চলে গ্যাছে ইতিহাসে।তাহলে ত্রাণের সময় নেত্রী পাঠালে বা মন্ত্রী বলে যেতে বাধ্য হলে কি ত্রাণ জুটবে?না।জুটবে না।সাম্য এবং ন্যায়ের ধারণাকে নতুন করে না দেখলে,পচতে থাকা প্রতিষ্ঠানকে নতুন জামা পড়িয়ে পেশ করলেই পরিবর্তন-ও হবেনা।এই দেখার জন্যে আশু প্রয়োজন গণতন্ত্রের আজকের রূপটির সামগ্রিক পর্যালোচনা এবং তার ভুল-ত্রুটি সংশোধনের আরো উপযুক্ত রাস্তা খুঁজে বের করা।এই ত্রুটি কিন্তু অনেক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ক্ষমতা বন্টনের মাধ্যমেই একে অন্যের সঙ্গে সাম্য বিধান করবে এই ভাবনাতেও নেই।ভারতের আজকের ব্যাবস্থা এই নীতির উপর দাঁড়িয়ে।এখানে সংসদ,বিচার-ব্যবস্থা পরস্পরকে নজরে রাখবে বলে তৈরী করা।শুধু সমাজ ঘুমন্ত।তার কোনো অধিকার নেই।প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র আর সমাজের সক্রিয় নজরদারী এবং দরকারে শুধরে দেওয়ার ক্ষমতা ছাড়া কি রাস্তা আর বাকী খুব?</p>
<a href="http://www.addtoany.com/add_to/google_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsuddha%2F2544&amp;linkname=%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A6%83%20%E0%A6%8F%E0%A6%AC%E0%A6%82%20%E0%A6%97%E0%A6%A3%E0%A6%A4%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%A0%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%97%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A6%BF" title="Google Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/google.png" width="16" height="16" alt="Google Bookmarks"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/orkut?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsuddha%2F2544&amp;linkname=%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A6%83%20%E0%A6%8F%E0%A6%AC%E0%A6%82%20%E0%A6%97%E0%A6%A3%E0%A6%A4%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%A0%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%97%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A6%BF" title="Orkut" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/orkut.png" width="16" height="16" alt="Orkut"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/twitter?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsuddha%2F2544&amp;linkname=%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A6%83%20%E0%A6%8F%E0%A6%AC%E0%A6%82%20%E0%A6%97%E0%A6%A3%E0%A6%A4%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%A0%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%97%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A6%BF" title="Twitter" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/twitter.png" width="16" height="16" alt="Twitter"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/facebook?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsuddha%2F2544&amp;linkname=%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A6%83%20%E0%A6%8F%E0%A6%AC%E0%A6%82%20%E0%A6%97%E0%A6%A3%E0%A6%A4%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%A0%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%97%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A6%BF" title="Facebook" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/facebook.png" width="16" height="16" alt="Facebook"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/yahoo_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsuddha%2F2544&amp;linkname=%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A6%83%20%E0%A6%8F%E0%A6%AC%E0%A6%82%20%E0%A6%97%E0%A6%A3%E0%A6%A4%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%A0%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%97%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A6%BF" title="Yahoo Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/yahoo.png" width="16" height="16" alt="Yahoo Bookmarks"/></a> <a class="a2a_dd addtoany_share_save" href="http://www.addtoany.com/share_save?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsuddha%2F2544&amp;linkname=%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A6%83%20%E0%A6%8F%E0%A6%AC%E0%A6%82%20%E0%A6%97%E0%A6%A3%E0%A6%A4%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%A0%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%97%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A6%BF"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/share_save_120_16.png" width="120" height="16" alt="Share/Bookmark"/></a>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://coffeehouseradda.com/blog/suddha/2544/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>6</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>শ্রমিক বিশৃঙ্খলা ধনীর হাতিয়ার</title>
		<link>http://coffeehouseradda.com/blog/suddha/2479</link>
		<comments>http://coffeehouseradda.com/blog/suddha/2479#comments</comments>
		<pubDate>Tue, 13 Apr 2010 06:41:37 +0000</pubDate>
		<dc:creator>শুদ্ধ</dc:creator>
				<category><![CDATA[অর্থনীতি]]></category>
		<category><![CDATA[প্রবন্ধ]]></category>
		<category><![CDATA[ব্লগাড্ডা]]></category>
		<category><![CDATA[রাজনীতি]]></category>
		<category><![CDATA[সমসাময়িক]]></category>
		<category><![CDATA[সমাজ]]></category>
		<category><![CDATA[আন্তর্জাতিক]]></category>
		<category><![CDATA[ইসরো]]></category>
		<category><![CDATA[গ্রীজ]]></category>
		<category><![CDATA[তেল]]></category>
		<category><![CDATA[নাসা]]></category>
		<category><![CDATA[বায়ো]]></category>
		<category><![CDATA[বিকল্প জ্বালানী]]></category>
		<category><![CDATA[বিয়ার]]></category>
		<category><![CDATA[বুর্জোয়া]]></category>
		<category><![CDATA[ব্রিটেন]]></category>
		<category><![CDATA[যুদ্ধ]]></category>
		<category><![CDATA[শ্রমিক]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://coffeehouseradda.com/?p=2479</guid>
		<description><![CDATA[
নাগরিক সমাজ নিয়ে আজ কথা বলার আশু প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।যে নাগরিক সমাজ এ দেশে গড়ে উঠেছে তাকেই দেখার দরকার এখন।কারণ আমরা বিংশ পেরিয়ে,একবিংশের গুরুত্ত্বপূর্ণ মোড়ে পৌঁছে গেছি,যখন পৃথিবীর ভাঁড়ার ক্রমশ ফুরচ্ছে।কয়লা,তেল ইত্যাদি শেষ দশায়।কয়েকশ বছর বাকী মাত্র ফুরিয়ে যেতে।আমাদের পরের একটা বা দুটো প্রজন্মেই এর সমাধান বার করতে না পারলে এই উৎসব,সেই জীবনানন্দ কথিত নাগরী [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[
<p>নাগরিক সমাজ নিয়ে আজ কথা বলার আশু প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।যে নাগরিক সমাজ এ দেশে গড়ে উঠেছে তাকেই দেখার দরকার এখন।কারণ আমরা বিংশ পেরিয়ে,একবিংশের গুরুত্ত্বপূর্ণ মোড়ে পৌঁছে গেছি,যখন পৃথিবীর ভাঁড়ার ক্রমশ ফুরচ্ছে।কয়লা,তেল ইত্যাদি শেষ দশায়।কয়েকশ বছর বাকী মাত্র ফুরিয়ে যেতে।আমাদের পরের একটা বা দুটো প্রজন্মেই এর সমাধান বার করতে না পারলে এই উৎসব,সেই জীবনানন্দ কথিত নাগরী উৎসবের মতই এই অশালীন উৎসব শেষ হয়ে যাবে।আজ থেকে কয়েকশো বছর আগে যখন তেল থেকে চলতে পারে গাড়ী এই ধারণা ক্রম জন্ম নিচ্ছে তখন এ দিন দেখা গিয়েছিল কি?<br />
যায়নি।উপরের ভূগোলই সবে তৈরী হচ্ছে।পৃথিবীর নীচে কোথায় কি আছে এই ধারণা করা এত সহজ নয় তখন।অথচ জলে গাড়ী চলবেনা,চলতে গেলে তেল লাগবে।জলে চললেও সমস্যা হচ্ছে জলকে গরম করতে কয়লা লাগবে।কাজেই জ্বালানীর সংকট থেকেই যাবে।এ দিকে সেই সময় ব্যবসার প্রভূত বিস্তার ঘটছে।এক নতুন শ্রেণী শঠতা,ক্ষুদ্রতা এবং দক্ষতা দিয়ে দখল করে নিচ্ছে অর্থনীতির মানচিত্র।তারা বুর্জোয়া।তারা থাকে নগরে।গ্রামীণ জীবন তাদের নয়।তাদের হাতের অস্ত্র হিসেবে আরেকটি শ্রেণীও তৈরী হয়েছে।সেই শ্রেণী এসেছে সামন্তদের অত্যাচারে জমি ছেড়ে।এসে এখন বুর্জোয়াদেরই কারখানায় তারা শ্রমিক।এবারে তাদের দিয়ে সব কাজই করাচ্ছে বুর্জোয়ারা।সেটা কারখানায় লাভ থেকে রাজনৈতিক লড়াইতে এগিয়ে যাওয়া যেটাই হোক।<br />
সামন্ত বা রাজা চালিত রাষ্ট্রে সব কিছুই শ্রমিকদের বিরুদ্ধে এটা বোঝাতে খুব কষ্ট করার দরকার নেই।এরাই যখন চাষী ছিল তখন দেখেছে সামন্তদের স্বরূপ।কাজেই তাদের যেকোন বিষয়েই বেবাক ক্ষুব্ধ করা গেলে এরা বিপুল শক্তি।যেমন ব্রিটেনে হয়েছিল।রবিবার বিয়ারের দোকান খোলা থাকবেনা।সপ্তাহে একদিন দোকান বন্ধ থাকলে মালিকদের কিছু খরচ বাঁচে।এবারে সেটা অন্য দিনে হলে অসুবিধে কি?সেটা নিয়ে না ভেবে যেটা করা হল সেটা হল রবিবার বন্ধ থাকা নিয়ে জেদ।শ্রমিকদের ওই একটি দিনই ছুটি।ক্যাথলিক চার্চ ধর্মাচরণের নামে বিয়ার পানের বিরুদ্ধে।তারা চায় ওই দিন শ্রমিকেরা চার্চে আসুক।বিয়ার বন্ধ না রাখলে সে কাজ মুশকিল।খেপে গেল শ্রমিকরা। তাদের সঙ্গত বিক্ষোভ রয়েইছে।তাদের ওই একটা দিনই দোকান-বাজার করার সময় থাকে।যে বিক্ষোভ শুরু হল গোটা লন্ডন জুড়ে সেই বিক্ষোভে অভিজাতদের নাভিশ্বাস উঠে গেল।মনে হল লন্ডন বুঝি দখল হয়ে গ্যাছে।ঘোড়ার গাড়ী চড়ে আসা অভিজাতদের গাড়ীর সওয়ারী মহিলারা আতঙ্কিত বোধ করতে থাকলেন।পুরুষরা চিৎকার করে বোঝাতে চেষ্টা করল আসলে শ্রমিকদের আত্মার উন্নতির জন্যে করা এ কাজ।প্রবল তামাশা,হট্টগোল আর গালি-গালাজে ভেসে গেল সব।কিন্তু সত্যি বলতে সারা সপ্তাহের কামাই উড়ে যায় মদে শ্রমিকের।আরো অভাব বাড়ে শুধু। আরো নির্ভরশীল হয়ে পড়ে বুর্জোয়ার ছকের উপর।সে কথা তাকে বুর্জোয়া বললোনা।<br />
বুর্জোয়া দেখল যে এই শক্তি সাঙ্ঘাতিক।তখন এদের সঙ্গে মৈত্রী করে নিল তারা।পরের যাবতীয় লড়াইতেই এরাই তাদের পদাতিক বাহিনী।কিন্তু অভিজাতরা যখন প্রায় সমর্পণে তখনই এই বুর্জোয়ারা পড়ল বিপাকে।এতদিন শত্রুর বিরুদ্ধে বন্ধু হিসেবে তারা ব্যবহার করেছে শ্রমিকদের।এবারে শ্রমিকরা এমনকি কারখানার অধিকারও তাদের হাতে চাইছে।সেখানেই বিপত্তি।অপসৃয়মান অভিজাতদের সঙ্গে তারা সন্ধি করল এবারে।দু ধরণের নাগরিক সৃষ্টি হল।একদলের আছে,একদলের নেই কিছু।যাদের আছে তারা মোটর গাড়ি চড়ে,যাদের নেই তারা চাপা পড়ে।সেই সুকান্তর কবিতার মত।ঘোড়ার গাড়ী পুরোনো সময়ের মত হারিয়ে গেল গলি-ঘুঁজি হয়ে ইতিহাসে।আজ যেমন বিশ্ব জুড়ে ট্রাম হারিয়ে যাচ্ছে।<br />
এই যে লোভী বুর্জোয়া,যে বার্ঘের নামে একদা পরিচিত ছিল ইতিহাসে,আর বুর্গে(মধ্যযুগের নগর) থাকত ব্যবসার সুবাদে,সেই ক্ষমতায় এল তার প্রবল লোভ নিয়ে।সে বন্ধু-শত্রু বিচার করে অর্থে শুধু।এমনকি সামন্ত যুগের মত তার এমন কোন নিয়ম নেই,যাকে বলা যায় বীরত্বের কর্মসূচী।কাজেই সে নীতির ধার ধারেনা কোনো।এবারে সে গোটা বিশ্ব প্রথমে বাজারের জন্যে দখল করল।তারই সঙ্গে কাঁচামালের জন্যেও তার মুঠি শক্ত করে রাখল।অন্যদিকে বজায় রাখল শ্রমিকদের বিশৃঙ্খলা।তাকে মদত দিল।‘বিয়ারের যুদ্ধ’ এবং পরবর্তি শ্রমিক আন্দোলন তাকে বুঝিয়েছে কত শক্তি আছে এই বিশৃঙ্খলিত শ্রমিকের।তার সংসদীয় ব্যবস্থায় এই তার যোদ্ধা।সে টাকা ছড়ায় আর এ খাটে,লড়ে,মরেও দরকারে।মাঝে মাঝে এর নামে ধুয়ো তুলে সে একে খেপিয়ে দিয়ে নিজের লাভ আদায় করে আজ-ও। ‘বিয়ারের যুদ্ধ’ থেকে পরিস্থিতি পাল্টায়নি।কিভাবে পরে বলছি পাঠক!এখন সে তেল বা কয়লা ফুরিয়ে ফেলেছে প্রায়।নতুন জায়গা অনুসন্ধানের পাশাপাশি,গ্রহান্তরে বসতি স্থাপন নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছে সে।নাসা থেকে ইসরো-র গবেষণায় তার ভারী কৌতুহল।গ্রহন্তরেই থাকবে সে এই ভাবনাতে নাসা-কে পয়সা যোগাচ্ছে ঠান্ডা যুদ্ধ শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও।আর নতুন আবিষ্কারে মদত দিচ্ছে যে আবিষ্কার তার আরো সমৃদ্ধি বাড়ায়।<br />
কিছুকাল আগে বায়ো-ডিজেল তৈরী হয়েছে।কিন্তু তাতে খাদ্য-শষ্য চাষে বদ-প্রভাব পড়ছে।তাছাড়া দ্রুত উৎপাদন বাড়াতে গিয়ে সেখানে অনেক বেশী কীটনাশক আর রাসায়নিক সার দিতে হচ্ছে,যা মারাত্মক ক্ষতিকারক।সে নিয়ে বিরোধ আসছে বলে নতুন ধরণ এলো।এ হল ‘গ্রীজ অয়েল’ বা খাবারের দোকানের ফেলে দেওয়া তেল থেকে গাড়ি চালানোর ব্যবস্থা।বিশ্ব-জুড়ে খাবারের ব্যবস্থা ফুলে ফেঁপে উঠেছে।মালিক বুর্জোয়া বা পেটি বুর্জোয়া।তার হোটেলের বর্জ্য তেল থেকে গাড়ি চলবে।ছোট পাড়ার স্টল বা ছোট রেস্টুরেন্টের তেল কত যে এতে তার ভবিষ্যৎ থাকবে?আছে তিন,পাঁচ,সাত তারা বড় হোটেলের।এর ফলে খাবার তেলের দাম ক্রমশ আকাশ ছোঁওয়া হবে,শেয়ারে ফাটকা আবারো পয়সা দেবে রেস্টুরেন্ট মালিক ওই বুর্জোয়াদেরই।যেমন এখন চিনির দাম।আসলে আমেরিকা চিনি উৎপাদন করছে তার থেকে বায়ো-ডিজেল বানাবে বলে।কাজেই শিকাগোর শেয়ার বাজারে এর দাম ওঠা-পড়া করছে,আর বিশ্ব জুড়ে বাড়ছে চিনির দাম।এ শুধু এখানে সরকারের ব্যর্থতা না,বা দেশীয় ফাটকাবাজী না।তবু গাড়ির ব্যবহার বন্ধ হবে না।তবু বিলাস কমবে না।আরো লোভ,আরো অর্থ।চিন অনেক আগে,মাও-এর সময়েই জোর দিয়েছিল সাইকেল চালানোয়।সে রাস্তায় কেউ যাবে না এরা।সেই গাড়ির কারখানা যাতে কয়েকশো-র চাকরী হবে কিনা সন্দেহ,যার জ্বালানি ফুরিয়ে আসছে বিশ্বে,যার বিকল্প চালন ব্যবস্থাও তৈরী হচ্ছে শুধু বুর্জোয়াদের লাভ মাথায় রেখে,এবং যার লাভ চিনির মত খাদ্যশষ্য থেকে খাবার তেলের দাম বাড়িয়ে চাষী-শ্রমিক,নিম্নবিত্ব,মধ্যবিত্বর জীবন বিষময় করে দেবে,তার পক্ষে মিছিল করেন  অটো শ্রমিকদের সংগঠন।বলছিলাম না পাঠক,শ্রমিকদের বিশৃঙ্খলাই বুর্জোয়াদের হাতিয়ার।       </p>
<a href="http://www.addtoany.com/add_to/google_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsuddha%2F2479&amp;linkname=%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%95%20%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%83%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%96%E0%A6%B2%E0%A6%BE%20%E0%A6%A7%E0%A6%A8%E0%A7%80%E0%A6%B0%20%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B0" title="Google Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/google.png" width="16" height="16" alt="Google Bookmarks"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/orkut?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsuddha%2F2479&amp;linkname=%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%95%20%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%83%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%96%E0%A6%B2%E0%A6%BE%20%E0%A6%A7%E0%A6%A8%E0%A7%80%E0%A6%B0%20%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B0" title="Orkut" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/orkut.png" width="16" height="16" alt="Orkut"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/twitter?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsuddha%2F2479&amp;linkname=%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%95%20%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%83%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%96%E0%A6%B2%E0%A6%BE%20%E0%A6%A7%E0%A6%A8%E0%A7%80%E0%A6%B0%20%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B0" title="Twitter" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/twitter.png" width="16" height="16" alt="Twitter"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/facebook?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsuddha%2F2479&amp;linkname=%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%95%20%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%83%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%96%E0%A6%B2%E0%A6%BE%20%E0%A6%A7%E0%A6%A8%E0%A7%80%E0%A6%B0%20%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B0" title="Facebook" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/facebook.png" width="16" height="16" alt="Facebook"/></a> <a href="http://www.addtoany.com/add_to/yahoo_bookmarks?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsuddha%2F2479&amp;linkname=%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%95%20%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%83%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%96%E0%A6%B2%E0%A6%BE%20%E0%A6%A7%E0%A6%A8%E0%A7%80%E0%A6%B0%20%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B0" title="Yahoo Bookmarks" rel="nofollow" target="_blank"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/icons/yahoo.png" width="16" height="16" alt="Yahoo Bookmarks"/></a> <a class="a2a_dd addtoany_share_save" href="http://www.addtoany.com/share_save?linkurl=http%3A%2F%2Fcoffeehouseradda.com%2Fblog%2Fsuddha%2F2479&amp;linkname=%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%95%20%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%83%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%96%E0%A6%B2%E0%A6%BE%20%E0%A6%A7%E0%A6%A8%E0%A7%80%E0%A6%B0%20%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B0"><img src="http://coffeehouseradda.com/wp-content/plugins/add-to-any/share_save_120_16.png" width="120" height="16" alt="Share/Bookmark"/></a>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://coffeehouseradda.com/blog/suddha/2479/feed</wfw:commentRss>
		<slash:comments>2</slash:comments>
		</item>
	</channel>
</rss>
